পার্ক সিটি এডুটেইনমেন্ট একাডেমি (Park City Edutainment Academy ) — এমন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে সবাই শেখে আনন্দের মধ্য দিয়ে।
ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর রোদের ঝিলিক মিলিয়ে এক চমৎকার শনিবার। সাদাফ, তার চঞ্চল বোন ইয়ানা আর ছোট্ট ভাই সাইফ এসেছে এক রোমাঞ্চকর অভিযানে, তাদের বাবা-মায়ের সাথে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসেছে।
সাদাফ আজ ছোটখাটো একজন গাইড। এক হাতে চিড়িয়াখানার মানচিত্র, অন্য হাতে ছোট ভাই সাইফের আঙুল ধরা। ইয়ানা অবশ্য কারো হাত ধরার পাত্রী নয়! সে রঙিন প্রজাপতির মতো এদিক-ওদিক উড়ছে আর তার খুদে চোখে সব নতুন কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে।
হাঁটতে হাঁটতে তারা এসে পৌঁছাল বিশাল এক জলাধারের সামনে। চারপাশটা মজবুত লোহার বেড়া দিয়ে ঘেরা। ইয়ানা লাফাতে লাফাতে বলল, "সাদাফ ভাইয়া, দেখো! পানির ওপর ওটা কী? ওটা কি একটা বড় কালো রঙের পাহাড়?"
সাইফও তার আধো-আধো বুলি আউড়ে বলল, "পা-থ! ভাইয়া, পা-থ!"
সাদাফ মানচিত্র দেখে বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়ল। "না, ইয়ানা, ওটা পাথরও না, পাহাড়ও না। ভালো করে দেখ, পাথর কি কখনো শ্বাস নেয়?"
ঠিক তখনই ম্যাজিকের মতো ঘটনা ঘটল। সেই বিশাল কালো পিণ্ডটা ধীরে ধীরে নড়ে উঠল। পানি ছিটিয়ে ওপরে ভেসে উঠল দুটো ছোট গোল কান আর বড় বড় দুটো ড্যাবড্যাবে চোখ। ইয়ানা অবাক হয়ে চেঁচিয়ে উঠল, "ওমা! ওটা তো জীবন্ত পাথর!"
সাদাফ বুঝিয়ে বলল, "এটা হলো জলহস্তী বা হিপোপটমাস (Hippopotamus)। এরা রোদের থেকে বাঁচতে কাদা-পানির নিচে ডুবে থাকে। এদের চামড়া কিন্তু খুব স্পেশাল, জানো? রোদে বের হলে এদের শরীর থেকে একরকম লালচে ঘাম বের হয়, যা তাদের রোদ থেকে বাঁচায়।"
হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে জলহস্তীটা পানির ওপর মাথা তুলল। এরপর... আ-আ-আ-হ্! বিশাল এক হাই তুলল সে। ইয়ানা আর সাইফ তো থমকে গেল! মনে হলো যেন একটা অন্ধকার গুহার প্রবেশপথ খুলে গেছে। ভেতরের বড় বড় দাঁত দেখে ইয়ানা ভয় পেয়ে সাদাফের পেছনে লুকালো।
"ভাইয়া! ও কি আমাদের খেয়ে ফেলবে?" ইয়ানার কণ্ঠে রাজ্যের ভয়। সাইফও ভয় পেয়ে বড় ভাইয়ের প্যান্ট খামচে ধরল।
সাদাফ হাসল। "আরে না! ও দেখতে রাগী হলেও আসলে খুব শান্ত। ও তো নিরামিষাশী। ঘাস, লতাপাতা আর ফলই ওর প্রিয় খাবার। তবে হ্যাঁ, এদের বিরক্ত করলে এরা খুব জোরে দৌড়াতে পারে, এমনকি একটা মানুষের চেয়েও দ্রুত!"
ভয় কাটাতে জলহস্তী মশাই এক অদ্ভুত কাণ্ড শুরু করলেন। ডুব দেওয়ার আগে সে তার ছোট্ট লেজটা হেলিকপ্টারের পাখার মতো শোঁ শোঁ করে ঘোরাতে লাগল। আর পানিতে 'ভুস ভুস' করে বুদবুদ ছাড়ল।
এই দেখে ইয়ানার ভয় কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে খিলখিল করে হেসে কুটিপাটি। "ভাইয়া দেখো! ওর লেজটা যেন ছোট একটা পাখা! কী মজার তাই না?"
সাইফও খুশিতে নেচে উঠল, "তালি! তালি!" তার ছোট্ট হাত দুটোর তালি আর ইয়ানার হাসি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেল।
সূর্য তখন মাথার ওপর তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাদাফ বলল, "চলো এবার, জলহস্তীর এখন দুপুরের ঘুমের সময়। আমাদেরও তো বাঘ আর জিরাফ দেখতে হবে!"
ইয়ানা যাওয়ার সময় হাত নেড়ে বলল, "টা-টা, পেটুক বন্ধু! পরের বার তোমার জন্য অনেকগুলো কলা নিয়ে আসব!" সাইফও হাত নাড়িয়ে তাল মেলালো, "তা-তা!"
তিন ভাইবোন হাত ধরাধরি করে নতুন কোনো অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে সামনে এগিয়ে চলল। মিরপুরের চিড়িয়াখানায় তাদের এই দিনটি স্মৃতির পাতায় এক বিশাল জলহস্তীর মতোই বড় জায়গা জুড়ে রয়ে গেল।
এক ঝকঝকে দুপুরে সাদাফ, ইয়ানা আর ছোট্ট সাইফ বাবা-মায়ের হাত ধরে এসে দাঁড়াল গাজীপুর সাফারি পার্কের বিশাল ফটকের সামনে। গাড়ি থামতেই মনে হলো, এই গেটের ওপাশে যেন পরিচিত পৃথিবী শেষ হয়ে যাচ্ছে, শুরু হচ্ছে এক অচেনা বনরাজ্য। টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকে আবার আলাদা টিকিট নিয়ে সবাই উঠল বিশেষ বাসে। এই বাসই তাদের নিয়ে যাবে বাঘের জঙ্গলের গভীর ভেতর দিয়ে।
সাফারি পার্কের নিয়ম বড় অদ্ভুত। এখানে পশু-পাখিরা মুক্ত, আর মানুষই বন্দি থাকে লোহার খাঁচার মতো গাড়ির ভেতর। বাসের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে সাদাফ হঠাৎ খুব দায়িত্বশীল হয়ে উঠল। গম্ভীর গলায় ঘোষণা দিল,
“সাবধান সবাই। জানালার কাঁচ একদম নামানো যাবে না। আমরা এখন ওদের এলাকায় ঢুকছি।”
বাস ঢুকে পড়ল ঘন শালবনের ছায়ার নিচে। চারপাশে সবুজের আধিক্য, মাঝে মাঝে পাখির ডাক, আর এক ধরনের চাপা নীরবতা। ইয়ানা জানালার কাঁচে নাক ঠেকিয়ে চোখ বড় বড় করে চারদিক দেখছে। হঠাৎ সে উত্তেজনায় চেঁচিয়ে উঠল,
“ভাইয়া, ওই যে! ঝোপের আড়ালে হলুদ রঙের কিছু একটা নড়ছে!”
সাদাফ মুহূর্তে বাইনোকুলার চোখে তুলল। তার মুখে একরাশ উচ্ছ্বাস।
“দারুণ দেখেছ, ইয়ানা। ওটা একটা বাঘিনী। দেখ, শুকনো ঘাসের সঙ্গে ওর গায়ের রং কত সুন্দরভাবে মিশে গেছে। একে বলে ক্যামোফ্লেজ। এইভাবেই ওরা চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য হয়ে যায়।”
ইয়ানা কথা হারিয়ে ফেলল। বাঘিনীটা সত্যিই যেন বনটার সঙ্গে মিশে লুকোচুরি খেলছে।
ঠিক তখনই আচমকা এক বিশাল বাঘ বাসের সামনে এসে দাঁড়াল। এত কাছে যে মনে হলো, তার গরম নিঃশ্বাসে কাঁচ ঝাপসা হয়ে উঠছে। মুহূর্তের মধ্যে বাসের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
কিন্তু ছোট্ট সাইফের কোনো ভয়ই নেই। সে কাঁচের দিকে ছোট্ট হাত বাড়িয়ে আধো আধো গলায় বলল,
“বাঘ মামা… ও বাঘ মামা… পপি খাবে?”
সাদাফ আর ইয়ানা হেসে ফেলল। সাদাফ হাসি চাপতে চাপতে বলল,
“না রে সাইফ, বাঘ কফি খায় না। ও শুধু মাংস খায়। আর দেখ, ওর কান দুটো খাড়া হয়ে আছে। আমাদের গাড়ির শব্দ শুনছে।”
বাঘটা কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর রাজকীয় ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে জঙ্গলের ভেতর মিলিয়ে গেল।
বাস আবার চলতে শুরু করল। কিছু দূর এগোতেই সামনে দেখা গেল বড় এক জলাশয়। সেখানে দুটো বাঘ পানিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে, কখনো ডুব দিচ্ছে, কখনো লেজ নেড়ে সাঁতার কাটছে।
ইয়ানা বিস্ময়ে বলে উঠল,
“ভাইয়া, আমাদের বিড়াল মিনি তো পানি দেখলেই দৌড়ে পালায়। আর এরা দেখো কী মজা করছে!”
সাদাফ যেন ক্লাস নিচ্ছে এমন ভঙ্গিতে বলল,
“এই কারণেই বাঘ আলাদা। ওরা দারুণ সাঁতারু। গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে থাকে।”
সাইফ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“বাঘ মামা গোসল করে!”
সাফারি জোন শেষ হওয়ার ঠিক আগে, হঠাৎ এক বাঘ ঘুরে দাঁড়িয়ে বাসের দিকে তাকাল। পরের মুহূর্তেই জঙ্গল কাঁপিয়ে উঠল তার গর্জন,
“হালুম!”
শব্দে বাসের কাঁচ থরথর করে কেঁপে উঠল। এবার সাইফ একটু ভয় পেয়ে সাদাফের হাত শক্ত করে ধরল। সাদাফ শান্ত স্বরে বলল,
“ভয় নেই সাইফ। বাঘটা আমাদের বলছে, আবার এসো। তবে আমাদের বনটাকে রক্ষা কোরো।”
ফেরার পথে ইয়ানা ধীরে বলল,
“ভাইয়া, চিড়িয়াখানার চেয়ে সাফারি পার্ক অনেক ভালো। এখানে বাঘেরা সত্যিই স্বাধীন।”
সাদাফ নীরবে মাথা নেড়ে সায় দিল। আর সাইফ তার প্লাস্টিকের বাঘটা বুকে জড়িয়ে ঘুমের ঘোরে বিড়বিড় করতে লাগল,
“হালুম… পপি…”
বুদ্ধিমত্তা ও উপস্থিত বুদ্ধি অনেক সময় বড় বিপদ থেকেও রক্ষা করতে পারে।
Clever thinking can save you from danger.
জনাব সাদাফ এমন একটি অচেনা শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে হঠাৎ তাঁর গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ি মেরামতের অপেক্ষায় তিনি চুল কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, শহরে মাত্র দুইজন নাপিত আছে। একজন মেইন স্ট্রিটের উত্তর প্রান্তে, আর অন্যজন দক্ষিণ প্রান্তে দোকান চালান।
জনাব সাদাফ প্রথমে উত্তর দিকের নাপিতের দোকানে গেলেন। দোকানটি ছিল অগোছালো, মেঝেতে চুল ছড়িয়ে ছিল, আর নাপিতের নিজের দাড়ি-চুলও এলোমেলো ছিল। এরপর তিনি দক্ষিণ দিকের নাপিতের দোকানে গেলেন। সেটি ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আর নাপিতও পরিপাটি পোশাক পরা, সদ্য শেভ করা এবং সুন্দরভাবে চুল কাটা।
তবুও জনাব সাদাফ শেষ পর্যন্ত প্রথম নাপিতের কাছেই চুল কাটাতে ফিরে গেলেন। কেন?
Mr. Sadaf was driving through a town he had never visited before when his car broke down. While waiting for it to be repaired, he decided to get a haircut. A boy told him there were only two barbers in town, one at the north end of Main Street and the other at the south end.
Mr. Sadaf first visited the barber in the north. The shop was untidy, covered with hair, and the barber looked unshaven with a poor haircut. He then visited the barber in the south. That shop was clean and tidy, and the barber was neatly dressed, freshly shaved, and had an excellent haircut.
Yet Mr. Sadaf walked back to the first barber to get his haircut. Why?