Welcome to my World of Imagination
A list full of "spontaneous overflow of powerful feelings".
আমি উন্মাদ!
আমি শরাব-পেয়ালায় চুমুকে তুলি ঝড়,
আমি তুফানের গতি রোধ করি আমি চিৎকারে দিই হুঙ্কার।
আমি পাষাণবেদীতে করি অর্ঘ্য দান, নিষ্ঠুরে করি অসম্মান
আমি দ্বীন মানব আমি রসনা বিলাসী অতীত আলোয় করি রাত্রি যাপন।
আমি চিৎকার করে কাঁদতে না পেরে আঁধারে দিই ঝাপ
জোনাকির সাথে ঘুরেফিরি আমি রাজত্বে নমি যত পাপ!
আমার কোমল হৃদয়ে করি চপেটাঘাত ধ্বংস বলি দিই স্বার্থবাদ
আলোর পিয়াসীর প্রেমে মত্ত হয়ে মাতাল বনে পাই যত্ত স্বাদ!
আলোর দিশারীর কপোল হতে আমি মুছে দিই যত কলঙ্কের ছাপ
অন্ধ দোকানী দোকান খুলে বসি সিঁদ কেটে যায় যত বদের বদ!
আমি রাত্রি নিশীথে অতীতের গানে ছাড়ি উন্মাদ প্রেমিকের স্বর
চক্ষুশূলের বেদনায় জ্বলি দগ্ধ হয়ে করি যামিনী পার।
আমি উন্মাদ এক..!
করি মদের বোতলে চুম্বন শত পায়ের তলায় উঠে ভূমিকম্প
নজরুলের পথে পা বাড়াই আমি অন্তরে নমি জীবনানন্দ।
বলি, ছিড়েখুঁড়ে সব বন্ধন সেই যে পিয়াসী তুমি করে দিলে হায় ছিন্ন সকল সম্বন্ধ
রজনী যে 'মার ঠুকে ঠুকে মরে শত রন্ধ্র করে দিলে বন্ধ!
আমি উন্মাদ! আমি মাতাল!
আমি জলোচ্ছ্বাসের বুক শূন্য করি
আমি খুঁজে বেড়াই চির-সমতল!
~নাঈম এম ইসলাম
২৫শে মে, বিষেভরা বিশ।
নরদানব আর নরপিশাচে ছেয়ে গেছে পথ আজ
মানুষ কেমন মানুষ খেকো
সভ্যতা যেন বিকলাঙ্গ আজ।
বাঁ দিকে লাশের গন্ধ, ডানে ধেয়ে নৃত্য চলে,
উত্তরে যুদ্ধ, পশ্চিমে বয় স্বৈরতন্ত্র!
আনন্দ মুছে গেছে, ভয় যেন প্রতিদিনের খাদ্য,
এই মাটির বুকে রক্তের দাগ আঁকছে নতুন মানচিত্র।
ঢাকার রাস্তায় ধোঁয়া আর আগুনের উল্লাস,
আন্দোলনের শ্লোগান চিরে দিচ্ছে আকাশ।
পলাশী মাঠের ইতিহাস যেন ফিরেছে আবার,
হাজার তরুণ বুক চিরে হাঁটছে মৃত্যুর দ্বার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো নিস্তব্ধ রাতের মতো,
ছাত্ররা খুঁজে ফেরে নিরাপত্তার আলো।
কিন্তু লাঠি, গুলি, বোমা আর আগুন
শুনিয়ে দেয় ক্ষমতার অট্টহাসি
যেন শিক্ষা নয়, মৃত্যু আজ পাঠ্যবইয়ের পাতা।
মায়ের কোল খালি হয়, বাবার চোখে জমে যায় পাথর,
শহীদ মিনারের পথ ধরে নামে নতুন রক্তধারা।
পতাকার লাল যেন হয়ে ওঠে আরও লাল,
যুবকের শিরায় আগুন
তবুও ভাঙা স্বপ্নে খোঁজে স্বাধীনতার পাল।
এই দেশ কি তবে কেবলই রক্তের পিপাসু?
কত আন্দোলন, কত প্রতিরোধ
তবুও দাঁড়ায় না মানুষের সরকার,
তবুও শাসকের ভোজে নেচে ওঠে মৃত্যুর বাজার।
~নাঈম এম ইসলাম
১/৯/২০২৫
মানুষ, তোমরা মানুষ কবে হবে?
আবার কবে শকুন গুলো স্বাধীনতা পাবে?
আর কবেইবা কুকুরগুলো শান্তি খুঁজে পাবে?
পরের অর্থ, পরের ভূমি কবে তুমি ছাড়বে?
কাক গুলো তাই মিটিং করল তাদের তোমরা মারবে!
শেয়াল বলল, 'স্বভাবগুলো ফেরত কবে দেবে?'
তোমরাতো ভাই সেরা মাখলুক সৃষ্টি সেরা জীব!
তোমরা কেন পশুর রাজ্যে রাখো তোমার জিব?
মানুষ তোমরা মানুষ হও পশুত্বকে ছাড়ো
পশুর স্বভাব ফিরিয়ে দিয়ে মনুষ্যত্ব গড়ো।
আমি বিড়াল ক্ষুদ্র প্রাণী অতি ক্ষুদ্র মিউ!
আমার খাদ্য, আমার স্বভাব কেড়ে নিলে তাও?
নাঈম এম ইসলাম
(দু'হাজার উনিশের শেষে লেখা।)
পূর্ণিমার আলোয় মেঘনা যেন ঈশ্বরের খোলা গ্রন্থ,
আর চাঁদের আলোয় ঝলমলে প্রতিটি ঢেউ একেকটি অক্ষর, মিলে একগুচ্ছ মন্ত্র।
যা পড়লেই বোঝা যায়ঃ
সমস্ত প্রেম আসলে সময়ের ছায়া মাত্র!
যা চিরন্তন কিন্তু অপ্রকাশিত।
একদিন যখন আমি বললাম, “তুমি কি আমার গানের সুর হবে?”
তুমি লজ্জাবনত নীরম রইলে
কিন্তু আমি বুঝে নিয়েছিলাম,
তোমার নীরবতা আসলে ছিল শব্দের চেয়ে প্রবল;
তোমার লজ্জাবনত চোখে -অদৃশ্য প্রাগৈতিহাসিক প্রেম,
যেন রসায়নের ধাতু !
যেখানে আকাঙ্ক্ষা গলে যায়, হতে থাকে চিরন্তন সোনা।
ভেবেছিলাম, এইতো স্বর্গ পাওয়া।
তারপর গেল বহুদিন...
কিন্তু তুমি হঠাৎ একদিন বলে দিলে,
“আমাদের আর কথা বলা উচিত নয়।”
জানলাম তোমার নীরবতার সত্য মানে।
আমি তখন বুঝলাম,
প্রেমের পরীক্ষা হলো বিচ্ছেদ,
যেমন আগুনে সোনা শুদ্ধ হয়,
তেমনি দূরত্বেই সত্যিকারের প্রেম দীপ্ত হয়।
আজ আমি দাঁড়িয়ে জাহাজের ছাদে,
পরিষ্কার আকাশে চাঁদের দিকে তাকিয়ে
হয়তো তুমিও পৃথিবীর কোনো প্রান্ত থেকে দেখছো চাঁদ।
ভাবছি, যেন দুটি আত্মার মহাজাগতিক ভারসাম্য হলো আজ
স্থির এক চাঁদের দিকে তাকিয়ে।
এইতো হলো মিলন। না?
আমাদের মিলন হলো গোপন জ্যামিতি্র সূত্রে
যেখানে দূরত্বও কেবল এক প্রকার ত্রিভুজের খেলা।
দুজন দুই প্রান্ত হতে এক বিন্দুয় তাকিয়ে।
সেই মুহূর্তে আমি উপব্ধি করলামঃ
শরীর কেবল খোলস,
প্রেম কভু নয় শুধু দেহেরই বন্ধন;
দূরত্ব কেবল পৃথিবীর কৌশল,
এ মহাজাগতিক রসায়নের সঙ্গীত,
যেখানে আত্মা ও সময় একে অপরকে চিনে নেয়।
আজও মেঘ্নার এই ঝলমলে ঢেউ প্রতিমুহুর্তে ফিরে আসছে,
প্রতিটি ঢেউ নতুন, প্রতিটি ভিন্ন হয়ে।
তেমনি তুমি ফিরে আসো আমার ভেতরে
আলো হয়ে, ছায়া হয়ে,
অদৃশ্য সমীকরণের অংশ হয়ে।
এভাবেই আমরা চিরকাল পাশাপাশি,
একই মহাজাগতিক সমীকরণের ছায়ায়।
~নাঈম এম ইসলাম
But she walks away, her I cannot see.
Up above th' sky, she like the moon arises
I see her, I dream her as she comes to dreams.
Adores me she, soothes my eyes
I loss her as I awake, she leaves me as she flies
I no more see her, she goes beyond my reaches.
My pleasure gets dark as she retreats
Dream comes not true, dream as dreams!
I fall lonely as do I all the time.
Time flies, but she arises not in my sky
Time falls sick, time dies:
End of my pleasures ends my rhyme!
~ Naim M Islam
22 September 2021
অসুখে পড়েছি কবিতা লিখব তাই
কিন্তু বেজায় রিক্ত মরু, তরুহীন প্রান্তর
বেঁচে থাকাই বড় দায়!
কবিতা অন্তর থেকে দূরে সরে গিয়েছে
মনের জানালায় দেখেছি, ট্রেন তার যাত্রী নিয়ে চলে গিয়েছে পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে
কবিতা আমার শরীর করেছে ত্যাগ
কবিতার ট্রেন লাইনচ্যুত আজ
অসাড় দেহ পড়ে আছে, চোখে পড়েছে বাজ!
অসুখটা বেশ গাঢ় হয়েছে, ঘুমের হৃদয় ভগ্ন
ঝিঁঝিঁ পোকারা গল্প ছলে শোনায় কবিতার ছন্দ।
কবিতা লিখতে বসেছি তাই আজ বেজায় গ্রীষ্মকাল
চেয়ে দেখো ভেতরে খরায় চৈত্রের টান,
অনটনে আজ দুর্ভিক্ষ দিয়েছে ধরা
মাঠ হয়েছে ফসলশূন্য, শুকিয়েছে নদী আর খাল।
অসুখে পড়েছি তাই পৃথিবীতে আজ অকালসন্ধ্যা
অস্তমিত আজ সকল আলোকসজ্জা
কবিতার মহামারী! ফসলী মাঠও হয়ে পড়েছে বন্ধ্যা!
"ভালো আছি বলি কিন্তু ভালো নেই"—এইতো কবিতার নাম
কবিতা আমার লেখা হয়েছে
আধার ঘনিয়েছে চোখের কোটরে
পত্র পাঠাব? নেই যে কোনো খাম!
আসলেই ভালো আছি দেখো
কিন্তু ভালো আমি ঠিকই নাই!
ভালো থাকা আজ পিষ্ট হয়েছে
অসুখে পড়েছি প্রচণ্ডরকম, কবিতা লিখেছি তাই
ভালো আছি বলি কিন্তু ভালো মূলত নাই।
—নাঈম এম ইসলাম
বাইশে জুলাই, 'একুশ।
সুরঞ্জনা,
আজ ছাব্বিশ বছর, তুমি নেই!
দূর বাসিনী হয়েছো তুমি।
তুমি হীনা প্রান্তে দুঃস্বপ্নেরা বাসা বাঁধে
নেই তুমি কোথাও কোনো তেপান্তরে
মরুভূমি সব তুমি হীনা সমস্ত জান্নাত
হুরেরাও দীপ্তিহীন, তুমি আজ সীমান্তের বাইরে।
মাঝে মাঝে স্বপ্নে ভাসো তুমি!
নিষ্কলুষ তোমার চাহনি
তুমি নিথর দেহে আনো প্রাণ।
দেখি, তুমি শঙ্ক্ষমালার বর পেয়ে হয়েছো অভ্রভেদী
আমি অপলক তাকিয়ে রই ঐ দূর দিগন্তে
সুরসঞ্চার হবার অভিপ্রায়ে।
সুর খুঁজে পাই, খুঁজে পাই আমার কবিতার ছন্দ।
তুমি ফিরো, ফিরে এসো নীড়ে
আমার একান্ত কবিতা মালার ভীড়ে।
~নাঈম এম ইসলাম
৮/২/২২
আমি স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন বিকি
স্বপ্ন কিনে লই!
সাধ গুলোকে ভিজিয়ে রাখি
যত্নে তারে ছুই।
ছেলেবেলার সময় গুলো নীল আকাশে উড়ে
সোনার খাঁচা হারিয়ে গেল জীবনময়ের মোড়ে!
তবু আমার সাধ গুলো হায়
আজও উড়ে বেড়ায়।
আমি স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন বিকি
আবেগ কিনে লই!!
সাধ গুলোকে ভিজিয়ে রাখি
যত্নে তারে ছুই।
সেদিন ছিল দৃষ্টি তাজা
সৃষ্টি হত না শেষ
বৃষ্টি ভিজে কাদায় মেখে
দিন কাটিত বেশ!
আজকে সেসব স্মৃতির পাতায়
দৃষ্টি ভিজে যায়!
তবু যত্ন করে ছুই।
আমি স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন বিকি
স্বপ্ন কিনে লই!!
সাধ গুলোকে ভিজিয়ে রাখি
যত্নে তারে ছুই।
~নাঈম এম ইসলাম
১৮মে_২০_বিকেল_৫ঃ২৫
কবিতা, আমার সঙ্গ দেবে?
মুক্তি হবে আমার?
আমার পাজড়ের হাড় গুলো নেবে?
কবিতা তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী হবে?
আমার রক্তের জায়গা দেবে তোমার ধমনিতে ?
কবিতা তুমি জ্বলে উঠবে?
সাড়া দিবে এই অঞ্জলিতে?
পূজা নেবে এই নিষ্পাপ কবিয়ালের?
কবিতা, তোমার রিক্ত বক্ষে জাগাবে আশার সঞ্চার?
দেবে শুনতে হৃৎপিণ্ডের শব্দ?
স্বার্থের সুরাহা ফুরিয়ে দেবে কি স্বাধীনতা?
আমি এক অবাধ স্বাধীনচেতা!
স্বাধীনতা আমি গিলে খেতে চাই।
দেবে কি সন্ধান মুক্তির গানে
বেলা ফুরাবার সুর?
নাঈম এম ইসলাম
৮/২/২২
তুমি ছেলে তাই
টাকা রোজগার করা চাই।
নইলে সমাজ মূল্য দিবে
কে বা তোমায় বলল ভাই?
তুমি ছেলে তাই
কষ্ট পেতে হবেই তোমায়
চুপ করো! কষ্ট নয় তা
কষ্ট তোমার পেতে-ই নাই।
ছেলে বলে তোমার শিক্ষিত হয়ে
চাকরি একটা পাওয়া চাই।
নতুবা সমাজ ট্যাগ দিয়ে দেবে
বেকার তুমি বেকার, ভাই!
ছেলে তুমি ভাই,
তোমার কোনো কান্না নাই
ভেতর কাঁদে কাঁদুক গিয়ে
চোখের কিন্তু বৃষ্টি নাই!
ছেলে হয়েছো ভাই,
পথে বাঁধা'র অন্ত নাই
লড়াই তোমার জিততে হবে
টিকে যদি থাকতে হয়।
নিজের আহ্লাদ বিসর্জন চাই
ছেলে তুমি, নয়কি তাই?
ভুললে তো হবেই না তা
প্রিয়জনদের সুখ দেওয়া চাই।
ছেলে হয়েছো ভাই
মাইনে বেশি হওয়া চাই
বিয়ের আগে মেয়ের বাড়ি
প্রমাণ কিন্তু দিতে হয়।
পুরুষ তুমি তাই
বউয়ের কথা মানা চাই
স্ত্রৈণ লোগো পাবে যদিও
না মানলে যে রক্ষা নাই।
- মোঃ নাঈম ইসলাম
ইংরেজি বিভাগ, ঢাবি।
লেখাঃ ২০১৯
তোমার মস্তিষ্ক শূন্য
অথচ আমার মস্তিষ্ক তোমাতে পরিপূর্ণ!
রিক্ত তোমার বক্ষ
অথচ আমার সমস্তখানিই তোমাতে টইটম্বুর!
তোমার হৃদয় কালিমা হীন
অথচ আমার হৃদয় তোমার কালিমায় ভরপুর!
তোমার চোক্ষু সতেজ
আর, আমার চোক্ষে তোমার ছানি!
তোমার অঞ্চল উদোম, উন্মুক্ত
এদিকে আমার সমস্তই তোমার কাছে বাঁধা!
একপাক্ষিক অনুভূতিদের রক্ত নিংড়ানো হাহাকার
শুনতে পায়না বধির এ পৃথিবী;
একপাক্ষিক ভালোবাসা তাই
একপাক্ষিক জ্বালা
একপাক্ষিক সন্ধিক্ষণে
একপাক্ষিক শূন্যতা!
~নাঈম এম ইসলাম
সমস্তই কল্পনার সমাহার।
আমাকে খুঁজে পাবে গানে কিংবা কবিতার ছন্দে
আমাকে পাবে অভিনয়ে কিংবা নৃত্যে
আমাকে খুঁজে দেখো রাজপথে, স্লোগানে।
আমাকে খুঁজো সারা বাংলার পথে প্রান্তরে।
আমি আছি জড়িয়ে শত শতাব্দী পুরোনো কোনো বইয়ের মলাটে
আমি আছি ধুলোজমা পুরোনো কোনো মহলে!
আমাকে খুঁজো গানে গানে, কবিতায়
আমাকে পাবে তোমরা তোমাদেরই ভীড়ে।
আমাকে খুঁজে পাবে অনাহারীদের দলে
আমাকে খুঁজে পাবে বস্ত্রহীনদের দলে
আমাকে পাবে ভিটেহীন ভবঘুরেদের দলে
আমাকে পাবে তোমরা তোমাদেরই ভীড়ে।
৬/৩/২০২২
~নাঈম এম ইসলাম
সমস্তই কল্পনার সমাহার।
রক্তে টগবগিয়ে আগুন জ্বলে।
শিরা উপশিরা গুলো ফুলে ওঠে, ফেঁপে ওঠে;
মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে প্রতিটা মুহূর্তে;
পেশীগুলো সংবেদনশীল, হয়ে ওঠে আক্রমণাত্মক!
তীব্র প্রতিবাদে ক্ষেপে ওঠে বাহু গুলো, হয়ে ওঠে রণোন্মত্ত!
প্রচণ্ড উত্তপ্ত ঝড়, জলোচ্ছ্বাস শরীরের উপর বয়ে যায়;
মগজে জ্বলন্ত শিখা প্রজ্জ্বলিত হয়;
১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ শক করে পুরোটা হৃৎপিণ্ডে;
চটা মেজাজে খেই হারিয়ে ফেলে সমস্ত বিবেক;
বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে যায় সমুদয় চিত্ত।
রঙচটা পৃথিবী ধূসর কালোতে ছেয়ে যায়!
রাত্রিতে পূর্ণিমারা ভুলে যায় হানা দিতে,
তিমিরঘন রাত্রিরা নৃশংস নৃত্য দেখে উদ্দাম তালে!
মর্ত্যে বসে মাতাল হয়ে নিষ্ঠুরতা দেখে আহ্লাদচিত্তে!
হায়রে শৃঙ্খলা, প্রচণ্ড গরম পিচঢালা পথে হেঁটে হেঁটেই শুধু চললে।
বলি, ছিন্ন করে সমস্ত বন্ধন মাতালকে ফেলে গেলে
কোণঠাসা করে! হায়রে!
তাই আজও রক্তে আমার আগুন জ্বলে, আগুন!
শিরা উপশিরা গুলো ফুলে ওঠে, ফেঁপে ওঠে!
দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলে
ভষ্ম করে, ছারখার করে তবে কি সমাপ্তি?
১/৪/২০২২
~নাঈম এম ইসলাম
আমি কবিয়াল, কবিতা আমার সঙ্গী
আমি একাকীত্ব সঙ্গে বেঁধে হেঁটে চলি নীলাম্বর
আমি নিশীথের অন্ধকারে ছায়া দেখি তার
ছায়া সে আসে, ছায়া সে যায়!
অযুত বর্ষের সমাপ্তিতেও সে সুরের চক্ষে বঁধির!
১৭/৩/২০২২
~নাঈম এম ইসলাম
কিছু বিষাদ হোক পাখি!
উড়ে যাক দিগন্তে
দূর হতে দূরান্তে
নগরী বিষাদ-শূন্য হোক।
কিছু বিষাদ হোক কর্পূর
উদ্বায়ী পরমাণু উড়ে যাক
নিঃশেষ হয়ে যাক
হৃদয় নিংড়ে যাক, ফুরিয়ে যাক
সমস্ত বিষাদ-সিন্ধু। 🖤
২৯/৩/২০২২
~নাঈম এম ইসলাম
বাতাস, আমাকে নিয়ে যাও,
আমাকে নিয়ে চলো সমুদ্রে।
আমাকে নিয়ে চলো অন্তরীক্ষে।
আমাকে সাথে নাও,
আমাকে নিয়ে ভাসাও তোমার গাঙ।
আমাকে নাও নিশীথের অন্ধকারে।
আমাকে সঙ্গে নাও নিরালা দ্বীপে।
আমাকে নিয়ে চলো, যেখানে পার্বতীরা গান করে।
আমাকে নিয়ে যাও আবাস হীন সুগভীর অরণ্যে।
আমাকে নিয়ে চলো শূন্য মরুর ওয়েসীসে!
আমাকে নেবে? নেবে আমায় সঙ্গে?
আমাকে নিয়ে যাও অন্য এক পৃথিবীতে
আমাকে নিয়ে যাও স্বার্থহীন কোনো দেশে।
নিয়ে যাও আমায়, দুশমনেরা যেখানে নেই
আমাকে নিয়ে চলো দ্বিধাহীন জগতে।
বাতাস, আকুতি আমার, সঙ্গে নাও তোমার
উড়িয়ে নিয়ে যাও কোনো এক ভীনগ্রহে।
নিয়ে যাও দূর্গম পাহাড়ে, কোনো এক ঝর্ণার ধারে
কলুষিত, ব্যস্ত নগরী, নির্জীব স্বার্থপর কংক্রিট অসহনীয়!
আমাকে নিয়ে যাও, আমাকে নিয়ে চলো আদিম কোনো দেশে বনমানুষের ভীড়ে।
আমাকে নেবে, নেবে তোমার সঙ্গে?
~নাঈম এম ইসলাম
7/4/2022
অবলা থাকুক কিছু কথা
থাকুক কিছু অব্যক্ত ওঙ্কার!
ঠোঁটের বাইরে না আসুক কিছু ধ্বনি,
নাসারন্ধ্র পেরিয়ে না ব্যক্ত হোক কিছু বাতাস!
বাগযন্ত্রে বাঁধা পড়ুক কিছু শব্দ, কিছু আলাপন।
হোক না কিছু অশান্তি!
হতে দাও কিছু হৃদয়ের ব্যাকুলতা
তোলপাড় হতে দাও কিছুক্ষণ
পুড়তে দাও কিছুটা
পুড়ে পুড়ে খাঁটি হতে দাও তোমার আকাঙ্ক্ষা!
নাঈম এম ইসলাম
১৭/৩/২০২২
তুমি চেয়ে দেখনি, আমি সমস্ত একাকীত্ব নিয়ে বসেছিলাম
তুমি খেয়াল করোনি, আমি বোশেখে কপালে লাল টিপ দিয়েছিলাম
তুমি তাকিয়ে দেখনি, আমি তোমার জন্য লালটুক টুকে শাড়ি পরেছিলাম
তুমি শোনোনি, আমার হাতে লাল কাচের চূড়িগুলোর রিনিঝিনি গান
আমি বিশাল ঐ আকাশে চেয়ে আছি
যদি তোমার দৃষ্টি আমার দৃষ্টিতে সূক্ষ্মকোণ সৃষ্টি করে!💘
নাঈম এম ইসলাম
১৯/৪/২০২২
আসো না কেন মধ্যরাতের কোকিল হয়ে?
শুনতাম শুধু তোমার কণ্ঠ নিঃচুপ রাত্রিতে
যখন ঝিঁঝিঁ পোকারাও ঘুমিয়ে পড়ে
ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে!
খোলা মাঠে পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায়
ঝিরিঝিরি বাতাসের আবেশে
বনলতা সেনের মত মুখোমুখি বসো না কেন?
শুনতাম কান পেতে তোমার হৃদয় স্পন্দন—
দূর্বায় শিশির ঝরে পড়ার মধুর কলতান যেমন!
রাত্রি দিনমান তোমার সান্নিধ্য পেতে,
আমার মুখের পশমে তোমার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা অনুভব করতে,
তোমার চুলের আবেশে আমার মুখে শুড়শুড়ি পেতে,
তোমার সাথে নিঝুম দ্বীপে ভেসে যাওয়ার আকুলতায়,
ব্যাকুল হৃদয়খানি নিভৃতে নিরালে রক্তশ্রু ঝরায়।
শুনো না সে রক্তপ্রপাত?
তোমার রক্তাভ কপোলের টোলে দু'ফোটা শিশির–
জবা'র কোটর হতে চুইয়ে পড়া মধুর শেষ ফোঁটার মত
আমার ঠোঁটে শুষে নিতাম!
কিন্তু পাইনি আজো তোমার দেখা।
দিন যায়, রাত পোহায়, ভোরের পাখির ডাকে আজো ঘুম ভাঙে!
পাইনি তবু নতুন ভোরের দেখা!
কবে আসবে? কবে কানে শিহরণ জাগিয়ে বলবে "সুপ্রভাত"?
নাঈম এম ইসলাম
২০১৯ সালের।