Add Headings and they will appear in your table of contents.
পৃথিবীর প্রথম সংবিধান
পৃথিবীর প্রথম সংবিধান কোনটি তা নির্ভর করে আপনি 'সংবিধান' শব্দটিকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন তার ওপর। ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের দলিলকে প্রথম সংবিধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে:
মদিনা সনদ (৬২২ খ্রিস্টাব্দ): অনেক ইতিহাসবিদের মতে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক প্রণীত মদিনা সনদই পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান। এতে ৪৭টি ধারা ছিল এবং এটি মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মধ্যে সুশাসন ও শান্তি বজায় রাখার একটি লিখিত চুক্তি ছিল।
সান মারিনোর সংবিধান (১৬০০ খ্রিস্টাব্দ): এটি বর্তমানে প্রচলিত পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো কার্যকর লিখিত সংবিধান। এটি ১৬০০ সালে কার্যকর হওয়া কতগুলো বইয়ের সমষ্টি, যা আজও দেশটির শাসনব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান (১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দ): আধুনিক অর্থে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য তৈরি প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক লিখিত সংবিধান হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান। এটি ১৭৮৯ সাল থেকে কার্যকর আছে এবং বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সক্রিয় 'সংজ্ঞায়িত' (codified) সংবিধান।
সংক্ষেপে, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মদিনা সনদকে প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয়, কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে প্রথম আধুনিক লিখিত সংবিধান হিসেবে ধরা হয় ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে এটি গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে মূল তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. মূল কাঠামো
বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল যা মূলত ১১টি ভাগে বিভক্ত। এতে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে।
২. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
সংবিধানের চারটি স্তম্ভ বা প্রধান মূলনীতি রয়েছে:
জাতীয়তাবাদ
সমাজতন্ত্র
গণতন্ত্র
ধর্মনিরপেক্ষতা
৩. মৌলিক অধিকার
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭ক) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য না করা।
চলাফেরা, সমাবেশ, সংগঠন, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা।
জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার।
৪. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সংবিধানের অভিভাবক: বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক বা রক্ষক হিসেবে কাজ করে।
প্রধান রূপকার: ড. কামাল হোসেনকে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান প্রণেতা বা জনক বলা হয়।
সংবিধান দিবস: প্রতি বছর ৪ নভেম্বর বাংলাদেশে 'সংবিধান দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
সংশোধনী: এ পর্যন্ত সংবিধানে ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে।
৫. আইনসভা ও সরকার ব্যবস্থা
বাংলাদেশ একটি এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা (জাতীয় সংসদ) দ্বারা শাসিত হয়।
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস বেশ গৌরবময় ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন একটি প্রক্রিয়া। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান লাভ করে, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। নিচে সংবিধান প্রণয়নের প্রধান ধাপগুলো আলোচনা করা হলো:
১. গণপরিষদ গঠন ও প্রথম অধিবেশন
গঠন: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ এপ্রিল ১৯৭২ সালে 'বাংলাদেশ গণপরিষদ' গঠিত হয়।
প্রথম অধিবেশন: ১০ এপ্রিল ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। শাহ আব্দুল হামিদ প্রথম স্পিকার এবং মোহাম্মদ উল্লাহ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
২. সংবিধান খসড়া কমিটি
কমিটি গঠন: ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনকে প্রধান করে ৩৪ সদস্যের একটি সংবিধান খসড়া কমিটি গঠন করা হয়।
একমাত্র মহিলা সদস্য: এই কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
অন্যান্য সদস্য: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য), ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম প্রমুখ।
৩. খসড়া সংবিধান পেশ ও আলোচনা
পেশ: ১২ অক্টোবর ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেন গণপরিষদে খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন।
পাঠ: ১৯ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিলটির ওপর বিভিন্ন ধাপে পাঠ ও বিস্তারিত আলোচনা চলে।
৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
গ্রহণ: ৪ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে গণপরিষদে সংবিধানটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই দিনটিকে 'সংবিধান দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।
স্বাক্ষর: ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানের মূল কপিতে স্বাক্ষর করেন।
কার্যকর: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) থেকে এই সংবিধান কার্যকর হয়।
৫. সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য ও আদর্শ
রাষ্ট্রীয় মূলনীতি: মূল সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কাঠামো: এতে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ এবং ৪টি তফসিল ছিল।
গণপরিষদ
গণপরিষদ (Constituent Assembly) হলো এমন একটি সংস্থা যা কোনো রাষ্ট্রের জন্য সংবিধান প্রণয়ন বা পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণপরিষদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ গণপরিষদের মূল তথ্য:
গঠন: ২৩ মার্চ ১৯৭২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' জারি করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে এটি গঠিত হয়।
সদস্য সংখ্যা: শুরুতে সদস্য ছিলেন ৪৬৯ জন (জাতীয় পরিষদের ১৬৯ জন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ জন)। তবে মৃত্যু, বহিষ্কার ও আনুগত্য পরিবর্তনের কারণে সংবিধান পাসের সময় সদস্য ছিলেন ৪০৩ জন।
প্রথম অধিবেশন: ১০ এপ্রিল ১৯৭২ তারিখে ঢাকার তৎকালীন জগন্নাথ হলে (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) প্রথম অধিবেশন বসে।
নেতৃত্ব: গণপরিষদের প্রথম স্পিকার নির্বাচিত হন শাহ আব্দুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার হন মোহাম্মদ উল্লাহ।
প্রধান কাজ: এই পরিষদের একমাত্র ও প্রধান কাজ ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা।
সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া:
গণপরিষদ সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি মাত্র সাত মাসের মধ্যে সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া গণপরিষদে পেশ করে এবং ৪ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে তা গৃহীত হয়।
বিলুপ্তি:
সংবিধান কার্যকর হওয়ার (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২) সাথে সাথে গণপরিষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং এটি একটি সাধারণ আইনসভা হিসেবে কার্যক্রম শেষ করে।
বর্তমানে ২০২৪-২৬ সালের সংস্কার প্রক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদকেও 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' হিসেবে কাজ করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সংবিধান রচনা কমিটি
বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য ১৯৭২ সালে গঠিত 'সংবিধান রচনা কমিটি' বা 'খসড়া কমিটি' সংক্রান্ত তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
গঠন: ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে এই কমিটি গঠন করা হয়।
সদস্য সংখ্যা: কমিটিটি ছিল ৩৪ সদস্যের। (কোনো কোনো উৎসে ৩৫ সদস্যের কথা বলা হলেও সর্বজনস্বীকৃত সংখ্যাটি ৩৪)।
চেয়ারম্যান: এই কমিটির প্রধান বা চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
একমাত্র মহিলা সদস্য: কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
বিরোধীদলীয় সদস্য: কমিটিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন একমাত্র বিরোধীদলীয় (ন্যাপ) সদস্য।
কমিটির উল্লেখযোগ্য কয়েকজন সদস্য:
১. ড. কামাল হোসেন (চেয়ারম্যান)
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
৩. তাজউদ্দীন আহমদ
৪. খোন্দকার মোশতাক আহমেদ
৫. এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
৬. ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম
৭. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
৮. বেগম রাজিয়া বানু
৯. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ
১০. এম. আবদুর রহিম
কমিটির কার্যক্রম:
কমিটি ১৭ এপ্রিল থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে এবং জনসাধারণের কাছ থেকে মতামতের জন্য আহ্বান জানায় [১.৩.৪]। সংগৃহীত মতামত থেকে ৯৮টি সুপারিশ গ্রহণ করে তারা সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করে, যা ১২ অক্টোবর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বিল আকারে পেশ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, সংবিধানের হস্তলিপি বা লেখার প্রধান কারিগর ছিলেন এ.কে.এম. আবদুর রউফ এবং অঙ্গসজ্জা বা অলংকরণ কমিটির প্রধান ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
বাংলাদেশের সংবিধান কতবার সংশোধিত হয়েছে
১৯৭২ সালে কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান মোট ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনীটি (সপ্তদশ সংশোধনী) ২০১৮ সালে পাস হয়েছিল, যার মাধ্যমে সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন আরও ২৫ বছর বহাল রাখা হয়। প্রথম থেকে চতুর্থ সংশোধনী শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এই পরিবর্তনগুলো এনেছে।
১ম সংশোধনী (১৫ জুলাই ১৯৭৩): গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আইনি ভিত্তি।
২য় সংশোধনী (২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩): জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং নিবর্তনমূলক আটকের বিধান সংযোজন।
৩য় সংশোধনী (২৩ নভেম্বর ১৯৭৪): বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি (বেরুবাড়ি বিনিময়) কার্যকর করা।
৪র্থ সংশোধনী (২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫): সংসদীয় ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা ও একদলীয় শাসন (বাকশাল) প্রবর্তন।
৫ম সংশোধনী (৬ এপ্রিল ১৯৭৯): ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসনের কার্যাবলীকে বৈধতা দান ।
৬ষ্ঠ সংশোধনী (৮ জুলাই ১৯৮১): উপ-রাষ্ট্রপতি পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করার বিধান নিশ্চিত করা।
৭ম সংশোধনী (১১ নভেম্বর ১৯৮৬): ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদের সামরিক শাসনের কার্যাবলীকে বৈধতা দান।
৮ম সংশোধনী (৭ জুন ১৯৮৮): রাষ্ট্রধর্ম- ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা এবং বিকেন্দ্রীকরণ- ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন ।
৯ম সংশোধনী (১০ জুলাই ১৯৮৯): রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন এবং মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ) সংক্রান্ত।
১০ম সংশোধনী (১২ জুন ১৯৯০): সংসদে মহিলাদের জন্য ৩০টি সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করা।
১১শ (৬ আগস্ট ১৯৯১): অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যাওয়ার বিধান নিশ্চিত করা।
১২শ সংশোধনী (১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১): সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ।
১৩শ সংশোধনী (২৭ মার্চ ১৯৯৬): অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
১৪শ সংশোধনী (১৬ মে ২০০৪): সংরক্ষিত নারী আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ করা এবং বিচারকদের অবসরের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা।
১৫শ সংশোধনী (২০১১): তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, ৭ই মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং সংবিধানের মূলনীতিসমূহ (ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ) পুনর্বহাল।
১৬শ সংশোধনী (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪): বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা (পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত)।
১৭শ সংশোধনী (৮ জুলাই ২০১৮): সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি করা।
সাম্প্রতিক আপডেট (২০২৫-২৬):
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হতে পারে।
আধুনিক সংস্কার প্রক্রিয়া (২০২৪–২০২৬)
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বিদ্যমান সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে।
সংস্কার কমিশন: ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে 'সংবিধান সংস্কার কমিশন' গঠিত হয়। কমিশন ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
জুলাই সনদ ২০২৫: রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার পর ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দলিল বা 'জুলাই সনদ' স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাব ছিল।
সাংবিধানিক গণভোট ২০২৬: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে দেশে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৬৮.৫৯% ভোটার প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট প্রদান করেন।
প্রস্তাবিত প্রধান পরিবর্তনসমূহ (২০২৬ সংস্করণ):
সংস্কার কমিশন এবং জুলাই সনদে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে:
ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ) নিশ্চিত করা।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: বর্তমান এক কক্ষের পরিবর্তে উচ্চ ও নিম্ন কক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন।
নতুন মূলনীতি: ১৯ ১৯৭২ সালের চার মূলনীতির পরিবর্তে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে স্থায়ী আইনি কাঠামোয় আনা।