পার্ক সিটি এডুটেইনমেন্ট একাডেমি (Park City Edutainment Academy ) — এমন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে সবাই শেখে আনন্দের মধ্য দিয়ে।
কেন আফটার-স্কুল কার্যক্রম আপনার সন্তানের বিকাশে অপরিহার্য?
Children are naturally curious, but one unsafe moment can lead to a lifelong tragedy.
শিশুরা স্বভাবতই কৌতূহলী। কিন্তু একটি অসতর্ক মুহূর্ত সারা জীবনের বেদনার কারণ হতে পারে।
Install child-safe balcony railings or safety nets.
শিশু-নিরাপদ রেলিং বা সেফটি নেট ব্যবহার করুন।
Never leave children unattended on a balcony.
বারান্দায় শিশুদের কখনো একা রেখে যাবেন না।
Keep chairs, tables, and other climbable furniture away from the railing.
রেলিংয়ের পাশে চেয়ার, টেবিল বা ওঠার মতো কোনো আসবাব রাখবেন না।
Teach children that balconies are for enjoying the view, not for climbing.
শিশুদের শেখান, বারান্দা দৃশ্য উপভোগের জন্য, রেলিংয়ে ওঠার জন্য নয়।
A small precaution today can save a precious life tomorrow.
আজকের সামান্য সতর্কতাই আগামী দিনের একটি মূল্যবান জীবন রক্ষা করতে পারে।
আজকের দ্রুতগামী ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষা কেবল ক্লাসরুমের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। যেখানে একাডেমিক শিক্ষা জ্ঞান দেয়, সেখানে আফটার-স্কুল কার্যক্রম শিশুদের নিজেদের খুঁজে পেতে, আগ্রহ ও প্রতিভা প্রকাশ করতে এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।
এই কার্যক্রমগুলো শিশুর মানসিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম শিশুদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ দেয়। রোবোটিক্স, আর্ট, সংগীত বা বিতর্ক ক্লাবের মতো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা স্কুলে শেখা জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে শেখে। ফলে শেখা হয় আনন্দদায়ক ও গভীরতর।
নাটক, পাবলিক স্পিকিং বা খেলাধুলার মতো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শিশুদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে ও নিজের সাফল্য উদযাপন করতে শেখায়। প্রতিটি অর্জন—ছোট হোক বা বড়—তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে এবং শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে।
গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি শিশুদের সহযোগিতা, শ্রবণ, ভাগাভাগি ও অন্যের মতামতকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়। ফুটবল টিম হোক বা সায়েন্স ক্লাব—সবখানেই তারা দলগত চেতনা ও সহমর্মিতার মূল্য শিখে, যা ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য গুণ।
আফটার-স্কুল কার্যক্রমে শিশুদের এমন সৃজনশীল স্বাধীনতা দেওয়া হয়, যা প্রথাগত ক্লাসে সবসময় সম্ভব হয় না। চিত্রকলা, সংগীত, নাচ বা হস্তশিল্পের মাধ্যমে তারা কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তা গড়ে তোলে।
যেসব অভিভাবক কর্মব্যস্ত, তাদের জন্য আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম শিশুকে একটি নিরাপদ ও ফলপ্রসূ পরিবেশে রাখে। এতে তারা স্ক্রিনের সামনে সময় নষ্ট না করে অর্থবহ ও উপকারী কাজে অংশ নিতে পারে, যা শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে।
স্বেচ্ছাসেবা, পরিবেশ-সচেতন প্রকল্প বা শিক্ষার্থী ক্লাবের মতো কার্যক্রম শিশুদের নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধান ও যোগাযোগ দক্ষতা তৈরি করে। এগুলো ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য তাদের প্রস্তুত করে তোলে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
আফটার-স্কুল কার্যক্রম কেবল স্কুল দিনের বাড়তি অংশ নয় — এটি একটি সমগ্র শিক্ষার অপরিহার্য অংশ। এসব কার্যক্রম শিশুদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, পাশাপাশি শেখায় দলগত চেতনা, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতা।
প্রত্যেক শিশুরই ক্লাসরুমের বাইরে শেখার অধিকার আছে, আর আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম সেই সুযোগই সৃষ্টি করে।
যেমন বলা হয় —
“শিক্ষা মানে পাত্র ভরানো নয়, বরং একটিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া।”
আফটার-স্কুল কার্যক্রম সেই আগুনকে জ্বালিয়ে রাখে — শেখার আনন্দে, আলোয় ও অনুপ্রেরণায়।
বর্তমান বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI), মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবেশ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি থেকে শুরু করে বিনোদন — সর্বত্রই AI তার প্রভাব বিস্তার করছে। এই পরিবর্তনের যুগে শুধুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান বা বইয়ের পড়া আর যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের জন্য সহশিক্ষা বা extra-curricular activities এখন একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
🎯 ১. মানুষকে মানুষ রাখার শিক্ষা
AI যতই উন্নত হোক না কেন, এটি কেবল একটি মেশিন। এতে অনুভূতি, সহানুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধ নেই। সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন — সংগীত, নাটক, খেলাধুলা, বিতর্ক, সামাজিক সেবা ইত্যাদি — শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, সহযোগিতা, দলগত চেতনা এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। এগুলোই মানুষকে যন্ত্র থেকে আলাদা করে।
🧠 ২. সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তা
AI এখন অনেক কাজ করতে পারে, কিন্তু সৃজনশীল চিন্তা বা নতুন ধারণা তৈরি করতে পারে না মানুষের মতো। চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, রোবোটিক্স ক্লাব বা বিজ্ঞানচর্চা—এই ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা বৃদ্ধি করে, যা ভবিষ্যতের কর্মজগতে অপরিহার্য।
🤝 ৩. সামাজিক ও আবেগিক বুদ্ধিমত্তা (Social & Emotional Intelligence)
AI হয়তো ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের আবেগ বুঝতে পারে না। দলীয় খেলাধুলা, স্বেচ্ছাসেবা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং আবেগিক ভারসাম্য তৈরি করে — যা সফল জীবন ও নেতৃত্বের মূলভিত্তি।
💼 ৪. ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি
বিশ্বব্যাপী AI অনেক কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। এখন কোম্পানিগুলো শুধু “technical skills” নয়, বরং “soft skills” বা যোগাযোগ, দলীয় কাজ, অভিযোজনশক্তি ইত্যাদির উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের এই দক্ষতাগুলো অর্জনে সহায়তা করে, ফলে তারা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে।
🌱 ৫. মানসিক স্বাস্থ্য ও ভারসাম্য
AI-নির্ভর শিক্ষার কারণে অনেকে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটায়, যা একঘেয়েমি ও মানসিক চাপ তৈরি করে। সংগীত, খেলাধুলা, বাগান করা বা বিতর্কে অংশগ্রহণ মানসিক প্রশান্তি আনে এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
AI যুগে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিক, সৃজনশীল ও সামাজিক দক্ষতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের এই ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করে। তাই স্কুল, কলেজ এবং অভিভাবকদের উচিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।
একবিংশ শতাব্দীর সফল মানুষ হবে সেই ব্যক্তি, যিনি প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতাকে একত্রে ধারণ করতে পারেন — আর তার সূচনা হয় সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকেই।
🍋 লেমোনেড স্ট্যান্ডের গল্প
💭 প্রয়োজন ও চাওয়া (Needs vs. Wants)
মিম চায় টাকা আয় করতে। সে ভাবে লেবুর শরবত বিক্রি করবে।
প্রয়োজন (যেমন: খাবার, পানি) আর চাওয়া (যেমন: খেলনা, আইসক্রিম) — দুটোর পার্থক্য সে বোঝে।
💰 সিদ্ধান্ত
মিম ভাবে: “আমি এক গ্লাস লেমোনেডের দাম রাখব ১০ টাকা!”
এটাই তার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত — কিভাবে জিনিসের দাম ঠিক করা যায়।
🧃 উৎপাদক ও ভোক্তা (Producers and Consumers)
মিম উৎপাদক, কারণ সে লেমোনেড বানায়।
শিমুল ভোক্তা, কারণ সে লেমোনেড কিনে খায়।
এভাবেই সমাজে সবাই কোনো না কোনোভাবে উৎপাদক ও ভোক্তা হয়।
💵 সঞ্চয় ও খরচ (Saving and Spending)
মিম তার উপার্জিত টাকার কিছু অংশ খরচ করে, আর কিছু অংশ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য।
এতে সে শেখে কিভাবে টাকা বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করতে হয়।
সবকিছু কেনা যায় না, তাই বেছে নিতে হয়।
যারা জিনিস বানায় তারা উৎপাদক।
যারা কেনে তারা ভোক্তা।
সঞ্চয় ভবিষ্যতের জন্য ভালো অভ্যাস।
ঠিকভাবে শিখলে তা দীর্ঘদিন মনে থাকে এবং কাজে লাগে। হার্ভার্ডের মতে, পড়া মনে রাখার জন্য কিছু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
পড়াকে নিজের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করুন
বিভিন্ন উপায়ে শিখুন—পড়া, লেখা, বলা, আলোচনা
নিজেকে প্রশ্ন করুন—নিজেই নিজের শিক্ষক হন
অল্প অল্প করে বারবার পড়ুন (স্পেসড লার্নিং)
ভালো অভ্যাস গড়ুন—ঘুম, খাদ্য ও মনোযোগ জরুরি
শেখার লক্ষ্য শুধু পরীক্ষা নয়—বোঝা, মনে রাখা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করা।
বিস্তারিত: https://lnkd.in/gVGvsDnd
শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া সহজ, কিন্তু তাকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলা একটু কঠিন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, ভিডিও, গেম ও নানা ধরনের ডিজিটাল বিনোদন যখন শিশুদের অবসর সময়ের বড় একটি অংশ দখল করে নিয়েছে, তখন বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা বাবা-মায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
অথচ আনন্দের সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাস শিশুর ভাষা, চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই শিশুকে শুধু ‘বই পড়তে হবে’ বললেই হবে না। বইকে তার কাছে আনন্দ, কৌতূহল ও আবিষ্কারের একটি মাধ্যম হিসেবে পরিচিত করতে হবে।
শিশুর সঙ্গে বই পড়ার জন্য প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং অল্প সময় হলেও নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমানোর আগে কয়েক পৃষ্ঠা গল্প পড়া, সকালে কিছু সময় বই দেখা কিংবা দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে ছবি দেখানো, গল্প বলা এবং বইয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলাও পাঠের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
মূল বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। একদিন অনেকক্ষণ বই পড়ার চেয়ে প্রতিদিন অল্প সময় বইয়ের সঙ্গে থাকা শিশুর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস তৈরিতে বেশি সহায়ক।
শিশুরা শুধু বড়দের কথা শুনে শেখে না, তারা বড়দের আচরণও অনুসরণ করে। বাবা-মা যদি নিজেরাই নিয়মিত বই পড়েন, তাহলে শিশুর কাছে বই পড়া একটি স্বাভাবিক ও আনন্দময় পারিবারিক অভ্যাস হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে বাবা-মা যদি অবসর পেলেই মোবাইল হাতে নেন, অথচ শিশুকে বলেন ‘বই পড়ো’, তাহলে সেই নির্দেশ সবসময় প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।
তাই শিশুকে বই পড়তে উৎসাহিত করার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো নিজের জীবনেও বইয়ের জন্য জায়গা তৈরি করা।
বই পড়ার সময় শিশুকে শুধু শ্রোতা হিসেবে না রেখে আলোচনার অংশ করা উচিত।
গল্পের কোনো চরিত্র তার কেন ভালো লেগেছে, কোনো ঘটনা সম্পর্কে তার মত কী, এরপর কী ঘটতে পারে বলে সে মনে করে, কিংবা সে ওই পরিস্থিতিতে থাকলে কী করত, এমন প্রশ্ন করা যেতে পারে।
যেমন:
গল্পের কোন চরিত্রটি তোমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে?
তুমি হলে কী করতে?
এরপর কী ঘটতে পারে?
গল্পটির কোন অংশটি সবচেয়ে মজার?
ছবিতে তুমি কী কী দেখতে পাচ্ছ?
এভাবে বই পড়া শুধু পড়ার কাজ থাকে না, এটি চিন্তা, কল্পনা ও মত প্রকাশের সুযোগে পরিণত হয়।
অর্থাৎ, reading time একই সঙ্গে thinking time-ও হতে পারে।
সব শিশু একই ধরনের বই পছন্দ করে না। কেউ কমিকস ভালোবাসে, কেউ প্রাণীর গল্প, কেউ রূপকথা, কেউ রহস্য বা অভিযান, আবার কেউ ছবি-ভিত্তিক বইয়ে বেশি আগ্রহী হতে পারে।
শিশুর বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ না করে তাকে নিজের পছন্দের বই বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভালো।
শুরুতেই তাকে কঠিন বা তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় বই পড়তে বাধ্য করার প্রয়োজন নেই। যে বই তাকে আনন্দ দেয়, সেটিই তার বই পড়ার অভ্যাস তৈরির ভালো সূচনা হতে পারে।
কারণ, বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব শুরু হয় আনন্দ থেকে, বাধ্যবাধকতা থেকে নয়।
সব শিশু একই গতিতে পড়তে শেখে না। কেউ পড়তে একটু বেশি সময় নেয়, আবার কেউ গল্প শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এ ক্ষেত্রে অডিওবুক একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে।
দীর্ঘ গাড়িযাত্রা, ভ্রমণ বা অবসর সময়ে গল্প শোনানো যেতে পারে। কোনো গল্প শুনে শিশুর আগ্রহ তৈরি হলে পরে সেই গল্পের বইটি হাতে তুলে দেওয়া যায়।
তবে অডিওবুককে বইয়ের বিকল্প হিসেবে না দেখে বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই ভালো।
শিশুর সঙ্গে বই পড়ার সময় বাবা-মায়ের মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাতে ফোন নিয়ে শিশুকে বই পড়তে বলা হলে সে সহজেই মনে করতে পারে যে অন্য কিছু তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই বই পড়ার সময় ফোনটি দূরে রাখা ভালো। শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং গল্প নিয়ে একসঙ্গে আলোচনা করা বই পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
এই সময়টি শুধু পড়ার সময় নয়, বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করারও একটি সুযোগ।
শিশুকে নিয়মিত লাইব্রেরিতে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাসও বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। একসঙ্গে অনেক ধরনের বই দেখার সুযোগ শিশুর কৌতূহল বাড়ায় এবং নিজের পছন্দ আবিষ্কার করতে সাহায্য করে।
সম্ভব হলে শিশুকে নিজের বই বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন। বাবা-মা বয়স উপযোগী বইয়ের পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু শিশুর আগ্রহকেও সম্মান করা প্রয়োজন।
সপ্তাহে একদিন লাইব্রেরিতে যাওয়া বা বইয়ের দোকানে গিয়ে বই দেখা পরিবারের একটি আনন্দময় অভ্যাস হয়ে উঠতে পারে।
একটি ভালো বই শিশুকে নতুন শব্দ, নতুন মানুষ, নতুন জায়গা, নতুন ধারণা ও নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করে। গল্পের চরিত্রের অনুভূতি বোঝার মাধ্যমে সে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ভাবতে শেখে। গল্পের পরিণতি অনুমান করতে গিয়ে তার কল্পনা ও বিশ্লেষণী চিন্তার চর্চা হয়।
তবে বই পড়ার সুফল পাওয়ার জন্য শিশুকে কত পৃষ্ঠা পড়েছে বা কতটি বই শেষ করেছে, সেটিকে প্রধান মাপকাঠি বানানোর প্রয়োজন নেই।
বরং দেখতে হবে, সে বই নিয়ে ভাবছে কি না, প্রশ্ন করছে কি না, নিজের মত প্রকাশ করছে কি না এবং বই পড়ার সময় আনন্দ পাচ্ছে কি না।
‘হোমওয়ার্ক শেষ করলে বই পড়তে পারবে’ বা ‘দুষ্টুমি করলে বই পড়তে হবে’ ধরনের ব্যবহারে বই শিশুর কাছে আনন্দের বদলে পুরস্কার বা শাস্তির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
এর পরিবর্তে বইকে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক আনন্দের অংশ করা ভালো।
ঘুমানোর আগে গল্প, ছুটির দিনে একসঙ্গে বই পড়া, পরিবারের সবাই মিলে প্রিয় গল্প নিয়ে আলোচনা কিংবা সপ্তাহান্তে লাইব্রেরিতে যাওয়া, এমন অভ্যাস শিশুর মনে বইয়ের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
শিশু যখন কোনো প্রশ্ন করে, তখন সম্ভব হলে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বই ব্যবহার করা যেতে পারে।
শিশু যদি কোনো প্রাণী, মহাকাশ, সমুদ্র, বিজ্ঞান বা ইতিহাস নিয়ে জানতে চায়, তখন সংশ্লিষ্ট বই বের করে একসঙ্গে দেখা যায়। এতে শিশু বুঝতে শেখে যে কোনো কিছু জানার জন্য বই একটি চমৎকার উৎস।
এভাবে বই শুধু ‘পড়ার জিনিস’ না থেকে জানার, প্রশ্ন করার এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
শিশুর বই পড়ার অভ্যাস একদিনে তৈরি হয় না। প্রতিদিন কয়েক মিনিট গল্প পড়া, বই নিয়ে কথা বলা, নিজেরাও বই পড়া, শিশুকে নিজের বই বেছে নিতে দেওয়া, লাইব্রেরিতে নিয়ে যাওয়া কিংবা অডিওবুক শোনার মতো ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী পাঠাভ্যাস তৈরি করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুকে তার নিজের গতিতে এগোতে দেওয়া এবং বই পড়াকে আনন্দময় রাখা।
শিশুকে বইমুখী করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় সম্ভবত খুব সহজ: বইকে আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করা।
শিশুকে শুধু বলা নয়, ‘বই পড়ো’; বরং তার পাশে বসে একটি বই খুলে বলা, ‘চলো, আজ আমরা একটা গল্প পড়ি।’
এই ছোট উদ্যোগই শিশুর মনে বইয়ের প্রতি কৌতূহল তৈরি করতে পারে। বাবা-মায়ের উদাহরণ, নিয়মিত অল্প সময়ের পাঠ, শিশুর পছন্দের প্রতি সম্মান, গল্প নিয়ে আলোচনা এবং বইকে ঘিরে আনন্দময় পারিবারিক পরিবেশ, সব মিলিয়েই তৈরি হতে পারে একজন আগ্রহী পাঠক।
একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু তাকে কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়তে দেওয়া নয়; বরং তার সামনে একটি নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে দেওয়া।
বই পড়ার অভ্যাসের পাশাপাশি শিশুর কৌতূহল, যুক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তির বিকাশেও বয়স উপযোগী বই ও কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশু-কিশোরদের জন্য উপযোগী বইগুলো সন্তান বা কিশোর-কিশোরীদের জন্য যেমন সংগ্রহ করতে পারেন, তেমনি অভিভাবক, গার্ডিয়ান ও শিক্ষকরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেখতে পারেন।
আমাদের বইসমূহ বিশেষ ছাড়ে সংগ্রহ করুন!
Rokomari.com: https://www.rokomari.com/book/author/136395/rashedul-kabir
Baatighar | বাতিঘর: বাতিঘর, সপ্তম তলা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গলি, ঢাকা।
https://baatighar.com/shop/author/rashedul-kabir-35711
জনতা লাইব্রেরি এন্ড স্টেশনারী, কলেজ রোড, পাংশা, রাজবাড়ী।
আপনার সন্তান বা শিক্ষার্থীর শেখা, কৌতূহল ও সৃজনশীলতার যাত্রায় একটি বই হতে পারে সুন্দর একটি সঙ্গী।