আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
বিগত অর্ধশতাব্দী ধরে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের তাফসীর, তথ্য নির্ভর বক্তব্য, ভিন্ন ধারায় চুলচেড়া বিশ্লেষণ, সুললিত কন্ঠ, প্রমিত উচ্চারন ও বাচনভঙ্গি, ভাষার লালিত্য, যুক্তির সহজ প্রয়োগ, প্রাঞ্জল ও সাবলীল উপস্থাপনা, পান্ডিত্বপূর্ণ লেখনী, সমাজসেবা ও সমাজ সংস্কারে বলিষ্ঠ নেতত্ব ও অবদানের জন্য যিনি স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমান জনপ্রিয়। ইসলামের উপর আঘাত আসলে জীবন বাজি রেখে যিনি সিংহের মত বজ্র কন্ঠে গর্জে ওঠেন। যিনি খোদাদ্রোহী ও দেশদ্রোহী শক্তির শত হুংকার, বাধা বিপত্তি, অপপ্রচারকে চ্যালেঞ্জ করে অগণন জনতার মাঝে ব্যতিক্রমধর্মী স্বকীয়তাও বৈশিষ্টে সমুজ্জ্বল। নিজের সকল যোগ্যতা, অসীম গুনাবলী, সিংহসম সাহসিকতা, আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব, সততা ও আপোষহীনতার জন্য যিনি দল-মত নির্বিশেষে কোটি কোটি জনতার প্রাণের স্পন্দন, ঈমানী চেতনার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, বিশ্ব নন্দিত মুফাসসির, তিনি বাংলাদেশের অহংকার আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
আল্লামা সাঈদী নামটির সাথে পরিচিতি নেই এমন লোক দেশে বিরল। ফলে দেশের এই সর্বাধিক জনপ্রিয় মুফাসসির ও ধর্মীয় নেতার ব্যপারে মানুষের কৌতুহলের অন্ত নেই।আল্লামা সাঈদী একটি চরম উত্তপ্ত সময়ে আল-কোরআনের বিপ্লবী আহবান নিয়ে আভির্ভূত হয়েছিলেন। তখন থেকে আজ অবধি কোরআনের শ্বাশ্বত আহবান প্রতিটি মানুষের অন্তরের গভীরে পৌছাচ্ছেন অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে, দুর্গম কন্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে। তিনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরআনের যে কালজয়ী তাফসীর পেশ ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তা নিঃসন্দেহে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিশাল সংযোজন। তিনি মুসলিম বিশ্বের অহংকার।
আল্লামা সাঈদী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। মজলিশে শুরা সদস্য হন ১৯৮৯ সালে। আল্লামা সাঈদী ২০০৯ সাল থেকে আজ অবধি জামায়াতের নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর ১ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পরপর দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি মাত্র ৬,৯৯৬ ভোটে পরাজিত হন।
২০০১ সালে তিনি ১,১০,১০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুধাংশু শেখর হালদার ৭৬,৭৩১ ভোট পেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর মাত্র তিন জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আল্লামা সাঈদী ৫৫,৭১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগে প্রার্থী সুধাংশু শেখর হালদার পেয়েছিলেন ৫৫,৪৩৭ ভোট।
আল্লামা সাঈদী সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে পিরোজপুর-১ সংসদীয় এলাকা (ইন্দুরকানী) জিয়ানগর নামে উপজেলায় পরিণত হয়। তবে ২০১৭ সালে ‘জিয়ানগর’ নাম পরিবর্তন করে প্রশাসনিকভাবে আবার ‘ইন্দুরকানী’ করা হয়েছে। তবে আল্লামা সাঈদীর এলাকা এখনো ‘জিয়ানগর’ নামেই পরিচিত। এছাড়া তার গ্রামের নাম আগে ছিল ‘সাউদখালী’। কিন্তু এখন সেটা ‘সাঈদখালী’ নামে পরিচিত।
ইসলাম প্রচারক ও জাতীয় নেতা হিসেবে আল্লামা সাঈদী
আল্লামা সাঈদী পবিত্র কুরআনের তাফসীর ‘তাফসীরে সাঈদী’ নামে ইতিমধ্যেই ৫ খন্ড রচনা করেছেন। তাফসীরের বাকি কাজ চলমান আছে। মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ ‘সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালিন’ ৫৮৪ পৃষ্টায় রচনা করেছেন। এছাড়া ফিকহুল হাদিস, কুরআন এবং বিজ্ঞান, ইসলামে নারীর অধিকার, ইসলামে শ্রমিকের অধিকার, ইসলামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামসহ নানা বিষয়ে এ পর্যন্ত তাঁর ৭৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আমেরিকা ও লন্ডন থেকে তাঁর ৪টি বই ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত হয়।
আল্লামা সাঈদী একজন স্বনামধন্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও পবিত্র কুরআনের মুফাসসীর। সেই সাথে একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে দুই বার জাতীয় সংসদে নিজ এলাকা পিরোজপুর থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইসলাম, দেশ ও জাতির কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠাকামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে ১৯৭৯ সালে যোগ দিয়ে কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর। আল্লামা সাঈদী নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত করেছেন এবং তিনি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও এশিয়ার নানা দেশ সফর করে অগণিত মানুষের সম্মুখে কুরআনের তাফসীর পেশ করেছেন।