এবারের সংখ্যায় আমরা মুখোমুখি হয়েছি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের সঙ্গে, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন অত্যন্ত সংযম, কৌশল ও স্বচ্ছতার সঙ্গে।
এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর পেশাগত যাত্রা, প্রশাসনের ভেতরের বাস্তবতা, তথ্য ও বার্তা ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বচ্ছতা রক্ষার প্রয়াস এবং চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। একজন নীতিনির্ধারকের ছায়ায় থেকেও যিনি প্রতিদিন নীতির প্রকাশ ঘটান—তাঁর মুখোমুখি হওয়া ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা, যেটি পাঠকদের জন্যও হবে গভীর উপলব্ধির একটি জানালা।
প্রশ্ন ১ আপনি নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন, নটরডেম কলেজ তার সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সমাদৃত। আপনি আপনার কলেজ জীবনে কোন কোন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন? নটরডেম কলেজের এমন কোনো স্মৃতি আছে যা এখনো মনে পড়ে?
শফিকুল আলম: আমি নটর ডেম ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য ছিলাম, কিন্তু বিতর্ক করা হয়ে উঠেনি। আমি সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় পরপর দুইবার প্রথম হয়েছিলাম এবং নটর ডেম কলেজকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। ঐ সময় বিটিভিতে একটা ম্যাগাজিন প্রোগ্রাম হতো। ১৯৮৮ এবং ১৯৮৯ - দুই বছরই আমি প্রথম হই। আমি ১৯৮৯ সালে নটর ডেম কলেজকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম এবং সেবার আমরা হলিক্রস কলেজকে হারিয়েছিলাম। তৎকালীন সময়ে ঢাকার শ্রেষ্ঠ দুই কলেজ - নটর ডেম কলেজ বনাম হলিক্রস কলেজ তাই সেটি ছিল প্রাইম টাইমে হারানো। আমি তখন মতিঝিল কলোনীতে থাকি, পরের দিন বিকালে আমার বিড়ালটাকে নিয়ে বসে আছি; সবাই পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে দেখাচ্ছে আর বলছে, “ওই দেখ, ওই দেখ।” এটাই আমার প্রথম স্মৃতি ছিল যে সহশিক্ষা কার্যক্রম আমাকে একপ্রকার ছোটখাটো সেলিব্রেটি হিসেবে পরিচিতি করে তুলেছিল।
প্রশ্ন ২ আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু পরে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছেন। কীভাবে এই পরিবর্তন হলো? এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ আছে কি?
-আমি পরিসংখ্যানে ভালো রেজাল্ট করিনি। আমি আরও ভালো বিষয়, যেমন—রসায়ন, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, এমনিতেই পেতে পারতাম। কিন্তু আমার মেজো ভাই বলেছিল যে পরিসংখ্যানে পড়লে IBA-MBA করা যায়। তো পরবর্তীতে পরিসংখ্যানে এসে দেখি পরিসংখ্যান মূলত উচ্চতর গণিতের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। আপনি শুরুই করছেন খুবই উঁচু একটা লেভেলে। ওইটাই পড়তে গিয়ে আমি ট্র্যাক হারিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর আমার মোহ ভেঙে যায়। আমি হাত খরচের টাকা জোগাড় করতে ‘খেলাভুবন’ ম্যাগাজিনে বাংলায় অনুবাদ করার কাজ শুরু করি। পরবর্তীতে তারা আমাকে সহযোগী সম্পাদক বানিয়ে দেয়। এরপর আমার অনার্স শেষ হওয়ার পর The Bangladesh Observer-এ স্পোর্টস রিপোর্টার হিসেবে কাজ করার সুযোগ আসে। আমি ১৯৯৫ সালের কথা বলছি। তখন The Bangladesh Observer বাংলাদেশের ১ নম্বর ইংরেজি পত্রিকা। তো আমার বেতন খুব ভালো ছিল, একজন বিসিএস অফিসারের বেতনের দ্বিগুণ আর সাথে বছরে চার-পাঁচটা বোনাস। ‘খেলাভুবন’-এর সম্পাদক সাহেব আমাকে রেফার করেছিলেন এবং আমার চাকরিটা হয়ে যায়। আমি এজন্য M.Sc-ও করিনি। মূলত আমি পরিসংখ্যানকে উপভোগ করতে পারছিলাম না বলেই ক্যারিয়ারে পরিবর্তন আনতে হয়।
প্রশ্ন ৩ আপনি পূর্বে দ্য বাংলাদেশ অবজারভার, ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস (এএফপি) ইত্যাদি স্থানে কাজ করেছেন। এসব জায়গায় কাজ করার সময় আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাথে দেশীয় গণমাধ্যমের মূল পার্থক্য কোন জায়গায়? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করার সময় কি কোনো ধরনের চাপ বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে?
.
-বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হচ্ছে যে এ পেশায় বেতন কম। আমি খুবই সৌভাগ্যবান ছিলাম যে The Bangladesh Observer-এ কাজ পাই। তিন-চার বছর খুবই চমৎকার যায়। আমার বেতন ভালো, বছরে চার-পাঁচটা করে বোনাস পাই। আমার আয় এভারেজ বাংলাদেশিদের থেকে বেশি ছিল। কিন্তু সাধারণত সাংবাদিকতা পেশাটা খুবই অনিশ্চিত আর আয়-রোজগার কম। ধরেন আপনি আর আমি একসাথে চাকরিতে ঢুকলাম—আপনি ব্যাংকিংয়ে আর আমি সাংবাদিকতায়। একটা পর্যায়ে গিয়ে আপনি হয়তো অনেক লাখ টাকা বেতন পাবেন, কিন্তু আমার বেতন সেরকম বাড়বে না।
আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সাংবাদিকতায় অনেক ধরনের রাজনীতি আছে। সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। আবার দুর্নীতি না করলে সামনে যাওয়া যাচ্ছে না, পরিবারকে আর্থিকভাবে সেরকম সাহায্য করতে পারা যাচ্ছে না। এটা খুবই বাজে একটা বিষয়। ইদানীং এটা আরো খুবই প্রখর হয়েছে। অনেকে এ পেশায় আসে খ্যাতির জন্য। আবার পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের চাকরি চলে যায়। আমার সাথে এরকম হয়েছিল ২০০২ সালের দিকে। The Bangladesh Observer পত্রিকার মালিকদের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণে আমাদের বেতনটা আস্তে আস্তে অনিয়মিত হতে থাকে। প্রথমে ১.৫ মাস; পরে ২ মাস, ৩ মাস পরপর ১ মাসের বেতন পাচ্ছিলাম। ঐ বছর এপ্রিল মাসে আমার ৬ মাসের বেতন জমে গেল। তখন আমি মানুষের হয়ে লেখালেখি করে টাকা উপার্জন করতে থাকি। তবে বাসায় বুঝতে দেই না যে আমি এইরকম একটা অবস্থায় আছি। পরে আমি মনস্থির করলাম যে, আমি The Bangladesh Observer ছেড়ে দিবো।
এই অনিশ্চয়তা থেকে বের হতে আমি The Financial Express-এ যোগ দেই, তবে অপমানজনক এক শর্তে—আমাকে প্রথমে স্থায়ী সাংবাদিক নয়, বরং কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কারণ, আমি স্পোর্টস রিপোর্টার থেকে বিজনেস রিপোর্টিংয়ে যাচ্ছিলাম, আর বিজনেস নিউজে তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তো আমি প্রতিদিন সকাল ৯টায় বাসা থেকে বের হতাম এবং রাত ১১টায় বাসায় ফিরতাম। কারণ তাদেরকে আমার যোগ্যতা প্রমাণ করার পাশাপাশি আমাকে তো জানতেও হবে। সাংবাদিকতার অনেকগুলো শাখা আছে, আমি স্পোর্টস শাখায় কাজ করতাম তাই আমি স্পোর্টস নিয়ে প্রচুর লিখতে পারতাম। সেখানে ৫০০০-৬০০০ শব্দ, এমনকি ১০০০০ শব্দও লিখতে পারতাম। আমি এই অভিজ্ঞতা নিয়েই The Financial Express-এ আসলাম। কিন্তু এখানে বিজনেস নিউজের ক্ষেত্রে সংবাদের তথ্য এবং উৎস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে খবর বানানো যায় না, যেটা স্পোর্টসে বানানো যায়। আপনি ম্যাচ দেখলে ৭০০-১০০০ শব্দ খুব সহজেই লিখতে পারবেন। কিন্তু বিজনেস নিউজ তো আর বানানো যায় না। আমার সেখানে চাকরি পাওয়ার পর তিন মাস প্রচুর খাটতে হয়েছে এবং ফলস্বরূপ তিন মাস পর তারা আমাকে স্থায়ীভাবে চাকরিতে নিয়ে নেয়। তারা আমার উপর এত খুশি হয়েছিল যে দেড় বছরের মধ্যে স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট হই, এক বছরে ৯৮টি রিপোর্টের নেতৃত্ব দিই এবং পরবর্তীতে চিফ রিপোর্টার হিসেবে পদোন্নতি পাই।
আমার চাকরি সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও খেলাধুলা (স্পোর্টস) ছিল আমার প্যাশন কেননা আমি স্পোর্টস সেকশনে লিখতাম। [যার ফলে আমার কাছে বিজনেস রিপোর্টিং অনেক একঘেয়ে লাগতো]
সে সময় আমি একদিন ফ্রেঞ্চ নিউজ এজেন্সি এএফপি-তে গেলাম। বিশ্বে তিনটা সুপ্রতিষ্ঠিত নিউজ এজেন্সি আছে—রয়টার্স, এপি (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) এবং এএফপি। তার মধ্যে এএফপি প্রাচীনতম যা ১৮৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে ভদ্রলোক রয়টার নামে পরিচিত ছিলেন, অর্থাৎ রয়টার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা, তিনি একসময় এএফপিতেই চাকরি করতেন। পরবর্তীতে তিনি বের হয়ে নিজের এজেন্সি শুরু করেন।
তখন এএফপি ব্যুরো চিফ ছিলেন এক ব্রিটিশ মহিলা, আমি এএফপিতে গিয়ে একটা সিভি দিয়ে আসলাম এবং বলে আসলাম যে আমি Financial Express-এর চিফ রিপোর্টার হলেও স্পোর্টস রিপোর্টিং আমার প্যাশন—তুমি যদি চাও আমি তোমাদের হয়ে পার্ট-টাইম স্পোর্টস ফিচার লিখে দিতে পারি। সে প্রথমে আমাকে নিতে চায়নি তবে কী মনে করে যেন সিভিটা তার কাছে রেখে দিল এবং বললো যদি আমাদের লাগে আমি তোমাকে জানাবো।
এরপর ২০০৪-এর নভেম্বরে আমি হঠাৎ তাদের কাছ থেকে একটা কল পেলাম যে তাদের একজন ফুলটাইম করেসপন্ডেন্ট লাগবে, করেসপন্ডেন্ট মানে লিড পজিশন অর্থাৎ বাংলাদেশের সবকিছু কভার করতে হবে। তুমি আগ্রহী আসতে পারো।
আমি সেই সুযোগ গ্রহণ করে ইন্টারভিউ দিলাম; এবং আমার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছিল। আমার মনে আছে সেই পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক ৫০টা প্রশ্নের মধ্যে আমি ৫০ পেয়েছিলাম কেননা আমি আগে থেকেই সাধারণ জ্ঞানে ভালো—এমনকি আমি ১৯৯৫ সালের সার্ক জেনারেল নলেজ কম্পিটিশনে পাকিস্তানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। তাছাড়াও আমি ইন্টার ইউনিভার্সিটি জেনারেল নলেজ কম্পিটিশনে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।
আমি তারপর এএফপিতে চাকরি শুরু করলাম। এবং আমি মনে করি সেটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একটা কারণ ছিল—বিদেশিরা কীভাবে সাংবাদিকতা করে তা শিখতে পারা। ওদের সম্পাদনা পদ্ধতি খুবই কড়া, যেটা আমাদের দেশে নেই। আমাদের রিপোর্টিংটা এখনো ওই সেকলে। আমাদের এখানে একটা ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্যের জন্যই কয়েকদিন গবেষণা করতে হয়, যা বাংলাদেশি সাংবাদিকতায় সচরাচর দেখা যায় না। ২০০৯ সালে আমি ডেপুটি ব্যুরো চিফ, আর ২০১২ সালে AFP-এর বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ হই। এই অভিজ্ঞতা আমার সাংবাদিকতা জীবন বদলে দেয়। আমি শিখেছি আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করা যায় এবং কীভাবে সত্যিকারের গভীর সাংবাদিকতা করা যায়।
প্রশ্ন ৪ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাই। এই দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রথম কবে এবং কীভাবে আপনার কাছে আসে? পেশাদার অভিজ্ঞতা না প্রশাসনিক দক্ষতা—কোনটি আপনার মতে এই দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রেখেছে? এছাড়া, দায়িত্ব গ্রহণের সময় কোনো অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন কি?
প্রধান উপদেষ্টা আগে থেকেই আমার সাংবাদিকতার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। আমি পুরো হাসিনা আমলে প্রচুর লিখেছি—তার সরকার কতটা নিষ্ঠুর ও স্বৈরাচারী, সেটা বোঝানোর জন্য যত বেশি রিপোর্ট করা সম্ভব ছিল, আমি করেছি। আমার চেয়ে সম্ভবত এত টাফ জার্নালিজম আর কেউ করেনি। আমি সবসময় হাসিনাকে সে যেমন, ঠিক তেমনভাবেই লিখেছি। কখনো তার দালালি করার ইচ্ছে হয়নি। সত্য প্রকাশ্য থাকা উচিত—আমি সবসময় এই নীতিতেই বিশ্বাস করেছি। অনেকের ভয় হয়, অনেকে লোভে পড়ে যায়। সরকারকে খুশি করে লিখলে পূর্বাচলে প্লট, নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়—এটা নতুন কিছু না। কিন্তু আমি সেই পথ বেছে নেইনি। আমি খুবই আক্রমণাত্মক সাংবাদিকতা করেছি। তিনি [প্রধান উপদেষ্টা] আমার কাজের সাথে পরিচিত ছিলেন, এবং জানতেন আমি সত্য লিখতে ভয় পাই না। তাকে যে ধরনের আইনি হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে, সেটা আমি নিয়মিত তুলে ধরেছি। কারণ তিনি শুধু একজন সাধারণ ব্যক্তি নন, তিনি একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। তার প্রতি যে ভয়ংকর নিপীড়ন চলছে, সেটা সবাইকে জানানো দরকার ছিল। আমি সেই দায়িত্বটাই পালন করেছি।
পরের বছর যখন আইনি হয়রানি আরও তীব্র হলো, প্রায় ২০০টি মামলা দায়ের করা হলো, তখন আমরা আরও বেশি রিপোর্ট করেছি। তিনি আমাকে চিনতেন, জানতেন আমি একজন রিপোর্টার। রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি আমি ঢাকা ডায়েরি নামে প্রচুর লেখা লিখতাম। সেখানে আদালতের ভেতরের ঘটনা, কোর্টরুমের নাটকীয়তা, যা সাধারণত বাইরের কেউ জানতে পারে না—এসব তুলে ধরতাম। অবস্থাটা এমন ছিল যে আমি আসলে কিছুই করিনি, দেখা গেল শুধু কোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে তার দেওয়া স্পিচটা মোবাইলে রেকর্ড করে প্রকাশ করেছি। এখন প্রশ্ন হলো, আপনি কি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন? আপনি তো বলতে পারবেন না যে আমি কোনো ভুল তথ্য ছড়িয়েছি... কিন্তু গেস হোয়াট, আমার বার্তা পৌঁছে গেছে। এই ধরনের কাজ আমি প্রচুর করেছি, এবং তিনি আমার ডায়েরির সাথেও আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। একসময় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তার সাথে কাজ করতে আগ্রহী? তখন আমি এএফপি ছাড়তে চাইছিলাম না, কিন্তু আমার ভেতরে একটা থেকে পরিবর্তনের ডাক আসছিল। আমি বই লেখার দিকে যেতে চাইছিলাম, কারণ এএফপিতে আমি যে সাংবাদিকতা করতাম, সেটা একরকম অভ্যাসে পরিণত হয়ে আর সেই দৈনন্দিন সাংবাদিকতা আমাকে আর টানছিল না।
প্রশ্ন ৫ আপনি রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছিলেন, যার ফলস্বরূপ “হিউম্যান রাইটস প্রেস অ্যাওয়ার্ড” পেয়েছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এতটা মনোযোগ দেওয়ার পেছনে কী প্রেরণা ছিল? এবং আপনি কীভাবে এই সংবেদনশীল সংকটের জটিলতা মোকাবিলা করেছিলেন?
-আমার সাংবাদিকতার একটা বড় জিনিস হচ্ছে আমি সবসময় নিপীড়িত মানুষদের পাশে দাড়াই এবং তাদের নিয়ে লেখি বিশেষ করে তাদের কষ্ট , হতাশা কিংবা তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়-অবিচারের গল্পগুলো বাইরের দুনিয়ায় তুলে ধরি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত এবং নিগৃহীত সম্প্রদায়গুলোর মাঝে একটা যারা ঘৃণার স্বীকার, যেই ঘৃণা মিয়ানমারেও আছে, বাংলাদেশেও আছে। তাদের সাথে যে অমানবিকতা এবং অমানবীকরন দেখা যায় যে আপনার রোহিঙ্গা শব্দটাকেই জাতিগতভাবে গালি হিসেবে ব্যাবহার করছি যে জিনিসটা খুবই ভয়াবহ। তবে আপনি যদি তাদের রিফিউজি ক্যাম্পে যান তাদের জীবনধারা দেখে আপনারই চোখে পানি এসে পড়বে।
আবার আমি আমার সাংবাদিকতার জীবনে চেষ্টা করেছি সবসময় সকল ধরনের সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে। হোক সেটা ভাষাগত ভাবে সংখ্যালঘু, ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘু কিংবা লিঙ্গভেদে সংখ্যালঘু। এমনকি আমি বিহারীদের নিয়েও লিখেছি যেটা বাংলাদেশে একটা ট্যাবু সাবজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সচরাচর এই বিষয় নিয়ে কেউ লেখেনা। তাদের উপর জাতিগতভাবে যেই অন্যায় করা হয়েছে সেগুলো কিন্তু আমরা বাঙ্গালিরাই করেছি।
আমি সবসময় এসকল বিষয় নিয়ে লিখেছি এবং এক্ষেত্রে আমার কোনো ভয়ডর কাজ করে না। আমি হিজড়াদের নিয়ে লিখার পর সবাই আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে, অনেকে এটা মেনে নিতে পারেননি। তবে তারাও তো মানুষ। একজন মানুষ হিসেবে তার পাশে দাঁড়ানোটা আমার দায়িত্ব। অনেকেই এসব বিষয় নিয়ে লিখতে ইতস্তত বোধ করে, ভয় পায় তবে আমার কোনো ধরনের ভয় কাজ করে না। আমার কাছে যদি মনে হয় আপনি অন্যায় কিংবা অবিচারের শিকার আমি আপনার পাশে দাঁড়াবো। আমি সারাজীবন এমন্টাই করেছি এবং আমার সাংবাদিকতার ৩০ বছরে এইটাই বিশেষ গুণ।
প্রশ্ন ৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিস্ট সরকার কিছুদিন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল, তবে এএফপির কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। সেই সময় আপনাদের কার্যালয়ে কীভাবে ইন্টারনেট ছিল? আপনি কীভাবে সাংবাদিকতা চালিয়ে গেছেন, এবং সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
-এইটাই আমার জীবনের অন্যতম একটা গর্বের মুহূর্ত। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন ১৭ তারিখ ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দিল, আমরা হোটেল ভাড়া নিলাম এই ভেবে যে হোটেলে বুঝি ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। আমাদের সংযোগ চলে গেলেও হোটেলে অল্টারনেট লাইন থাকবে এই ভেবে আমরা ভাড়া নিয়েছিলাম। তবে ওদেরও কোনো অল্টারনেটিভ লাইন থাকলো না। তবে পরের দিন সকালে ফিরে এসে দেখলাম আমাদের কার্যালয়ে ইন্টারনেট আছে। তারপর আমি একপর্যায়ে উপলব্ধি করলাম ঢাকা শহরের মধ্যে শুধু আমারই ইন্টারনেট আছে, আর কারো নেই। এমনকি বিশ্ববিখ্যাত সংবাদ সংস্থা যেমনঃ এপি, রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, নেত্র নিউজ—যারা যারা দেশের বাইরে সংবাদ পাঠায়, ছবি পাঠায়, ভিডিও পাঠায়, ওদের কারোই ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। তারা কোনোভাবে জেনে যায় আমার কার্যালয়ে ইন্টারনেট আছে এবং সবাই আমার কাছে এসে পড়ে। সে সময় আমি সবাইকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ দিই, কাউকে মানা করিনি। যে সময় যারা আসছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল প্রো-আওয়ামী লীগ। তারা আবার তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে জানিয়ে দিচ্ছেন: “উনি কিন্তু ইন্টারনেট দিচ্ছেন।” তারপরও আমি এ টু জেড সবাইকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছি।
এছাড়া বাংলাদেশের যে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো আছে, তাদেরও তো নিউজ বের করতে হবে। শুধু দেশি সংবাদ দিয়েই তো সংবাদপত্র বের করা যায় না। ওদের নানাধরনের আন্তর্জাতিক সংবাদও লাগবে। তখন আমি সবাইকে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
তখন আমার রুমে কম্পিউটার ছিল ৫–৬ টার মতো, তবে রুমে কম হলেও মানুষ ছিল ৫০ জন। তাই আমার কাজ ছিল তাদের মধ্যে কম্পিউটার ভাগ করে দেওয়া। কাউকে ১০ মিনিট, কাউকে ৫ মিনিট—এভাবে বণ্টন করে দিলাম। ভিতরে আমরা খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও করেছিলাম। এক কথায় বলতে গেলে, আন্দোলনে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাঝে ৬–৭ দিন বিদেশে যত খবর গিয়েছিল, তা সব আমার কার্যালয় থেকেই গিয়েছিল।
তবে এটা আমার জন্য যথেষ্ট ঝুঁকির ব্যাপার ছিল, কেননা মোহাম্মদ আলী আরাফাতের প্রিয় সাংবাদিকেরা তার কাছে গিয়ে আমার কথা বলে দিচ্ছিল। তবে আমার একটা ধারণা ছিল যে আমি যেহেতু আন্তর্জাতিক একটা সংবাদ সংস্থায় আছি, তাই আমার একটা নিরাপত্তা আছে। তাছাড়াও আমি তো কোনো ধরনের অন্যায় করছি না। তবে দিনশেষে আমি খুশি, কারণ এটা আমার জন্য একটা গর্বের বিষয় ছিল। এটার সাথে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তুলনা দেওয়া যায়, যেখানে সবাই আমার এখানে এসে ৫–৬ দিন থেকে সংবাদ প্রচার করছে, আমরা সবাই একসাথে খাওয়া-দাওয়া করছি। খুবই অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
পরবর্তীতে এএফপি কি আপনাকে জানিয়েছিল কিভাবে তারা ইন্টারনেট পেয়েছিল?
আমরা শুনেছি ভিস্যাটের মাধ্যমে তারা এই ব্যবস্থাটা করেছিল। এএফপি অনেক বছর ধরে আমাদের এখানে এই অল্টারনেটিভ একটা লাইন রাখত। যদি আমরা কখনো বিপদে পড়ি তখন এটা কাজে দেবে—সেই ধারণা থেকে। তবে কোনদিনও আমরা বিপদে পড়িনি। এই যে ২০–২৫ বছর অল্টারনেটিভ লাইন রাখা—তাতে প্রতি মাসে প্রায় ১০–১৫ হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে। একপর্যায়ে আমি বলতাম, “আমরা ৫ জন, আমাদের জন্য ইন্টারনেটের জন্য এত টাকা দেব কেন?” তবে এটা যে এই সময়ে এসে কাজে দেবে, তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি।
তবে সে সময় এএফপি ভয় পাচ্ছিল আমার সিকিউরিটি নিয়ে। এএফপি থেকে আমাকে বলল, "দেখো শফিক, তুমি যে বাইরের সবাইকে ইন্টারনেট দিচ্ছ, তোমাকে যদি গ্রেফতার করে তখন কি হবে? আমাদের তো কভারেজ ছিন্ন হয়ে যাবে।"
এটা আমার মাঝে একটা নৈতিক বিরোধ তৈরি করল। কেননা আমাকে গ্রেফতার করা মানে আমার কভারেজটা নষ্ট করা। এএফপি তো চায় যে আমার পক্ষ থেকে যেন নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ থাকে। আর আমি বলছিলাম, “আমি কি সবাইকে ইন্টারনেট দেওয়া থেকে ‘না’ বলে দেব? ‘না’ কিভাবে বলবো! আপনি আসছেন এখান থেকে একটা সংবাদ পাঠাতে—সেই সময়ে সংবাদ এর চেয়েও বড় কথা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভিডিও আর ছবি পাঠানো। কারণ সংবাদ না হয় ফোনে আপনি বলে দিচ্ছেন, আর একজন লিখে নিচ্ছে। কিন্তু ছবি তো এভাবে পাঠানো যায় না—তার জন্য প্রয়োজন দ্রুতগতির ইন্টারনেট কানেকশন, যা আমাদের কাছে ছিল।”
পরবর্তীতে একপর্যায়ে এএফপি আমার ওপরেই সব ছেড়ে দেয়।
প্রশ্ন ৭ সম্প্রতি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান উপদেষ্টার নিকট প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আপনি একজন সাংবাদিক হিসেবে এই সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন? এছাড়া, ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে নিম্নমুখী হয়েছে ও সম্প্রচার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোর করা হয়েছে—এই সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো কীভাবে সেই সমস্যাগুলো সমাধানে ভূমিকা রাখবে?
আমরা চাই আমাদের সাংবাদিকতা কাঠামোগতভাবে উপকৃত হোক। এজন্য বিশ্বব্যাপী অনুসরণযোগ্য ভালো সাংবাদিকতার চর্চাগুলোকে বাস্তবায়ন করা এবং প্রেসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই আমরা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করেছিলাম। কমিশন একটি অসাধারণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা আমাদের গণমাধ্যম ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাটতি ও করণীয় দিকগুলো চিহ্নিত করেছে।
আমরা জানি, রিপোর্টের সব সুপারিশ একবারে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না, কিন্তু আমরা ধাপে ধাপে সেগুলোকে অনুসরণ করব, বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। যেহেতু রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে, আমরা আশা করি সবাই এটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় মন্তব্য দেবেন। এর ফলে একটি জাতীয় পরিসরে আলোচনা তৈরি হবে—আমরা কোথায় আছি, আমাদের কী করা উচিত, আমাদের প্রচেষ্টার মধ্যে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, এবং কেন পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রেসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও আমাদের দেশে তা এত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।
এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত হবে, এবং কীভাবে এই ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে একটি কার্যকর গণমাধ্যম পরিবেশ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা যাবে। আমরা চাই এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে, যেখানে ভালো সাংবাদিকরা তাদের স্বপ্ন অনুসরণ করতে পারবেন, শক্তিশালী সাংবাদিকতা গড়ে উঠবে, এবং জনগণ যথাযথ তথ্য পাবে। একইসঙ্গে, আমরা এমন একটি বিতর্কের আবহাওয়া তৈরি করতে চাই, যেখানে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করার জায়গা থাকবে। কেননা সত্য কখনোই একমাত্রিক নয়—একটি সত্যের বিভিন্ন দিক থাকতে পারে। সাংবাদিকতার কাজ হলো সব দিক তুলে ধরা, যাতে পাঠক নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা চাই সমাজে উন্মুক্ত চিন্তার বিকাশ হোক, মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে এবং সাংবাদিকতা সত্যকে প্রকাশ করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। এটি দেশের মেধাকে বিকশিত করতে এবং নতুন প্রতিভা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। যেমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হলো নতুন গবেষণা ও জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, ঠিক তেমনি সাংবাদিকতার উদ্দেশ্যও সমস্ত তথ্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং জনগণকে উপযুক্তভাবে সচেতন করা।
আমরা হয়তো সবকিছু বাস্তবায়ন করতে পারব না, কিন্তু আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে যেন আমরা আমাদের কাজ করে যেতে পারি। আমরা আশা করি ভবিষ্যতের সরকারগুলোও এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আরও বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রশ্ন ৮ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু অনেক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, দুর্নীতির খবর প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁরা নানা ধরনের আইনি ও বেআইনি হুমকির সম্মুখীন হন। আপনার প্রশাসন কীভাবে এই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে?
আমরা সরকার হিসেবে একটি মুক্ত গণমাধ্যম প্রত্যাশা করি, আমরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে আরও উৎসাহিত করি। সরকারের কোনো পর্যায়ে থাকলে আপনার অন্ধত্ব কাজ করে কেননা আপনি হয়তো কারো কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছেন কোনো দুর্নীতির বিষয়ে, তবে আপনার কাছে উপযুক্ত প্রমাণ নেই। কেউ যদি সেই প্রমাণটা আপনাকে নিজ থেকে জোগাড় করে দেয়, তা সরকার হিসেবে আপনার জন্যই ভালো। এমন হতে পারে আমার অধীনস্ত একজন কর্মকর্তা দুর্নীতিপরায়ণ, তবে আপনার কাছে প্রমাণ নেই কেননা সে যখন আমার সাথে মিশছে, আমার সাথে সে খুবই ভালো ব্যবহার করছে এবং আপনি হয়তো মনে করছেন সে খুবই সৎ। কোনো অনুসন্ধানী নিউজ আউটলেট যদি নিজ থেকে তার মুখোশ উন্মোচন করে দেয়, তা আপনার জন্যই ভালো। তবে আপনার সরকার যদি দুর্নীতিবাজ সরকার হয়, তখন আপনার জন্য এই সাংবাদিকতা খুব একটা সুখকর নয়। সরকার যদি নীতিগতভাবে সৎ থাকে এবং তার উদ্দেশ্য সৎ হয়, তাহলে সরকার নিজ থেকেই এ ধরনের সাংবাদিকতাকে সমর্থন করবে। তবে আমাদের দেশে যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাটা হচ্ছে, তার তথ্যসূত্র খুবই কম। তার পরেও নেত্র নিউজ, ডেইলি স্টার কিংবা প্রথম আলোর মতো কিছু বড় বড় সংবাদ প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং তাদের চেষ্টার ফলেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। তবে আমার মনে হয়, এটা যতটুকু স্থায়িত্বের সঙ্গে এই কাজটা করার দরকার ছিল, তার অভাব আছে।
প্রশ্ন ৯ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) ও এর পরিবর্তিত সংস্করণ সাইবার নিরাপত্তা আইন ব্যাপক সমালোচিত, অনেকেই মনে করেন এগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকার কীভাবে ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে?
আমরা এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই আমরা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করেছি। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি কেননা ইন্টারনেটে নারীরা বুলিংয়ের শিকার হয়, শিশুরা অশ্লীল কন্টেন্টের শিকার হয়, পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা হয়। এছাড়াও, সাইবার স্পেসে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তাই সাইবার নিরাপত্তা আইন থাকা প্রয়োজন। আমরা যখন প্রথম এই আইন প্রণয়নের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করি, তখন আমরা সমালোচনার সম্মুখীন হই। তবে আমরা সেই সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছি, কারণ কোনো আইন তাড়াহুড়ো করে প্রণয়ন করা উচিত নয়। বরং সবার মতামত শুনে একটি পরিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করাই উত্তম। বর্তমানে নতুন একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভুল তথ্য বা অপপ্রচার দমন করা যেকোনো সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে এ ধরনের ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। এজন্য সরকারকে একটি শক্তিশালী রিসোর্স ও রিফাইন্ড প্রসেস গড়ে তুলতে হবে, যা এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এখানে নিরাপত্তা বাহিনীর নিজস্ব ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট থাকা প্রয়োজন। একইভাবে সরকারের নিজস্ব তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এবং প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ বিভাগ থাকা আবশ্যক। অতীতে সোশ্যাল মিডিয়ার এতো বিস্তার ছিল না, ফলে ভুল তথ্য ও গুজব এত দ্রুত ছড়াতে পারত না। কিন্তু এখনকার বাস্তবতায়, এটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, এটি মোকাবিলার জন্য একটি স্বতন্ত্র সরকারি বিভাগ থাকা জরুরি, যা শুধুমাত্র সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ করবে। এর মাধ্যমে ভুল তথ্য, গুজব এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
আমাদের লক্ষ্য হলো একটি সুরক্ষিত ও নিরাপদ সাইবার স্পেস গড়ে তোলা, যেখানে স্বাধীন মত প্রকাশ ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা—দুটিই সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।
প্রশ্ন ১০ বাংলাদেশ বর্তমানে চীন-আমেরিকার মত দুই বৈশ্বিক পরাশক্তির সাথে সমানতালে/ একসঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। প্রধান উপদেষ্টা এই সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং এর জনগনের স্বার্থ বজায় রেখে কীভাবে কৌশল নির্ধারণ করছেন?
আমরা গ্লোবাল ভূরাজনীতিতে (Geopolitics) একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি চাই—সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাই। আমেরিকার সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক ভালো, তার পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও আমরা ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেননা আমেরিকা আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, তাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ। আবার, চীন একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্র (Manufacturing Hub) এবং তাদের উৎপাদন দক্ষতা আমেরিকার তুলনায় তিনগুণ বেশি উন্নত।
একটি সরকারের দর্শন হওয়া উচিত তার দেশের মানুষকে দারিদ্র্যের থেকে তুলে এনে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া। যদি আমরা দ্রুত আর্থিক উন্নতি করতে চাই, তাহলে আমাদের অসংখ্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। এর জন্য উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করতে হলে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (Foreign Direct Investment - FDI) আকর্ষণ করা জরুরি। এ কারণে প্রফেসর ইউনূস মার্চের ২৬ তারিখে চীন সফরে যাচ্ছেন (গিয়েছিলেন) এবং আমাদের লক্ষ্য ছিল চীন থেকে ব্যাপক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। পাশাপাশি, আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগও আমাদের প্রয়োজন, কারণ এগুলো আমাদের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার (Major Trade Partners)।
আমরা সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বোর্ডে কোনো পক্ষের 'গুটি' হয়ে যেতে চাই না। আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান (Strategic Location) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা এটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে চাই।
আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র (Manufacturing Hub) হিসেবে গড়ে তোলা—যা শুধু আমাদের জন্য নয়, ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য (Seven Sisters), নেপাল, ভুটানসহ অন্যান্য স্থলবেষ্টিত (Landlocked) দেশগুলোর জন্যও সুবিধাজনক হবে।
আমরা চাই বাংলাদেশ এই অঞ্চলের শীর্ষ উৎপাদনশীল দেশ হয়ে উঠুক। যা নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং আমাদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রশ্ন ১১ আপনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার সম্পদের হিসাব ও আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সামাজিক পরিসরে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা এবং প্রশংসা হয়েছে । আপনি এই সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? আপনার উত্তরসূরীদের মাঝে আর্থিক স্বচ্ছতার সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য আপনি কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
-নিজের ব্যক্তিগত অর্থের হিসাব জনসম্মুখে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা—আমি মনে করি, এটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত, যা সবারই অনুসরণ করা উচিত। আমি এটি করেছি যেন অন্যরাও এই স্বচ্ছতার (Transparency) চর্চা করেন।
আমার দেওয়া হিসাব সত্য না মিথ্যা, সেটি যে কেউ তদন্ত করে দেখতে পারেন। আমি কোনো ভুল তথ্য দিচ্ছি না, বরং আমার তরফ থেকে যথেষ্ট স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস, প্রফেসর ইউনূসও একজন স্বচ্ছ মানুষ, যার ফলে তাঁর প্রশাসনও অত্যন্ত স্বচ্ছ।
আমি চাই, যখন আমি এই পদটি ছেড়ে যাব, তখনও মানুষ যাতে বুঝতে পারে যে আমি স্বচ্ছ ছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে, আমি মনে করি গত সাত-আট মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো আয়ের সুযোগ হারিয়েছি। আগে এএফপি (AFP)-তে কাজ করে আমি মাসে সাত-আট লাখ টাকা পেতাম, আর এখানে এসে মাত্র দেড় লাখ টাকা পাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে চিন্তা করলে এটি আমার জন্য বিশাল আর্থিক ক্ষতি । হয়তো এই পদে কিছু 'সেলিব্রিটি স্ট্যাটাস' (Celebrity Status) আছে, কিন্তু এএফপি আমার জন্য অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল, কারণ সেখানের কাজটার সাথে আমি খুব ভালো করেই পরিচিত ছিলাম এবং উপার্জনও অনেক বেশি ছিল।
প্রশ্ন ১২ আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় থাকেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেন। এছাড়া, আপনার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা “ঢাকা ডায়েরি” নামে একটি সিরিজ আকারে পোস্ট করে থাকেন। এই “ঢাকা ডায়েরি” লেখার প্রেক্ষাপট কি এবং কবে আপনি একে বই আকারে মুদ্রিত করবেন?
আমার অবশ্যই ইচ্ছে আছে বই লেখার। আমি লিখতে পছন্দ করি, কারণ আমি লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে আরও গভীরভাবে অন্বেষণ করতে পারি। লেখার সময় আমি নিজেকে আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করাই—একটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সমস্ত পক্ষপাত এর পাশাপাশি অপ্রকাশিত সত্যগুলো দেখতে পাই। অনেক সময় মানুষের মাঝে মিথ্যা বলার প্রবণতা আসে, কিন্তু লেখাই সেটাকে সত্যে পরিণত করার সুযোগ দেয়। আমি এই প্রক্রিয়াটি উপভোগ করি। আমি চাই একজন ভালো লেখক হতে। আমি পড়েছি যে ভালো লেখক হতে চাইলে, লিখতে হবে, লিখতে হবে, এবং লিখতে হবে। আর যদি সন্দেহ হয়, তাহলে আরও বেশি লিখতে হবে। কারণ, যত বেশি লিখবে, ততই উন্নতি হবে।
আমার "ঢাকা ডায়েরি" লেখার মূল অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম হাসিনা আমলের সময়। কারণ, অনেক গল্প আমি সংবাদে প্রকাশ করতে পারতাম না। এএফপি (AFP) প্রতি সপ্তাহে মাত্র সাত-আটটি স্টোরি নেয়, কিন্তু আমার কাছে ছিল অসংখ্য স্টোরি। আমি সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়িয়েছি, অনেক অদেখা বাস্তবতা দেখেছি, যা সাধারণ সংবাদ প্রতিবেদনে তুলে আনা সম্ভব ছিল না। এই জন্যই "ঢাকা ডায়েরি" এবং "ভিলেজ ডায়েরি" লিখতে শুরু করি।
শহুরে জীবনের পাশাপাশি গ্রামের জীবন ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে—এই পরিবর্তনগুলোর গভীরে আমি যেতে চেয়েছি। যেমন, একজন মেয়ে হয়তো হিজাব পরছে, আবার একই সঙ্গে লিভ-টুগেদার করছে, এমনকি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর মধ্য দিয়ে সন্তানও নিচ্ছে।
এই যে বাংলাদেশের সামাজিক দ্বৈততা বা সোশ্যাল ডাইকোটোমি—আমরা একদিকে একরকম বাংলাদেশ দেখি, কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ অন্যরকমভাবে বদলে যাচ্ছে। এই সোশ্যাল ট্রেন্ড সাধারণ রিপোর্টিং-এ পাওয়া যাবে না। আমি যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলি, ঘটনা দেখি, তখন বুঝতে পারি একটি ঘটনার একাধিক রূপ আছে। আমি চাই সেই বহুমাত্রিক রূপগুলো সকলের সামনে তুলে ধরতে
#তাহলে বইমেলাতেই কি আপনার লেখা বই আসছে?
অবশ্যই লিখব। আমার মূল লক্ষ্য প্রচুর লেখা। যদিও এই পদে আসার পর আমার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা (Restriction) এসেছে, তারপরও আমি লিখব।
কারন আমি চাই আরও বেশি এক্সপ্রেসিভ হতে-আমি চাই সকলের সামনে একদম উন্মুক্তভাবে দাঁড়াতে। সবাইকে আমি বলতে চাই “এই আমি, এখানে কোনো লুকোচুরি নেই। তুমি আসো, দেখো—আমি কিছু লুকাইনি।”
প্রশ্ন ১৩ নটরডেম ডিবেটিং ক্লাব ৭২ বছর ধরে যুক্তির আলো ছড়িয়ে আসছে এবং এ বছর প্রকাশিত হচ্ছে ৩৪তম বার্ষিক প্রকাশনা “দ্বৈরথ”। একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে আপনি ভবিষ্যতের সাংবাদিক হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কী পরামর্শ দেবেন?
যেসকম শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যে আমি একজন সাংবাদিক এবং লেখক হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতে চাই—আপনারা প্রচুর লিখুন।
আপনার চারপাশে যা দেখেন, তা লিখুন— হিউম্যান রিলেশনশিপ, পারিবারিক কাঠামো (Family Setup), সমাজের পরিবর্তন, ন্যায়-অন্যায় সবকিছু লিখুন। কারণ, একজন ভালো সাংবাদিক হওয়ার প্রথম শর্তই হলো পর্যবেক্ষণ এবং সেটিকে ভাষায় রূপ দেওয়া। আমি চাই, আপনারা সত্যকে অনুসরণ করুন। কারণ, সাংবাদিকতা মানে শুধু সংবাদ প্রকাশ করা নয়, বরং সত্যের গভীরে গিয়ে সেটি অনুসন্ধ্যান করে সেটিকে প্রকাশ করা।
তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আপনাকে দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহ বা বিশ্লেষণের জন্য নয়, এটি একটি দায়িত্ব। আপনার কলম দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়াবে, নিপীড়িতদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।
আমি সবসময় বিশ্বাস করি—শুধুমাত্র নিজের জন্য, নিজের স্বার্থ নিয়ে বেঁচে থাকা অর্থহীন এবং সাংবাদিকতা মানেই হলো দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো তাই, নিজেকে শুধুমাত্র একটি ক্যারিয়ারের জন্য নয়, বরং একটি আদর্শের জন্য প্রস্তুত করুন।