১৯৭১ সালে আল্লামা সাঈদীর অবস্থান
১৯৬৭ সালে আল্লামা সাঈদী যশোরে বসবাস করা শুরু করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর সময়ে তিনি যশোরের নিউমার্কেট এলাকার ‘এ’ ব্লকে স্বপরিবারে বসবাস করতেন। যুদ্ধ শুরু হলে তাঁর বাসার আশপাশে পাক সেনাদের বোমা পড়তে থাকায় ‘বাঘারপাড়া’ চলে যান। বাঘারপাড়া ও মহিরনে আল্লামা সাঈদী প্রায় চার মাস স্বপরিবারে অবস্থান করেন।
যুদ্ধের ভয়াবহতা কিছুটা কমে এলে আল্লামা সাঈদী যশোর থেকে নিজ গ্রাম পিরোজপুরের সাঈদখালী গ্রামে জুলাই’৭১ সালের মাঝামাঝি ফিরে যান। যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের পক্ষে যেসব দল তৈরী হয়েছিল, যেমন রাজাকার, আল বদর, আল শামস, মুজাহিদ বাহিনী, শান্তি কমিটি এসবের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন না। পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধারাও এসবের সাক্ষী।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলে নিজ এলাকা পিরোজপুর থেকেই পবিত্র কুরআনের তাফসীর মাহফিল শুরু করেন। বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলা ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কুরআনের তাফসীর মাহফিল করছেন। তাঁর মাহফিলে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ, মন্ত্রী, এমপি, দেশের প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতি, সেনাবাহিনী প্রধান, পুলিশ প্রধান, আইনজীবী, সরকারী উ”চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ যোগ দিয়ে কুরআনের তাফসীর শুনেছেন।
এছাড়া বহু সংখ্যক মাহফিলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরাও বক্তব্য রেখেছেন। বিদেশের স্কলারগণ মাহফিলে বক্তব্য রেখেছেন। এমনকি পবিত্র কা’বা শরীফের সম্মানিত ইমাম চট্টগ্রামে তাঁর তাফসীর মাহফিলে দুই বার তাশরীফ এনেছেন।
স্বাধীনতার মাত্র দু’মাস পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি আল্লামা সাঈদী পিরোজপুর শহরে সীরাত মাহফিলে ওয়াজ করেন। এরপর থেকে সমগ্র দেশব্যাপী একের পর এক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। এদেশের মানুষের মুখে মুখে শ্রদ্ধা জড়িত কণ্ঠে উ”চারিত হতে থাকে একটি নাম, ‘আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।’
১৯৭৯ সালে নারায়নগঞ্জ চিলড্রেন পার্কে আয়োজিত পাঁচদিন ব্যাপী তাফসীর মাহফিলের উদ্বোধনী দিবসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আল্লামা সাঈদী সাহেবের পাশে বসে ঘন্টাকাল তাঁর তাফসীর শুনেছেন। নারায়ণগঞ্জবাসী আজও তার সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলীল ছিলেন আল্লামা সাঈদী সাহেবের অন্তরঙ্গ বন্ধু। উভয়ে উভয়ের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
৮০’র দশকে ঢাকা হাইকোর্ট মাজার প্রাঙ্গনে তিনি প্রায় প্রতি বছর মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন। এ গুরুত্বপূর্ণ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। দেশের প্রধান বিচারপতিসহ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিবৃন্দ মুগ্ধ চিত্তে ঘন্টার পর ঘন্টা আল্লামা সাঈদীর বক্তব্য শুনেছেন এবং এসবের ভিডিও চিত্রও রয়েছে।
স্বাধীনতার পরে ১৯৭১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক কিংবা রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকা অথবা মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি বা পরিবার কেউ কখনো আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করেনি। বরং তাঁর এলাকার সকল ধর্মের মানুষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি রাজাকার, আল বদর, আল শামস ছিলেন না এবং স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তিনি সামান্যতম ভূমিকাও পালন করেননি।