আল-আমিন শেখ
নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্য পরিচালক ও প্রযোজক, ঔপন্যাসিক, কবি এবং উপস্থাপক
জন্ম তারিখ: ২১শে মে ১৯৭৪
জন্ম স্থান: দক্ষিন বাড্ডা, বাড্ডা, ঢাকা, বাংলাদেশ
পেশা: নাটক ও উপন্যাস রচনা, অভিনয়, নাটক পরিচালনা ও উপস্থাপনা
জীবনসঙ্গী: নাসরীন পাঠান
পিতা মাতা: মরহুম নুর-হোসেন শেখ ও নুর জাহান বেগম
সন্তান: শেখ নাসিফ আলাভী
আল-আমিন শেখ (২১শে মে ১৯৭৪), যিনি আল-আমিন শেখ' নামে পরিচিত, একজন বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্য পরিচালক ও প্রযোজক, ঔপন্যাসিক, কবি এবং উপস্থাপক।
প্রাথমিক জীবন
আল-আমিন শেখ ১৯৭৪ সালের ২১ মে ঢাকা জেলার গুলশান থানাধীন দক্ষিন বাড্ডায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নুর হোসেন শেখ এবং মাতা নুর জাহান বেগম। আল-আমিন শেখ এর পিতা ছিলেন কাপড়ের ব্যবসায়ী। আল-আমিন শেখ এর জন্ম ১৯৭৪ সালে হলেও ১৯৭৬ সাল থেকেই তিনি তার পিতার সাথে দোকানে যেতেন। এবং পিতাকে তার ব্যবসায় সাহায্য করতেন। আল-আমিন শেখ যত বড় হতে থাকেন দোকানদারীর প্রতি তার আগ্রহ ততই বাড়তে থাকে। ১৯৮০ সালে পিতার হাত ধরে বাড্ডা আলাতুন্নেছা হাই স্কুলে ক্লাশ ওয়ানে ভর্তি হন। স্কুল জীবনে কোনদিন কোন রকম খেলা তাকে আকর্ষিত করতে পারেনি। তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান পিতাকে তার ব্যবসায় সাহায্য করা। ।
শিক্ষাজীবন
আল-আমিন শেখ ১৯৭৪ সালে বাড্ডা আলাতুন্নেছা হাই স্কুল থেকে এস.এস.সি পরীক্ষা পাশ করেন। ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষা দেন ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে । এরপর ১৯৯৪ সালে তিনি তেজগাঁও কলেজ থেকে বি.কম পাশ করেন।
১৯৯৩ সালে দূরারোগ্য ক্যান্সারে পিতার মৃত্যু হলে সংসারের দায়ভার এসে পড়ে আল-আমিন শেখের উপর। বি.কম পাশ করার পর এল.এল.বি পড়ার জন্য আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ পর্যন্ত আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।
ব্যক্তিগত জীবন
নাট্যকার আল-আমিন শেখ ২০০৫ সালের ২৭শে জুন বাংলাদেশ বেতারের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা নাসরীন পাঠানকে বিয়ে করেন।
২০০৬ সালের ২১শে মে তারিখে তাদের একমাত্র সন্তান শেখ নাসিফ আলাভীর জন্ম হয়।
কর্মজীবন
১৯৭৬ সালে পিতার সাথে দোকানে যাওয়া থেকেই মূলত কর্ম জীবন শুরু হয়ে যায়। ১৯৮৫ সালে ক্লাশ সিক্সে পড়ার সময় থেকেই দোকানের মালামাল কেনার জন্য একা একা নারায়নগঞ্জ, বাবুরহাট, তারাবো হাট, ভূলতা গাউসিয়া হাট, ইসলামপুর পাইকারী কাপড়ের মার্কেটে যেতে শুরু করেন। এবং মালামাল খরিদ করে মালামাল সমেত ফিরে আসেন। আল্লাহর রহমতে এতো দুর দুরান্তে নগদ টাকা বহন করে নিয়ে গিয়ে মালামাল খরিদ করে ফিরে আসতে কখনও কোন দূর্ঘটনায় পড়তে হয়নি। আর ১৯৯৩ সালে দূরারোগ্য ক্যান্সারে পিতার মৃত্যুর পর থেকে তো ব্যবসার দায়িত্ব পুরেপুরি ভাবেই আল-আমিন শেখের উপর বর্তায়।
১৯৯০ সালে এস. এস. সি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনে আল-আমিন শেখের চোখ আটকে যায়। “নাট্যকর্মী আবশ্যক”। বিজ্ঞাপনটি দিয়েছে “সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী”। আল-আমিন শেখ ছোট বেলা থেকেই সিনেমা পাগল মানুষ। প্রতি শুক্রবার বেলা ১২টার শো তার দেখা চাই-ই-চাই। গুলশান ১ নম্বরে জ্যোতি সিনেমা হল। সেকেন্ড ক্লাশ টিকিটের মূল্য ছয় টাকা। সারা সপ্তাহ স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে শুক্রবার সিনেমা দেখা। তখনকার সময়ে প্রতি সপ্তাহে ১টি নতুন সিনেমা মুক্তি পেত। কিন্তু যদি কোন সপ্তাহে দু’টি সিনেমা মুক্তি পেত, তাহলেই হয়ে যেত বিপত্তি। টাকা জোগাড় করা সম্ভব হলেও সময় জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব ছিলো। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিনই স্কুল থাকে। স্কুল বাদ দিয়ে তো আর সিনেমা দেখতে যাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার হাফ স্কুল থাকায় তিনটা-ছয়টা শো দেখতে হতো। তবুও সিনেমা বাদ দেওয়া যাবে না। সিনেমা দেখতে দেখতে অভিনয়ের প্রতি একটু দূর্বলতা ছিলো আল-আমিন শেখের। আর এস. এস. সি পরীক্ষার পর অফুরন্ত সময় হাতে, ঠিক সেই সময়েই যখন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখেন তখন ইচ্ছে জাগে মনে “সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী”তে নাট্যকর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার। কিন্তু নাট্যকর্মী হিসেবে যোগ দেওযার জন্য ফরম কিনতে যেতে হবে প্রেস ক্লাবের উল্টো দিকে “মহানগর ফটোস্ট্যাট” দোকানে। কিন্তু প্রেস ক্লাব কোথায়, তা তো জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন স্কুল জীবনের ঘনিষ্ট চার বন্ধু- সানী, সজল, রিটন ও রিমন এর সঙ্গে। সবাই মিলে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত হলো -- প্রথমে গুলিস্তান যাবে। গুলিস্তান থেকে সব জায়গায় যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। নিঃশ্চয়ই প্রেস ক্লাব যাওয়ার বাসও গুলিস্তান থেকে পাওয়া যাবে। পাঁচ বন্ধু মিলে গুলিস্তান যান। কিন্তু গুলিস্তান গিয়েও কোন কূল কিনারা না পেয়ে সিদ্ধান্ত হলো শিশু পার্কে যাবেন। যেই কথা সেই কাজ। শিশু পার্কে যাওয়ার বাসে চড়ে বসলো পাঁচ বন্ধু। বাস চলতে চলতে একটি স্টপজে থামলে পরে হেলপার উচ্চস্বরে চিৎকার করে ডাকছে প্রেস ক্লাব-- - -প্রেস ক্লাব.. . .। ব্যস, পাঁচ বন্ধু লাফ দিয়ে বাস থেকে নেমে “মহানগর ফটোস্ট্যাট” দোকান খুঁজে বের করে কুড়ি টাকার বিনিময়ে ফরম সংগ্রহ করলেন।
ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে টি.এস.সি তে। এবার টি.এস.সি কোথায়? সজল কোথাও থেকে জানতে পেরেছেন, শাহবাগ থেকে সোজা দক্ষিন দিকে কিছুটা পথ গেলেই টি.এস.সি। এরপর আরেক দিন পাঁচ বন্ধু মিলে টি.এস.সি গিয়ে ফরম জমা দিয়ে আসেন। এরপর ইন্টারভিউ এর পালা। ৬/১ নয়া পল্টন(জামাত খানার পিছনে) যেতে হবে ইন্টারভিউ দিতে। যথারীতি ইন্টারভিউ দেন এবং পাশ করেন। মাস ব্যাপী নাট্য কর্মশালায় অংশ গ্রহনের জন্য দুই শত টাকা ফি দিতে হয়েছিলো। ফি জমা দিয়ে নাট্য কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করলেন।
১৯৯৫ সালে তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশে (বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার) “বাণী ও ছন্দ” অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করার জন্য অডিশন দেন এবং পাশ করেন। ১৯৯৭ সালে নাটক বিভাগে অডিশনে পাশ করেন । বেতার নাটকে অভিনয় করার পাশাপাশি নাটক লেখা শুরু করেন। এরপর বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল চালু হওয়ার পর এ.টি.এন বাংলায় “বিনোদন জুমাবার” অনুষ্ঠানের জন্য ইসলামিক নাটক লেখা শুরু করেন। ইসলামিক নাটক গুলোর মধ্যে অন্যতম বাপ-বেটা, অন্তরে স্বর্গবাস উল্লেখযোগ্য। জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেল প্রযোজিত আল-আমিন শেখ রচিত ২টি বেতার নাটক ২০০৪ সালে '''UNFPA''' মিডিয়া এওয়ার্ড '''১ম ও ৩য়''' স্থান লাভ করে। ২০০৮ সালে আরো একটি নাটক '''UNFPA''' মিডিয়া এওয়ার্ড '''১ম''' স্থান লাভ করে।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ বেতারে অডিশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। তারপর থেকে সাধারণ অনুষ্ঠান ঘোষনার পাশাপাশি অনেক গুলো জনপ্রিয় অনুষ্ঠান পরিকল্পনাসহ উপস্থাপনা করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গানের ডালি সুর বিহঙ্গ, আলোর ভূবন, আমাদের কথা আমাদের গান, ঝংকার, পথ চলতে এই শহরে, সপ্তপদী, বর্ণালী, আমাদের ঘর আমাদের আঙিনা, চয়নিকা, নোবেল টাচ।
ইসলামিক টেলিভিশনের জন্য ইসলামিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “উদ্দিপন” গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করে প্রসংশা অর্জন করেন।
'''আল-আমিন শেখ রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস'''
অন্য রকম আলো,
শেষ চিঠি মাকে,
শেষ দিনের আলো,
শেষ দুর্গের রক্ত,
অগ্নিপথের সেনানায়ক: মেজর জিয়ার যুদ্ধ
এছাড়াও ছাত্র জীবন থেকে কাব্যচর্চা অব্যাহত রয়েছে।
একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল “ আলিফ লায়লা” তে শাষন জ্বীনের চরিত্রে কন্ঠ দান করেন।
অসংখ্য বেতার বিজ্ঞাপন রচনাসহ বিজ্ঞাপনে নেপথ্য কন্ঠ দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।
অভিনয় ও উপস্থাপনা
১৯৯০ সালে “সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি” তে নাট্য কর্মশালার মাধ্যমে যোগদানের পর শুরু হয় নাটকের মহড়া। সামনে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। সেই সঙ্গে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের জন্য আন্দোলন। “সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি” বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ভূক্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের জন্য বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গণসঙ্গীত গাওয়া এবং পথ নাটক নিয়ে শহীদ মিনার, টি এস সি, বাংলা একাডেমী, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণ শুরু করেন আল-আমিন শেখ।
প্রথম মঞ্চে উঠেন ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের জন্য গঠিত পল্টন মোড়ে জনতার জয় সম্প্রচার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে। সম্মিলিত গণসঙ্গীতে অংশ নেন। গণসঙ্গীতটি ছিল “লাঞ্চিত নিপীড়িত জনতার জয়”। এরপর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ইং সালে সালাম সাকলায়েন রচিত পথ নাটক “একটি নবজাতক শিশু ও এবং কিন্তু” মঞ্চায়ন শুরু হয়। সেখানে পাকিস্তানী সেনার ভূমিকায় অভিনয় করেন। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হয় নাটক না হয় গণসঙ্গীতের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন। তারপর শুরু হয় নতুন নাটকের মহড়া। সাইফুর রহমান মিরণ রচিত ও নির্দেশিত “এখানে এখনো” পথ নাটক। এই নাটকের কেন্দ্রিয় চরিত্র তিনটি- আবীর, সবুজ ও বিপ্লব। প্রথম দিকে কেন্দ্রিয় চরিত্রে অংশ নেন সাইফুর রহমান মিরণ, সৈয়দা ফরিদা ফেরদৌসী যাত্রী ও সবুজ নামে দলের একজন অল্প বয়সী তরুন সবুজ। আর আল-আমিন শেখসহ অনেকেই কোরাস চরিত্রে অংশ নেন। নাটকটি ছিলো মূলত গান নির্ভর। গানের সঙ্গে কোরিওগ্রাফী করতেন। পরে এক ‘শো’ এর দিন সবুজ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিকল্প হিসেবে আল-আমিন শেখ অভিনয় করেন। পুরো নাটকটি আল-আমিন শেখের মুখস্থ থাকার কারণে সেদিন আল-আমিন শেখ ঐ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু মঞ্চাভিনয়ের জন্য যে মহড়া প্রযোজন হয়, তা না থাকার জন্য মঞ্চ ব্যবহারের নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার ফলে নির্দেশকের বকুনী শুনতে হয়। সে রাতে আর আল-আমিন শেখের চোখে ঘুম নেই। সারা রাত একা একা নাটকটি স্টাডি করেন। পরের দিন সন্ধায় আবার ‘শো’ কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে। পরের দিন ‘শো’ শেষে নির্দেশক সাইফুর রহমান মিরণ আল-আমিন শেখকে বুকে জড়িয়ে নেন। এবং আগের দিন বকুনী দেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হন। কিন্তু আল-আমিন শেখ অনুভব করেন, আগের দিন ঐ বকুনী না শুনলে হয়তো আজকের ভালো পারফরমেন্স সম্ভব হতো না। এরপর থেকে যতদিন “এখানে এখনো” নাটকটি মঞ্চায়ন হয়েছে আল-আমিন শেখ ‘সবুজ’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
১৯৯১ সালের জুন মাসে শুরু হয় ময়মনসিংহ গীতিকা অবল্বনে আসিফ মুনীর তন্ময় এর রূপান্তর ও নির্দেশনায় মঞ্চনাটক “আয়না বিবির পালা”। এই নাটকে অভিনয়ের জন্য আল-আমিন শেখকে নাচ শেখার জন্য নাচের স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছিলো।
১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর পিতার মৃত্যু হলে মঞ্চের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হন আল-আমিন শেখ।
১৯৯৫ সালে তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশে (বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার) “বাণী ও ছন্দ” অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করার জন্য অডিশন দেন এবং পাশ করেন। বেতারে প্রথম আবৃত্তির জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ১৫০/= টাকা।
১৯৯৭ সালে নাটক বিভাগে অডিশনে পাশ করেন । বেতারে নাটকে অভিনয় করার পাশাপাশি নাটক লেখা শুরু করেন।
বেতারে তখন “পুষ্টিকথা” শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান হতো। সেখানে ছোট ছোট নাট্যাংশ, যাকে বেতারের ভাষায় বেতার কার্টুন বলা হয়। আল-আমিন শেখ সে সব বেতার কার্টুনে নিয়মিত অংশ নিতেন। প্রতিটি বেতার কার্টুনে অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক পেতেন ৩০০/= টাকা। এ সব বেতার কার্টুনের অধিকাংশই লিখতেন মুহাম্মদ শাহ আলমগীর ও ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল হক। প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় রের্কডিং হতো। আল-আমিন শেখসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত শিল্পীরা আসতেন। মুহাম্মদ শাহ আলমগীর সকাল বেলা গেইটে রিসিপশনে পান্ডুলিপি রেখে যেতেন। আর ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল হক স্বশরীরে আসার পর প্রোগ্রাম প্রডিউসার আবু নওশের সাহেব কয়েকটি সাদা কাগজ ও কলম এগিয়ে দিতেন। ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল হক আমাদের সকলের সামনে বসেই বিভিন্ন বিষয়ের উপর বেতার কার্টুন লিখতেন। প্রতি শনিবার একই রুটিন ছিলো। আল-আমিন শেখের মনে হলো নাটক লেখা এতা সোজা। মুহাম্মদ শাহ আলমগীর ও ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল হককে দেখে আল-আমিন শেখের মনেও ইচ্ছে জাগলো নাটক লেখার।
“পুষ্টিকথা” অনুষ্ঠানে কথিকা পাঠ করতেন ডাঃ আসিরুল হক। একদিন কথিকার বিষয় ছিলো ‘আয়োডিন’। উক্ত কথিকার মাধ্যমে আল-আমিন শেখ জানতে পারেন একজন মানুষের শরীরে প্রতিদিন ততটুকু আয়োডিন প্রয়োজন, যতটুকু আয়োডিন একটি আলপিনের মাথায় ধারণ করতে পারে। এই বিষয়টিকে নিয়ে আল-আমিন শেখ বেতারের জন্য প্রথম বেতার কার্টুন লিখেন তিনটি পুরুষ চরিত্র দিয়ে। পান্ডুলিপিটি নিয়ে যান জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেলের তৎকালীন সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক ফাতেমা রহমানের কাছে। ফাতেমা রহমান পান্ডুলিপিটি পড়ে সাথে সাথে বলেন “যাও এখন এটি রের্কড করো এবং আজকে বেলা তিনটা পাঁচ মিনিটে প্রচার করা হবে। আল-আমিন শেখ এর তো খুশী রাখার জায়গা নেই। তিন জন পুরুষ শিল্পীর মধ্যে যদি নিজে একটি চরিত্রে অভিনয় করেন, তাহলেও আরো দু’জন পুরুষ শিল্পীর প্রয়োজন। আল-আমিন শেখ চার তলা থেকে নীচ তলায় নেমে আসলেন শিল্পী খোঁজার জন্য। নীচে এসে দেখা মিলল গুণী শিল্পী সাইফুল ইসলাম রেজা ও শারফুদ্দিন আহমেদ খোকার সঙ্গে। দু’জনকেই ঘটনাটা বললেন। দু’জনেই অভিনয় করতে সম্মত হলেন। সাথে সাথে রের্কডিস্ট মোঃ কাইয়ুম হোসেনের সহায়তায় রেকর্ডিং ও এডিটিং করে বেলা তিনটা পাঁচ মিনিটে প্রচার করা হলো। শুরু হলো আল-আমিন শেখের নাট্যকার হিসেবে পদযাত্রা। তারপর শুরু হলো একের পর এক লেখা এবং নির্দেশনা।
আল-আমিন শেখ জন্মগত ভাবেই কাপড়ের ব্যবসায়ী। ২০০৪ইং সালের এক সন্ধায় দোকানে বসে একটি টাঙ্গাইলের শাড়ী ভাজ করছিলেন। টাঙ্গাইলের শাড়ীর ভিতর খবরের কাগজ দিয়ে ভাজ করতে হতো। শাড়ীর ভিতরে খবরের কাগজ দিয়ে ভাজ হরার সময় চোখ আটকে যায় একটি বিজ্ঞাপন দেখে। UNFPA Media Award 2004 এর জন্য বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক অনুষ্ঠান আহবান করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটি পড়ে দেখেন অনুষ্ঠান জমা দেওয়ার সময়সীমা তখনো আছে। পরদিন বেতার অফিসে যেয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। কিন্তু কেউ বিষয়টি আমলে নেন না। সন্ধার ঠিক আগ মূহুর্তে বেতার অফিসের ডিউটি রুমের সামনে সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেব জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেলের তৎকালীন উপ আঞ্চলিক পরিচালক অফিস থেকে বের হওয়ার সময় আল-আমিন শেখকে বলেন খবরের কাগজটি নিয়ে পরের দিন তার সাথে দেখা করতে। পরের দিন খবরের কাগজটি নিয়ে যান এবং নাটক লেখার জন্য দু’জনে মিলে বিষয় নির্বাচন করে “Adolescent Re-productive Health”. বিষয়টি নিয়ে লিখতে হলে তো আগে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে হবে। বইপত্র ঘেটে তেমন কোন তথ্য উপাত্ত না পেয়ে শরণাপন্ন হন অভিনেত্রী রীতা ব্যাণার্জীর। তিনি বুঝিয়ে বলেন একজন কিশোরীর প্রথম মাসিক শুরুর গল্প ও মাসিক চলাকালীন যত্ন কিভাবে নিতে হয়। তার কথার উপর ভিত্তি করে আল-আমিন শেখ রচনা করেন “ভাবনা গুলো মেলুক ডানা”। নাটকটিতে চারটি চরিত্র। দু’জন কিশোরী, একজন মা এবং একজন স্কুল শিক্ষিকা। আল-আমিন শেখের নির্দেশনায় অভিনয় করেন নাজমা আনোয়ার, তরু মুস্তফা, মমতাজ শাহীন রূম্পা ও স্নাতা শাহরীন। নাটকটি রেকর্ডিং ও এডিটিং হয়ে যাওয়ার পর প্রোগ্রাম প্রডিউসার আব্দুল মতিন সাহেব আরো একটি নাটক তৈরী করার অনুমোতি দিলেন। এবারে আল-আমিন শেখ লিখলেন “ছোট পরিবার সুখী পরিবার” শিরোনামে বেতার কার্টুন। আল-আমিন শেখের নির্দেশনায় অভিনয় করেন নাজমা আনোয়ার ও মাসুম আজিজ।
২০০৫ সালে ফলাফল ঘোষিত হলো সালাউদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ১ম পুরুস্কার এবং আব্দুল মতিন সাহেব পেয়েছেন ৩য় পুরুস্কার। আল-আমিন শেখের নাম কোথাও নেই। আল-আমিন শেখ UNFPA অফিসে জানতে চেয়েছিলেন নাট্যকার, নির্দেশক বা অভিনেতা অভিনেত্রীদের কি কোন মূল্য নেই? কর্তৃপক্ষ তাদের নামে নাটক জমা দিয়েছেন বলেই নাটকের সব কিছু তাদের হয়ে যাবে। আল-আমিন শেখের এই জানতে চাওয়া UNFPA অফিস বেতার কর্তৃপক্ষকে জানায়। জানতে চাওয়ার অপরাধে আল-আমিন শেখকে ধীরে ধীরে কোনঠাসা করা হয়। একের পর এক তার অনুষ্ঠান কর্তন করা হয়।
২০০৮ সালে আবার UNFPA Media Award 2008 এর জন্য অনুষ্ঠান আহবান করা হয়। তখন আল-আমিন শেখকে বলা হয় “ এবারও যদি নাটক তৈরী করে পুরুস্কার পাইয়ে দিতে পারেন, তাহলে তার কর্তন করা অনুষ্ঠান গুলো ফেরত দেওয়া হবে। আল-আমিন শেখ নির্মাণ করলেন “আঁধার পেরিয়ে”। অভিনয় করলেন নজমুল হুদা বাচ্চু, রুবী আফরোজ, নাজমা ফেরদৌস, নাসরীন পাঠান ও আল-আমিন শেখ। এবারও পেলেন ১ম পুরুস্কার। পুরুস্কার পাওয়ার পর দেখা গেলো আল-আমিন শেখের হাতে যে ক’টি অনুষ্ঠান ছিলো তাও কেটে নেওয়া হয়েছে।
দুঃখে অভিমানে ২০১০ সালে হোম সার্ভিসে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন।
শুধু বেতারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের “গানের ডালি সুর বিহঙ্গ” অনুষ্ঠানটি করতেন। এই অনুষ্ঠিানটির সৃষ্টি আল-আমিন শেখই করেছিলেন।
আল-আমিন শেখ ১৯৯৮ সালে অডিশনের মাধ্যম্য অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। অনুষ্ঠান ঘোষনার প্রথম দ্বায়িত্ব পান ২৮শে মার্চ ১৯৯৯ সালে প্রথম অধিবেশনে ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। সেদিন আল-আমিন শেখ এর সঙ্গে দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন শ্রদ্ধেয় আকতার হোসেন সাহেব ও সৈয়দা মনোয়ারা বেগম । এই দুই গুণী মানুষের সান্নিধ্যে অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে আল-আমিন শেখ এর যাত্রা শুরু। প্রথম দিনেই আকতার হোসেন সাহেব আল-আমিন শেখকে পাঠ করতে দিয়েছিলেন আবহাওয়া বার্তা। আল-আমিন শেখ ঠিকঠাক ভাবেই আবহাওয়া বার্তা পাঠ করেছিলেন, কিন্তু আবহাওয়া বার্তা পাঠ শেষে বলতে হয় “এতোক্ষণ আবহাওয়া বার্তা শুনলেন। কিন্তু তা আল-আমিন শেখ এর জানা ছিলো না। যদিও পান্ডুলিপিতে লেখা রয়েছে। আল-আমিন শেখ তা বুঝতে পারেন নি, আকতার হোসেন সাহেব তখন আল-আমিন শেখ এর কানে কানে ফিসফিস করে বলে দেন এবং আল-আমিন শেখ তখন তা মাইক্রোফোনে উচ্চরণ করেন। এরপর যথারীতি আর কোন সমস্যা হয়নি প্রথম দিনে। এরপর নিয়মিত ভাবে সপ্তাহে দু’দিন সাধারণ পালায় অনুষ্ঠান ঘোষনা ছাড়াও মাস আট থেকে দশ দিন নিশুতি অধিবেশনে রাত বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান ঘোষনা করেন।
তখনকার সময়ে বেতারের অধিকাংশ কর্তা ব্যাক্তিই শিল্পী ছিলেন। আবার সেই সব শিল্পী কর্তা ব্যাক্তির মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মানে শব্দ সৈনিক। আল-আমিন শেখ বেতারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর যে সকল শব্দ সৈনিকদের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন, তারা হলেন শ্রদ্ধেয় টি. এইচ . শিকদার, আশরাফুল আলম, আপেল মাহমুদ, আশফাকুর রহমান খান, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, আবু নওশের, মনোয়ার হোসেন খান প্রমুখ। শব্দ সৈনিকদের মধ্যে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে পেয়েছেন শফিউর রহমান দুলু, মাযহারুল ইসলাম, মোতাহার হোসেন, রাশেদুর রহমান প্রধান, অজিত রায়, মলয় কুমার গাঙ্গুলী, লাকী আখন্দ, সুজেয় শ্যাম, শেখ সাদী খান, সৈয়দ দীপেন প্রমুখকে।
এসব কর্তা ব্যাক্তিরা নিয়মিত বেতারের অনুষ্ঠান শুনতেন। কোন শিল্পী কোন কোন অনুষ্ঠান করছেন, কেমন করছেন, প্রয়োজনে ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের রুমে ডেকে নিয়ে অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নের জন্য নানা পরামর্শ দিতেন। আবার এমনও দেখা গেছে কোন শিল্পী বা লেখকের অনুষ্ঠান ভালো লেগেছে তখন তার অনুষ্ঠানের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছেন।
১৯৯৯ সালে আল-আমিন শেখ শুধুমাত্র হোম সার্ভিসেই অনুষ্ঠান ঘোষনা করতেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তখনও যাননি। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুরোধের আসর গানের ডালির প্রযোজক তখন শব্দ সৈনিক মনোয়ার হোসেন খান। তিনি তখন গানের ডালি অনুষ্ঠানটিকে শ্রোতাদের কাছে অধিকতর জনপ্রিয় করার জন্য চেষ্টা করছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বেসরকারী টেলিভিশনের প্রথম সংবাদ পাঠক ‘এম ওবায়দুর রহমান’ এবং দর্পন অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ‘রওনক জাহান’কে দিয়ে জুটিবদ্ধ করে সপ্তাহে একদিন ভিন্ন আঙ্গিকে গানের ডালি অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। এরপর এম ওবায়দুর রহমান এর সঙ্গে মিতা মাহমুদকে দিয়েও চেষ্টা করেন। কিন্তু বাণিজ্যিক কার্যক্রমের তৎকালীন পরিচালক শব্দ সৈনিক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদের মনঃপুত হচ্ছিলো না। তিনি নিয়মিত বেতার শুনার সুবাদে আল-আমিন শেখ তার দৃষ্টিতে আসেন। কেননা আল-আমিন শেখ শুরু থেকেই একটু নাটকীয় ভাবে উপস্থাপনা করতে পছন্দ করতেন। কারণ সে মঞ্চ থেকে উঠে আসা নাট্যশিল্পী। নাটক সব সময় তার ধ্যানজ্ঞান।
বাংলাদেশ বেতার হোম সার্ভিসের একটা নিয়ম ছিলো সে সময়, উপস্থাপক যাই বলবে মাইক্রোফোনে তা আগে কিউ শীটে লিখে নিতে হবে। আল-আমিন শেখ শুরু থেকেই এই নিয়ম ভাঙ্গতে শুরু করেন। কিউ শীটে খুব বেশী কিছু লিখেন না। আর নিয়ম মাফিক যা লিখতে হয়, তা লিখলেও উপস্থাপনার সময় তা বলেন না। এই অন্যরকম ভাবে কথা বলাটা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ সাহেবের পছন্দ হয়। তিনি উপস্থাপক এ.কে.এম আনোয়ারুল ইসলামের মাধ্যমে আল-আমিন শেখকে শাহবাগে ডেকে পাঠান। এবং গানের ডালির মান উন্নয়নের জন্য অনুষ্ঠান পরিকল্পনা চান। আর আল-আমিন শেখও গানের ডালির মান উন্নয়নের জন্য গবেষণা শুরু করেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১ ঘন্টার অনুষ্ঠান। আল-আমিন শেখ লিখতে শুরু করেন। ১ ঘন্টায় ১০টি গান বাজানো হবে শ্রোতাদের অনুরোধের ভিত্তিতে। শ্রোতাদের পাঠানো চিঠিপত্রও পড়তে হবে। আর শুরু থেকে নাটক বা সিনেমার সংলাপের মতো সংলাপ দিয়ে অভিনয়ের মাধ্যম্যে গান বাজানো হবে। ১০টি গান নিয়ে একটি গল্প বলতে হবে। যাতে করে শ্রোতারা সংলাপ আর গানের মাধ্যমে ঘরে বসে সিনেমা দেখার স্বাদ অনুভব করতে পারে। স্ক্রীপ্ট লিখে জমা দেন। মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ এবং মনোয়ার হোসেন খান, দু’জনেরই স্ক্রীপ্ট পছন্দ হয়। ঠিক হয় সপ্তাহের সাত দিন সাত নামে সাত দু’গুনে চৌদ্দ জন উপস্থাপক উপস্থাপিকা গানের ডালি করবেন। তখন সর্ব সাকুল্যে পঁচিশ ত্রিশ জন অনুষ্ঠান ঘোষক ঘোষিকা কার্যরত ছিলেন। অধিকাংশেরই অডিশন নেওয়া হলো। কিন্তু চৌদ্দ জন নির্বাচন করা সম্ভব হলো না। দু’জন মেয়ে এবং একজন ছেলে উপস্থাপক কম পড়ে যায়। আল-আমিন শেখ তখন তার সহ উপস্থাপিকা হিসেবে নাটক বিভাগ থেকে তার বন্ধু ও সহকর্মী সাংবাদিক নাদিরা কিরণকে নির্বাচন করেন। নাদিরা কিরণ অডিশনে পাশ করেন। এরপর আল-আমিন শেখ তার আরেক বন্ধু নাট্যশিল্পী ও উপস্থাপক ফিরোজ আহমেদ ইকবালকে অনুষ্ঠানটি করার অনুরোধ জানালে ফিরোজ আহমেদ ইকবাল অডিশন দেন এবং পাশ করেন। এখন ফিরোজের সহ উপস্থাপিকার জন্য পরিচিত জন উপস্থাপক ও শব্দ সেনিক মোতাহার হোসেন সাহেবের মেয়ে মেহেদী নাগমাকে আমন্ত্রণ জানানো হলে নাগমা অডিশন দিয়ে পাশ করেন। এরপর সাত দিনের অনুষ্ঠানের নাম নির্বাচনের পালা। মঙ্গল বারে গানের ডালি মন ছুঁয়ে যায়, বুধবারে গানের ডালি আনন্দগীতি, বৃহস্পতিবার গানের ডালি মধুক্ষণ, শুক্রবারে গানের ডালি কিছু কথা কিছু সুর, শনিবারে গানের ডালি শনিবারের সুর, রবিবারে গানের ডালি সুরের প্রহর, সোমবারে আল-আমিন শেখ এর পালা, আল-আমিন শেখ নাম নিয়ে চিন্তিত। সব চিন্তার অবসান ঘটিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের তৎকালীন পরিচালক শব্দ সৈনিক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ মিটিং এ প্রস্তাব করলেন সোমবারে গানের ডালি সুর বিহঙ্গ। এভাবেই সাত দিনের সাত অনুষ্ঠানের নাম নির্বাচন করা হলো। সাতটি গ্রুপের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা। কার চেয়ে কে অনুষ্ঠানের মান ভাল করবে। সপ্তাহে একেক অনিুষ্ঠানে হাজারেরও বেশী চিঠি আসে শ্রোতাদের কাছ থেকে। আর সবাই সবার সমালোচনায় মুখরিত। আজ কে কোন ভুল করেছেন, কার ফামলিং হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আল-আমিন শেখ এর সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে নাদিরা কিরন চল্লিশটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। এরপর সাংবাদিকতার ব্যস্ততার কারনে গানের ডালি সুর বিহঙ্গ ছাড়তে বাধ্য হন। আল-আমিন শেখ পরে যান বিপদে। আবারও শরণাপন্ন হন নাট্যশিল্পী ফরিদা আক্তার রুমা ও পরিচিত জন জান্নাতুল ফেরদৌস নাহিদের। দু’জনেকে অডিশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। অডিশনে জান্নাতুল ফেরদৌস নাহিদকে পছন্দ করেন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের তৎকালীন পরিচালক শব্দ সৈনিক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু আল-আমিন শেখ নাহিদকে দিয়ে ভরসা পান না। মেজবাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তখন তিনি সিদ্ধান্ত দেন যে আল-আমিন শেখ দু’জনকে নিয়েই অনুষ্ঠান করবেন। তারপর থেকে আল-আমিন শেখ দু’জন সহ-উপস্থাপিকা নিয়েই গানের ডালি সুর বিহঙ্গ উপস্থাপনা করতে থাকেন।
২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের সময় বেতারের উপস্থাপক উপস্থাপিকাদের অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করতে হয়। আল-আমিন শেখ এর বাসা বাড্ডাতে। বেতারের একজন তৎকালীন প্রোগ্রাম প্রডিউসার শাহজাহান লস্কর সাহেবের বাসাও মধ্য বাড্ডা, বেতারের আরেকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ সাহেব থাকতেন মহাখালী আড়জত পাড়ায়। তিনজন একই রুটে হওয়ায়, কাজ শেষে ফেরার সময় তিনজন একই মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। গাড়ীতে বসে নির্বাচনী আলোচনা। আল-আমিন শেখ বি এন পির পক্ষে কথা বলেছিলেন, আর আব্দুর রউফ সাহেব কট্টরপন্থী আওয়ামী লীগ। রউফ সাহেব মহাখালী নেমে যাওয়ার পর শাহজাহান লস্কর সাহেব আল-আমিন শেখকে বলেছিলেন, “ তুমি রউফ ভাইকে যেসব কথা বললে তাতে ভবিষ্যতে তোমার কপালে দুঃখ আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বি এন পি ১৯৩ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে ঠিকই । নির্বাচনের কিছু দিন পরেই ২০০২ সালের ২৫শে মার্চ তারিখে ৭২তম পর্বের মধ্য দিয়ে বাজেট ঘাটতির অজুহাতে গানের ডালি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও তখন বি এন পি সরকার ক্ষমতায়। আল-আমিন শেখ তো আর কোন রাজনৈতিক ব্যাক্তি নন, তাই মুখ বুজে সব সহ্য করেছেন।
আল-আমিন শেখকে এক সময় হোস সার্ভিসের অনুষ্ঠান ঘোষনা ছাড়তে কর্তৃপক্ষ বাধ্য করেন। কর্তৃপক্ষ শর্ত দেন যে হয় নাটক নয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা। আল-আমিন শেখ নাটকের মানুষ, তাই নাটককেই বেছে নেন। তবে বাংলাদেশ বেতারের অন্যান্য ইউনিট “যেমন ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস, বর্হিবিশ্ব কার্যক্রম, জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেল” গুলোতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে থাকেন।
প্রশিক্ষণ
“সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি” আয়োজিত মাসব্যাপী নাট্য কর্মশালা ১৯৯০। উক্ত কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, খাইরুল আলম সবুজ, আতাউর রহমান, রামেন্দু মজুমদার, শংকর শাওজাল, আলী যাকের, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, শিমুল ইউসুফ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। নাট্য কর্মশালায় সমন্বয়ক ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মিরণ। নাট্য কর্মশালাটি শুরু হয় ১লা আগস্ট ১৯৯০ইং তারিখে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত ১৪ই জুন ১৯৯১ থেকে ২০শে জুন ১৯৯১ পর্যন্ত এক সপ্তাহ মেয়াদী নাট্য কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন আল-আমিন শেখ। উক্ত কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন ভারতের কেবল ধালিওয়াল (পাঞ্জাব), রাজেশ কুমার (বিহার), সীমা অধিকারী (পশ্চিমবঙ্গ) এবং বাংলাদেশের ইস্রাফিল শাহীন।
“সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি” আয়োজিত নাট্য কর্মশালা ১৯৯১। উক্ত কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, আতাউর রহমান, রামেন্দু মজুমদার, ফাল্গুনী হামিদ, রহমত আলী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। নাট্য কর্মশালায় সমন্বয়ক ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মিরণ। নাট্য কর্মশালাটি শুরু হয় ০৮ই ডিসেম্বর ১৯৯১ইং তারিখে।
“সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি” আয়োজিত নাট্য কর্মশালা ১৯৯৩। উক্ত কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, আসীফ মুনীর তন্ময় ও রামেন্দু মজুমদার। নাট্য কর্মশালায় সমন্বয়ক ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মিরণ। নাট্য কর্মশালাটি শুরু হয় ২৪ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৩ইং তারিখে।
বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক মনোনীত এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনসটিটিউট আয়োজিত ০৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ পর্যন্ত “বেতার নাট্য়াভিনয় কৌশল” বিষয়ক কর্মশালায় আল-আমিন শেখ অংশ গ্রহণ করেন। এবং কর্মশালার অংশ হিসেবে কর্মশালা চলাকালীন সময়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলের দ্বারা অভিনয় করানোর জন্য “প্রসঙ্গ বিয়ে” শিরোনামে নাটকটি রচনা করেন এবং নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত লেখকের রচিত নাটক:
১. অভিমানী নজরুল (প্রযোজনা “আব্দুল আজিজ”)
২. আগামী দিনের জন্য
৩. আমাকে বাঁচতে দাও
৪. এক ক্লীকেই সমাধান
৫. একাকী সময় (প্রযোজনা “আব্দুল আজিজ”)
৬. এখানে শেষ নয়
৭. ঘটনার অন্তরালে
৮. ঘাতক (আগাথা ক্রিস্টি’র গল্প অবলম্বনে বেতার নাট্যরূপ। নাটকটি প্রযোজনা করেন “কাজী রফিক”। নাটকটি প্রচারিত হয় ০৭ই ডিসেম্বর ২০০১ই তারিখে।
৯. জীবনের জলচ্ছবি
১০. তেলেস্মাতি
১১. দু’জনার দুটি পথ (প্রযোজনা “নজমুল হুদা বাচ্চু”)
১২. নেই কোনো অভিযোগ ( আল-আমিন শেখ রচিত, অভিনীত ও প্রযোজিত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং শুক্রবার বেলা ৩টা ০৫ মিনিটে প্রচারিত নাটক)
১৩. নীল আকাশে সোনালী সূর্য (প্রযোজনা “বখতারুন্নেসা আজিজ”)
১৪. প্রথম পরশ কুমারীর (প্রযোজনা “কাজী আসাদ”)
১৫. প্রসঙ্গ বিয়ে (বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক মনোনীত এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনসটিটিউট আয়োজিত ০৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ থেকে ১৮ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ পর্যন্ত “বেতার নাট্য়াভিনয় কৌশল” বিষয়ক কর্মশালায় আল-আমিন শেখ অংশ গ্রহণ করেন। এবং কর্মশালার অংশ হিসেবে কর্মশালা চলাকালীন সময়ে কর্মশালায় অংশ গ্রহণকারী সকলের দ্বারা অভিনয় করানোর জন্য নাটকটি রচনা করেন এবং নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে ২৩ জানুয়ারী ২০০১ইং সালে নাটকটি বাংলাদেশ বেতার থেকে পূণরায় প্রযোজনা করা হয়। নাটকটি প্রযোজনা করেন “মনিরুল ইসলাম বাদল”। নাটকটি প্রচারিত হয় ২৫ জানুয়ারী ২০০১ইং তারিখে।
১৬. পানি নিয়ে পাঁচ কথা
১৭. পারুলের বিয়ে
১৮. ফেলে আসা দিন গুলি
১৯. বসন্তে উই পোকা
২০. বালুচরে মরিচীকা
২১. ভালোবাসা
২২. ভালবাসা মুখে নয় অনুভবে (২০২৫ সালের ২৬শে মার্চের বিশেষ নাটক)
২৩. ভালবাসার কোরবানী (২০২৫ সালের ঈদ-উল আযহার বিশেষ নাটক)
২৪. ভোরের সূর্য
২৫. ভোরের স্বপ্ন
২৬. মরীচিকা
২৭. মেঘের আড়ালে চাঁদ
২৮. রাঙা বউ
২৯. সবার মুখে ফুটুক হাসি
৩০. সময় এখনই সিদ্ধান্ত নেবার
৩১. স্বপ্ন সুখের সন্ধানে
৩২. স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা
৩৩. সোনালী সকাল
৩৪. সুন্দরের পথে
৩৫. সুস্থ্য জীবনের বিকল্প নাই
৩৬. সূর্যোদয়ের পথে
স্যার আর্থার কোণান ডয়েলের গল্প অবলম্বনে বেতার নাটক:
১. কালো পিাটার
২. বসকোম্ব উপত্যকার রহস্য
৩. রক্ত সমীক্ষা
বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত শিশুতোষ নাটক:
১. শহীদ মিনারের কাছে প্রশ্ন (২০২৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে কলকাকলী অনুষ্ঠানে প্রচারিত সব গুলো চরিত্র শিশুদের দ্বারা অভিনীত বিশেষ নাটক। নাটকটি প্রযোজনা করেন “মাহমুদা আখতার”)
বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত লেখকের রচিত যাত্রা:
১. সত্যের জয় (আল-আমিন শেখ রচিত প্রথম যাত্রানুষ্ঠান)
জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেল, বাংলাদেশ বেতার থেকে প্রচারিত লেখকের রচিত নাটক:
১. অনুভবে অনুতাপে
২. আঁধার পেরিয়ে (২০০৮ সালে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ১ম স্থান অর্জন)
৩. আলোর পথে
৪. ভেসে যায় সাদা মেঘ
৫. কাঙ্খিত স্বপ্ন
৬. কালো পায়রা
৭. ছোট পরিবার সুখী পরিবার (২০০৪ সালে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ৩য় স্থান অর্জন)
৮. রুখে দাঁড়াবার এখনই সময়
৯. গোধুলীর মিষ্টি আভা
১০. পথে ফোটে যে ফুল
১১. প্রতিরোধ (রচনা ও প্রযোজনা আল-আমিন শেখ। নাটকটি প্রচারিত হয় ২২ নভেম্বর ১৯৯৯ইং তারিখে।
১২. বঁধু বরণ
১৩. ভাবনা গুলো মেলুক ডানা (২০০৪ সালে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ১ম স্থান অর্জন)
১৪. মনের আলো
১৫. যতনে রতন মেলে
১৬. শিশির ভেজা স্বপ্ন
১৭. সবার আগে শিশু
১৮. সুখ নামের পাখিটা
১৯. স্বপ্ন দেখি বেঁচে থাকার
২০. স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা (ধারাবাহিক নাটক)
বহির্বিশ্ব কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতার থেকে প্রচারিত লেখকের রচিত নাটক:
১. অবশেষে তুমি আমার নাটকটি প্রচারিত হয় ২৩ জুন ২০০২ইং তারিখে।
২. নীল কুয়াশার কাব্য
৩. বৈরী সময়
৪. ভাগ্যের ফের (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে)
৫. নিরব ভালোবাসা (২০২৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে আল-আমিন শেখ রচিত, অভিনীত ও প্রযোজিত বিশেষ নাটক)
বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা থেকে প্রচারিত লেখকের রচিত নাটক:
১. অন্তরে স্বর্গবাস (৭পর্ব) ২. বাপ বেটা (৩০ পর্ব)
পুরস্কার ও সম্মাননা
জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেল প্রযোজিত আল-আমিন শেখ রচিত ও নির্দেশিত ২টি বেতার নাটক ২০০৪ সালে UNFPA মিডিয়া এওয়ার্ড ১ম ও ৩য় স্থান লাভ করে। ২০০৮ সালে আরো একটি নাটক UNFPA মিডিয়া এওয়ার্ড ১ম স্থান লাভ করে।
আল-আমিন শেখ এর ওয়েব লিঙ্ক
http://alaminsheikh.infinityfreeapp.com
https://sites.google.com/view/banglaaudiodrama
https://soundcloud.com/al-amin-sheikh-533909866
https://www.instagram.com/alamin_sheikh22011976
https://www.youtube.com/@AlAminSheikh21
https://www.facebook.com/alamin.sheikh.1974
Al-Amin Sheikh. He was born on 21 May 1974 in South Badda under the then Gulshan police station in Dhaka district. Father Nur Hossain Sheikh was a cloth merchant. Mother Nur Jahan Begum is a housewife. Al-Amin Shekh has three brothers and two sisters. The elder two brothers then Al-Amin Sheikh. Then two younger sisters. Education started at Badda Alatun Nesa High School. He passed SSC from Badda Alatun Nesa High School in 1990 under Dhaka Board. Then he passed I.Com from Dhaka City College in 1992 and B.Com from Tejgaon College in 1994. One day after the SSC examination in 1990, he saw in a newspaper advertisement that a playwright would be hired in 'Samay Sangskritik Gosthi'. There he communicated and joined as a playwright. The journey begins with drama. However, he could not stay involved with stage drama for a long time. He had to take the responsibility of the family due to the loss of his father in 1993. The veil of stage drama happens in the world. But the drama could not be erased from the mind. He used to recite alone at home regularly. In 1995, he auditioned for the drama section of Bangladesh Betar. But after the cruel irony of fate entered the studio and stood in front of the microphone, it did not utter a word. Bess left with the submission of the manuscript. But he did not give up. - He applied again. The call came in 1997. This time he passed the audition. Drama Practice began anew.
আল-আমিন শেখ
নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্য পরিচালক ও প্রযোজক, ঔপন্যাসিক, কবি এবং উপস্থাপক
জন্ম তারিখ: ২১শে মে ১৯৭৪
জন্ম স্থান: দক্ষিন বাড্ডা, বাড্ডা, ঢাকা, বাংলাদেশ
পেশা: নাটক ও উপন্যাস রচনা, অভিনয়, নাটক পরিচালনা ও উপস্থাপনা
জীবনসঙ্গী: নাসরীন পাঠান
পিতা মাতা: মরহুম নুর-হোসেন শেখ ও নুর জাহান বেগম
সন্তান: শেখ নাসিফ আলাভী
আল-আমিন শেখ ও নাসরীন পাঠানের বিবাহত্তোর সংবর্ধনার স্থীর চিত্র
শেখ নাসিফ আলাভীর সঙ্গে আল-আমিন শেখ ও নাসরীন পাঠান
গানের ডালি সুর বিহঙ্গ উপস্থাপনায় আল-আমিন শেখ ও নাদিরা কিরন
জাতি আজ স্বৈরশাসনের পতন উদযাপন করছে। ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯১ দি ডেইলী স্টার