“বেলা ফুরাবার আগে” বইটি এমন এক আত্মজাগরণের আহ্বান, যা আমাদের জীবন, সময়, ও দায়িত্বের গভীর তাৎপর্যকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। বইটির মূল বিষয়বস্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছে মানুষের জীবনের সঠিক ব্যবহার, সময়ের মূল্যবোধ, আত্মসমালোচনা, এবং ঈমানী চেতনা জাগ্রত করার বার্তা ঘিরে। লেখক পাঠকের হৃদয়ে এমন প্রশ্নের জন্ম দেন— “আমি কি আমার সময়ের যথার্থ ব্যবহার করছি? আমি কি জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছি?”
লেখক যেন আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আমাদের। প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভেতরে আমরা অনেক সময়েই ভুলে যাই, এই জীবনটা সীমিত, আর বেলা ফুরিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। বইটি সেই ভুলে যাওয়া সত্যটিকে হৃদয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে মনে করিয়ে দেয়।
“বেলা ফুরাবার আগে” শুধু ধর্মীয় উপদেশের বই নয়; এটি এক গভীর আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মোন্নয়নের পথপ্রদর্শক। এতে আছে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ, সময় ব্যবস্থাপনা, মৃত্যুচেতনা, এবং আখিরাতের প্রস্তুতি নিয়ে হৃদয়স্পর্শী আলোচনা। লেখক প্রতিটি অধ্যায়ে পাঠককে ভাবতে বাধ্য করেন— “আজ যদি আমার জীবন শেষ হয়, আমি কি প্রস্তুত?”
আমার কাছে সবচেয়ে প্রভাবিত করেছে বইটির ভাষা ও উপস্থাপনভঙ্গি। সহজ, গভীর এবং হৃদয়গ্রাহী। এটি শুধু পড়ার জন্য নয়, অনুভব করার জন্য লেখা একটি বই।
সবশেষে বলব—
এই বইটি তাদের জন্য, যারা এখনও জীবনের অর্থ খুঁজে ফিরছেন, যারা সময়কে মূল্য দিতে শিখতে চান, এবং যারা চান মৃত্যুর আগে জীবনকে সত্যিকার অর্থে জাগ্রত করতে।
বেলা ফুরাবার আগে, নিজেকে চিনে নেওয়াই হলো এই বইয়ের আসল শিক্ষা।