22-23/06/2021
আজ অনলাইনে গড়বেতা খন্ডে শিবাজী উতসব পালিত হল | বৌদ্ধিক দিলেন দুলালদা | দুলালচন্দ্র নস্কর | দীপ একক গাইল | আমি প্রার্থনা করলাম| মোটামুটি 20 জন অংশগ্রহণ করেছিল |
গত কাল একই অনুষ্ঠান রাজ্যব্যাপী হয়েছে| সেখানে প্রান্ত প্রচারক জলধরদা বৌদ্ধিক রেখেছিলেন | মনোজ্ঞ |
কাশীদা ফোন করেছিলেন, আক্ষেপ করছিলেন, অভিমানী অভিযোগও বলা যায় আজ লিঙ্ক পান নি | পেলে হয়তো অংশগ্রহণ করতেন | এরকম হওযার কথা নয়, খন্ডের প্রতিটি স্বয়ংসেবকের কাছেই লিঙ্ক যাওয়া উচিত |
পরেরবার যাতে আর ভুল না হয়, তার জন্য শুভজিতকে জানাবো বললাম |
মানুষের অন্তর্নিহিত দেবত্বের বিকাশ করাকেই স্বামী বিবেকানন্দ ধর্ম বলেছেন | তিনি বলেছেন, ধর্ম এমন একটি ভাব যা, পশুকে মানুষে এবং মানুষকে দেবতায় উন্নীত করে |
কিন্তু কীভাবে ? কী করলে মানুষ দেবতায় রূপান্তরিত হবে ? সেব্যাপারে আমরা কেউ চিন্তা বা চেষ্টা কিছুই করি না | শুধু প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংকীর্ণতা ও অসারতা দেখিয়ে নিজেদেরই পরোক্ষে হীন প্রতিপন্ন করি ||
আমরা একবারও ভাবি না শ্রীরামচন্দ্র, রামকৃষ্ণ বা শ্রীচৈতন্য কেউ দেবতা হয়ে আসেন নি | মানুষ হয়েই এসেছিলেন | শুধু কিছু গুণাবলী তাদের দেবতার পদে অভিষিক্ত করেছে |
শ্রীগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ26টি গুণের কথা বলেছেন, যেগুলি অর্জন করলে একজন মানুষ দেবতা বলে গণ্য হবেন |
এই দৈবী গুনগুলির দু-একটিও যদি সঞ্চয় করতে পারি, তা আমাদের জীবন বদলে দেবার পক্ষে যথেষ্ট |
গীতার 16 অধ্যায়ের 1ম,2য়,3য় শ্লোকে যে 26টি গুণের বর্ণনা আছে, তার অনুশীলনে মানুষ দেবতার আসন পাবেই , তাই এগুলিকে দৈবী সম্পদ বলা হয়েছে | সেই গুনগুলি হল, অভয়,শুদ্ধ অন্তঃকরণ, জ্ঞানযুক্ত থাকা, দান করা,বাহ্য ইন্দ্রিয় সংযম, কর্মানুষ্ঠান করা, স্বাধ্যা|য় - অধ্যয়ন, চিন্তন, মনন করা, তপস্যা, আর্জবম্ বা সরলতা, অহিংসা (অন্যকে পীড়া না দেওয়া), সত্য পালন, ক্রোধ না করা, কামনা বা কর্মফল ত্যাগ, শান্তি রক্ষা, অপৈশুনম্ ( পরনিন্দা বর্জন) , দয়া বা উদারতা, অলোলুপ্ত্বং (লোভ না করা ), মার্দবম্ বা মৃদুতা, হ্রীঃ অর্থাত , লজ্জিত হবার মতো কূকর্ম না করা, অচাঞ্চল্য, তেজস্বীতা, ক্ষমা করা, ধৃতি, শৌচ, অদ্রোহ (জিঘাংসা না করা), নাতিমানিতা (অভিমান বা অহংকার নয়) |
পড়তে বা শুনতে বেশী সময় না লাগলেও এই গুণগুলি আয়ত্তে আনতে একজন মানুষের সমগ্র জীবন লেগে যেতে পারে |
যে যার মতো করে তাই এই গুণগুলি অনুশীলনের সহজতম পন্থা খুঁজে নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারলে, তবেই এই দৈবী সম্পদের অধিকারী হবেন মানুুষ |
বিগত বেশ কয়েক দশক ধরে বলিউডি সিনেমাগুলির ভেতরের দিকে যদি দেখি, দেখতে পাবো, সেখানে সুকৌশলে ধাপে ধাপে সনাতন হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেব-দেবী, ধর্মগ্রন্থ - কখনো মহাদেব, কখনো গীতা, রামায়ণ, মহাভারত, কখনো জ্যোতিষ শাস্ত্র, হিন্দু দর্শনগুলিকে অপমান করে, ছোট করে দেখানো হচ্ছে |
বারবার দর্শককে দেখানো হচ্ছে সনাতন ধর্মে এমন কিছু, যাতে মানুষ মনে করে হিন্দু ধর্ম ভালো না, খারাপ| তাদের অর্জিত ধারণাগুলির মূলে কুঠারাঘাত করতে করতে একসময় মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করার এ এক গভীর ষড়যন্ত্র |
সম্প্রতি একটি ফিল্ম তৈরী হচ্ছে , একটি সাধারণ প্রেমকাহিনী যার উপজীব্য| কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তার এমন একটি নাম দেওয়া হয়েছে, যাতে হিন্দু ভাবাবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হয়, যাতে হিন্দু ধর্মকে লঘু প্রতিপন্ন করা যায় |সিনেমার নাম, "সত্যনারায়ণ কথা" | প্রোডিউসারের নাম সাজিদ |
আমরা প্রত্যেকেই সত্যনারায়ণ কথার মাহাত্ম্য জানি | আমাদের প্রায় 100 শতাংশ হিন্দু পরিবারে মা-ঠাকুরমারা প্রায় পূর্ণিমায় এই সত্যনারায়ণ ব্রত উদযাপন করেন |
সনাতন ধর্মে সত্যের পূজা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে |নারায়ণের অষ্টোত্তর নামের এক নাম সত্য, সত্য নারায়ণ| মোকাম, সিন্নির সাতে সেই সত্য নারায়ণ পাঁচালী পাঠ ব্রতের একটি অঙ্গ |
পাঁচালীর কিয়দংশ তুলে ধরছি দেখুন -
ভরদ্বাজ মুনি সত্য পূজা প্রচারিল/ ভৃগু আদি মুনি সত্যে যতনে পূজিল |
সত্যযুগে তপোবনে পুজার প্রচার/ ত্রেতায় দেবকন্যা করে পূজন আমার ||
দ্বাপরে চন্দ্রসেন রাজা আমারে পূজিল /কলিতে যে পূজিবে তার ঘটিবে মঙ্গল |
বড় - ছোট ভেদ নাহি সত্য দেব স্থানে /প্রসাদ বাটিয়া দিবে যতো ভক্তজনে |
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য শূদ্র চারি জাতি /এক ভক্তি রাঘিবে সত্যনারায়ণ প্রতি ||
সনাতনী শ্রদ্ধার সেই নাম সত্যনারায়ণ কথা ব্যবহার করে প্রোডিউসার সাজিদ এই ছবি কেন বানাচ্ছেন প্রচারের জন্য |আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র, পূজার পাত্রকে নিয়ে ব্যবসা করার অপচেষ্টা কে করছেন সাজিদ |
শুধু ব্যবসা করার চেষ্টাই করছেন না, সাজিদের মতো লোকেরা টাকার লোভে গোপনে বার বার হিন্দু দেব-দেবীদের অপমান করে ভারতবর্ষের মূল্যবোধকে, সংস্কৃতিকে, ঐক্যকে ধ্বংস করে দেবার একটা ধারাবাহিক নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছে |
বিশ্বের সমস্ত সনাতনী ভাই-বোনেদের কাছে অনুরোধ , যার যেমন সামর্থ্য আছ, সেইমতো প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ করুন, সাজিদদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন |
হিন্দী তে একটা কথা আছে লাথো কা ভূত, বাতো মে নেহি মানতি| আদালত কেস করুন, সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তুলুন, ধর্মরক্ষার জন্য অস্ত্রধারণ বিধিসম্মত | নিদেনপক্ষে এই লেখাকে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন |
জয় হিন্দ, জয় ভারত, ভারত মাতা কি জয় |