প্রিয় স্বদেশ
আল-আমিন শেখ
১. গণতন্ত্রের জন্যে
২. মাতৃভাষার জন্য
৩. বর্ষার জল সঞ্চারে
৪. লাশ
৫. সেই দিনের অপেক্ষায়
৬. কৃত্রিম সুখ
৭. অমর একুশ
৮. কবি নজরুল
৯. হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয় আর
৮৭তে দিয়েছে নূর- হোসেন
৯০তে মিলন, গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য
ঘটেছে স্বৈরাচারের অবসান,
সম্মুখে গনতন্ত্র।
গনতন্ত্র কি পেয়েছি আমরা,
গনতন্ত্রের সংজ্ঞা কি আমাদের আছে জানা?
দুই চোখে যা দেখছি চারপাশে
এই কি গনতানন্ত্রিক বাংলাদেশ?
গনতন্ত্র কি মুদী দোকানের দ্রব্য সামগ্রী
যে যেভাবে খুশী ব্যবহার করবে?
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ভেঙ্গেছে
পরাধীনতার শিকল।
গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যদি প্রয়োজন হয়
আরো এক সাগর রক্ত
তবুও আমরা প্রস্তুত,
রক্ত দিবো গনতন্ত্রের জন্যে।
২২ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
তোমরা আমাদের আর্শীবাদ করো
আমরা যেন ভুলে না যাই,
রফিক, শফিক, বরকত, সালাম।
তোমরা শহীদ হয়েছ মাতৃভাষার জন্য।
আমরা তোমাদের উত্তরসুরী
আমাদের শিরায় উপশিরায় স্পন্দিত হয়
তোমাদের রক্ত।
যে রক্তে ভিজেছে এ মাটি,
সেই মাটির উপর দাঁড়িয়ে আজ
উচ্চারণ করতে পারি বাংলা ভাষা।
সে তো তোমাদের জন্য।
যে চেতনায় তোমরা করেছিলে আত্মদান
আমরা যেন সেই চেতনায় জাগ্রত হই
ভবিষ্যতের জন্য।
আগামী প্রজন্মের কাছে
তুলে ধরতে কুন্ঠিত না হই
তোমাদের কথা।
তোমরা আমাদের আর্শীবাদ করো যেন ভুলে না যাই
তোমাদের আদর্শকে।
১০ ফেব্রুয়ারী১৯৯৩ইং
ভোরের সূর্য যখন পূর্ব দিগন্তে রক্তিম বর্ণে
প্রায় উদিত,
এক ফালি কালো মেঘ হঠাৎ করে
ঢেকে দেয় সুন্দর সোনালী আকাশ।
শুরু হয় রিম ঝিম রিম ঝিম টাপুর টুপুর বৃষ্টি,
বন্ধ হয়ে যায় পাখির কলতান এক নিমেষে,
মাটির গন্ধ আগমণী বার্তা জানায় বর্ষার।
বর্ষা আসে, প্রকৃতি ধারণ করে অপরূপ শোভা।
ডোবায় যখন শাপলা ফোটে
কিশোরীর প্রাণ চাঞ্চল্য হয়
শাফলা তুলিবার জন্যে।
বৃষ্টির পরে,
যখন দুটি বক্ একত্রে ডানা মেলে
সূদুর দিগন্তে,
মন প্রাণ ভরে যায় বর্ষার জল সঞ্চারে।
১৮ই জুলাই ১৯৯৩ইং
কফিনে এ লাশ কার?
এ লাশ কি কোন হিন্দুর
না, এ লাশ হয়তো একজন খৃষ্টানের
অথবা কোন বৌদ্ধের
যদি তাও না হয়,
তবে নিঃশ্চয়ই কোন মুসলমানের।
কিভাবে চিহ্নিত করবো এ লাশ,
সৎকার করবে কে?
নাকি কফিনের লাশ কফিনেই রয়ে যাবে
হবে না সৎকার লাশের,
শিয়াল কুকুরে ছিড়ে চেঁটে খাবে
জমাট বাঁধা রক্ত মাংস,
কি হবে এই লাশের?
অবশ্যই সৎকার হবে লাশের
এই তো, কফিনে আমার ভাইয়ের লাশ।
এ দেশ আমার মা
আমি এই মায়ের সন্তান,
মায়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে লাশ হয়েছে যে
সেই তো আমার ভাই,
মায়ের কোলে সৎকার হবে ভাইয়ের
এই তো আমাদের দাবী
দেশের সকল জাগ্রত জনতার
মিলিত কন্ঠের বাণী।
২২শে আগস্ট ১৯৯৩ইং
আজকাল কি যে সব লিখছি
যত্তসব অপাঠ্য আর অকথ্য,
নিজেই বুঝিনা তার মাথামুন্ডু
অন্যকে বুঝাবো কি দিয়ে?
শব্দের নেই কোন মিল
ভাষার কথা না হয ছেড়েই দিলাম।
এ সব আজে বাজে লেখায়
কি আর পাঠকের মনে আবেগ সঞ্চারিত করা যায়?
কবে যে সব পাঠক ক্ষেপে
উঠবে আমার উপরে,
জুতো পেটা করে লাশ ফেলে দেবে আমার।
কবি সাহিত্যিকরা নাকি জাতির বিবেক
আর আমি হলাম এ জাতির জঞ্জাল,
যতদিন না এ জঞ্জাল পরিস্কার করা হবে,
ততদিন হবে না জাতির উন্নতি।
আমি না হয় কবিতা লেখা ছেড়েই দেবো
যদি কিছু হয় এই দেশটার।
২৬শে অক্টোবর ১৯৯৩ইং
চারিদিকে হৈ চৈ শব্দ আর শব্দ
কোলাহল আর কোলাহল
রিকসার বেলের শব্দ
মোটর গাড়ির হর্ণের শব্দ
স্টীমারের হুইসেলের শব্দ
মানুষের আর্ত চিৎকার
বাঁচার তাগিদে এগিয়ে
চলার পথে পায়ের আওয়াজ।
ঘরেতে সুখ নেই শান্তি নেই
ফুটপাতে রাত কাটনোর
কোন জায়গা নেই।
তবুও মানুষ কৃত্রিম সুখ
খোঁজে রাতের অন্ধকারে
অর্থের বিনিময়ে
রমনার ময়দানে
কিংবা কোন আবাসিক হোটেলে।
১৮ই জুলাই ১৯৯৩ইং
অমর একুশ
একুশ মাতৃভাষার প্রান
নির্জীব হয়ে তাই এখনও বর্তমান।
কত প্রাণবন্ত তরুণের রক্তে রাঙা
মাতৃভাষা বাংলা ভাষা।
গুলির মুখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো যারা
মিছিল আর শ্লোগানে
রাজপথে বা কোন চত্বরে
জোরালো কন্ঠে সকল বাঙালীর একটি দাবী
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই।
যাদের রক্তে আর আত্মত্যাগে
মুখে এলো বাংলা ভাষা
তারা শুধু আজ
স্মৃতি হয়ে আছে শহীদ মিনারে।
ফেব্রুয়ারী এলেই শুরু হয় হৈ চৈ
একুশ, একুশ, অমর একুশ।
মাতৃভাষার জন্যে উথলে উঠে প্রাণ
শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্যে,
ভোর বেলা রাজপথে
হেঁটে চলি খালি পায়ে
পলাশ, শিমুল, জুঁই, চামেলী
নানা রঙের ফুল হাতে।
১১ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ইং
বাংলার কবি কাজী নজরুল
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল
জন্ম অবধি দুঃখ আর কষ্টে
অতিবাহীত করেছেন জীবনটাকে।
বালক বয়সে চাকুরী করেছেন
যৌবনে মিলিটারীতে যোগ দিয়ে
তীব্র বেগে ছুটে চলেছেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে।
তন্মধ্যেও সারাটা জীবন মেতে রয়েছেন
কবিতায় আর সঙ্গীতে।
নিজেকে করেছেন উৎসর্গ
জেল খেটেছেন বহুদিন
তবু লিখেছেন অবিরাম।
ঝাকড়া চুল আর বাঁশীর সুরে
আসর করেছেন খোলা গগণ তলে।
লিখেছেন নাটক, উপন্যাস-ছোটগল্প
সাহিত্যের সবক্ষেত্রে পদচারণা যার
তাকে অবজ্ঞা করে চলেছেন
আজকের শিক্ষিত সমাজ।
০৩রা মে ১৯৯৪ইং
ভেঙ্গেছে মসজিদ গড়েছে মন্দির
মেরেছে মানুষ অনাহারে আর পাশবিক নির্যাতনে
বেয়োনটের খোঁচায়, অজেয় বসনিয়ায়।
স্কাট আর মিসাইল ঢেউ খেলেছে
পীর পয়গম্বর অলি আল্লাহর দরগায়।
যুদ্ধ শেষে ঘরে ফিরেছে যে বেদুঈন সৈনিক
অজানা রোগে মৃত্যু পথে চলেছে,
আল্লাহর অশেষ লীলায়।
যুগে যুগে বলেছেন মনিষীগণ
জাতিভেদ বলে নেইকো কিছু
সকলই সৃষ্টি করেছেন একজন,
হিন্দু মুসলমান ভাই ভাই
কেহ নহে কারো পর
যত জাতি বিরাজমান পৃথিবীময়
দাঁড়াও এসে এক কাতারে
গলাগলি ধরে এক পতাকা তলে
হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয় আর
সুখ শান্তি আনবো ঘরে
আমরা এই দুনিয়ায়।
০৩ মে ১৯৯৪ইং