সংস্কৃতি’ শব্দটি আমাদের নাড়ির সাথে মিশে আছে। ছোটবেলায় আম্মু যখন সকাল বেলায় বলতেন, “কিরে মেলায় যাবি না?“ তখন থেকেই হয়ত আমার সংস্কৃতি চেনা শুরু হয়েছিল। তারপর বোনের শাড়ি ভাইয়ার লুঙ্গি সবই তো এই বাংলার সংস্কৃতির সাথে জড়িত।

আসলে সংস্কৃতি কি? আমার কাছে সংস্কৃতি হল মানুষ। ব্যাপক অর্থে বলা যায় মানুষের চাল চলন ,চিন্তাধারা ,খাবার, ধর্ম ,জাতিভেদ ইত্যাদি সব মিলে যে নিয়মগুলো হাজার বছর ধরে মানুষের সাথে মিশে আছে সেগুলোই আমার কাছে সংস্কৃতি।

এখন আসি মূল প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি আমার কাছে কি ? এটা জানতে হলে বাংলাদেশের ইতিহাসটা একটু ঘুরে আসতে হবে । বাংলা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত ।শুরু করি ধর্ম দিয়ে এ দেশে মূলত চার ধরনের ধর্ম দেখা যায়,মুসলিম,হিন্দু ,বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান। এখানে মুল পর্যবেক্ষণের বিষয় হল এখানকার অসাম্প্রদায়িকতা । এখানের সবাই এতটা সুন্দর এবং সৌহার্দপূর্ণভাবে বসবাস করে যা সত্যিই বিরল । আরেকটি জিনিস যা এদেশের সংস্কৃতির উপর বড় প্রভাব রেখেছে তা হল ক্ষুধা আর দারিদ্রতা । পহেলা বৈশাখের সকাল বেলা পান্তা আর ইলিশ আমাদের হাজার বছরের দারিদ্রতা যে আমরা ভুলিনি তাই প্রমান করে। তবে তাদের এই দরিদ্র অবস্থায়ও যদি কোন অতিথি আসে তবে নিজের খাবার অতিথিকে দেয়ার গল্পও বাংলায় কম নেই।তবে বাংলার সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় দিকটা হল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চারতা । তিতুমির থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ । এগুলোই তো বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতিকে করেছে আরও মহান ।আরেকটি বড় বিষয় আমাদের সংস্কৃতি হল বিভিন্নতার মিলন। এখানে সাদা, কালো, ধনী, গরীব সব কিছুর উপরে শুধু একটা জিনিসেরই দাম আছে, সেটি হল মানবতা। এখানে বিভিন্ন মত ও জাতির মানুষ আছে যা এই দেশের সংস্কৃতিকে দিয়েছে এক অনন্য বিচিত্রতা।

পরিশেষে বলতে চাই বাংলার সংস্কৃতি আমার কাছে শুধু কিছু ছোট ছোট ক্রিয়াকলাপ নয় যেমন নির্দিষ্ট কিছু জামা কাপড় অথবা কোন কিছু খাওয়া। যদিও এগুলো সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ কিন্তু আমার কাছে সংস্কৃতি হল একটি ধারণা যা বাংলাকে, বাংলার মানুষকে চিত্রায়িত করে ।আমার কাছে সংস্কৃতি হল বাংলার মানুষের অসাম্প্রদায়িকতা, তাদের বৈচিত্রতা ,তাদের দারিদ্রতা, তাদের অতিথিপরায়নতা, তাদের ছোট ছোট বৈশিষ্ট্য যা তাদের কে বাঙালিতে পরিণত করেছে।