বইটির বিশেষত্ব, বইটি কেন পড়বেন?
মানব জীবনে সাফল্য এবং ব্যর্থতার মধ্যে পার্থক্য কেবল একটি গুণের দ্বারা গঠিত - সত্যের সন্ধান বা অবিরাম অনুসন্ধানের মানসিকতা। সৃষ্টির শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত, সভ্যতার চাকা ঘুরিয়েছে এবং মানুষের অদম্য কৌতূহল যা কিছু ঘটেছে তার মূলে রয়েছে। কিন্তু এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার আগে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় রয়েছে, যা হল 'বোঝা'। যারা কোনও বিষয়ের গুরুত্ব বা এর অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনা বুঝতে পারে তারাই এটি পেতে আগ্রহী হয়। এই সাধারণ আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক সত্য - 'যে বোঝে, সে খোঁজে; এবং যে খোঁজে, সে খুঁজে পায়' - আসলে সাফল্যের জন্য একটি চিরন্তন সূত্র। এটি কেবল একটি দার্শনিক প্রবাদ নয়, বরং আধুনিক মনোবিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং সফল ব্যক্তিদের জীবন দর্শনের একটি বিস্তৃত রূপ। মহান কবি জালালুদ্দিন রুমি বলেছিলেন, "তুমি যা খুঁজছো, সেও তোমাকে খুঁজছে।" কিন্তু এই পারস্পরিক মিলন তখনই সম্ভব যখন একজন ব্যক্তি তার হৃদয় দিয়ে তার লক্ষ্যের গুরুত্ব বোঝে এবং অনুসন্ধানের জন্য বেরিয়ে পড়ে।
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় যে, যদিও মানুষের মস্তিষ্ক সর্বদা সক্রিয় থাকে, তবুও এটি কেবল সেই তথ্য গ্রহণ করে যা তার চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একে বলা হয় ‘নির্বাচিত উপলব্ধি’। অর্থাৎ, যখন আপনি কোনও বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন, তখন আপনার চোখ আপনার চারপাশে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সেই সুযোগটি খুঁজে পেতে শুরু করে। আধুনিক তথ্য বিজ্ঞান এবং স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন তাদের মস্তিষ্কের ‘রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম’ (RAS) অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যখন একজন উদ্যোক্তা বুঝতে পারেন যে তার এলাকায় একটি নির্দিষ্ট পরিষেবার অভাব রয়েছে, তখন তার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পরিষেবার উৎস, কাঁচামাল এবং বাজার খুঁজতে শুরু করে। এই অনুসন্ধান আর শ্রমসাধ্য কাজ নয়, বরং এটি একটি আসক্তিতে পরিণত হয়। এবং এই ক্রমাগত অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়।
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, যারা পৃথিবী বদলে দিয়েছে তারা প্রথমে সমস্যার গভীরতা বুঝতে পেরেছিল এবং তারপর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য মগ্ন হয়ে পড়েছিল। টমাস আলভা এডিসন যখন বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কারের পথে ছিলেন, তখন তিনি হাজারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আলোর একটি কৃত্রিম উৎস মানব সভ্যতাকে বদলে দেবে। এই গভীর 'বোধগম্যতা' তাকে হাল ছাড়তে দেয়নি। প্রতিটি ব্যর্থতার পরে তিনি নতুন তন্তু খুঁজে পেয়েছিলেন। তার বিখ্যাত উক্তি - "আমি ব্যর্থ হইনি, আমি কেবল ১০,০০০ উপায় খুঁজে পেয়েছি যা কাজ করে না" - প্রমাণ করে যে খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াটি আসলে শেখার অংশ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন, এবং তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন বলেই আজ পৃথিবী আলোকিত। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের কথাই ধরা যাক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রযুক্তি কেবল জটিল সার্কিট নয়, এটি মানুষের জন্য দরকারী এবং নান্দনিক হওয়া উচিত। এই উপলব্ধি থেকে, তিনি নিখুঁত নকশা অনুসরণ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত স্মার্টফোনে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।
“জীবন আমাদের কেবল তাই দেয় যা আমরা দাবি করি এবং যার জন্য আমরা ঘর ছেড়ে যাই। আমাদের মনে রাখতে হবে যে থামার অর্থ পিছিয়ে পড়া। পৃথিবী সর্বদা পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং যারা এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে সত্য এবং সুযোগের সন্ধান করতে থাকে, প্রকৃতি খালি হাতে ফিরে আসে না। কারণ মহাবিশ্বের অকাট্য নিয়ম হল সাফল্যের দরজা সর্বদা অন্বেষণকারীর জন্য খোলা থাকে। তাই বোঝার চেষ্টা করুন, অনুসন্ধানে যান, এবং আপনার সাফল্য নিশ্চিত।”