আল্লামা সাঈদী পবিত্র কুরআনের তাফসীর ‘তাফসীরে সাঈদী’ নামে ইতিমধ্যেই ৫ খন্ড রচনা করেছেন। তাফসীরের বাকি কাজ চলমান আছে। মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ ‘সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালিন’ ৫৮৪ পৃষ্টায় রচনা করেছেন।
এছাড়া ফিকহুল হাদিস, কুরআন এবং বিজ্ঞান, ইসলামে নারীর অধিকার, ইসলামে শ্রমিকের অধিকার, ইসলামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামসহ নানা বিষয়ে এ পর্যন্ত তাঁর ৭৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আমেরিকা ও লন্ডন থেকে তাঁর ৪টি বই ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত হয়।
ইসলাম প্রচারক ও জাতীয় নেতা হিসেবে আল্লামা সাঈদীর অবদান
আল্লামা সাঈদী একজন স্বনামধন্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও পবিত্র কুরআনের মুফাসসীর। সেই সাথে একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে দুই বার জাতীয় সংসদে নিজ এলাকা পিরোজপুর থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইসলাম, দেশ ও জাতির কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠাকামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে ১৯৭৯ সালে যোগ দিয়ে কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর।
আল্লামা সাঈদী নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত করেছেন এবং তিনি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও এশিয়ার নানা দেশ সফর করে অগণিত মানুষের সম্মুখে কুরআনের তাফসীর পেশ করেছেন।
এক নজরে আল্লামা সাঈদীর তাফসীর
আল্লামা সাঈদীর পবিত্র কোরআনের খেদমতের সাক্ষী ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের প্রিয় জন্মভূমি সবুজ শ্যামল এই বাংলাদেশ। আল্লামা সাঈদী —
✔ চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে প্রতি বছর পাঁচদিন ধরে তাফসীর করেছেন টানা ৩৪ বছর
✔ সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রসা মাঠে ৩ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন ৩১ বছর
✔ ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে মাঠ হয়ে পল্টন ময়দানে ৩ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন টানা ৩৩ বছর
✔ রাজশাহীতে ৩ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন ৩০ বছর
✔ খুলনাতে সার্কিট হাউস ময়দানে ২ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন ৩০ বছর
✔ পাবনার আলীয়া মাদরাসা মাঠে তাফসীর করেছেন ৩৫ বছর
✔ বগুড়ায় ৩ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন ২৮ বছর
✔ বরিশালে ২ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন ২৯ বছর
✔ কুমিল্লায় ২ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন ২৮ বছর
✔ কক্সবাজারে ২ দিন ব্যাপী তাফসীর করেছেন ২৫ বছর
এ ছাড়াও বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা-উপজেলা-থানা নেই যেখানে তিনি তাফসীর মাহফিল করেননি। বাংলাদেশের এমন একটি জনপদও নেই যেখানে ‘আল্লামা সাঈদী’ নামটি অপরিচিত। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে কোনো একজন কোরআনের তাফসীরকারকের বিনা বিরতিতে এসব মাহফিলের অনুষ্ঠান এবং এর উপস্থিতি শুধু বিস্ময়করই নয় অনেকটা অবিশ্বাস্যও বটে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আল্লামা সাঈদীর ভূমিকা
১৯৭৮ সালে তিনি ইসলামিক মিশন অব বৃটেনের দাওয়াতে ইংল্যান্ড বার্মিংহাম গ্রেট হলে আন্তর্জাতিক সীরাত মাহফিলে “ইসলামী পুনর্জাগরণ আন্দোলন ও বর্তমান পৃথিবী” বিষয়ের ওপর ৯০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। সেখানে বিশ্ব ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে মদীনা ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর উপস্থিত ছিলেন। তাঁর আলোচনায় তিনি মুগ্ধ হয়ে তাঁকে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানালে আল্লামা সাঈদী মদীনা সফর করেন। সৌদি আরবের মহামান্য বাদশাহ কর্তৃক গঠিত ইরাক ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিলো, আল্লামা সাঈদীকেও উক্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তিনি যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালান। সমগ্র সাউদী আরবের বিভিন্ন স্থানে তিনি কুরআনের তাফসীর পেশ করেছেন। দুবাইতে তিনি দুবাইয়ের শাসক ও প্রধানমন্ত্রী রাশেদ আল মাখতুমের আমন্ত্রনে দুবাই ঈদগাহ ময়দানে কুরআনের তাফসীর পেশ করেছেন। ইউনাইটেড আরাব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল হলি কুরআন এ্যাওয়ার্ড অরগানাইজেশন এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি……