পার্ক সিটি এডুটেইনমেন্ট একাডেমি (Park City Edutainment Academy ) — এমন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে সবাই শেখে আনন্দের মধ্য দিয়ে।
১৯৬০ সালের ১লা জানুয়ারি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বিলপদুম দিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জনাব মোঃ গোলাম মোস্তফা। তাঁর পিতা মরহুম ইয়াকুব আলী মন্ডোল ছিলেন একজন পরিশ্রমী কৃষক এবং মাতা মরহুমা মোছাঃ নুরজাহান বেগম ছিলেন একজন স্নেহময়ী গৃহিণী।
মরহুম ইয়াকুব আলী ছিলেন তাঁর পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান, যিনি মাত্র এক মাস বয়সে পিতৃহারা হন। পরবর্তীতে তিনি নিজের পরিশ্রমে সংসার গড়ে তোলেন এবং পাঁচ সন্তানের (চার ছেলে ও এক মেয়ে) জনক হন।
সেই পাঁচ সন্তানের মধ্যে জনাব মোঃ গোলাম মোস্তফা জ্যেষ্ঠতম। জীবনের এক করুণ পুনরাবৃত্তিতে তিনিও মাত্র ১৮ বছর বয়সে পিতাকে হারান এবং অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে।
কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি অনবদ্য অধ্যবসায়ে বিজ্ঞান শাখা থেকে মেট্রিক (১৯৭৮ সাল) (বর্তমান এসএসসি) ও ইন্টারমিডিয়েট (১৯৮০ সাল) (বর্তমান এইচএসসি) সম্পন্ন করেন এবং পাংশা কলেজ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পারিবারিক দায়িত্বের কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে না পারলেও তিনি আজীবন শিক্ষা অনুরাগী ছিলেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও উৎসাহে ভাই-বোনদের সবাই নিজেদের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
শুধু নিজের পরিবার নয়, তিনি আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের বহু স্বল্পসামর্থ্য শিক্ষার্থীকেও পড়াশোনার সুযোগ করে দিইয়েছেন, যাদের অনেকে আজ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
১৯৯২ সালে সমাজকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ৮নং সরিষা ইউনিইয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়ত্ব পালন করেন।
শিক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সেবা ও ধর্মীয় শিক্ষা উন্নয়নেও জনাব মোঃ গোলাম মোস্তফার অবদান প্রশংসনীয়। তিনি বিলপদুম দিয়া গ্রামের একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার জন্য জমি (৫ শতাংশ) দান করেছেন, যা স্থানীয় মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া তিনি গ্রামের একমাত্র মসজিদের জমিদাতা (৪ শতাংশ) ও নির্বাহী কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষের পাশে থেকে তিনি আর্থিক ও নানাবিধ সহায়তা প্রদান করে আসছেন, যা তাঁকে এলাকাবাসীর কাছে একজন মানবিক ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কৃষিক্ষেত্রেও তিনি একজন উদ্ভাবনী চিন্তার মানুষ। ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজে বাবার সহায়ক হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উৎপাদন পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করেন। কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ প্রদান ও জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মোছাঃ রেবেকা সুলতানার সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ। তাঁদের তিন সন্তান-বড় মেয়ে গুলশাহানারা পারভীন (শিউলি), ছেলে রাশেদুল কবির (শিমুল) ও ছোট মেয়ে শ্রাবণী মোস্তফা (শিলা)। পুত্র ও কনিষ্ঠ কন্যা দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এখন বিভিন্ন পেশায় কর্মরত।