Milu coaching centre
MadhyamikonMadhyamikonMadhyamikMadhyamik
March 30, 2020
Author
Nandita Mukherjee Comments Off
– – জীবজগতের নিয়ন্ত্রন ও সমন্বয় (উদ্ভিদের চলন)
স্কুলে ক্লাস শেষ হয়ে গেলে তোমরা বাড়ি ফেরো, সারাদিনের ক্লান্তির ফলে নিশ্চয়ই তোমাদের খুব খিদে পায়। স্কুল থেকে ফেরার রাস্তাতেই খুব জোর খিদে পেয়ে যায়! কি তাই তো? কিন্তু বাড়িতে এলেই মা সঙ্গে সঙ্গে খেতে দেন না, বলেন পোশাক পরিবর্তন করে ভালো করে হাত – মুখ ধুয়ে আসার জন্য। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে খাবার টেবিলে বসার পরে, তবেই খাবার জোটে!
আমরা হলাম মানুষ, এই পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রাণী। আমরা পায়ে হেঁটে চলে বেড়াই, দরকার মতো উদ্দীপনায় সাড়া দিই।
তাদের তো আর বাড়ি নেই, কিংবা তাদের জন্য তো আর খাবার কেউ তৈরি করে বসে থাকে না! উদ্ভিদদের নিজেদের খাবার নিজেদের খাবার নিজেদের তৈরি করতে হয় (সালোকসংশ্লেষ), পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বা হ্রাস পেলে নিজেদের রক্ষা করতে হয়, আবার বেঁচে থাকার জন্য নানান প্রতিকূল পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে হয়। নিশ্চয় ভাবছো যে উদ্ভিদ তো আর প্রাণীদের মতো চলে বেড়াতে পারে না, তাহলে এই প্রয়োজনীয় কাজ করে কিভাবে? এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর আমরা খুঁজবো এই আলোচনায়। নিচের ভিডিওতে দেখে নিতে পারো যে কিভাবে মাত্র ২৫ দিনে একটা গাছ বীজ থেকে বেড়ে উঠছে।
প্রাণীদের মতো উদ্ভিদরাও পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন শনাক্ত করে, পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ সাড়া প্রদান করে। এই সাড়াপ্রদানের ক্ষমতা বা বিশেষ ধর্মকে বলা হয় সংবেদনশীলতা।
এবার বোঝা যাক যে এই সংবেদনশীলতা তৈরি হয় কিভাবে?
পরিবেশের পরিবর্তন হলে জীব (উদ্ভিদ বা প্রাণী উভয়ের কথা বলা হচ্ছে) সেগুলি বুঝতে বা শনাক্ত করতে পারে, একে বলা হয় উদ্দীপক। এই উদ্দীপক থেকে সৃষ্টি শক্তি হল উদ্দীপনা।
যেমন মানুষের ক্ষেত্রে পচা গন্ধ নাকে এলে আমরা সেই স্থান থেকে সরে আসি। এক্ষেত্রে পচা গন্ধ হল উদ্দীপক আর সরে আসার উচ্ছা হল উদ্দীপনা।
উদ্ভিদের জন্য উদ্দীপক প্রধানত দুই প্রকারের হয়।
বাহ্যিক উদ্দীপকঃ নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে এই উদ্দীপক বাইরে থেকে উৎপন্ন হয়। যেমন যেকোন লতানে গাছ (যেমন লাউ, কুমড়ো, মটর) কোন শক্ত অবলম্বন পেলে তাকে জড়িয়ে বেড়ে ওঠে।
অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকঃ এই উদ্দীপক উদ্ভিদের দেহের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয়। যেমন জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রভাবে গাছের মূল বৃদ্ধি পায়।
প্রাচীনকালে মনে করা হত যে পরিবেশের কোন পরিবর্তন উদ্ভিদ শনাক্ত করতে পারে না, উদ্ভিদরা শুধুমাত্র বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ যেমন হরমোনের মাধ্যমে উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদান ও সমন্বয় করে। কিন্তু বাঙালি বৈজ্ঞানিক আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু তাঁর যুগান্তকারী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে প্রাণীর উদ্ভিদের বিভিন্ন অনুভুতি রয়েছে। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু লজ্জাবতী ও বনচাঁড়াল উদ্ভিদের সাহায্য নিয়ে প্রমাণ করেন যে –
প্রাণীর মতো উদ্ভিদও তার ছন্দোবদ্ধ ক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং তাঁর সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে।
এই উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদানের কারণ হিসাবে তিনি বাহ্যিক বিভিন্ন উদ্দীপকের (যেমন স্পর্শ, উত্তাপ ইত্যাদি) উদ্দীপনায় উদ্ভিদের অভ্যন্তরে কোশের পরিবর্তনকে চিহ্নিত করেন।
আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ও তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কার ক্রেসকোগ্রাফ
তাঁর আবিষ্কৃত যন্ত্র ক্রেসকোগ্রাফ (crescograph) দ্বারা তিনি উদ্ভিদের চলন সংক্রান্ত পরীক্ষাটি করেছিলেন। এই যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদের অতি সামান্য চলন বা সাড়াপ্রদান পরিমাপ করা যায়।
মনে রাখতে হবে উদ্ভিদের সাড়া প্রদান করার প্রক্রিয়া প্রাণীদেহের তুলনায় অত্যন্ত ধীর। এই চলন দুটি কারণে হয় –
বৃদ্ধিজ চলনঃ উদ্ভিদ দেহের বৃদ্ধির কারণে এই চলন সম্পন্ন হয়। এই চলন প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। যেমন পর্যাপ্ত আলো ও ভালো মৃত্তিকা পেলে উদ্ভিদ খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে।
প্রকরণ চলনঃ
কোশের রসস্ফিতির তারতম্যের জন্য উদ্ভিদের যে চলন লক্ষ্য করা যায়, তাকে প্রকরণ চলন বলা হয়। এই প্রকার চলন ত্রি-ফলক যুক্ত বনচাঁড়ালে লক্ষ্য করা যায়। একটি বড় পাতার তলায় দুটি ছোট পত্রক থাকে, তারা ক্রমান্বয়ে ওঠা-নামা করতে থাকে। তবে এই প্রকার চলন কেবল মাত্র দিনের বেলাই দেখতে পাওয়া যায়। নিচের ভিডিওতে এই প্রকার চলন দেখানো হল।
প্রসঙ্গত বনচাঁড়াল ও লজ্জাবতী এই দুটি উদ্ভিদ চলনের খুব দ্রুত সাড়া দেয়। এই ঘটনা উদ্ভিদ জগতে বিরল। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু এই কারণে তাঁর জগৎখ্যাত পরীক্ষার জন্য এই দুটি উদ্ভিদকে বেছে নিয়েছিলেন।
আমরা বুঝতে পারলাম যে পরিবেশের নানান পরিবর্তনের সাথে সাথে উদ্ভিদ নিজের পরিবর্তন ঘটায়। এবার আমরা বিস্তারিত জানবো উদ্ভিদের চলন সম্পর্কে।
যে প্রক্রিয়ায় জীব বিভিন্ন উদ্দীপকের সাহায্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এক স্থানে স্থির থেকে তার দেহের অংশকে সঞ্চালন করে তাকে চলন বলা হয়।
উদ্ভিদের চলন মূলত তিন প্রকার
ট্যাকটিক কথার অর্থ হল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া। এই প্রকার চলনে বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদ দেহের স্থান পরিবর্তিত হয়। এই প্রকার চলনকে প্যারাটনিক চলন-ও বলা হয়।
ট্যাকটিক চলনেও কিছু প্রকারভেদ আছে, সেগুলি হলঃ
ফটোট্যাকটিক (চলন যখন আলোর অভিমুখে হয়)
কেমোট্যাকটিক (চলন যখন রাসায়নিক পদার্থের অভিমুখে হয়)
থার্মোট্যাকটিক (চলন যখন উষ্ণতার অভিমুখে হয়)
হাইড্রোট্যাকটিক (চলন যখন জলের অভিমুখে হয়)
রিওট্যাকটিক (চলন যখন জলস্রোতের অভিমুখে হয়)
উপরিউক্ত ট্যাকটিক চলনগুলির মধ্যে একমাত্র ফটোট্যাকটিক চলন তোমাদের পাঠ্যাংশের অন্তর্গত। অন্য প্রকারগুলি তোমরা বিস্তারিত ভাবে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়বে।
ফটোট্যাকটিক চলনঃ নামের মধ্যে দিয়েই আমরা এই প্রকার চলনের ধরণ কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের সামগ্রিক চলনকে ফটোট্যাকটিক চলন বলা হয়।
উদাহরণঃ ভলভক্স জাতীয় শৈবালগুলি আলোর উৎসের দিকে এগিয়ে যায়। নিচের ভিডিওটিতে ভলভক্সের চলন দেখানো হল।
বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে যখন উদ্ভিদ, উদ্দীপকের গতিপথের অভিমুখে চালিত হয় তখন থাকে ট্রপিক চলন বা দিক্নির্ণীত চলন বলা হয়। সাধারণত এই ধরনের চলনের ক্ষেত্রে উদ্ভিদের বক্রচলন লক্ষ্য করা যায়।
প্রকারভেদ অনুযায়ী ট্রপিকচলনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
ফটোট্রপিক চলনঃ
আলোক উদ্দীপকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত চলনকে ফটোট্রপিক চলন বলা হয়। এই দ্বারা কান্ড আলোর দিকে (আলোক অণুকুল) ও মূল আলোর বিপরীত (আলোক প্রতিকুল) দিকে এগিয়ে যায়।
উদ্ভিদের ফটোট্রপিকফটোট্রপিফটোট্রপিকফটোট্রপিফটোট্রপিকফটোট্রপিফটোট্রপিকফটোট্রপি
উদাহরণঃ প্রায় সব প্রকার উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই এই প্রকার চলন দেখা যায়। এর একটা উদাহরণ হাতে কলমে করে দেখতে পারো। যেকোন টবে বসানো উদ্ভিদকে জানলার সামনে কিছুদিনের জন্য রেখে দিলে, দেখা যাবে উদ্ভিদের কাণ্ডটি আলোর অভিমুখে বক্র ভাবে চালিত হয়েছে।
জিওট্রপিক চলনঃ
পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের দ্বারা যে চলন নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে জিওট্রপিক চলন বলা হয়। আমরা সবাই পৃথিবীর অভিকর্ষজ বল সম্পর্কে জানি, এই বলের দ্বারা পৃথিবী যে কোন বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই অভিকর্ষ বলের জন্য উদ্ভিদের মূল (অভিকর্ষ অণুকুলবর্তী) পৃথিবীর দিকে ধাবিত হয় এবং কান্ড (অভিকর্ষ প্রতিকূলবর্তী) অভিকর্ষের বিপরীতে চালিত হয়।
দশম
হাইড্রোট্রপিক চলনঃ
জলের উৎসের গতিপথ দ্বারা যখন উদ্ভিদের বক্রচলন নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তাকে হাইড্রোট্রপিক চলন বলে। আমরা জানি জল উদ্ভিদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তাই জলের উৎসমুখের দিকে চলন বা হাইড্রোট্রপিক চলন সকল উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়।
একটা সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে বাড়িতে উদ্ভিদের হাইড্রোট্রপিক চলন পরীক্ষাটি করা যেতে পারে। প্রথমে কিছু ধনে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। নীচে জলের পাত্র রেখে, তার উপরে একটি ঝুড়ি রেখে তাতে ধনে বীজগুলি ছড়িয়ে দিতে হবে। কিছুদিন জল দিয়ে রেখে দেবার পর দেখা যাবে, বীজগুলি থেকে অঙ্কুরোদগম হয়েছে এবং মূল গুলি জলের দিকে ধাবিত হয়েছে।
উদ্ভিদের হাইড্রোট্রপিক চলন পরীক্ষা [ঋণ স্বীকার P
ন্যাস্টিক কথার অর্থ ব্যাপ্তি। উদ্ভিদ যখন সরাসরি উদ্দীপকের গতিপথের দিকে না গিয়ে উদ্দীপকের তীব্রতার দ্বারা নিয়ত্রিত হয় তখন তাকে ন্যাস্টিক চলন বলা হয়। যেমন কাঁঠালিচাপা ফুল রাতের অন্ধকারে ফোটা।
অনেকের ট্রপিক চলন এবং ন্যাস্টিক চলন আলাদা করে বুঝতে অসুবিধা হয়। কারণ দুটো ক্ষেত্রেই উদ্ভিদ উদ্দীপকের উৎসের (যেমন আলো) দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু দুটো চলন সম্পূর্ণ আলাদা। ট্রপিক চলনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের তীব্রতার কোন ভুমিকা থাকে না, উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে উদ্ভিদ আলোর দিকে অগ্রসর হয়।
ন্যাস্টিক চলনের ক্ষেত্রে কিন্তু উদ্দীপকের তীব্রতার ভুমিকাই প্রধান। যেমন আলোর তীব্রতা কম থাকলে ফুল ফোটা।
ন্যাস্টিক চলনের প্রকারভেদ চার প্রকারের।
ফটোন্যাসটিক চলনঃ আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে উদ্ভিদের বক্রচলন। যেমন সূর্যমুখি ফুল দিনের বেলায় ফোটে এবং আলোর তীব্রতার উপর ভিত্তি করে দিক পরিবর্তন করে।
সূর্যমুখী ফুল।
থার্মোন্যাস্টিক চলনঃ থার্মো কথার অর্থ উষ্ণতা। উষ্ণতার তীব্রতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদের যে বক্রচলন হয় তাকে থার্মোন্যাস্টিক চলন বলা হয়। যেমন উদাহরণ হিসাবে বলা যায় টিউলিপ ফুল সাধারণ উষ্ণতায় ফোটে কিন্তু উষ্ণতা হ্রাস পেলে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
উন্মুক্ত টিউলিপ ফুল
সিসমোন্যাস্টিক চলনঃ স্পর্শ, কম্পন ইত্যাদি বহিস্থ উদ্দীপনার প্রভাবে যে চলন দেখা যায় তাকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলা হয়। যেমন লজ্জাবতী গাছের পাতা স্পর্শ করলে বন্ধ হয়ে যায়।
কেমোন্যাস্টিক চলনঃ রাসায়নিক তীব্রতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদ অঙ্গের যে চলন ঘটে তাকে কেমোন্যাস্টিক চলন বলে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, পতঙ্গভুক উদ্ভিদে যেমন ডায়োনিয়া পতঙ্গ বসলে, পতঙ্গের রাসায়নিক উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পত্রফলকের কর্সিকাগুলি পতঙ্গকে ঘিরে ফেলে।
ডায়োনিয়া
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : (মান - 1)
1. উদ্ভিদের মূলের চলন সাধারণত কোন দিকে হয় ?
a. আলোর দিকে b. অভিকর্ষের অনুকুলে c. অভিকর্ষের প্রতিকুলে d. জলের প্রতিকূলে
ans.[b] অভিকর্ষে অনুকুলে হয়
2. উদ্ভিদের কোন অঙ্গের চলন জলের অনুকূলে ঘটে ?
a. কাণ্ড b. মূল c. পাতা d. আকর্ষ
ans.[b] মূল
3. উত্তেজনায় জীবের সাড়া দেওয়ার ধর্মকে বলে
a. উদ্দীপনা b. সংবেদনশীলতা c. উত্তেজিতা d. সহনশীলতা
ans.[c] উত্তেজিতা
4. সূর্যমুখী ফুল আলোকের তীব্রতায় ফোটে, এটি কী প্রকারের চলন ?
a. ফোটোট্রপিক b. ফোটোন্যাস্টিক c. থার্মোন্যাস্টিক d. নিকটিন্যাস্টিক
ans.[b] ফোটোন্যাস্টিক
5. নীচের কোনটি মাছের জোড় পাখনা ?
a. পৃষ্ঠ পাখনা b. পায়ু পাখনা c. বক্ষ পাখনা d. পুচ্ছ পাখনা
ans.[c] বক্ষ পাখনা
6. মাছকে জলে ডুবাতে ও ভাসাতে সাহায্য করে কোন অঙ্গ ?
a. পেশি b. পাখনা c. পটকা d. লঘুমস্তিস্ক
ans.[c] পটকা
7. পায়রার ডানায় বড়ো পালকের (রেমিজেস) সংখ্যা কটি ?
a. 23 টি b. 12 টি c. 10 টি d. 22 টি
ans.[a] 23টি
8. প্যারামিসিয়ামের গমন অঙ্গ হল
a. ক্ষণপদ b. সিলিয়া c. ফ্লাজেলা d. কর্ষিকা
ans.[b] সিলিয়া
9. জীবের স্বেচ্ছায় স্থান পরিবর্তন করাকে বলে
a. চলন b. সঞ্চালন c. গমন d. চলন ও গমন।
ans.[c] গমন
10. সিলিয়ারি গতি দেখা যায়
a. প্যারামিসিয়ামে b. অ্যামিবায় c. ইউগ্লিনাতে d. কেঁচোতে
ans.[a]প্যারামিসিয়ামে
11. মায়োটোম পেশি গমনে সাহায্য করে কোন্ প্রাণীটিতে ?
a. ব্যাং b. সাপ c. কেঁচো d. মাছ
ans.[d] মাছ
12. বল ও সকেট সন্ধির উদাহরণ হল
a. হাঁটু সন্ধি b. কনুই সন্ধি c. ঊরু সন্ধি d. করোটির অস্থি সন্ধি
ans.[c] ঊরুসন্ধি
13. হাতের বাইসেপস পেশি হল
a. ফ্লেক্সর পেশি b. এক্সটেনসর পেশি
c. অ্যাবডাক্টর পেশি d. অ্যাডাক্টর পেশি
ans.[a] ফ্লেক্সর পেশি
14. কোনটি রোটেটর পেশি ?
a. পাইরিফরমিস পেশি b. ফ্রেক্সর পেশি
c. ডেলটয়েড পেশি d. মায়োটোম পেশি
ans.[a] পাইরিফরমিস পেশি
15. উদ্ভিদ হরমোনের প্রধান কাজ হল
a. কোশে কোশে রাসায়নিক সমন্বয় সাধন করা b. কাণ্ডের বৃদ্ধি ঘটানো
c. মূলের বৃদ্ধি ঘটানো d. ফলের বিকাশ ঘটানো
ans.[a] কোশে কোশে রাসায়নিক সমন্বয় সাধন করা
16. ফুল ফোটাতে সাহায্য করে কোন প্রকল্পিত হরমোন ?
a. ইথিলিন b. ফ্লোরিজেন c. কাইনিন d. অক্সিন
ans.[b] ফ্লোরিজেন
17. উদ্ভিদের কোন অঙ্গ কম ঘনত্বের অক্সিনে অনুভূতিশীল ?
a. মূল b. পাতা c.কাণ্ড d.ফল
ans.[b] মূল
18. উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায় কোন হরমোন ?
a. কাইনিন b. অক্সিন c. জিব্বেরেলিন d. ইথিলিন
ans.[c] জিব্বেরেলিন
19. মাতৃদুগ্ধ ক্ষরণে সহায়তা করে কোন্ হরমোন ?
a. LTH b.STH c. ACTH d. GTH
ans.[a] LTH
20. তারারন্ধ্রকে বিস্ফারিত করে কোন হরমোন ?
a. অ্যাড্রিনালিন b. নন-অ্যাড্রিনালিন c. ইনসুলিন d. থাইরক্সিন
ans.[a] অ্যাড্রিনালিন
21. স্ত্রীলোকদের স্তনগ্রন্দ্বির বিকাশ ঘটায় কোন হৱমোন ?
a. STH b. থাইরক্সিন c. ইস্ট্রোজেন d. প্রোজেস্টেরন
ans.[d] প্রোজেস্টেরন
22. উদ্ভিদের জরা রোগ এবং ক্লোরোফিল বিনষ্টকরণ প্রতিহত করে কোন্ হরমোন ?
a. সাইটোকাইনিন b. জিব্বেরেলিন c. কৃত্রিম অক্সিন d. কৃত্রিম জিব্বেরেলিন
ans.[a] সাইটোকাইনিন
23. পত্রমোচন বিলম্বিত করে কোন্ হরমোন ?
a. অক্সিন b. জিব্বেরেলিন c. কাইনিন d. ইথিলিন
ans.[c] কাইনিন
24. গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয় কোন হরমোনের অধিক ক্ষরণে ?
a. STH b. TSH c. থাইরক্সিন d. অ্যাড্রিনালিন
ans.[b] TSH
25. নীচের কোনটি নিউরোট্রান্সমিটার নয় ?
a. অ্যাড্রিনালিন b. নন-অ্যাড্রিনালিন c. অ্যাসিটাইলকোলিন d. STH
ans.[d] STH
26. একটি স্টেরয়েডধর্মী হরমোন হল
a. থাইরক্সিন b. ইনসুলিন c. টেস্টোস্টেরন d. অ্যাড্যিনালিন
ans.[c] টেস্টোস্টেরন
27. কোন গ্রন্থিকে মাস্টার গ্র্যান্ড বা প্রভুগ্রন্থি বলে ?
a.অগ্ন্যাশয় b. থাইরয়েড c. পিটুইটারি d. পিনিয়াল বডি
ans.[c] পিটুইটারি
28. নিম্নলিখিত কোন হরমোন কম নিঃসৃত হলে ডায়বেটিস ইনসিপিডাস রোগ হয় ?
a. ACTH b.STH c. ADH d. GTH
ans.[c] ADH
29. যে নিউরোন দিয়ে গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রে যায় তাকে কী বলে ?
a.সংজ্ঞাবহ নিউরোন b.আজ্ঞাবহ নিউরোন
c.সহযোগী নিউরোন d.কোনোটিই ঠিক নয়
ans.[a] সংজ্ঞাবহ নিউরোন
27. স্নায়ুকোশের কোন অংশকে নিউরোসাইটন বলে ?
a.অ্যাক্সনকে b.ডেনড্রনকে c.কোশদেহকে d.সমগ্র স্নায়ুকোশকে
ans.[c] কোশদেহকে
28. একটি আজ্ঞাবহ স্নায়ুর নাম হল
a.অপটিক b.অকিউলোমোটর c.ভেগাস d.অলফ্যাক্টরি
ans.[b] অকিউলোমোটর
29. আমাদের হাসি-কান্না, ক্ষুধা-তৃষ্ণা ইত্যাদি মানসিক আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের কোন্ অংশ ?
a.থ্যালামাস b.হাইপোথ্যালামাস c.গুরুমস্তিষ্ক d.লঘুমস্তিষ্ক
ans.[b] হাইপোথ্যালামাস
30. দূরের বস্তু দেখার সময় লেন্স
a.মোটা হয় b.পুরু হয় c.পাতলা হয় d.কোনোটিই ঠিক নয়
ans.[c] পাতলা হয়
31. মানুষের দৃষ্টি হল
a.একনেত্র b.দ্বিনেত্র c.উভয় d. কোনোটিই নয়
ans.[b] দ্বিনেত্র
32. ব্যাং এর দৃষ্টি হল
a.একনেত্র b.দ্বিনেত্র c.উভয় d.কোনোটিই নয়
ans.[a] একনেত্র
33. অর্জিত প্রতিবর্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোন্ বিজ্ঞানী ?
a.স্যার নিউটন b.আইভ্যান প্যাভলভ c. ড.খোরানা d.জগদীশ চন্দ্র বোস
ans.[b] আইভ্যান প্যাভলভ
34. ক্রোধ ও লজ্জা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের কোন অংশ ?
a. লঘুমস্তিষ্ক b.গুরুমস্তিষ্ক c.থ্যালামাস d.হাইপোথ্যালামাস
ans.[c] থ্যালামাস
35. লোভনীয় খাদ্যের দর্শনে লালা ক্ষরণ হয়, এটি নিয়ন্ত্রণ করে
a.গুরুমস্তিষ্ক b.লঘুমস্তিষ্ক c.সুষুম্নাশীর্ষক d.সুষুম্নাকাণ্ড
ans.[d] সুষুম্নাকাণ্ড
36. নিউরোসিলের মধ্যে যে তরল থাকে তাকে বলে
a.হিমোলিম্ফ b.লসিকা c.সেরিব্রোস্পাইনাল তরল d.নিউরোহিউমর
ans.[c] সেরিব্রোস্পাইনাল তরল
37. চক্ষুর বাইরের দিকের স্বচ্ছ স্তরটি হল
a.স্ক্লেরা b.কোরয়েড c.রেটিনা d.কর্নিয়া
ans.[a] স্ক্লেরা
38. একটি লোকাল হরমোন হল
a. থাইরক্সিন b. অ্যাড্রিনালিন c. টেস্টোস্টেরন d. ইনসুলিন
ans.[c] টেস্টোস্টেরন
39. ফ্ল্যাজেলা কোন প্রাণীর গমন অঙ্গ ?
a. আরশোলা b. মাছ c. ইউগ্লিনা d. প্যারামিসিয়াম
ans.[c] ইউগ্লিনা
40. মানুষের অক্ষিগোলকের যে অংশটি আলোকসুবেদী
a. কোরয়েড b. ক্লেরা c. কর্নিয়া d. রেটিনা
ans.[d] রেটিনা
অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : (মান - 1)
1. ভলভক্স এর আলোর দিকে গমন চলনের ______ উদাহরণ ।
ans.[ফোটোট্যাকটিক]
2. ______ যন্ত্রের সাহায্যে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ দেহে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন
ans.[রেজোন্যান্ট রেকোর্ডার]
3. বনচাঁড়ালের পাতার ত্রিফলকের পার্শ্ব পত্ৰক দুটির পর্যায়ক্রমে ওঠানামা হল এক প্রকার ______ চলন ।
ans.[প্রকরণ]
4. সূর্যের আলোর প্রভাবে ট্রপিক চলন হল ______ ।
ans.[হেলিওট্রপিজম]
5. ______ পেশার সংকোচনে গোড়ালি মাটি থেকে ওপরে উঠে আসে ।
ans.[গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াম]
6. মাছের ______ ও শ্রোণিপাখনা হল জোড় পাখনা ।
ans.[বক্ষ পাখনা]
7. মাছের মেরুদণ্ডের দুপাশের অস্থিসংলগ্ন পেশির নাম ______ |
ans.[মায়োটোম]
8. গমনে সক্ষম উদ্ভিদ হল ______ ।
ans.[ভলভক্স]
9. সল জেল পরিবর্তনের সাহায্যে ______ প্রাণীর গমন ঘটে ।
ans.[অ্যামিবা]
10. রোটেশন সাহায্যকারী পেশি হল ______ |
ans.[পাইরিফরমিস পেশি]
11. অ্যামিবার গমন পদ্ধতি হল ______ ।
ans.[অ্যামিবয়েড]
12. পাখির উড্ডয়ন দু-প্রকার ______ ও ______ ।
ans.[ফ্ল্যাপিং, গ্লাইডিং]
13. ক্ষণপদ ______ গমন অঙ্গ ।
ans.[অ্যামিবার]
14. অস্থিসন্ধিগুলি ______ বন্ধনি দ্বারা আবদ্ধ থাকে ।
ans.[লিগামেন্ট]
15. ______ নামক প্রাণী গমনে অক্ষম ।
ans.[স্পঞ্জ]
16. হরমোনকে _______ সমম্বায়ক বলে।
ans.[রাসায়নিক]
17. উদ্ভিদ হরমোন _______ কলা থেকে উৎপন্ন হয় ।
ans.[ভাজক]
18. ডাবের জল _______ হরমোন থাকে।
ans.[কাইনিন]
19. প্রানী হরমোন _______ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ।
ans.[অনাল]
20. _______ একটি ক্ষারীয় উদ্ভিদ হরমোন।
ans.[কাইনিন]
21. _______ হরমোন DNA রেপ্লিকেশন ত্বরান্বিত করে।
ans.[সাইটোকাইনিন]
22. _______ হরমোন ক্লোরোফিল বিনষ্টিকরণ বিলম্বিত করে।
ans.[সাইটোকাইনিন]
23. _______ একটি গ্যাসীয় হরেমান।
ans.[ইথিলিন]
24. _______ এটি স্টেরয়েড হরমোন।
ans.[ইস্ট্রোজেন]
25. _______ একটি গ্লাইকোপ্রোটিন হরমোন।
ans.[FSH]
26. _______ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি না হয়েও অন্তঃক্ষরা তন্ত্রের কার্য নিয়ন্ত্রন করে।
ans.[হাইপোথ্যালামা29. বীজের দ্রুত অঙ্কুরোদ্গম ঘটায় _______ হরমোন।
ans.[জিব্বেরেলিন]
27. প্রথম আবিষ্কৃত উদ্ভিদ হরমোন _______ ।
ans.[অক্সিন]
28. _______ হল অ্যান্টি জিব্বেরেলিন হরমোন।
ans.[অ্যাবসিসিক অ্যাসিড]
29. _______ ঘনত্বে অক্সিন কাণ্ডের বৃদ্ধি ঘটায়।
ans.[বেশি]
30. থাইরক্সিন হরমোনের কম ক্ষরণে শিশুদের _______ রোগ হয়।
ans.[ক্রেটিনিজম]
31. _______ একটি প্রোটিন হরমোন।
ans.[ইনসুলিন]
32. _______ একটি অ্যামাইনো হরমোন।
ans.[থাইরক্সিন]
33. _______ একটি অ্যান্টিডায়াবেটিক হরমোন।
ans.[ইনসুলিন]
34. __________ স্নায়ুকলার ধারক কোশ হিসেবে কাজ করে।
ans.[নিউরোগ্নিয়া]
35. _________ হল স্নায়ুকোশের বৃহৎ বহির্বাহী প্রবর্ধক।
ans.[অ্যাক্সন]
36. অ্যাক্সনের মায়োলিন সিদ্ ও নিউরোলেমার মধ্যে নিউক্লিয়াস যুক্ত ডিম্বাকার
কোশকে বলে ________ কোশ।
ans.[সোয়ান]
37. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র ___________ ও ___________ স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গঠিত।
ans.[সমবেদী, পরাসমবেদী]
38. গুরুমস্তিষ্কের অর্ধগোলক দুটি ___________ নামক স্নায়ুযোজক দিয়ে যুক্ত থাকে।
ans.[করপাস ক্যালোসাম]
39. ___________ হল মেনিনজেসের বাইরের স্তর।
ans.[ডুরাম্যাটার]
40. মস্তিষ্কের ফাঁপা স্থানকে ____________ বলে।
ans.[ভেন্ট্রিকল]
41. __________ -এর দ্বিনেত্রি দৃষ্টি দেখা যায়।
ans.[মানুষ]
42. উদ্ভিদের নাইট্রোজেনবিহীন হরমোন হল ________ ।
ans.[জিব্বেরেলিন]
43. চক্ষুর বাইরের দিকে স্বচ্ছ স্তরটি হল __________ ।
ans.[স্ক্লেরা]
নীচের বিবৃতিগুলি সত্য না মিথ্যা লেখো : (মান - 1)
1. বনচাঁড়াল উদ্ভিদ ভারতীয় টেলিগ্রাফ উদ্ভিদ নামে পরিচিত । [F]
2. বনচাঁড়ালের নিদ্রচলন দেখা যায় । [F]
3. কুমড়ো গাছের কাণ্ডের রোমে সারকুলেশন দেখা যায় । [T]
4. লজ্জাবতী উদ্ভিদে প্রকরণ চলন দেখা যায় । [F]
5. Resonent Recorder জগদীশচন্দ্র বসু আবিষ্কার করেন । [T]
6. টপিক চলন অক্সিন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় । [T]
7. ভলভক্স শুষ্ক স্থান থেকে জলের দিকে গমন কেমোট্যাকটিক চলন । [F]
8. কাণ্ডে প্রতিকূল আলোকবর্তী চলন দেখা যায় । [F]
9. ইউগ্লিনা সিলিয়ার সাহায্যে গমন করে । [F]
10. মাছের বক্ষ পাখনা জোড় পাখনা । [T]
11. যে পেশি অস্থি সন্ধিতে দুটো অস্থিকে দূরে নিয়ে যায় তাকে এক্সটেনসর পেশি বলে । [T]
12. ডানা দুটিকে প্রসারিত করে বাতাসে ভেসে থাকাকে গ্লাইডিং বলে । [T]
13. অক্সিন ক্ষারীয় হরমোন। [F]
14. IAA একটি কৃত্রিম হরমোন। [F]
15. অক্সিন ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে। [T]
16. জিব্বেরেলিন পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়। [T]
17. সাইটোকাইনিনের অপর নাম ফাইটোকাইনিন। [T]
18. কাইনিন ক্লোরোফিল উৎপাদনে সাহায্য করে। [T]
19. অক্সেইন শব্দের অর্থ বৃদ্ধি হওয়া। [T]
20. ACTH এর কম ক্ষরণে কুশিং রোগ হয়। [F]
21. ইনসুলিন অ্যান্টিকিটোজেনিক হরমোন। [T]
22. এপিনেফ্রিন অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স থেকে ক্ষরিত হয়। [F]
23. থাইরক্সিনের প্রভাবে BMR বৃদ্ধি পায়। [T]
24. নিউরোফাইব্রিল স্নায়ুকোশের সংকোচনে সহায়তা করে। [T]
25. অ্যাক্সোপ্লাজমে নিজল দানা থাকে। [F]
26. ডেনড্রনের শাখাকে ডেনড্রাইট বলে। [T]
27. অপটিক স্নায়ু মিশ্র স্নায়ু। [F]
28. সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা 31 জোড়া। [T]
29. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের আবরণকে মেনিনজেস বলে। [T]
30. মানুষের মস্তিষ্কের পাঁচটি ভেন্ট্রিকল থাকে। [F]
31. মানুষের প্রতিটি চোখে প্রায় 65 লক্ষ কোন কোশ থাকে। [T]
32. স্নায়ুতন্ত্রের একক হল নেফ্রন। [F]
33. অ্যাসিটাইল কোলিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার। [T]
34. লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে পাতাগুলি মুড়ে যায়। [T]
বামস্তম্ভ ও ডানস্তম্ভ : (মান - 1)
A.
বামস্তম্ভ
ডানস্তম্ভ
উত্তর
1. অভিগ আলোকবর্তী
A. শাখা-প্রশাখা মুল
1.
B. বিটপ
2. প্রতীপ আলোকবর্তী
B. বিটপ
2.
C. মূল
3. তির্যক আলোকবর্তী
C. মূল
3.
E. ধাবক
4. তির্যক অভিকর্ষবর্তী
D. শ্বাসমূল
4.
A. শাখা-প্রশাখা মূল
E. ধাবক
B.
বামস্তম্ভ
ডানস্তম্ভ
উত্তর
1. ট্যাকটিক চলন
A. উদ্দীপকের গতিপথ
1.
C. উদ্দীপকের তীব্রতা ও গতিপথ
2. ট্রপিক চলন
B. উদ্দীপকের তীব্রতা
2.
A. উদ্দীপকের গতিপথ
3. ন্যাস্টিক চলন
C. উদ্দীপকের তীব্রতা ও গতিপথ
3.
B. উদ্দীপকের তীব্রতা
4. নিকটিন্যাস্টি
D. আলোর তীব্রতা
4.
E. তাপ ও আলাোর তীব্রতা
E. তাপ ও আলোর তীব্রতা
C.
বামস্তম্ভ
ডানস্তম্ভ
উত্তর
1. অ্যামিবা
A. মায়োটোম পেশি
1.
C. ক্ষণপদ
2. প্যারামিসিয়াম
B. রেমিজেস পালক
2.
D. সিলিয়া
3. ইউগ্লিনা
C. ক্ষণপদ
3.
E. ফ্লাজেলা
4. মাছ
D. সিলিয়া
4.
A. মায়োটোম পেশি
E. ফ্লাজেলা
D.
বামস্তম্ভ
ডানস্তম্ভ
উওর
1. ইনসুলিন
A. অ্যাক্রোমেগালি
1.
C. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস
2. গ্লুকাগন
B. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি
2.
B. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি
3. থাইরক্সিন
C. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস
3.
E. হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি
4. গ্রোথ হরমোন
D. জরুরীকালীন হরমোন
4.
A. অ্যাক্রোমেগালি
E. হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি
E.
বামস্তম্ভ
ডানস্তম্ভ
উওর
1. সুপ্রিম কমান্ডার
A. শুক্রাশয়
1.
B. হাইপোথ্যালামাস
2. প্রভুগ্রন্থি
B. হাইপোথ্যালামাস
2.
D. পিটুইটারি গ্রন্থি
3. সুপ্ৰারেনাল গ্রন্থি
C. থাইরয়েড গ্রন্থি
3.
E. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
4. মিশ্র গ্রন্থি
D. পিটুইটারি গ্রন্থি
4.
A. শুক্রাশয়
E. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
দ্বিতীয় জড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও : (মান - 1)
1. টিউলিপ ফুল : থার্মোন্যাস্টি :: পদ্ম ফুল : ________ ।
ans.[ফোটোন্যাস্টি]
2. অ্যামিবা : সিউডোপপাডিয়া :: ইউগ্লিনা : ________ ।
ans.[ফ্ল্যিাজেলা]
3. সল ও জেল মতবাদ : অ্যামিবয়েড গমন :: মেটাক্রোনাল ছন্দ ________ ।
ans.[সিলিয়ারী গমন]
4. ফিমার : পায়ের অস্থি :: রেডিয়াস : ________ ।
ans.[হাতের অথি]
5. প্রাকৃতিক হরমোন : অক্সিন : : প্রকল্পিত হরমোন : ________ ।
ans.[ফ্লোরিজেন]
6. বামনত্ব : STH :: গয়টার : ________ ।
ans.[TSH]
7. অগ্রস্থ প্রকটতা : অক্সিন :: কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি : ________ ।
ans.[কাইনিন]
8. ভ্রূণমুকুলাবরণী : অক্সিন :: ডাবের জল : ________ ।
ans.[কাইনিন]
9. জিব্বেরেলিন : অ্যাসিটাইল CoA :: ইথিলিন : ________ ।
ans.[মিথিওনিন ]
10. প্রোটিন হরমোন : ইনসুলিন :: স্টেরয়েড হরমোন : ________ ।
ans.[ইস্ট্রোজেন]
11. মিশ্র গ্রন্থি : শুক্রাশয় :: বহিক্ষরা গ্রন্থি : ________ ।
ans.[লালাগ্রন্থি]
12. পুং গোনাড : শুক্রাশয় :: স্ত্রী গোনাড : ________ ।
ans.[ডিম্বাশয়]
13. বৃক্ক নিঃসৃত হরমোন : এরিথ্রোপোয়েটিন :: হৃৎপিণ্ড নিঃসৃত হরমোন : ________ ।
ans.[ANF]
14. ক্ষুদ্রতম অন্তঃক্ষরাগ্রন্থি : পিটুইটারি :: বৃহত্তম অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি : ________ ।
ans.[থাইরয়েড]
15. অ্যাড্রিনাল মেডালা : অ্যাড্রিনালিন :: অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স : ________ ।
ans.[গ্লুকোকর্টিকয়েড]
16. ADH : ভেসোপ্রেসিন :: অক্সিটোসিন : ________ ।
ans.[পিটোসিন]
17. পিটুইটারির ওজন : 500 mg :: থাইরয়েডের ওজন : ________ ।
ans.[20 gm]
18. সেরিব্রামের ভাঁজ : গাইরাস :: সেরিব্রামের খাঁজ : _________ ।
ans.[সালকাস]
19. সেরিব্রাম : করপাস ক্যালোসাম :: সেরিবেলাম : _________ ।
ans.[ভারমিস]
20. রড কোশ : মৃদু আলো :: কোন কোশ : _________ ।
ans.[উজ্জ্বল আলো ]
21. মায়োপিয়া : অবতল লেন্স :: হাইপারমেট্রোপিয়া : ________ ।
ans.[উত্তল লেন্স]
22. দূরবন্ধ দৃষ্টি : হাইপারমেট্রোপিয়া :: নিকট বন্ধ দৃষ্টি : ________ ।
ans.[মায়োপিয়া ]
23. গ্রাহক প্রবর্ধক : ডেনড্রন :: প্রেরক প্রবর্ধক : ________ ।
ans.[অ্যাক্সন]
24. প্রতিসারক মাধ্যম : লেন্স :: প্রতিবিম্ব গঠন ________ ।
ans.[রেটিনা]
25. সরল প্রতিবর্ত : সুষুম্নাকাণ্ড :: জটিল প্রতিবর্ত : ________ ।
ans.[মস্তিষ্ক]
26. রড কোশ : 110-125 মিলিয়ন :: কোন কোশ _________ ।
ans.[6-7 মিলিয়ন]
27. স্নায়ুতন্তু : এন্ডোনিউরিয়াম :: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র : ________ ।
ans.[মেনিনজেস]
28. বৃহত্তম অক্ষিগাোলক : ঘোড়ার :: ক্ষুদ্রতম অক্ষিগোলক : ________ ।
ans.[বাঁদরের]
29. স্তন্যপায়ীদের করোটিয় স্নায়ু : 12 জোড়া :: মাছের করোটিয় স্নায়ু: ________ ।
ans.[10 জোড়া]
বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো : (মান - 1)
1. কেমোন্যাস্টিক, কলসপত্রী, সন্ধ্যামালতি, সূর্যশিশির ।
ans.[সন্ধ্যামালতি]
2. পদ্ম, সূর্যমুখী, ফোটোন্যাস্টিক, টিউলিপ ।
ans.[টিউলিপ]
3. হিউমেরাস, টিবিয়া, আলনা, কারপাল ।
ans.[টিবিয়া]
4. এক্সটেনশন, অ্যাবডাকশন, অ্যাডাক্টর, ফ্লেক্সন ।
ans.[অ্যাডাক্টর]
5. পাইরিফরমিস পেশি, অ্যাডাকটর ম্যাগনাস, ল্যাটিসিমাস ডরসি, লংগাস ।
ans.[পাইরিফরমিস পেশি]
6. লঘু মস্তিষ্ক, অর্ধবৃত্তাকার নালি, ভেস্টিবিউল, গুরু মস্তিষ্ক ।
ans.[গুরুমস্তিষ্ক]
7. ভুট্টার সস্য, ডাবের জল, অঙ্কুরিত চারাগাছ, টম্যাটোর রস।
ans.[অঙ্কুরিত চারাগাছ]
8. IAA, IBA, IPA, NAA ।
ans.[IAA]
9. ট্রপিক চলন, ফুলফোটা, অগ্রন্থ প্রকটতা, মুকুললাম ।
ans.[ফুলফোটা]
10. 2, 4-D, 2, 4, 5-T, GA, IBA ।
ans.[GA]
11. গ্লুকাগন, অ্যাড্রেনালিন, ইনসুলিন, লন ইনসুলিন, সোমাটোস্টেটিন ।
ans.[অ্যাড্রিনালিন]
12. GH, ADH, ইনসুলিন, FSHT ।
ans.[ইনসুলিন]
13. ক্রেটিনিজম, মিক্সিডিমা, গয়টার, বামনত্ব ।
ans.[বামনত্ব]
14. ভেগাস, অপটিক, ফেসিয়াল, ট্রাইজেমিনাল।
ans.[অপটিক]
15. মায়োপিয়া, ক্যাটারাক্ট, হাইপারমেট্রোপিয়া, প্রেসবায়োপিয়া।
ans.[ক্যাটারাক্ট]
16. নিজল দানা, র্যানভিয়ারের পর্ব, সোয়ান কোশ, অ্যাক্সোপ্লাজম।
ans.[নিজল দানা]
এক কথায় উত্তর দাও : (মান - 1)
1. পরিবেশের যে সব পরিবর্তন শনাক্ত হয় এবং প্রাণীদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাদের কী বলে ?
ans. উদ্দীপক বলে ।
2. প্রোটোপ্লাজমের আবর্তনগতি বা সারকুলেশন কোথায় দেখা যায় ?
ans. কুমড়ো গাছের কাণ্ডের রোমে ।
3. গমনে সক্ষম একটি উদ্ভিদের নাম কী ?
ans. ক্ল্যামাইডোমোনাস ।
4. প্রকরণ চলন কোথায় দেখা যায় ?
ans. বনচাঁড়ালের পত্রকে ।
5. উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে না হয়ে তীব্রতা অনুসারে হয় তাকে কী চলন বলে ?
ans. ন্যাস্টিক চলন ।
6. উদ্ভিদ দেহের উদ্দীপকের প্রভাবে স্থানান্তরে গমনকে কী বলে ?
ans. ট্যাকটিক চলন ।
7. তেঁতুল পাতার পত্রগুলি প্রখর আলো ও অধিক উষ্নতায় খুলে যায় এবং কম আলো ও কম তাপে মুদে যায়, এটি কী প্রকারের চলন ?
ans. নিকটিন্যাস্টিক চলন ।
8. ক্ষণপদের সাহায্যে গমন হয় কোন প্রাণীর ?
ans. অ্যামিবার ।
9. মানবদেহের কোন কোশে ক্ষণপদ দেখা যায় ?
ans. শ্বেত রক্তকণিকা ।
10. অ্যামিবার গমনকে কী বলে ?
ans. অ্যামিবয়েড গতি ।
11. একটি মুখ্য জলজ প্রাণীর উদাহরণ দাও ।
ans. মাছ মুখ্য জলজ প্রাণী ।
12. একটি মুখ্য খেচর প্রাণীর উদাহরণ দাও।
ans. পায়রা মুখ্য খেচর প্রাণী ।
13. একটি অ্যাবডাক্টর পেশির উদাহরণ দাও ।
ans. ডেলটয়েড পেশি।
14. যে প্রক্রিয়ায় কোনো অঙ্গাকে দেহাক্ষের নিকটবর্তি হতে সাহায্য করে তাকে কী বলে ?
ans. অ্যাডাকশন বলে।
15. একটি অ্যাক্টর পেশির উদাহরণ দাও ।
ans. ল্যাটিসিমাস ডরসি ।
16. রোটেশন কাকে বলে?
ans. যে প্রক্রিয়ার দেহের কোনো অংশ আবর্তিত হয় তা রোটেশন বলে ।
17. মানবদেহের দীর্ঘতম অস্থি কোনটি ?
ans. ফিমার ।
18. একটি এক্সটেনসর পেশির উদাহরণ দাও ।
ans. ট্রাইসেপস ।
19. কৃষিক্ষেত্রে আগাছা নির্মূল করার জন্য কোন্ কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করা হয় ?
ans. কৃত্রিম অক্সিন (2, 4-D)।
20. পত্রমোচন বিলম্বিত করে কোন হরমোন ?
ans. সাইটোকাইনিন।
21. জিব্বেরেলিনের রাসায়নিক উপাদানগুলি কী কী ?
ans. জিব্বেরেলিনের রাসায়নিক উপাদানগুলি হল- কার্বন,হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।
22. জিব্বেরেলিনের দুটি উৎস উল্লেখ করো।
ans. জিব্বেরেলিন উদ্ভিদের পরিপক্ক বীজে ও বীজপত্রে পাওয়া যায়।
23. উদ্ভিদের অগ্রথ প্রকটতা ঘটায় কোন হরমোন?
ans. অক্সিন।
24. হরমোনের পরিণতি কী ?
ans. হরমোন ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
25. একটি ট্রফিক হরমোনের উদাহরণ দাও।
ans. থাইরোট্রফিক হরমোন বা TSH ।
26. আয়োডিন কোন হরমোনের উপাদান ?
ans. থাইরক্সিন।
27. প্রাণী হরমোনের উৎস কী ?
ans. এন্ডোক্রিন গ্রন্থি বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
28. একটি অ্যামাইনোধর্মী হরমোনের নাম কী ?
ans. অ্যাড্রিনালিন।
29. GH-এর পুরো নাম কী ?
ans. গ্রোথ হরমোন ।
30. GTH এর পুরো নাম কী ?
ans. গোনাডোট্রফিক হরমোন।
31. LH হয় পুরো নাম কী ?
ans. লিউটিনাইজিং হরমোন।
32. LTH হয় পুরো নাম কী ?
ans. লিউটোট্রফিক হরমোন।
33. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে কী কী হরমোন নিঃসৃত হয় ?
ans. অ্যাড্রিনালিন ও নন অ্যাড্রিনালিন।
34. GH এর কম ক্ষরণে কী রোগ হয় ?
ans. বামনত্ব বা ডোয়ারফিজম।
35. GH এর অধিক ক্ষরণে কী রোগ হয় ?
ans. জাইগ্যানটিজম বা অতিকায়ত্ব।
36. অ্যাক্রোমেগালি রোগ কী কারণে হয় ?
ans. STH এর অধিক ক্ষরণের ফলে হয়।
37. কারক কাকে বলে ?
ans. যে সব অঙ্গ উদ্দীপনায় উদ্দীপিত হয় তাকে কারক বা ইফেকটর বলে। যেমন—গ্রন্থি ও পেশি ।
38. স্নায়ুকোশের দীর্ঘ প্রবর্ধকের নাম কী ?
ans. অ্যাক্সন ।
39. অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তের সূক্ষ্ম শাখাগুলিকে কী বলে ?
ans. প্রান্তবুরুশ বলে ।
40. একটি ইফারেন্ট স্নায়ুর (আজ্ঞাবহ স্নায়ু) উদাহরণ দাও ।
ans. অকিউলোমোটর স্নায়ু ।
41. নিউরোন কত প্রকারের ?
ans. নিউরোন প্রধানত তিন প্রকারের, যথা—(i) সংজ্ঞাবহ নিউরোন, (ii) আজ্ঞাবহ নিউরোন ও (ii) সহযোগী নিউরোন।
42.স্নায়ুতন্ত্রের একক কী ?
ans. স্নায়ুকোশ বা নিউরোন।
43. একটি নিউরোহরমোনের উদাহরণ দাও।
ans. ভেসোপ্রেসিন বা ADH ।
44. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ দুটি কী কী?
ans. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড ।
45. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র কত প্রকারের?
ans. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দুপ্রকারের যথা- সমবেদী ও পরাসমবেদী ।
46. গুরুমস্তিষ্কের কটি গোলার্ধ এবং কী কী?
ans. দুটি গোলার্ধ-বাম গোলার্ধ ও ডান গোলার্ধ ।
47. সুষুম্নাকাণ্ডের শেষ প্রান্তের সূঁচালো অংশকে কী বলে?
ans. ফাইলাম টারমিনেল ।
48. প্রাত্যহিক জীবন থেকে প্রতিবর্তের একটি গুরুত্ব উল্লেখ করো ।
ans. খেতে খেতে শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে বিষম খাওয়া বা কাশি হওয়া ।
49. চক্ষুর কোন স্তরে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
ans. রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয় ।
50. লেন্স এর কাজ কী ?
ans. আলোর প্রতিসরণ ঘটিয়ে রেটিনায় ফোকাস সৃষ্টি করে ।
51. ভিট্রিয়াস হিউমর কোথায় থাকে ?
ans. লেন্স-এর পশ্চাদ প্রকোষ্ঠে থাকে ।
52. স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যমূলক উপাদান কোনটি ?
ans. নিউরোন বা স্নায়ুকোশ ।
53. লঘুমস্তিষ্কের গোলকদ্বয়ের সংযোজক কোনটি ?
ans. ভারমিস ।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : (মান - 1)
1. চলন বা সঞ্চালন কাকে বলে ?
ans. যে প্রক্রিয়ায় জীব স্বতঃস্ফুর্তভাবে বা কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে দেহের কোনো অংশ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঙ্গালন করে তাকে চলন বা সঞ্চালন বলে ।
2. ট্রপিক ও ট্যাকটিক চলনের মূল পার্থক্য কী ?
ans. ট্রপিক চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না, ট্যাকটিক চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়।
3. জিওট্রপিক চলন কাকে বলে?
ans. উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে জিওট্রপিক চলন বলে । যেমন— উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের টানে মাটির গভীরে প্রবেশ করে ।
4. প্রাণীদের গমনের দুটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করো ।
ans. প্রাণীদের গমনের দুটি উদ্দেশ্য হল- (i) খাদ্য অন্বেষণের জন্য প্রাণীদের গমন হয় । (ii) বাসস্থান খোঁজার জন্য প্রাণীদের গমন হয় ।
5. সিলিয়ারি গমন কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
ans. সিলিয়ার আন্দোলনের সাহায্যে যে গমন তাকে সিলিয়ারি গমন বা সিলিয়ারি গতি বলে| যেমন -প্যারামিসিয়ামের গমন ।
6. মাছের গমনে পুচ্ছ পাখনার ভূমিকা কী ?
ans. পুচ্ছ পাখনা গমনকালে মাছকে দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে ।
7. মানুষের গমনকালে ভারসাম্য রক্ষা করে কোন কোন অঙ্গ ?
ans. মানুষের গমনকালে লঘুমস্তিষ্ক এবং কর্ণের অর্ধচন্দ্রাকার নালি ও অটোলিথ যন্ত্র দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে ।
8. সচল অস্থিসন্ধি কাকে বলে? উদাহরণ দাও ।
ans. দুটি অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে । যে সব অস্থিসন্ধি নড়াচড়া করতে পারে তাদের সচল অস্থিসন্ধি বলে। যেমন-হিপ সন্ধি, হাঁটু সন্ধি।
9. কব্জা সন্ধি কাকে বলে ? একটি উদাহরণ দাও।
ans. একটি অস্থির গোল প্রান্ত যখন অপর একটি অস্থির অর্ধগোলাকার অবতল অঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তাকে কব্জা সন্ধি বলে। হাঁটু সন্ধি, কনুই সন্ধি এই প্রকারের সন্ধি ।
10. হরমোন ও উৎসেচকের দুটি পার্থক্য কী ?
ans. (i) হরমোন ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, কিন্ত উৎসেচক ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। (ii) হরমোন অন্তঃক্ষরা কোশ থেকে নিঃসৃত হয়। কিন্তু উৎসেচক বহিঃক্ষরা কোশ থেকে ক্ষরিত ।
11. হরমোনের দুটি কাজ উল্লেখ করো ।
ans. (1) হরমোন জীবদেহের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। (2) হরমোন জীবদেহে যৌন লক্ষণ প্রকাশে সাহায্য করে।
12. হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলে কেন ?
ans. হরমোন কোশে কোশে রাসায়নিক বার্তা বহন করে তাই হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলে।
13. সাইটোকাইনিনের দুটি কাজ বা ভূমিকা উল্লেখ করো ।
ans. (i) সাইটোকাইনিন অগ্রমুকুলের বৃদ্ধির হ্রাস ঘটিয়ে পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ঘটায়। (ii) পত্রমোচন বিলম্বিত করে এবং ক্লোরোফিল বিনষ্টকরণ প্রতিহত করে।
14. উদ্ভিদের একটি প্রকল্পিত হরমোনের নাম ও তার কাজ উল্লেখ করা ।
ans. উদ্ভিদের একটি প্রকল্পিত হরমোন হল ফ্লোরিজেন। এটি ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
15. অক্সিনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো ।
ans. (1) অক্সিনের প্রবাহ সবসময় মেরুবর্তী (1) অক্সিনের ক্রিয়া অন্ধকারে ভালো হয়।
16. জিব্বেরেলিনের প্রধান কাজ কী ?
ans. জিব্বেরেলিনের প্রধান কাজগুলি হল খর্বাকার উদ্ভিদের বৃদ্ধি, কাক্ষিক মুকুলের পরিস্ফুটন এবং বীজের সুপ্ত অবস্থা ভঙ্গ করতে সাহায্য করা।
17. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কাকে বলে ? একটি উদাহরণ দাও ।
ans. যে স্থির ক্ষরিত বস্তু নালিপথের মাধ্যমে বাইরে আসে না, সরাসরি রক্তে মিশে যায়, তাকে অন্তঃক্ষরা বা অনাল গ্রন্থি বলে। যেমন পিটুইটারি, থাইরয়েড।
18. হরমোন উৎপাদক গ্রন্থিকে অনাল গ্রন্থি বলে কেন ?
ans. হরমোন উৎপাদক গ্রন্থির কোনো নালি থাকে না, ফলে এই গ্রন্থির ক্ষরিত রস (হরমোন) গ্রন্থিকলার বাইরে আসতে পারে তাই হরমোন উৎপাদক গ্রন্থিকে অনাল গ্রন্থি বলে।
19. প্রাণী হরমোনের ধর্ম কীরূপ ?
ans. হরমোন প্রোটিনধর্মী বা স্টেরয়েডধর্মী বা অ্যামাইনোধর্মী।
20. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অপর নাম কী ? এটি কোথায় অবস্থিত ?
ans. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অপর নাম সুপ্ৰারেনাল গ্রন্থি। এটি বুকের ওপর অবস্থিত।
21. হাইপো ও হাইপারগ্লাইসিমিয়া কাকে বলে ?
ans. রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক অপেক্ষা কমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসিমিয়া এবং শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি হলে তাকে হাইপারগ্লাইসিমিয়া বলে।
22. কখন মূত্রের সঙ্গে শর্করা নির্গত হয় ? ওই অবস্থাকে কী বলে ?
ans. যখন 100 সিসি রক্তে শর্করার পরিমাণ 18০ মিগ্রা হয়, তখন মূত্রের সঙ্গে শর্করা নির্গত হয় ওই অবস্থাকে গ্লুকোসুরিয়া বলে।
23. নিওপ্লুকোজেনেসিস বা গ্লুকোনিওজেনেসিস কাকে বলে ?
ans. করা ছাড়া প্রোটিন, ফ্যাট ইত্যাদি উপাদান থেকে গ্লাইকোজেন বা গ্লুকোজ উৎপাদনকে নিওপ্লুকোজেনেসিস বা গ্লুকোনিওজেনেসিস বলে।
24. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলার কারণ কী ?
ans. অগ্ন্যাশয় সনাল ও অনাল উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় একে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়।
25. শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত একটি করে হরমোনের নাম ও তাদের কাজ উল্লেখ করো ।
ans. শুক্রাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন টেস্টোস্টেরন, যা পুরুষদেহে গৌণ যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইস্ট্রোজেন, যা নারীদেহে গৌণ যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।
26. অ্যাড্রিনালিনের উৎস ও কাজ উল্লেখ করো ।
ans. অ্যাড্রিনালিন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির মেডালা থেকে নিঃসৃত হয়। খাড়া হতে সাহায্য করে। এই হরমোন অণুর গ্রন্থির ক্ষরণ বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের রোম খাড়া হতে সাহায্য কর।
27. শুক্রাশয় কোথায় অবস্থিত ?
ans. শুক্রাশয় পুরুষ মানুষের দেহগহ্বরের বাইরে ফ্লোটাম নামক থলির মধ্যে অবস্থিত।
28. ADH-এর পুরো নাম উৎস ও কাজ উল্লেখ করো ।
ans. ADH- এর পুরো নাম অ্যান্টি ডাইইউরেটিক হরমোন। এর উৎস পিটুইটারির পশ্চাদভাগ। এটি বৃক্কীয় নালির পুনঃশোষণে। সহায়তা করে।
29. মিশ্র স্নায়ু কাকে বলে ? এর উদাহরণ কী ?
ans. যে স্নায়ু সেনসরি ও মোটর উভয় নিউরোন দিয়ে গঠিত, তাকে মিশ্র স্নায়ু বলে। যেমন—ভেগাস স্নায়ু ।
30. স্নায়ুর কাজ কী ?
ans. স্নায়ুর কাজ হল-(i) রিসেপটর বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরণ করা এবং (ii) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সাড়াকে কারক অঙ্গে প্রেরণ করা ।
31. সহযোগী নিউরোন কাকে বলে? এটি কোথায় অবস্থিত ?
ans. যে নিউরোন সেনসরি ও মোটর নিউরোনের মধ্যে সংযোগসাধন করে, তাকে সহযোগী নিউরোন বলে। এই প্রকার নিউরোন কেবল সুষুম্নাকাণ্ডে থাকে।
32. অ্যাক্সন হিলক কাকে বলে ?
ans. অ্যাক্সনটি কোশদেহের যে অংশে সংযুক্ত থাকে সেই অংশটিকে অ্যাক্সন হিলক বলে। এই অংশে মায়েলিন সিদ এবং নিউরিলেমা থাকে না ।
33. অ্যাক্সনের আবরণীগুলি কী কী ?
ans. অ্যাক্সনের আবরণীগুলি হল—অ্যাক্সোলেমা, মায়েলিন সিদ বা মেডুলারি আবরণ এবং নিউরিলেমা ।
34. স্নায়ুগ্রন্থি কাকে বলে ? এর কাজ কী কী ?
ans. কয়েকটি স্নায়ুকোশের কোশদেহগুলি মিলিত হয়ে যে গ্রন্থি গঠন করে, তাকে স্নায়ুগ্রন্থি বলে । স্নায়ু সৃষ্টি করা এর প্রধান কাজ ।
35. স্নায়ুসন্ধির কাজ কী?
ans. পূর্ববর্তী নিউরোন থেকে স্নায়ু-সংবেদকে পরবর্তী নিউরোনে পৌছে দেওয়া স্নায়ুসন্ধির কাজ ।
36. সহজাত ও অভ্যাসমূলক প্রতিবর্ত বলতে কী বোঝো?
ans. যেসব প্রতিবর্ত বংশগত সূত্রে পূর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত, তাদের সহজাত প্রতিবর্ত এবং যেসব প্রতিবর্ত জন্মের পর অনুশীলন বা অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাকে অভ্যাসমূলক প্রতিবর্ত বলে
37. গুরুমস্তিষ্কের কাজ কী ?
ans. গুরুমস্তিষ্ক প্রাণীদের বুদ্ধি, চিন্তা, স্মৃতি, দর্শন, ঘ্রাণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে ।
38. সুষুম্নাশীৰ্ষকের কাজ কী ?
ans. সুষুম্নাশীর্ষক প্রাণীদের হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, ঘাম নিঃসরণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে ।
39. করপাস ক্যালোসাম কাকে বলে ?
ans. গুরুমস্তিষ্কের গোলার্ধদ্বয় যে স্নায়ু-যোজক দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাকে করপাস ক্যালোসাম বলে ।
40. কোল্যাটারাল কাকে বলে ?
ans. অ্যাক্সনের র্যানভিয়ারের পর্ব থেকে অনেক সময় সূক্ষ্ম শাখা নির্গত হয়, অ্যাক্সনের এরূপ শাখাকে কোল্যাটারাল বলে ।
41. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি উদাহরণ দাও।
ans. (i) চোখে তীব্র আলো পড়লে তারারন্ধ্র সংকুচিত হয়। (ii) খাদ্যের দর্শনে বা ঘ্রাণে লালা নিঃসরণ হওয়া।
42. জন্মগত প্রতিবর্ত কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
ans. যে সব প্রতিবর্ত পুর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত এবং কোনো শর্তের অধীন নয়, তাদের জন্মগত প্রতিবর্ত বলে। যেমন- জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর স্তনপানের ইচ্ছা ।
43. জ্ঞানেন্দ্রিয় কাকে বলে?
ans. প্রাণীদের যে সব গ্রাহক অঙ্গ পরিবেশ থেকে বিশেষ বিশেষ উদ্দীপনা গ্রহণ করে নির্দিষ্ট স্নায়ুর মাধ্যমে স্নায়বিক কেন্দ্রে পাঠিয়ে সেখানকার নির্দেশ পালন করে, তাদের জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে ।
44. চক্ষুর প্রতিসারক মাধ্যমগুলি কী কী ?
ans. চক্ষুর প্রতিসারক মাধ্যমগুলি হল— কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমর, লেন্স, ভিট্রিয়াস হিউমর ।
45. অশ্রুতে কী এনজাইম থাকে ? এর কাজ কী ?
ans. অশ্রুতে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে। এই এনজাইম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
46. রেটিনা কাকে বলে ? এর কাজ কী ?
ans. অক্ষিগোলকের একেবারে ভিতরের দিকে অবস্থিত স্নায়ুকোশ দিয়ে গঠিত স্তরটিকে রেটিনা বলে। রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
47. দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।
ans. যখন দুটি চোখ দিয়ে একসঙ্গে একই বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখা যায় তাকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে। যেমন—মানুষ, পেঁচা ইত্যাদি।
48. মায়োপিয়া কাকে বলে? কীভাবে এর ত্রুটি দূর করা যায়?
ans. যে দৃষ্টিতে দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, কিন্তু নিকটের দৃষ্টি ঠিক থাকে তাকে মায়োপিয়া বলে । অবতল লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে এই ত্রুটি দূর হয় ।
49. প্রেসবায়োপিয়া কাকে বলে ? কীভাবে এই ত্রুটি দূর করা যেতে পারে ?
ans. 40 বছর এবং তার বেশি বয়সের লোকদের লেন্স এর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাছের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখতে পায় না । বাইফোকাল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করলে এই ত্রুটি দূর হয় ।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : (মান - 5)
1. ট্রপিক চলন কাকে বলে ? বিভিন্ন প্রকার ট্রপিক চলন সংক্ষেপে লেখো।
ans. ট্রপিক চলন-উদ্দীপকের উৎসের দিকে বা গতিপথের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে ট্রপিক বা দিগনির্ণীত চলন বলে। এটি প্রধানত তিন প্রকারের ।যথা-
(a) ফোটোট্রপিক চলন : আলোক উৎসের দিকে বা আলোর গতিপথের দিকে উদ্ভিদের চলনকে ফোটোট্রপিক চলন বলে।
(b) হাইড্রোট্রপিক চলন : জলের উৎসের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে হাইড্রোট্রপিক চলন বলে ।
উদাহরণ— জলের উৎসের দিকে উদ্ভিদের মূলের চলন ।
(c) জিওট্রপিক চলন : মাধ্যাকৰ্ষণ শক্তির প্রভাবে বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে বা টানে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে জিওট্রপিক চলন বলে ।
উদাহরণ— অভিকর্ষ বলের প্রভাবে উদ্ভিদের মূলের মাটির ভিতরে অগ্রসর হওয়া ।
2. লজ্জাবতী স্পর্শ করলে পত্রকগুলি নুয়ে যায় এবং বনচাঁড়ালের পাতার নীচের পাতা দুটি পর্যায়ক্রমে ওঠানামা করে—এর কারণ কী ? উদ্ভিদের চলন কত প্রকারের হয় ? 2+3=5
ans. লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করা মাত্র পাতা মধ্যস্থ রসস্ফীতি চাপ কমে যাওয়ায় পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে (সিসমেন্যাস্টি চলন)। আবার বনচাঁড়াল উদ্ভিদের (Desmodium gyrans) পরিণত কোশের রসস্ফীতির হ্রাস ও বৃদ্ধির ফলে বনচাঁড়াল উদ্ভিদের তিনটি ফলকের দুই পাশের ফলক দুটি পর্যায়ক্রমে ওঠানামা করতে থাকে । একে প্রকরণ চলন (Movement of variation) বলে ।
উদ্ভিদের চলনের প্রকার ও উদ্ভিদের চলন প্রধানত তিন প্রকার: যথা—ট্যাকটিক চলন, ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলন ।
3. উদ্ভিদের প্রধান তিন প্রকার চলন উদাহরণযোগে সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
ans. উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকার চলন ও উদ্ভিদের চলন প্রধানত তিন প্রকারের, যথা—ট্যাকটিক চলন, ন্যাস্টিক চলন এবং ট্রপিক চলন ।
ট্যাকটিক চলন: বহিঃস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ অঙ্গের স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বা আবিষ্ট চলন বলে ।
উদাহরণ : (i) আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে শৈবালের স্থান পরিবর্তন । (ii) মস, ফার্ন ইত্যাদি উদ্ভিদের শুক্রাণুর যথাক্রমে গ্লুকোজ ও ম্যালিক অ্যাসিডের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে চলন ।
ন্যাস্টিক চলন : উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে না হয়ে উদ্দীপকের তীব্রতা অনুসারে হয়, তখন তাকে ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাপ্তি চলন বলে ।
উদাহরণ : (1) লজ্জাবতী লতা স্পর্শ করলে তৎক্ষণাৎ পত্রকগুলি মুদে যায় । (ii) পদ্মফুল তীব্র আলোকে ফোটে এবং কম আলোক মুদে যায় ।
ট্রপিক চলন : উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে ট্রপিক চলন বা দিকনির্ণীতি চলন বলে ।
উদাহরণ : উদ্ভিদের বিটপের আলোর উৎসের দিকে গমন ।
4. ন্যাস্টিক চলন কাকে বলে ? উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকার ন্যাস্টিক চলন উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো। 2+3=5
ans. সংজ্ঞা : উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে না হয়ে উদ্দীপকের তীব্রতা অনুসারে হয়, তখন তাকে ন্যাস্টিক চলন বলে।
ন্যাস্টিক চলনের প্রকারভেদ : ন্যাস্টিক চলন নিম্নলিখিত প্রকারের হয়; যেমন—ফোটোন্যাস্টি, থার্মোন্যাস্টি, কেমোন্যাস্টি এবং সিসমেন্যাস্টি।
1. ফোটোন্যাস্টি : আলোর তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে চলন হয়, তাকে ফোটোন্যাস্টিক চলন বলে।
উদাহরণ : পদ্মফুল, সূর্যমুখী ফুল প্রভৃতি তীব্র আলোকে ফোটে, আবার কম আলোকে মুদে যায়।
2. থার্মোন্যাস্টি : উষ্নতার তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে থার্মোন্যাস্টি চলন বলে।
উদাহরণ : টিউলিপ ফুল বেশি উষ্ণতায় ফোটে এবং কম উষ্নতায় মুদে যায় ।
3. কেমোন্যাস্টি : কোনো রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে সংঘটিত ন্যাস্টিক চলনকে কেমোন্যাস্টি চলন বলে।
উদাহরণ : সূর্যশিশির উদ্ভিদের পাতার রোম প্রোটিনের (পতঙ্গ) সংস্পর্শে আসা মাত্রা পতঙ্গের দিকে বেঁকে যায় এবং পতঙ্গকে আবদ্ধ করে ।
4. সিসমোন্যাস্টি : স্পর্শ,ঘর্ষণ বা আঘাতের ফলে যে ন্যাস্টিক চলন হয়, তাকে সিসমেন্যাস্টি চলন বলে।
উদাহরণ : লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করা মাত্র পাতার পত্রকগুলি মুদে যায় বা নুয়ে পড়ে।
5. ট্যাকটিক চলন কাকে বলে ? এটি কয় প্রকারের হয় ? ফোটোট্যাকটিক চলন উদাহরণ দিয়ে বোঝও।3+2=5
ans. ট্যাকটিক চলনের সংজ্ঞা : বহিঃস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ অঙ্গের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বলে।
ট্যাকটিক চলন তিন প্রকারের হয় : (i) ফোটোট্যাকটিক চলন, (ii) থার্মোট্যাকটিক চলন এবং (iii) কেমোট্যাকটিক চলন।
আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের আলোর দিকে যে চলন ঘটে তাকে ফোটোট্যাকটিক চলন বলে।
যেমন, শৈবালদের আলোক উৎসের দিকে অগ্রসর হওয়া।
6. ইনসুলিন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়? এর দু'টি কাজ লেখো। এর অভাবে কোন রোগ হয় ? এই রোগের লক্ষণ কী ?
ans. অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে ক্ষরিত হয় ।
ইনসুলিনের কাজ :
(i) ইনসুলিন কার্বোহাইড্রেট বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে রক্তে ঢুকোজ-এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ।
(ii) ইনসুলিন শর্করা থেকে সুকোজ উৎপাদনে বাধা দান করে।
(iii) ইনসুলিন যকৃতে কিটোন বডি উৎপাদনে বাধা দান করে। তাই একে অ্যান্টিকিটোজেনিক হরমোন বলে।ইনসুলিনের অভাবে মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।
রোগের লক্ষণ:(i) মূত্রের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।(iii) মূত্রে শর্করা থাকে।(iii)প্রবল তৃষ্ষা হয়।
7. জিব্বেরেলিন হরমোনের উৎস এবং কাজ লেখো।
ans. জিব্বেরেলিনের উৎস: পরিপক্ক বীজ, অঙ্কুরিত চারাগাছ, বীজের বীজপত্র ইত্যাদি স্থানে জিব্বেরেলিনের উৎপন্ন হয়।
কাজ –(i)বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ: জিব্বেরেলিনের হরমোন উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি এবং পাতার আয়তন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
(ii) সুপ্তাবস্থা ভঙ্গকরণ: জিব্বেরেলিনের উদ্ভিদের বীজ ও মুকুলের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করতে সাহায্য করে।
(iii) ফুলের প্রফুটন: জিব্বেরেলিন সমস্ত উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে ।
(iv)ফল গঠন: এটি ফল গঠনে এবং কিউকারবিটেসি গোত্রযুক্ত উদ্ভিদের লিঙ্গ প্রকাশে সাহায্য করে।
জিব্বেরেলিনের রাসায়নিক নাম জিব্বেরেলিক অ্যাসিড।
8. হরমোনের সংজ্ঞা দাও। মানবদেহে ৪টি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির অবস্থান ও নিঃসৃত হরমোনের নাম লেখো।
ans. হরমোন: যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকোশ থেকে বা বিশেষ কলাকোশ থেকে ক্ষরিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কলাকোশের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে ।এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় তাকে হরমোন বলে ।
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নাম
অবস্থান
নিঃসৃত হরমোনের নাম
পিটুইটারি গ্রন্থি
মস্তিষ্কের মূলদেশে স্ফেনয়েড অস্থির সেলাটারসিকা প্রকোষ্টে
STH,TSH,ACTH,FSH,LH, ইত্যাদি
থাইরয়েড
গ্রীবাদেশে ল্যারিংসের নীচে ট্রাকিয়ার দু’পাশে
থাইরক্সিন ও থাইরোক্যালসিটোনিন
অগ্ন্যাশয়
পাকস্থলীর নীচে ডিওডিনামের বামপাশে
ইনসুলিন, গ্লুকাগন
অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
বৃক্কের উপরে
অ্যাড্রিনালিন ও নর-অ্যাড্রিনালিন
9. পার্থক্য লেখো– হরমোন ও উৎসেচক ।
ans.
হরমোন
উৎসেচক
হরমোন অনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয় ।
উৎসেচক সব সজীব কোশ থেকে ক্ষরিত হয়।
হরমোন সরাসরি রক্ত বা লসিকার ও সঙ্গে মিলিত হয়ে বাহিত হয় ।
উৎসেচক নালির মাধ্যমে বাহিত হয় ।
হরমোন উৎপত্তিস্থলে ক্রিয়া করে না ।
ক্রিয়ার পর অপরিবর্তিত থাকে ।
হরমোন রাসায়নিক বার্তাবহ রূপে কাজ করে ।
এটি রাসায়নিক বার্তাবহ রূপে কাজ করে না ।
10. হরমোনের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো । হরমোনের দুটি কাজ উল্লেখ করো ।
ans. হরমোনের বৈশিষ্ট্য:
(i) রাসায়নিক ধর্মে হরমোন প্রোটিনধৰ্মী,অ্যামাইনোধৰ্মী, লিপিডধর্মী বা স্টেরয়েডধর্মী হয়ে থাকে ।
(ii)হরমোন উৎসস্থল থেকে রক্তের মাধ্যমে বা লসিকার মাধ্যমে দেহে সারা দেহে বাহিত হয় এবং কলাকোশের উপর ক্রিয়া করে ।
(iii) হরমোন কলাকোশের বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পর ধ্বংস হয়।
(iv) হরমোন কোশের মধ্যে রাসায়নিক সংযোগ স্থাপন করে।
হরমোনের কাজ:
(i) হরমোন জীবদেহে বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
(ii) বিভিন্ন অঙ্গের কলাকোশের বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি হরমোনের দ্বারা সম্পন্ন হয়।
11. অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্য লেখো। নিউরোনের কাজ লেখো।
ans.
অ্যাক্সন
ডেনড্রন
এটি নিউরোনের আজ্ঞাবহ অংশ ।
এটি নিউরোনের সংজ্ঞাবহ অংশ।
এটি সাধারণত শাখাহ।
এটি শাখাপ্রশাখাযুক্ত।
নিউরিলেমা ও মায়েলিন নিউরিলেমা ও মায়েলিন নামক আবরণ থাকে।
নিউরিলেমা ও মায়েলিন নিউরিলেমা ও মায়েলিন নামক আবরণ থাকে ন।
রযোনভিয়ারের পর্ব থাকে।
রযোনভিয়ারের পর্ব থাকে না।
স্নায়ুস্পন্দন কোশদেহ থেকে পরবর্তী ® স্নায়ুকোশে বহন করে নিয়ে যায়।
স্নায়ুস্পন্দন গ্রহণ করে কোশদেহে পাঠানো প্রধান কাজ।
12. জ্ঞানেন্দ্ৰিয় হিসেবে জিহ্বানাসিকা ও ত্বকের ভূমিকা আলোচনা করো।
ans. প্রাণীদেহের যেসব গ্রাহক অঙ্গ পরিবেশ থেকে বিশেষ উদ্দীপনা গ্রহণ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পাঠায় তাদের জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে। উদাহরণ- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, ত্বক হলো পঞ্চইন্দ্রিয়।
জিহ্বা বা জিভ: এটি মানুষের স্বাদেন্দ্ৰিয় হিসেবে কাজ করে।এর উপরিভাগে অসংখ্য গুটির মতো দানা থাকে, তাদের স্বাদকোরক বলে। জিহ্বায় এদের সংখ্যা 10000-এর মতো। জিহ্বার অগ্রভাগে মিষ্টি, পশ্চাদভাগে তিক্ত,মধ্যভাগে লবণাক্ত ও দুই পার্শ্বে অম্ল স্বাদ গৃহীত হয়।
কাজ: প্রধানত স্বাদগ্রহণে সাহায্য করে। তাছাড়া কথা বলা খাদ্য চর্বণ ও গলাধঃকরণে সাহায্য করে।
নাসিকা: নাসিকা বা নাক ঘ্রাণ অনুভূতি গ্রহণ করে, তাই একে ঘ্রাণেন্দ্রিয় বলে। নাসাগহ্বরের ছাদে অবস্থিত ভ্ৰাণ-ঝিল্লিতে ভ্ৰাণ অনুভূতি কোশ থাকে যা ঘ্রাণ গ্রাহক হিসেবে কাজ করে। পরিবেশ থেকে বিভিন্ন প্রকার গন্ধ এই গ্রাহক দ্বারা মস্তিষ্কের ঘ্রাণকেন্দ্রে প্রেরিত হয় এবং আমরা সেই গন্ধ অনুভব করতে পারি।
কাজ: গন্ধ বা ভ্ৰাণ অনুভূতি গ্রহণ করা মুখ্য কাজ ।
ত্বক ও চর্মঃ আমাদের দেহের আবরণকে চর্ম বা ত্বক বলে। এটি স্পর্শ, চাপ, তাপ, ঠান্ডাব্যথা ইত্যাদি অনুভূতির গ্রাহক হিসেবে কাজ করে।
কাজ: (i)স্পর্শ গ্রাহক হিসেবে কাজ করে। (ii) চাপ, তাপ, ঠান্ডা, গরম অনুভূতি গ্রহণ করে।(iii) বস্তুর শনাক্তকরণে সাহায্য করে।
13. রুই মাছের বিভিন্ন প্রকার পাখনার অবস্থান ও গমনে ভূমিকা আলোচনা করো ।
ans. পাখনা রুই মাছের প্রধান গমন অঙ্গ। রুই মাছের জোড় ও বিজোড় মোট সাতটি পাখনা আছে। এদের অবস্থান ও গমনে ভূমিকা নীচে দেওয়া হলো-
পাখনার নাম
অবস্থান
কাজ ও ভূমিকা
বক্ষপাখনা(এক জোড়া)
বক্ষদেশে অবস্থিত
মাছকে জলে স্থির থাকতে এবং জলে ওঠানামা করতে সাহায্য করে।
শ্রোণি পাখনা(এক জোড়া)
শ্রোণিদেশে অবস্থিত
বক্ষপাখনার সাথে মিলিত ভাবে মাছকে অবস্থিত। জলে স্থির থাকতে এবং ওঠানামা করতে সাহায্য করে।
পৃষ্ঠ পাখনা
পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত
সন্তরণের সময় দেহের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
পায়ু পাখনা
পায়ুর পিছনে অবস্থিত
দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
পুচ্ছ পাখনা
লেজের শেষ প্রান্তে অবস্থিত
মাছকে দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।
14. প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ কাকে বলে? এর বিভিন্ন অংশের নাম লেখো।
ans. যে পথে প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেই পথকে অর্থাৎ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পথকে প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ বলে।
বিভিন্ন অংশ– (i) গ্রাহক(ii) অন্তর্বাহী নিউরোন।
(iii) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্ৰ ও (iv)বহির্বাহী নিউরোন।
(v)কারক
15. পার্থক্য লেখো: গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক
ans.
গুরুমস্তিষ্ক
লঘুমস্তিষ্ক
এটি অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত
এটি পশ্চাৎমস্তিষ্কে অবস্থিত।
মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড়ো অং
এটি অপেক্ষাকৃত ছোটো অংশ
গুরুমস্তিষ্কের যোজককে করপাস ক্যালোসাম
লঘুমস্তিষ্কের যোজককে ভারমিস বলে।
এটি চিন্তা,স্মৃতি, বুদ্ধি, ভয়, ক্ৰোধ, চাপ, তাপ, ব্যথা প্রভৃতি অনুভূতি গ্রহণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
এটি দেহের ভারসাম্য, দেহভঙ্গি।ও পেশির চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে
এর পাঁচটি খণ্ড থাকে
এর কোনো খণ্ড থাকে না
16. স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপনা পরিবহণকারী উপাদানগুলি কী কী ? তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। 2+3=5
ans. উদ্দীপনা পরিবহণকারী উপাদান : পরিবেশ থেকে আগত বিভিন্ন উদ্দীপনা গ্রহণ, উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া, দেহ-মধ্যস্থ বিভিন্ন যন্ত্র ও তন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ করার জন্যে স্নায়ুতন্ত্রে তিন রকমের উপাদান থাকে, যথা—1. গ্রাহক বা রিসেপটর (receptor), 2. কারক বা ইফেকটর (effector), এবং 3. বাহক বা কনডাক্টর (conductor)।
1. গ্রাহক বা রিসেপটর : প্রাণীদেহে অবস্থিত এক বা একাধিক উদ্দীপক সংবেদনশীল কোশকে রিসেপটর বা গ্রাহক বলা হয় । রিসেপটর দেহের ত্বকে, পেশিতে, কণ্ডরায় (tendon), জিহ্বায়, কর্ণে, নাসিকা এবং চক্ষুর মধ্যে অবস্থিত ।
2. কারক বা ইফেকটর : দেহের যেসব যন্ত্র বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্দীপিত হয় বা উত্তেজনায় সাড়া দেয় তাদের কারক বা ইফেকটর বলে । যেমন--বিভিন্ন পেশি ও গ্রন্থি
3. বাহক বা কনডাক্টর : রিসেপটর থেকে উদ্দীপনা যার মাধ্যমে বাহিত হয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছোয় বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে ইফেকটরে আসে তাদের বাহক বা কনডাক্টর বলে । যেমন-নিউরোন বা স্নায়ুকোশ । বাহক দু-রকমের হয়, যথা- সংজ্ঞাবহ বাহক ও আজ্ঞাবহ বাহক ।
যে বাহকের মাধ্যমে উদ্দীপনা গ্রাহক বা রিসেপটার থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌছোয় তাকে সংজ্ঞাবহ বাহক বলে । অপরপক্ষে, যে বাহকের মাধ্যমে সাড়া কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে কারক বা ইফেকটরে পৌছায় তাকে আজ্ঞাবহ বাহক বলে।
17. স্নায়ু বা নার্ভ কাকে বলে ? স্নায়ু কত প্রকারের ? তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও । 2+3=5
ans. সংজ্ঞা : রক্তবাহ সমন্বিত এবং পেরিনিউরিয়াম নামক যোগকলার আবরণ দ্বারা আবৃত এক বা একাধিক স্নায়ুতন্তু বা স্নায়ুতন্তগুচ্ছকে স্নায়ু বা নার্ভ (nerve) বলে।
স্নায়ুর শ্রেণিবিভাগ : গঠন অনুযায়ী স্নায়ু দু-রকমে হয়, যেমন—
1. মেডুলেটেড স্নায়ু : মেডুলারিযুক্ত স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত স্নায়ুকে মেডুলেটেড স্নায়ু বলে। এইরকম স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অবস্থিত থাকে।
2. নন-মেডুলেটেডস্নায়ু : মেডুলাবিহীন স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত স্নায়ুকে নন-মেডুলেটেড স্নায়ু বলে। এইরকম স্নায়ু অটোনোমিক স্নায়ুতন্ত্রে অবস্থিত থাকে।
কাজ অনুযায়ী স্নায়ু নিম্নলিখিত তিন রকমের হয়, যথা-
1. অন্তর্বাহী স্নায়ু বা অ্যাফারেন্ট নার্ভ : যে স্নায়ু রিসেপটর থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে উদ্দীপনা (stimuli) বহন করে, তাকে অন্তর্বাহী স্নায়ু বা আফ্যারেন্ট নার্ভ বলে । এই স্নায়ু সেনসরি নিউরোনের স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত হওয়ায় এই রকম স্নায়ুকে সংজ্ঞাবহ স্নায়ু বা সেনসরি নার্ভ (sensory nerve) বলা হয় । অলফ্যাক্টরি (১ম করোটি স্নায়ু), অপটিক (২য় করোটি স্নায়ু), অডিটরি (অষ্টম করোটি স্নায়ু) ইত্যাদি এই রকমের স্নায়ু ।
2. বহির্বাহী স্নায়ু বা ইফারেন্ট নার্ভ : যে স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে ইফেকটরে সাড়া (response) বহন করে, তাকে বহির্বাহী স্নায়ু বা ইফারেন্ট নার্ভ বলা হয়। মোটর নিউরোনের স্নায়ুতন্তু দ্বারা এই স্নায়ু গঠিত হওয়ায় একে আজ্ঞাবহ স্নায়ু বা চেষ্টীয় স্নায়ু বা মোটর নার্ভ (motor nerve) বলে । স্পাইনাল অ্যাকসেসরি (একাদশ করোটি স্নায়ু) এবং হাইপোগ্লসাল (দ্বাদশ করোটি স্নায়ু) প্রভৃতি হল এই রকমের স্নায়ু ।
3. মিশ্র স্নায়ু বা মিক্সড নার্ভ : যে স্নায়ু উভয়মুখে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে (রিসেপটর থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে ইফেকটরে) এবং যে স্নায়ু সেনসরি ও মোটর, উভয় প্রকার স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত, তাকে মিশ্র স্নায়ু বা মিক্সড নার্ভ বলে । ফেসিয়াল (সপ্তম করোটি স্নায়ু), ভেগাস (দশম করোটি স্নায়ু) ইত্যাদি এই রকমের স্নায়ু ।
Madhyamik Examination (WBBSE) - 2017
Life Science
বিভাগ—ক
(সমস্ত প্রশ্নের উত্তর করা আবশ্যিক)
১. প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যা-সহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখ : ১x১৫ =১৫
১.১ কিছু ফুল সূর্যোদয়ের পরে ফোটে, কিন্তু সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বুজে যায় । এটি হল—
(ক) ফটোন্যাস্টি (খ) সিসমোন্যাস্টি (গ) কেমোন্যাস্টি (ঘ) থার্মোন্যাস্টি
Ans. (ক) ফটোন্যাস্টি
১.২ ডায়াবেটিস মেলিটাস -এ আক্রান্ত একজন ব্যক্তি নীচের কোন হরমোনটি যথেষ্ট মাত্রায় ক্ষরণ করতে অক্ষম ?
(ক) অ্যাড্রেনালিন (খ) ইনসুলিন (গ) থাইরক্সিন (ঘ) টেস্টোস্টেরন
Ans. (খ) ইনসুলিন
১.৩ 'দৈহিক উষ্ণতা' নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত মানব মস্তিষ্কের অংশটি হল—
(ক) থ্যালামাস (খ) লঘুমস্তিষ্ক (গ) হাইপোথ্যালামাস (ঘ) সুষুম্নাশীর্ষক
Ans. (গ) হাইপোথ্যালামাস
১.৪ তুমি মাইটোসিস কোশ বিভাজনের একটি দশায় সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়কে আলাদা হতে দেখলে । দশাটি হল—
(ক) প্রফেজ (খ) টেলোফেজ (গ) অ্যানাফেজ (ঘ) মেটাফেজ
Ans. (গ) অ্যানাফেজ
১.৫ নীচের কোন জোড়াটি সঠিক ?
(ক) কোর্কোদগম—ইস্ট (খ) খন্ডীভবন—কেঁচো (গ) রেনু উৎপাদন—অ্যামিবা (ঘ) পুনরুৎপাদন—ড্রায়োপটেরিস
Ans. (ক) কোর্কোদগম—ইস্ট
১.6 জনন-অঙ্গ ও জননগ্রন্থির পরিপূর্ণতা ঘটে মানব পরিস্ফুটনের—
(ক) শৈশব দশায় (খ) বয়ঃসন্ধি দশায় (গ) বার্ধক্য দশায় (ঘ) সদ্যোজাত দশায়
Ans. (খ) বয়ঃসন্ধি দশায়
১.৭ মটরগাছের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যটি হল—
(ক) কুঞ্চিত বীজ (খ) হলুদ রঙের বীজ (গ) বেগুনি রঙের ফুল (ঘ) কাক্ষিত পুষ্প
Ans. (ক) কুঞ্চিত বীজ
১.৮ YyRr জিনোটাইপযুক্ত মটর গাছ থেকে কত ধরনের গ্যামট উৎপন্ন হয় ?
(ক) 1 ধরনের (খ) 4 ধরনের (গ) 2 ধরনের (ঘ) 3 ধরনের
Ans. (খ) 4 ধরনের
১.৯ হিমোফিলিয়ার বাহক মাতা ও স্বাভাবিক পিতার কন্যাসন্তানদের হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হল—
(ক) 75% (খ) 50% (গ) 100% (ঘ) 0%
Ans. (ঘ) 0%
১.১০ পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টির সময় পরিবেশে যে-গ্যাসটি অনুপস্থিত ছিল, সেটি হল—
(ক) হাইড্রোজেন (খ) অক্সিজেন (গ) মিথেন (ঘ) অ্যামোনিয়া
Ans. (খ) অক্সিজেন
১.১১ সমবৃত্তীয় অঙ্গের বৈশিষ্ট্যটি হল—
(ক) উৎপত্তিগতভাবে ভিন্ন এবং কাজও ভিন্ন
(খ) উৎপত্তিগতভাবে ভিন্ন কিন্তু কাজ একই
(গ) অপসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে
(ঘ) উৎপত্তিগত ও গঠনগতভাবে এক
Ans. (খ) উৎপত্তিগতভাবে ভিন্ন কিন্তু কাজ একই
১.১২ নীচের কোনটি অস্থিযুক্ত মাছের পটকার গ্যাস শোষণ করে নেয় ?
(ক) রেড গ্রন্থি (খ) অগ্র প্রকোষ্ঠ (গ) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি (ঘ) রেটি মিরাবিলি
Ans. (ঘ) রেটি মিরাবিলি
১.১৩ সিউডোমোনাস জীবাণুটি নাইট্রোজেন চক্রের নীচের কোন ধাপের সঙ্গে যুক্ত ?
(ক) নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ (খ) নাইট্রিফিকেশন (গ) ডিনাইট্রিফিকেশন (ঘ) অ্যামোনিফিকেশন
Ans. (গ) ডিনাইট্রিফিকেশন
১.১৪ পূর্ব হিমালয় জীববৈচিত্র্য হটস্পটের একটি বিপন্ন প্রজাতি হল—
(ক) লায়ন টেল্ড ম্যাকাক (খ) ওরাংওটাং (গ) রেড পান্ডা (ঘ) নীলগিরি থর
Ans. (গ) রেড পান্ডা
১.১৫ বায়ুদূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগগুলি হল—
(ক) ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস
(খ) হেপাটাইটিস, ব্রংকাইটিস, বধিরতা
(গ) ব্রংকাইটিস, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার
(ঘ) ফুসফুসের ক্যান্সার, পোলিয়ো, ম্যালেরিয়া
Ans. (গ) ব্রংকাইটিস, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার
বিভাগ—খ
২. নির্দেশ অনুসারে নিচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে যেকোনো ২১টি প্রশ্নের উত্তর লেখো : ১x২১=২১
নিচের শূন্যস্থানগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যেকোনো পাঁচটি) ১x৫=৫
২.১ মানুষের চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য প্রয়োজনমতো পরিমার্জন করার পদ্ধতিকে ______ বলে ।
Ans. উপযোজন
২.২ অ্যাডেনিন একটি ______ জাতীয় নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারক ।
Ans. পিউরিন
২.৩ ______ হল একটি লিঙ্গ সংযোজিত জিন দ্বারা সৃষ্ট রোগ ।
Ans. হিমোফিলিয়া
২.৪ ঘোড়ার বিবর্তনে আদিমতম পূর্বপুরুষ হল ______ ।
Ans. ইয়োহিপ্পাস
২.৫ ধানক্ষেত থেকে উৎপন্ন একটি দাহ্য গ্রিনহাউজ গ্যাস হল ______ ।
Ans. মিথেন
২.৬ ______ হল পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ।
Ans. সুন্দরবন
নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যেকোনো পাঁচটি) ১x৫=৫
২.৭ জিব্বেরেলিন হরমোন উদ্ভিদের অকাল পত্রমোচন রোধ করে ।
Ans. মিথ্যা
২.৮ ডিম্বাণু শুধুমাত্র মাইটোসিস -এর ফলে উৎপন্ন হয় ।
Ans. মিথ্যা
২.৯ মটরগাছের ফুলে প্রয়োজন অনুসারে স্ব-পরাগযোগ বা ইতর পরাগযোগ ঘটানো যায় ।
Ans. সত্য
২.১০ প্রাকৃতিক নির্বাচন পদ্ধতি হল ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য ।
Ans. সত্য
২.১১ ভঙ্গুর দূষক জীববিবর্ধনের জন্য দায়ী ।
Ans. মিথ্যা
২.১২ ফ্ল্যাজেলা হল প্যারামিশিয়ামের গমন অঙ্গ ।
Ans. মিথ্যা
A -স্তম্ভের দেওয়া শব্দের সঙ্গে B-স্তম্ভে দেওয়া সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত শব্দটির সমতাবিধান করে উভয় স্তম্ভের ক্রমিক নং উল্লেখ-সহ সঠিক জোড়াটি পুনরায় লেখো ( যেকোনো পাঁচটি): ১x৫=৫
A -স্তম্ভ
B-স্তম্ভ
২.১৩
অন্ধবিন্দু
(a)
ভূগর্ভস্থ জলদূষণ
২.১৪
সাইটোকাইনেসিস
(b)
রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুর সংযোগস্থল
২.১৫
44A + XY
(c)
সমসংস্থ অঙ্গ
২.১৬
বাদুড় ও পাখির ডানা
(d)
কোশপাত গঠন
২.১৭
আর্সেনিক
(e)
পরাগরেণু
২.১৮
গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকরণ
(f)
শব্দদূষণ
(g)
পুরুষ মানুষের ক্রোমোজোম বিন্যাস
Ans. ২.১৩ (b); ২.১৪ (d); ২.১৫ (৪);২.১৬ (C); ২.১৭ (a); ২.১৮ (e);
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো ছ-টি): ১x৬=৬
২.১৯ বিসদৃশ বেছে লেখো : TSH, ACTH, GTH, CSF ।
Ans. CSF
২.২০ মায়েলিন আবরণী -র একটি কাজ লেখো ।
Ans. স্নায়ুস্পন্দন তরঙ্গাকারে এক নিউরোন থেকে অন্য নিউরোনে প্রবাহিত হয়।
২.২১ নীচে সম্পর্কযুক্ত একটি শব্দ জোড় দেওয়া আছে । প্রথম জোড়াটির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়াটির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও:
প্রফেজ : নিউক্লিয়পর্দা ও নিউক্লিয়োলাসের অবলুপ্তি :: —— : নিউক্লিয়পর্দা ও নিউক্লিয়োলাসের পুনরাবির্ভাব ।
Ans. টেলোফেজ
২.২২ মানুষের মধ্যে বংশানুক্রমে সঞ্চারিত একটি প্রকরণের উদাহরণ দাও ।
Ans. অ্যালবিনিম
২.২৩ থ্যালাসেমিয়া রোগের জন্য দায়ী জিন মানুষের কোন ধরনের ক্রোমোজোম বহন করে ?
Ans. অটোজোম
২.২৪ বাষ্পমোচন রোধে ক্যাকটাসের একটি অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন উল্লেখ করো ।
Ans. পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে
২.২৫ নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত । সেই বিষয়টি খুঁজে বার করো এবং লেখো:
ভ্রূণ, ভাজক কলা, বীজ, ক্রায়োসংরক্ষণ ।
Ans. ভূণ, ভাজক কলা, কাহোসংবচ্চন মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়
২.২৬ সুন্দরবনের পরিবেশ সংক্রান্ত সাম্প্রতিকতম উদ্বেগের কারণটির নাম লেখো ।
Ans. ভূউন্নয়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বাড়ছে, ফলে মন অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে।
বিভাগ —গ
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর দু- তিনটি বাক্যে লেখো : ২x১২=২৪
৩.১ ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলন এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো ।
Ans.
বিষয়
ট্রপিক চলন
ন্যাস্টিক চলন
[1] উদ্দীপকের ভূমিকা
উৎসের অভিমুখ।
তীব্রতা।
[2] চলনের প্রকৃতি
স্থায়ী, বৃদ্ধিজনিত।
অস্থায়ী, রসস্ফীতিজনিত।
[3] হরমোনের ভূমিকা
অক্সিন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
অক্সিনের কোনো ভূমিকা নেই।
৩.২ মানবদেহে জনন গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরণে GTH -এর দুটি ভূমিকা লেখো ।
Ans. মানবদেহে জননগ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরণে GTH-এর ভূমিকাগুলি হল— (1) FSH বা ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন মহিলাদের ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। (2) লিউটিনাইজিং হরমোন বা LH মহিলাদের পীতগ্রন্থি থেকে প্রোজেস্টেরন হরমোন এবং পুরুষদের শুক্রাশয় থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
৩.৩ নিম্নলিখিত ক্রিয়াগুলির মধ্যে কোনগুলি সহজাত এবং কোনগুলি অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া তালিকাভুক্ত করো:
(i) সদ্যোজাতের স্তন্যপানের ইচ্ছা (ii) সাইকেল চালানো (iii) হাঁচি (iv) ক্ষিপ্রতার সঙ্গে উইকেটকিপারের বল ধরা ।
Ans. (1) সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, (2) অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, (3) সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, (4) অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
৩.৪ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশগুলি লেখো ।
Ans. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সারাদেহে বিন্যস্ত স্নায়ুগুলি নিয়ে গঠিত। মোট 12 জোড়া করোটি স্নায়ু ও 31 জোড়া সুষুম্না স্নায়ু। নিয়ে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।
৩.৫ কোশচক্রের দুটি গুরুত্ব লেখো ।
Ans. কোশচক্রের গুরুত্ব
(1) কোশ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ : কোশচক্রের কতকগুলি নির্দিষ্ট বিন্দুতে কোশ বিভাজন নিয়ন্ত্রিত হয়। কোশচক্রের নিয়ন্ত্রণ বিন্দুগুলি বিনষ্ট হলে কোশ বিভাজন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, অনিয়ন্ত্রিত কোশ। বিভাজন দ্বারা টিউমার সৃষ্টি হয়। টিউমার দুইপ্রকার হয়। যেমন- বিনাইন টিউমার ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। বিনাইন টিউমারগুলি। দেহের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। তবে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের কোণগুলি পার্শ্ববর্তী কোশের সঙ্গে সংলগ্ন না থেকে রক্ত বা লসিকা দ্বারা বাহিত হয় ও অপর স্থানে গিয়ে পুনরায় টিউমার তৈরি করে। এই ঘটনাকে মেটাস্ট্যাসিস বলে। মেটাস্ট্যাসিস প্রকৃতপক্ষে ক্যানসারের কোশের বৈশিষ্ট্যবিশেষ।
(2) স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ: স্বাভাবিক কোশ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ দ্বারা কোশের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য কোশচক্র গুরুত্বপূর্ণ।
৩.৬ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে DNA ও RNA -এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো :
(i) পিরিমিডিন ক্ষারক; (ii) 5-C শর্করা
Ans.
বিষয়
DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)
RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)
1. গঠন
দ্বিতন্ত্রী, হেলিক্স বা সিঁড়ির মতো প্যাচানো গঠন।
একতন্ত্রী, সুতোর মতো গঠন।
2. শর্করা
ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা দিয়ে গঠিত।
রাইবোজ শর্করা এর গঠনগত উপাদান
3. নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষার
পিরিমিডিন ক্ষার হল থাইমিন ও সাইটোসিন।
পিরিমিডিন ক্ষার হল ইউরাসিল ও সাইটোসিন।
4. কাজ
বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে ও কোশের যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
কোশে প্রোটিন সংশ্লেষে অংশ নেয়।
৩.৭ কোন কোন বাহক নীচের উদ্ভিদগুলিতে পরাগযোগ সম্পন্ন করে :
(i) ধান; (ii) পাতাঝাঁঝি; (iii) শিমুল; (iv) আম ।
Ans.
৩.৮ সংকরায়ন পরীক্ষায় কীভাবে প্রকট গুণ প্রকাশিত হয় তা উদাহরণের সাহায্যে লেখো ।
Ans. সংকরায়ণে F1F1 জনুর উদ্ভিদে T ও t উভয় অ্যালিল উপস্থিত থাকলেও, T, t র ওপর প্রকট হওয়ায় F1F1 জনুর সকল উদ্ভিদ লম্বা হয় অর্থাৎ, F1F1 জনুতে শুধু প্রকট গুণ প্রকাশিত হয়। এটি মেন্ডেলের প্রকটতার সূত্রকে সমর্থন করে।
৩.৯ অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে এক সংকরায়ন পরীক্ষায় F2 -জনুতে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের অনুপাত কী হবে ?
Ans. অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে এক সংকরায়ণ পরীক্ষায় F2F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে—লাল : গোলাপি : সাদা =1:2:1 [সন্ধ্যামালতীর ক্ষেত্রে]।
অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে এক সংকরায়ণ পরীক্ষায় F2F2 জনুতে জিনোটোইপিক অনুপাতটি হবে—বিশুদ্ধ লাল (RR) : সংকর গোলাপি (Rr): বিশুদ্ধ সাদা (rr) =1:2:1 [সন্ধ্যামালতী ফুলের ক্ষেত্রে যেখানে। লাল প্রকট বৈশিষ্ট্য (R) এবং সাদা প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (r)]।
৩.১০ বর্ণান্ধতার কীভাবে বংশগতি সঞ্চরণ ঘটে তা একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও ।
Ans. ধরা যাক, একজন বর্ণান্ধ পুরুষের (XcYXcY) সাথে একজন স্বাভাবিক মহিলার (Xc+Xc+)(Xc+Xc+) বিবাহ হল, এরপর তাদের সন্তান সন্ততিদের মধ্যে কীভাবে পিতার বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী জিনটি সঞ্চারিত হবে, তা ক্রসের মাধ্যমে দেখানো হল ।
কন্যা একটি X ক্রোমোজোম পিতার থেকে ও অপরটি মাতার থেকে পায়, তাই পিতা যদি বর্ণান্ধ (XcY)(XcY) হয় তাহলে কন্যা বাহক হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে মাতা স্বাভাবিক (Xc+Xc+)(Xc+Xc+) হওয়ায় কোনো পুত্ৰই বর্ণান্ধ হয় না, কারণ পুত্ররা Y ক্রোমোজোমটি পিতার থেকে পেলেও X ক্রোমোজোমটি মাতার থেকে পায়, তাই মাতা স্বাভাবিক হলে পুত্ররাও স্বাভাবিক হয়। আবার যদি মাতা বাহক বা বর্ণান্ধ হয় তবে পুত্ররাও বর্ণান্ধ হয়।
৩.১১ জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সংক্রান্ত মিলার ও উরে -র পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিক্রিয়াগুলির এবং উৎপন্ন একটি জৈব যৌগের নাম লেখো ।
Ans. মিলার ও উরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ মিথেন, আমোনিয়া ও হাইড্রোজেন (2: 2: 1 অনুপাত), জল। (H2OH2O)।
মিলার ও উরের পরীক্ষায় উৎপন্ন উপজাত পদার্থ—গ্লাইসিন, অ্যালানিন। অ্যাসপারটিক অ্যাসিড, আলফা অ্যামিনো বিউটাইরিক অ্যাসিড প্রভৃতি। অ্যামিনো অ্যাসিড।
৩.১২ ঘোড়ার বিবর্তনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো যা পরিবর্তিত হয়েছে ।
Ans. ঘোড়ার বিবর্তনে যে সকল পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলি হল— (1) উচ্চতার ধারাবাহিক বৃদ্ধি। (2) উভয় পদের আঙুলের সংখ্যা হ্রাস (4টি থেকে টি) ও ক্ষুরের উৎপত্তি। (3) পুরপেষক ও পেষক দাঁতের দন্তচুড় (crown)-এর আয়তন বৃদ্ধি। (4) মস্তিষ্কের সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অংশের আকার বৃদ্ধি।
৩.১৩ সুন্দরী গাছ তার দেহের অতিরিক্ত লবণ কীভাবে রেচিত করে ?
Ans. সুন্দরী গাছের লবণ রেচনের পদ্ধতিগুলি হল— (1) পাতায় লবণ গ্রন্থির উপস্থিতি যা জলের সাথে লবণ নির্গত করতে সাহায্য করে। (2) অতিরিক্ত লবণ বাকলের বিশেষ কোশ বা মূলের কোশে সঞ্জিত থাকে, যা বাকলমোচন বা অন্যান্য বিশেষ পদ্ধতি দ্বারা নির্গত হয়। (3) সাধারণত কচি পাতার তুলনায় পরিণত পাতায় দেহের অতিরিক্ত লবণ সঞয় করে রাখে এবং প্রয়োজনমতো পত্রমোচনের দ্বারা সেই অতিরিক্ত লবণ নির্গত করে দেয়।(4) কোশের ভ্যাকুলগুলি আকৃতিতে বড়াে হওয়ায় এরা। ভ্যাকুওলের কোশরসে লবণ সঞ্জয় করে এবং প্রয়োজনমতো দেহ থেকে সেটি নির্গত করে। এমনকি এদের মূল অধিক লবণ শোষণে এদের বাধা দান করে।
৩.১৪ জীবজ নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী দুটি জীবাণুর নাম লেখো ।
Ans. জীবজ নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী দুটি জীবাণু হল— অ্যাজোটোব্যাকটর ও ক্লসট্রিডিয়াম।
৩.১৫ অ্যাসিড বৃষ্টিজাত দুটি ক্ষতি উল্লেখ করো ।
Ans. পরিবেশের ওপর অম্লবৃষ্টির বা অ্যাসিড রেন-এর প্রভাব
(1) প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে বেশিরভাগ জলাশয়ের মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। স্থলভাগের গাছপালা, কৃষিজ ফসল ধ্বংস হয়। অম্লবৃষ্টির কারণে জলাশয়ের pH-এর মান যদি 4-এর কম হয়, তবে ওই জলাশয়ের অধিকাংশ সজীব উপাদানের মৃত্যু ঘটে।
(2) মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে মানুষের ত্বক ও কোশের অস্বাভাবিক ক্ষতি হয়। অম্লবৃষ্টির জন্য অ্যালুমিনিয়াম এবং তামা নির্মিত জলের পাইপ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং পানীয় জলের সঙ্গে মেশে এবং ওই জল পান করে বহু মানুষ পেটের রোগে ভোগে।
(3) মাটির ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির প্রভাবে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় এবং শস্যের ফলন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটিতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণী ও সূক্ষ্ম জীবাণুরা মারা যায়।
(4) বনাঞ্চলের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যায়। শস্যক্ষেত্রের উৎপাদনও ভীষণভাবে হ্রাস পায়।
(5) মার্বেলের কারুকার্যের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে মার্বেলের বা চুনাপাথরের তৈরি বিভিন্ন কারুকার্য, স্থাপত্য নিদর্শনগুলি, যেমন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ফতেপুর সিক্রি, তাজমহল, কুতুবমিনার। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট ভবন, সেন্ট পল্স গির্জা ইত্যাদি ভীষণভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। অম্লবৃষ্টির প্রভাবে পাথরের যে ক্ষয়ীভবন ঘটে, তাকে ‘স্টোন ক্যানসার’ বলে।
৩.১৬ পৃথিবীর উষ্ণায়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছে তার চারটি উদাহরণ দাও ।
Ans. পৃথিবীর উন্নয়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির 4 টি উদাহরণ হল—
(1) অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সংলগ্ন প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হ্রাস। (2) পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা 1∘C−2∘C1∘C−2∘C বৃদ্ধির ফলে উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় আজ মেরু ভল্লুক খাদ্যের অভাবে সংকটাপন্ন, তেমনই সিন্ধুঘোটক, মেরু শেয়াল, পেঙ্গুইন প্রভৃতিও বিপদগ্রস্ত। (3) বিশ্ব উন্নয়নের ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ক্ষতি করছে। (4) বিশ্ব উন্নয়নের ফলে বিভিন্ন মাছের প্রজাতি, পরিযায়ী পাখি, শামুক-ঝিনুকের প্রজাতি, উভচরেরা আজ বিপদের সম্মুখীন।
৩.১৭ পিপলস বায়োডাইভার্সিটি রেজিস্ট্রার (PBR) -এ জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত যে-প্রধান বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ করা হয় তা লেখো ।
Ans. PBR-এ যে সমস্ত বিষয়ে তথ্য মজুত করা থাকে তা হল— (1) সমস্ত স্থানীয় প্রজাতি সম্পর্কে সামগ্রিক তথ্য। (2) প্রজাতির বাসস্থান। (3) প্রজাতির থেকে প্রাপ্ত জৈবিক উৎপাদন (বা সম্পদ) সম্বন্ধে ধারণা, তাদের বাজারমূল্য, সংগ্রহের সময়, সংগ্রহের নিয়ম ও তাদের পরিবহণ পদ্ধতি। (4) প্রজাতিজাত উৎপাদনের প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তি। (5) প্রজাতিজাত সম্পদের স্থানীয় ব্যবহার এবং পরিচালন পদ্ধতি। (6) স্থানীয় ভৌগোলিক তথ্য (7) বিপন্ন প্রজাতি নির্ণয় ও স্থানীয় মানুষদের তরফ থেকে প্রজাতি সংরক্ষণের ধারণা ও উদ্যোগ।(8)স্থানীয় প্রজাতিগলি সম্বন্ধে ঐতিহ্যবাহী, পরম্পরাগত ও বিশ্বাস-সংক্রান্ত তথ্য।
বিভাগ—ঘ
৪. নীচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো : ৫x৬=৩০
৪.১ মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ -এর একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো ।
(a) কর্নিয়া (b) লেন্স (c) ভিট্রিয়াস হিউমর (d) রেটিনা (৩+২)
অথবা, একটি উদ্ভিদকোশ বা একটি প্রাণীকোশের মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশার চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো ।
(a) ক্রোমোজোম (b) বেমতন্তু (c) মেরুঅঞ্চল (d) সেন্ট্রোমিয়ার (৩+২)
Ans.
৪.২ ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করো । ইউক্রোমাটিন ও হেটেরোক্রোমাটিনের মধ্যে নিম্নলিখিত দুটি বিষয়ে পার্থক্য লেখো :
(i) কুণ্ডলী; (ii) সক্রিয়তা । (৩+২)
অথবা, মাইক্রোপ্রোপাগেশন কীভাবে সম্পন্ন করা হয় ? সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের নিম্নলিখিত তিনটি পর্যায়ের ঘটনাগুলি বিবৃত করো :
(i) জননকোশ বা গ্যামেট উৎপাদন; (ii) নিষেক ; (iii) ভ্রুণসৃষ্টি ও নতুন উদ্ভিদ গঠন (২+৩)
Ans. ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোশকে পর্যবেক্ষণ করলে নিউক্লিয়াসের ভিতর সূক্ষ্ম জালকাকার গঠন দেখা যায়। লক্ষ করলে বোঝা যায় যে, এগুলি। প্যাচানো সিঁড়ির মতো দ্বিতন্ত্রী গঠন—এগুলিই হল DNA। এরা বৃহৎ অণু, তাই নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় থাকে। বিভাজনের সময়ে DNA আরও কুণ্ডলীকৃত হয় ও বিভিন্ন প্রোটিনকে দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে লুপ তৈরি করে। কুণ্ডলীকৃত এই গঠনকে ক্রোমোজোম বলা হয়। অর্থাৎ, প্রোটিন সমন্বিত। কুণ্ডলীকৃত DNA-এই হল ক্রোমোজোম।
(1) ক্রোমোজোমে অবস্থিত DNA-তে সরলরৈখিক সজ্জাক্রমে জিন। পরপর সজ্জিত থাকে। (2) একটি ক্রোমোজোমে নির্দিষ্ট সংখ্যক জিন থাকে। (3) ক্রোমোজোমে জিনগুলির প্রকৃতিও নির্দিষ্ট থাকে। (4) ক্রোমোজোমীয় অংশ বিলুপ্ত হলে ওই অংশের জিনও বিলুপ্ত হয়। ফলে নানা মিউটেশন-জনিত। সমস্যা দেখা দেয়।
অথবা,
ইউক্রোমাটিন ও হেটেরোক্রোমাটিনের পার্থক্যগুলি হল—
বিষয়
ইউক্রোমাটিন
হেটেরোক্রোমাটিন
1. ইনটারফেজ অবস্থায় কুন্ডলী
কম প্যাঁচানো কুণ্ডলী গঠন করে অবস্থান করে।
দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে কুণ্ডলী গঠন করে অবস্থান করে।
2. রঞ্জন
হালকাভাবে রঞ্জিত হয়।
সর্বদা গাঢ়ভাবে রঞ্জিত হয়।
3. কাজ বা গুরুত্ব
জিনগতভাবে সক্রিয়। তাই এই অংশে DNA থেকে RNA ও RNA থেকে কার্যক্ষম প্রোটিন তৈরি হয়।
জিনগতভাবে নিষ্ক্রিয়। এই অংশে DNA থেকে RNA তথা কার্যক্ষম প্রোটিন প্রায় তৈরি হয় না।
৪.৩ একটি সংকর কালো গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা গিনিপিগের মিলন ঘটালে যে-যে ধরনের অপত্য গিনিপিগ উৎপন্ন হতে পারে তা একটি চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও । মেন্ডেলের পৃথককরণ সূত্রটি বিবৃত করো । (৩+২)
অথবা, থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গগুলি উল্লেখ করো । অনেক পরিবারে কন্যাসন্তান জন্মের জন্য মাতাকে দায়ী করা হয় । এই ধারণাটি যে যথার্থ নয় তা একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও । (২+৩)
Ans. গিনিপিগের সংকরায়ণ পরীক্ষা : একটি সংকর কালো লোমযুক্ত (Bb) গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা লোমযুক্ত (bb) গিনিপিগের সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য জনু (F1F1)-তে সৃষ্ট। গিনিপিগগুলির ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে—সংকর কালো লোম : বিশুদ্ধ সাদা লোম = 1; 1। ক্রস ও চেকার বোর্ডের সাহায্যে পরীক্ষাটি (সংকরায়ণ) নীচে দেখানো হল।
F1F1 জনুর চেকার বোর্ড
B
b
b
Bb (সংকর কালো)
bb (বিশুদ্ধ সাদা)
b
Bb (সংকর কালো)
bb (বিশুদ্ধ সাদা)
ব্যাখ্যা: (1) জনিতৃ (P) জনুর সংকর কালো লোমযুক্ত গিনিপিগের (2n) জিনোটাইপ হল Bb। অর্থাৎ, সংকর কালো গিনিপিগের থেকে দুই প্রকার গ্যামেট (n) সৃষ্টি হবে। (2) এগুলি হল কালো অ্যালিলযুক্ত (B) এবং সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেট। (3) পক্ষান্তরে বিশুদ্ধ সাদা লোমযুক্ত P জনুর বিপরীত লিঙ্গের গিনিপিগটির (2n) জিনোটাইপ হল bb। এক্ষেত্রে কেবলমাত্র একপ্রকার অ্যালিল থাকায় উৎপন্ন সকল গ্যামেটই (n) হবে। এটি হল সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেট। (4) চেকার বোর্ডে সংকর কালো গিনিপিগের B এবং b গ্যামেটের বিপরীতে সাদা লোমের গিনিপিগের (b) স্থাপিত করলে দেখা যায় (চেকার বোর্ড লক্ষণীয়) প্রথম অপত্য জনু বা F1F1 জনুতে কালো অ্যালিলযুক্ত (B) গ্যামেট এবং সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেটের মিলনে F1F1 জনুতে 50% গিনিপিগ কালো ফিনোটাইপযুক্ত হবে (যদিও তা সংকর কালো বা Bb জিনোটাইপবিশিষ্ট)।(5) P জনুর সংকর কালো গিনিপিগের সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেটটি P জনুর সাদা গিনিপিগের থেকে উৎপন্ন b গ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হলে F1F1 জনুতে বাকি 50% গিনিপিগ সাদা ফিনোটাইপযুক্ত হবে। (এই সাদা গিনিপিগগুলি বিশুদ্ধ বা bb জিনোটাইপযুক্ত হবে)। [সংকর লম্বা (Tt) ও বিশুদ্ধ বেটে (tt) মটর গাছের সংকরায়ণেও অনুরুপ ফলাফল পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে লম্বা বৈশিষ্ট্যটি প্রকট ও বেটে বৈশিষ্ট্যটি প্রচ্ছন্ন।]
অথবা,
থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গ
(1) অ্যানিমিয়া সৃষ্টি : হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে তীব্র অ্যানিমিয়া সৃষ্টি হয়। অক্সিজেন পরিবহণ ব্যাহত হয়।
(2) লৌহ সঞ্চয় : রোগীর দেহে বারবার রক্ত সঞ্চারণের প্রয়োজন হয় বলে দেহের বিভিন্ন অংশে লৌহ সঞ্চিত হয়, যার ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেমন—হৃৎপিণ্ড, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, যকৃৎ, প্লিহা প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
(3) হাড়ের গঠন বিকৃতি : অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় বলে হাড়ের গঠন বিকৃতি ঘটে এবং রোগীর মুখ ও মাথার খুলির হাড়ের গঠন অস্বাভাবিক হয়।
(4) যকৃৎ ও প্লিহার বৃদ্ধি : যকৃৎ ও প্লিহার বৃদ্ধি ঘটে। এদের যথাক্রমে হেপাটোমেগালি ও স্প্লিনোমেগালি বলা হয়।
(5) অন্যান্য : এ ছাড়া, এই রোগে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং জনডিস, ক্লান্তি। প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ অনুসারে " মানুষের দেহে রোগের তীব্রতা ও লক্ষণগুলি আলাদা হয়।
৪.৪ যে-দুটি অন্তর্গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে 'তিমির ফ্লিপার' আর 'পাখির ডানা' -কে সমঃসংস্থ অঙ্গ বলে বিবেচনা করা হয় তা উল্লেখ করো । একটি মৌচাকে কোনো শ্রমিক মৌমাছি অন্য শ্রমিক মৌমাছিদের কীভাবে খাদ্য উৎসের সন্ধান ও অবস্থান জানায় ? (২+৩)
অথবা, অভিব্যক্তি বা বিবর্তনের মুখ্য ঘটনাগুলি একটি পর্যায়চিত্রের মাধ্যমে দেখাও । (৫)
Ans. তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানা (এ ছাড়াও মানুষের অগ্রপদ, বাদুড়ের ডানা) উভয়ই মেরুদণ্ডী প্রাণীর অগ্রপদ, অর্থাৎ সমসংস্থ অঙ্গ। কারণ-
(1) মেরুদণ্ডীয় অগ্রপদের প্রধান হাড়, হিউমেরাস, রেডিয়াস-আলনা, কারপাল, মেটাকারপাল, ফ্যালানজেস এতে বর্তমান। (2) এদের অগ্রপদ পেক্টোরাল গার্ডল বা শ্রেণিচক্রের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে। (3) এই অঙ্গটির পেশি, যেমন—বাইসেন্স, ট্রাইসেন্স প্রভৃতি উভয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়। (4) অগ্রপদের স্নায়ু ও রক্তবাহগুলিও উভয়ের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। এগুলির গঠন ও উৎপত্তি এক হলেও বিভিন্ন পরিবেশে বসবাসের জন্য ছড়িয়ে পড়ায় (তিমি—জল, পাখি—বায়ু) তাদের কার্যগত পরিবর্তন (অর্থাৎ সাঁতার ও উডডয়ন) ঘটেছে। এই জন্য তারা সমসংস্থ অঙ্গ৷
অথবা,
মৌমাছিদের বার্তা আদানপ্রদান
মৌচাকে দুই প্রকার কমী মৌমাছি থাকে, যথা স্কাউট বা খাদ্য সন্ধানী কমী মৌমাছি এবং ফোরেজার বা খাদ্য সংগ্রাহক কর্মী মৌমাছি | স্কাউটরা খাদ্যের সন্ধান করে এবং খাদ্যের সন্ধান পেলে এরা মৌচাকে ফিরে এসে চাকের সামনে বিশেষ নাচের ভঙ্গিতে দেহ সঞলন দ্বারা অপর মৌমাছিদের খাদ্যের উৎস সম্পর্কে বার্তা বা সংকেত প্রদান করে। একে মৌনৃত্য বলে। প্রধানত দুই প্রকার মৌনৃত্য দেখা যায়, রাউন্ড ডান্স বা বৃত্তাকার নৃত্য এবং ওয়াগ্ল ডান্স বা ওয়াল নৃত্য। এই নৃত্যের মাধ্যমে তিন প্রকার বার্তা দেওয়া ১ মৌচাক থেকে খাদ্যের দূরত্ব, খাদ্যের উৎসের দিক ও খাদ্যের ঘ্রাণ। নীচে দক প্রকার মৌনৃত্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
(1) ওয়াল নৃত্য : খাদ্যের উৎস 50-75m-এর থেকে দূরবর্তী হলে সন্ধানী কর্মী বা স্কাউট মৌমাছিরা ওয়া নৃত্যে অংশ নেয়। এরা চাকের। নিকটবর্তী অংশে উল্লম্ব তলে নাচে, যার বার্তা বা সংকেত থেকে অন্যান্য মৌমাছিরা অনুভূমিক তলে খাবারের উৎসের অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। এই নৃত্য ইংরাজি '8' সংখ্যার আকৃতিবিশিষ্ট হয়। অর্থাৎ, একবার ডানদিকে ও একবার বাঁদিকে লুপ তৈরি করে, এবং নৃত্যের সময় লুপের মধ্যের সরলরৈখিক অংশে সন্ধানী মৌমাছির উদর অংশ ওপর নীচে আন্দোলিত (waggle) হয়। ইংরাজি ওয়াল শব্দের অ আন্দোলন বা কম্পন। তাই এই নৃত্যকে ওয়াল নৃত্য বলে।
গুরুত্ব : এই ওয়াল বা কম্পনের মাত্রা থেকে খাদ্যের অবস্থানের দূরত্ব। সম্পর্কে জানা যায় এবং সুর্যের সাপেক্ষে নাচের কৌণিক অভিমুখ থেকে।
খাদ্যের উৎসের দিক নির্ধারণ করা যায়। ঊধর্বমুখী নাচ থেকে বোঝা যায় যে খাবারের উৎসের অবস্থান সূর্যের অভিমুখে। নিম্নমুখী নাচের।
অথ হল যে খাবারের অবস্থান সর্যের বিপরীত দিকে। ডানদিকে 30° কোণে নাচের অর্থ হল যে চাকের ডান দিকে 30° কোণে খাবারের | উৎস অবস্থিত।
(2) বৃত্তাকার নাচ/চক্রাকার নৃত্য : খাদ্যের সন্ধান 50-75m এর মধ্যে হলে শ্রমিক সন্ধানী মৌমাছিরা বৃত্তাকার নৃত্য করে থাকে। সন্ধানী মৌমাছিদের পিছনে সংগ্রাহকরাও খাদ্য উৎসের দিকে ধাবিত হয় এবং যাত্রাপথে তারাও একই নৃত্য শুরু করে।
রাউন্ড ডান্স গুরুত্ব: চক্রাকার নৃত্য দ্বারা নিকটবর্তী স্থানে খাদ্য উৎস থেকে মৌমাছিরা খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে।
৪.৫ অ্যাজমা বা হাঁপানির কারণগুলি কী কী ? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট -এর ভূমিকা কী কী ? (২+৩)
অথবা, জীববৈচিত্র্য কী কী কারণে হ্রাস পায় তা সঠিক উদাহরণের সাহায্যে নির্ধারণ করো । (৫)
Ans. (1) অ্যাজমার পরিবেশগত কারণগুলি হল বিভিন্ন প্রাকৃতিক অ্যালারজেন-এর সংস্পর্শে রোগটি বৃদ্ধি পায়, যেমন—প্রাণীর মল, উদ্ভিদের পরাগরেণু, ধুলো ও ছত্রাক। এ ছাড়া, বিভিন্ন গৌণ দৃষক, যেমন—ওজোন, ফরম্যালডিহাইড, PAN প্রভৃতি অ্যালারজেনের প্রভাব বাড়িয়ে দিয়ে অ্যাজমার প্রকোপ বৃদ্ধি করে। (2) অ্যাজমার মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি হল— কলকারখানা বা গৃহে কয়লা, তেলের দহনে সৃষ্ট ধোঁয়া, কলকারখানায় সৃষ্ট সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2SO2), নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড ইত্যাদি।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM-এর ভূমিকা বা গুরুত্ব : (1) বিভিন্ন রাজ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে রাজ্য বনদপ্তরকে সক্রিয় সহযোগিতা করে JFM কমিটি। (2) বনে চোরাশিকারের ঘটনা তাৎক্ষণিক বনদপ্তরকে জানানোর কাজ করে JFM কমিটি। (3) দাবানল, বেআইনি পশুচারণ, বনভূমি বিনাশের প্রচেষ্টা, বেআইনি খননকার্য রোধে প্রাথমিকভাবে বনদপ্তরকে তা জানানো ও সংশ্লিষ্ট কাজে বনদপ্তরের সঙ্গে JFM কমিটি কাজ করে থাকে।
অথবা,
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বা বিনাশের কারণ
(1) জমি ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন : জমি ব্যবহারের ধরন পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি ধবংস হয়ে যাচ্ছে ও তার সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থলগুলিও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া পৃথিবীতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাহিদা পূরণ করার জন্য নির্বিচারে বনভূমি ধবংস করা হচ্ছে।
(2) শিকার ও চোরাশিকার : খাদ্যের প্রয়োজনে, নিছক শিকারের আনন্দ উপভোগ করার জন্য অথবা চামড়া, শিং, চর্বি প্রভৃতি বিক্রি করে উপার্জনের লোভে বিভিন্ন বন্যজীবকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এর ফলে সেই প্রজাতিগুলি ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। যেমন—সুগন্ধি দ্রব্য প্রস্তুতের জন্য ভারতীয় কস্তুরীমৃগ নির্বিচারে হত্যার ফলস্বরূপ এখন এসে | সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রজাতিটির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
(3) বিশ্ব উন্নয়ন ও জলবায়র পরিবর্তন : ইচ্ছেমতো বৃক্ষছেদন অতিমাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বিশ্ব উন্নয়নের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। বহু প্রাণী ওই পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না। ফলে তারা অবলুপ্ত হচ্ছে। যেমন—বিশ্ব উন্নয়নের ফলে আন্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার দরুন সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জীববৈচিত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে।
(4) দূষণ : সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে জলদূষণ, বায়ুদূষণ ও মৃত্তিকাদূষণের মাত্রা ও প্রভূত পরিমাণে বাড়ছে | দূষণের ফলে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। প্রকৃতিতে প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কীটনাশককেই দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
(5) অতিব্যবহার : বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে বিভিন্ন বৃক্ষলতা ও গুল্ম আহরণ করে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বনাঞ্চল থেকে ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদগুলি সংখ্যায় অতিদ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রাণীগুলিও অতিব্যবহারে আজ বিনাশের সম্মুখীন। যেমন—ভেষজ গুণসম্পন্ন সর্পগন্ধা গাছের অতিব্যবহারের ফলে প্রজাতিটি বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
(6) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় : বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের ফলে বহু প্রজাতি চিরকালের মতো অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বন্যা, ভূমিক্ষয়, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলি বিভিন্ন স্থানের বহু জীববৈচিত্র্যকে বিলুপ্ত করেছে। যেমন–2004 সালের 26 ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ঘটা সুনামির ফলে আন্দামানের প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
(7) বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ : যে-কোনো বাস্তুতন্ত্রের নিজৰ গঠনবৈচিত্র্য থাকে। বাইরে থেকে হঠাৎ কোনো প্রজাতি এনে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের গঠন বিনষ্ট হয়। যেমন—‘হাইব্রিড মাপুর। প্রজাতিটির আবির্ভাবে দেশি মাগুর প্রায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
৪.৬ ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য দুটি সংরক্ষণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রস্তাব করো । মিষ্টি জলের উৎসগুলি কী কী ভাবে দূষিত হয় ? —তোমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মতামত জানাও । (২+৩)
অথবা, দুটি অঞ্চলের মধ্যে একটিকে জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে ঘোষণা করতে চাইলে কী কী শর্ত তুমি বিবেচনা করবে ? এক্স সিটু সংরক্ষণের দুটি উদাহরণ দাও । (৩+২)
Ans. গন্ডার সংরক্ষণে গৃহীত ব্যবস্থাগুলি হল— (1) গন্ডারের জন্য বাসস্থান সুনিশ্চিত করা ও তাদের খাদ্য ও পানীয়ের যথেষ্ট জোগানের ব্যবস্থা করা। (2) গন্ডারের প্রজননের ব্যবস্থা করা, সম্ভব হলে ‘ক্যাপটিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করা। (3) জনগণের মধ্যে গন্ডার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
জলদূষণের কারণ
নানা কারণে জল দূষিত হয়ে থাকে | নীচে কয়েকটি কারণ আলোচিত হল |
(1) কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য দ্বারা দূষণ : গ্রামাঞ্চলে চাষের জন্য ব্যবহৃত কীটনাশক, আগাছানাশক, রাসায়নিক সার ইত্যাদি প্রধানত বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে গিয়ে নিকটবর্তী নদীনালা বা পুকুরের জলে মেশে এবং জলকে দূষিত করে। কৃষিতে ব্যবহত নাইট্রেট, ফসফেটজাতীয়। রাসায়নিক সার থেকে ইউট্রোফিকেশন -এর মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।
(2) কলকারখানার বর্জ্য দ্বারা দূষণ : শহরাঞ্চলে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদী, সমুদ্র ও বড়ো জলাশয়ে এসে মেশে এবং জলদূষণ ঘটায়।
(3) জীবাণু ও গৃহস্থালির প্রাত্যহিক আবর্জনা দ্বারা দূষণ : গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত জলে খাদ্যদ্রব্যের ফেলে দেওয়া অংশ, তরকারির পচা অংশ, মলমূত্র, সাবান, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি মিশে থাকে। ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি মিশ্রিত এই নোংরা জল নর্দমা, পয়ঃপ্রণালী দিয়ে। নদনদী, হ্রদ, খাল বা সমুদ্রের জলে পড়ে ও দূষণ ঘটায়।
(4) যথেচ্ছ ব্যবহারজনিত দূষণ : বিভিন্ন জলাশয়ের জল, মানুষের যথেচ্ছ ব্যবহার, যেমন—মলমূত্র ত্যাগ, স্নান, বাসনপত্র ধোয়া, গবাদিপশুর স্নান বা কাপড় কাচার ফলে দূষিত হয় ও তাতে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু জন্মায়।
(6) ভারী ধাতু দ্বারা দূষণ : ভৌমজলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটির নীচে জলস্তর স্বাভাবিকের থেকে অনেক নীচে নেমে যায়, যার ফলে জলে আর্সেনিক ও ফ্লুরাইডের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং জলদূষণ ঘটায়।
অথবা,
পরিবেশসংক্রান্ত সংস্থা 'কনজারভেশন ইনটারন্যাশনাল', একটি অঞলের জীববৈচিত্র্যের হটস্পট রূপে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যে দুটি শর্ত তুলে ধরেছে, সেগুলি হল— (1) নির্দিষ্ট হটস্পট অঞ্চলে অন্তত 1500টি সংবহনকলাযুক্ত এনডেমিক উদ্ভিদ প্রজাতির অস্তিত্ব থাকতে হবে। (2) হটস্পট অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের অন্তত 70% প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে গিয়ে থাকতে হবে।
এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ হল— (1) চিড়িয়াখানা (আলিপুর চিড়িয়াখানা) ও (2) বোটানিক্যাল গার্ডেন (আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস ভারতীয় বোটানিক গার্ডেন)।
Madhyamik Examination (WBBSE) - 2018
Life Science
বিভাগ—ক
(সমস্ত প্রশ্নের উত্তর করা আবশ্যিক)
১. প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যা-সহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো : ১x১৫=১৫
১.১ সূর্যশিশির নামক পতঙ্গভুক উদ্ভিদের পাতার কর্ষিকাগুলি পতঙ্গদেহের সংস্পর্শে আসামাত্র বেঁকে গিয়ে পতঙ্গকে চেপে ধরে । এটি হল—
(ক) সিসমোন্যাস্টি (খ) থার্মোন্যাস্টি (গ) ফোটোন্যাসটি (ঘ) কেমোন্যাস্টি
Ans. (ক) সিসমোন্যাস্টি
১.২ মহিলাদের ক্ষেত্রে ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকল থেকে যে-হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা জোগায় সেটি হল—
(ক) TSH (খ) ADH (গ) ইস্ট্রোজেন (ঘ) ACTH
Ans. (গ) ইস্ট্রোজেন
১.৩ নীচের কোনটি সঠিক প্রতিবর্ত পথ ?
(ক) গ্রাহক → কারক → বহির্বাহী স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র → অন্তর্বাহী স্নায়ু
(খ) স্নায়ুকেন্দ্র → গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু → কারক → বহির্বাহী স্নায়ু
(গ) বহির্বাহী স্নায়ু → গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র → কারক
(ঘ) গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র → বহির্বাহী স্নায়ু → কারক
Ans. (ঘ) গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র → বহির্বাহী স্নায়ু → কারক
১.৪ মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিয়োলাসকে অবলুপ্ত হতে দেখা যায় ?
(ক) অ্যানাফেজ (খ) প্রোফেজ (গ) মেটাফেজ (ঘ) টেলোফেজ
Ans. (খ) প্রোফেজ
১.৫ নীচের কোনটি DNA -এর গঠনগত উপাদান নয় ?
(ক) ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা (খ) ইউরাসিল ক্ষারক (গ) থাইমিন ক্ষারক (ঘ) ফসফরিক অ্যাসিড
Ans. (খ) ইউরাসিল ক্ষারক
১.৬ যৌন জনন সম্পর্কিত নীচের কোন বক্তব্যটি সঠিক ?
(ক) যৌন জননে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন অপরিহার্য
(খ) যৌন জনন কেবলমাত্র মাইটোসিস নির্ভর
(গ) যৌন জননে একটিমাত্র জনিতৃ জীব থেকেই অপত্য জীব সৃষ্টি হতে পারে
(ঘ) যৌন জননের ফলে উৎপন্ন অপত্য জীব জিনগতভাবে হুবহু জনিতৃ জীবের মতো হয়
Ans. (ক) যৌন জননে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন অপরিহার্য
১.৭ নীচের কোনটি মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার F2 জনুর জিনোটাইপিক অনুপাত ?
(ক) 1 : 2 : 1 (খ) 3 : 1 (গ) 9 : 3 : 3 : 1 (ঘ) 2 : 1 : 2
Ans. (ক) 1 : 2 : 1
১.৮ মানুষের অটোজোমে থাকা জিন দ্বারা নীচের কোনটি নিয়ন্ত্রিত হয় না ?
(ক) রোলার জিভ (খ) হিমোফিলিয়া (গ) থ্যালাসেমিয়া (ঘ) কানের যুক্ত লতি
Ans. (খ) হিমোফিলিয়া
১.৯ অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে একসংকরায়ন পরীক্ষায় F2 জনুতে ফেনোটাইপের অনুপাত কী হতে পারে ?
(ক) 3 : 1 (খ) 2 : 1 : 1 (গ) 9 : 3 : 3 : 1 (ঘ) 1 : 2 : 1
Ans. (ঘ) 1 : 2 : 1
১.১০ নীচের কোনটি একই খাদ্যের জন্য অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম ?
(ক) শকুন ও হায়েনার মধ্যে সংগ্রাম
(খ) ঈগল ও চিলের মধ্যে সংগ্রাম
(গ) পুকুরে রুইমাছদের মধ্যে সংগ্রাম
(ঘ) বক ও মাছরাঙার মধ্যে সংগ্রাম
Ans. (গ) পুকুরে রুইমাছদের মধ্যে সংগ্রাম
১.১১ নীচের কোন পরিবর্তনটি ঘোড়ার বিবর্তনে ঘটেনি ?
(ক) পায়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি
(খ) পায়ের সবকটি আঙুলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি
(গ) পায়ের শুধু তৃতীয় আঙুলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি
(ঘ) সমগ্র দেহের আকার বৃদ্ধি
Ans. (খ) পায়ের সবকটি আঙুলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি
১.১২ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী জীবন সৃষ্টির প্রাক পরিবেশটি ছিল যেন
(ক) সমুদ্রের জলে তপ্ত লঘু সুপ
(খ) সমুদ্রের জলে ঠান্ডা ঘন সুপ
(গ) নদীর জলে ঠান্ডা ঘন সুপ
(ঘ) মাটির তলার জলে তপ্ত ঘন সুপ
Ans. (ক) সমুদ্রের জলে তপ্ত লঘু সুপ
১.১৩ নীচের কোন জীবানুটি নাইট্রিফিকেশনে অংশগ্রহণ করে ?
(ক) নাইট্রোসোমোনাস (খ) অ্যাজোটোব্যাকটর (গ) সিউডোমোনাস (ঘ) থায়োব্যাসিলাস
Ans. (ক) নাইট্রোসোমোনাস
১.১৪ এক্স-সিটু সংরক্ষণের একটি উদাহরণ হল
(ক) সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প (খ) করবেট জাতীয় উদ্যান (গ) নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (ঘ) ক্রায়োসংরক্ষণ
Ans. (ঘ) ক্রায়োসংরক্ষণ
১.১৫ জলদূষণের ফলে নীচের যেটি ঘটে তা হল
(ক) বিশ্ব উষ্ণায়ন (খ) ইউট্রোফিকেশন (গ) বধিরতা (ঘ) ব্রংকাইটিস
Ans. (খ) ইউট্রোফিকেশন
বিভাগ—খ
২ নির্দেশ অনুসারে নীচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ২১টি প্রশ্নের উত্তর লেখো : ১x২১=২১
নীচের শূন্যস্থানগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে-কোনো পাঁচটি) ১x৫=৫
২.১ আয়োডিনের অভাবে _____ হরমোনের সংশ্লেষ ব্যাহত হয় ।
Ans. থাইরক্সিন
২.২ মেরুদন্ডী প্রাণীদের ভ্রূণের পরিস্ফুরণ ও বৃদ্ধির সময় _____ কোশ বিভাজন ঘটে ।
Ans. মাইটোসিস
২.৩ মটর গাছের ভিন্ন ভিন্ন _____ একই ফিনোটাইপ দেখাতে পারে ।
Ans. জিনোটাইপ
২.৪ _____ বিবর্তনের ফলে সমসংস্থ অঙ্গের উদ্ভব ঘটে ।
Ans. অপসারী
২.৫ স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন একটি বহিরাগত প্রজাতির নাম হল _____ ।
Ans. পার্থেনিয়াম
২.৬ বাতাসে ভাসমান ধোঁয়া, ছাই, ধূলিকণা, পরাগরেণু ইত্যাদির সুক্ষ্ম কণাকে একত্রে _____ বলে, যা ফুসফুসে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে ।
Ans. SDM
নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে-কোনো পাঁচটি) : ১x৫=৫
২.৭ হাইপোথ্যালামাস মানুষের দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে ।
Ans. মিথ্যা
২.৮ DNA -তে অ্যাডেনিন হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে গুয়ানিনের সঙ্গে যুক্ত থাকে ।
Ans. মিথ্যা
২.৯ মেন্ডেল মটর গাছের একসংকর জনন পরীক্ষায় প্রথম অপত্য জনুতে 75% বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছ পেয়েছিলেন ।
Ans. মিথ্যা
২.১০ ল্যামার্কের মতে জীব তার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো বংশানুক্রমিক দৈহিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে পারে ।
Ans. সত্য
২.১১ অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ হল বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্টি SO2 এবং NO2 গ্যাস ।
Ans. সত্য
২.১২ অক্সিন বীজের সুপ্তাবস্থা কাটিয়ে অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে ।
Ans. মিথ্যা
A-স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সঙ্গে B-স্তম্ভে দেওয়া সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত শব্দটির সমতাবিধান করে উভয় স্তম্ভের ক্রমিক নং উল্লেখ-সহ সঠিক জোড়টি পুনরায় লেখো ( যে-কোনো পাঁচটি ) ১x৫=৫
A-স্তম্ভ
B-স্তম্ভ
২.১৩
CSF
(a)
বৃহৎ কলয়েড সমন্বয়
২.১৪
ক্রসিং ওভার
(b)
জঙ্গল পুনরুদ্ধারের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ
২.১৫
হিমোফিলিয়া
(c)
মিয়োসিস
২.১৬
কোয়াসারভেট
(d)
অপত্য ক্রোমোজোমের মেরুবর্তী গমন
২.১৭
JFM
(e)
মানুষের X ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনগত রোগ
২.১৮
গ্রাফটিং
(f)
মস্তিষ্কের কোশে পুষ্টি সরবরাহ করে
(g)
স্টক এবং সিয়ন
Ans. ২.১৩ (f) ২.১৪ (c) ২.১৫ (e) ২.১৬ (a) ২.১৭ (b) ২.১৮ (g)
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও ( যে-কোনো ছ-টি) ১x৬=৬
২.১৯ বিসদৃশটি বেছে লেখো : বামনত্ব, গলগন্ড, থালাসেমিয়া, মধুমেহ
Ans. থ্যালাসেমিয়া
২.২০ মানুষের অক্ষিগোলকের লেন্সের একটি কাজ উল্লেখ করো ।
Ans. চোখের আকৃতি প্রদান করা
২.২১ নীচের সম্পর্কযুক্ত একটি শব্দজোড় দেওয়া আছে । প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও:
মাইটোসিস : ভ্রূনমূল :: _____ : রেণু মাতৃকোশ ।
Ans. মিয়োসিস
২.২২ গিনিপিগের ক্ষেত্রে bbRR এবং bbRr জেনোটাইপ দুটির ফিনোটাইপ কি একই ?
Ans. না
২.২৩ মেন্ডেলের দ্বিসংকর জননের পরীক্ষায় F2 জনুতে প্রাপ্ত ফেনোটাইপিক অনুপাতটি লেখো ।
Ans. 9:3:3:1
২.২৪ লবণ সহনের জন্য সুন্দরী গাছের একটি অভিযোজন উল্লেখ করো ।
Ans. পাতার উভয়তলে লবণগ্রন্থি দেখা যায়
২.২৫ নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত । সেই বিষয়টি খুঁজে বের করো এবং লেখো : স্থানীয় জীবসম্পদ সম্বন্ধে যাবতীয় জ্ঞান, PBR, স্থানীয় জীবসম্পদ সম্বন্ধে ঐতিহ্যবাহী পরম্পরাগত বিশ্বাস, স্থানীয় জীবসম্পদের স্থিতিশীল ব্যবহার ।
Ans. PBR
২.২৬ সিংগালিলা জাতীয় উদ্যানে সংরক্ষিত একটি বিপন্ন প্রাণীর নাম লেখো ।
Ans. রেড পান্ডা।
বিভাগ—গ
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর দু-তিনটি বাক্যে লেখো : ২x ১২=২৪
৩.১ নীচের ঘটনাগুলি ঘটলে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়া ঘটে । এই প্রতিবর্ত ক্রিয়া দুটির গুরুত্ব লেখো ।
যখন শ্বাসনালীতে খাদ্যকণা ঢুকে পড়ে, যখন নাকের মধ্যে কোনো বিজাতীয় বস্তু ঢুকে পড়ে ।
Ans. প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব : আমাদের দেহের অধিকাংশ ক্রিয়াই মস্তিষ্কের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু বহুক্ষেত্রে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এই সকল ক্ষেত্রে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মস্তিষ্কের সাহায্য ছাড়াই দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় প্রতিবর্তের মাধ্যমে। একটি উদাহরণের সাহায্যে ঘটনাটি বোঝা যায়। শ্বাসনালীতে কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু, যেমন বিষাক্ত গ্যাস, জল, খাদ্যের কণা প্রভৃতি প্রবেশ করলে তৎক্ষণাৎ কাশির উদ্রেক হয়। এই কাশির ফলে ফুসফুসীয় বায়ুর মাধ্যমে ওই বস্তুর নির্গমন ঘটে। এটি একপ্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এক্ষেত্রে কোনোরূপ চিন্তাভাবনা ছাড়াই কাশির উদ্রেক হয়, অর্থাৎ এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোনো ভূমিকা থাকে না। এইভাবে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বাসনালী থেকে অবাঞ্ছিত বস্তু নির্গমন হয় ও দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া চলতে থাকে। এ ছাড়াও চোখে হঠাৎ আলো বা ধূলো পরলে দ্রুত আমাদের চোখের পলক পড়ে। ধূলিকণার সংস্পর্শে আমরা হাঁচি। এগুলিও আমাদের দৈহিক প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে।
৩.২ চোখের কোন কোন দৃষ্টিজনিত ত্রুটি সংশোধনের জন্য অবতল লেন্সযুক্ত এবং উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয় ?
Ans. অবতল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করে মারোপিয়া নামক দৃষ্টিজনিত ত্রুটি সংশোধন করা হয়।
উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করে হাইপারমেট্রোপিয়া ও । প্রেসবায়োপিয়া নামক দৃষ্টিজনিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হয়।
৩.৩ নিম্নলিখিত ক্রিয়াগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হরমোনগুলির নাম তালিকাভুক্ত করো : ♦ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ; ♦ থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা প্রদান; ♦ স্ত্রীদেহে করপাস লুটিয়ামের বৃদ্ধি ঘটানো ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণে উদ্দীপনা প্রধান; ♦ উদ্বেগজনিত কারণে রক্তচাপ বৃদ্ধি করা ।
Ans.
ক্রিয়া
হরমোন
রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা প্রদান
থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন বা TSH
স্ত্রীদেহে করপাস লিউটিয়ামের বৃদ্ধি ঘটানো ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণে উদ্দীপনা প্রদান
লিউটিনাইজিং হরমোন বা LH
উদ্বেগজনিত কারণে রক্তচাপ বৃদ্ধি করা
অ্যাড্রেনালিন
৩.৪ বিশ্রামরত একটি প্রাণী গমনে উদ্যত হল । এর চারটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করো ।
Ans. গমনের চালিকাশক্তি বা উদ্দেশ্য : গমনের চালিকাশক্তি তথা উদ্দেশ্যগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল।
(1) খাদ্য খোঁজা বা খাদ্যান্বেষণ : অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারে। তাই উদ্ভিদকে খাদ্যন্বেষণে অন্যত্র গমন করতে হয় না। কিন্তু প্রাণীরা সাধারণত পরভোজী, অর্থাৎ প্রাণীদেরকে খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই প্রাণীকে খাদ্যের সন্ধানে স্থানান্তরে গমন করতে হয়।
(2) খাদকের খাদ্যে পরিণত হওয়া এড়িয়ে চলা বা আত্মরক্ষা : যেসব জীব নিজেরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খাদ্যের জন্য অপরের ওপর নির্ভরশীল, তাদের খাদক বলে। এক শ্রেণির খাদক অপর শ্রেণির খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে অগ্রসর হয়। তাই শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচাবার জন্য প্রাণীকে স্থানান্তরে গমন করতে হয়। যেমন—বাঘ শিকারের সময় হরিণকে আক্রমণ করলে, হরিণ অন্যস্থানে গমন করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে।
(3) পরিযান : পরিবেশগত কারণে প্রাণীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। একে পরিযান বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি থেকে রক্ষা পেতে, প্রজননের জন্য প্রাণীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে।
(4) অনুকূল পরিবেশের সন্ধান : উপযুক্ত মাত্রায় জল, আলো, বাতাস ইত্যাদির জন্য প্রাণীকে স্থানান্তরে গমন করতে হয়। যেমন— বর্ষাকালে পিঁপড়েরা মাটি ছেড়ে ঘরের ভিতর চলে আসে।
(6) নতুন এবং সুরক্ষিত বাসস্থান খুঁজে নেওয়া : সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের প্রয়োজন হয়। বহুক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বাসস্থানের নিরাপত্তা বিঘিত হয়, তখন নতুন বাসস্থানের সন্ধানে গমনের প্রয়োজন হয়। ফলে উপযুক্ত বাসস্থানের জন্য প্রাণীকে স্থানান্তরে গমন করতে হয়।
(6) প্ৰজননিক কাজের জন্য জীবের একত্রিত হওয়া : বংশবিস্তাবের প্রাণী ও নিম্নশ্রেণির কিছু উদ্ভিদকে উপযুক্ত প্রজনন স্থান খুঁজে | নেওয়ার জন্য বা উপযুক্ত সঙ্গী নির্বাচনের জন্য স্থানালত। করতে হয়। যেমন- ইলিশ মাছ সমুদ্রের লবণাক্ত জলে বাসক, প্রধানত ডিম পাড়ার জন্য এরা নদীর মিঠে জলে আসে।
৩.৫ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানুষের অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো: ♦ প্রকৃতি, ♦ সংখ্যা ।
Ans. অটোজোম ও অ্যালোজোমের পার্থক্য
বিষয়
অটোজোম
অ্যালোজোম
1 কার্যগত
দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
সাধারণভাবে লিঙ্গ নির্ধারণে অংশ নেয়।
2. সংখ্যা
22 জোড়া।
একজোড়া
3. কামোজোমের প্রকৃতি
সবগুলির হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া থাকে।
এরা মহিলাদের ক্ষেত্রে হোমোলাগাস (XX)। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে তা হোমোলোগাস নয় (XY)।
৩.৬ স্পাইরোগাইরা ও প্ল্যানেরিয়ার অযৌন জনন কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয় ?
Ans. পাহারাগাইরা ও প্ল্যানেরিয়া-র অযৌন জনন যথাক্রমে খণ্ডভবন এবং পুনরুৎপাদন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।
৩.৭ মানববিকাশের অন্তিম পরিণতি বা বার্ধক্য দশায় দৃষ্টিশক্তি এবং অস্থি সংক্রান্ত দুটি পরিবর্তন উল্লেখ করো ।
Ans. বার্ধক্য দশায়- (1) দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়, প্রেসবায়োপিয়ার লক্ষণ প্রকাশিত হয়। (2) অস্থি ও অস্থিসন্ধি ক্ষয় পেয়ে যথাক্রমে অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওআথ্রাইটিস রোগ দেখা যায়।
৩.৮ মানুষের ক্ষেত্রে সন্তানের লিঙ্গ কীভাবে নির্ধারিত হয় তা একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও ।
Ans.
চেকার বোর্ড
22A + X
22A + Y
22A + X
44A + XX (কন্যাসন্তান)
44A +XY (পত্রসন্তান)
(2) গোণ লিঙ্গ নির্ধারণ : প্রাথমিকভাবে লিঙ্গ নির্ধারিত হওয়ার পরে বিভিন্ন প্রকার পুরুষ ও স্ত্রী যৌন হরমোনের প্রভাবে যথাক্রমে পুরুষ ও স্ত্রী গৌণ যৌন লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়।
৩.৯ একদিন শিক্ষার্থীরা খবরের কাগজে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে একটি প্রবন্ধ করল এবং একজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির পরিণতি জেনে ভীত হল । জনগোষ্ঠী থেকে এই রোগ দূর করার জন্য তারা কী কী উদ্যোগ নিতে পারে তা লেখো
Ans. ওই শিক্ষার্থীরা যে উদ্যোগগুলি নিতে পারে সেগুলি হল- সাধারণ মানুষকে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা তা নির্ণয়ে রক্ত পরীক্ষায় উদ্ধুদ্ধ করা।(2) বিয়ের আগে জেনেটিক কাউন্সিলারের কাছে যেতে উদ্বন্দ্ব করা।(3) রোগটি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা।
৩.১০ দ্বিসংকর জনন পরীক্ষায় F1 জনুতে উৎপন্ন সংকর উদ্ভিদ YyRr থেকে সকল সম্ভাব্য গ্যামেটগুলি কী কী হতে পারে ?
Ans. RrYy জিনোটাইপবিশিষ্ট একটি গোল-হলদে বীজের মটর গাছ থেকে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ফলে RY, Ry, rY, ry—এই চার প্রকারের।গ্যামেট উৎপন্ন হতে পারে।
৩.১১ পায়রার বায়ুথলির অভিযোজনগত দুটি গুরুত্ব কী কী ?
Ans. পায়রার বায়ুথলির গুরুত্ব
পায়রা প্রাথমিকভাবে একটি খেচর প্রাণী। বায়ুথলি হল বায়ুতে ওড়ার জন্য। বার অঞ্জসংস্থানিক অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য। এগুলি ক্লোমশাখা থেকে পন্ন পাতলা পর্দাবৃত 9টি বায়ুপূর্ণ প্রকোষ্ঠ বিশেষ, যা পেশি ও রক্তজালক বিহিন হয়। ওড়ার জন্য পায়রার অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। এই অতিরিক্ত গকি তথা প্রশ্বাসকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অক্সিজেন বায়ুথলি সরবরাহ করে। বায়ুর নীচের স্তরে উধর্বস্তর অপেক্ষা বেশি অক্সিজেন উপস্থিত থাকে। ওড়ার আগে পায়রা বায়ুথলিতে বাতাস পূর্ণ করে নেয় ফলে এই বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ বায়ুর উচ্চস্তর অপেক্ষা বেশি থাকে। এ ছাড়া থলিগুলি বায়ুপূর্ণ হলে দেহ সামগ্রিকভাবে হালকা হয় ও বাতাসে ভাসতে সুবিধা হয়।
৩.১২ মানবদেহের মেরুদন্ডে ও খাদ্যনালিতে অবস্থিত একটি করে নিষ্ক্রিয় অঙ্গের নাম লেখো ।
Ans. বিবর্তনের সপক্ষে নিষ্ক্রিয় অঙ্গঘটিত প্রমাণ
(1) ঘোড়া, গিনিপিগ প্রভৃতি তৃণভোজী প্রাণীর পৌষ্টিকতন্ত্রের ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সংযোগস্থলে অবস্থিত সিকাম একটি সক্রিয় অঙ্গ যা মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রাকার নিষ্ক্রিয় ভারমিফর্ম অ্যাপেনডিক্সে পরিণত হয়েছে। সিকামের কাজ হল। সেলুলোজ জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সাহায্য করা | মানুষের খাদ্যে সেলুলোজের পরিমাণ কম থাকায় অব্যবহারজনিত কারণে এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। (2) বানরে সক্রিয় ল্যাজ মানুষের ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের শেষপ্রান্তে নিষ্ক্রিয় কক্সিস রুপে অবস্থান করে। (3) মানুষের চোখের উপপল্লব বা তৃতীয়
৩.১৩ ঘোড়ার বিবর্তনের ইতিহাসে চারটি প্রধান জীবাশ্ম পূর্বপুরুষের নাম ও সময়ের পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে লেখো ।
Ans. ঘোড়ার বিবর্তনের শব্দচিত্রটি নিম্নরূপ।
ইওহিপ্পাস →→ মেসোহিপ্পাস →→ মেরিচিগ্লাস →→ প্লিওহিপ্পাস →→ ইকুয়াস
(ইওসিন) (অলিগোসিন) (মায়োসিন) (প্লিওসিন) (আধুনিক)
৩.১৪ "মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হচ্ছে" —দুটি ঘটনা উল্লেখ করে এর যথার্থতা প্রমাণ করো ।
Ans. মানব ক্রিয়াকলাপে মক অধিক নাইট্রোজেনের ক্ষতিকর প্রভাব
অতিরিক্ত নাইট্রোজেনের প্রভাবে পরিবেশের প্রদত্ত ক্ষতিকর পরিবর্তনগুলি ঘটে থাকে।
(1) বিশ্ব উন্নয়ন :নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসটি তাপশোষী গ্রিনহাউস গ্যাস বা সূর্যালোকের প্রতিফলনে সৃষ্ট অবলোহিত আলো বা উত্তাপ শোষণ করে গ্রিনহাউস প্রভাব তথা বিশ্ব উয়ায়ন ঘটায়।
(2) আলোক-রাসায়নিক ধোঁয়াশা বা ফোটোকেমিকাল স্মগ : পেট্রোলিয়াম দহনজাত নাইট্রিক অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও আলোকের উপস্থিতিতে PAN (পারঅক্সি-অ্যাসিটাইল নাইট্রেট) উৎপন্ন করে যা আলোক রাসায়নিক ধোঁয়াশা উৎপন্ন করে। এটি দৃশ্যদূষণ ও শ্বাসনালীর প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি সমস্যা সৃষ্টি করে।
৩.১৫ ক্রমাগত জলাভূমি ধ্বংস ও কৃষিজমির পরিমাণের হ্রাস ঘটায় পরিবেশগত পরিণাম কী কী হতে পারে ?
Ans. জলাভূমি ধ্বংসের পরিবেশগত পরিণাম হল—
(1) জলাভূমিতে যে জলজ জীবগুলি বসবাস করে (যেমন—জলজ গাছ, মাছ, ব্যাং, সাপ ইত্যাদি) তাদের বৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। (2) পৃথিবীব্যাপী জলের অভাব দেখা দিচ্ছে। (3) স্থানীয় আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।
কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাসের পরিবেশগত পরিণাম হল— (1) উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে ও খাদ্যের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। (2) স্বল্প পরিমাণ জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের প্রচেষ্টায় জমিতে রাসায়নিক সার অধিক মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অধিক জলসেচের ফলে জলের অভাব দেখা দিচ্ছে। (3) অধিক পরিমাণ ফসল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে উচ্চফলনশীল শস্যবীজ ব্যবহৃত হওয়ায় কোনো শস্যের স্থানীয় ভ্যারাইটিগুলি লোপ পাচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে।
৩.১৬ শব্দদূষণ মানব শরীরে কান ও হৃদপিন্ডের ওপর কী কী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে ?
Ans. কানের ওপর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শব্দ (100 dB)-এর কারণে অন্তঃকর্ণের অর্গান অফ কর্টির কোশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পায় বা বিনষ্ট হয়। একে নয়েস ইনডিউণ্ড হিয়ারিং লস’বলে।।
হৃৎপিণ্ডের ওপর প্রভাব—90dB-এর উর্ধ্বে শব্দ হলে সিস্টোলিক। রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন হার বৃদ্ধি পায়। অনবরত 60dB-এর ঊর্ধ্বে শব্দ শুনলে হৃৎপিণ্ডের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন নামক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এই রোগে হৃদ্ধপেশিতে আংশিকভাবে রক্ত সঞালন বন্ধ হয়ে গিয়ে পেশির কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়।
৩.১৭ মানব সভ্যতার বিকাশে নিম্নলিখিত দুটি ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা উল্লেখ করো । ♦ খাদ্য উৎপাদন; ♦ ওষুধ প্রস্তুতি ।
Ans. খাদ্য উৎপাদনে জীব বৈচিত্র্যের ভূমিকা : মানুষসহ সকল জীবই খাদ্যের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে থাকে। পৃথিবীর খাদ্যভান্ডাররুপে ও খাদ্যসুরক্ষা প্রদানে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ধান, গম, তেল, ডাল প্রভৃতি জীববৈচিত্র্যেরই অবদান। বিভিন্ন খাদ্য উপাদানসমৃদ্ধ খাদ্য সৃষ্টিতে, রোগ তথা খরা, বন্যা ইত্যাদি প্রতিরোধী খাদ্য উৎপাদনে জীববৈচিত্র্য মানবসমাজকে সাহায্য করে। পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য সামগ্রিক ভাবে পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদন সাহায্য করে।
ওষুধ প্রস্ততিতে জীববৈচিত্রের ভূমিকা : পৃথিবীর প্রায় 70,000 বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি ওষুধ হিসেবে তথা ওষুধ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। যেমন—সিঙ্কোনার ছাল থেকে প্রাপ্ত কুইনাইন ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধরূপে ব্যবহৃত হয়, সর্পগন্ধার মূলের ছাল থেকে প্রাপ্ত রেসারপিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় প্রভৃতি। সুতরাং বলা চলে। মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকায় জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অপরিসীম।
বিভাগ—ঘ
৪. নীচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো : ৫x৬=৩০
৪.১ একটি প্রতিবর্ত চাপের চিত্র এঁকে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো :
(ক) গ্রাহক, (খ) সংজ্ঞাবহ স্নায়ু, (গ) স্নায়ুকেন্দ্র, (ঘ) চেষ্টীয় স্নায়ু । (৩+২)
অথবা, একটি ইউক্যারিয়োটিক ক্রোমোজোমের অঙ্গসংস্থানের চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো :
(ক) ক্রোমাটিড, (খ) সেন্ট্রোমিয়ার, (গ) নিউক্লিয়োলার অরগানাইজার, (ঘ) টেলোমিয়ার (৩+২)
Ans. প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ : যে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথে স্নায়ুস্পন্দন আবর্তনের দ্বারা প্রতিবর্ত ক্রিয়া সংঘটিত হয়, সেই স্নায়ুপথটিকে প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ বলে। প্রতিবর্ত পথটি একটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হল।
উদ্দীপক →→ গ্রাহক →→ স্নায়ুকেন্দ্র →→ কারক →→ সাড়াপ্রদান
প্রতিবর্ত পথের অংশ ও তার কাজ : প্রতিবর্ত পথের পাঁচটি অংশ। নীচে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হল।
(1) গ্রাহক : এর মাধ্যমে পরিবেশ থেকে আগত উদ্দীপনা গৃহীত হয় এবং স্নায়বিক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
(2) অন্তর্বাহী নিউরোন : এর মাধ্যমে উদ্দীপনা গ্রাহক থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে পৌঁছোয়।
(3) স্নায়ুকেন্দ্র : এটি সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তুতে অবস্থিত। এখানে সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা চেষ্টীয় উদ্দীপনায় রূপান্তরিত হয়।
(4) বহির্বাহী নিউরোন : এটি মোটর নিউরোন দিয়ে গঠিত। এর মাধ্যমে চেষ্টীয় উদ্দীপনা কারকে বাহিত হয়।
(5) কারক : পেশি, গ্রন্থি ইত্যাদি হল কারক। এরা উদ্দীপনার প্রভাবে উদ্দীপিত হলে সাড়া দেয়।
৪.২ একটি কোশচক্রের ইন্টারফেজের বিভিন্ন দশায় কী কী ধরনের রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষিত হয় ? একটি কোশচক্রের বিভিন্ন বিন্দুতে স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কী ঘটতে পারে ? (৩+২)
অথবা, একটি ফার্নের জনুঃক্রম পর্যায়চিত্রের মাধ্যমে দেখাও । "প্রোফেজ এবং টেলোফেজের ক্ষেত্রে বিপরীতধর্মী পরিবর্তন ঘটে"—এরূপ দুটি বিপরীতধর্মী পরিবর্তন লেখো । (৩+২)
Ans. ইনটারফেজে উৎপন্ন পদার্থ : ইনটারফেজের নানা দশায় উৎপন্ন পদার্থগুলি হল—
(1) G1 দশা বা গ্যাপ 1 দশা : প্রোটিন mRNA, tRNA কোশীয় অঙ্গাণুর উৎপাদন হয়।
(2) Sদশা বা সংশ্লেষণ দশা : DNA সংশ্লেষণ ও দ্বিত্বকরণ হয়।
(3) G2G2 দশা বা গ্যাপ 2 দশা; মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট, DNA এর গঠনগত ত্রুটি নিবারণকারী প্রোটিন ইত্যাদির সংশ্লেষ হয়।
স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে সৃষ্ট অবস্থা : কোশচক্রের বিভিন্ন চেকপয়েন্টগুলিতে স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোশ বিভাজন তার নিয়ন্ত্রণ হারাবে। DNA এবং স্পিন্ডিল-এর গঠনগত ত্রুটি থাকলেও যদি তখন কোশ বিভাজন ঘটে তাহলে ত্রুটিসম্পন্ন অপত্য কোশ তৈরি হয়। এ ছাড়া বিভাজন অনিয়ন্ত্রিত হলে অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে টিউমার সঠি। হবে। অনেক ক্ষেত্রে কোশে ক্যানসার দেখা দিতে পারে।
৪.৩ মটরগাছের বীজের বর্ণ ও বীজের আকার— এই বৈশিষ্ট্য দুটি নিয়ে মেন্ডেল দ্বিসংকর জননের পরীক্ষা করেছিলেন । এই পরীক্ষার F2F2 জনুতে যে-কটি হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত মটরগাছ উৎপন্ন হয়, তাদের জিনোটাইপগুলি লেখো । মেন্ডেলের স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্রটি বিবৃত করো । (২+৩)
অথবা, মেন্ডেল মটর গাছের ফুলের যে যে চরিত্রগুলি নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন তাদের প্রত্যেকটির বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো । "বংশগতির বৈজ্ঞানিক ধারণা গড়ে তুলতে মেন্ডেলের মটরগাছ সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলি যুগান্তকারী" —এই পরীক্ষাগুলিতে তাঁর সাফল্যের তিনটি কারণ উল্লেখ করো । (২+৩)
Ans. হলদে ও গোলাকার বীজের জিনোটাইপগুলি হল— YYRR, YyRr, YyRR, YyRr।
অথবা,
দুই বা তার বেশি বিপরীতধর্মী যুগ্ম বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি জনিতৃ থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হলেও তারা মিশ্রিত হয় না বরং অপত্যের জননকোশ তৈরির সময়ে এরা পরস্পর থেকে পৃথক হয় এবং সম্ভাব্য সকলপ্রকার সমন্বয়ে স্বাধীনভাবে জননকোশে সারিত হয়। এটিই মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র বা স্বাধীন সারণসূত্র।
অথবা,
মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য : মেন্ডেল তার পরীক্ষা বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন তা নীচে সারণির আকারে দেখানো হল।
৪.৪ উটের অতিরিক্ত জলক্ষয় সহন ক্ষমতার সঙ্গে এদের লোহিত রক্তকণিকার (RBC বিশেষ চরিত্রটি কীভাবে সম্পর্কযুক্ত ? খাদ্যসংগ্রহ ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শিম্পাঞ্জিরা যেভাবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করে তার উদাহরণ দাও । (২+৩)
অথবা, একটি উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে ডারউইন প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচন পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো । রুই মাছের জলজ অভিযোজনে পটকার ভূমিকা কী কী ? (৩+২)
Ans. (1) উটের RBC নিউক্লিয়াসবিহীন হয় এবং সেই স্থান প্রান্তীয় ব্যান্ড (marginal band) পূর্ণ হয়। এই প্রান্তীয় ব্যান্ড আসলে হল একটি মোটা পট্টি-জাতীয় গঠন যা RBC অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি যথাযথভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে। এগুলি জলবিহীন অবস্থায় RBC থেকে জল নির্গমনে বাধা দেয়। (2) RBC ডিম্বাকৃতি ক্ষুদ্র আকারের হয়,ফলে জলের অভাবে রক্ত ঘন হলেও রক্তবাহতে তার চলাচল সম্ভব হয়। (3) উটের RBC অধিক জলপানের। পরে 240% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণে এদের লোহিত। রক্তকণিকা আকস্মিক অভিস্রবণীয় চাপ সহ্য করতে পারে। তাই দীর্ঘদিন জলপান না করার পর অধিক জলপানেও উটের লোহিত রক্তকণিকা বিদীর্ণ হয় না।
বিবর্তনের ক্ষেত্রে আচরণের গুরত্ব : পরিবেশের কোনো ইঙ্গিতের প্রভাবে যেমন গন্ধ, শব্দ বা দৃষ্টি নিভর কোনো সংকেত দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে অথবা অন্য কোনো জীবের কার্যাবলির দ্বারা উদবুদ্ধ হয়ে জীব স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ত না জাবের কাযাবলির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে জীব স্নায়তন্ত্রের নিয়ন্ত্রণাধীনে বিভিন্ন ধরনের আচরণ সম্পন্ন করে। ওই আচরণ জীবকে পথিবীতে টিকে থাকতে এবং প্রজননে তথা নিজ প্রজাতি সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এই এই আচরণের ফল সুদুরপ্রসারি এবং কালক্রমে তা অভিব্যক্তি ঘটাতে সাহায্য করে। এই কারণে বিবর্তনের ক্ষেত্রে আচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিম্পাঞ্জির অভিযোজনে সহায়ক আচরণগত বৈশিষ্ট্য : অভিযোজনে সহায়ক শিম্পাঞ্জির আচরণগত বৈশিষ্ট্য হল—
(1) ভেষজ ঔষধির ব্যবহার : শিম্পাঞ্জিরা কোনো পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদের পাতা খেতে থাকে। এর ফলে তারা পরজীবীর আক্রমণ থেকে অব্যহতি পায়। অর্থাৎ পরজীবীঘটিত রোগ থেকে মুক্ত হতে পারে। দেখা গেছে, অ্যাসপিলিয়া রডিস-সহ আরও 19টি। ভেষজ গাছের পাতা শিম্পাঞ্জিরা ঔষধি হিসেবে গ্রহণ করে।
(2) উইপোকা শিকার: শিম্পাঞ্জিরা প্রথমে কোনো একটি গাছের ডাল ভেঙে নেয়। তারপর ওই ডালের পাতাগুলি ছিড়ে ফেলে দিয়ে, ডালটিকে উইঢিপির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এরপর তারা আর-একটি সরু ডাল ভেঙে পাতা ছাড়িয়ে নেয় এবং ওই ডালটিকে প্রথমে সৃষ্ট গর্তে প্রবেশ করায়। উইপোকা ওই ডালের প্রবেশ স্থান থেকে বাইরে বের হতে থাকলে শিম্পাঞ্জিরা ওই উইপোকাকে ভক্ষণ করে নিজেদের ক্ষুধা নিবারণ করে।
(3) বাদামের খোলা ভাঙা : শিম্পাঞ্জিরা অনেক সময় মানুষের মতো কাঠের কোনো একটি টুকরোকে হাতুড়ি এবং পাথরের পাটাতনকে নেহাই-এর। মতো ব্যবহার করে বাদামের খোলা ভাঙে। খোলা অপসারিত হলে বাদাম বাইরে বেরিয়ে আসে এবং শিম্পাঞ্জিরা ওই বাদাম সংগ্রহ করে সহজে খেতে পারে।
৪.৫ "মানুষের লাগামছাড়া অনেক কাজই পরিবেশ দূষিত করে" —এর সপক্ষে তিনটি উদাহরণ দিয়ে উক্তিটি সমর্থন করো । পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি ন্যাশনাল পার্ক ও একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের উদাহরণ দাও । (৩+২)
অথবা, নাইট্রোজেন চক্রের ধাপসমূহ একটি পর্যায়চিত্রের সাহায্যে দেখাও । (৫)
Ans. নাইট্রোজেন চক্র: বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা 78.09 ভাগ। এ ছাড়াও মাটির মধ্যে নাইট্রেট, নাইট্রাইট এবং অন্য যৌগ হিসেবে নাইট্রোজেন আবদ্ধ থাকে। প্রকৃতির নাইট্রোজেন চক যে পর্যায়ে হয়, সেগুলি হল—নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ মাটির নাইট্রোজেন জীবদেহে প্রবেশ, জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ এবং নাইট্রোজেনের মুক্তি।
1)নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ: যে পদ্ধতিতে বায়ুর নাইট্রোজেন মাটিতে মেশে এবং নাইট্রোজেনঘটিত যৌগে পরিণত হয়, তাকে নাইট্রোজেন সংযোজন বা স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ বলে। এই স্থিতিকরণ প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে ঘটে থাকে।
এগুলি হল—[i] প্রাকৃতিক আবদ্ধকরণ: বজ্রপাত ও অগ্ন্যুৎপাতের সময়ে বাতাসের নাইট্রোজেন গ্যাস অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) গঠন করে। এই নাইট্রিক অক্সাইড অক্সিজেনের দ্বারা জারিত হয় ও নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO2NO2) গঠন করে। | নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড বৃষ্টির জলে দ্রবীভূত হয়ে নাইট্রাসঅ্যাসিড (HNO2HNO2) ও নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3HNO3) -এ পরিণত হয় এবং তা মাটিতে নেমে আসে।
N2+O2→2NO;2NO+O2⟶2NO2N2+O2→2NO;2NO+O2⟶2NO2
2NO2+H2O⟶HNO2+HNO32NO2+H2O⟶HNO2+HNO3 এই দু-প্রকার অ্যাসিড মাটির ধাতব লবণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইট্রেট যৌগ(পটাশিয়াম নাইট্রেট, ক্যালশিয়াম নাইট্রেট প্রভৃতি) গঠন করে।
[ii]জীবজ আবদ্ধকরণ: [a] বিভিন্নপ্রকার অণুজীব, যেমন— Azootobacter (অ্যাজোটোব্যাকটর), Clostridium (ক্লসট্রিড প্রভৃতি বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেনকে নিজদেহে আবদ্ধ করে। মৃত্যুর পৰে এদের দেহের নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলিকে নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া বলে।
[b] বিভিন্ন প্রকার নীলাভ সবুজ শৈবাল সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেনকে আবদ্ধ করে মাটির নাইট্রোজেন যৌগের পরিমাণ বুদ্ধি করে। যেমন—Anabaena (অ্যানাবিনা), Nostoc (নস্টক) ইত্যাদি।
[c] মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া, যেমন— Rhizobium (রাইজোবিয়াম) ছোলা, মটর প্রভৃতি শিহ্মগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে অর্বুদ (nodule) গঠক করে বসবাস করে এবং বায়ু থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন শোষণ করে নানাপ্রকার নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ উৎপাদন করে।এইসব ব্যাকটেরিয়ার মৃত্যুর পর তাঁদের নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায় ও নাইট্রোজেনের আবদ্ধকরণ ঘটে। [iii] শিল্পজাত আবদ্ধকরণ : কলকানাকানি বিভিন্ন ধরনের নাইট্রোজেন-সল্প সার তৈরি হয়। যেমন হবার
(Haber-Bosch) পদ্ধতিতে 300-100°C তাপমাত্রায় এবং 35-100 MPa চাপে (MPa = মেগাপাসকাল, চাপের মেট্রিক বা SI একক ) N2 ও H2 যুক্ত হয়ে NH3 উৎপন্ন হয়। NH3 ও অন্যান N2 যুক্ত সার প্রয়োগের ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন ঘটে।
N2+3H2300−400∘C35−100MPa=2NH3N2+3H2300−400∘C35−100MPa=2NH3
3) মাটির নাইট্রোজেন জীবদেহে প্রবেশ : উদ্ভিদ, মাটিতে আবদ্ধ নাইট্রোজেনঘটিত বণ শোষণ করে এবং নিজদেহের চাহিদাপূরণ করে। এই নাইট্রোজেন উদ্ভিদ দেহে উদ্ভিজ প্রোটিনরুপে অবস্থান করে। প্রাণীরা খাদ্যের মাধ্যমে তা গ্রহণ করে নিজদেহে প্রবেশ করায় এবং প্রাণীদেহে প্রাণীজ প্রোটিনরুপে অবস্থান করে।
2) জীবদের থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ: জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ ঘটে দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে। এই সম্প্রতি দুটি হল—[1] অ্যামোনিফিকেশন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ এবং প্রাণীর নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ বিভিন্ন বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটিতে নাইটোজেনঘটিত যৌগের পরিমাণ বাড়ায়। এরপর এই যৌগগুলি অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া Bacillus mycoides (ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস) ও Micrococcus (মাইক্রোকাস)-র দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে যে প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয়, তাকে অ্যামোনিফিকেশন বলে। [ii] নাইট্রিফিকেশন: মাটির অ্যামোনিয়া বিভিন্নপ্রকার নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা। বিশ্লিষ্ট হয়ে নাইট্রাইট ও নাইট্রেটে পরিণত হয়, যে প্রক্রিয়ায় তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে। নাইট্রিফিকেশনে অংশগ্রহণকারী ব্যাকটেরিয়াগুলিকে নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া বলে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে অ্যামোনিয়া বা অ্যামোনিয়াম আয়নগুলি মাটিতে Nitrosmonus (নাইট্রোসোমোনাস) নামক ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায়। নাইট্রাইট যৌগে পরিণত হয় (নাইট্রাইটেশন)। তারপর মাটিতে বসবাসকারী Nitrobacter (নাইট্রোব্যাকটর) নামক ব্যাকটেরিয়া। নাইট্রাইট যৌগকে নাইট্রেটে পরিণত করে (নাইট্রেটেশন)।
2NH+4+3O2→4NO−2+2H++2H2O2NH4++3O2→4NO2−+2H++2H2O
2NO−2+O2→2NO−32NO2−+O2→2NO3−
4)নাইট্রোজেনের মুক্তি বা মোচন বা ডিনাইট্রিফিকেশন: যে প্রক্রিয়ায় মৃত্তিকাস্থিত নাইট্রাইট ও নাইট্রেট যৌগ থেকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে, তাকে ডিনাইট্রিফিকেশন বা নাইট্রোজেন মোচন বলে। এতে সাহায্য করে Thiobacillus (থায়োব্যাসিলাস), Pseudomonas (সিউডোমোনাস) ইত্যাদি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া।
NO−3→NO−2→NO+N2O→N2↑NO3−→NO2−→NO+N2O→N2↑
৪.৬ পরিবেশগত কি কি কারণে মানুষের ক্যানসার হতে পারে ? বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা অধিক বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবনের মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের কি কি সমস্যা হতে পারে ? (৩+২)
অথবা, সিংহ সংরক্ষণের জন্য ভারতবর্ষের গির জাতীয় উদ্যানে যে ইন-সিটু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করো । ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে একটি অঞ্চলে কি কি পরিবেশগত সমস্যা ঘটতে পারে ? (২+৩)
Ans. ক্যানসার রোগ সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা : ক্যানসার রোগটি জিন ও পরিবেশগত কারণের সমন্বয়ে ঘটে থাকে। ক্যানসার রোগ সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা নীচে আলোচনা করা হল।
1)কীটনাশক ও আগাছানাশক :
কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্নপ্রকার রাসায়নিক, জৈব-অভঙ্গুর কীটনাশক এবং আগাছানাশক খুব সহজেই মানবদেহে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রবেশ করে ক্যানসার সৃষ্টি করে।।
2) পরিবেশগত অধিবিষ: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে পরিবেশগত অধিবিষের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসূত্র বর্তমান। কারসিনোজেন বা কারসিনোজেনিক পদার্থগুলি। (যেমন—নিকোটিন, টার, কার্বন মনোক্সাইড, বেঞ্জোপাইরিন ,হাইড্রোজেন সায়ানাইড প্রভৃতি) স্বাভাবিক কোশের DNAরস্থায়ী পরিবর্তন ঘটায়। যার ফলে কোশে উপস্থিত জিন অঙ্কজিন রূপান্তরিত হয়ে ক্যানসার সৃষ্টি করে।
3) তামাক সেবন: তামাকে নিকোটিন নামক কারসিনোজেন থাকে। দীর্ঘদিন জর্দা, খৈনি ইত্যাদি সেবন করলে তাতে উপস্থিত তামাক তথা নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে দাঁত, মুখ, জিহ্বা ও গলায় ক্যানসার সৃষ্টি করে।
4) ধূমপান: যারা নিয়মিত ধূমপান করে তাদের দেহে বেঞ্জোপাইরিন, দগ্ধ টার ইত্যাদি কারসিনোজেনিক পদার্থগুলি খুব সহজে প্রবেশ করে এবং ফুসফুসের ক্যানসার ঘটায়।
6) তেজস্ক্রিয় পদার্থ: যে সমস্ত ব্যক্তি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে নিয়মিত কাজ করে থাকে তাদের শরীরে তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্যানসার বেশি দেখা যায়। খনিতে কর্মরত শ্রমিকরা রেডন নামক একপ্রকার তেজস্ক্রিয় গ্যাসের সংস্পর্শ এলে তাদের ফুসফুস ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
6) রাসায়নিক দূষক: বিভিন্ন রাসায়নিক দূষক, যেমন—অ্যাসবেসটস, ক্রোমিয়াম ইত্যাদির গুঁড়ো থেকেও ফুসফুসের ক্যানসার ঘটে। নির্মাণ কর্মী, ঝালাই-এর কাজে নিয়োজিত কর্মী, স্টিল কারখানার কর্মীদের দেহে খুব সহজেই অ্যাসবেসটস, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি দুষক পদার্থ প্রবেশ করে। এর থেকে ফুসফুস ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ে।
(7) প্লাস্টিক দ্রব্য : এ ছাড়া যে সমস্ত কর্মী প্লাস্টিকজাত দ্রব্য উৎপাদনের কারখানায় কাজ করে তাদের মধ্যে যকৃৎ ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি হয়।
সমুদ্রের জলতল বদ্ধি পেলে বাসস্থানের বিনাশ, জলসংকট, মহামারি, চাষের জমি হ্রাস ও জীবিকাসমস্যা দেখা দেবে।
অথবা,
গির জাতীয় উদ্যানে সিংহ সংরক্ষণের প্রচেষ্টাগুলি হল—চোরাশিকার বন্ধ করা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, সিংহ প্রজননে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রভৃতি।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সমস্যা: উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং বিভিন্নপ্রকার সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই অংশে কয়েকটি সমস্যা সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
1) প্রাকৃতিক সম্পদের অতিব্যবহার এবং তার হ্রাস:পৃথিবীতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ অফুরন্ত নয়। মানব জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট দেখা দিয়েছে। অতিব্যবহারের
ফলে পৃথিবীতে ব্যক্তিপিছু প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে।
2) অরণ্য ধ্বংস এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়: জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পস্থাপন, বাসস্থান প্রতিষ্ঠা, বনজ দ্রব্য (যেমন—কাঠ, মধু) আহরণ, কৃষিজমির বিস্তার, গবাদিপশুর চারণভূমি বৃদ্ধি প্রভৃতি নানা কারণে বর্তমানে অরণ্য ধ্বংসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান মানবসংখ্যা ও তাদের নির্বিচার ক্রিয়াকলাপের ফলে মরুভূমির বিস্তার ও দ্বাস্তুতন্ত্রে অন্যান্য উপাদানের ক্ষয়, যেমন— ভূমিক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি প্রভৃতি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন—বন্যা, অনাবৃষ্টি, ঝড় প্রভৃতি ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
3)কৃষিজমি হ্রাস: জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে বাসস্থানের চাহিদা বৃদ্ধি মাওয়ায় মূলত শহরাঞ্চলগুলির প্রান্তভাগে অবস্থিত কৃষিজমি। বাসভূমিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল স্থানে কষিজমি হ্রাসের হার সর্বাধিক। ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
4) মিষ্টি জলের অভাব: পৃথিবীর সমগ্র জলের 1% হল পানযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য। জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধির ফলে কৃষি, শিল্প এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে এই জলের ব্যবহার অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ভৌমজলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
5) বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন:শিল্প, কৃষি ও মানব উন্নয়নের অন্যান্য বিভিন্ন কার্যকলাপে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের ভৌত ও রাসায়নিক অবস্থার পরিবর্তন করে। তাপশক্তি ও পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র বায়ুমণ্ডলের উয়তা বৃদ্ধি করে। ফলস্বরূপ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে।।
6) বায়ু, মাটি এবং জলদূষণ: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে
অতিরিক্ত কলকারখানা স্থাপন, কৃষিজ দ্রব্য উৎপাদন, বনজ সম্পদ আহরণ, ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশন, কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে ক্রমাগত বায়ু, মাটি, জল ইত্যাদি পরিবেশের উপাদানগুলি দূষিত হচ্ছে।
7) জলাভূমি ধ্বংস; অধিক জনসংখ্যার প্রভাবে বাসস্থান নির্মাণ, শিল্পস্থাপন, নগরায়ণ, কৃষিজমির সম্প্রসারণের ঘটনায় সাম্প্রতিক কালে পুকুর, হদ ধ্বংস করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ জীববৈচিত্র্য হ্রাস
পাচ্ছে, স্থানীয় আবহাওয়া পরিবর্তিত হচ্ছে ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
8) খাদ্যসংকট: অত্যধিক। হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হল বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্য উৎপাদন ও তার সঠিক বণ্টন করা কঠিন কাজ। এর পরিণতি হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বহু মানুষ অপুষ্টির শিকার হচ্ছে এবং খাদ্যাভাবে অসংখ্য মানুষ, বিশেষত শিশুর মৃত্যু ঘটছে।
9) সমাজের ওপর প্রভাব : সমাজে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অপরাধ-প্রবণতন। প্রভৃতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে।
Madhyamik Examination 2019
LIFE SCIENCE
বিভাগ ক
১. প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো: ১x১৫ = ১৫
১.১ ট্রপিক চলন সম্পর্কিত নীচের কোন্ বক্তব্যটি সঠিক তা নির্বাচন করো—
(ক) এটি উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত (খ) উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ-অঙ্গের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় (গ) ভলভক্স নামক শ্যাওলায় এই চলন দেখা যায় (ঘ) এটি উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আবিষ্ট বক্ৰচলন
Ans. (ঘ) এটি উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আবিষ্ট বক্ৰচলন
১.২ নীচের বাক্যগুলি পড়ো এবং যে বাক্যটি সঠিক নয় সেটিকে চিহ্নিত করো—
(ক) FSH, LH ও প্রোল্যাকটিন হল বিভিন্ন ধরনের GTH
(খ) অ্যাড্রিনালিন হার্দ উৎপাদ কমায়
(গ) ইনসুলিন কোশপর্দার মাধ্যমে কোশের ভিতরে গ্লুকোজের শোষণে সাহায্য করে
(ঘ) প্রোজেস্টেরন স্ত্রীদেহে প্লাসেন্টা গঠনে সাহায্য করে
Ans. (খ) অ্যাড্রিনালিন হার্দ উৎপাদ কমায়
১.৩ মানবদেহে করোটি স্নায়ুর সংখ্যা সঠিকভাবে নিরূপণ করো—
(ক) ১০ জোড়া (খ) ৩১ জোড়া (গ) ১২ জোড়া (ঘ) ২১ জোড়া
Ans. (গ) ১২ জোড়া
১.8 অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনের সঠিক বৈশিষ্ট্যটি শনাক্ত করো—
(ক) যৌন জননকারী জীবের জনন মাতৃকোশে ঘটে
(খ) এটিকে পরোক্ষ বিভাজন বলা হয়
(গ) ক্রোমোজোম ও বেমত গঠিত হয়।
(ঘ) ক্রোমোজোম ও বেমত গঠিত হয় না
Ans. (ঘ) ক্রোমোজোম ও বেমত গঠিত হয় না
১.৫ মিয়োসিসের তাৎপর্য সংক্রান্ত নীচের কোন্ বক্তব্যটি সঠিক
তা সঠিকভাবে নিরূপণ করো— (ক) দেহের সার্বিক বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটন ঘটায়
(খ) জীবের জনন-অঙ্গের ও ভূণের বৃদ্ধি ঘটায় (গ) বংশগত প্রকরণবাহী হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন করে (ঘ) কোনো কোনো প্রাণীর দেহে কোনো অঙ্গহানি ঘটলে। সেটি পুনরুৎপাদন করে
Ans. (গ) বংশগত প্রকরণবাহী হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন করে
১.6 সঠিক জোড়টি নির্বাচন করো এবং লেখো—
(ক) বহুবিভাজন—হাইড্রা (খ) খণ্ডীভবন—স্পাইরোগাইরা (গ) পুনরুৎপাদন—ফার্ন
(ঘ) কোরকোম—প্ল্যানেরিয়া
Ans. (খ) খণ্ডীভবন—স্পাইরোগাইরা
১.৭ নীচের কোটি প্রকট গুণ তা শনাক্ত করো—
(ক) কাণ্ডের দৈর্ঘ্য—বেঁটে (খ) বীজের আকার—কুঞ্চিত (গ) বীজপত্রের বর্ণ—হলুদ (ঘ) ফুলের বর্ণ—সাদা
Ans. (গ) বীজপত্রের বর্ণ—হলুদ
১.৮ RRYY জিনোটাইপযুক্ত মটর গাছ থেকে কত ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয় তা নির্ধারণ করো— (ক) এক ধরনের (খ) চার ধরনের (গ) দুই ধরনের (ঘ) তিন ধরনের
Ans. (ক) এক ধরনের
১.৯ নীচের কোন্ দুটি জিনোটাইপ মটর গাছের কুঞ্চিত-হলুদ ফিনোটাইপের জন্য দায়ী তা বাছাই করো— (ক) RRYY ও rryy (খ) RRYy ও RrYy (গ) RRyy ও Rryy (ঘ) rrYY ও rrYy
Ans. (ঘ) rrYY ও rrYy
১.১০ নীচের কোনটি আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামকে নির্দেশ করে তা শনাক্ত করো—
(ক) মশার লার্ভা খাওয়ার জন্য গাপ্পি মাছদের মধ্যে সংগ্রাম। (খ) ইঁদুর ধরে খাওয়ার জন্য সাপ ও পাঁচার মধ্যে সংগ্রাম (গ) একই জায়গার ঘাস খাওয়ার জন্য একদল হরিণদের মধ্যে সংগ্রাম (ঘ) হরিণ শিকারের জন্য একটি জঙ্গলের বাঘদের মধ্যে সংগ্রাম।
Ans. (খ) ইঁদুর ধরে খাওয়ার জন্য সাপ ও পাঁচার মধ্যে সংগ্রাম
১.১১ ল্যামার্কের তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দগুচ্ছটি সঠিকভাবে নিরুপণ করো—
(ক) অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম (খ) প্রকরণের উৎপত্তি (গ) অর্জিত গুণের বংশানুসরণ
(ঘ) প্রাকৃতিক নির্বাচন
Ans. (গ) অর্জিত গুণের বংশানুসরণ
১.১২ নীচের কোন্ প্রাণীটি বিশেষ নৃত্যভঙ্গি দ্বারা নিজ দলের অন্য সদস্যদের সাথে খাদ্যের উৎস সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান করে তা শনাক্ত করো—
(ক) শিম্পাঞ্জি (খ) আরশোলা (গ) ময়ূর (ঘ) মৌমাছি
Ans. (ঘ) মৌমাছি
১.১৩ নীচের কোনটি পরিবেশে দীর্ঘসময় থাকলে তার জীববিবর্ধন ঘটার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় তা স্থির করো—
(ক) খবরের কাগজ (খ) জীবজন্তুর মলমূত্র (গ) পচা পাতা (ঘ) ক্লোরিনযুক্ত কীটনাশক
Ans. (ঘ) ক্লোরিনযুক্ত কীটনাশক
১.১৪ নীচের কোন্ সজ্জাটি গোরুমারা, করবেট, কুলিক, নন্দাদেবী—এই চারটি অরণ্যের সঠিক ক্রম নির্দেশ করে তা নির্বাচন করো—
(ক) বায়োস্কিয়ার রিজার্ভ, অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, জাতীয় উদ্যান
(খ) জাতীয় উদ্যান, জাতীয় উদ্যান, বায়োস্কিয়ার রিজার্ভ, অভয়ারণ্য
(গ) জাতীয় উদ্যান, জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার। রিজার্ভ
(ঘ) অভয়ারণ্য, বায়োস্কিয়ার রিজার্ভ, জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য
Ans. (গ) জাতীয় উদ্যান, জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার। রিজার্ভ
১.১৫ বায়ুতে পরাগরেণু, ছত্রাকের রেণু ও ধূলিকণার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে নীচের কোন্ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় তা স্থির করো—
(ক) যক্ষ্মা (খ) অ্যাজমা (গ) ম্যালেরিয়া। (ঘ) ডেঙ্গু
Ans. (খ) অ্যাজমা
বিভাগ-খ
২. নীচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে ২১টি প্রশ্নের উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখো: ১x২১=২১
নীচের বাক্যগুলির শূন্যস্থানগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে-কোনো পাঁচটি): ১x৫ = ৫ ২.১
২.১ ________ হরমোনের প্রভাবে বিপদকালে ত্বকের লোম খাড়া হয়ে যায়।
Ans. অ্যাড্রিনালিন
২.২ ________ অণুর ঘন কুণ্ডলীকৃত গঠনই হল ক্রোমোজোম।
Ans. DNA
২.৩ একই প্রজাতিভুক্ত কিন্তু জিনগতভাবে ভিন্ন দুটি জীবের মধ্যে যৌন জনন পদ্ধতিকে ________ বলে।
Ans. সংকরায়ণ
২.8 জীবন উৎপত্তির আদি পর্যায়ে ________ ছিল কিছু বৃহৎ কোলয়েড অপুর সমন্বয়।
Ans. কোয়াসারভেট
২.৫ সর্পগন্ধা গাছের মূল থেকে ________ পাওয়া যায় যা উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Ans. রেসারপিন
২.৬ নমুনা বীজকে –196°C তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে রেখে এক্স-সিটু সংরক্ষণকে ________ বলে।
Ans. ক্রায়োসংরক্ষণ
নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে-কোনো পাঁচটি): ১x৫ = ৫
২.৭ বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির অত্যধিক পরিমাণ লঘু মূত্র নির্গত হয়।
Ans. সত্য
২.৮ সপুষ্পক উদ্ভিদের স্ত্রী-স্তবক রোমশ ও আঠালো গর্ভদণ্ডের সাহায্যে পরাগরেণু সংগ্রহ করে।
Ans. মিথ্যা
২.৯ মানুষের ডিম্বাণুতে লিঙ্গ নির্ধারক একজোড়া সেক্স ক্রোমোজোম থাকে।
Ans. মিথ্যা
২.১০ ডারউইনের মতে জীব জ্যামিতিক অনুপাতে বংশবৃদ্ধি করে।
Ans. মিথ্যা
২.১১ পশ্চিমবঙ্গের ‘মানস’ জাতীয় উদ্যানে একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণ করা হয়।
Ans. মিথ্যা
২.১২ অ্যাসিটাইল কোলিন ও অ্যাড্রিনালিন হল নিউরোট্রান্সমিটার।
Ans. সত্য
A-স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সঙ্গে B-স্তন্তে দেওয়া সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত শব্দটির সমতা বিধান করে উভয় স্তম্ভের ক্রমিক নং উল্লেখসহ সঠিক জোড়টি পুনরায় লেখো (যে-কোনো পাঁচটি): ১x৫=৫
‘A’-স্তম্ভ
B’-স্তম্ভ
২.১৩ প্রেসবায়োপিয়া
(ক) BbRr
২.১৪ বৃদ্ধির কোশীয় বিভেদন দশা।
(খ) হ্যালডেন
২.১৫ কালো অমসৃণ রোমযুক্ত গিনিপিগের জিনোটাইপ
(গ) নিকটদৃষ্টি ত্রুটিপূর্ণ
২.১৬ হট ডাইলিউট স্যুপ
(ঘ) জলবায়ুর পরিবর্তন ও বিশ্ব উম্নয়ন।
২.১৭ অরণ্য ধবংস ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়
(ঙ) প্রাণীকোশ বিভাজনের সময় বেমত গঠন
২.১৮ সেন্ট্রোজোম
(চ) কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র গঠন।
(ছ) bbrr
Ans. ২.১৩ (গ) ২.১৪ (চ) ২.১৫ (ক) ২.১৬ (খ) ২.১৭ (ঘ) ২.১৮ (ঙ)
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো ছ’টি) ১x৬=৬
২.১৯ বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো—গ্নসোফ্যারিঞ্জিয়াল, অকিউলোমোটর, ট্রাইজেমিনাল, অক্সিটোসিন।
Ans. অক্সিটোসিন
২.২০ অক্ষিগোলকের লেন্স ও রেটিনার অন্তর্বর্তী প্রকোষ্ঠে অবস্থিত তরলটির কাজ কী?
Ans. অক্ষিগোলকের লেন্স ও রেটিনার অন্তর্বর্তী প্রকোষ্ঠে অবস্থিত তরল, অর্থাৎ ভিট্রিয়াস হিউমর-এর কাজ হল—প্রতিসারক
২.২১ নীচের সম্পর্কযুক্ত একটি শব্দ জোড় দেওয়া আছে।
প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও:
জোড়কলম : আম :: — : জবা।
Ans. শাখাকলম
২.২২ কেবলমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় হিমোফিলিয়া রোগের প্রকাশ ঘটার কারণটি কী?
Ans. হিমোফিলিয়া রোগের জিনটি প্রচ্ছন্ন প্রকৃতির হওয়ার জন্য এই রোগটি শুধুমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় প্রকাশিত হয়।
২.২৩ মেন্ডেলের একসংকর জননের পরীক্ষায় প্রাপ্ত দ্বিতীয় অপত্য জনুর জিনোটাইপিক অনুপাতটি লেখো।
Ans. 1: 2: 1
২.২৪ সমসংঘ অঙ্গ কোন্ ধরনের বিবর্তনকে নির্দেশ করে?
Ans. অপসারী বিবর্তন
২.২৫ নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত। সেই বিষয়টি খুঁজে বার করো এবং লেখো:
কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশকের ব্যবহার, টাইফয়েড, জলদূষণ, কারখানা থেকে উৎপন্ন তরল বজ্য।
Ans. জলদূষণ
২.২৬ কোন্ ইন-সিটু সংরক্ষণ ব্যবস্থায় অণুজীব, বন্যপ্রাণী ও বন্য উদ্ভিদসহ মানুষের বৈচিত্র্য, কৃষ্টি ও জীবনযাত্রা সংরক্ষণ করা হয়?
Ans. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
বিভাগ-গ
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর দুই তিন বাক্যে লেখো : ২x১২=২৪
৩.১ দরজায় ঘণ্টা বাজার শব্দ শুনে তুমি যেভাবে দরজা খুলবে, সেই স্নায়বিক পথটি একটি শব্দছকের মাধ্যমে দেখাও।
Ans. শব্দতরঙগ প্রবণ , অন্তঃকর্ণের স্নায়ু উদ্দীপনা। উদ্দীপনা গ্রাহক অঙ্গ। পরিবহণ সাড়াপ্রদান কারক অঙ্গ, সুষুম্নাকাণ্ডের (দরজা খোলা) (হাত-পা-এর পেশি) স্নায়ুকেন্দ্র
৩.২ মেনিনজেস ও CSF-এর অবস্থান বিবৃত করো।
Ans. মেনিনজেসের অবস্থান: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরের দিকে তন্তুময় পর্দারূপে মেনিনজেস অবস্থিত। । CSF-এর অবস্থানঃ CSF বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে, মেনিনজেস-এর সাব-অ্যারানয়েড স্পেস এবং সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালীর ভিতরে অবস্থিত।
৩.৩ উদ্ভিদের বীজ ও পর্বমধ্যের ওপর জিবেরেলিন হরমোন কী কী প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা করো।
Ans. উদ্ভিদের বীজের ওপর জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রভাব:
প্রতিটি বীজের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। বীজের এই দশাকে সুপ্তাবস্থা বলে। জিবেবরেলিন মুকুলের এই সুপ্তাবস্থা দূর করে। বীজের সুপ্তাবস্থায় এর মধ্যে জিব্বেরেলিনের পরিমাণ কম থাকে। অঙ্কুরোদ্গমের আগে বীজে এই হরমোনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এর ফলে বীজমধ্যস্থ উৎসেচকের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়, যা বীজের সুপ্তাবস্থা দূর করে এবং অঙ্কুরোদ্গম ঘটায়।
উদ্ভিদের পর্বমধ্যের ওপর জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রভাব:
জিব্বেরেলিন উদ্ভিদের কাণ্ডের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে সঠিকভাবে কান্ডের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি ঘটায়। এই হরমোন উদ্ভিদের নিবেশিত ভাজক কলাকোশের বিভাজন ঘটায়। ফলে পর্বমধ্য অংশের বৃদ্ধি ঘটে ও উদ্ভিদের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি ঘটে।
৩.8 অক্ষিগোলকের বিভিন্ন প্রতিসারক মাধ্যমগুলির নাম ক্রমানুসারে লেখো।
Ans. চোখে প্রধানত চারটি প্রতিসারক মাধ্যম থাকে। বাইরে থেকে ভিতরের দিকে এগুলি হল কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমর, লেন্স ও ভিট্রিয়াস হিউমর।
৩.৫ মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস ও ক্রোমাটিডের মধ্যে খন্ড বিনিময় ঘটে—এই ঘটনা দুটির তাৎপর্য কী কী তা বিশ্লেষণ করো।
Ans. ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাসের গুরুত্ব: মিয়োসিস কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে জননকোশে, অর্থাৎ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধুবক (n) হয়। শুক্রাণু (n) ও ডিম্বাণু (n)-এর নিষেকের ফলে জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনরায় 2n বা ডিপ্লয়েড হয়ে যায়। অর্থাৎ মিয়োসিসে ক্রোমোজোম হ্রাসকরণ বা হ্যাপ্লয়েড হয়ে যাওয়ার জন্য জীবের জীবনচক্রে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ধুবক থাকে।
ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ড বিনিময়ের গুরুত্ব: ক্রসিং ওভারের ফলে নতুন জিনগত পুনর্বিন্যাস ঘটে। এর ফলে প্রকরণ সৃষ্টি হয়। ক্রসিং ওভার প্রমাণ করে যে, ক্রোমোজোমে জিন (তথা অ্যালিল)-গুলি সরলরৈখিকভাবে অবস্থান করে।
৩.৬ অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পার্থক্য নিরূপণ করো: জনিতৃ জীবের সংখ্যা, অপত্য জনুর প্রকৃতি।
Ans.
বিষয়
অযৌন জনন
যৌন জনন
1. জনিতৃ জীবের সংখ্যা
একটি।
একটি বা দুটি।
2. অপত্য জনুর প্রকৃতি
কোনো প্রকার প্রকরণ ঘটে না বলে তা জনিতৃ জনুর অনুরূপ হয়।
প্রকরণ সৃষ্টি হয় বলে অপত্য জনুর মধ্যে যথেষ্ট বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।
৩.৭ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ক্যারিওকাইনেসিসের দশাগুলি শনাক্ত করো:
ক্রোমোজোমগুলির কোশের বিষুব অঞ্চল বরাবর অবস্থান ও নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জা, বেমতন্তুর বিলুপ্তি, নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি, অপত্য ক্রোমোজোমের কোশের বিপরীত মেরুতে গমন।
Ans.
বৈশিষ্ট্য
ক্যারিওকাইনেসিসের দশা।
ক্রোমোজোমগুলির কোশের বিষুব অঞ্চল বরাবর অবস্থান ও নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জা
মেটাফেজ দশা
বেমতন্তুর বিলুপ্তি
টেলোফেজ দশা
নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি
প্রোফেজ দশা
অপত্য ক্রোমোজোমের কোশের বিপরীত মেরুতে গমন
অ্যানাফেজ দশা
৩.৮ মটর গাছের ক্ষেত্রে পৃথকীভবন সূত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য তোমাকে বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করতে বলা হল। এরকম বিপরীত গুণসহ দুটি বৈশিষ্ট্যের নাম লেখো।
Ans. দৈর্ঘ্য বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে লম্বা ও বেঁটে এবং ফুলের রং সাপেক্ষে বেগুনি ও সাদা হল দুটি বিপরীতধর্মী গুণ।
৩.৯ একজন বর্ণান্ধ রোগের বাহক মহিলা, একজন বর্ণান্ধ পুরুষকে বিবাহ করল। তাদের একটি কন্যাসন্তান হল। এই কন্যাসন্তানটির বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা তা বিশ্লেষণ করে লেখো।
Ans. বর্ণান্ধতা একটি X ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ বর্ণান্ধতা রোগের বাহক মহিলার সঙ্গে বর্ণান্ধ পুরুষের বিবাহ হলে তাদের পুত্র-কন্যাদের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা চেকার-বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হল।
অর্থাৎ, এই দম্পতির কন্যাসন্তানের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা 50%।
৩.১০ মানুষের জনগোষ্ঠীতে প্রকাশিত হয় এমন দুটি জিনগত রোগের নাম লেখো।
Ans. মানুষের জনগোষ্ঠীতে প্রকাশিত হয় এমন দুটি জিনগত রোগের নাম হল- থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়া
৩.১১ ‘বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথচ হরিণ প্রচুর আছে এমন একটি জঙ্গলে অন্য অভয়ারণ্য থেকে এনে কয়েকটি বাঘ ছাড়া হল। - বেঁচে থাকতে গিয়ে ওই বাঘদের যে যে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হবে তা ভেবে লেখো।
Ans. বাঘেদের যে যে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হবে, সেগুলি হল—[i] পরিবেশগত সংগ্রাম—প্রথমত, অন্য অভয়ারণ্য থেকে আনা বাঘগুলির নতুন বসতি অঞ্চলে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে। দ্বিতীয়ত, হরিণ বেশি থাকায় বনে ঘাস-পাতা-ঝোপের মাত্রা হ্রাস পাবে। বাঘের লুকিয়ে থাকার জায়গার অভাব হবে। [ii] আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—হরিণ শিকারের জন্য বাঘগুলিকে আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামের সম্মুখীন হতে হবে এবং অপেক্ষাকৃত বেশি পরিশ্রম করতে হবে। [iii] অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—একই অঞ্চলে নতুন ও পুরোনো বাঘগুলির মধ্যে এলাকা দখল ও প্রজননের জন্য অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম হবে।
৩.১২ লবণ সহনের জন্য সুন্দরী গাছের যে-কোনো দুটি অভিযোজন বর্ণনা করো।
Ans. লবণ সহনের জন্য সুন্দরী গাছের দুটি অভিযোজন হল—
[i] কাঘ্নে অভিযোজন: কান্ডের শাখা-প্রশাখার বিভিন্ন অঙ্গের কোশে অবস্থিত ভ্যাকুওলের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ এরা সঞ্চিত করে রাখে। দেহে লবণ সঞ্চয়ের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হলে এরা বাকল মোচনের মাধ্যমেও অতিরিক্ত লবণ নির্গত করে থাকে।
[ii] পাতার অভিযোজন: জলশোষণের মাধ্যমে গৃহীত অতিরিক্ত লবণ পাতায় অবস্থিত লবণ গ্রন্থির মাধ্যমে নির্গত হয়ে থাকে। অনেক সময়ে উদ্ভিদ পাতায় সঞ্চিত অতিরিক্ত লবণকে পত্রমোচনের সাহায্যে রেচিত করে থাকে।
৩.১৩ শিম্পাঞ্জিরা খাবার জন্য কীভাবে উইপোকা শিকার করে তা ব্যাখ্যা করো।
Ans. শিম্পাঞ্জিরা প্রথমে কোনো একটি গাছের ডাল ভেঙে নেয়। তারপর ওই ডালের পাতাগুলি ছিড়ে ফেলে দিয়ে, ডালটিকে উইটিপির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এরপর তারা আর-একটি সরু ডাল ভেঙে পাতা ছাড়িয়ে ওই ডাল দ্বারা সৃষ্ট গর্তে প্রবেশ করায়। উইপোকারা ওই সরু জালটিরগা বেয়ে সারিবদ্ধভাবে ঢিপির থেকে বাইরে বের হতে থাকলে শিম্পাঞ্জিরা ওই উইপোকাগুলিকে খাদ্য হিসেবে খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করে।
৩.১৪ নিম্নলিখিত দূষকগুলির ক্ষতিকারক প্রভাব তালিকাভুক্ত করো— গ্রিনহাউস গ্যাস, SPM, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, অভঙ্গুর রাসায়নিক কীটনাশক।
Ans.
দূষক
প্রভাব
গ্রিনহাউস গ্যাস
বিশ্ব উম্নয়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং
SPM
মানুষের শরীরে শ্বাসতন্ত্রে জ্বালা ও শ্বাসকষ্ট
কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার
ইউট্রোফিকেশন ও জৈবসঞ্চয়ন
অভঙ্গুর রাসায়নিক কীটনাশক
জৈবসঞ্চয়ন ও জীববিবর্ধন
৩.১৫ জলজ ও থলজ বাস্তুতন্ত্রে অবস্থিত স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে এমন একটি করে বহিরাগত প্রজাতির উদাহরণ দাও।
Ans. জলজ বাস্তুতন্ত্রে অবস্থিত স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে এমন বহিরাগত প্রজাতি হল কচুরিপানা। স্থলজ বাস্তুতন্ত্রে অবস্থিত স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে এমন বহিরাগত প্রজাতি হল আমেরিকান আরশোলা।
৩.১৬ একটি বিপন্ন সরীসৃপ প্রজাতির সংরক্ষণের জন্য ইন-সিটু সংরক্ষণ ব্যবস্থাগুলি লেখো এবং পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এরকম একটি সংরক্ষণ স্থানের নাম লেখো।
Ans. একটি বিপন্ন সরীসৃপ প্রজাতি হল কুমির। কুমিরের ইন-সিটু সংরক্ষণ ব্যবস্থাগুলি হল—[i] কুমির প্রজননের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি ও তার পরিচালন। [ii] ক্যাপটিভ ব্রিডিং দ্বারা অভয়ারণ্যে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি ও প্রজননে সাহায্য করা। [iii] চোরা পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি সংরক্ষণ স্থান হল—ভগবতপুর কুমির প্রকল্প, সুন্দরবন।
৩.১৭ “চোরাশিকার ভারতের প্রাণীবৈচিত্র্যের বিপন্নতার একটি প্রধান কারণ”—যে যে কারণে এই চোরাশিকার ঘটে তার চারটি কারণ নির্ধারণ করো।
Ans. চোরাশিকারের কারণ—[i] কয়েকটি পশুর দেহজ উপাদান নান্দনিক উপাদানরূপে গৃহসজ্জায় ব্যবহার করা হয়, যেমন— লাল পান্ডার ঝালর ল্যাজ, বাঘের চামড়া, চন্দন কাঠ ইত্যাদি। [ii] বিভিন্ন পশুর দেহজ উপাদান আয়ুর্বেদিক ওষুধের অনুপান হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমন—বাঘের হাড়। [iii] বস্তু প্রাণীর দেহাংশ (যেমন—চামড়া, হাড়, শিং, খড়গ প্রভৃতি) বিক্রির মাধ্যমে অনেক অর্থ বেআইনি পথে উপার্জন করার সুযোগ থাকে। [iv] অনেক প্রাণীর মাংস খাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়, যেমন—হরিণ, কচ্ছপ।
বিভাগ ঘ
৪. নীচের ছয়টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো: ৫x৬=৩০
৪.১ একটি আদর্শ নিউরোনের পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো— (ক) ড্রেনড্রন।(খ) র্যানভিয়ার-এর পর্ব (গ) মায়োলিন সিদু (ঘ) সোয়ান কোশ। ৩+২=৫
অথবা প্রাণীকোশের মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশার পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো: ৩+২=৫
(ক) মেরু অঞ্চল (খ) বেমতন্তু। (গ) ক্রোমাটিড। (ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার
8.২ কোনো জীবের জন্য প্রজনন গুরুত্বপূর্ণ কেন? “মিয়োসিস বৈশিষ্ট্যগতভাবে মাইটোসিস থেকে পৃথক”—তুমি কীভাবে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করবে? ২+৩=৫
অথবা উপযুক্ত উদাহরণসহ অযৌন জননের পাঁচটি পদ্ধতি বর্ণনা করো।
Ans. প্রজননের গুরুত্ব: জীবজগতে প্রজননের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্বগুলি নিম্নরূপ।
[i] অস্তিত্ব রক্ষা করা: প্রজননের সাহায্যে জীব নতুন অপত্য সৃষ্টি করে ফলে, তার নিজ প্রজাতির সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় থাকে।
[ii] বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতা অটুট রাখা: প্রজননের ফলে নতুন অপত্য জীব সৃষ্ট হয়। এর ফলে জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
[iii] জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষা: জীবের মৃত্যুর ফলে জীবের সংখ্যার হ্রাস ঘটে। প্রজননের ফলে নতুন জীব সৃষ্টির মাধ্যমে মৃত্যুজনিত সংখ্যাহ্রাস পূরণ হয়। এর ফলে পৃথিবীতে জীবের ভারসাম্য তথা বাস্তুতান্ত্রিক সাম্য বজায় থাকে।
[iv] জীব অভিব্যক্তি: যৌন জননের দ্বারা জীবদেহে মিউটেশন বা পরিব্যক্তি ঘটে। আবার, মিউটেশনের ফলে জীবদেহের মধ্যে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য বা ভেদ বা প্রকরণের উদ্ভব হয়। প্রকরণ জীবের অভিযোজন ও অভিব্যক্তিতে সহায়তা করে।
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য
বিষয়
মাইটোসিস
মিয়োসিস
1. সম্পাদনের স্থান
দেহকোশ এবং সাধারণ সংখ্যা বৃদ্ধির সময়ে জনন কোশে মাইটোসিস ঘটে।
জনন মাতৃকোশ থেকে জননকোশ বা গ্যামেট সৃষ্টির সময় ঘটে।
2. অপত্য কোশের প্রকৃতি
একটি জনিতৃকোণ থেকে একবার বিভাজন দ্বারা দুটি অপত্য কোণ উৎপন্ন হয়।
জনিতৃকোশ থেকে দু বার বিভাজন দ্বারা চারটি অপত্য কোণ সৃষ্টি হয়।
3. ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি
এটি সমবিভাজন, অর্থাৎ উৎপন্ন অপত্য কোশ দুটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা জনিতৃ কোশের সমান (2n) থাকে।
এটি হ্রাসবিভাজন, অর্থাৎ উৎপন্ন চারটি অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের অর্ধেক হয়ে যায় (2n)।
অথবা,
অযৌন জননের বিভিন্ন পদ্ধতি: জীবদেহে যেসব অযৌন জনন পদ্ধতি দেখা যায়, সেগুলি হল—
[i] বিভাজন: অধিকাংশ এককোষী জীবে মাইটোসিস বা অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজন পদ্ধতির দ্বারা দুটি (দ্বিবিভাজন) বা দুইয়ের অধিক (বহুবিভাজন) নতুন অপত্য সৃষ্টি করার পদ্ধতিকে বিভাজন বলে নীচে বিভাজন পদ্ধতির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।
(1) অ্যামিবা: [a] দ্বিবিভাজন-অনুকূল পরিবেশে অ্যামিবা-র নিউক্লিয়াসটি অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে দ্বিবিভাজিত হয়। এর সাইটোপ্লাজম বিভাজনরত নিউক্লিয়াসের লম্বতলে (90) খাঁজ (furrow) সৃষ্টি করে বিভাজিত হয় ও দুটি অপত্য সৃষ্টি করে।
[b] বহুবিভাজন- প্রিতিকূল পরিবেশ অ্যামিবা-র ক্ষণপদ বিনষ্ট হয় ও সিস্ট প্রাচীর (cyst wall) দ্বারা আবদ্ধ হয়। সিস্টের মধ্যে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের বহুবিভাজন দ্বারা অসংখ্য ক্ষুদ্র স্পোর তৈরি হয়। এইপ্রকার বহুবিভাজনকে স্পোরুলেশন বলে। পরিবেশ অনুকূল হলে সিস্ট প্রাচীর বিদীর্ণ করে স্পোরগুলি মুক্ত হয় ও নতুন অ্যামিবা সৃষ্টি করে।
(2) প্লাসমোডিয়াম: এক্ষেত্রে বহুবিভাজন দুটি দশায় ঘটে সাইজন্ট এবং স্পোরন্ট। সাইজন্ট এবং স্পোরন্ট দশায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার পাকস্থলীতে যথাক্রমে সাইজোগনি ও স্পোরোগনি নামক বহুবিভাজন দ্বারা অসংখ্য অপত্য প্লাসমোডিয়াম তৈরি হয়। সাইজোগনি এবং স্পোরোগনি দ্বারা সৃষ্ট অপত্য প্লাসমোডিয়াম-দের যথাক্রমে মেরোজয়েট ও স্পোরোজয়েট বলে।
[ii] কোরকোদগম: যে বিশেষ ধরনের অযৌন জনন পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবদেহের কোনো প্রবর্ধিত দেহাংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিচ্যুত হয়ে অপত্য জীবদেহ সৃষ্টি করে তাকে কোরকোদগম বা বাডিং বলে। নীচে কোরকোৰ্গম পদ্ধতির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।
(1) ঈস্ট : ঈস্ট মাতৃকোশের অসমান বিভাজনের ফলে ক্ষুদ্র প্রবর্ধকের মতো কোরক সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে জনিতৃ নিউক্লিয়াস দশায় ঈস্টের কোরকটি টরুলেশন পদ্ধতিতে বার বার বিভাজিত হয়ে ছদ্ম মাইসেলিয়াম গঠন করে।
(2) হাইড্রা: হাইড্রার কোরক জনিতৃর দেহের বাইরে সৃষ্টি হয় (এক্সোজেনাস বাড)।
প্রথমে প্রবর্ধকরূপে সৃষ্টি হওয়ার পর অপত্য হাইড্রার মুখছিদ্র, কর্ষিকা প্রভৃতির গঠন সম্পূর্ণ হয় এবং
সেটি মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।
[iii] খণ্ডীভবন: যে অযৌন জনন পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবের দেহ দুই বা ততোধিক খন্ডে ভেঙে যায় ও প্রতিটি খন্ড অপত্যের সৃষ্টি করে, তাকে খণ্ডীভবন বলে। উদাহরণস্পাইরোগাইরা নামক শৈবালের সূত্রাকার দেহটি জলস্রোতের প্রভাবে বা আঘাতজনিত কারণে খণ্ডিত হয়ে যায়। প্রতিটি দেহাংশ মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতি দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে নতুন অপত্য জীব সৃষ্টি করে।
[iv] পুনরুৎপাদন: যে অযৌন জনন পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবের সামান্য দেহাংশ সম্পূর্ণ নতুন জীব সৃষ্টি করে, তাকে পুনরুৎপাদন বলে। এইপ্রকার অযৌন জনন পদ্ধতিকে মরফাল্যাক্সিস বলে। (পক্ষান্তরে, দেহের সামান্য অংশ বিচ্ছিন্ন হলে সেই হারানো দেহাংশ পুনঃস্থাপনকে বলে এপিমরফোসিস)। উদাহরণ— প্ল্যানেরিয়া নামক চ্যাপটা কৃমির কোমদেহের যে-কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন হলে, প্রতিটি বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে নতুন অপত্যের সৃষ্টি হয়৷ প্ল্যানেরিয়া ছাড়া স্পঞ্জ, হাইড্রা-তেও পুনরুৎপাদন দেখা যায়।
[v] রেণু উৎপাদন: যে অযৌন জনন পদ্ধতিতে মস, ফার্ন ও ছত্রাকদেহে সৃষ্ট এককোশী রেণু জনিতৃ দেহ থেকে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন অপত্য সৃষ্টি করে, তাকে রেণু উৎপাদন বা স্পোরুলেশন বলে। নীচে রেণু উৎপাদন পদ্ধতির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।
(1) ছত্রাক: ছত্রাকে বিভিন্নরকম গঠনের এবং গমন ক্ষমতাযুক্ত বা গমন ক্ষমতাবিহীন রেণু দেখা যায়, যা উপযুক্ত পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে অপত্য ছত্রাক গঠন করে। বিভিন্ন ধরনের রেণুগুলি হল—চলন ক্ষমতাযুক্ত জুস্পোর, চলন ক্ষমতাবিহীন অ্যাপ্লানোস্পোর, পুরু প্রাচীরযুক্ত ক্ল্যামাইডোস্পোর, অনুসূত্র খণ্ডীভবনের দ্বারা সৃষ্ট ওইডিয়া ও কনিডিয়া, স্পোরানজিয়ামে উৎপন্ন স্পোরানজিওস্পোর৷ (2) মস ও ফার্ন: মসের রেণুধর উদ্ভিদের রেণুধর কলা থেকে রেণুর সৃষ্টি হয়। ফার্নের রেণুধর উদ্ভিদের রেণুস্থলীতে সমআকৃতির রেণু বা বিষম আকৃতির রেণু উৎপন্ন হয়।
8.৩ একটি বিশুদ্ধ কালো (BB) ও অমসৃণ লোমযুক্ত (RR) গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা (bb) ও মসৃণ লোমযুক্ত (rr) গিনিপিগের মধ্যে সংকরায়ণের ফলাফল F, জনু পর্যন্ত চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও। এই সংকরায়ণ থেকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় তা বিবৃত করো। ৩+২=৫
অথবা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কোনো শিশুর দেহে কী কী লক্ষণ প্রকাশিত হয়? সেইক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর সময় কী পরামর্শ দেওয়া হয়? ৩+২=৫
Ans. বিশুদ্ধ কালো ও অমসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগ (BBRR)-এর সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা ও মসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগ (bbrr)-এর সংকরায়ণের ফলাফল F, জনু পর্যন্ত চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হল।
F, জনুর চেকার বোর্ড
BR
Br
bR
br
BR
BBRR
(কালো অমসৃণ লোম)
BBRr
(কালো অমসৃণ লোম)
BbRR
(কালো অমসৃণ লোম)
BrRr
(কালো অমসৃণ লোম)
Br
BBRr
(কালো-অমসৃণ লোম)
BBrr
(কালো-মসৃণ লোম)
BbRr
(কালো-অমসৃণ লোম)
Bbrr
(কালো-মসৃণ লোম)
bR
BbRR
(কালো-অমসৃণ লোম)
BbRr
(কালো-অমসৃণ লোম)
bbRR
(সাদা-অমসৃণ লোম)
bbRr
(সাদা-অমসৃণ লোম)
Br
BbRr
(কালো-অমসৃণ লোম)
Bbrr
(কালো-মসৃণ লোম)
bbRr
(সাদা-অমসৃণ লোম)
Bbrr
(সাদা-মসৃণ লোম)
F, জনুতে প্রাপ্ত গিনিপিগের বৈশিষ্ট্য
ফিনোটাইপ
জিনোটাইপ
জিনোটাইপিক অনুপাত
ফিনোটাইপিক অনুপাত
কালো-অমসৃণ
লোম
BBRR
1
9
BBRr
2
BbRR
2
BbRr
4
কালো-মসৃণ লোম
BBrr
1
3
Bbrr
2
সাদা-অমসৃণ লোম
bbRR
1
3
bbRr
2
সাদামসৃণ লোম
Bbrr
1
1
সিদ্ধান্ত : দুই বা তার বেশি বিপরীতধর্মী যুগ্ম বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি জনিতৃ থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হলেও তারা মিশ্রিত হয় না বরং অপত্যের জননকোশ তৈরির সময়ে এরা পরস্পর
জননকোশে সঞ্চারিত হয়। এটিই মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র।
থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ : [i] হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে তীব্র অ্যানিমিয়া সৃষ্টি হয়। [ii] রোগীর দেহে বারবার রক্ত সঞ্চারণের প্রয়োজন হয় বলে দেহের বিভিন্ন অংশে লৌহ সঞ্চিত হয়, যার ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেমন—হৃৎপিন্ড, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, যকৃৎ, প্লিহা প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। [iii] অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় বলে হাড়ের গঠন-বিকৃতি ঘটে এবং রোগীর মুখ ও মাথার খুলির হাড়ের গঠন অস্বাভাবিক হয়। [iv] যকৃৎ ও প্লিহার বৃদ্ধি ঘটে। এদের যথাক্রমে হেপাটোমেগালি ও স্পিনোমেগালি বলা হয়। [v] এ ছাড়া, এই রোগে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং জনডিস, ক্লান্তি প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ অনুসারে মানুষের দেহে রোগের তীব্রতা ও লক্ষণগুলি আলাদা হয়। ।
থ্যালাসেমিয়া ও জেনেটিক কাউন্সেলিং: [i] বাবা ও মা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে অপত্যের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জেনেটিক কাউন্সেলর সেক্ষেত্রে ভুণের থ্যালাসেমিয়া রোগটি সৃষ্টি হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করেন এবং প্রয়োজনে ভ্ৰণ বিনষ্ট করে নতুন গর্ভাধানের ব্যাপারে পরামর্শ দেন। [ii] বিবাহ পূর্বে দুইজন পার্টনারই বাহক নির্ণীত হলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে তা ব্যাখ্যা করা হয়। সম্ভব হলে এই বিবাহ এড়িয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। [iii] যে-কোনো একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক হলে শিশু রোগটির বাহক হতে পারে সেই সম্বন্ধে বাবা-মাকে সচেতন করা হয়। শিশুটির জিনগত অবস্থাও জেনেটিক কাউন্সেলর জন্মের পর নির্ধারণ করানোর পরামর্শ দান করেন। এর ফলে ভবিষ্যতে শিশুটির পরিবার পরিকল্পনায় তা সাহায্য করে।
[iv] থ্যালাসেমিয়া বাহক মাতা গর্ভাবস্থায় অনেক সময় অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় ভোগেন। জেনেটিক কাউন্সেলার সে বিষয়টি তার পরিবারের কাছে তুলে ধরেন।
8.8 জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা মিলার ও উরের পরীক্ষার সাহায্যে বর্ণনা করো।
অথবা ল্যামার্কের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত তত্ত্বের প্রতিপাদ্যের প্রধান দুটি বিষয় বর্ণনা করো। হৃৎপিন্ডের তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান কীভাবে অভিব্যক্তি মতবাদের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে? ২+৩=৫
Ans. জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সম্পর্কিত ওপারিন ও হ্যালডেনের মতবাদের সপক্ষে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করেছিলেন। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম ভলক্যানিক তড়িৎবীক্ষণ পরীক্ষা (Volcanic spark discharge experiment)-টি করেন চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলার এবং হ্যারল্ড উরে (1952)।
[i] পরীক্ষা ব্যবস্থা: এই পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীদ্বয় একটি বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেন। প্রাচীন পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য উপকরণ নেন। তাদের তৈরি যন্ত্রটিতে দুটি ফ্লাস্ক বর্তমান। এর মধ্যে বড়ো
ফ্লাস্ক (5L)-টিতে মিথেন, অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন গ্যস মিশ্রণ 2:2:1 আয়তন অনুপাতে নেওয়া হয়; ছোটো ফ্লাস্ক (500 ml) টিতে জল রাখা হয়। বার্নারের সাহায্যে জল ফোটানো হয়। ফ্লাস্ক দুটি পরস্পর একটি কাচের টিউব দ্বারা যুক্ত থাকে, যার মাধ্যমে ছোটো ফ্লাস্কের ফুটন্ত জল থেকে জলীয় বাষ্প বড়ো ফ্লাস্কে প্রবেশ করে। বড়ো ফ্লাস্কটিতে টাংস্টেন-নির্মিত তড়িদ্বার দ্বারা 75,000 ভোল্টের উচ্চ তড়িৎমোক্ষণ করা হয় (প্রাচীন পৃথিবীর বজ্রপাতের মতো)। গ্যাস মিশ্রণটি এরপর বড়ো ফ্লাস্ক থেকে নির্গত হলে তাকে একটি নলের মধ্যে দিয়ে চালনা করা হয়। এরপর ঠান্ডা জলপ্রবাহ দ্বারা মিশ্রণটিকে ঘনীভূত করে সংগ্রহ করা হয়। সমগ্র ব্যবস্থাপনাটি এক সপ্তাহ ধরে চালনা করা হয়।
[ii] পর্যবেক্ষণ: পরীক্ষায় প্রাপ্ত রাসায়নিক পদার্থগুলির বিশ্লেষণের
দ্বারা তাঁরা 5টি অ্যামিনো অ্যাসিড পান। এগুলি হল গ্লাইসিন, আলফা অ্যালানিন, বিটা অ্যালানিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড ও আলফা অ্যামিনোবিউটাইরিক অ্যাসিড। পরবর্তী সময়কালে মিলার-এর ছাত্র জেরি বাড়া ও অন্যান্যরা (2008) প্রায় 20টি অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য জৈব অ্যাসিড ওই পরীক্ষাব্যবস্থা থেকে আবিষ্কার করেন।
[iii] সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাচীন পৃথিবীতে অক্সিজেনবিহীন বিজারক পরিবেশে বজ্রপাত, অতিবেগুনি রশ্মি বা অগ্ন্যুৎপাতের তাপশক্তির উপস্থিতিতে জলীয় বাষ্প, মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন প্রভৃতির বিক্রিয়ার ফলে জটিল যৌগের সৃষ্টি হয়। এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত অ্যামিনো অ্যাসিড জীবের কোণে পাওয়া যায়। এগুলি জীবদেহ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
[iv] মিলার-উরে-র পরীক্ষার গুরুত্ব: মিলার ও উরের পরীক্ষা অ্যাবায়োজেনেসিস তত্ত্বকে সমর্থন করে এই তত্ত্ব অনুযায়ী প্রায় 3.7 বিলিয়ন বছর আগে অজৈব উপাদান থেকে প্রাণ সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের পরীক্ষা হ্যালডেন-ওপারিন তত্ত্বকেও সমর্থন করে।
[v] মিলার-উরে পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা : (1) অ্যামিনো অ্যাসিড অজৈব উপাদান থেকে তৈরি হলেও তারা কীভাবে সমন্বিত হয়ে জীবন তৈরি করে তার ব্যাখ্যা পরীক্ষাটি দিতে পারেনি৷ (2) বর্তমানে বহু বিজ্ঞানী মনে করেন যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে প্রাচীন পরিবেশে C0, যথেষ্ট মাত্রায় ছিল। সেক্ষেত্রে পরীক্ষালব্ধ অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি নাও পাওয়া যেতে পারত।
অথবা,
ল্যামার্কের অভিব্যক্তিসংক্রান্ত তত্ত্বের প্রতিপাদ্যের প্রধান দুটি বিষয় নীচে বর্ণনা করা হল।
[i] ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র : ল্যামার্কের মতে, জীবদেহের কোনো অঙ্গ ক্রমাগত ব্যবহৃত হতে থাকলে অঙ্গটি শক্তিশালী, সবল ও সুগঠিত হয়, পক্ষান্তরে জীবদেহের কোনো অঙ্গ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে সেটি ক্রমশ দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় হয় ও অবশেষে অবলুপ্ত হয়ে যায়।
ব্যবহারের সপক্ষে উদাহরণ : বহুকাল আগে জিরাফের গলা ছোটো ছিল। কিন্তু কালক্রমে উঁচু গাছের পাতা খাদ্যরূপে গ্রহণের চেষ্টায় গলাটি ক্রমশ লম্বা হয়ে গেছে। এটি ব্যবহারের সপক্ষে প্রমাণ দেয়।
অব্যবহারের সপক্ষে উদাহরণ : মানুষের পূর্বপুরুষের ল্যাজ ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে আজ নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কক্সিসে পরিণত হয়েছে। অতীতে উটপাখির ডানা সক্রিয় থাকলেও বংশপরম্পরায় অব্যবহারের ফলে তা নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে। এগুলি অব্যবহারের সপক্ষে যুক্তি দেয়।
[ii] অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ: ল্যামার্ক এই সূত্রে বলেন— আপন প্রচেষ্টায় জীবদ্দশায় যেসব বৈশিষ্ট্য জীব অর্জন করে, সেইসব বৈশিষ্ট্য পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে, অর্থাৎ এক জনু থেকে অপর জনুতে সঙ্কুরিত হয়। এককথায়, জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে। যেমন—বহুকাল আগে জিরাফের গলা ছোটো ছিল। কিন্তু কালক্রমে উঁচু গাছের পাতা আহরণের চেষ্টায় তা ক্রমশ লম্বা হয়েছে। এই লম্বা গলার বৈশিষ্ট্যটি বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে আজকের লম্বা গলাযুক্ত জিরাফের আবির্ভাব হয়েছে। হৎপিণ্ডের তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান: মাছ, উভচর, সরীসৃপ। ও স্তন্যপায়ী প্রভৃতি বিভিন্ন মেরুদণ্ডী শ্রেণির প্রাণীগুলির ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের গঠনগত জটিলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। যথা—
(1) মাছের হৃৎপিণ্ডে দুটি প্রকোষ্ঠ- একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় বর্তমান| মাছের হৃৎপিন্ডের মধ্যে দিয়ে কেবলমাত্র কম অক্সিজেনযুক্ত রক্ত (বা অধিক কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত) প্রবাহিত হয়। এদের হৃৎপিন্ডে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত রক্তের মিশ্রণ ঘটে। (2) উভচর শ্রেণির প্রাণীর হৃৎপিণ্ডে তিনটি প্রকোষ্ঠ থাকে। এগুলি হল দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়। ব্যাঙের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র নিয়ে অধিক অক্সিজেন-যুক্ত ও কম অক্সিজেনযুক্ত রক্তের সামান্য মিশ্রণ ঘটে। অর্থাৎ, এটি তুলনামূলকভাবে উন্নত হৃৎপিন্ড। (3) সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণীর হৃৎপিন্ডে আরও উন্নতি দেখা যায় (ব্যতিক্ৰম কুমির)। এদের হৃৎপিণ্ডে অসম্পূর্ণ চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে, এগুলি হল দুটি অলিন্দ ও অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত দুটি নিলয়। নিলয়ে অসম্পূর্ণ প্রাচীর থাকে বলে অধিক অক্সিজেন-যুক্ত এবং কম অক্সিজেনযুক্ত রক্তের মিশ্রণ কম হয়। (4)পাখি ও স্তন্যপায়ীদের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হয়। ফলে এদের হৃৎপিন্ডে অধিক অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ও কম অক্সিজেনযুক্ত রক্ত একেবারেই মিশতে পারে না। অর্থাৎ, এদের হৃৎপিণ্ড সবচেয়ে উন্নত।
অভিব্যক্তি মতবাদের সপক্ষে প্রমাণ
(1) এই সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীগুলির হৃৎপিন্ডের মৌলিক গঠন এক, যদিও তা ক্রমশ জটিল হয়েছে। অর্থাৎ, একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তনের পথে ক্রমশ জটিল জীবগুলির উৎপত্তি ঘটেছে।
(2) মাছ, উভচর, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলি অভিব্যক্তির পথে মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি বিশেষ। (3) হৃৎপিন্ডের গঠনগত ও কার্যগত বিকাশ অনুযায়ী পৃথিবীতে এদের আগমন ক্রম বোঝা যায়। অর্থাৎ, এদের আগমনের ক্রম হল—
মাছ ⟶⟶ উভচর ⟶⟶ সরীসৃপ ⟶⟶ পাখি ও স্তন্যপায়ী
(4) হৃৎপিন্ডের এই ক্লম পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্রমবিকাশের যে ধারা বোঝা যায়, তা হল— জলজ জীবন → উভচর জীবন পূর্ণস্থলচর জীবন
8.৫ নাইট্রোজেন চক্রের যে-কোনো তিনটি ধাপে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা বিশ্লেষণ করো “বিলাসবহুল ও আরামদায়ক জীবনযাত্রা বায়ুদূষণের একটি অন্যতম প্রধান কারণ”— যুক্তিসহ উক্তিটি সমর্থন করো। ৩ + ২ = ৫
অথবা গঙ্গা নদীর দূষণের ফলে প্রাণী জীববৈচিত্র্যের বিপন্নতার দুটি উদাহরণ দাও। নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার ফলে যেসব ঘটনা ঘটছে তার যে-কোনো প্রধান তিনটি ঘটনা ব্যাখ্যা করো। ২+৩=৫
Ans. নাইট্রোজেন চক্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা : নাইট্রোজেন চক্রের বিভিন্ন ধাপে ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মধ্যে কয়েকটির কথা এখানে উল্লেখ করা হল—[i] জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ : জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ ঘটে দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে। এই পদ্ধতি দুটি হল— (1) অ্যামোনিফিকেশন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ এবং প্রাণীর নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ বিভিন্ন বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত ব্যাকটেরিয়া (ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস ও মাইক্রোকক্কাস) র দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে যে প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয়, তাকে অ্যামোনিফিকেশন বলে। (2) নাইট্রিফিকেশন: মাটির অ্যামোনিয়া বিভিন্ন প্রকার নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে নাইট্রাইট ও নাইট্রেটে পরিণত হয়, যে প্রক্রিয়ায় তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে। নাইট্রিফিকেশনে অংশগ্রহণকারী
প্রক্রিয়ায় প্রথমে অ্যামোনিয়া বা অ্যামোনিয়াম আয়নগুলি মাটিতে নাইট্রোসোমোনাস নামক ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় নাইট্রাইট যৌগে পরিণত হয় (নাইট্রাইটেশন)। তারপর মাটিতে বসবাসকারী নাইট্রোব্যাকটর নামক ব্যাকটেরিয়া নাইট্রাইট যৌগকে নাইট্রেটে পরিণত করে (নাইট্রেটেশন)।
2NH+4+3O2⟶2NO−2+4H++2H2O2NH4++3O2⟶2NO2−+4H++2H2O;
2NO−2+O2⟶2NO−32NO2−+O2⟶2NO3−
[ii] নাইট্রোজেনের মুক্তি বা মোচন বা ডিনাইট্রিফিকেশন: যে প্রক্রিয়ায় মৃত্তিকাঙ্খিত নাইট্রাইট ও নাইট্রেট যৌগ থেকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে, তাকে ডিনাইট্রিফিকেশন বা নাইট্রোজেন মোচন বলে। এতে সাহায্য করে থায়োব্যাসিলাস, সিউডোমোনাস ইত্যাদি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া।
NO−3⟶NO−2⟶NO+N2O⟶N2NO3−⟶NO2−⟶NO+N2O⟶N2
“বিলাসবহুল ও আরামদায়ক জীবনযাত্রা বায়ুদূষণের প্রধান কারণ।”—এই উক্তিটির সমর্থনে কয়েকটি যুক্তি উল্লেখ করা হল| যেমন—[i] এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটর যন্ত্রে ব্যবহৃত CFC বায়ুর উন্নতা বৃদ্ধি করে, ওজোন স্তর বিনাশ করে পরিবেশে অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ায়। [ii] প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে তৈরি মিথেন বায়ুর তাপমাত্রা বাড়ায়। [iii] শিল্পক্ষেত্র ও কৃষিক্ষেত্র থেকে তৈরি হওয়া সালফার ও নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড, ধোঁয়া প্রভৃতি শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি ঘটায়, অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করে।
অথবা, গঙ্গা নদীর দূষণের ফলে প্রাণী জীববৈচিত্র্যের বিপন্নতার দুটি
উদাহরণ হল—গাঙ্গেয় শুশুক ও ইলিশ মাছ-এর সংখ্যা হ্রাসা।
নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার ফলে পরিবেশে যেসব ক্ষতিকর পরিবর্তনগুলি ঘটছে, তার কয়েকটি হল—
[i] বিশ্ব উন্নয়ন: নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসটি তাপশোষী গ্রিনহাউস গ্যাস বা সূর্যালোকের প্রতিফলনে সৃষ্ট অবলোহিত আলো বা উত্তাপ শোষণ করে গ্রিনহাউস প্রভাব তথা বিশ্ব উন্নয়ন ঘটায়।
[ii] আলোক-রাসায়নিক ধোঁয়াশা বা ফোটোকেমিকাল সুগ: পেট্রোলিয়াম দহনজাত নাইট্রিক অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও আলোকের উপস্থিতিতে PAN (পারঅক্সি-অ্যাসিটাইল নাইট্রেট) উৎপন্ন করে যা আলোকরাসায়নিক ধোঁয়াশা উৎপন্ন করে। এটি দৃশ্যদূষণ ও শ্বাসনালীর প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট সমস্যা সৃষ্টি করে।
[iii] অশ্লীকরণ: নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়ায় নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা অম্লবৃষ্টির অন্যতম উপাদান| অম্লবৃষ্টি জলজ জীব ও উদ্ভিদ ধবংস করে নদী, হ্রদ, পুকুর প্রভৃতির বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে। এ ছাড়া অম্লবৃষ্টির প্রভাবে বনজ সম্পদের বিনাশ, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
8.6 “ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার একটি সমস্যা হল বায়ুমন্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উয়ায়ন”—পরিবেশে এর কী কী প্রভাব পড়তে পারে তার সারসংক্ষেপ করো। শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের নানা শ্বাসজনিত সমস্যা দেখা যায়—এরূপ দুটি সমস্যার নাম লেখো এবং তাদের একটি করে উপসর্গ বিবৃত করো। ৩+২=৫
অথবা সুন্দরবনে একটি গবেষণা করতে গিয়ে তুমি নিম্নলিখিত তিনটি সমস্যা শনাক্ত করলে— খাদ্য-খাদক সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত । নগরায়ণের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধবংস। উম্নতা বৃদ্ধির ওপর এদের প্রভাব কী কী হতে পারে তা বিশ্লেষণ করো। সুন্দাল্যান্ড হটস্পটের অবস্থান ও এর জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির নাম লেখো। ৩+২=৫
Ans. বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উম্নয়নের প্রভাব: শিল্প, কৃষি ও মানব উন্নয়নের অন্যান্য বিভিন্ন কার্যকলাপে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের ভৌত ও রাসায়নিক অবস্থার পরিবর্তন করে। তাপশক্তি ও পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র বায়ুমণ্ডলের উন্নতা বৃদ্ধি করে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাই পরোক্ষভাবে এই পরিবর্তন ঘটায়। গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে বিশ্ব উম্নয়ন ঘটিয়েছে।
শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের যেসব শ্বাসজনিত সমস্যা দেখা যায়, তার মধ্যে দুটি সমস্যার নাম ও উপসর্গ নীচে সারণিতে লেখা হল।
সমস্যা
উপসর্গ
1. অ্যাজমা বা হাঁপানি
শ্বাসকষ্ট
2. ব্রংকাইটিস
কাশি, শ্বাসকষ্ট
অথবা,
গবেষণায় প্রাপ্ত সমস্যাগুলি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর যেসব প্রভাব বিস্তার করে সেগুলি হল—
[i] খাদ্য-খাদ্য সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে পরিবেশ সমস্যা সুন্দরবনকে গ্রাস করছে। বহু প্রাণী অবলুপ্ত হওয়ার ফলে বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলে খাদ্য-খাদকের সংখ্যার ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলছে। মাছ, কাঁকড়া প্রভৃতি অতিরিক্ত সংগ্রহে বাঘেদের স্বাভাবিক খাদ্য হ্রাস পাচ্ছে, ফলে তারা
সহজেই মানুষকে আক্রমণ করছে।
[ii] নগরায়ণের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধ্বংস: নগরায়ণের জন্য এবং গৃহনির্মাণ, চাষ-আবাদ জ্বালানি কাঠের চাহিদা পূরণের জন্য সুন্দরবনের তীরবর্তী অঞ্চলে লবণাম্বু উদ্ভিদকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
[iii] উম্নতা বৃদ্ধির ফলে দ্বীপভূমির নিমজ্জন: বিশ্ব উন্নয়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। সমুদ্রের জলের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সুন্দরবন অঞ্চলের বহু দ্বীপ জলে নিমজ্জিত হচ্ছে। যেমন—ভাঙ্গদুয়ানি দ্বীপটির 16.44% জলে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এ ছাড়া ঘোরামারা, লোহাচারা, বেডফোর্ড প্রভৃতি ব-দ্বীপগুলি জলে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। বিশ্ব উন্নয়নের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে৷ । সুন্দাল্যান্ড হটস্পটের অবস্থান—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও এবং ভারতের নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি হল—সুন্দরী গাছ (উদ্ভিদ) অথবা ওরাং ওটাং (প্রাণী)।
Madhyamik Examination 2020
LIFE SCIENCE
বিভাগ — 'ক'
১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ণ করে লেখো । ১ x ১৫ = ১৫
১.১ সঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো —
(ক) গুরুমস্তিষ্ক — দেহের ভারসাম্য রক্ষা
(খ) হাইপোথ্যালামাস — বুদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ
(গ) লঘুমস্তিষ্ক — দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
(ঘ) সুষুম্নাশীর্ষক — হৃৎস্পন্দন ও খাদ্য গলাধঃকরণ নিয়ন্ত্রণ
Ans. (ঘ) সুষুম্নাশীর্ষক — হৃৎস্পন্দন ও খাদ্য গলাধঃকরণ নিয়ন্ত্রণ
১.২ ইনসুলিন সম্পর্কিত নীচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয় তা শনাক্ত করো —
(ক) রক্ত থেকে অধিকাংশ দেহকোশে গ্লুকোজের শোষণে সাহায্য করে
(খ) যকৃত পেশিকোশের ভিতর গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত করে
(গ) ফ্যাট ও প্রোটিনকে গ্লুকোজে রূপান্তরে সাহায্য করে
(ঘ) প্রোটিন ও ফ্যাটের গ্লুকোজে রূপান্তর বাধা দেয়
Ans. (গ) ফ্যাট ও প্রোটিনকে গ্লুকোজে রূপান্তরে সাহায্য করে
১.৩ 'ক' স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভে দেওয়া শব্দের মধ্যে সমতা বিধান করে নীচের উত্তরগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক তা নির্বাচন করো —
'ক' স্তম্ভ
'খ' স্তম্ভ
A. ফ্লেক্সন
(i) কোয়াড্রিসেপস
B. এক্সটেনশন
(ii) পাইরিফরমিস
C. রোটেশন
(iii) বাইসেপস
(ক) A — (i) B — (ii) C — (iii)
(খ) A — (ii) B — (iii) C — (i)
(গ) A — (iii) B — (i) C — (ii)
(ঘ) A — (ii) B — (i) C — (iii)
Ans. (গ) A — (iii) B — (i) C — (ii)
১.৪ মাইটোসিস কোশ বিভাজনের ক্যারিওকাইনেসিসে নিম্নলিখিত ঘটনা দুটি কোন কোন দশায় ঘটে তা নীচের উত্তরগুলো থেকে নির্বাচন করো —
(অ) অপত্য ক্রোমোজোম দুটি পরস্পরের থেকে তাদের নিজস্ব মেরুর দিকে সরত থাকে
(আ) নিউক্লিওপর্দা ও নিউক্লিওলাস অবলুপ্ত হয়
(ক) (অ) প্রোফেজ (আ) অ্যানাফেজ
(খ) (অ) অ্যানাফেজ (আ) প্রোফেজ
(গ) (অ) টেলোফেজ (আ) মেটাফেজ
(ঘ) মেটাফেজ (আ) টেলোফেজ
Ans. (খ) (অ) অ্যানাফেজ (আ) প্রোফেজ
১.৫ নিম্নলিখিত কোনটি ইতর পরাগযোগের বৈশিষ্ট্য তা নির্বাচন করো —
(ক) একই গাছের একটি ফুলের মধ্যেই ঘটে
(খ) বাহকের প্রয়োজন হয় না
(গ) নতুন বৈশিষ্ট্য সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে
(ঘ) পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয়
Ans. (ঘ) পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয়
১.৬ মানবদেহের মাইটোসিস কোশবিভাজনে সদ্য সৃষ্ট অপত্য কোশের প্রতিটি ক্রোমোজোম ক'টি DNA অণু কুণ্ডলীকৃত হয়ে গঠিত হয় তা স্থির করো —
(ক) 46 (খ) 1 (গ) 23 (ঘ) অসংখ্য
Ans. (খ) 1
১.৭ কালো বর্ণ ও অমসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগের জিনোটাইপ শনাক্ত করো—
(ক) BbRr, BBRr
(খ) BBrr, Bbrr
(গ) bbRR, bbRr
(ঘ) bbrr, bbRr
Ans. (ক) BbRr, BBRr
১.৮ নীচের কোন দুটিকে মেন্ডেল প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন তা স্থির করো —
(ক) ফুলের বর্ণ — বেগুনি, ফুলের অবস্থান — কাক্ষিক
(খ) কান্ডের দৈর্ঘ্য — খর্ব, পরিণত বীজের আকার — কুঞ্চিত
(গ) পরিণত বীজের আকার — গোল, বীজের বর্ণ — হলুদ
(ঘ) ফুলের অবস্থান — কাক্ষিক, কাণ্ডের দৈর্ঘ্য — লম্বা
Ans. (খ) কান্ডের দৈর্ঘ্য — খর্ব, পরিণত বীজের আকার — কুঞ্চিত
১.৯ হিমোফিলিক পুত্র ও স্বাভাবিক কন্যা রয়েছে এমন পিতামাতার সম্ভাব্য জিনোটাইপ কী কী হতে পারে তা নীচেরগুলো থেকে নির্ধারণ করো—
(ক) H∥h,h∣↾H‖h,h∣↾ (খ) H∥H,H∣↾H‖H,H∣↾
(গ) H∥H,h∣↾H‖H,h∣↾ (ঘ) H∥h,H∣↾H‖h,H∣↾
Ans. (ঘ) H∥h,H∣↾H‖h,H∣↾
১.১০ আমাদের দেশেই পার্থেনিয়াম একটি বহিরাগত প্রজাতি । এটি যেখানে জন্মায় সেখানে অনেক দেশীয় প্রজাতির উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না । এটি ডারউইনের তত্ত্বের একটি প্রতিপাদ্যকে প্রতিষ্ঠিত করে । প্রতিপাদ্যটি শনাক্ত করো —
(ক) অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (খ) আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (গ) পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম (ঘ) নতুন প্রজাতির উৎপত্তি
Ans. (খ) আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম
১.১১ মিলার ও উরে তাঁদের পরীক্ষায় প্রাণ সৃষ্টির কতকগুলো প্রাথমিক উপাদান সংশ্লেষ করতে সক্ষম হন । সেগুলোর মধ্যে কোনগুলো অ্যামাইনো অ্যাসিড ছিল তা শনাক্ত করো —
(ক) ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড
(খ) ইউরিয়া, অ্যাডেনিন
(গ) গ্লাইসিন, অ্যালানিন
(ঘ) ফরমিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড
Ans. (গ) গ্লাইসিন, অ্যালানিন
১.১২ নীচের কোন প্রয়োজনের জন্য মৌমাছি ওয়াগল নিত্য করে তা স্থির করো—
(ক) প্রজনন সঙ্গী খোঁজা
(খ) অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিদের মৌচাক থেকে খাদ্যের উৎসের অভিমুখ ও দূরত্ব জানানো
(গ) নতুন মৌচাকের স্থান নির্বাচন করা
(ঘ) সম্ভাব্য শত্রুর আক্রমণের এড়ানো
Ans. (খ) অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিদের মৌচাক থেকে খাদ্যের উৎসের অভিমুখ ও দূরত্ব জানানো
১.১৩ নীচের কোনটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য তা শনাক্ত করো —
(ক) বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের সাথে স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য জীব সম্প্রদায়ের সংরক্ষণ করা হয়
(খ) জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়
(গ) বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ অনুমোদিত নয়
(ঘ) এর আকার সাধারণত একটি অভয়ারণ্যের থেকে ছোট হয়
Ans. (ক) বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের সাথে স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য জীব সম্প্রদায়ের সংরক্ষণ করা হয়
১.১৪ নীচের কোনটি জোড়াটি সঠিক নয় তা স্থির করো —
(ক) চোরাশিকার — গরিলা বিপন্নতা বৃদ্ধি
(খ) বহিরাগত প্রজাতি — ল্যান্টানা, তিলাপিয়া
(গ) হটস্পট নির্ধারণ — স্থানীয় প্রজাতি ও বিপন্ন প্রজাতির সংখ্যা
(ঘ) গ্রিনহাউস গ্যাস — ইউট্রফিকেশন
Ans. (ঘ) গ্রিনহাউস গ্যাস — ইউট্রফিকেশন
১.১৫ নিম্নলিখিত ব্যাঘ্র প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোনটি আমাদের রাজ্যে অবস্থিত তা স্থির করো—
(ক) বন্দীপুর (খ) সিমলিপাল (গ) সুন্দরবন (ঘ) কানহা
Ans. (গ) সুন্দরবন
বিভাগ — 'খ'
২। নীচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে ২১টি প্রশ্নের উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখো : ১ x ২১ = ২১
নীচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থানগুলোতে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি) : ১ x ৫ = ৫
২.১ আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু লজ্জাবতী এবং বনচাঁড়াল উদ্ভিদে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পাঠিয়ে উদ্ভিদের _____ ধর্মটি প্রমাণ করেন ।
Ans. সংবেদনশীলতা।
২.২ মানুষের মধ্যে যদি মিয়োসিসের পরিবর্তে মাইটোসিস দ্বারা গ্যামেট উৎপন্ন হতো, তবে অপত্য সন্তানের একটি দেহকোশে অটোজোম সংখ্যা হতো —— ।
Ans. 88।
২.৩ মানুষের পপুলেশনে 'X' ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত একটি রোগ হলো _____ ।
Ans. বর্ণান্ধতা/হিমোফিলিয়া
২.৪ আধুনিক ঘোড়ার খুর হলো তাদের পূর্বপুরুষের _____ নং আঙুলের রূপান্তর ।
Ans. 31
২.৫ নাইট্রোজেন চক্রের _____ পর্যায়ে অ্যামোনিয়া কতকগুলো ব্যাকটিরিয়ার সাহায্যে নাইট্রাইট এবং নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয় ।
Ans. নাইট্রিফিকেশন।
২.৬ বাজারে বহুল বিক্রীত বোতলজাত ঠান্ডা পানীয় প্রস্তুত করতে _____ জলের প্রচুর অপচয় ঘটে ।
Ans. স্বাদু বা মিষ্টি/ভৌম।
নীচের বাক্যগুলো সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে কোনো পাঁচটি) : ১ x ৫ = ৫
২.৭ ট্রপিক চলন হলো উদ্ভিদের বৃদ্ধিজনিত চলন ।
Ans. সত্য
২.৮ মাইটোসিস কোশবিভাজনে ক্রসিং-ওভার ঘটে ।
Ans. মিথ্যা
২.৯ মেন্ডেল তাঁর বংশগতি সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলোর বর্ণনায় জিন শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন ।
Ans. মিথ্যা
২.১০ বাষ্পমোচনের হার হ্রাস করার জন্য ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে ।
Ans. সত্য
২.১১ পূর্ব হিমালয় হটস্পটে সংরক্ষিত একটি বিপন্ন উদ্ভিদ হলো রডোডেনড্রন ।
Ans. মিথ্যা
২.১২ কোরয়েড লেন্সের বক্রতা ও আকারের পরিবর্তন ঘটিয়ে চোখের উপযোজনে সাহায্য করে :
Ans. মিথ্যা
A-স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সঙ্গে B-স্তম্ভে দেওয়া সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত শব্দটির সমতা বিধান করে উভয় স্তম্ভের ক্রমিক নং উল্লেখসহ সঠিক জোড়াটি পুনরায় লেখো ( যে কোনো পাঁচটি ) : ১ x ৫ = ৫
A-স্তম্ভ
B-স্তম্ভ
২.১৩ জিব্বেরেলিন
(ক) rrYY
২.১৪ শাখাকলম
(খ) ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্নবীকরণ
২.১৫ কুঞ্চিত ও হলুদ বর্ণের বীজযুক্ত মটরগাছের জিনোটাইপ
(গ) পিরিমিডিন ক্ষারক
২.১৬ সমসংস্থ অংগ
(ঘ) মুকুল ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে
২.১৭ জলাভূমি
(ঙ) গঠন এক কিন্তু কাজ ভিন্ন
২.১৮ থাইমিন ও ইউরাসিল
(চ) RRYy
(ছ) গোলাপ
Ans. ২.১৩ জিবেরেলিন—(ঘ) মুকুল ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে
২.১৪ শাখাকলম—(ছ) গোলাপ
২.১৫ কুঞ্চিত ও হলদে বর্গের বীজযুক্ত মটর গাছের জিনোটাইপ— (ক) rrYY||
২.১৬ সমসংস্থ অঙ্গ—(ঙ) গঠন এক কিন্তু কাজ ভিন্ন
২.১৭ জলাভূমি—(খ) ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্নবীকরণ
২.১৮ থাইমিন ও ইউরাসিল—(গ) পিরিমিডিন ক্ষারক
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছ'টি) ১ x ৬ = ৬
২.১৯ বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো : গুরুমস্তিষ্ক, হাইপোথ্যালামাস, পনস, থ্যালামাস
Ans. পল্স
২.২০ সোয়ান কোশ কোথায় থাকে ?
Ans. নিউরোনের অ্যাক্সনের বাইরের আবরণীতে সোয়ান কোশ থাকে।
২.২১ নীচে সম্পর্কযুক্ত একটি শব্দ জোড় দেওয়া আছে । প্রথম জোড়াটির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়াটির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও
মাইটোসিস : ভ্রুনমুল : : মিয়োসিস : _____
Ans. মাইটোসিস : ক্রুগমূল :: মিয়োসিস : ভুগস্থলী/রেণুমাতৃকোশ।
২.২২ মেন্ডেল তাঁর দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা থেকে কোন সূত্রে উপনীত হয়েছিলেন ?
Ans. স্বাধীন সারণ সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র।
২.২৩ সুস্থ মানুষের মধ্যে দেখা যায়, এমন একটি বংশাণুক্রমিকভাবে সঞ্চারিত প্রকরণের উদাহরণ দাও ।
Ans. রোলার জিভযুক্ত ও মুক্ত কানের লতি
২.২৪ সিম্পাঞ্জিরা কীভাবে শক্ত খোলা ভেঙে বাদাম খায় ?
Ans. শক্ত পাথরের পাটাতনে (নেহাই) বাদাম রেখে পাথর বা গাছের শক্ত ডালকে হাতুড়ির মতো চালিয়ে বাদাম ভেঙে খায়।
২.২৫ নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত । সেই বিষয়টি খুঁজে বার করো এবং লেখো :
SPM, বায়ুদূষণ, গ্রিণহাউস গ্যাস, ফুসফুসের রোগ
Ans. বায়ুদূষণ
২.২৬ স্থানীয় মানুষ ও বনদপ্তর যৌথভাবে জংগল পুনরুদ্ধারের জন্য যে ব্যবস্থা অনুসরণ করে তার নাম লেখো ।
Ans. জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (FM)
বিভাগ — 'গ'
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২ট প্রশ্নের উত্তর দুই-তিন বাক্যে লেখো । ২ x ১২ = ২৪
৩.১ নিম্নলিখিত বিষয়ে হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজের পার্থক্য নিরূপণ করো —
• কাজের প্রকৃতি • কাজের গতি • কাজের স্থায়িত্ব • পরিণতি
Ans.
বিষয়
হরমোন
স্নায়ুতন্ত্র
• কাজের প্রকৃতি
রাসায়নিক সমন্বয়কা
ভৌত সমন্বায়ক
• কাজের গতি
মন্থর
দ্রুত
• কাজের স্থায়িত্ব
স্থায়ী
অস্থায়ী
• পরিণতি
বিনষ্ট হয়
বিনষ্ট হয় না
৩.২ কোনো একজন মানুষ 'দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পেলেও কাছের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পান না' — এরকম সমস্যার কারণ ও প্রতিকার কী কী হতে পারে তা অনুমান করে লেখো ।
Ans. • কোনো একজন মানুষ দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পেলেও কাছের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পান না, এরকম সমস্যাকে হাইপারমেট্রোপিয়া বলা হয়। কারণ: অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোটো হওয়ায়, বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি রেটিনার পিছনে প্রতিবিম্ব গঠন করে। রেটিনার ওপরে ওই বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না। ফলে দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও কাছের বন্ধু অস্পষ্ট দেখায়। প্রতিকার: উত্তল কৃত্রিম লেন্সের (+) পাওয়ারযুক্ত চশমা ব্যবহার করলে, এই ত্রুটি সংশোধন করা যায়।
৩.৩ কৃষির ফলনবৃদ্ধি ও আগাছা সমস্যা সমাধানে সংশ্লেষিত উদ্ভিদ হরমোনের একটি ভূমিকা বিশ্লেষণ করো ।
Ans. • কৃষির ফলনবৃদ্ধি: অপরিণত ফলের মোচন রোধে 2, 4-D নামক কৃত্রিম অক্সিন ব্যবহৃত হয়। জবা, গোলাপ, আম প্রভৃতি গাছের শাখাকলম তৈরি করার সময় অস্থানিক মূল উৎপাদনের জন্য কৃত্রিম অক্সিন (NAA, IBA) ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষিজ ফলন বৃদ্ধি পায়। • আগাছা সমস্যা সমাধান: অক্সিন আগাছা নাশ করতে সাহায্য করে। যেমন—নির্দিষ্ট মাত্রার অক্সিন দ্বিবীজপত্রী আগাছাকে মেরে ফেলে। সুতরাং আগাছা যদি দ্বিবীজপত্রী হয় তাহলে নির্দিষ্ট মাত্রার অক্সিন হরমোন প্রয়োগ করে ওই আগাছা নির্মূল করা যাবে। একাজে বিশেষভাবে কার্যকরী হয় 2, 4-D নামক কৃত্রিম অক্সিনটি।
৩.৪ 'LH ও ICSH মানবদেহে জননগ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে'— বক্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো ।
Ans. হাইপোথ্যালামাস নিঃসৃত GnRH বা গোনাডোট্রপিন রিলিজিং হরমোন অগ্রপিটুইটারি থেকে GTH অর্থাৎ গোনাডোট্রপিক হরমোনগুলির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই GTH হরমোনগুলির মধ্যে অন্যতম হল LH (লিউটিনাইজিং হরমোন) ও ICSH (ইন্টারস্টিশিয়াল সেল স্টিমুলেটিং হরমোন) LH সাধারণত স্ত্রীদেহে পরিণত ডিম্বথলি থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণে সাহায্য করে পরিণত ডিম্বথলিকে পীতগ্রন্থিতে রূপান্তরিত করে এবং পীতগ্রন্থিকে প্রোজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে এর ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আবার ICSH পুরুষ দেহে শুক্রাশয়ের ইন্টারস্টিশিয়াল কোশ বা লেডিগের আন্তরকোশকে উদ্দীপিত করে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩.৫ বেমতন্তু গঠন ও সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতি — এই দুটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তুমি কিভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশে মাইটোসিসের পার্থক্য নিরূপণ করবে ?
Ans.
বিষয়
উদ্ভিদকোণে মাইটোসিস
প্রাণীকোশে মাইটোসিসের
1. বেমতনুর গঠন
মূলত কোশীয় কঙ্কাল, যেমন—অণুনালিকা থেকে বেমতন্তু গঠিত হয়।
সেন্ট্রিওল থেকে বেমতন্তু গঠিত হয়।
2. সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতি
ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট ও কোশপাত গঠনের এই পদ্ধতি ঘটে থাকে।
ক্লিভেজ বা খাঁজ বা ফারোয়িং-এর মাধ্যমে এই পদ্ধতি ঘটে।
৩.৬ কোশচক্রে নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হওয়ার সঙ্গে মানব দেহে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার সৃষ্টি হওয়ার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো ।
Ans. কোশ বিভাজনের বিভিন্ন জুটি এড়াবার জন্য কোশচক্রের স্থানে স্থানে চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রণ বিন্দু থাকে। কোনো পরিবেশগত বা জিনগত কারণে যদি এই নিয়ন্ত্রণ বিন্দুর কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়, তাহলে কোশ বিভাজনও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, এবং এই অনিয়ন্ত্রিত কোশবিভাজনের ফলে টিউমার সৃষ্টি হয়। অনেকসময় কোণঘ DNA-র মিউটেশন বা স্পিন্ডিল-এর গঠনগত ত্রুটি থাকলেও নিয়ন্ত্রণ বিন্দুর দুটিজনিত কারণে কোটি কোণবিভাজনে প্রবেশ করে, ফলে ত্রুটিপূর্ণ অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, যা পার্শ্ববর্তী অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজন ঘটায়। এটিই ম্যালিগন্যান্ট টিউমার।
৩.৭ 'অস্থানিক পত্রজ মুকুল উদ্ভিদের প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে' — একটি উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো ।
Ans. কিছু কিছু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে, যেমন—পাথরকুচি, Begonia (বিগোনিয়া) প্রভৃতির পাতার কিনারা থেকে অস্থানিক মুকুল জন্মায়। একে পত্ৰাশ্রয়ী মুকুল বলে। এই পত্রাশ্রয়ী মুকুলের নীচের দিক থেকে আবার প্রচুর অস্থানিক মূল বের হয়। পরে মূলসহ প্রতিটি পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে অনুকূল পরিবেশে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। অর্থাৎ উপরোক্ত উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে অস্থানিক পত্ৰজমুকুল প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিদের অঙ্গজ বংশবিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
৩.৮ বাবা ও মায়ের মধ্যে অপত্যের লিঙ্গ নির্ধারণে কার গুরুত্ব বেশি তা একটি ক্রশের মাধ্যমে দেখাও ।
Ans. মানব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাতার ক্রোমোজোমগত
ভূমিকা পরোক্ষ হয়ে থাকে। কারণ মাতা কেবলমাত্র একপ্রকার গ্যামেট (X ক্রোমোজোমযুক্ত) উৎপাদন করতে পারেন। পিতার জনন কোশে দু-প্রকার যৌন ক্রোমোজোম উপস্থিত থাকে এবং তিনি দুই প্রকার গ্যামেট (X অথবা Y ক্রোমোজোমযুক্ত) উৎপাদনে সক্ষম হন। অর্থাৎ, X অথবা Y ক্রোমোজোম দানের মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ক্রোমোজোমগত ভূমিকাই প্রধান।
অর্থাৎ পিতা যদি Y ক্রোমোজোম দান করেন তাহলে সন্তান পুত্র হয়, আবার যদি X ক্রোমোজোম দান করেন তাহলে সন্তান কন্যা হয়। তাই লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার গুরুত্বই বেশি।
৩.৯ 'ভিন্ন ভিন্ন জিনোটাইপ একই ফিনোটাইপ উৎপন্ন করে' — মটর গাছের দ্বিসংকর জননের পরীক্ষার ফলাফলের একটি উদাহরণ নিয়ে সারণির সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো ।
Ans. ভিন্ন ভিন্ন জিনোটাইপ যে একই ফিনোটাইপ উৎপন্ন করে তা নীচে F, জনুর চেকার বোর্ড মাধ্যমে দেখানো হল। যেখানে হলুদ গোল (YYRR) ও সবুজ কুঞ্চিত (yyrr) বীজযুক্ত মটর গাছের মধ্যে ক্রস করানো হয়েছে।
উক্ত ছকে আমরা দেখতে পাই যে হলদে গোল বীজযুক্ত মটর গাছের জিনোটাইপ 9 রকমের হতে পারে। অর্থাৎ একটি ফিনোটাইপ বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য একাধিক জিনোটাইপ দায়ী হয়।
৩.১০ সমাজ থেকে তোমার জানা একটি জিনগত রোগের বিস্তার রোধ করতে বিয়ের আগে হবু দম্পতিকে কী কী পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে তোমার মতামত জানাও ।
Ans. সাধারণত প্রধান যে জিনগত রোগটি সম্বন্ধে হবু দম্পতিকে অবগত করা যেতে পারে। সেটি হল থ্যালাসেমিয়া। এই রোগটি প্রতিরোধ করতে গেলে— [i] প্রথমে হবু দম্পতির রক্তপরীক্ষা। একান্ত প্রয়োজন কারণ এর মাধ্যমে হবু দম্পতি কেউ যদি থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হন সে সম্বন্ধে জানা যাবে। [ii] বিয়ের আগে জেনেটিক কাউন্সেলারের কাছে যাওয়ার কথা বলা যেতে পারে, এর ফলে যদি তারা কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন। তাহলে সন্তানের মধ্যে সেই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা সেটি জানা যায়। [iii] পরিবারে কারোর যদি থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো ইতিহাস থাকে তবে সেই সম্বন্ধে অবগত হওয়া ও বিয়ের আগে প্রয়োজন মত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা যেতে পারে।
৩.১১ প্রাকৃতিকভাবে শুধু বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ আছে, এমন একটি পুকুরে বেশ কিছু তিলাপিয়া মাছ ছাড়া হলো । বেঁচে থাকতে গেলে ওই তিলাপিয়াদের যে যে ধরনের জীবনসংগ্রাম করতে হবে তা ভেবে লেখো ।
Ans. [i] অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—তেলাপিয়া মাছগুলিকে নিজেদের মধ্যে খাদ্য ও সীমিত বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। [ii] আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—পুকুরে থাকা দেশীয় প্রজাতির মাছগুলির সঙ্গে খাদ্য ও সীমিত বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। [iii] পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম—তেলাপিয়া মাছটিকে পুকুরের জলের নতুন তাপমাত্রা, অন্নতা, ক্ষারত্ব প্রভৃতি পরিবেশ সংক্রান্ত সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে।
৩.১২ বাতাসে ওড়ার জন্য পায়রার বায়ুথলি যে যে ভূমিকা পালন করে তার তালিকা তৈরি করো ।
Ans.
1. আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস
ওড়বার মুহূর্তে বায়ুথলিগুলি বায়ুদ্বারা পূর্ণ হওয়ায়, পায়রার দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস পায়।
2. শক্তি উৎপাদনে ও 0,-এর জোগানে সাহায্য করা
বায়ুথলিগুলি অতিরিক্ত 0, সংগ্রহে ও শক্তি উৎপাদনে মুখ্য সাহায্য করা ভূমিকা পালন করে।
৩.১৩ • গঠন ও কাজ
• বিবর্তনের ধরন নির্দেশক
উপরোক্ত দুটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সমবৃত্তীয় অংগের ধারণাটি উপযুক্ত উদাহরণ সহ প্রতিষ্ঠিত করো ।
Ans. (1) গঠন ও কাজ: যেসব অঙ্গ উৎপত্তি ও গঠনগত দিক থেকে ভিন্ন হলেও কার্যগত দিক থেকে এক, তাদের সমবৃত্তীয় অঙা বলা হয়। পতঙ্গা ও পাখির ডানা ওড়ার জন্য ব্যবহৃত হলেও এদের উৎপত্তি ও গঠনগত দিক থেকে কোনো সাদৃশ্য নেই। পতঙ্গের ডানা কিউটিক্ল বা বহিঃকঙ্কালের প্রসারিত অংশ, অন্যদিকে পাখির ডানা পালক আবৃত অগ্ৰপদ বিশেষ।
সমবৃত্তীয় অঙ্গ
প্রাণী
উৎপত্তি ও গঠন
কাজ
ডানা
1. পাখি
1. অগ্রপদের রূপান্তর ও পালকে তা ঢাকা।
ওড়া
2. পতঙ্গ
2. কিউটিক্লের প্রসারিত গঠন।
(2) বিবর্তনের ধরণ নির্দেশক: পাখি ও পতঙের ধরণগুলি থেকে | বোঝা যায় যে, অভিব্যক্তিতে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একই প্রাকৃতিক পরিবেশে অভিযোজনের জন্য বাহ্যিক গঠন ও কার্যগতভাবে এক হয়। তাই এটি অভিসারী বিবর্তনের পরিচায়ক।
৩.১৪ মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলোর সম্পর্ক স্থাপন করো —
• বিশ্ব উষ্ণায়ন
• নদী এবং হ্রদের মাটি ও জলের অম্লীকরণ
Ans. (1) বিম্ব উন্নয়ন: পরিবেশের N,0 (নাইট্রাস অক্সাইড) বৃদ্ধির 40% হল মনুষ্যসৃষ্ট জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত দহন ও নাইট্রোজেন সার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলস্বরূপ N,0 পরিবেশে মুক্ত হয়। এই নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসটি তাপশোষী গ্রিনহাউস গ্যাস বা সূর্যালোকের প্রতিফলনে সৃষ্ট অবলোহিত আলো যা উত্তাপ শোষণ করে গ্রিনহাউস প্রভাব তথা বিশ্ব উয়ায়ন ঘটায়।
(2) নদী, হ্রদের মাটি ও জলের অম্লীকরণ: নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়ায় নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা অম্লবৃষ্টির অন্যতম উপাদান| অম্লবৃষ্টি জলজ জীব ও উদ্ভিদ ধ্বংস করে নদী, হ্রদ, পুকুর প্রভৃতির বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে। এ ছাড়া অম্লবৃষ্টির প্রভাবে বনজ সম্পদের বিনাশ ঘটে, স্থাপত্য ও স্মৃতিসৌধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও এদের উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে যায়।
৩.১৫ ইলিশ, মৌমাছি, পেঙ্গুইন, সর্পগন্ধা —
উপরোক্ত জীবগুলোর বিপন্নতার কারন কী কী হতে পারে তা নির্ধারণ করো ।
Ans. • ইলিশ: জলদূষণ, জাল ফেলে খোকা ইলিশ ধরা। এইভাবে প্রজননে সক্ষম হওয়ার আগেই ধরে ফেলার ফলে ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
• মৌমাছি: বনবিনাশ, জৈববৈচিত্র্যের হ্রাস (উদ্ভিদ প্রজাতি)। পেষ্টিসাইডের ব্যবহার দ্বারা মৌমাছির বিনাশ ঘটছে ও তারা প্রজননে অক্ষম হয়ে পড়ছে ।
• পেঙ্গুইন: বিশ্বউম্নয়নে বরফ গলনের ফলে তাদের বাসস্থান ধবংস হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে তাদের খাদ্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলস্বরূপ পেঙ্গুইন মারা যাচ্ছে।
• সর্পগন্ধ: অতিব্যবহারের ফলে সর্পগন্ধা-জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
৩.১৬ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পিপলস বায়োডাইভারসিটি রেজিস্ট্রার (PBR) -এর যে কোনো দুটি ভূমিকা আলোচনা করো ।
Ans. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর ভূমিকা বা গুরুত্ব: (1) PBR স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়। তার ওপর নির্ভর করে বিপন্ন জীবগুলির সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। (2) থানীয় মানুষকে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের ব্যাপারে। অবগত করে সংরক্ষণে অংশীদার করতে সাহায্য করে PBR।
৩.১৭ বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে অভয়ারণ্যে যে যে কাজ নিষিদ্ধ তার যে কোনো চারটি তালিকাভুক্ত করো ।
Ans. বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে অভয়ারণ্যে সে যে কাজ নিষিদ্ধ সেগুলি হল—[i] অনুমতি ছাড়া অভয়ারণ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ। [ii] অভয়ারণ্যে অনুমতি ছাড়া কাঠ কাটা, চাষআবাদ করা যায় না। [iii] অনুমতি ছাড়া বনজসম্পদ আহরণ করা যায় না। [iv] সর্বোপরি, বন্যপ্রাণী হত্যা বা শিকার করা যায় না।
বিভাগ — 'ঘ'
৪। নীচের ৬টি প্রশ্ন বা তা'র বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো । দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের ৪.১ নং প্রশ্নের পরিবর্তে ৪.১ (A) নং প্রশ্নের উত্তর করতে হবে । ৫ x ৬ = 30
৪.১ মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ -এর একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র অংকন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত কর : ৩ + ২ = ৫
অথবা
একটি প্রাণীকোশের মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশার পরিচ্ছন্ন চিত্র অংকন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো : ৩ + ২ = ৫
(কেবলমাত্র দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য)
৪.১ (A) মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের নিম্নলিখিত প্রত্যেকটি অংশের একটি করে কাজ লেখো : ১ x ৫ = ৫
(ক) ভিট্রিয়াস হিউমর (খ) স্ক্লেরা (গ) আইরিশ (ঘ) লেন্স (ঙ) রেটিনা
অথবা
প্রাণীকোশে মাইটোসিস কোশবিভাজনের মেটাফেজ দশার তিনটি এবং অ্যানাফেজ দশার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো । ৩+২=৫
Ans.
৪.২ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রাণীদের মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোশ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো :
• সম্পাদনের স্থান • ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি • উৎপন্ন কোশের সংখ্যা
মানব বিকাশের বার্ধক্য দশায় জ্ঞানেন্দ্রিয় ও অস্থির কী কী পরিবর্তন হয় তা তালিকাবদ্ধ করো । ৩+২=৫
অথবা
একটি ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের নিম্নলিখিত অংশগুলোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো :
• সেন্ট্রোমিয়ার • টেলোমিয়ার
জীবের বৃদ্ধি, প্রজনন ও ক্ষয়পূরণ কীভাবে কোশবিভাজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তা বিশ্লেষণ করো । ২+৩=৫
Ans.
বিষয়
মাইটোসিস
মিয়োসিস
1. সম্পাদনের স্থান
দেহকোশ এবং সাধারণ অবস্থায় কোশ সংখ্যা বৃদ্ধির সময় জনন কোশে মাইটোসিস ঘটে।
জনন মাতৃকোশ থেকে জননকোশ বা গ্যামেট সৃষ্টির সময় ঘটে।
2. ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি
এটি সমবিভাজন, অর্থাৎ উৎপন্ন অপত্য কোশ দুটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা জনিতৃ কোশের সমান (2n) থাকে।
এটি হ্রাসবিভাজন,অর্থাৎ উৎপন্ন চারটি অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের (2n)
অর্ধেক হয়ে যায় (n)।
3. উৎপন্ন কোশের সংখ্যা
একটি জনিতৃকোণ থেকে একবার বিভাজন দ্বারা দুটি অপত্য কোশ উৎপন্ন হয়।
জনিতৃকোণ থেকে দুবার বিভাজন দ্বারা চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
মানব বিকাশের বার্ধক্য দশায় জ্ঞানেন্দ্রিয়র পরিবর্তন: [i] এই দশায় ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ক্রমশ হ্রাস পায়। [ii] অস্থির পরিবর্তন: অস্থি ও অস্থিসন্ধির ক্ষয়ের ফলে এইসময় অস্থিজনিত বিভিন্ন রোগ, যথা—অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওআথ্রাইটিস দেখা দেয়।
অথবা,
সেন্ট্রোমিয়ারের গুরুত্ব: [i] এটিতে বেম সংলগ্ন হয় বলে অ্যানাফেজ চলন সম্ভব হয়। [ii] এটি ক্রোমোজোমের দুটি বাছুকে যুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
টেলোমিয়ারের গুরুত্ব: [i] ক্রোমোজোমের প্রান্তকে অন্য কোনো ক্রোমোজোমে সংলগ্ন হওয়া থেকে রক্ষা করে। [i] টেলোমিয়ার কোশের জরা ও বয়ঃবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
• [i] জীবের বৃদ্ধি: কোশ বিভাজনের ফলে কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়| উৎপন্ন কোশগুলি আবার আকারে বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কোশ বিভাজনের ওপরেই নির্ভর করে।
[ii] প্রজনন: মাইটোসিস, অ্যামাইটোসিস ও মিয়োসিস কোণ বিভাজন বিভিন্ন প্রকার জননে সহায়তা করে। যেমন— মিয়োসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট শুক্রাণু, ডিম্বাণু) এবং রেণু উৎপন্ন হয় যা, যথাক্রমে যৌন ও অযৌন জননের একক মাইটোসিস, অযৌন জনন ও অঙ্গজ জননের মাধ্যমে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামিবা অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে প্রজনন সম্পন্ন করে।
[iii] ক্ষয়পূরণ: জীবের ক্ষতস্থান নিরাময়, অঙের পুনরুৎপত্তি মূলত মাইটোসিস কোশ বিভাজনের ফলেই ঘটে থাকে।
৪.৩ মেন্ডেল দ্বারা নির্বাচিত মটরগাছের তিনজোড়া প্রকট-প্রচ্ছন্ন গুণ সারণির সাহায্যে লেখো । এক-সংকর জনন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি বিবৃত করো । ৩+২=৫
অথবা
একজন বর্ণান্ধ মহিলা, একজন স্বাভাবিক পুরুষকে বিবাহ করলেন । প্রথম অপত্য বংশে তাঁদের সন্তানদের মধ্যে বর্ণান্ধতার সম্ভাবনা বিচার করো । সন্ধ্যামালতী ফুলের ক্ষেত্রে F2 জনুতে মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত প্রথম সূত্রের বিচ্যুতি কীভাবে প্রকাশিত হয় তা একটি ক্রশের মাধ্যমে দেখাও । ৩+২=৫
Ans. মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য : মেন্ডেল তার পরীক্ষার জন্য মটর গাছের যে বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন তার মধ্যে তিন জোড়া নীচে সারণির আকারে দেখানো হল।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
প্রকট
প্রচ্ছন্ন
1. গাছের দৈর্ঘ্য
লম্বা
বেঁটে
2. কান্ডে ফুল এবং ফলের অবস্থান
কাক্ষিক
শীর্ষস্থ
3. ফলের আকৃতি
স্কীত
খাঁজযুক্ত
• কোনো জীবের নির্দিষ্ট একটি চরিত্রের অন্তর্গত একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি জনিতৃ থেকে অপত্যে সঞ্চারিত হলেও তারা পরস্পর মিশে যায় না বরং অপত্যের গ্যামেট তৈরির সময়ে তারা পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। এটিই মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র বা পৃথকীভবন সূত্র হিসেবে পরিচিত।
অথবা,
একজন বর্ণান্ধ মহিলা একজন স্বাভাবিক পুরুষকে বিবাহ করলে তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নীচে ক্রুসের সাহায্যে দেখানো হল—
যেহেতু মা বর্ণান্ধ তাই ক্রিস ব্রুস উত্তরাধিকার সূত্র অনুযায়ী সমস্ত পুত্র বর্ণান্ধতার শিকার হবে এবং সমস্ত কন্যা স্বাভাবিক হলেও বাহক হবে| এক্ষেত্রে ওই দম্পতির পুত্ররা বর্ণান্ধ ও কন্যারা বাহক হবে।
• সন্ধ্যামালতী (Mirabilis jalapa) নামক উদ্ভিদে লাল এবং সাদা এই দুইপ্রকার ফুল হয়। এই উদ্ভিদে ফুলের লাল রং, সাদা রং-এর ওপর অসম্পূর্ণভাবে প্রকট। বিশুদ্ধ লাল ফুলযুক্ত (RR) সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদের সঙ্গে বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত (r) সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদের সংকরায়ণ ঘটানো হলে প্রথম অপত্য জনুতে (F) জনু) উৎপন্ন উদ্ভিদগুলি লাল বা সাদা ফুলযুক্ত না হয়ে সবই গোলাপি ফুলযুক্ত হয়| এই F, জনুর উদ্ভিদগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানো হলে দ্বিতীয় অপত্য জনুতে (F, জনু) তিনপ্রকার ফিনোটাইপ (লাল, গোলাপি ও সাদা) ও তিনপ্রকার জিনোটাইপযুক্ত উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। F, জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত—লাল : গোলাপি : সাদা = 1:2:1 এবং জিনোটাইপিক অনুপাত—বিশুদ্ধ লাল (RR): সংকর গোলাপি (Rr) : বিশুদ্ধ সাদা (rr) = 1: 2:1|
অর্থাৎ, অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে F, জনুতে উৎপন্ন অপত্য উদ্ভিদগুলির ফিনোটাইপিক অনুপাত ও জিনোটাইপিক অনুপাত একই (1: 2:1)।
F, জনুর চেকার বোর্ড
R
r
R
RR (বিশুদ্ধ লাল ফুল)
Rr (গোলাপি ফুল)
r
Rr (গোলাপি ফুল)
rr (বিশুদ্ধ সাদা ফুল)
F, জনুতে প্রাপ্ত ফুলের বৈশিষ্ট্য
ফিনোটাইপ
জিনোটাইপ
জিনোটাইপিক অনুপাত
ফিনোটাইপিক অনুপাত
লাল ফুল
RR
1
1
গোলাপি ফুল
Rr
2
2
সাদা ফুল
rr
1
1
• উক্ত ক্রসের মাধ্যমে মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের বিচ্যুতি প্রমাণ করা যায় কারণ মেন্ডেলের প্রথম সূত্রে বলা হয়েছেল যে, গ্যামেট গঠনকালে বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি পরস্পরের থেকে পৃথক হয়ে যায়, কখনোই মিশ্রিত হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য (লাল ফুল ও সাদা ফুল) এক জনু থেকে অপর জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় প্রকট বৈশিষ্ট্যের (লাল ফুল) প্রকাশ না ঘটিয়ে একটি মিশ্র বৈশিষ্ট্যের (গোলাপি ফুল) প্রকাশ ঘটায়।
৪.৪ প্রাণের উৎপত্তির পরে জৈব অভিব্যক্তির মুখ্য ঘটনাবলী তীরচিহ্নের সাহায্যে ক্রমানুসারে দেখাও । ৫
অথবা
ডারউইনের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত তত্ত্বের নিম্নলিখিত তিনটি বিষয়ে আলোচনা করো :
• অধিকহারে হারে বংশবৃদ্ধি • প্রকরণের উদ্ভব • প্রাকৃতিক নির্বাচন
'জীবের আকার, শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ ও আচরণের পরিবর্তন হলো অভিযোজন' —যে কোনো দুটি উদাহরণসহ বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো । ৩+২=৫
Ans. অভিব্যক্তির মুখ্য ঘটনাসমূহ: সভ্যতার সৃষ্টিকাল থেকেই পৃথিবীর উৎপত্তি ও প্রাণের উৎপত্তি অত্যন্ত রহস্যময় ও জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন সময়ে এই রহস্য উন্মােচনের চেষ্টা করেন। এইসব বিজ্ঞানীদের মতবাদ ও ধারণা থেকে পৃথিবী এবং প্রাণের উৎপত্তি ও জীবের অভিব্যক্তি সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানা সম্ভব হয়। অভিব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ নীচে পর্যায়চিত্রের মাধ্যমে দেওয়া হল।
অথবা,
অত্যধিক মাত্রায় বংশবৃদ্ধি: ডারউইনের মতে জীবের সহজাত বৈশিষ্ট্য হল অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি করা। ডারউইন লক্ষ করেন জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি জ্যামিতিক হারে ঘটে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—একটি স্ত্রী স্যামন মাছ একটি প্রজনন ঋতুতে প্রায় তিন কোটি ডিম পাড়ে। একটি ঝিনুক এক বছরে প্রায় 6 মিলিয়ন ডিম্বাণু উৎপাদন করে।
প্রকরণের উদ্ভব: ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে যে-কোনো দুটি জীব কখনোই অবিকল একই রকমের হতে পারে না, কিছু -কিছু পার্থক্য অবশ্যই থাকবে। এই পার্থক্যকেই ভ্যারিয়েশন বা প্রকরণ বা ভেদ বলে| অনুকূল প্রকরণ (favourable variation) জীবনসংগ্রামে জীবকে সাহায্য করে। অপরদিকে প্রতিকূল প্রকরণ জীবের বিলুপ্তির কারণ হয়।
প্রাকৃতিক নির্বাচন: ডারউইনের মতে, জীবনসংগ্রামের ফলে উদ্ভূত প্রকরণগুলির মধ্যে কিছু অনুকূল ও কিছু প্রকরণ প্রতিকূল হয়। অনুকূল প্রকরণগুলি জীবকে অভিযোজনে সহায়তা করে কিন্তু প্রতিকূল প্রকরগলি অভিযোজনে সহায়তা করতে পারে না। ফলে প্রতিকূল প্রকরণযুক্ত জীব ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয় এবং অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীব পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য নির্বাচিত হয়। একে যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলে| প্রকৃতি উপযুক্ত প্রকরণযুক্ত জীবকে টিকে থাকার জন্য নির্বাচন করে। একে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলা হয়।। ‘জীবের আকার, শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ ও আচরণের পরিবর্তনই হল অভিযোজন—এই বক্তব্যটির যথার্থতা বিচার করতে প্রথমেই জীবের আকার বা আকৃতি প্রসঙ্গে আসা যাক, পরিবেশে বেঁচে থাকতে গেলে জীবের বাহ্যিক কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে, যা তাকে সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, [i] মরু ও শুষ্ক অঞ্চলে থাকা উদ্ভিদ ক্যাকটাসে বাষ্পমোচন রোধ করতে বেশিরভাগ পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় এবং পাতা থাকলেও তার সংখ্যা খুব কম হয় ও আকার ছোটো হয়। [ii] মাছ ও পাখির দেহ মাকু আকৃতির হয়ে থাকে যা তাদের জল বা বায়ুর বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আবার শুধু জীবের আকারই নয়, পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলার জন্য জীবের কিছু শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপের পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মরু অঞ্চলে বসবাসরত উটের দেহে জলক্ষয় সহনের জন্য—[i] তাদের 49°C এও ঘর্মক্ষরণ হয় না। [ii] নিশ্বাসের মাধ্যমে জলীয় বাষ্প নির্গমন। রোধ করতে নাসাপথে মিউকাস বিন্যস্ত থাকে ইত্যাদি।
৪.৫ নিম্নলিখিত দূষকগুলো পরিবেশ ও মানববাস্থ্যের কী কী প্রভাব ফেলে তা মূল্যায়ন করো : ৫
• অভঙ্গুর কীটনাশক
• পরাগরেণু
• ফসফেট ও নাইট্রেট সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার
• স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জীবাণুসমৃদ্ধ আবর্জনা
• ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
অথবা
নিম্নলিখিত ঘটনাগুলোর প্রত্যেকটির সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে তা অনুমান করো : ৫
• নিদ্রাহীনতা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, আংশিক বা সম্পূর্ণ বধিরতা
• জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস ও মরা মাছ ভেসে ওঠা
• কুমিরের সংখ্যা হ্রাস
• ফুসফুসের বায়ুচলাচল পথে প্রদাহ
• পরাগমিলনে সাহায্যকারী পতঙ্গের সংখ্যা হ্রাস
Ans. • অভশুর কীটনাশক: অভঙর কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলে মেশে ফলে জলদূষণ ঘটায়, যা জলে থাকা জীবের খাদ্য ও বাসস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করে ও জলে দ্রবীভূত 0, এর পরিমাণ কমায়।
• পরাগরেণু: এটি হল অতিক্ষুদ্র একপ্রকারের জৈব দূষক, যার আকার 1 মাইক্রন এদের SPM বা Suspended Panticulate matter বলে। এগুলি প্রধানত শ্বাসক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে ফুসফুসে জমা হয় ও ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাস করে শ্বাসক্রিয়াজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে।
• স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জীবাণুসমৃদ্ধ আবর্জনা, মৃত্তিকাদূষণ ও রোগসংক্রমণ: সুস্থ ব্যক্তির দেহেও রোগসংক্রমণ ঘটে।
• ফসফেট ও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার: কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অজৈব সার NPK, সুপার ফসফেট ইত্যাদিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মাত্রা বেশি থাকে, এই সার যখন নদীতে বা কোনো জলাশয়ে গিয়ে পড়ে, তখন সেই জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয়, ইউট্রোফিকেশন ঘটে, এবং জলদূষণের পাশাপাশি এই সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে মৃত্তিকাদূষগও ঘটে।
• ক্লোরোফ্লুরোকার্বন: বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর হ্রাস করে, ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করে, যা। মানবদেহে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের জন্ম দেয়। অথবা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, আংশিক বা সম্পূর্ণ নিদ্রাহীনতা, বধিরতা – শব্দদূষণ | জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস ও মরা মাছ ভেসে ওঠা— জলদূষণ ও ইউট্রোফিকেশন। কুমিরের সংখ্যা হ্রাস-জলদূষণ ও চামড়ার লোভে কুমির শিকার। ফুসফুসের বায়ুচলাচল পথে প্রদাহ—বায়ুদূষণ, ধূমপান, SPM দূষণ। পরাগমিলনে সাহায্যকারী পতঙের সংখ্যা হ্রাস-বায়ুদূষণ, পেস্টিসাইডের অতিরিক্ত ব্যবহার।
৪.৬ 'ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ভূগর্ভস্থ জলের সংকট তৈরী করেছে'— তোমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বক্তব্যটি যুক্তিসহ সমর্থন করো । মানুষের বসতি বৃদ্ধি কীভাবে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে তার একটি ধারণা মানচিত্র নির্মাণ করো । ৩+২=৫
অথবা
পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশের জলাময় ঘাসভূমিতেই শুধু পাওয়া যায় এরকম একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ীর সংখ্যাবৃদ্ধি করার জন্য কী কী সংরক্ষণ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্তসার লেখো । নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব আলোচনা করো ৩+২=৫
Ans. [i] স্বাদূজলের অতিব্যবহারে ভৌমজলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। মূলত মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন হয়। [ii] অপ্রয়োজনে জল নষ্ট করা, যেমন রাস্তায় ফেলে বা বাড়িতে অনবরত জল নষ্টের ফলে জল সংকট তৈরি। হয়েছে। [iii] শহুরে অঞ্চলে পুকুর বুজিয়ে বাড়ি তৈরিতে ভৌমজল মাটির নিচে ফিরে যেতে পারছে না। এর ফলেও জলসমস্যা দেখা দিচ্ছে। সুতরাং উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যায় যে ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরে ব্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ভূগর্ভস্থ জলের সংকট তৈরি করে।
ধারণা মানচিত্র: মানুষের বসতিবৃদ্ধিতে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব
অথবা,
• পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে জলাময় ঘাসভূমিতে পাওয়া যায়, এরকম একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হল গন্ডার তার সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যে যে প্রকল্পগুলি গ্রহণ করা হয় তা হল—ভারতে 85% গন্ডার অসমে পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক সংস্থা WWE (World Wide Fund for Nature)-এর সহযোগিতায় অসমের বনদপ্তর একটি প্রকল্প গ্রহণ করে, যার নাম ইন্ডিয়ান। রাইনো ভিশন 2020 বা IRV 2020। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, 2020 সালের মধ্যে অসমে গন্ডারের সংখ্যা 3000-এ নিয়ে যাওয়া| এই প্রকল্পের সাফল্যের কারণে 2013 সালে এই সংখ্যা অসমে 2544-এ এসে দাঁড়িয়েছে। 2013-এর সুমারি অনুযায়ী শুধু কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কেই গন্ডারের সংখ্যা 1855 থেকে 2329 দাড়িয়েছে। এ ছাড়া [i] গন্ডারের প্রজননে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, [i] চোরাশিকার রোধ, [iii] গন্ডারের বাসস্থান, পানীয়। ও উপযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থাগ্রহণ ইত্যদিও পরোক্ষভাবে গন্ডারের বংশবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। [i] জীববৈচিত্র্য অন্যান্য প্রাণীদের খাদ্য ও বাসস্থানের জোগান দিয়ে নদীতে বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে ।[ii] জীববৈচিত্র খাদ্যের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে সংগ্রাম কমায়, ফলে কোনো এক প্রজাতির জীব সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে যায় না এবং বাস্তুতন্ত্র বজায় থাকে। [iii] অনেক জলজ প্রাণী (যেমন— বিভিন্ন ধরনের মাছ, কাকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি) মানবসমাজে খাদ্য হিসেবেও গৃহীত হয়, ফলে সেই সমস্ত জীবের যথেষ্ট শিকার এসব প্রজাতির সংখ্যা কমিয়ে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করতে পারে, কিন্তু জীববৈচিত্র্য সেই সব জীবের জোগান দেয় ফলে বাস্তুতন্ত্র অটুট থাকে। [iv] জলদূষণের ফলে নদীতে থাকা প্রাণী মারা যাওয়ায় বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়, কিন্তু জীববৈচিত্র্য সেই দূষিত পরিবেশেও বেঁচে থাকার মতো কিছু জীবের জোগান দেয়। (যেমন—কিল্লিফিস নামক একধরনের মাছ দূষিত জলেও বেঁচে থাকতে পারে) ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র বজায় থাকে।