Check out my sample works. Added a short portion from the actual works.
বাবু স্ট্রিট, কোলকাতা, ১৯৪২।
বরষা বিকেলে বরষণের ঝুমঝুম বোল কানে বাজছে। বেলকনিতে চায়ের কাপ হাতে ইজিচেয়ারটায় হেলান দিয়ে বাড়ির গেটের ধারের কদম ফুল গুলো চোখে নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে নিখিলেশ বাবুর দৃষ্টি বেশ ঝাপসা হয়ে এল। বৃষ্টিস্নাত কদম গাছটা মনের আনন্দে ভিজছে যেন নজরুলের বৃষ্টির গানের তালে নাচতে থাকা এক সুন্দরী রমনী। নিখিল বাবুর চোখ ভিজে এলো হঠাৎ করেই। ভেজা ঝাপসা চোখে যৌবনের সুখময় সেদিনগুলো ছবি হয়ে ধরা দিল বলেই হাত বাড়িয়ে আজ আর চোখ মুছতে উদ্দত হলেন না। বুদ হয়ে গেলেন অতীতের মহাসমুদ্রে।
তপ্ত দুপুরের তেজী সূর্যের মত ছিল তাঁর ইচ্ছাশক্তি যা তাঁকে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা সফলকাম হয়ে গড়ে উঠতে জ্বালানি সরবরাহ করেছিল। মাঠের পরিচর্যায় ভরে উঠেছিল তাঁর গোলা, গোয়াল ভরে উঠেছিল গরু গাভীতে, ছোট গেরস্তের বাড়ি হয়ে উঠলো বেশ বড়সড় গেরস্তের বাড়িতে। তালুক ক্রয়, তারপর আরও পরিশ্রম এবং আরও তালুক ক্রয় এমনিভাবে তাঁর সফলতা যেন ভাগ্য দেবতা স্বয়ং তাঁর বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। এক সময় এলাকার চৌধুরী মহাশয়ের ক্ষুদ্র জমিদারি ক্রয় করে ফেললে, ভাগ্যপ্রদীপ তাঁর বেশ জমকালোভাবেই জ্বলে উঠেছিল। এবার গেরস্তের বাড়ি হয়ে উঠলো এক জমিদার বাড়ি। কাটানো হলো বেশ বড় আকারের এক পুকুর, গাঁয়ের সবার জন্য করা হলো উন্মুক্ত, পানি পেয়ে এলাকার মানুষ ধন্য ধন্য দিতে লাগল নতুন জমিদার মশায়ের। এক পুকুরে এলাকার মানুষ আর বাড়ির লোকের আর চলে নাহ; কাটানো হলো আরও একটা পুকুর। ক্ষুদ্র সে জমিদারি ক্রমশ বেড়ে দ্বিগুণ, তিনগুণ আকার ধারণ করল।
বাড়িতে বসে জমিদার বাবু চাকর পেয়াদাদের দিয়েই জমিদারি চালাতে লাগলেন, তবে প্রায়ই জমিদারি এলাকা নিজ উদ্যোগে ভ্রমণ করেন, প্রজাদের সুখ দুখের সংবাদ নেন এই মধ্যবয়সী প্রজাহিতৈষী জমিদার। ফসল উৎপাদনের ভিত্তিতে কর নেন, জুলুম তাঁর অঞ্চলে নিষিদ্ধ করে দিলেন।
অতি নিকট শুভাকাঙ্ক্ষীবর্গ এতদিনে জমিদার মহলে একজন কর্ত্রীর অভাববোধ করায় জমিদার বাবু সেটারও যথাযথ ব্যবস্থা নিলেন, কয়েক বছরে বাড়িতে বাচ্চাদের লেখাপড়ার জন্য অধ্যক্ষ নিয়োগ হলো, জমিদার বাড়ির দ্বিতল অট্টালিকার সংখ্যা বেড়ে উঠলো এবং আজ দু মাস হলো জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব সুষম বণ্টন নির্ঝঞ্ঝাট হয়েছে এই অট্টালিকাগুলোর মাঝে।
বয়োবৃদ্ধ নিখিলেশ রায় বাহাদুর মহাশয় দু চোখে সামনের ঝাপসা কদম গাছটা এবারে লক্ষ্য-গোচর করতে পারছেন। দু ফোটা অশ্রু ভার বইতে না পেরে ঝরে পড়েছে বুকের জামায়। ধুতির খুট দিয়ে ভালো করে মুছে পরিষ্কার করে ফেললেন, কারণ যা ঝরে যায়, তা নিয়ে মাথা তিনি কখনো ঘামাননি, আজও নয়। সুখের অশ্রু ঝরে পড়েছে, সাক্ষী রইলো তারার মত জ্বলতে থাকা কদম ফুল গুলো। নিখিল বাবু
সেপ্টেম্বর ১৯৪৭। রায় বাহাদুর জমিদার বাড়ির মূল ফটকে আধারে কে বা কারা এক ছত্র কাগজ এটে গিয়েছে এমন এক খবর ভোরের দোয়েলদের সঙ্গে করে পেয়াদা এসে খবর দিল অন্দর মহলে। মুহূর্তে রটে গেল জমিদার বাড়িতে, রাষ্ট্র হয়ে গেল পুরো এলাকায়। কী লেখা ছিল?
বুড়ো জমিদার বাবু বিচক্ষণ লোক বলা বাহুল্য। সমস্ত বাঁধা হয়ে গেছে, দশ বারোটা গাড়ি জমিদার বাড়ির সামনে লাইনকে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন চিত্র দেখা গিয়েছিল জমিদারের বড় পুত্রের বিয়েতে। তবে সেদিনের সাথে অমিল এই যে, আজ ঢাকঢোল নেই, নেই কর্ণেটের আকাশভেদী সুর, নেই আলোকসজ্জা, নেই সেই রমরমা আবহাওয়া। আজ লোকসমাগম রয়েছে পার্থক্য এই আজ সেজে গুজে আসলে নি কেউ, আসেনি কেউ আনন্দ মিছিল করতে, উলু ধ্বনি দিতে। এসেছে যেন শবযাত্রায় মুখে অঞ্চল ঢেকে চোখে রক্ত আবির মেখে।
বেলা এক প্রহর নাগাদ সবাই বেরিয়ে পড়ল ফটক অভিমুখে। চারিদিকে নিস্তব্ধতা, যেন ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক এই নিস্তব্ধতাকে ছিদ্র করে কান পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে যা এ বাড়িতে কখনো হয়নি। শূন্য বিশাল বাড়িতে আচমকা হাহাকার বেজে উঠল। কিন্তু কেউ কান মেলে চোখ তুলে দেখার ফুরসত পেল না। প্রাক্তন জমিদার নিখিল বাবু রয়েছেন সবার শেষে, উত্তর বাড়ির পুকুর ঘাটে আজ হতে আর বসা হবে না ভেবে বুকটা হাহাকার করে উঠত হয়ত কিন্তু তা ইতোমধ্যে পাথরে পরিণত হয়েছে। শীঘ্র সেখান থেকে ভেতর বাড়িতে প্রবেশ করল, দু দিকে দ্বিতল ভবন। পশ্চিমের কোণার ছোট পুত্রের ঘর হতে বুঝি বিরহের গান কানে ভেসে আসছে, এবারে আর রাগ তাঁর মনে স্থান পেলো না, ভাবলেন এ ই হয়ত সঠিক বাজনা অন্তত আজকের জন্য। ভেতর বাঁধানো উঠোন টুকু আজ হতে লোকের অভাবে খাঁ খাঁ করবে জেনেও তাঁর পাথর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলো না। বাড়ির পাশ দিয়ে তাঁর নিজ হাতে লাগানো আকাশচুম্বী আমগাছ গুলো আজকের দিনটায় মাটির বুকে চোখ অবনত করতে পাপ বোধ করছে, আজ হতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা আর মাটির বুকে চোখ রাখবে না পাছে এহেন হাহাকার রাজ্য অবলোকন হয়।
বাহির বাড়িতে এসে চোখ পড়ল পুজোর ঘরে, পুজোর ঘরটায় দেবী স্বয়ং অন্য পথে চোখ পেতেছেন দেখে জমিদার বাবুও মুখ ফেরালেন। কাচারি হতে একজনকে পাথর চোখে দ্রুত পদে এগিয়ে এসে হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। এই প্রথম এবং হয়ত শেষবার জড়িয়ে ধরবার মত আস্পর্ধা দেখাতে পারল বন্ধু সমতূল্য বাড়ির সবচেয়ে প্রবীণ চাকর কাদের মিয়া। Read More.
[এটি স্যাম্পল অংশ মাত্র]
~ নাঈম এম ইসলাম
লেখা শুরুঃ ২৫/৮/২০২০
[This page is currently under maintenance]
"মেহের নিগার,
কল্পতরুর মত নুইয়ে রবে যখন, তখন দর্শন না দিলেই পারতে। জীবনানন্দের সঙ্গিই না হয় হতাম!
রাত্রির গভীরতা মেপেছো কখনো? ঝিঁঝিঁ পোকাদের গল্প শুনতে কেমন লাগে? জোনাকীদের গান শুনতে আবেগের প্রয়োজন হয় না, জানো?
আচ্ছা, দখিনা বাতাসে পূর্ণিমার জ্যোৎস্না গায়ে মাখতে কেমন চাঞ্চল্য বোধ করো? শ্রাবণের মেঘের ঝুমঝুম বৃষ্টির বোল শুনতে শুনতে বিভোর হতে ইচ্ছে হয়? কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কদমফুল হাতে কোনো এক নির্জন মেঠো পথে কাঁদায় মাখামাখি হয়ে বহুদূর হেঁটে যেতে চাও?
মেহের, ব্যস্ত নগরীর রাজপথ যখন বিশ্রাম নেয়, মধ্য রাতে সে পথে হাতে হাত রেখে অনির্দিষ্ট গল্পে মত্ত হয়ে পথ চলেছো কখনো? সুযোগ পাও যদি তবে কেমন অনুভূতি হবে বলতো?
হঠাৎ একদিন অফিসের কাজে বেশ রাত করে ফিরলে তুমি রেগেমেগে অস্থির না হয়ে শান্ত মেয়ের মত সেজেগুজে একা একা বাসায় বসে থাকতে পারবে? ছোট এক গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধা হাতে ফিরব, নাহয় ভুলেই যাব আনতে! রাগ করবে খুব?
নববর্ষে পরনে লাল-পেড়ে সাদা শাড়ি, হাতে কাচের হরেক রঙের চূড়ির রিনঝিন শব্দ, খোপায় বেলীফুলের সুবাস ছড়িয়ে সারাদিন উদ্যানে, ক্যাম্পাসে, রমনায় বাসাহীন পথিকের মত, ভবঘুরে দেউলিয়াদের মত ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ এলে তুমি চঞ্চলতায় ভরে উঠবে না?
কোনো এক ছুটিতে গ্রাম্য বঁধুর সাজ সেজে পড়ন্ত কোনো বিকেলে গাঁয়ের ধারের নদী বা পুকুর পাড়ে দুজনে পাশাপাশি বসে সূর্যাস্ত দেখবে, ভাবতেই হৃদয়ে পুলক জাগে?
'তোমায় নিয়ে নাউ ভাসিয়ে যাব তেপান্তর
ভালোবাসার ঘর বানিয়ে , হবো দেশান্তর!'
যাবে?
ইতি
তোমার অতি আপন একজন"
চিঠি পড়া শেষ করে ভাজ করে জানালায় দূর অন্ধকারে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো, "কে হতে পারে? কে লিখতে পারে? সাজিদ? নাহ! এমন লেখা সাজিদের নয়। তবে কার? তবে কী শুভ্র?"
সে ভেবে পায় না।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তার ভ্রম ভাঙে। "ওরে বাপরে! তিনটা বেজে গেছে। সাড়ে আটটায় ক্লাস! এডি স্যারের! দেরি হলে ঝাড়ি নিশ্চিত!"
এসব করতে করতেই মেহেরিন বেডে শুইয়ে পড়ে
Read More.
~ নাঈম এম ইসলাম
লেখা শুরুঃ ৩১ মে ২০২০- এখনো চলমান