গণিতের সব চাইতে দুরূহ যেই সব বিষয়-আদি, অর্থাত বই আর নিবন্ধ, তারাই হয় গণিত চর্চার মূল তাত্ত্বিক পাটাতন, এবং একি সাথে ভাষাগত প্রধাণ অবলম্বন| আমরা সবিস্তারে আলোচনা করেছি যে কোনো একটা ভাষায় গণিত চর্চা কেমন নিবিঢ় ভাবে সেই ভাষার বিকাশ এবং বাচিক শক্তির সাথে জড়িয়ে আছে| গণিত চর্চা সুষ্ঠ ভাবে করতে হলে প্রথমেই দরকার কিছু আকড় গ্রন্থের|
মজার ব্যাপারটা হলো যে সাধারণ বাঙালি পাঠক, যে উচ্চতর গণিত বাংলা মাধ্যমে খুব একটা দেখেনি, তার কাছে উচ্চতর গণিতের বই দুর্বোধ্য ঠেকতে পারে| তাই তার প্রথম পাঠ হবে, ওপরের ছবির নিচের দিকের শাখায় বসানো লেখালেখিগুলি|
এমনটা যুক্তি-বিরুদ্ধ লাগতে পারে যে যেই ভাষা-গোষ্ঠির মধ্যে উচ্চতর গণিত চর্চার একান্ত অভাব আছে, তাদের মধ্যে গণিতের প্রসারের কাজে সব চাইতে কঠিন কাজটা দিয়ে কেন শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে| এর কারণ হলো যে পাঠক হিসাবে আমাদের পাঠ্য-রুচি সহজ থেকে কঠিনতর-র দিকে ওঠে, কিন্তু লেখক আর চিন্তক হিসাবে গাণিতিক চর্চা বইবে উল্টো মুখে, অর্থাত কঠিন থেকে সহজতর স্তরের দিকে|
গাণিতিক চিন্তাকে আমরা বিভিন্ন পরিভাষায় আটক করি, বিভিন্ন বিধানের মারফত দূরবর্তী নানান ধারণাকে সম্পর্কবদ্ধ করি| যারা গণিতের এই তত্ত্ব-বিশ্বকে বিভিন্ন স্তরের পাঠকদের কাছে পেশ করতে চান, তাদের অর্থাত গণিত-উপস্থাপকদের প্রয়োজন হচ্ছে গণিতের একটা বিস্তীর্ণ আর সার্বিক ধারণা পোষণ করে রাখার|
আমরা সবিস্তারে আলোচনা করে দেখবো যে কিভাবে গাণিতিক পরিভাষা আরোপিত নয়, বরং গোড়া থেকে চর্চার হাত ধরে আবির্ভূত হয়| সাধারণ পাঠকদের জন্যেও আমরা যখন গণিত নিয়ে লিখবো, আমাদের নাম-চয়ন আর ভাষার বাঁধুনি, সেটা নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসতেই হবে| সেই সিদ্ধান্ত সঠিক পথে নেওয়া হবে তবেই, যদি গণিতি লিখিয়ে সেই বিষয়ের গোড়া থেকে যেই আলোচনা শুরু হয়েছে তার সম্পর্কে অভিহিত থাকে|