এই মুহূর্তে আমি যে চিন্তার উপর ভর করে লিখতে বসলাম তাই আমার সংস্কৃতির এক ক্ষুদ্র অংশ। কারন আমার চারপাশের পরিবেশ আমার চিন্তার প্রভাবক হয়ে কাজ করে। এই মুহূর্তে আমার লিখিত অক্ষরের সমন্বয়ে শব্দ ভান্ডার আমার সংস্কৃতির অংশ।
সংস্কৃতি ব্যাপারটা তাই যা এই মুহূর্তে একটা বিশেষ ভৌগলিক অঞ্চলে কোনো গোষ্ঠীর জীবনপ্রবাহ। প্রত্যেকটা ব্যাক্তি এখানে কোনো না কোনো গোষ্ঠীতে অন্তর্গত। প্রকৃতি মানুষকে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন পরিবেশ দান করে। আর ঐ পরিবেশের উপর ভিত্তি করেই মানুষ তার জীবনপ্রবাহ নির্ধারণ করে। আদম সন্তান থেকে সংস্কৃতি তৈরী হলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়ে উঠে সংস্কৃতির নির্ধারক।
হঠাৎ একটা প্রশ্নের কথা মনে হলো! কিছুদিন আগেও আমার কোনো এক বন্ধু বলেছিলো, পশ্চিমা দেশের মানুষের জীবন বেশ নিরাপদ।কারন তাদের রিভালবার রাখার ব্যাবস্থা আছে আত্মরক্ষার জন্যে। বেশ জোড়ের সাথেই বললো আমাদেরও এমন হওয়া উচিত। পরক্ষনেই পাশে বসা অন্যজন বলেছিলো, আমার দেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয়। গড় তাপমাত্রা এদেশে ৩৪° ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাইকোলোজিক্যালি গরমে মানুষ মেজাজ হারায়। দেশে খুনের হার বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে পশ্চিমাদেশ গুলোর তাপমাত্রা বেশ কম। দ্রুত মেজাজ হারানোর প্রবণতা যথেষ্ট কম।
বঙ্গীয় সংস্কৃতিতে আমরা আমাদের সংস্কৃতির কথা বলি। আমরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকি নদীমাতৃক দেশ, ভাটিরদেশ সহ অারো অনেক নামে।জারিগান, কবিগান, ভাটিয়ালি, বাউল গান,যাত্রাগান প্রভৃতিকে আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করি। আমরা কি কখোনো ভেবে দেখেছি এইসব ব্যাপার কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে? কখোনো মস্তিষ্ককে চিন্তার সুযোগ দিয়েছি কিভাবে এগুলো অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হলো?
আমি আসলে বারবার একটা কথা বলার চেষ্টা করেছি, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির বোঝাপড়া নিয়ে। এদের সম্পর্কটা আমার কাছে মা-সন্তানের মতো মনে হয়ে আসছে। একজনের সাথে অন্যজনের আত্মার সম্পর্ক। প্রকৃতি আমাদের পরিচয় দিয়েছে ভাটিরদেশ। প্রকৃতির সাথে বোঝাপড়ায় এ অঞ্চলে তৈরী হয়েছে ভাটিয়ালি, বাউল আর জারিগান।
আন্দামানের সেন্টিনাল দ্বীপের কথাইভাবি। ঐখানকার মানুষগুলো এখোনো আদিমযুগের মানুষের মতো বসবাস করে। তারা দ্বীপের বাহিরে কারো সাথে যোগাযোগ করেনা। সেন্টিনাল দ্বীপবাসীরা আসলে একটা নির্দিষ্ট জীবন ব্যাবস্থায় এতোটাই অভ্যাস্ত তারা আদিম কাল থেকে এখন পর্যন্ত নিজেদের সংস্কার করার প্রয়োজন মনে করেনি। বাহিরের পরিবেশে তার টিকতে পারেনা, সামান্য অসুখে মারা যায়।প্রকৃতি ঠিক করেছে সেন্টিনালদের জীবনযাত্রা
রাস্তা আর চালকের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। রাস্তায় বিভিন্ন মোড়,ভিন্ন পথ বা জড়তা থাকে। চালক তার মস্তিষ্কের বিবেচনায় পথ খুঁজে নেয়।পৃথিবীতে মানুষজাতি থাকে চালকের আসনে। প্রকৃতি থেকে নিজের পরিবেশ খুঁজে নেয়। প্রকৃতির বৈচিত্রতা মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন পথ যোগান দেয়। এজন্যই পৃথিবীতে অঞ্চলভেদে তৈরী হয় বিভিন্ন সংস্কৃতি।
এই বঙ্গদেশীয় সমাজ ব্যাবস্থা আদিমকাল থেকে এখন পর্যন্ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখানে রয়েছে ফিরিঙ্গি,ডাচ ইংরেজদের শাসন। প্রত্যেকটি শাসন এ অঞ্চলে প্রভাব রেখে গেছে। প্রভাব রাখা বিষয় পরবর্তিতে হয়েছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতি হলো মানুষের দীর্ঘদিনের চলাফেরার ফসল।
আজ থেকে এক হাজার বছর আগে এই অঞ্চলে সংস্কৃতিতে ছিলো ভিন্নতা। আবার এক হাজার বছর পরেও আসবে ভিন্নতা। পরিবর্তন হবে প্রকৃতির,পরিবর্তন হবে এই মুহূর্তে আমার লিখিত শব্দ ভান্ডারের। মানুষের জীবনযাত্রা যেমন সচল সংস্কৃতিও ঠিক ততটাই জীবন্ত ও বহুমুখী।