ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
অবস্থান: বাংলাদেশ উত্তর-পূর্ব ভারতীয় উপমহাদেশে অবস্থিত, যার অধিকাংশ সীমানা ভারতের সাথে এবং দক্ষিণ-পূর্ব অংশ মিয়ানমারের সাথে যুক্ত।
জনসংখ্যা: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ১৭.৭ কোটি। এটি বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ।
রাজধানী: ঢাকা (দেশের বৃহত্তম শহর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র)।
প্রাকৃতিক সম্পদ: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এখানে অবস্থিত।
অর্থনীতি ও সমাজ
প্রধান শিল্প: তৈরি পোশাক (RMG), টেক্সটাইল, কৃষি এবং রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
ধর্ম: জনসংখ্যার প্রায় ৯১% মুসলিম, এছাড়া ৮% হিন্দু এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন।
ভাষা: দাপ্তরিক ও প্রধান ভাষা বাংলা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও স্থাপনার নাম ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক কারণে সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। নিচে বর্তমান নাম এবং সেগুলোর ঐতিহাসিক বা পুরাতন নামের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
দেশের নামের বিবর্তন
বর্তমান নাম: বাংলাদেশ (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ)।
পুরাতন নাম: পূর্ব পাকিস্তান (১৯৫৫–১৯৭১), পূর্ব বাংলা (১৯৪৭–১৯৫৫), বঙ্গ বা বঙ্গদেশ।
প্রধান শহর ও জেলার নাম
বর্তমান নাম- পুরাতন নাম
ঢাকা- জাহাঙ্গীরনগর
চট্টগ্রাম- ইসলামাবাদ / চাটিগাঁ
নোয়াখালী- ভুলুয়া
কুমিল্লা- ত্রিপুরা
সিলেট- জালালাবাদ / শ্রীহট্ট
বরিশাল- চন্দ্রদ্বীপ / ইসমাইলপুর
যশোর- খলিফাতাবাদ
বগুড়া- পুণ্ড্রনগর
ফেনী- শমশেরনগর
গাইবান্ধা- ভবানীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ- বিক্রমপুর
স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক নাম পরিবর্তন (২০২৪-২০২৫)
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো:
জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে: পূর্ব নাম 'শেখ হাসিনা সরণি' (পূর্বাচল ৩০০ ফিট রাস্তা)।
শহীদ ওয়াসিম আকরাম ফ্লাইওভার: চট্টগ্রামের এই ফ্লাইওভারটির পূর্ব নাম ছিল 'মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ফ্লাইওভার'।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র: এর পূর্ব নাম ছিল 'বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (BICC)'
গাজীপুর সাফারি পার্ক: পূর্ব নাম ছিল 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক'।
পদ্মা সেনানিবাস: জাজিরায় অবস্থিত এই সেনানিবাসের পূর্ব নাম ছিল 'শেখ রাসেল সেনানিবাস'।
বরিশাল সেনানিবাস: লেবুখালীর এই সেনানিবাসের পূর্ব নাম ছিল 'শেখ হাসিনা সেনানিবাস'।
অন্যান্য জায়গার পুরাতন নাম
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ।
কক্সবাজার: পানোয়া বা পালংকি।
সোনারগাঁও: সুবর্ণগ্রাম।
বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলীর মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক নাম (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ), জাতীয় পতাকা, 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীত, এবং শাপলা ফুলসমৃদ্ধ প্রতীক। জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ, ফুল শাপলা, ফল কাঁঠাল, এবং বৃক্ষ আম গাছ। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি, ভাষা (বাংলা), ও সংস্কৃতি এগুলোর অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো:
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির আনুষ্ঠানিক নাম হলো "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ"। এর ইংরেজি নাম হলো "The People's Republic of Bangladesh"।
সংবিধানের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হইবে"। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে সংবিধান সংস্কার কমিশন এই নামটি পরিবর্তন করে 'জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ' রাখার সুপারিশ প্রস্তাব করেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের বিবরণ ও তাৎপর্য নিচে দেওয়া হলো:
গঠন ও উপাদান
কেন্দ্রে: পানিতে ভাসমান একটি সাদা শাপলা ফুল।
দুই পাশে: শাপলা ফুলটিকে বেষ্টন করে আছে ধানের দুটি শীষ।
উপরে: পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং তার দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
প্রতীকগুলোর তাৎপর্য
শাপলা: বাংলাদেশের অসংখ্য নদ-নদী ও সৌন্দর্যের প্রতীক।
ধান ও পাট: বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রধান ফসলের নির্দেশক। পাটকে বাংলাদেশের 'সোনালী আঁশ' বলা হয়।
চারটি তারকা: বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতিকে নির্দেশ করে: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিপেক্ষতা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নকশাকার: পটুয়া কামরুল হাসান।
গৃহীত: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই এটি গৃহীত হয়।
সাংবিধানিক স্বীকৃতি: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪(৩) অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীকের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম (বা সরকারি সিলমোহর) হলো বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতীক। এর বিবরণ ও ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো:
মনোগ্রামের বিবরণ
কেন্দ্রে: একটি লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
উপরে ও নিচে: বৃত্তের উপরের দিকে বাংলায় লেখা থাকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এবং নিচের দিকে লেখা থাকে ‘সরকার’।
পার্শ্বদেশ: বৃত্তের দুই পাশে দুটি করে মোট ৪টি তারকা রয়েছে।
তাৎপর্য ও প্রতীকী অর্থ
লাল বৃত্ত ও মানচিত্র: এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত ভূখণ্ডকে নির্দেশ করে।
৪টি তারকা: এগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিপেক্ষতা-র প্রতীক।
নকশাকার ও ইতিহাস
নকশাকার: রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের মূল নকশাকার হলেন শিল্পী এ এন এ সাহা (নিত্যানন্দ সাহা)।
উৎপত্তি: এটি মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী সরকারের (মুজিবনগর সরকার) সিলমোহর হিসেবে প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল।
ব্যবহার: এটি সরকারি নথিপত্র, গেজেট, মুদ্রার নোট এবং পাসপোর্টের প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হয়।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় প্রতীক (শাপলা সংবলিত) এবং রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম (মানচিত্র সংবলিত) দুটি ভিন্ন জিনিস। জাতীয় প্রতীকের নকশাকার হলেন পটুয়া কামরুল হাসান।
নকশা: গাঢ় সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্ত। লাল বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যের একটু বাম পাশে অবস্থিত, যাতে পতাকা ওড়ার সময় এটি মাঝখানে মনে হয়।
তাৎপর্য: সবুজ রং বাংলাদেশের তারুণ্য ও প্রকৃতির শ্যামলিমার প্রতীক, আর লাল বৃত্তটি উদীয়মান সূর্য এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে বোঝায়।
নকশাকার: মূল নকশাটি করেছিলেন শিবনারায়ণ দাস (যাতে মানচিত্র ছিল), কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত মানচিত্রবিহীন পতাকার আধুনিক রূপদান করেন শিল্পী কামরুল হাসান।
অনুপাত: পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬ (বা ৫:৩)। লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ (১/৫)।
স্বীকৃতি: ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম এই পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বর্তমান রূপটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID (National Identity Card) হলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী (বর্তমানে ১৬ বছর হলেই নিবন্ধন করা যায়) নাগরিকদের জন্য ইস্যুকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম ও তথ্য অনুযায়ী এর মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
স্মার্ট এনআইডি কার্ড (Smart Card)
এটি একটি মাইক্রোচিপ সম্বলিত বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র, যা জালিয়াতি রোধে অত্যন্ত কার্যকর।
আকার: এর দৈর্ঘ্য ৮.৬ সেমি এবং প্রস্থ ৫.৪ সেমি।
মেয়াদ: জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ প্রদানের তারিখ থেকে সাধারণত ১৫ বছর পর্যন্ত হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় বন হলো সুন্দরবন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ বন এবং বাংলাদেশের গর্ব। সুন্দরবন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
অবস্থান: এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং দেশের পাঁচটি জেলা—খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জুড়ে বিস্তৃত।
আয়তন: সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার, যার মধ্যে প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার (৬২%-৬৬%) বাংলাদেশের সীমানায় পড়েছে।
ইউনেস্কো স্বীকৃতি: ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে 'বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান' (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে। এটি বিশ্বের ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।
জীববৈচিত্র্য: এই বন বিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার-এর প্রধান আবাসস্থল। এছাড়া এখানে চিত্রা হরিণ, লোনা পানির কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং 'সুন্দরী' ও 'গেওয়া'র মতো বিশেষ ম্যানগ্রোভ গাছ দেখা যায়।
পরিবেশগত গুরুত্ব: এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক 'ফুসফুস' হিসেবে পরিচিত এবং ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশের জাতীয় পশু হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger)।
এর সম্পর্কে কিছু তথ্য:
বৈজ্ঞানিক নাম: Panthera tigris tigris।
আবাসস্থল: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এদের প্রধান আবাসস্থল।
বৈশিষ্ট্য: এটি তার সাহসিকতা, রাজকীয় চলন এবং গায়ের হলুদ-কালো ডোরাকাটা দাগের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হলো দোয়েল (Magpie Robin)। এর সম্পর্কে কিছু তথ্য:
বৈজ্ঞানিক নাম: Copsychus saularis।
বৈশিষ্ট্য: এটি সাদা-কালো রঙের একটি ছোট চঞ্চল পাখি, যা তার মিষ্টি শিষ বা গানের জন্য পরিচিত।
আবাসস্থল: লোকালয়ের আশেপাশে, ঝোপঝাড় বা বাগানে এদের প্রচুর দেখা যায়।
স্মৃতিতে স্থান: দোয়েল পাখির ছবি বাংলাদেশের দুই টাকার নোটে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতীকে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হলো ইলিশ (Hilsa)। এর সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য:
বৈজ্ঞানিক নাম: Tenualosa ilisha।
স্বীকৃতি: ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
আবাসস্থল: এটি মূলত সামুদ্রিক মাছ, তবে ডিম ছাড়ার জন্য পদ্মা, মেঘনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় নদীতে আসে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানিতে ইলিশের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হলো শাপলা (Water Lily)। এর সম্পর্কে কিছু তথ্য:
বৈজ্ঞানিক নাম: Nymphaea nouchali।
রঙ: শাপলা অনেক রঙের হলেও বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হিসেবে নির্দিষ্টভাবে সাদা শাপলা-কে বিবেচনা করা হয়।
তাৎপর্য: এটি বাংলাদেশের অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল এবং জলজ প্রকৃতির শুভ্রতার প্রতীক।
প্রতীকী ব্যবহার: বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক বা 'এমব্লেম'-এর কেন্দ্রে সাদা শাপলা বিদ্যমান।
বাংলাদেশের জাতীয় ফল হলো কাঁঠাল (Jackfruit)। এর সম্পর্কে কিছু মজার ও দরকারি তথ্য:
বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus heterophyllus।
আকার: এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফল, যা একটিই অনেক বড় হতে পারে।
পুষ্টিগুণ: কাঁঠাল অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এর প্রতিটি অংশ (কোয়া থেকে শুরু করে বিচি পর্যন্ত) খাওয়া যায়।
উপযোগিতা: এটি বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই জন্মে এবং গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হলো আম গাছ (Mango tree) । এর সম্পর্কে কিছু তথ্য:
বৈজ্ঞানিক নাম: Mangifera indica।
স্বীকৃতি: ২০১০ সালে আম গাছকে বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তাৎপর্য: বাংলাদেশের জলবায়ু ও মাটির সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং দেশের প্রায় সব অঞ্চলে এই গাছ দেখা যায়।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: আম বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং এর কাঠও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় বন হলো সুন্দরবন। এর সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য:
অবস্থান: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
ধরন: এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বা লোনা পানির বন।
স্বীকৃতি: ইউনেস্কো (UNESCO) ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে 'বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান' (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে।
পরিবেশগত গুরুত্ব: এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করে।
জীববৈচিত্র্য: এই বন বিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ এবং বিভিন্ন বিরল প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর আবাসস্থল।
বাংলাদেশের জাতীয় কবি হলেন কাজী নজরুল ইসলাম।তাঁর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
উপাধি: তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
জন্ম: ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা: ১৯৭২ সালে তৎকালীন সরকার তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসে এবং ১৯৭৪ সালে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে 'জাতীয় কবি'র মর্যাদা দেওয়া হয়।
বিখ্যাত সৃষ্টি: তাঁর লেখা 'বিদ্রোহী' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এছাড়া তাঁর রচিত 'চল চল চল' গানটি বাংলাদেশের রণসংগীত।
সমাধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ), বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর), শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি)।বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলো নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো:
প্রধান জাতীয় দিবসসমূহ
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ২১ ফেব্রুয়ারি, শনিবার।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস: ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার।
পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষ): ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার।
বিজয় দিবস: ১৬ ডিসেম্বর, বুধবার।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দিবস (২০২৬)
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: ১৪ ডিসেম্বর।
গণঅভ্যুত্থান দিবস (জুলাই বিপ্লব): ৫ আগস্ট, বুধবার।
মে দিবস: ১ মে, শুক্রবার।
জাতীয় শিশু দিবস: ১৭ মার্চ (বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে পালিত হয়ে আসত, তবে ২০২৬-এর সরকারি তালিকায় এটি ঐচ্ছিক বা পরিবর্তিত হতে পারে)।
"আমার সোনার বাংলা" বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এর সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
রচয়িতা ও সুরকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রচনাকাল: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় এটি রচিত হয়।
মূল সুরের উৎস: বাউল গায়ক গগন হরকরার "আমি কোথায় পাব তারে" গানের সুর থেকে এটি প্রভাবিত।
জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি: ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে এবং পরবর্তীতে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার এটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে। সংবিধানের ৪(১) অনুচ্ছেদেও এটি স্বীকৃত।
গাওয়ার নিয়ম: জাতীয় সংগীতের প্রথম ১০ চরণ গাওয়া হয়, তবে যন্ত্রসংগীতে বা সামরিক অভিবাদনে প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয়।
বাংলাদেশের রণসংগীত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
রচয়িতা ও সুরকার: বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
রচনাকাল: ১৯২৮ সালে এটি 'নতুনের গান' শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়।
স্বীকৃতি: বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সকল কুচকাওয়াজ ও অনুষ্ঠানে এটি বাজানো হয়।
পরিবেশনার নিয়ম: রণসংগীতের প্রথম ২১টি চরণ কুচকাওয়াজে বাজানো বা গাওয়া হয়।
কবিতার নাম: এটি মূলত নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়া সংগীত হলো 'সারি সারি মুখগুলি পরিপাটি'। এই সংগীতটি সম্পর্কে কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
গীতিকার: সেলিমা রহমান।
সুরকার: খন্দকার নুরুল আলম।
স্বীকৃতি: ২০০৬ সালে মন্ত্রিসভায় এই গানটিকে জাতীয় ক্রীড়া সংগীত হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
ব্যবহার: জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী বা সমাপনী অনুষ্ঠানে এই গানটি পরিবেশন করা হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হলো কাবাডি (যা গ্রামাঞ্চলে হা-ডু-ডু নামেও পরিচিত)। এর সম্পর্কে কিছু তথ্য:
স্বীকৃতি: ১৯৭২ সালে কাবাডিকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বৈশিষ্ট্য: এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা, যাতে শারীরিক শক্তি, দম এবং কৌশলের প্রয়োজন হয়।
পরিচালনা: বাংলাদেশে এই খেলা পরিচালনার জন্য 'বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন' রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সাফল্য: এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কাবাডি দল একাধিকবার রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে।
বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় উৎসব হলো পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষ)। এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির সবচেয়ে বড় সর্বজনীন উৎসব।
পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষ): এটি প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল পালিত হয়। এদিন রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ গান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা (যা ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত) এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যবসায়ীরা এদিন 'হালখাতা' খোলেন।
বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ হলো বায়তুল মোকাররম। এই স্থাপত্যের বিশেষত্ব ও ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো:
মসজিদ পরিচিতি
অবস্থান: এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্টনে অবস্থিত।
স্থাপত্যশৈলী: মক্কার পবিত্র কাবা শরীফের আদলে চতুর্ভুজাকৃতিতে এটি নির্মিত। প্রথাগত মসজিদের মতো এর উপরে বড় কোনো গম্বুজ নেই।
ধারণক্ষমতা: একসাথে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৪২,০০০ মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। ধারণক্ষমতার দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ।
ইতিহাস ও নির্মাণ
উদ্যোক্তা: বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল লতিফ ইব্রাহিম বাওয়ানি প্রথম এই বিশাল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর: ১৯৫৯ সালে 'বায়তুল মোকাররম মসজিদ সোসাইটি' গঠনের মাধ্যমে এর কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি এর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়।
স্থপতি: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের বিশিষ্ট স্থপতি এ এইচ থারানি (আব্দুল হুসেইন এম থারিয়ানি) এর নকশা প্রণয়ন করেন।
প্রথম নামাজ: ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার এখানে প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যান্য তথ্য
ব্যবস্থাপনা: ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার (বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে) এই মসজিদের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে।
প্রতীকী ব্যবহার: বাংলাদেশের ১০ টাকার নোটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের ছবি রয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হলো ঢাকেশ্বরী মন্দির (যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির নামে পরিচিত)। এই মন্দিরের মূল বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো:
অবস্থান: এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লালবাগ দুর্গের কাছে ঢাকেশ্বরী রোডে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠাতা: ধারণা করা হয়, ১২শ শতাব্দীতে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।
নামের অর্থ: 'ঢাকেশ্বরী' শব্দের অর্থ হলো 'ঢাকার ঈশ্বরী' বা ঢাকা শহরের রক্ষাকর্ত্রী দেবী।
ধর্মীয় তাৎপর্য: এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র সতীপীঠ বা শক্তিপীঠ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের প্রধান দুর্গাপূজা ও জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা এখান থেকেই শুরু হয়।
জাতীয় স্বীকৃতি: ১৯৯৬ সালে একে আনুষ্ঠানিকভাবে 'জাতীয় মন্দির' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে মন্দিরের সামনে প্রতিদিন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় স্টেডিয়াম হলো জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা (যা পূর্বে 'বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম' নামে পরিচিত ছিল)। ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে।
মূল তথ্য ও বর্তমান অবস্থা (২০২৬)
অবস্থান: এটি ঢাকার মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকার কাছে পল্টনে অবস্থিত।
ধরন: এটি একটি বহুমুখী ক্রীড়া ক্ষেত্র, যা বর্তমানে প্রধানত ফুটবল ও অ্যাথলেটিকসের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ধারণক্ষমতা: বর্তমানে এর দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ২২,০০০ থেকে ৩৬,০০০ এর মধ্যে (সংস্কারের পর আসন সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে)।
সংস্কার কাজ: ২০২১ সাল থেকে স্টেডিয়ামটিতে বড় ধরনের আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজ চলছে, যার মধ্যে গ্যালারিতে শেড স্থাপন, নতুন অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক এবং আধুনিক ফ্লাডলাইট বসানো অন্তর্ভুক্ত।
গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস
স্থাপিত: ১৯৫৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ক্রিকেট ইতিহাস: ২০০৫ সাল পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রধান ভেন্যু ছিল। এটি বিশ্বের একমাত্র ভেন্যু যা দুটি ভিন্ন টেস্ট খেলুড়ে দেশের (পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) অভিষেক হোম টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করেছে। বর্তমানে ক্রিকেটের প্রধান ভেন্যু হলো শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর।
বিখ্যাত ইভেন্ট: ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এখানে হয়েছিল। এছাড়া লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ২০১১ সালে এই মাঠে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি বিশেষ স্মারক। এর সম্পর্কে মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
অবস্থান: এটি ঢাকার অদূরে সাভারে (নবীনগর) অবস্থিত।
স্থাপত্যশৈলী: স্মৃতিসৌধটি ৭টি ত্রিভুজাকৃতি দেয়ালের সমষ্টি দিয়ে তৈরি। এই ৭টি দেয়াল বাংলাদেশের ইতিহাসের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে (১৯৫২ থেকে ১৯৭১) নির্দেশ করে।
স্থপতি: এর নকশাকার হলেন সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
উচ্চতা: এটি প্রায় ১৫০ ফুট (৪৫.৭ মিটার) উঁচু।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ১৯৮২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ৭টি দেয়ালের প্রতিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের একটি করে বিশেষ পর্যায় বা আন্দোলনকে নির্দেশ করে। নিচে পর্যায়গুলো দেওয়া হলো:
১. ১৯৫২: ভাষা আন্দোলন।
২. ১৯৫৪: যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন।
৩. ১৯৫৮: আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন।
৪. ১৯৬২: শিক্ষা আন্দোলন।
৫. ১৯৬৬: ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন।
৬. ১৯৬৯: গণঅভ্যুত্থান।
৭. ১৯৭১: মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা।
সবচেয়ে ছোট দেয়ালটি সামনে এবং সবচেয়ে উঁচু দেয়ালটি পেছনে অবস্থিত। দূর থেকে দেখলে মনে হয় দেয়ালগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি মিলে মিশে আছে, যা বাঙালির ঐক্যকে বোঝায়।
বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা হলো বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, যা সাধারণত 'মিরপুর চিড়িয়াখানা' নামেই বেশি পরিচিত। এটি দেশের বৃহত্তম এবং কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা।
মূল পরিচিতি ও অবস্থান
অবস্থান: ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত।
আয়তন: প্রায় ১৮৬ একর (বা ৭৫ হেক্টর) এলাকা জুড়ে এটি বিস্তৃত।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৫০ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এটি ছোট আকারে শুরু হলেও ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন মিরপুরের বর্তমান স্থানে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
নাম পরিবর্তন: আগে এটি 'ঢাকা চিড়িয়াখানা' নামে পরিচিত ছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে এর নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা' রাখা হয়।
প্রধান আকর্ষণসমূহ
প্রাণীর সংখ্যা: এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, হাতি, গন্ডার, জলহস্তীসহ প্রায় ১৯১ প্রজাতির ২,১৫০টির বেশি প্রাণী রয়েছে।
জাদুঘর: চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে একটি ছোট প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর রয়েছে, যেখানে বিলুপ্ত ও বিরল বন্যপ্রাণীর মমি সংরক্ষিত আছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশ: চিড়িয়াখানার ভেতর দুটি বড় লেক রয়েছে, যেখানে শীতে পরিযায়ী পাখি আসে।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর (Bangladesh National Museum) দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র। এর সম্পর্কে ২০২৬ সালের আপডেটসহ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
মূল পরিচিতি ও ইতিহাস
অবস্থান: এটি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠা: ১৯১৩ সালের ২০ মার্চ এটি 'ঢাকা জাদুঘর' নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের ১৭ নভেম্বর এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দেওয়া হয়।
সংগ্রহ: চারতলা বিশিষ্ট এই জাদুঘরে বর্তমানে ৮৬,০০০-এর বেশি নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ব, মুদ্রা, শিলালিপি, মুঘল অস্ত্রশস্ত্র, নকশিকাঁথা এবং মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য স্মারক উল্লেখযোগ্য ।
বিশেষ গ্যালারি ও আকর্ষণ
মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি: যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও শহীদদের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি সংরক্ষিত আছে।
প্রাকৃতিক ইতিহাস: এখানে বাংলাদেশের বনজ সম্পদ, খনিজ দ্রব্য এবং একটি বিশাল তিমির কঙ্কাল প্রদর্শিত হয়।
চারুকলা গ্যালারি: শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনসহ আধুনিক শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম এবং প্রাচীন ভাস্কর্য এখানে সংরক্ষিত।
বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থাগার হলো বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার (National Library of Bangladesh)। এর সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
পরিচয় ও অবস্থান
অবস্থান: এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠা: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিচালনা: এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর' দ্বারা পরিচালিত হয়।
গুরুত্ব ও কাজ
সংরক্ষণ: বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রতিটি বই, পত্রিকা ও সাময়িকীর অন্তত একটি কপি এখানে জমা রাখা বাধ্যতামূলক (Legal Deposit)।
ISBN প্রদান: বাংলাদেশে প্রকাশিত বইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানপুস্তক সংখ্যা বা ISBN এই প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রদান করা হয়।
সংগ্রহ: এখানে কয়েক লাখ বই, মানচিত্র, পাণ্ডুলিপি এবং দুর্লভ নথিপত্র সংরক্ষিত আছে।
সদস্যপদ ও সুবিধা
পাঠক সেবা: এটি সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত, তবে বই বাসায় নেওয়ার সুযোগ নেই, কেবল সেখানে বসে পড়া বা গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যায়।
ডিজিটালাইজেশন: বর্তমানে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করার কাজ চলছে।
বাংলাদেশের বৃহত্তম বা সবচেয়ে বড় বিভিন্ন বিষয়ের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
বৃহত্তম বিভাগ: (আয়তনে)-চট্টগ্রাম বিভাগ, (জনসংখ্যার)- ঢাকা বিভাগ ।
বৃহত্তম জেলা: (আয়তনে): রাঙামাটি, (জনসংখ্যার)- ঢাকা জেলা।
বৃহত্তম উপজেলা: (আয়তনে): শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, (জনসংখ্যার)- সাভার।
বৃহত্তম থানা: (আয়তনে): শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, (জনসংখ্যার)- বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী জেলা।
বৃহত্তম ইউনিয়ন: (আয়তনে): সাজেক,বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি, (জনসংখ্যার)-ধামসোনা, সাভার উপজেলা, ঢাকা।
বৃহত্তম গ্রাম: বানিয়াচং, হবিগঞ্জ এটি আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকেই এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে পরিচিত।
স্থাপনা
বৃহত্তম ভবন: জাতীয় সংসদ ভবন, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
বৃহত্তম কারাগার: কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা।
বৃহত্তম বিমানবন্দর: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা।
বৃহত্তম হাসপাতাল: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শয্যা সংখ্যায়)।
বৃহত্তম মসজিদ: বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ঢাকা।
বৃহত্তম রেলওয়ে স্টেশন: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ঢাকা।
বৃহত্তম সেতু (সড়ক): পদ্মা সেতু (দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিমি)।
বৃহত্তম রেল সেতু: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু (যমুনা নদীর ওপর নির্মিত, ২০২৫ সালে এটি দেশের দীর্ঘতম ডেডিকেটেড রেল সেতু হিসেবে চালু হওয়ার কথা)।
বৃহত্তম টানেল: কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম। এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানির তলদেশের সড়ক টানেল।
বৃহত্তম শপিং মল: যমুনা ফিউচার পার্ক, ঢাকা (আয়তনের দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মল)।
বৃহত্তম সিনেমা হল (আসন সংখ্যায়): মণিহার সিনেমা হল, যশোর।
বৃহত্তম হোটেল: ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা (সাবেক রূপসী বাংলা)। এটি ১৯৬৬ সালে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক পাঁচ তারকা হোটেল।
বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (আয়তনে)।
উচ্চতম সরকারি ভবন: বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, মতিঝিল। এটি ১৯৮৫ সালে নির্মিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের উচ্চতম ভবন ছিল (উচ্চতা প্রায় ১১৫ মিটার)।
বৃহত্তম পার্ক (বিনোদন): ফ্যান্টাসি কিংডম।
বৃহত্তম আইটি পার্ক: বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি, কালিয়াকৈর, গাজীপুর। এটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম বিশেষায়িত অঞ্চল।
বৃহত্তম প্রাচীন প্রত্নস্থল: মহাস্থানগড়, বগুড়া।
বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার: সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, নওগাঁ।
প্রকৃতি ও ভূগোল
বৃহত্তম নদী: মেঘনা (এটি দীর্ঘতম এবং প্রশস্ততম নদীও)।
বৃহত্তম বিল: চলন বিল।
বৃহত্তম উদ্যান: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা।
বৃহত্তম লেক (হ্রদ): কাপ্তাই লেক, রাঙামাটি।
বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত (এটি বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সৈকত)।
বৃহত্তম হাওর: হাকালুকি হাওর।
বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর: চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর।
বৃহত্তম বন: সুন্দরবন (এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনও)।
বৃহত্তম দ্বীপ: ভোলা (এটি বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা)।
বৃহত্তম বদ্বীপ: বাংলাদেশ নিজেই বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ)।
সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ: সাকা হাফং (প্রায় ৩,৪৮৮ ফুট উচ্চতা নিয়ে এটি দেশের সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবে স্বীকৃত)।
বৃহত্তম জলপ্রপাত: মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, মৌলভীবাজার।
অর্থনীতি
বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক পিএলসি।
বৃহত্তম বেসরকারী ব্যাংক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (শাখা সংখ্যায়): পুবালী ব্যাংক পিএলসি। এটি বর্তমানে ৫১৮টি শাখা ও ২৬৬টি উপ-শাখা নিয়ে বিস্তৃত।
বৃহত্তম শেয়ার বাজার: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)। এটি দেশের প্রধান এবং প্রাচীনতম পুঁজিবাজার, যেখানে ৬৫০টিরও বেশি সিকিউরিটি তালিকাভুক্ত।
বৃহত্তম বীমা কোম্পানি (সরকারি): জীবন বীমা কর্পোরেশন (জীবন বীমার জন্য) এবং সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (সাধারণ বীমার জন্য)।
বৃহত্তম রাজস্ব আদায়কারী খাত: উৎপাদন খাত এবং ভ্যাট (Value Added Tax)।
শিক্ষা ও জ্ঞান
বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় (আয়তনে): চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (প্রায় ২,১০৩ একর)।
বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় (শিক্ষার্থী সংখ্যায়): জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বৃহত্তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (আয়তনে): ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (IUB) অথবা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার স্থায়ী ক্যাম্পাস)।
বৃহত্তম প্রাথমিক বিদ্যালয়: বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কানিহাটি (সিলেট)।
বৃহত্তম মাদ্রাসা: আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদ্রাসা), চট্টগ্রাম। এটি দেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম কওমি মাদ্রাসা।
বৃহত্তম লাইব্রেরি (সংগ্রহে): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। এখানে প্রায় ৭ লাখের বেশি বই এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপি রয়েছে।
বৃহত্তম লাইব্রেরি: বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার, আগারগাঁও, ঢাকা।
বৃহত্তম বিজ্ঞান জাদুঘর: জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, ঢাকা।
বৃহত্তম জাদুঘর: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা।
বৃহত্তম অডিটোরিয়াম (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে): বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) অনেক সময় বড় বড় সমাবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'কাজী নজরুল ইসলাম' অডিটোরিয়াম বেশ বড়।
শিল্প
বৃহত্তম সার কারখানা: ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা, নরসিংদী। এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এবং দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব 'সবুজ' সার কারখানা।
বৃহত্তম চিনি কল:কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা/ জয়পুরহাট চিনি কল, জয়পুরহাট।
বৃহত্তম কাগজ কল: কর্ণফুলী পেপার মিলস, রাঙ্গামাটি। এটি দেশের সরকারি খাতের বৃহত্তম কাগজ উৎপাদন কেন্দ্র।
বৃহত্তম সিমেন্ট কারখানা: শাহ সিমেন্ট, মুন্সিগঞ্জ।দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ শিল্প: ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, চট্টগ্রাম। এটি আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ রপ্তানিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র: তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
বৃহত্তম বিসিক শিল্প পার্ক: সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক।
বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র: পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী (উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট)।
বৃহত্তম ইপিজেড (নির্মাণাধীন): পটুয়াখালী ইপিজেড।
বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড): বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর (মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও সোনাগাজী নিয়ে গঠিত), যা প্রায় ৩৩,৮০৫ একর জুড়ে বিস্তৃত।
বৃহত্তম আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক বন্দর: চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। দেশের প্রায় ৯০% বৈদেশিক বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বৃহত্তম স্থলবন্দর: বেনাপোল স্থলবন্দর, যশোর।
অন্যান্য
বৃহত্তম জনসভা/সমাবেশ: বিশ্ব ইজতেমা, টঙ্গী (এটি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত)।