আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সম্মানিত পিতার নাম মাওলানা ইউসুফ সাঈদী। তিনি তার জমানার প্রসিদ্ধ ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা ছিলেন। মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ভারতের ফুরফুরার দরবার শরীফের মরহুম পীর হজরত মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক আল কুরাইশী (রঃ) এর বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের খলিফাও ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী তিনি ইন্তেকাল করেন।
আল্লামা সাঈদীর মহিয়সী মাতা বেগম গুলনাহার ইউসুফ সাঈদী। এই মহিয়সী নারী পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ার চরখালির বিখ্যাত কাজি বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। এই রত্নগর্ভা নারী ২০১২ সালের ২৭ অক্টোবর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আল্লামা সাঈদীর কারাবরনের শোক বুকে নিয়ে বাদ মাগরীব আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।
পিতা মরহুম মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ও মাতা মরহুমা গুলনাহার ইউসুফ সাঈদীর তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
দ্বিতীয় সন্তান মোস্তফা আহসান সাঈদী, তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
তৃতীয় সন্তান মরহুম হুমায়ুন কবীর সাঈদী, তিনিও পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৮ জুন মাত্র ৫২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
একমাত্র কন্যা হাওয়া জামান। তার স্বামী ওয়াহিদুজ্জামান, পেশায় ব্যবসায়ী। তারা স্বপরিবারে নিজ গ্রামে বসবাস করেন। তাদের তিন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুড়া গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম মুন্সি মোঃ ইউনুসের তৃতীয় কন্যা বেগম সালেহা সাঈদীর সাথে ১৯৬০সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চারজন সন্তান। তারা হলেন যথাক্রমে-
আল্লামা সাঈদী ও বেগম সালেহা সাঈদীর জৈষ্ঠ্য সন্তান মরহুম মাওলানা রাফীক বিন সাঈদী। তিনি ১৯৬৬ সালের ১৩ এপ্রিল জন্ম গ্রহন করেন। তিনি তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে ১৯৯০ সালে কামিল পাশ করেন। বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা সমাপ্ত করার পর রাফীক বিন সাঈদী সৌদি আরবের উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষা ও সাহিত্যে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাতিলের মোকাবিলায় উত্তপ্ত ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। অপূর্ব কন্ঠের অধিকারী রাফীক বিন সাঈদী কোরআনের একজন মুফাসসির হিসেবে দেশে বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে রাফীক বিন সাঈদী তার জীবনের ৪৬ বছরের মধ্যে ১৯টি বছরই কোরআনের খেদমতে কাটিয়েছিলেন।
সরকারের বানানো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি করা জুলুম অত্যাচার মিথ্যাচার সইতে না পেরে ২০১২ সালের ১৩ জুন ট্রাইব্যুনালে পিতার মামলা চলাবস্থায় কোর্ট রুমেই তার হার্ট এটাক হয়। ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রতই তাকে তার ছোট ভাই মাসুদ সাঈদী শাহবাগস্থ ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকগণের শত চেষ্টা ব্যার্থ করে দিয়ে দুপুর ২:৩০ মিনিটে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে রাফীক বিন সাঈদী সকলকে কাঁদিয়ে মহান মালিকের ডাকে সারা দিয়ে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
পেশাগত জীবনে রাফীক বিন সাঈদী ছিলেন গ্লোবাল প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং নেটওয়ার্ক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও আবে জমজম প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক। তিনি অসংখ্য সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পিরোজপুর শহরে প্রায় ৫ বিঘা জমির উপর একটি কলেজ, একটি হাসপাতাল, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, একটি দাখিল মাদরাসা ও একটি ইয়াতিমখানার সমন্বয়ে গঠিত ‘আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ইন্তেকালের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি দিগন্ত টেলিভিশনের ‘সরল পথ’ অনুষ্ঠানের পরিচালক ও উপস্থাপক ছিলেন।
বিবাহিত জীবনে রাফীক বিন সাঈদী ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ও বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মরহুম সাইয়্যেদ এম. এইচ হুমায়ুনের জামাতা এবং পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, মক্কা আল মুকাররমার এসি প্লান্টের ডিজাইনারও মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিকায়নের রুপকার, ইসলামী ফাউন্ডেশন লন্ডনের ডাইরেক্টর জেনারেল, বহুগ্রস্থ প্রণেতা মরহুম খুররম জাহ মুরাদের ভাগ্নী জামাতা। রাফীক বিন সাঈদী রাহিমাহুল্লাহ দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
আল্লামা সাঈদী ও বেগম সালেহা সাঈদীর দ্বিতীয় সন্তান শামীম সাঈদী। তিনি ১৯৬৯ সালের ১০ এপ্রিল জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। পেশাগত জীবনে শামীম সাঈদী মাহদী ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান। তিনি বহুসংখ্যক সামাজিত প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। বর্তমানে তিনি খুলনার দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার ট্রাষ্ট ও গভর্নিং বডির সভাপতি ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের দ্বাযিত্ব পালন করছেন। শামীম সাঈদী পিরোজপুর ১ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।
বিবাহিত জীবনে শামীম সাঈদী ঐতিহ্যবাহী পাবনা ষ্টোর, প্রিন্স রেস্তোরা, জাফরান রেস্তোরা ও ক্রিষ্টাল গার্ডেন এর মালিক ঢাকার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কাজী লিয়াকত হোসেনের জামাতা। শামীম সাঈদী দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক।
আল্লামা সাঈদী ও বেগম সালেহা সাঈদীর তৃতীয় সন্তান মাসুদ সাঈদী। তিনি ১৯৭২ সালের ২৩ নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি আমেরিকার লা গর্ডিয়া থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। পেশায় ব্যাবসায়ী মাসুদ সাঈদী একাধারে জননেতা ও সমাজসেবক। তিনি ২০১৪-২০১৯ মেয়াদে জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি খুলনার দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার ট্রাষ্ট ও গভর্নিং বডির সদস্য ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যানের দ্বাযিত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি মদীনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার তত্বাবধায়কের দ্বায়িত্বও পালন করছেন।
মাসুদ সাঈদী বিবাহিত জীবনে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ও জামেয়া কাসেমিয়া নরসিংদীর প্রতিষ্ঠাতা, সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল অফ ইসলামিক ব্যাংকস অফ বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান, মুসলিম বিশ্বের স্বনামধন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও দাতব্য সংগঠন রাবেতা আলম আল-ইসলামীর সর্বোচ্চ বোর্ডের সদস্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন সাইয়্যেদ কামালুদ্দিন আবদুল্লাহ জাফরীর জামাতা। মাসুদ সাঈদী এক পুত্র সন্তানের জনক।
আল্লামা সাঈদী ও বেগম সালেহা সাঈদীর চতুর্থ সন্তান নাসীম সাঈদী। ১৯৭৫ সালে ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহন করে। সমাজসেবক ও ব্যাবসায়ী নাসীম সাঈদী ইংল্যান্ডে ইংরেজী সাহিত্যের উপর পড়াশুনা করেছেন। নাসীম সাঈদী পিরোজপুরের বেগম সালেহা সাঈদী হিফজ ও ইয়াতিমখানার সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
বিবাহিত জীবনে নাসীম সাঈদী লক্ষীপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম, লক্ষীপুর ১ আসনের সাবেক এমপি মাষ্টার শফিকুল্লাহর নাতনী ও মোঃ মোশাররফ হোসেনের মেয়ে জামাতা। নাসীম সাঈদী দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।