সূচী:-
১. সুখী হবো
২. ক্ষমা
৩. দেখতে পাই
৪. সবুজ দেখবো
৫. ধন্যবাদ
৬. সুখের প্রবাহ
৭. অভিশপ্ত জীবন
৮. দায়ী কে
৯. শুভ্রতা কেন নীল হয়
১০. স্বরচিত কবিতা
১১. বর্তমান
১২. হৃদয় থেকে বলছি
১৩. সোনালী দিনের
১৪. বিস্ফোরণ
১৫. একটি না বলা কথা
১৬. শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে
১৭. কথা রাখোনি তুমি
১৮. কতিপয় পক্তিমালা
১৯. অন্য মানুষ
২০. কোন এক সন্ধ্যায়
২১. ধ্বংস আর সৃষ্টির খেলা
২২. মানুষ রূপ মূর্তি
২৩. কবিতার জন্যে নয়
২৪. মৌলিক অধিকার
২৫. নিঃশব্দ সময়
২৬. অপেক্ষায় আছি তোমারই জন্যে।
২৭. অজানা গন্তব্য
২৮. ঝড়
২৯. যাতনা যখন
৩০. মৌমাছি
৩১. চাঁদের ছায়া
৩২. স্পর্শবিহীন অনুভূতি
৩৩. রাতের অতিথি
৩৪. অবসর
৩৫. তবু প্রতীক্ষায় আছি
৩৬. অস্পষ্ট ছায়া
৩৭. অনন্ত দিন
৩৮. প্রণমী
৩৯. বাসনা
৪০. দুরে সরে যাও
৪১. অনুকৃতি
৪২. কে তুমি
৪৩. তোমাকে মনে পড়ে যায়
৪৪. সংস্কার চাই
৪৫. অপরাজিত সৈনিক
৪৬. স্বপ্ন বিলাস
৪৭. ক্ষণিকের স্বপ্ন
৪৮. সভ্যতার স্খলন
৪৯. অরণ্যে নিরজনে
৫০. তোমায় ভেবে ভেবে
৫১. কান পেতে শুনি
৫২. নির্লজ্জ যুবক
৫৩. স্বপ্নের রাজ্যে
৫৪. কষ্ট বিহীন নষ্ট মানুষ
৫৫. ইচ্ছে করে
৫৬. প্রতীক্ষায় রয়েছি
৫৭. গন্তব্য কোথায়
৫৮. অনুরোধ
৫৯. সেই লজ্জা
৬০. তোমার অজান্তে
৬১. নষ্টা মেয়ে
৬২. স্পন্দন
৬৩. আগুন জ্বলে
৬৪. ছেলেটি কেন জন্ম নিলো
৬৫. একটি পৃথিবী
৬৬. দর্শনে দর্শনে
৬৭. নীল রক্ত
৬৮. যুবা যুবতী
৬৯. প্রেমিকের উৎসর্গ
৭০. ফিরিয়ে দাও হৃদয়
৭১. মৃত্যু দূত
৭২. বিচ্ছুরিত শব্দ
৭৩. প্রস্তাব
৭৪. ব্যতিক্রম নারী
৭৫. কিংকর্তব্য বিমূঢ়
৭৬. খুব চমৎকার লাগছিলো তখন
৭৭. ক্লীবতা
৭৮. যে যায় সে যায়
৭৯. হৃদয় গগন
৮০. উর্বশী
৮১. মন কথা-১
৮২. মন কথা-২
৮৩. শেষ কথপোকথন
৮৪. সপ্তর্শী মন্ডলী
৮৫. টিস্যু পেপার
৮৬. প্লিজ বসো
৮৭. জন্মদিনের কর্মসূচী
৮৮. একটি ফুলের আত্মহত্যা
৮৯. পথিক
৯০. সবাই চলে যায়
৯১. কেউ সুখী নয়
৯২. কামীনি কলা
৯৩. অভিমানীনি ও সূপুরুষ
৯৪. আমি যাকে ভালবাসি
৯৫. তোমার চলে যাবার পর
৯৬. সমুদ্রে বসবাস
৯৭. জেল খানার সেল গুলো
৯৮. জন্ম জয়ন্তী
৯৯. কুহেলিকা
১০০. প্রিয় বন্ধু আমার
১০১. অন্য মানুষ
১০২. অন্তঃসার শূণ্য ধরণী
১০৩. সঞ্চয়
১০৪. শ্লোগান মূখরীত উচ্চারণ
১০৫. ভঙ্গুর স্বপ্নডানা
১০৬. অর্থের মানদন্ড
দ্যাখো , ঐ যে ওদের, দেখতে পাচ্ছো,
দৃষ্টিকে আরেকটু প্রসারিত করো
তবেই দেখতে পাবে।
বসে বসে আপন মনে গল্প করছে দু’জনে,
ওদের দেখে হিংসে হয় আমার,
আমি কি ওদের মতো হতে পারিনা?
আমার কিন্তু খুব ইচ্ছে করে
ওদের মতো হতে,
তোমার কি ইচ্ছে করেনা ওদের মতো হতে?
আমি কিছুই বুঝিনা,
আমার চোখে চোখ রেখে কাছে আসতে
তোমার বাঁধা কোথায়?
এভাবে দূরে থেকে থেকে
কতদিন হৃদয়েয়র আগুনে জ্বালাবে আমাকে?
আমাকে দূরে ঠেলে দিয়ে
তুমি কি সুখে আছো?
নাকি আমার মতোই হৃদয়ের
লাল অগ্নিকুন্ডে পুড়ে পুড়ে নিঃশেষ
হয়ে যাচ্ছো নিজের অজান্তে।
এসো, দুজনে মিলে ওদের মতো
সৃষ্টি করি আপন ভুবন।
দ্যাখো, ঐ দূর আকাশে চেয়ে,
সন্ধ্যাতারা জ্বলছে।
তবুও ওদের ঘরে ফেরার কোন তাড়া নেই।
হয়তো ভুলে গেছে ঘরে ফেরার কথা,
কি কথা বলছে ওরা,
প্রেমালাপ,
প্রেমালাপে মগ্ন দু’জনে,
ওরা কত সুখী,
তুমি আমি সুখী হবো, ওদের চেয়ে ঢের বেশী।
এসো, তুমি আমি দু’জনে মনের অগ্নিকুন্ড
নিভিয়ে দেই চীরতরে।
জ্বালিয়ে দেই সুখের প্রদীপ শিখা,
যা জ্বলবে আমৃত্যু আর্শীবাদ হয়ে
তোমার আর আমার হৃদয় বৃন্তে।
৯ই জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
বঞ্চিত করোনা আমাকে বন্ধুত্বের বন্ধন থেকে
ভালবাসতে যদি নাই পারো
বন্ধু হতে দ্বিধা কেন?
ভালোবাসা অপরাধ হলে ক্ষমা করো তুমি,
ছিন্ন করো না বন্ধুত্বের বন্ধন।
তুমি আমাকে ভুলে যেতে পারো,
কিন্তু আমি পারিনা।
যে দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে দেখেছি
অনুভব করেছি আর চেয়ে থেকেছি।
ভুলে যাবো কেমন করে তোমাকে,
হয়তো ভুলে যাবো
যখন শুনবোনা পাখির ডাক
দেখবো না দিনের সূর্য, রাতের চাঁদ
গন্ধ নেবো না কোন ফুলের।
হয়তো সেদিন।
সত্যিই কি ভুলতে পারবো তখনও?
ভুলে যাওয়া কি সম্ভব?
মুছে ফেলা যাবে কি দৃষ্টিতে আঁকাছবি?
যদি ভুলে যেতে চাও,
বাঁধা দেবো না তোমাকে।
অপরাধ হলে ক্ষমা করো তুমি আমাকে।
১২ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
যখন ভোর হয় তখন তোমাকে দেখতে পাই
যখন দুপুর তখনও তুমি
অথচ বিকেলে,
ঐ দূর দিগন্তে ক্রমশ: মিলিয়ে যাও।
রাত্রে চাঁদ উঠে আমি দেখি স্বপ্ন,
সেখানেও তুমি।
তুমি কি আমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গে
মিশে আছ বিন্দু বিন্দু হয়ে।
যদি তাই হয় তবে বলতে দ্বিধা কোথায়?
আমার সমগ্র চিন্তা চেতনা তোমাকে নিয়ে
শুধু তোমাকে নিয়ে।
আমি দেখতে পাই তোমার দুই চোখ
কি যেন বলছে আমাকে প্রতি মুহুর্তে
তোমার দুই ঠোঁট, কি যেন বলছে আমাকে,
আমি দূবর্ল থেকে আরো দূবর্ল হয়ে যাচ্ছি
তোমার ঐ চোখ ও ঠোটের ভাষায়।
আমি দেখতে পাই,
শুধু তোমাকে।
১০ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
সবুজের দেশ
চারিদিকে তাকালে দেখা যায়
সবুজের ছড়াছড়ি।
গাছের পাতা সবুজ মাঠের ঘাস সবুজ
ক্ষেতের ফসল সবুজ
সবাই কি দেখতে পায় শুভ্র সবুজ,
আমি কিন্তু সবুজ দেখতে পাইনা,
আমার চোখে শুধু স্পর্শ করে যায় নীল।
যে দিকে তাকাই,
সেদিকেই নীল, ঠোঁট নীল,
চুল গুলো পর্যন্ত নীল
দেখতে পাই চারিদিকে
বেদনার নীল।
আমারও সাধ হয়, সবুজ দেখতে,
চেষ্টা করেছি কতবার সবুজ দেখার জন্য।
তবুও আমার চোখ দেখে
নীল, বেদনার নীল, শুধু নীল।
১৪ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
অবাক করলে তুমি
আমাকে এত সহজ ভাবে গ্রহন করবে
তা কিন্তু ভাবিনি।
খুব ভয় হয়েছিল তোমাকে
দেখার পূর্ব মুহুর্তে।
প্রথমে দু’ জনে কথা বললাম চোখে চোখে।
তোমার মধ্যে কোন জড়তার
ছাপ ছিল না,
কিন্তু আমি কোন ভাবেই সহজ হতে
পারছিলাম না তোমার সাথে।
কেন জানি ভয়, কোথায় যেন শুন্যতা,
কিসের বাঁধা আমাকে সরিয়ে নিয়েছে
দুরে থেকে দুরে।
ভেবেছিলাম ক্ষমা চেয়ে নিবো
তোমাকে দুঃখ দেয়ার জন্য।
ক্ষমা চাওয়ার সামান্য সুযোগ দাওনি আমায়।
জানি না, তোমার ভুল ভেঙ্গেছে কিনা,
যদি ভুল ভেঙ্গে থাকে,
তবে ধন্যবাদ তোমাকে।
১৫ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
আজ এমন লাগছে কেন ,
মনের মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে সুখের প্রবাহ,
সব কিছু সুন্দর থেকে আরো সুন্দর।
অনুভব করছি আনন্দ,
যে আনন্দ আসেনি কখনো এ জীবনে,
এই প্রথম।
কেন এই আনন্দ, সুখের আর্বিভাব।
নাকি কোন দুঃখের পূর্বাভাস?
দুঃখ কি গ্রাস করতে চায় আমাকে
আমি দুঃখ চাই না, বেদনা চাই না,
সুন্দর ভুবনে, সুন্দর মন নিয়ে
আনন্দে বাঁচতে চাই,
জীবনের শেষ দিন পর্ষন্ত।
হে পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, আলো, বাতাস
তোমরা আমাকে সাহায্যে করো
সুখী হতে।
১৬ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
শুন্যতায় চারিদিক ভরে আছে,
যে দিকে তাকাই
উত্তর, দক্ষিন, পূর্ব পশ্চিম
শুধু দেখতে পাই,
শুন্যতা আর শুন্যতা।
আমরা কেউ হয়তো অনুভব করি এই শূন্যতাকে
অনেকে আবার ফিরেও তাকাই না,
মহাশূন্যের শুন্যতার দুয়ার প্রান্তে।
কবে বন্ধ হবে এই খোলা দুয়ার,
মুক্তি পাবো অভিশাপ থেকে
যে অভিশাপ ঠেলে দেয়
দূর অন্ধকারে।
চাই না অভিশপ্ত জীবন, চাই না শূন্যতা
হতে চাই না মেরুদন্ডহীন।
মেরুদন্ড নিয়ে দাঁড়াতে চাই
আধুনিক সভ্য সমাজে
সকলের সাথে এক সারিতে।
১৭ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
ভালোবাসা কি অপরাধ
যদি অপরাধ হয়ে থাকে
তবে কি সে জন্য দায়ী আমি?
না, আমি দায়ী নই।
তোমাকে ভালবাসার জন্য দায়ী তুমি,
তোমার চোখ, ঠোঁট, দীর্ঘ কেশ,
তোমার বাচন ভঙ্গি, মুখের হাসি
তোমার শারীরিক সৌন্দর্য।
যে সৌন্দর্য আকর্ষন করে আমায়
প্রতি মুহুর্তে।
তোমার সৌন্দর্যে উন্মাদ এখন,
আমার উন্মাদনার জন্য কি তুমি দায়ী নও,
জানি অস্বীকার করতে পারবেনা।
আমি ভালবাসী তোমাকে,
ভালো যদি নাই বাসো
তিলে তিলে ধ্বংস করার
কি অধিকার আছে তোমার।
অপরাধ করবে তুমি আর মাসুল দিবো আমি,
নিজেকে নিঃশেষ করে।
ক্ষমা পাবে না তুমি
আমাকে ধ্বংস করার জন্যে।
২১শে জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
শুভ্রতা কেন নীল হয়
১৩ ফেব্রুয়ারী১৯৯৩ইং
আমি যখন মঞ্চে আবৃত্তি করছিলাম
স্বরচিত কবিতা,
তুমি বসে ছিলে আমার সামনে
দর্শকের প্রথম সারিতে।
তোমাকে নিয়ে লেখা কবিতা
তোমার স্মৃতি বিজরিত কবিতা
আমার আবৃত্তি শুনে
নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করেছো তুমি
মিটিমিটি করে হেসেছো আর
আড় চোখে তাকিয়েছ আমার দিকে।
হয়তো মনে মনে দু’চারটা গালাগালি দিয়েছো
পাগল বলে,
আমি কি পাগল?
না হয় পাগল হলাম
সে তো তোমার জন্য
তোমার প্রেমের জন্য।
৪ জানুয়ারী ১৯৯৩ইং
তোমাকে উপদেশ দেবো না,
সে সাহস ও আমার নেই।
তবুও বলছি আমার পছন্দ অপছন্দের কথা,
ভেবে দেখো আমার কথা গুলো
হয়তো উপকারে আসবে।
আমি ভালবাসি বর্তমানকে,
চিন্তা করিনা অতীত কিংবা ভবিষ্যত,
যা ঘটে গিয়েছে সে তো অতীত।
তাকে ভেবে অযথা সময় নষ্ট করা
আমার পছন্দ নয়।
আর ভবিষ্যত?
যা ঘটবে
সে তো ভবিষ্যত
সেখানেও ভেবে দেখার অবকাশ নেই,
যা হওয়ার তাই হবে।
কিন্তু বর্তমান,
আমার ভাবনা বর্তমানকে নিয়ে
বর্তমান শুধু বর্তমান ।
জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার
একমাত্র উপযুক্ত সময়।
৪ ফেব্রুয়ারী১৯৯৩ইং
হৃদয় থেকে বলছি তোমায়
তুমি শুনতে পাবে কি না জানি না
তবুও বলব, তুমি আমার
তোমার জন্ম শুধু আমার জন্য,
বিধাতা সৃষ্টি করেছেন দু’জনকে
একে অপরের জন্য।
স্বপ্ন হয়ে এসেছিলে আমার চোখে
আমি স্বপ্ন চাই না
বিশ্বাস করি বাস্তবতাকে।
তুমি যদি আমাকে গ্রহন না করো
তবে আমি
তোমার শাড়ির লাল পাড়ের সুতো হবো
আমাকে জড়িয়ে পড়বে তুমি
তোমার শরীরে।
যদি শাড়ি ছিঁড়ে যায়
তবে সুগন্ধি তেল হবো
স্থান পাবো তোমার দীর্ঘ কালো চুলে
সেখান থেকে গন্ধ নেবো তোমার চুলের
আমার প্রতি নি:শ্বাসে নি:শ্বাসে
আমি থাকবো তোমার প্রতিটি কোষে
অনুতে অনুতে অনন্তকাল,
হৃদয় থেকে বলছি তোমায়
তোমার জন্য আমি, আমার জন্য তুমি।
৫ ফেব্রুয়ারী১৯৯৩ইং
তুমি কি চোখের ভাষা বোঝ না
আমার চোখ কি বলতে চায়
সেকি তুমি জানো না?
সব কিছু জেনে কষ্ট দাও কেন?
তুমি কি আমার কষ্টকে অনুভব করো?
তুমি স্বপ্ন দেখো?
আমি কিন্তু স্বপ্ন দেখি , শুনবে?
না থাক, বলবো না।
যদি তুমি তোমার সুন্দর বদন খানি
আড়াল করে নাও।
তবে মুর্হুতের জন্য হারাতে হবে
তোমার রাঙা ঠোঁটের নিঃশব্দ বাঁকা হাসি।
বুঝতে পারি তোমার ঐ চোখের ভাষা
শুধু বুঝতে পারি না তোমাকে।
তাই তো অপেক্ষা আমার সোনালী দিনের
যে দিন মুখের ভাষায় শুনবো
চোখের কথা।
৫ ফেব্রুয়ারী১৯৯৩ইং
তুমি কি গ্রেনেট বিস্ফোরিত হতে দেখেছ ?
দেখেছ কি গ্রেনেটের অগিন স্ফুলিঙ্গ,
হয়তো দেখেছ কখনো।
কিন্তু, তুমি দেখনি
হৃদয়ের বিস্ফোরণকে।
০৫ফেব্রুয়ারী১৯৯৩ইং
একটি না বলা কথা
তোমাকে বলতে চাই,
যা শুধু তোমাকেই বলা যায়।
তুমি কি শুনবে?
যদিও তুমি জান সে কথাটি
তবুও না বলা কথা।
১৩ ফেব্রুয়ারী১৯৯৩
শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে।
তোমাকে আমি আসামী করে,
কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো
তোমার অপরাধের জন্যে,
শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে।
যে বিচারালয়ে ম্যজিষ্টেট নেই
নেই উকিল মুক্তার
সেই বিচারালয়ে , বিচার হবে তোমার,
তুমি আসামী আর আমি বাদী ,
আমার হৃদয় তুমি চুরি করেছ
শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে।
আচ্ছা বলতো ?
কি শাস্তি হওয়া উচিত তোমার ?
কথা বলছো না কেন?
হৃদয় চুরি করে বেশ সুখেই আছো
একবারও কি ভেবে দেখেছো
হৃদয় বিহীন আমি বাঁচবো কি নিয়ে ?
ক্ষমা নেই তোমার ক্ষমা নেই,
শাস্তি তোমার অনিবার্য।
১৯ ফেব্রুয়ারী১৯৯৩
সে দিন বাড়ি ফিরে দুঃখ হচ্ছিলো আমার
হয়তো আরো কিছুটা সময় থাকতে পারতাম
তোমার পাশে।
হঠাৎ কি জানি ভেবে চলে এলাম,
খাবার টেবিলে যখন মুখোমুখি বসেছি
তুমি নিশ্চুপ।
আমিও যে কি . . .
আমিও কিছু বলতে পারতাম
অথচ কিছুই বলা হয়নি,
খাওয়া শেষে সবাই যখন চেয়ার ছেড়ে উঠে যাচ্ছে,
আমরা দু’জন বসেই ছিলাম,
মুখোমুখি চেয়ে থেকেছি অপলক দৃষ্টিতে।
তোমার চোখে একরাশি লজ্জার ছাপ
কিছু বলবে কি বলবেনা,
সংকোচ করছিলে,
ঠোটে এবং চোখে মৃদু লুকানো হাসি
সত্যি অপূর্ব তুমি।
কিছুক্ষন পর চাঁপা গলায় বললে,
“ আপনি বসুন আমি আসছি”।
কিন্তু তুমি আর আসনি,
কথা দিয়ে কথা রাখনি তুমি।
২৬ফেব্রুয়ারী১৯৯৩ইং
কতিপয় পক্তিমালা
(১)
পুরুষ চায় নারীকে ভালবাসতে
আর নারী চায় পুরুষকে ধ্বংস করতে।
১০-৩-৯৩ইং
(২)
পুরুষ ভালবাসে নারীকে
নারী ঘৃনা ভরে ফিরিয়ে দেয়
পুরুষের ভালবাসাকে,
অকৃতজ্ঞ নারী।
১০-৩-৯৩ইং
(৩)
প্রেম দিতে পারে এক বুক বেদনা
বেদনার মাঝেই লুকিয়ে থাকে
সুখ নামের কাল্পনিক বস্তুকনা।
২১-৩-৯৩ইং
আর কি চাই তোমার?
তুমি আমাকে ঘর ছাড়া করেছো
সমাজ থেকে করেছ বিতাড়িত
আর কি চাই তোমার?
তুমি আমার হৃদয় নিয়েছো
আমি এখন মাটির গড়া হৃদয় বিহীন ছদ্ম বেশে অন্য মানুষ।
আর কি চাই তোমার?
খেলে চলেছি আমি লুকোচুরি খেলা
প্রতি মূর্হুতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি
সবার অলক্ষ্যে।
সে তো তোমার জন্যে,
আর কি চাই তোমার?
সব কিছু গ্রাস করেও
তোমার চাওয়ার নেই কোন শেষ,
আমি আজ অন্য মানুষ,
পৃথিবীর অবহেলিত জঞ্জাল
আর কিছুই নেই তোমাকে দেবার
আমি আজ ছদ্মবেশে অন্য মানুষ।
১লা এপ্রিল ১৯৯৩ইং
কোন এক সন্ধ্যায় তোমাকে দেখে
ভাল লেগেছিল আমার,
সেই ভাল লাগা ক্রমে ক্রমে
পরিণত হলো ভালবাসায়,
ভালবাসলাম তোমাকে
পেলাম জীবনের পরিপূর্নতা।
তারপর যা ঘটল
তা ছিল কল্পনাতীত,
তোমার ভালবাসা
শুধুমাত্র অভিনয়, ছলনা।
প্রতিদান স্বরুপ দিলে হৃদয়ের বেদনা,
বেদনা এখন নাগিনী হয়ে
থেকে থেকে দংশন করে আমায়।
প্রবাহিত হয় ঝর্ণাধারা
বুকচিরে নীল রক্তের ,
নাগিনী হয়েছে সঙ্গিনী অনন্তকালের
অথচ, সঙ্গিনী হওয়ার কথা ছিল তোমার।
২৭ মার্চ১৯৯৩ইং
সবাই চায় সৃষ্টি করতে
আর আমি চাই ধ্বংস করতে,
সৃষ্টি দেয় যন্ত্রনা
ধ্বংস দেয় সান্তনা।
৩ এপ্রিল১৯৯৩ইং
এমন কিছু সময় আসে মানুষের জীবনে
যখন দুঃখকে দুঃখ মনে হয় না
সুখকে সুখ মনে হয় না
সকল অনুভূতির উর্ধ্বে
মানুষ রূপ মূর্তি।
৪ এপ্রিল১৯৯৩ইং
কবিতার জন্য আমি কবিতা লিখিনি
সত্য কথা বলার জন্য আমি কবিতা লিখেছি
কবি হওয়ার জন্য আমি কবিতা লিখিনি
গন মানুষের জন্য আমি কবিতা লিখেছি
কবিতার জন্য কবিতা লিখিনি
প্রতিবাদের জন্য আমি কবিতা লিখেছি
দেশের জন্য কবিতা লিখেছি
কবিতার জন্য আমি কবিতা লিখিনি
প্রেমের জন্য কবিতা লিখেছি
কবি হওয়ার জন্য আমি কবিতা লিখিনি
তোমার জন্য কবিতা লিখেছি।
৫ এপ্রিল১৯৯৩ইং
একজন পন্ডিত ব্যক্তিকে যদি প্রশ্ন করা হয়,
আচ্ছা পন্ডিত মশাই, বলুনতো
মানুষের মৌলিক অধিকার কি?
তিনি নির্দ্বিধায় বলবেন,
মানুষের মৌলিক অধিকার
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান।
কিন্তু আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে,
মানুষের মৌলিক অধিকার কি?
আমি বলবো
মানুষের মৌলিক অধিকার
দুটি হৃদয়ের একাত্মতা,
নারী পুরুষের ভালবাসা।
পুরুষের মৌলিক অধিকার নারীর প্রেম
নারীর মৌলিক অধিকার পুরুষের সান্নিধ্য।
১১ এপ্রিল১৯৯৩ইং
দিনের পর দিন নিঃশেষ হয়ে যাওয়া
কাজে অবহেলা, সময় জ্ঞান নেই বললেও হয় ।
আগে কি এমন ছিলাম?
যে যুবকের নাম চারিদিকে শুনা যেত
কাজের ফসল হিসেবে,
সময়ের ব্যাপারে সুনাম
সে আর বলার অপেক্ষা ছিলো না
অথচ এখন,
ঘুমহীন চোখে বিছানায় গড়াগড়ি
গভীর রাতে বাড়িতে ফেরা
অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে।
ট্যাংকের সামনে বোমা হাতে লাফিয়ে উঠে
যে যুবক,
মৃত্যু কোলে ঢলে পরেও স্বপ্ন দেখে
প্রিয়া অপেক্ষার প্রহর গুনছে
আমিও স্বপ্ন দেখি,
তবে একটু অন্য রকম,
যত দূর চোখ যায় কালো কাপড়ে ঘেরা
সরিষা ফুলের বিরান প্রান্তর।
১৪ এপ্রিল১৯৯৩ইং
কোন দিকে যাবে তুমি
যেদিকে তাকাবে
দেখবে দাঁড়িয়ে আছি আমি।
যদি তুমি চিন্তা কর
তুমি যাবে কোথাও,
সঙ্গে সঙ্গে তোমার হৃদয়
আমার কানে কানে বলে যায়
আমি পেয়ে যাই
তোমার গোপন খবর।
তোমার হৃদয়ের সঙ্গে
দোস্তী আমার
দোস্তী হলনা তোমার
বাহীরের খোলশের সাথে।
যদি তুমি বাথরুমে যাও
দেখবে আয়নায় প্রতিকৃতি
হয়ে দাঁড়িয়ে আমি,
অপেক্ষায় আছি তোমারই জন্যে।
২৫ এপ্রিল১৯৯৩ইং
(বন্ধু সজলের জন্য)
প্রতি মুহুর্তে উত্তেজনা হৃদয়ের যাতনা
কি হতে কি হয়
পাব কি পাব না তোমায়
দ্বন্দ্ব, সংঘাত, আঘাত প্রতিঘাত
জীবনের সঙ্গে হৃদয়ের,
ক্ষনে ক্ষনে অতিক্রান্ত হয় প্রতিক্ষণ
কি যেন হয়,
হৃদয়ে ঢেউ জাগে
প্লাবিত হয় হৃদয়।
দুটি রাস্তার প্রতিকৃতি দৃষ্টিতে
হ্যাঁ অথবা না
কোন রাস্তার সোয়ারী আমি?
সময় পার হয়।
উত্তেজনার মাত্রা বৃদ্ধি পায় উত্তোরোত্তর,
যেতে হবে, যাব আমি
ঠিকানা বিহীন গন্তব্য অজানার।
২৪ এপ্রিল১৯৯৩ইং
আকাশে বাতাসে যখন ওঠে
কাল বৈশাখী ঝড়
জানে তখন আড়শী পড়শী
গাঁয়ের পাঁচ জন
হৃদয়ের যখন ওঠে ঝড়
জানে না তখন একান্ত আপনজন।
৩রা মে ১৯৯৩ইং
এমনি করে আর কতদিন?
অসহ্য যন্ত্রনা দু’ফোটা চোখের জল,
বুকের মধ্যে জ্বলছে, অসহ্য
যন্ত্রনার আগুন,
চোখের জলে নেভানো যায় না তারে।
তন্দ্রাটুকু করেছে গ্রাস
অদৃশ্য অসহ্য যন্ত্রনায়।
নির্বিকার রাত্রি শুধু একা একা,
জোনাকী পোকার ঝি ঝি শব্দ
আর মিট মিট জ্বল জ্বলে আলো
তীব্র করে বুকের বেদনা।
তবুও চলছে জীবন
শান্তির প্রতীক পায়রার সন্ধানে,
দেখা কি হবে, কোন ক্ষনে, এই ধরনীতে।
১০ জুলাই১৯৯৩ইং
মৌ ওগো মৌ আমার
তুমি মৌ বলে আমি মাছি
ভূবন ঘুরে পেয়েছি তোমায়।
ফুলে ফুলে খুঁজেছি
আর শুকেছি গন্ধ দিবারাত্রি।
তোমার পরশে ছুটেছি যত্রতত্র,
যেথা আছো তুমি,
এখন,
তুমি মিশে আছো,
আমার দেহে
যেমন মিশে থাকে
শরীরের সঙ্গে ঘাম
তেমনি মিশে আছো তুমি।
তোমার আমার একাত্নতায়
একটি সুন্দর নাম মৌমাছি।
২০ মে ১৯৯৩ইং
জোৎস্না রাতে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে
তোমার কথা ভাবছিলাম।
পূর্ণ চাঁদ উঠেছে আকাশে,
মনে হলো চাঁদ নয়,
চাঁদনী বদন।
তুমি যেন মিশে আছ ঐ দূর আকাশে
চাদেঁর সাথে।
একাকী আমি দাড়িয়ে ছিলাম,
একটুও অনুভব করিনি নিঃসঙ্গতা,
চাঁদের ছায়া এসে পড়ছিল পাশে
মনে হলো দাঁড়িয়ে আছো তুমি।
২৩ মে ১৯৯৩ইং
স্পর্শ বিহীন অনুভূতি
চোখে চোখে আড় করে তাকানো
রাঙা ঠোটের কোনে লুকোনো
নিঃশব্দ হাসির ঝলক,
এর নাম কি প্রেম? হয়তো হবে,
কথা নেই তবুও যেন
কত কথা হয়েছে,
দোলনায় দুলতে থাকে হৃদয়,
দুর থেকে দেখা
স্পর্শ বিহীন অনুভূতি
কাছে টানে দুটি মানুষ
যেমন তুমি আর আমি।
০২ মে ১৯৯৩ইং
রাতের অন্ধকারে অতিথিরা আসে,
পাল্টে ফেলে নিজেদের ভোল,
লেবাস, পোষাকে নিতান্তই ভদ্রলোক
সমাজের বিত্তবান, সম্মানীয় জন।
তবুও তারা রাতের অতিথি,
অর্থের বিনিময়ে অথবা জোর করে
শুষে নেয় নারীর নারীত্বটুক্।
নারী হচ্ছে ভোগের বস্তু,
রাত্রীতে ভোগ করে
শিক কাবাব আর মোগলাই এর মতন,
ভোর হতেই ছুড়ে ফেলে দেয়
রাস্তার ধারে কোন ডাস্টবিনে।
খবরের কাগজে ছাপা হয়
ছবিসহ তার নাম,
সঙ্গে সঙ্গে জেনে যায় দেশবাসী
ধর্ষিতা হয়েছে যে নারী
সম্ভ্রান্ত কোন পুরুষের রাতের সঙ্গী।
ছাপা হয় না সেই পুরুষের ছবি,
যে পুরুষ ধর্ষন করেছে কোন নারীকে।
কারণ, সেই পুরুষ এই সমাজেরই
একজন সম্মানী ব্যক্তি।
১৮ই জুলাই ১৯৯৩ইং
প্রিয়তমা, ওগো সূনয়না
অনেকটা সময় প্রতীক্ষায় আছি
তুমি এ পথ দিয়ে যাবে বলে,
কত যুগ কত শতাদ্বী যেন
দেখা হয় না তোমার সাথে।
স্বপ্ন দেখাও ভুলে গেছি এখন,
আজ তাই দৃঢ় সংকল্প আমার
যেমন করেই হোক
যত সময় প্রতীক্ষায় থাকি না কেন,
তবুও, তোমার ঐ মৃগ চোখে
চোখ রেখে তাকিয়ে থাকবো অনেকক্ষণ।
কথা বলবো, যত কথা জমা আছে
আমার হৃদয়ে তোমার জন্যে।
প্রতীক্ষার সময় যেন ফুরাতে না চায়
তবুও প্রতক্ষিায় আছি,
আশার প্রদীপ জ্বেলে
বুকের মাঝে।
০৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ইং
বন্ধ ঘরে, অন্ধকারে বসে আছি একা,
মনের ভিতরে জ্বলছে এক প্রদীপ শিখা,
প্রদীপের মিটি মিটি আলোতে
স্পষ্ট দেখতে পাই যেন একটি ছায়া,
একটি মুখ, একরাশি চুল।
হাতছানি দিয়ে বারে বারে ডাকে
অস্ফুট কন্ঠে একটি ধ্বনি
ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালো .. . .
ওগো মেয়ে, কেন ডাকো আমারে,
আমি তো ভালবাসার পাত্র নই,
ঘৃণায় জর্জড়িত এ জীবন।
অবশ্য, একদিন আমিও ভালোবাসতে
চেয়েছিলাম একটি মেয়েকে।
সেদিন ভালবাসা দাওনি আমায়
আজ কেন এসেছো?
দাঁড়িয়েছো দুয়ার প্রান্তে
আমার বিদায় বেলায়
ভালবাসার মালা হাতে।
২৩ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ইং
তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো,
ভেবেছো দুঃখ পাবো,
জ্বলবো দুঃসহ জ্বালায়।
অসম্ভব, তা হতেই পারে না,
আমি চলবো আমার আপন গতিতে।
তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো
কিন্তু তুমি কি সুখে আছো?
যদি সুখী হও,
দুঃখ না হয় আমিই পেলাম
তোমাকে ভালবেসে।
অপেক্ষা করবো আমি
তোমার ভালবাসার আশায়,
তুমি ফিরে আসবে বলে
আমারই দ্বারে ভালবাসার ঝুড়ি হাতে।
আর যদি তাই না হয়,
তবে আমার অনন্ত দিন যাবে
দুঃখের মাঝে সুখ খুঁজে খুঁজে।
২৩ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ইং
ঘরে ঢুকেই যখন তোমাকে দেখলাম
মনে হলো যেন স্বপ্ন দেখছি,
পায়রার সাদা রঙে
বেশ মানিয়েছে তোমাকে।
আশে পাশে পরিচিত অনেকেই ছিলো
কেন জানি দু’চোখে শুধু তোমাকে দেখলাম।
আমার বাবা মারা গেছেন
বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শোকাভীভূত দিনে
জোড় হাতে প্রণাম করে ফেললাম তোমাকে,
পুরোনো দিনের অভ্যেস
এখনো ছাড়তে পারিনি।
তোমার আমার প্রণমী ভালবাসায়
কেউ যদি কিছু মনে করে থাকে
তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
আমার ভালবাসা অটুট থাকবে
আ-মৃত্যু তোমার জন্যে,
আমার ভালবাসা তোমার হৃদয়ে
কতটুকু সাড়া জাগিয়েছে
যদিও সে কথা জানা নেই আমার
এই টুকু শুধু জানি আমি
আমার ভালবাসা তুমি।
১৮ই অক্টোবর ১৯৯৩ইং
চুপি চুপি বলা হলো না কথা
তোমার সাথে,
আমি ভালবাসি তোমাকে,
সে জন্যে অবশ্য দোষ দিতে পারবে না আমাকে।
কুড়িটি যখন ডালে
লুকিয়ে থাকে কাঁটার আড়ালে
তুমি তেমনি রয়েছো আমার হৃদয়ে।
ভালবাসার অভিনয় করেছো ক্ষণে ক্ষণে,
অভিনয় দক্ষতায় তুলনা নেই তোমার।
ডাল থেকে যখন ভালবাসার কুড়িটির
জন্যে হাত বাড়িয়েছি,
তখনই তুমি কাটার আঘতে
রক্ত ঝড়িয়েছো নির্মম ভাবে।
আমি তো রক্ত ঝড়াতে চাইনি হৃদয় থেকে
স্বযতনে কুড়িটিকে ধরে রাখতে
চেয়েছি চিরতরে।
তুমি যদি ফিরিয়ে দাও আমায় শূণ্য হাতে
লালন করবো সুপ্ত কুঁড়িটিকে আমৃত্যু ভরে।
১৮ই অক্টোবর ১৯৯৩ইং
এক পলকে যখন তুমি পাশে এসে দাঁড়াও
আমি অনুভব করি আমার পরিপূর্ণ জীবন,
তোমাকে ঘিরে স্বপ্ন যেন
আমাকে ঘিরে রাখে সর্বক্ষন।
তোমাকে আমার বেদনার সঙ্গী
করতে চাই না আমি,
তোমার জন্যে উপহার
আমার সমস্ত জীবনের অর্জিত আনন্দ।
কখনও ভুলে যাবো,স্বপ্নাতীত তুমি,
তবুও দুরে সরে যাও
ব্যথার আগুনে আমাকে পোড়াও।
১৮ই অক্টোবর ১৯৯৩ইং
রবীন্দ্রনাথের বেদনাকে আপন করে নিয়েছি
সঙ্গী করেছি নজরুলের বিদ্রোহ
ভয় করি না তাই,
রুখতে কোন বাঁধা বিপত্তি।
নারী তুমি যদি ভেবে থাকো
বেদনার আগুনে নিঃশেষ করবে আমায়,
তবে আমি বিদ্রোহ করবো,
তোমার দেয়া বেদনার উপহার
ফিরিয়ে দেবো তোমায়।
সুকান্ত আমার অনুপ্রেরণা
চলার পথে পথচলা
ভয় নেই আমার ভয় নেই
নারীকে ভালবেসেই যাবো।
১৮ই অক্টোবর ১৯৯৩ইং
সন্ধা হয়ে গেছে, চারিদিকে আধো আধো অন্ধকার,
ঘরে ঢুকতেই, টেবিলের উপর
একটি মোমবাতি জ্বলছিলো।
হঠাৎ করেই চোখে পড়লো একটি ছায়া,
মানুষের ছায়া,
কে বসে আছে টেবিলের পাশে?
দেখলাম এক রাশি ছড়ানো চুল,
জামদানী শাড়ি পড়া একটি মেয়ে,
এই মেয়ে আমার ঘরে
আমার পড়ার টেবিলের পাশে
বসে আছে কেন?
মেয়েটির মুখ খানা দেখা হয়নি এখনো,
মনে হচ্ছে সে খুব রূপবতী,
চুলের যেই বাহার,
রজনী গন্ধার মালা ক্লীপ দিয়ে
আটকানো চুলে।
মেয়েটি আপন মনে বসে আছে
হয়তো অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
আমি তার পেছনে দাঁড়িয়ে,
অথচ সে দিকে কিছুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই ।
আমি প্রশ্ন করলাম,
“এই মেয়ে তুমি কে?
এখানে বসে আছো কেন?”
মেয়েটি আমার দিকে তাকাতেই . . .
মা ডাকলেন,
খোকা সকাল হয়ে গেছে
ওঠ, কলেজে যাবিনে,
আমার ঘুম ভাঙ্গলো,
এক মূহুর্তের জন্যে দেখলাম সূশ্রী একখানা মুখ
কথা হলো না তার সঙ্গে,
কে এই মেয়ে?
যাকে দেখিনি কখনও
অথচ স্মরণ করলেই শিহরণ জাগে
মনের অতলে।
০৫ই নভেম্বর ১৯৯৩ইং
তোমাকে মনে পড়ে যায়
ভোর বেলা যখন মিষ্টি সুরে
পাখি গান গায়
তোমাকে মনে পড়ে যায়।
শিউলী তলায় কিশোরী যখন
ফুল কুড়ায়
তোমাকে মনে পড়ে যায়।
নদীতে যখন ঢেউ খেলে যায়
তোমাকে মনে পড়ে যায়।
সাগর তীরে যখন কেউ
ঝিনুক কুড়ায়,
তোমাকে মনে পড়ে যায়
রাজপথে যখন মিছিলের
শব্দ শোনা যায়,
তোমাকে মনে পড়ে যায়।
যখন গুলি আর হাত বোমার
শব্দ চলে অবিরাম ধারায়,
তোমাকে মনে পড়ে যায়।
যখন কোন যুবতী এলো চুলে
আকাশ পানে দৃষ্টি তুলে তকিায়,
তোমাকে মনে পড়ে যায়।
পার্কে বসে যুবক-যুবতী যখন
তাকিয়ে থাকে দু’জন দু’জনায়।।
১৪ই নভেম্বর ১৯৯৩ইং
আমি চলে যাবো এই শহর ছেড়ে
পরিত্যাক্ত এই শহরের যতদিন হবে না সংস্করণ
কেউ আমায় ধরে রাখতে পারবে না।
জন্ম অবধি ঘৃণা জমে গেছে আমার,
মানুষে মানুষে নেই কোন সহমর্মিতা,
এতোটুকু স্নেহ নেই কারো প্রতি
বড়দের প্রতি নেই কোন শ্রদ্ধাবোধ
এই শহরে আমি থাকবো না।
কোথাও গিয়ে যে বসবো একটু নিঃস্তব্ধে
তার কোন উপায় নেই,
রেস্টুরেন্টে চলছে ফেনসিডিলের আড্ডা,
পার্কে ময়দানে চলছে নিশি রাতে যৌনাচার,
রাস্তায় বের হওযা মাত্র ছিনতাইকারী
হাঁটতে গেলে পড়তে হবে ঢাকনা ছাড়া ম্যানহোলে
তার উপড়ে চলছে মিটিং আর মিছিল,
বক্তৃতা দিয়ে জনগণের হাততালি পাওয়া যায়
কিন্তু কোন পরিবর্তন আসে না,
পরিবর্তনের জন্য চাই সংগ্রামের,
সংগ্রাম হতে হবে সকলের,
বিবেককে ধানের তুষের নীচে
ঢেকে রাখলে চলবে না,
সবল বাহুতে দাঁড়াতে হবে এক সারিতে,
তবে যদি সংস্করণ হয় এই শহরের।
আর যদি না হয়
তবে আমি চলেই যাবো এই শহর ছেড়ে,
যে দিকে দু’চোখ যায়
সবুজ শ্যামল কোন গায়
যেখানে পাখির ডাকে
শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়।
১৯শে নভেম্বর ১৯৯৩ইং
জীবন যুদ্ধে এক অপরাজিত সৈণিক আমি,
রণাঙ্গনের নেই কোন শেষ,
যে দিকেই দু’চোখ রাখি
সে দিকেই রণাঙ্গণ।
প্রতি মূহুর্তে আক্রমণ চলছে অবিরাম ধারায়
আমিও চলেছি যুদ্ধ করে,
দেহের শেষ রক্ত, অস্থি, মজ্জা পর্যন্ত।
পরাজিত হয়েছি কতবার
তবু অপরাজিত সৈণিক আমি,
আত্ম সর্মপন করিনি কখনও,
ঐ একটাই আমার দোষ।
যে কোন পরিস্থিতিতেই হোক না কেন
হেরে যাব, এ কথা কল্পনাই করতে পারি না।
চারিদিক থেকে সবাই ওত পেতে আছে
আক্রমন করার আশায়
আর নির্ভিক প্রাণে ছুটে চলেছি আমি
অশ্ব পৃষ্ঠে দ্রুত বেগে
অপরাজিত সৈনিকের বেশে।
২৩শে ডিসেম্বর ১৯৯৩ইং
তোমাকে আমি দেখেছিলাম
সাগরের লোনা জলের ঢেউয়ের মাঝে
তীরে আসার আগেই মিলিয়ে যায় সাগরে
আবার জন্ম নেয় ঢেউ,
এমনি করে ক্রমান্ময়ে, তারপর . . . . .
তীরে এসে ছড়িয়ে পরে বিস্তৃত বালুচরে।
বালুচরের ঝিনুক খুঁজে মুক্তার মাঝে
তোমাকে দেখেছি।
যে তোমাকে আংটি করে
আঙ্গুলে রাখতে চেয়েছিলাম
সেই তুমি।
কখনও তোমাকে মনে হয়েছে সূর্যাস্ত,
দুর থেকে দেখা।
কতবার চেষ্টা করেছি তোমার পরশ
নেওয়ার জন্যে।
ছুটেছি মাঠের পর মাঠ, বিস্তৃত প্রান্তর
যেখানেই যাই মনে হয়, এই তো তুৃমি
তবু তুমি বহু দুরে,
নেই তোমার দুরুত্বের শেষ।
খুঁজেই যাবো আমি আর দেখেই যাবো তোমায়
বসুন্ধরার প্রতিটি সীমানায়।
০২ই জানুয়ারী ১৯৯৪ইং
আজ তুমি পাশে নেই বলে
স্বপ্ন আমার হারিয়ে যায় নি
আমি রয়েছি সেই আগেরই মতো
খাওয়া-দাওয়া, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দেওয়া
নেই কোন ভাবনা।
ভাবনা আসবেই বা কোথা হতে
এতোটুকু অবসর নেই যে,
একাকী কিছুটা সময়।
কাজের চাপে হাফ ছেড়ে ওঠার
সময় টুকু নেই।
জীবন সে তো বড়ই কঠিন,
জন্ম অবধি মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই,
বাঁচার জন্যে লড়াই।
তোমাকে ভালবাসার সময়টুকু
খুঁজে পাওয়া যায় না।
আমি এখন শুধূ আমারই জন্যে,
তোমাকে ফেলে এসেছি বহু আগে,
এখন তুমি আমার গভীর রাতে
ক্ষণিকের স্বপ্ন।
০৫ই জানুয়ারী ১৯৯৪ইং
যুগে যুগে কেন আজ
ক্লান্তিতে আমার হৃদয় ভেঙ্গে যায়,
সম্মুখে যখন সুখ আর সমৃদ্ধির জোয়ার
ঠিক তখনই আমি
ছন্ন ছাড়ার মতো দ্বারে দ্বারে
ঘুড়ে বেড়াই সস্থির আশায়।
রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে যুবক যুবতীর
হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখে
আমার মাথায় রক্ত চড়ে যায়।
আমি কি সভ্য জগতের বাসিন্দা
নাকি সেই আদিম যুগের বর্বর জাতির একজন।
মানুষ যখন বস্ত্রহীন ছিলো,
নারী আর পুরুষের ছিলো না ভেদাভেদ
একাত্বতা ছিলো সকলের।
ক্রমান্বয়ে পৃথিবী যখন
সভ্য উত্তর সভ্য হতে চলেছে
ততই বাড়ছে দুরুত্ব
মানুষ আর মানুষের।
প্রেমহীন জীবন তুচ্ছ এখন
তোমারই আশায় এই আধুনিক বসুন্ধরায়।
২৫শে জানুয়ারী ১৯৯৪ইং
চুপ, বলো না কোন কথা,
গভীর রাত্রী এখন,
পেঁচার ডাক যেন শোনা যাচ্ছে
চারিদিক ঘেরা ঘন অরণ্য
এখানে নিরজনে তুমি আর আমি।
আজ কি পূর্ণিমা?
দেখো না ঐ আকাশ পানে চেয়ে
অপূর্ব জোৎস্না মেলে আছে চাঁদ,
চাঁদ কি আমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে
হয়তো হবে,
তোমার আমার ফুলশয্যার রাত্রী
ফুল দিয়ে ঘেরা নয়,
চার দেয়ালের আড়ালে নয়,
নীল আকাশের নীচে
কীট পতঙ্গের ভীড়ে
এমনি করে এক সময় দেখা যাবে
সূর্য ওঠা লাল আকাশ
তুমি কি লজ্জা পাবে তখন?
২০শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ইং
ব্যাকুলতা আমাকে আঁকড়ে ধরেছে
তোমাকে না দেখার,
কত শতাব্দীর পথিক আমি
অবশেষে ম্রীয়মান হয়ে থমকে দাঁড়ানোর মতো
তৃষ্ণায় সমস্ত শরীর যেন
জমাট বেঁধে গেছে,
রক্ত, মাংস আর হাড়ের মধ্যে
নেই কোন তফাৎ
মিশে একাকার অস্থি মজ্জা
ভয়ে কেঁপে ওঠে বুক
অবোধ শিশু যেমন প্রচন্ড জ্বরে কাঁপে থরথর
অথবা পৌষের শীতে বরফ গলা পানিতে
গোসলের পর যেমন কাঁপে শরীর
ঠিক তেমনি কাঁপে আমার হৃদয়
তোমাকে হারানোর ভয়ে।
দেখা হবে কবে
জানি না কখন,
অপেক্ষার প্রহর কাটে ক্লান্তি ভরে
তোমায় ভেবে ভেবে।
০৪ঠা ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ইং
তোমার নগ্নতা দেখে আমার শরীরের উষ্ণতা
বেড়ে যায়,
স্পর্শ করার সাধ জাগে নিরবে নিভৃতে
একান্ত গোপেনে নিবিড় করে।
পড়ন্ত দুপুরে যখন তুমি সাওয়ারের নীচে দাঁড়িয়ে
গোসল করো, ক্রমশঃ ভিজতে থাকে তোমার শরীর
সাদা কামিজে ভেসে ওঠে লাল ব্রা দিয়ে
জড়ানো অস্পর্শ স্তন জোড়া,
এখনও কোন পুরুষের ছোঁয়া লাগেনি
স্বযতনে লালন করে চলেছো তোমার দেহটাকে
কোন এক কামুক পুরুষের জন্যে।
যে পুরুষের আলিঙ্গনে তুমি হারিয়ে যাবে
অতল সাগরের ঢেউয়ের মাঝে
সাঁতার কাটবে দু’জন নগ্ন হয়ে
শরীরের সমস্ত বস্ত্র ফেলে
ভুলে যাবে সব পারিপার্শ্বিকতা
মনে হবে যেন তোমরা দু’জন ছাড়া
আর কেউ নেই এই পৃথিবীতে।
তারপর সাবানের সাদা ফেনায় ধুয়ে ফেলবে
শরীরটাকে, মুছে যাবে সব কালিমা।
আমি তোমার সেই পুরুষ হতে চাই
যাকে তোমার স্বপ্ন ঘিরে আছে
আমি তোমার সেই পুরুষ হতে চাই।
২৫শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ইং
নির্লজ্জ বেহায়া যুবক আমি
বার বার অপমানিত হওয়া সত্যেও
ছুটে যাই সেই যুবতীর কাছে।
এক পলক দেখা মাত্র
শরীরের সমস্ত হীম আর কুয়াশা
নেমে যায় নিঃশব্দে।
কতবার ঘরের দড়জা থেকে
ফিরিয়ে দিয়েছে
কখনও আবার বসতে বলেও বলেনি,
বলেছে বেরিয়ে যান এ ঘর থেকে।
তবুও আমি ছুটে গিয়েছি যুবতীর কাছে
প্রেমহীন হৃদয় নিয়ে একটু প্রেমের জন্যে,
নূন্যতম ঘৃণাও জন্মেনি আমার মনে
কেমন নির্লজ্জ বেহায়া, বেশরম আমি
তৃষিত মরুর তৃষ্ণা নিয়ে আকুল হয়ে
যুবতীর অপমান সহ্য করেছি
তার লিপস্টিক পরা রাঙা ঠোঁটের
বাঁকা হাসি দেখে,
কেমন নির্লজ্জ বেহায়া যুবক আমি।
২৬শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ইং
অনেকদিন ধরেই আমি খুঁজছি
আমার নিজস্ব একটি আকাশ
যে আকাশে কোন মেঘ নেই
শুধু ধবধবে সাদা তুষার রাশি।
এক প্রান্ত থেকে ছুটে যাবে অন্য প্রান্তে
আমি তাকিয়ে থাকবো অবাক দৃষ্টিতে
রাতে যখন চাঁদ উঠবে
তখন চাঁদ দেখবো,
চাঁদ যখন জোৎস্না দেবে পৃথিবীকে
আমি গর্ব করে বলবো
আমার আকাশের চাঁদের জোৎস্নায়
পৃথিবী হয়েছে আলোকিত,
কেউ যদি তার ব্যক্তিগত আকাশ
বিক্রি করতে চায়
আমি সে আকাশ কিনবো
বিনিময়ে যা চাইবে তাই পাবে
আমার স্থাবর অস্থাবর
যা কিছু আছে, সব দেবো
শুধু একটি জিনিস রেখে দেবো নিজের জন্যে
একেবারেই ব্যক্তিগত,
‘আমার প্রিয়ার ভালবাসা’
যে ভালবাসাকে সম্বল করে আমি চলবো আগামী দিনের পথে।
আমি একটি আকাশ খুঁজে চলেছি
একেবারেই ব্যক্তিগত, নিজস্ব।
২৫শে মার্চ ১৯৯৪ইং
তোমার ঐ চোখের পানে আমি তাকিয়েছিলাম
তোমার ঐ চোখের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিলো
বেশ অনেকক্ষণ,
এক মিনিট, না এক ঘন্টা, না তাও না,
পুরো একটি দিন।
কি কথা হয়েছিলো, তাই তো শুনতে চাইবে?
তুমি আমাক ভালোবাসো না,
সে কথাই প্রথম বলেছে তোমার চোখ,
অন্য একজন যুবককে তুমি ভালোবাসো
তোমার সমস্ত হৃদয় জুড়ে তার ছবি আঁকা
সকাল সাঁঝে তাকে অর্চনা কর তুমি,
যুবকটিও তোমাকে ভালবাসে
তবে তোমার মতো নয়
তোমার চেয়ে কম
ভালবাসা তো আর দাড়ি পাল্লায় মাপা যায় না
তোমার চোখ বলেছে বলেই আমি বললাম,
কি ব্যপার, শুনে কষ্ট হচ্ছে?
আচ্ছা এ কথা গুলো এতো দিন বুকের ভিতর
পাথর চাপা দিয়ে রেখেছিলে কেন?
মুখে বললেই পারতে,
তাহলে অনেক আগেই সরে দাঁড়াতাম
তোমার চলার পথ থেকে,
ভেবেছিলে যদি কষ্ট পাই,
আজকাল আর কষ্ট হয় না।
কষ্ট, দুঃখ, বেদনাকে জয় করেছি অনেক আগেই
এখন আমার কোন কষ্ট নেই,
কষ্ট বিহীন নষ্ট মানুষ আমি,
মাঝে মাঝে মনে হয় আমি এ পৃথিবীর
সবচেয়ে সুখী মানুষ।
এক সময় আমারও কষ্ট হতো
সারা রাত ঘুমোতে পারতাম না,
তোমার কথা ভেবে সারা রাত আমি
আবৃত্তি করে কাটাতাম,
কখন যে ভোর হয়ে যেত টেরই পেতাম না।
তোমার চোখের সাথে আমার মিতালী হয়েছে
তোমার মনের মানুষটিকে একদিন দেখাবেও বলেছো
কবে দেখাবে তা বলোনি,
তোমাদের দু’জনকে আমি সম্বর্ধনা দেবো
কালো গোলাপের মালা আর স্তুপে।
কারণ আমি এখন
কষ্ট বিহীন নষ্ট মানুষ।
০১লা এপ্রিল ১৯৯৪ইং
বিষাক্ত সাপের ছোবল আমাকে বার বার
গ্রাস করছে, তবুও যেন মরেও বেঁচে যাই।
তোমাকে যখন মনে পড়ে
স্মৃতি গুলো ভেসে আসে চোখের সামনে
মাথাটা কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়
মনে হয় চিড়িয়াখানার ক্ষুধার্থ বিষাক্ত সাপ গুলো
খাঁচা ভেঙ্গে ফনা তুলে আমাকে দংশন করতে
ছুটে আসছে দ্রুত গতিতে
আমি দৌড়াতে থাকি অচেনা অজানা পথ ধরে
হঠাৎ দেখি তুমি সামনে দাঁড়িয়ে
ভয় গুলো কেটে যায় অনায়াসে।
তোমার লজ্জা মাখা মুখখানা দেখে
তোমাকে ভালবাসতে ইচ্ছে করে নিবীড় করে,
ইচ্ছে করে তোমার হাতটা স্পর্শ করি।
০১লা এপ্রিল ১৯৯৪ইং
কতকাল কতযুগ ধরে প্রতীক্ষায় আছি
তোমার প্রশ্ন উত্তর শুনবো বলে
পথের শেষ প্রান্তে রয়েছি তাকিয়ে
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস
যুগে যুগে তুমি আসবে,
হেঁটে হেঁটে আসবে,
রিকসায় আসবে, বেবী ট্যাক্সী চড়ে আসবে
নয়তো আসবে চার চাকা ওয়ালা
মোটর গাড়ি চড়ে,
আমি জানি, তুমি না এসে পারবে না
আসতে তোমাকে হবেই
কারণ আমি প্রতীক্ষায় রয়েছি
তোমার জন্যে
শুধু তোমারই জন্যে।
০৫ই জুন ১৯৯৪ইং
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছি
যেতে হবে অনেকটা পথ
বহন করতে হবে অনেক বোঝা
বর্তমান সমাজে এতো ঝক্কি ঝামেলা
ধান্ধাবাজ, বাটপাড়ে ভরে গেছে দেশখানা।
কোথাও শান্তির ছোঁয়া পর্যন্ত নেই,
টাকার পেছনে ছুটে চলেছে কত মানুষ
চেক আর ড্রাফটে ভরে যাচ্ছে ব্যাংক
উঠছে ইটের দালান, উপর দিকে উঠেই চলেছে,
গাড়ি হাঁকিয়ে ঘুড়ছে দ্বিগি¦দিক।
রাত্রিতে বাস স্ট্যান্ড বা রেল স্টেশন
গুলোতে গেলে দেখা যায়,
ঘুমোচ্ছে কত মানুষ
সারাদিন খাটুনির পর ক্লান্ত শরীর
এলিয়ে দিয়ে ঘুম, স্বস্থির ঘুম।
দুই দিগন্তের দুই জীবন
আমি তো কোনটাই পারছি না
হাতে নেই টাকা, চোখে নেই ঘুম,
দিনেতে অনাহার, রাত্রিতে অনিদ্রায়
এমনি করে দিন চলে যায়
তবুও চলেছি ছুটে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে
যত দুর যাওয়া যায়, যেতে হবে আমাকে।
০৬ই জুলাই ১৯৯৪ইং
আজ দুপুরে অনেক সময় ধরে আমি কেঁদেছিলাম,
তোমার সাথে দেখা হওয়ার কথা ছিলো
অথচ দেখা হয়নি,
তোমার সাথে কথা বলার ইচ্ছে ছিলো
অথচ কথা হয়নি,
কথা বলা খুবই জরুরী হয়ে উঠেছে।
আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো না
কিন্তু আমার ব্যক্তিগত জানাকে
আমি কখনই প্রশয় দেই নি,
তোমার কন্ঠ থেকে শুনতে চাই
তুমি আমাকে ভালোবাসো না।
তোমাকে ছোট্র একটি অনুরোধ করবো
রাখবে কি না জানি না।
ভালো যদি নাই বাসো
অন্তত ঘৃণা করো না।
ভালবাসো না সেই ব্যথা সইতে পারবো
কিন্তু ঘৃণা আমি সইতে পারবো না বন্ধু।
০৭ই জুলাই ১৯৯৪ইং
তোমার এক গোছা চুল আটকে গিয়েছিলো
ছোট্র একটি কাটা ওয়ালা গাছে।
লাল মাটির টিলার উপড়ে
হাটছিলাম আমরা পাশাপাশি,
হঠাৎ করে ‘উহ’ একটু শব্দ করলে তুমি
আমি থমকে দাঁড়ালাম
তোমার দীর্ঘ কালো চুল জড়িয়ে আছে
গাছের কাটায়, উড়ছে বাতাসে,
খুব আলগোছে আলতো ভাবে চুল ছাড়াতে
কাটা ফুটলো আমার হাতে,
লাল রক্ত ঝড়তেই তুমি দুই হাতে জড়িয়ে
আমার হাত চুষে নিলে অধরে।
খানিক পরেই সে কি লজ্জা
লজ্জা পেয়ে মুখ ঢাকলে
ঝিলিমিলি ওড়নার আড়ালে।
আমার হাত হতে রক্ত চুষে নিয়েছো
তোমার অধর স্পর্শ করেছে আমার হাত
তাই তোমার এ লজ্জা।
এখন আমি আর তোমার সেই
লজ্জা রাঙা মুখ দেখি না,
এখন তুমি আমার থেকে অনেক দুরে
নেই কোন যোগাযোগ,
রয়েছি দু’জন দুই প্রান্তে।
তোমার লজ্জা এখন
অন্য কারো জন্যে।
তবুও আমি তোমার সেই ঘোমটা টানা
রাঙা মুখ একে রেখেছি
চোখের পাতায় সঙ্গী করে।
চোখ বন্ধ করলেই তুমি এসে
সঙ্গ দাও আমায়।
১০ই আগস্ট ১৯৯৪ইং
আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম
তোমার প্রতীক্ষায়,
তুমি আসবেই, আমি জানি
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি আসবে।
দৃষ্টিকে প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছি
রাজপথের মাঝখানের ফুটপাতে
গাছের ছায়ায়।
অনেক নারী পুরুষের ভীড়
সবাই অপেক্ষা করছে কারো না কারো জন্যে
আর আমি প্রতীক্ষা করছি
তোমাকে এক পলক দেখবো বলে,
তুমি এসেছো আমি দেখেছি,
খুব দ্রুত রিকসায় চেপে বসেছো
আমি তাও দেখেছি
কিছুই বলছি না
কিছু বলতেও পারছি না তোমাকে,
রিকসা ছুটছে ধাবমান রাজপথে
তোমার গন্তব্যে।
যখন তুমি চোখের অন্তরালে
তখন আমি হিমালয় পর্বত
অপরূপা তুমি সামনে আসতেই
মহাসাগরের শীতল জল রাশি।
২৯শে আগস্ট ১৯৯৪ইং
তোমাকে আমি ক্ষমা করবো না মেয়ে
আমি তোমার কাছে প্রেম চেয়েছিলাম
তুমি আমার অর্ধাঙ্গীনি হবে ভেবেছিলাম।
একজন পুরুষের যে সকল গুণাবলী
বা গুণাগুণ থাকা প্রয়োজন
বা যে সকল গুণাবলী থাকলে পুরুষ বলা যায়
সেই প্রত্যেকটি গুণাবলী আমার আছে,
তবে কেন আমি তোমার প্রেম পাবো না,
ও হে গর্বিতা অহঙ্কারী মেয়ে
তুমি কি কোন পুরুষের
সান্নিধ্যে আসতে চাও না,
এমনও হতে পারে
সেই ক্ষমতা তোমার নেই,
যদি নাই থাকে, তাই কি তোমার ভয়,
মেয়েলী গুণাবলীর যদি কমতি থাকে
তোমার দেহে, তবে তোমাকে কিছুই বলার নেই।
কিন্তু তুমি যদি সব কথা স্পষ্ট করে না বলো,
তবে কি করে জানবো তোমার অক্ষমতা?
আমি তো তোমার প্রেমকে পূজা করতে চেয়েছিলাম,
তোমাকে নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে চাইনি।
তুমি আমাকে প্রতিযোগী বানিয়েছো,
এখন আমি প্রতিযোগী একজন অনেকের মাঝে,
জয়ের মালা আসবেই আমার গলে,
দৃঢ় বিশ্বাস আমার,
করো জোড়ে ক্ষমা চাইবে তুমি
কিন্তু সময় থাকবে না আমার
তোমাকে ক্ষমা করার।
প্রবঞ্চক, নষ্টা মেয়ে,
আমার জীবনের একটি ক্ষুদ্র জীর্ণ অধ্যায়।
৩০শে আগস্ট ১৯৯৪ইং
আমি পবিত্র হতে চাই
প্রেম নামক বিষাক্ত ড্রাগের ছোবল
জীবনকে করে তুলেছে দুঃর্বিসহ,
প্রেমের পৃথিবী থেকে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস
ফেলার জন্যে,
মুক্ত আকাশের নীচে আসতে চাই।
পাখির কলতান শুনতে চাই,
খালি কন্ঠে গান গাইতে চাই,
কিন্তু শরীরের লৌহ কনিকা গুলো
ক্রমশঃ শ্বেত কনিকায় পরিণত হয়ে চলেছে,
স্থবির হয়ে যাবে একদিন
শিরা উপশিরার স্পন্দন
সাদা এপ্রোন পরা ডাক্তার আসবে
ঘোষণা করবে মৃত বলে
তক্ষণি মানুষ হয়ে যাবে লাশ
শরীরে জড়াবে কাফন
মাটির তলায় করবে দাফন
প্রেম চাই না আর,
মুক্তি চাই এবার।
০৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ইং
জীবন নৌকা ছুটে চলে মৃত্যু পথে
পৃথিবীতে রেখে যায় প্রেম
মরণ কালেও স্মরণ করে
যে প্রিয়তমার নাম,
অথচ প্রেম,
আগুনের লেলিহান শিখা হয়ে জ্বলে
অবিরাম প্রেমিকের বুকে,
সৃষ্টি কর্তার সৃষ্ট সব জ্বালানী যদি
একত্রে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়
তাতেও সে আগুন জ্বলবে না
একজন প্রেমিকের হৃদয়ে জ্বলে
যে আগুন।
৩০শে আগস্ট ১৯৯৪ইং
একটি মানব শিশুর আর্ত চিৎকার
অল্প সময় পরে অসময়ে
ভেসে এলো আজানের ধ্বণি।
বুঝতে আর বাকি রইলো না
এইমাত্র একটি ছেলে
দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসেছে পৃথিবীতে,
রক্ত, মাংস, চামড়ার সমন্বয়ে গঠিত
যানে চড়ে।
যে শিশুটির আগমন বার্তা শুনতে পেলাম
সে ছেলে হয়ে জন্ম নিলো কেন?
অন্য কিছু হতে পারতো,
পাখি, ফুল অথবা মৃগ হয়ে।
ধীরে ধীরে হবে বড়
শিশু থেকে কিশোর
কিশোর থেকে যুবক,
তারপর আসবে কোন
নারীর সংস্পর্শে,
ভালবাসবে তাকে যতটুকু
ভালবাসতে পারে সে,
চলবে কিছুদিন প্রেম বিনিময়,
হঠাৎ একদিন দেখা যাবে
অন্য যুবকের হাত ধরে
রমনা কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের
বেঞ্চীতে বসে বাদাম চিবুচ্ছে দু’জনে
ঝাল লবনের স্বাদে।
মাথায় খুন চেপে যাবে যুবকটির
কিন্তু খুন করা সম্ভব নয়
সেই নারী বা যুবককে।
তখন সে নিজেকেই খুন করতে
শুরু করবে নিজের অজান্তে।
মদ, গাজা সব শেষে আসক্ত
হবে মরণ ফাঁদ হেরোইনের নেশায়,
ভীড়ে যাবে সন্ত্রাসীদের দলে
হাইজ্যাক, রাহাজানি, ছিনতাই হবে
নিত্য দিনের সঙ্গী,
দিন চলবে এমনি করে
প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মে।
তারপর একদিন ঢলে পরবে
মৃত্যুর কোলে।
অবশেষে সব শেষ
সুন্দর পৃথিবীর পাঠ সমাপ্ত
হবে এমনি করে।
২২শে জানুয়ারী ১৯৯৫ইং
বহুদিন পর লুকোচুরি খেলা ছলে
তোমাকে দেখার সাধ জাগে মনে,
পরিকল্পনা তৈরী করলাম ঝটপট
জোৎস্না রাতে কথা হবে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে।
রাত্রি অন্ধকার, চারিদিকে সোডিয়াম লাইট
বসন্তের ছোঁয়া এসে লাগছে গায়ে
শীতের কুয়াশা ভরা জলে চাদরের ভাজে
চেপে বসলাম রিকসায়, ছুটছে মন্থর গতিতে
ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে
ধ্বসে পড়ছে পাহাড় পর্বত ঘরবাড়ি
এক রাশি শিশির যেন সারা পৃথিবীর
হিম শীতল বরফ হয়ে জমে আছে
বুকের পাঁজরে,
থেমে থেমে বার বার দোল খাচ্ছে হৃদপিন্ড
একনিষ্ঠ মনে চলেছি ছুটে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে।
কিছু কথা হবে, বাক বিত্তন্ডা হবে,
হয়তো কিছু কথা কাটাকাটি
ঝগড়াও হতে পারে।
তারপর সব কিছুর হবে অবসান
বীণার সুরে বেঁজে উঠবে দু’জনার কলতান
দুটি হৃদয়ের আলিঙ্গনে হারিয়ে যাবো
রূপবতী পৃথিবীর শিকল ছিড়ে
তখন আমরা দু’জনেই একটি পৃথিবী।
১৬ই জানুয়ারী ১৯৯৫ইং
কি যে ভালো লাগে
প্রতি দেখায় তোমাকে
মূহমূর্হু দর্শনে অবচেতন মনে
কত কি ভেবেছি তোমায় নিয়ে
কত কথা জমা হয়ে আছে
তোমাকে বলার জন্যে।
যখন তোমাকে দেখি
সুন্দর থেকে সুন্দরতর রূপ
ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে
অবাক চোখে দেখি
তোমাকে দেখি তোমাকে
আমার প্রেম,
আমার মাংস, রক্ত কনিকা, আমার হৃদপিন্ড
সব কিছু জুড়ে তুমি
শুধু তুমি,
কি যে ভালো লাগে
যখন তুমি কথা বলো অকপটে
প্রতিটি কথা লাউড স্পীকারের
কম্পিত থর থর শব্দ হয়ে
আমার কর্ণ দিয়ে প্রবেশ করে হৃদয়ে
কি যে ভালো লাগে।
১৭ই জানুয়ারী ১৯৯৫ইং
কি করে ফেরাবো নয়ন
তোমার ঐ মুখ পান হতে
যতবার দেখি মুগ্ধ হয়ে ফিরি
তোমার ভ্রমর কালো আঁখি দেখি,
প্রেম জন্মেছিলো তোমার সৌন্দর্য দেখে
দ্বিধা ছিলো তুমি কি প্রিয়া হবে?
কৌশল প্রয়োগে বুঝলাম
ভালো লেগেছে তোমায়
ভালো বেসেছি তোমায়
যখন তোমার চোখের নীবিড়
ছায়ায় দেখতে পেলাম
অন্য কারো ছায়া,
স্বহাস্যে সরে দাঁড়ালাম
অবরুদ্ধ পথ হতে
বন্ধু ভেবে কাছে ডাকলাম
ভুল বুঝে থমকে গিয়েছো
প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণি ঝড় হয়ে,
ঘূর্ণি বাতাসে ভেসে বেড়ালাম
ক্রমাগত নীল রক্ত ঝড়িয়ে।
১৯শে জানুয়ারী ১৯৯৫ইং
ধরায় এসেছে ধরণী
ধরিতে দেবদূত
যুগে যুগে শত বর্ষ ধরে
চলেছে একই রীতি
সৃষ্টির মূল চাবিকাঠি,
প্রণয় এর বিপরীতে চলেছে ছুটে
বিরহ অশ্বারোহী হয়ে।
তবুও প্রণয় এসেছে বার বার
যুবা আর যুবতীর শ্যামল ছায়ায়।
১৯শে জানুয়ারী ১৯৯৫ইং
আমি নিজেকে ধ্বংস করে দিতে পারি
তোমার জন্যে,
তোমায় যদি কেউ মন্দ বলে
অপবাদ রটায় লোকমুখে,
প্রতিটি ঘরে আগুন লাগিয়ে
পুড়িয়ে ফেলতে পারি আমি
এ সমাজটিকে,
আমার অগ্নি স্ফুলিঙ্গ সহ্য করার মতো
শক্তি নেই কোন ব্যক্তির, সমাজের
বা এই পৃথিবীর,
শুধূ তোমার জন্যে।
স্কাট- মিসাইল - ক্ষেপনাস্ত্র তৈরী
বা ধ্বংস করতে পারি এক নিমিষে,
এমন এক অসম শক্তিমান আমি।
জল - স্থল - পাহাড় - পর্বত
সকল পথের যাত্রী হয়ে
চলতে পারি
শুধুই তোমার জন্যে।
তোমার নূন্যতম অপবাদ
আমার কাম্য নয়,
কারণ তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে
পূত - পবিত্র রমণী আমার হৃদয়ে।
কেউ যদি তোমাকে আমার চেয়েও
সুন্দর এবং পবিত্র মনের চোখে দেখে
তাকে আমি স্বাগত জানাবো স্বহাস্যে,
শহরের সব ব্যান্ড পার্টি ডেকে
ঢাক ঢোল বাজিয়ে সম্বর্ধণা দেবো,
সেই সঙ্গে দেবো হৃদয়ের
সবটুকু ভালবাসা।
যদি তুমি সেই ভালবাসাকে
আহবান জানিয়ে সুখী হতে চাও।
২১শে জানুয়ারী ১৯৯৫ইং
ফিরিয়ে দাও আমার হৃদয়
নতুবা দাও তোমার হৃদয়
পৌষের মেলায় প্রদর্শণী করবে
আমাকে, চলবে না, চলবে না,
আমি পণ্য হয়ে
বিক্রি হতে চাই না।
বিনিময় করা যেতে পারে
সুন্দর দৃষ্টির সুন্দর হৃদয়ের সাথে।
তোমাকে ভাল লেগেছিলো বলে
হৃদয় উপহার দিতে চেয়েছি
আমার দেয়া উপহার তুচ্ছ ভেবে
করছো উপহাস,
চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে চলেছে
খেয়াল নেই সে দিকে তোমার
গ্রহণ যদি নাই করবে
ফিরিযে দাও তবে
ফিরিয়ে দাও আমার হৃদয়
ফিরিয়ে দাও
নতুবা দাও তোমার হৃদয়।
১০ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫ইং
তোমার অজান্তে তোমার প্রেমে পড়ে
বহুদিন ধরে প্রতীক্ষা করে আছি
ঠিক অপেক্ষার মতো।
তুমি বুঝতে পেরেছিলে আমার প্রেম
তোমার আচরণ আর অবয়ব থেকে
আন্দাজ করেছিলাম
ঠিক প্রেমিকার মতো।
কিন্তু তুমি প্রেমিকা নও
অভিনয় করে আমার জীবনটাকে
ধ্বংস করতে চেয়েছিলে
প্রেমের ছ্যাকায়
ঠিক নাটকের মতো।
তোমাকে দেখা অবধি আমি
আমাকে সুন্দর করে তৈরী
করতে শুরু করেছিলাম
ঠিক, প্রেমিকের মতো।
যখন তুমি ধরা পড়ে গেলে
রঙ্গ মঞ্চের অভিনয় ছলে
প্রেমের শেষ দৃশ্যে
ঠিক, পলাতক আসামীর মতো।
তুমি আমার প্রেমিকা নও
তুমি আমার জীবনের অভিশাপ
মৃত্যু মহাদূত
ঠিক, ড্রাগের মতো।
০৭ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫ইং
আকাশের পানে চেয়ে ভাবি
আকাশ তুমি কত দুর,
ধব ধবে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়
তোমার বুকে নিবিড় করে
সীমানার শুরু হতে
শেষ হয়েছে যেখানে,
নেই ভয়, নেই ক্লান্তি
ছুটে চলে অবিরাম দিন রাত্রী।
প্রিয়া,ওগো প্রিয়া শোন
শূণ্য বাতাসে কান পেতে
ইথার তরঙ্গ মালায়
আমার আকাশেও আছো তুমি
একাকী গোপনে
প্রেমের মসৃণ চাদর
পেতে আছি
তুমি থাকবে সেখানে।
০৯ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫ইং
আপোষহীন ভাবে কখনও
জীবন চলে না,
জীবনের জন্যে আপোষ
করতেই হবে।
জীবন যখন যেমন ঠিক
তেমনি করে সাজাতে হবে।
শুনে অবধি খুব ভালো লাগছে ভেবে
তুমি আমার বন্ধু হবে।
প্রথম পরিচয়ে চেয়েছিলাম
প্রেমিকা রূপে।
কিন্তু তুমি প্রেমিকা হতে চাও না
লাইফ পার্টনার নিয়ে এখনো
কোন চিন্তা করো না,
তাই আমার দ্বিতীয় প্রস্তাব
বন্ধুত্বের।
এতে তোমার আপত্তি নেই,
তাই তোমার বন্ধুত্বের বন্ধনে
আবদ্ধ হলাম।
জীবন সঙ্গী রূপে নয়,
শুধুই বন্দুত্ব
খুব কাছাকাছি।
০৭ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫ইং
আয়নায় নিজেকে দেখ একবার
যতটা গভীর ভাবে নিজেকে দেখতে হয়
আপন রূপে কতটা রূপবতী
অথবা কতটা কুৎসীত তুমি।
জানি, তুমি নিজেকে বিশ্লেষণ
করতে পারবে না।
কারণ, তুমি নিজেকে মনে করো
পৃথিবীর শ্রেষ্ট সুন্দরী।
আর তাই, কেউ যখন
ভালবাসার মালা নিয়ে
দু’হাত বাড়ায়
যেমন মানুষ পূজা করে তার
দেবতাকে
মাটির মূর্ত্তির পদতলে প্রসাদ
দেয় বাড়িয়ে
তেমনি পূজো করে তোমাকে
যখন দুই করপূটে তুলে ধরতে
চায় কেউ
তাকে অবজ্ঞা করে
ডাস্টবিনে ফেলতে চাও ?
তুমি কি সত্যি কোন নারী ?
অথবা অন্য কিছু
চিরাচরিত নিয়মানুসারে
কোমল নারী হৃদয়
তুমি কি ব্যতিক্রম হতে চাও?
০৮ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫ইং
দুর থেকে তোমায় দেখে ইচ্ছে হলো কাছে যেতে
প্রশস্ত রাস্তার বাঁধনে চলন্ত যানবাহনের চাপে
স্থীর দৃষ্টি মেলে মূহুর্তে চাঁদের ঝিলিক দেখেছি
সূর্য তখন মাথার উপরে,
প্রচন্ড ঝড় দমকা হাওয়া ছিন্ন ভিন্ন রাজপথে
পড়ে থাকা চিরকুট গুলো সারি বেঁধে
অভ্যর্থনা জানালো তোমায় আমায়
তুমি চলে যাও নিমেষে সোনালী আভায়
দপর্নে বারবার ছায়ামূর্তি বিলাস
চিৎকার ধ্বণিত শব্দে ফেটে চৌচির দিগন্ত দ্বার
তুমি চলে যাও শুনতে কি পাও
না দেখে আমার অস্তিত্ব অনায়াসে
হাস্যোজ্জ্বল মুখে,
কেন দেখিলাম, কেন দেখিলাম
তৃষ্ণা মেটেনি নয়ন পানে
থমকে দাঁড়াও, তৃষ্ণার্ত্ব জলহস্তী হঠাৎ
ব্যস্ত পায়ে ঝাপ দেয় বিন্দু বিন্দু
জলরাশির মেলায়
বেহায়া চোখের মনি দুটো খুবড়ে খায়
তোমাকে, তুমি দেখেও নিরুপায়
অসহায়ের মতো দেখবে নারী
থাকবে দাঁড়িয়ে অশত্থ গাছ হয়ে।
২০শে জুন ১৯৯৫ইং
খুব চমৎকার লাগছিলো তখন
আড়ি পেতে শুনছিলাম কথপোকথন
কখনও পায়াচারী করতে করতে দেখছিলাম
তীক্ষ্ম দৃষ্টি মেলে তোমার স্বপ্নের মানুষটিকে।
যদিও কোন প্রয়োজন ছিলো না
স্বহাস্যে হ্যান্ডস্যাক করে আলাপ করা যেত।
কেন জানি ইচ্ছে হলো চুপি চুপি দেখার,
পৌছুতে তোমার বেশ দেরী হয়েছিলো
অবশ্য বরাবরই তুমি এরকম
ঘড়ির কাটা আধ ঘন্টা লেট।
আমি অপেক্ষা করছিলাম তুমি আসবে,
তোমার স্বপ্নের মানুষটির উদ্বেগ বেড়ে
চলেছিলো ক্রমাগত।
ঘড়ি দেখছিলেন আর উকি দিচ্ছিলেন
রাস্তার দিকে।
খুব চমৎকার লাগছিলো তখন
হালকা আবহ সঙ্গীত বেজে চলেছে লাউঞ্জে
পেছনে বসে ছিলো দু,জন নারী ও পুরুষ।
একবার ওদের দিকে চোখ পড়তেই
বিস্মিত হযে আমার আপাত মস্তক দেখা মাত্র,
আমি হেটে তখন সামনের টেবিলে
মুখোমুখি বসে অবাক হয়ে ভাবছিলাম।
১৬ই নভেম্বর ১৯৯৫ইং
আমি আর পিছু ডাকবো না,
দীর্ঘদিনের পিচ্ছিল পথটুকু পার হওয়ার
ব্যর্থ চেষ্টায়, আমি আজ অবসন্ন,
তাই থেমে গেলাম,
হৃদয়কে স্বান্তনা দিলাম,
আমি আর যাবো না।
২৪শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ইং
তোমরা সবাই চলে গেলে
যে যার নির্দ্দিষ্ট গন্তব্যে,
আমি শুধু বসে থাকি
তাহার পথের দিকে তাকিয়ে।
২৪শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ইং
তোমার কথা মনে হলে
আমি তাকাই দুর আকাশের পানে
প্রজ্বলিত তারা গুলো হাসে
ঠিক যেন তোমার চোখের মতো।
২৪শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ইং
তোমার বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর
রাস্তায় দশ মিনিট একাকী হাঁটলাম।
রাত এগারোটায় রাস্তা গুলো বেশ
ফাঁকা থাকে।
দিনের মতো গাড়ীর কোন জ্যাম নেই।
অনেকদিন পর এমনি করে একাকী হাঁটলাম
শুধুমাত্র তোমার জন্যে।
একাকী রাতের অন্ধকারে রাস্তায় হেঁটে
বেড়ানোর আনন্দটুকু ভুলেই গিয়েছিলাম,
তুমি নতুন করে মনে করিয়ে দিলে।
২৪শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ইং
শেষ পর্যন্ত তোমার ইচ্ছে টুকুই পূরণ হলো
আমার হলো পরাজয়।
২৬শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ইং
অন্ধকারে দেখি আলো
তাই বলে কি
তোমরা আমায় পাগল বলো?
২৬শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ইং
এখন তুমি খুব ব্যস্ত, এই ব্যস্ততম শহরে
এমন একটা সময় ছিলো, যখন তুমি
প্রতিদিন কিছু সময় ধরে অপেক্ষা করতে আমার জন্যে।
আমার সঙ্গে কথপোকথন ছিলো
তোমার ঘুমের ঔষধ।
একদিন বিশেষ এক জরুরী কাজে
ঢাকার বাইরে যেতে হয়েছিলো আমাকে।
সে রাতে তুমি এক মূহুর্তের জন্য ঘুমাতে পারনি।
পরদিন যখন দেখা হলো তোমার সঙ্গে
দেখলাম, তোমার চোখ দুটো ফুলে আছে
বেলুনের মতো।
পুরো দশ মিনিট তুমি কথা বললে না
মুখ ভার করে তাকিয়ে রইলে
আকাশের দিকে।
অনেক কষ্টে যখন বুঝাতে সক্ষম হলাম
কেন আসতে পারিনি,
তখন তুমি বায়না ধরলে
তোমাকে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে
সমুদ্র সৈকতে।
সমুদ্র স্নান সেরে যখন হোটেলে ফিরেছি
দু’জনেই ক্লান্ত তখন।
ভেজা সাদা শাড়িতে তোমার সমস্ত
দেহ আমার চোখের সামনে।
স্তন যুগল ভেসে আছে গোলাপী সৌন্দর্যে।
তোমার গোলাপী সৌন্দর্যের আর্কষনে
তোমাকে জড়িয়ে ধরলাম।
অনেকক্ষণ ধরে রূপালী বালুকা বেলায়
সাঁতার কাটলাম দু’জনে।
তারপর এক সময়,
ক্লান্ত শরীর ব্যর্থ হলো সাঁতার কাটতে।
বিছানার দুই প্রান্তে দু’জন পড়ে রইলাম
জড় পদার্থের মতো।
সেই আমাদের শেষ দেখা
শেষ কথপোকথন।
১৩ই মার্চ ১৯৯৬ইং
ইদানিং মুক্তির কি যেন একটা প্রয়োজন
হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের দু’জনারই এখন মুক্তি দরকার।
দীর্ঘ ছয় বছর কারারুদ্ধ থেকে
একবারও মনে হয়নি শব্দ অভিধানে
মুক্তি বা মুক্ত বলে কোন শব্দ থাকতে পারে।
আজ শুধু এই শব্দটি বারবার হৃদয়ে পীড়া দিচ্ছে।
কারাগারের সেলে যেদিন তুমি প্রথম
আমার চোখে চোখ রেখে নিঃশ্চুপ ভাবে
দাঁড়িয়ে ছিলে অনড় হয়ে,
সে দিন মনে হয়েছিলো পৃথিবীর সব রংয়ের মাঝে
তুমি উজ্জ্বল নীল বর্ণের একটি রঙ।
গভীর রাতে যখন সপ্তর্শী মন্ডলের সাতটি তারা জ্বলে উঠতো একসঙ্গে
তোমাকে নিয়ে সেই তারার উদ্বাস্তু দেখতে
দেখতে দুটি তারা হয়ে মিশে যেতে ইচ্ছে
হতো সপ্তর্শী মন্ডলে।
আর এখন মুক্তির প্রহর গুনছি।
কবে মুক্তি হবে,
কবে মুক্তি পাবো।
০৩রা মে ১৯৯৬ইং
তোমার না বলা কথা গুলো,
আমিই তোমাকে বলবো।
যে কথা গুলো তোমার মুখ থেকে
আমি শুনবো বলে
অপেক্ষার প্রহর গুনছিলাম
দিনের পর দিন।
কিন্তু তুমি বলছো না।
সে দিন যখন আমরা দেখা করলাম
অপরাহ্নের সূর্য দীপ্ত গরমের মধ্যে
তোমার চিবুকে, কপালে ঘাম জমে উঠেছিলো।
তোমার পার্সের মধ্যে টিস্যু পেপার ছিলো না।
আমার কাছে রুমাল চাইতে সংকোচ করছিলে,
অগত্যা পকেট থেকে রুমাল বের করা মাত্র,
তুমি লুফে নিয়ে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললে।
তারপর কি যেন কি বলতে গিয়ে থেমে গেলে,
আমি তোমার নিকট এক ঘন্টা সময় চাইলাম
ঠিক তোমার ইচ্ছে মতো।
যখন তুমি চাইবে,
তোমার কথা গুলোই
আমি তোমাকে বলবো।
০৩রা মে ১৯৯৬ইং
তুমি আর কিছুক্ষণ বসো,
কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি তোমার ছবি আঁকবো।
একটু ডান দিকে হেলান দিয়ে
সূর্যকে আড়াল করে বসো,
চুল গুলো ছড়িয়ে দাও।
সূর্যটা লাল হয়ে গেছে,
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যাবে।
আলো আঁধারিতে আঁকা তোমার ছবি।
লক্ষী মেয়ের মতো চুপটি করে বসো।
এবার গ্যালারী বুকিং পেলেই
শুধুমাত্র তোমার ছবি নিয়ে এক্সিবিশন
করবো। হাতের ছবিটা শেষ হলে,
পূর্ণ হবে একশো ছবি।
গাঢ় নীল, আর সামান্য লাল রং
জল রঙে আঁকা ছবিটা শেষ হলেই
তোমাকে নিযে বেড়াতে যাবো।
রিকসায় চড়ে সমস্ত শহরটা ঘুড়বো,
ফুচকা খাবো।
রাত নয়টায় তোমাকে বাড়ি পৌছে দিয়ে
তবেই আমি ফিরবো।
তুমি আর কিছুক্ষণ বসো।
ছবিটা শেষ করেই
তোমার সঙ্গে যাবো।
০৬ই মে ১৯৯৬ইং
জন্ম দিনের কর্মসূচী, তোমার জন্মদিনে,
রাত বারোটা এক মিনিটে পূষ্পার্ঘ অর্পণ
তোমার দু’হাতে আমি এক গুচ্ছ গোলাপ
তুলে দেবো, লাল গোলাপ।
দুয়ার প্রান্তে দাঁড়িয়ে তুমি গ্রহণ করবে
আমার পূষ্পাঞ্জলী।
নিশিথ রাতে দেবীর বর পেতে
সবার অলক্ষ্যে দন্ডায়মান করপূটে
তোমার প্রেম অভিলাষে।
জন্ম দিনের কর্মসূচী, তোমার জন্মদিনে,
সারা রাত্রী দু’জনে, রজনী গন্ধার চাদর পেতে
ভরা পূর্ণিমা রাতে, চাঁদের আলোয়,
তারার লুকোচুরি খেলা দেখতে দেখতে
হারিয়ে যাবো দুর আকাশে,
দিগন্তের বিস্তৃত প্রান্তরের শেষ সীমানায়।
অনেকক্ষণ ধরে নিরবে, নিস্পলক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে থাকবো, একে অপরের পানে,
অতৃপ্ত সুখের ছায়ায়।
জন্ম দিনের কর্মসূচী, তোমার জন্মদিনে,
সূ-প্রভাতের শুভলগ্নে, পাখির কলতানে
মুখরিত যখন চারিদিক, হাতে হাত রেখে,
দূর্বা ঘাসের উপর হাঁটবো কিছু সময়,
আমার কাধের উপর মাথা রেখে
হাঁটবে তুমি।
পরনে তোমার সাদা শাড়ী লাল পাড়,
খোঁপায় রজনী গন্ধার মালা।
কপালে লাল টিপ।
জন্ম দিনের কর্মসূচী, তোমার জন্মদিনে।
২৫শে জুন ১৯৯৬ইং
একটি ফুলের মৃত্যু হলো, করুণ মৃত্যু
কিছুক্ষণ আগে,
আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম
নিরব দর্শকের মতো।
আমরা সবাই বধির হয়ে গিয়েছিলাম
আমাদের কারো মুখেই কোন কথা ছিলো না।
ফুলটি অবহেলিত অপমানিত হয়ে
ঘৃণায়, লজ্জায় উপায়ন্তর না পেয়ে
স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করলো।
আত্মহত্যার মাঝে খুঁজে পেলো
পরম তৃপ্তির সুখের ঠিকানা।
পৃথিবীর রং রূপের মাঝে ফুলটি
স্বপ্ন দেখেছিলো
কোন নারীর সুখময় মূহুর্তে
খোঁপায় স্থান পাবে, সুবাস ছড়াবে।
কিন্তু ফুলটির স্বপ্ন, স্বপ্নের মাঝেই
সীমাবদ্ধ রয়ে গেলো।
কোন নারী তাকে স্পর্শ করলো না,
বরং ঘৃণা ভরে একবার তাকালো তার দিকে।
উপেক্ষিত হলো ফুলটি,
সহ্য করতে পারলো না নারীর উপেক্ষা।
ধীরে ধীরে পাপড়ী গুলো ঝরে গেলো
ফুলটি মৃত্যু বরণ করলো।
আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম
ফুলটির করুণ মৃত্যু।
জীবদ্দশায় যে পেয়েছে
ঘৃণা, অবহেলা আর উপেক্ষা।
২৬শে জুন ১৯৯৬ইং
পথিকের দুটো পা ছিলো,
যে পায়ে হেঁটে হেঁটে পথিক
সমস্ত শহরের অলি-গলিতে
ঘুড়ে বেড়াতো দিন-রাত।
এখন পথিক ভুলে গেছে হাঁটা
ক্রাচে ভর করে ঘর থেকে
বাথরুমে তার সীমাবদ্ধতা।
পথিকের স্বপ্ন ছিলো, নতুন সাম্রাজ্য
গড়ার, সম্রাট হবে বলে রাতের
আঁধারে ঘর ছেড়েছিলো।
সম্রাট হয়েছে পথিক
তবে, সাম্রাজ্যের নয়, আপন ঘরের।
যেখানে একবেলা পেট পুরে খাওয়া
হলে, অন্যবেলা উপুষ করতে হয়।
০২রা আগস্ট ১৯৯৬ইং
সবাই চলে যায়
যে যার মতো আপন পায়ে হেঁটে চলে যায়
তুমিও চলে গেলে
দীপ্র পদ ভঙ্গীমায়।
সময়ের টানে চলে যেতে হয়
তাই চলে যায়।
তুমি চলে যাও
নিরব দর্শকের ভীড়ে।
দৃষ্টিকে বিচ্ছুরিত করি
তোমার শক্ত, সাবলীল পদযুগল
যে দিকে যায়
আকাশের দিকে চেয়ে দেখি
একটি তারার পতন ঘটলো
মিশে গেলো তোমার দেহের
সৌন্দর্যের সঙ্গে।
২৮শে এপ্রিল ১৯৯৭ইং
কেউ সুখী নয়
সুখী মানুষের সংজ্ঞা কি,
আমার জানা নেই।
প্রকৃত সুখী মানুষ হতে হলে
কি কি গুণাবলী থাকা প্রয়াজন,
তাও আমার জানা নেই।
আমি একজন সুখী মানুষকে খুঁজে চলেছি
প্রকৃত সুখের সন্ধানে,
সুখকে সঙ্গী করবো বলো।
এমন একজন এসে আমাকে বলেনি
“আমি সুখী”
সুখ শব্দটি স্বপ্নের মতো
যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না,
ঘ্রান নেওয়া যায় না,
কল্পনা করা যায় মনে মনে।
সত্যি বলতে কেউ সুখী নয়।
০৪ঠা মে ১৯৯৭ইং
আমি বসে আছি তোমার জন্যে
ও আমার কামীনিকলা।
তুমি আসবে, তুমি আসবে বলে
দু’বাহু বাড়ায়ে বসে আছি।
সকাল থেকে একটি বারের জন্যেও
ঘর থেকে কোথাও যাইনি আমি।
তুমি কখন চলে আসো,
তোমার প্রতীক্ষায় আমি পথ চেয়ে বসে আছি।
তুমি আসবে, তুমি-আমি,
আমরা রচনা করবো দীর্ঘ এক উপন্যাস,
যে উপন্যাসের পাত্র পাত্রী আমরা দু’জন।
আমি নায়ক আর তুমি নায়িকা,
বাংলা বা হিন্দি ছবির নায়ক যেমন
একা দশজন ভিলেনের সঙ্গে লড়াই করে
সবল বাহুতে।
আমিও তেমনি সবল বাহুতে লড়াই করার জন্যে
শার্ট খুলে হেঙ্গারে ঝুলিয়ে
উদোম শরীরে বসে আছি।
তুমি আসবে বলে, ও আমার কামীনিকলা।
প্রতীক্ষার প্রহর যেন না ফুরায়,
সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে সূর্যাস্ত হলো
কিছুক্ষণ আগে।
পাখী গুলো ফিরছে নীড়ে
আমি বসে আছি তোমারই জন্যে।
আমি জানি তুমি আসবে,
হয়তো তোমার কোন জরুরী কাজ আছে
অথবা রাস্তায় জ্যাম কিংবা গাড়ীর চাকা
হয়ে গেচে পাংচার।
ঘড়ির কাটা জানিয়ে দিয়ে গেলো রাত বারোটা,
চোখ যেন ঝাপসা হলো,
আমি বসে আছি,
তুমি আসবে বলে কামীনিকলা।
০৯ই মে ১৯৯৭ইং
দু’দিন হয়ে গেলো তুমি হাসপাতালে,
গত রাতে হলো তোমার অপারেশন।
প্রতি মূহুর্তের খোঁজ খবর আছে আমার কাছে,
ক’বার ডাক্তার এলেন, ক’বার নার্স এলেন,
কত গুলো স্যালাইন দেওয়া হলো তোমার শিরায়
ক’টি ইনজেকশন এবং কি কি ট্যাবলেট খেলে তুমি,
সব হিসেব আছে আমার কাছে।
যদি ফিরিস্তি দেখতে চাও, দেখাতে পারি।
তোমার প্রতিটি আর্তনাদ আমার হৃদয়কে
করেছে ক্ষত বিক্ষত।
তোমাকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হলো
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমি জানতে পারলাম।
বুকের খাঁচা গুলো যেন এক একটি করে
মড়মড়িয়ে ভেঙ্গে যেতে লাগলো।
চৈতন্য মনে হৃদয়কে ধমকে দিলাম।
হৃদয় স্থির হলো, স্বাভাবিক কাজকর্ম হলো শুরু।
নিজেকে তাড়িয়ে বেড়ানোর কোন রকম
অনুভূতি নেই প্রাণে।
দু’দিন হয়ে গেলো তুমি হাসপাতালে,
হৃদয়ের স্থবিরতা নিয়ে তোমাকে দেখতে
ইচ্ছে হলো, শরীরে এলো চঞ্চলতা,
ছুটলাম হাসপাতালে সন্ধাবেলা।
তোমার বেডের পাশে আমি দাঁড়িয়ে
আশে পাশে তোমার আত্মীয়-স্বজন,
ধীরে ধীরে চোখ খুললে তুমি এবং
তোমার চোখের কর্ণিয়ায় আমি সূ-পুরুষ
দাঁড়িয়ে এক তোড়া গোলাপ হাতে।
আমি জানি না, তোমার দষ্টিতে
আমি সূ-পুরুষ কি না,
তবু মনে হলো আমি সূ-পুরুষ।
খুব স্বাভাবিক এবং স্থীর, তুমি বললে,
- কেন এসেছেন?
= তুমি হাসপাতালে আমি আসবো না, তাই কি হয়?
- কি প্রয়োজন সৌজন্যতায়?
= সৌজন্যতা কাকে বলছো তুমি, পৃথিবীর
সপ্তম আশ্চর্যের সঙ্গে আরেকটি আশ্চর্য
যদি জুড়ে দেই আমি, সেখানে তোমারই
স্থান হবে প্রিয়তমা নারী।
- কি হবে বাড়িয়ে বলে, এখনও তো
মরে যাই নি, বেঁচে আছি বিছানায় শুয়ে
দু’দিন হলো।
= খুব অভিমান করেছো মনে হয়,
- না, মৃত্যুকে কামনা করছি
= এবার কিন্তু বড্ড বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।
- রাগ করলেন? জানেনই তো আমি একটু
অভিমানিনী। যখন আমাকে অপারেশন
থিয়েটারে নিয়ে যাচ্ছিলো। আপনার কথা
অনেক বার পড়েছে মনে।
= আমি জানি।
- কি করে জানলেন?
= যেদিন থেকে আমাদের হৃদয় বিনিময় হলো
সেদিন থেকে তোমার হৃদয় তোমার মনের
সুপ্ত কথা গুলো বলে যায়
আমার কানে কানে।
- আপনি একটা পাগল।
= পাগল বলো আর যাই বলো ওগো সুন্দরী
সবার সম্মুকে ধরিয়াছি তোমার হাত
এ জনমে তুমি বিহনে অন্য কিছু
বুঝি না যে আমি।
১২ই মে ১৯৯৭ইং
আমি যাকে ভালবাসি
যে আমাকে ভালবাসে।
এমন একটি মেয়েকে খুঁজছি
যদি সন্ধান পাওয়া যায়,
তবে তাকে বিয়ে করবো।
আমি যাকে ভালবাসি
যে আমাকে ভালোবাসে।
বিয়ে তো আর ছোট বেলার
খেলার সাথীর সঙ্গে পুতুল খেলা
বা চড়ুঁই ভাতি নয়,
যাকে বলে আমৃত্যু সম্বন্ধ।
দুটি হৃদয়ের বাঁধন বাঁধতে হয়
বিনি সুতোর মালায়,
তারপর সেই মালার ফুলের ঘ্রাণে
আনন্দিত হয়, পুলকিত হয়
প্লাবিত হয় জলোচ্ছাসের মতো
হৃদয় সাগরে আনে জোয়ার।
ভাটার টানে যেন শুকিয়ে না যায়
বেলা ভূমিতে দাঁড়িয়ে অশ্রু না ঝরে
তাই তো খুঁজছি নিরবে নিঃশব্দে।
আমি যাকে ভালবাসি
যে আমাকে ভালোবাসে।
১৫ই অক্টোবর ১৯৯৭ইং
তোমার চলে যাবার পর
আমি এতোটুকু পেছনে তাকানোর
অবকাশ পাই নি।
তোমার চলে যাবার পর
কোন স্মৃতির দহনে পুড়ে
ক্ষত-বিক্ষত হইনি।
অনেক পুরোনো দিনে তুমি
তোমার অধর স্পর্শিত উচ্চারণে
মন রাঙিয়ে ছিলে,
শুভ্র সাদা রঙের ছায়ায়।
মায়ার কাননে স্বপ্ন জাল
বুনোনো চাদরে ঢাকা
দু’জনার স্বপ্নিল অবয়ব।
পেছন থেকে ডাকবো আমি
এমনটি ভাবার কোন অর্থ নেই।
তাই, ব্যস্ত জীবনের ভীড়ে
হারিয়েছি নিজেকে,
তোমার চলে যাবার পর।
১১ই নভেম্বর ১৯৯৭ইং
আমি আজ নতুন করে
আবিস্কার করে ফেললাম নিজেকে।
মুক্ত বিহঙ্গের মতো দুটো
ডানা মেলে বাতাসের উপর
ভর করে উড়তে শিখলাম।
এ এক নতুন ধরণের আবিস্কার
এ আবিস্কার শুধুই আমার
একান্ত এবং ব্যক্তিগত।
তুমি যখন প্রিয়া হয়ে এসেছিলে,
তোমার হাতে আমার হাত স্পর্শ করেছিলে,
তখন মনে হয়েছিলো,
এ্যাকুরিয়ামে বন্দি আমি যেন
এক সামুদ্রিক জলজ প্রাণী।
লাল, নীল, সবুজ, হলুদ ঝিলিমিলি
আলোর ঝিলিকে হারিয়ে গেলাম
বিশাল সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে
তাল মিলিয়ে ভেসে বেড়ানোর স্বাদ,
বেমালুম ভুলে গেলাম সমুদ্রের গর্জন।
ড্রয়িং রুমে সাজানো এ্যাকুরিয়ামে
প্রদর্শিত আমি।
হঠাৎ একদিন এ্যাকুরিয়াম ভেঙ্গে
গড়িয়ে পড়লাম কার্পেটে।
আমি ছটফট করতে করতে
ডুকরে কাঁদতে লাগলাম,
সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই কারো।
অথচ আমাকে নিয়েই সকল আয়োজন।
আমি বুঝলাম এরই নাম জীবন।
আমাকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হলো ড্রেনে,
সেখানে ময়লা আবর্জনার সঙ্গে
বসবাস শুরু হলো,
এ আবার অন্য রকম বেঁচে থাকা।
অবশেষে একদিন সমুদ্রের গর্জন শুনতে পেলাম,
মিলিয়ে গেলাম গভীর সাগরের
অতল জলে।
১১ই অক্টোবর ১৯৯৭ইং
জেলখানার সেল গুলোর কথা খুব মনে পড়ছে
কত সুখময় স্মৃতি বিজড়িত রয়েছে সেখানে।
অনেক রাত্রী, অনেক সকাল কেটেছে
আর অপেক্ষার প্রহর।
মুক্তির দিন, অপেক্ষায় অপেক্ষায় বিনিদ্র রাত্রী
অসহ্য যন্ত্রণা অনুভূত হয়েছে।
তবুও প্রতীক্ষায় থেকেছি তার
যে শুধু অপেক্ষায় রয়েছে আমার।
সকাল থেকেই জেলখানার প্রতিটি সেলে
গুঞ্জন চলছে,
কেউ কেউ দুর থেকে আমাকে দেখে যাচ্ছে।
আমি যেন কিছুই দেখিনি,
একজনকে দেখলাম, দু’ফোটা চোখের জল
ফেলে চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলো।
জেলার সাহেব আসলেন,
কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন।
হয়তো কথা শুরু করবার ভাষা খুঁজছেন,
তারপর বললেন, আপনার কি কোন শেষ ইচ্ছে আছে?
আমি হাসতে হাসতে বললাম, “আছে”।
পারবেন আমার শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে?
আমার হাসি দেখে জেলার সাহেব বিস্মিত হলেন
এবং বললেন, ‘বলুন-চেষ্টা করবো।’
যে প্রিয়তমাকে এই দু’হাতে হত্যা করেছি,
পারবেন তাকে একবার আমার সামনে এনে
দাঁড় করাতে। দু’চোখ ভরে একবার দেখবো।
আমার চোখ দিয়ে কখন অশ্রু গড়িয়ে
পড়েছে, আমি বলতে পারবো না।
জেলার সাহেব চলে গেলেন,
মৌলুভী সাহেব এলেন, ওজু করালেন।
রাত ১১.৩০ মিনিটে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো
ফাঁসীর মঞ্চে,
রাত বারোটায় আমার ফাঁসী হলো।
অনেক গুলো কাক ডেকে উঠলো এক সঙ্গে
গভীর রাতে।
২০শে আগস্ট ১৯৯৮ইং
তোমার জন্ম জয়ন্তীতে, শুভ জন্মদিন
গোলাপের ঘ্রানে ভরে উঠুক চারিদিক,
কোকিলেরা গান করুক প্রাণ ভরে,
স্বপ্নের অলিরা রঙিন স্বপ্নের
জাল তৈরী করুক আপন মনে,
তোমার জন্ম জয়ন্তীতে, শুভ জন্মদিন।
ঝর্ণা ধারার মতো আমি শুভেচ্ছা জানাবো
সাদা পায়রা গুলোকে বলবো
সারাক্ষণ যেন তোমার পাশে পাশে থাকে
সাদা পালকে ঢেকে রাখে তোমাকে
কখনও যেন রোদের এতোটুকু কিরন
না পরে তোমার শরীরে,
তোমার জন্ম জয়ন্তীতে, শুভ জন্মদিন।
রাতের চাঁদকে বলবো, সে যেন তোমাকে
পূর্ণিমার আলোতে গোসল করায়
যুগ যুগ ধরে।
গভীর রাতে পূর্ণিমার চাঁদের গোসল
ভুলাবে তোমার গভীর বেদনা
তোমার জন্ম জয়ন্তীতে, শুভ জন্মদিন।
০৯ই অক্টোবর ১৯৯৮ইং
স্বপ্ন গুলো সব এলোমেলো হয়ে যায়
আমার ইচ্ছে স্বপ্ন দেখি
স্বপ্নের শেষ দৃশ্যটা দেখি,
না, শেষ দৃশ্যটা দেখা হয় না
ঘুম ভেঙ্গে যায়
তবুও স্বপ্নের শেষটা দেখার ইচ্ছায়
পুরোনো স্বপ্নকে নতুন করে দেখি।
আমার মধ্যে একটা অলৌকিক শক্তি আছে,
যা দিয়ে ইচ্ছে করলেই যে কোন স্বপ্ন
যে কোন সময় দেখতে পারি,
ঠিক আমার ইচ্ছে মতো।
তুমি সাগরে সাতার কাটো
আমি চেয়ে চেয়ে দেখি,
তুমি বালুকা বেলায় ঝিনুক কুড়াও
আমি তাকিয়ে থাকি,
গোধুলী লগ্নে সূর্য যখন সাগরে ডুবে যায়
তুমি সূর্যকে হাতের মুঠোয় নিতে চাও
আমি তাও দেখি।
যখন তোমাকে স্পর্শ করার জন্য হাত বাড়াই
তখনই ঘুম ভেঙ্গে যায়।
তারপরও আমি স্বপ্ন দেখি,
তোমাকে দেখি,
তোমাকে স্পর্শ করার জন্য হাত বাড়াই।
৩০শে নভেম্বর ১৯৯৮ইং
কতকাল পর প্রিয় বন্ধু আমার
পথ চলতে দেখা হঠাৎ
কোন সৌজন্যতা নেই,
নেই কোন ব্যবধান দীর্ঘ সময় না দেখার,
কথার ধরণ শুনে মনে হলো
কাল রাতে একই বিছানায় গল্প করতে করতে
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম হঠাৎ।
সেই গল্পের সূত্র ধরে বললে আমায়,
“ঐ যে ঐটা”
ভুরু কুঞ্চিত করে তাকিয়ে আছি,
কি বললে, “ঐ যে ঐটা”
ঠিক বুঝা গেলো না।
কত না দীর্ঘ সময়ের পথ, চলতে চলতে . . . .
অকস্মাৎ দেখা হলো পথে,
তারপর আবার বললো, প্রিয় বন্ধু আমার,
“ঐ যে তিনশত আঠারো”
মনে পড়লো অংকের খাতা,
এক মিনিটের দেখাতে, শুধুমাত্র তিনশত আঠারো
আর কি কিছুই বলার ছিলো না
প্রিয় বন্ধু আমার,
বুকটা ভারি হয়ে উঠলো
কোন কথা বলার ইচ্ছে হলো না,
তবুও ভদ্রতার খাতিরে,
দুটো একটা কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে
দুটো কথা বলা।
তার সঙ্গে ছিলো দু’জন সঙ্গী
একজন বলেই বসলো হঠাৎ,
“তুমি বোধ হয় আমাদের চিনতেই পারছো না।”
কথাটা শুনে দুঃখিত হওয়া ছাড়া
আমি কোন ভাষা খুঁজে পাই নি,
অন্যজন হাসলো, বেশ খানিকটা শব্দ করে।
আমি নিশ্চুপ এবং অনড়
প্রিয় বন্ধু আমার
তারপর চলে গেলো, বললো “আসি”।
১২ই মার্চ ১৯৯৯ইং
তুমি আজ অন্য মানুষ
অন্য গৃহের মানুষ
অন্য কারো আপনজন
অন্য জনের অর্ধাঙ্গীনি
কেন এতো মন দেয়া নেয়া
কেন এতো বিভাজন?
মন নিয়ে দর কষাকষি
দর বাড়ালেই অন্যজন
এই কি রীতি
এই কি সমাজনীতি
কাগজ কলমে ঘষাঘষি
আপন হয়ে যায় পর
সাজানো হয় ঘর
এখন সে শুধুই পর।
২১শে মে ১৯৯৯ইং
অন্তঃসার শূণ্য ধরণী,
ধরণীর বুকে কত লীলা খেলা
লীলার টানে জীবন আর জীবিতের ক্ষয়ে যাওয়া।
ধরণীর ধরা তলে মৃত্তিকার আলিঙ্গনে নর আর নারী
মিছে ভালবাসার অনুসন্ধান করা।
ভালবাসা নাই, জীবন আর জীবিতের
জীবনের সঙ্গে অক্সিজেনের আলিঙ্গন
আর জীবিতের আলিঙ্গন ক্ষার আর ক্ষরণের সাথে।
জীবন মৃত্যুর অর্ন্তবর্তী কাল এক যাত্রা
আর যাত্রা পথ নয় মসৃন।
ঝড়, ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছাস, টাইফুন, সিডর যুদ্ধ করে প্রতিক্ষণ
যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে যাত্রা পথে পথ চলা।
যাত্রা পথে কখনও আনন্দ, আবার তুষার পাতে তলিয়ে যাওয়া
তবুও যাত্রা থেমে নেই, অন্তহীন ছুটে চলা,
ছুটে চলা, ছুটে চলা, ছুটে চলা. . . . .
যাত্রা পথে সঙ্গী পাওয়া বড় ভার,
দীর্ঘ পথ একাই পারাপার,
যাত্রা পথে অনেকেই সঙ্গী হতে চায়
স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে খুঁজে পাওয়া দায়।
ধরণীর বুকে মিছে আশায় আসা, শূণ্য হাতে
অন্তিম যাত্রা ক্ষরণ আর ক্ষারের সাথে।
০৮ই নভেম্বর ২০১৩ইং
জীবনের গুরু রহস্য খুঁজে ফেরে ক’জনা ?
এ রহস্য ভেদ করে অর্ন্তনিহিত গুরু তত্ব খুঁজে পাওয়া দায়,
অতল সাগরের নীচে স্রোতস্বীনি জলধারা ভেদ করে
নূরীর তলদেশ থেকে মুক্তো খুঁজে যে জন
সে জন বুঝবে না জানবেও না
তারও চেয়ে কত দুঃসাধ্য
জীবনের গুরু রহস্য খুঁজে ফেরা।
জীবনের আগমন জন্মে আর মৃত্যুতে তার ক্ষয়।
ক্ষয়কে যদি রোধ করতে হয়,
তবে কি করণীয় হয় ?
বোঝে ক’জন, জানে না তো মন।
জন্ম আর মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময় যদি হয় কোন সঞ্চয়
তবে সে সঞ্চয় যুগ থেকে শতাব্দি জনে জনে স্মরণ করায়।
কিন্তু সে সঞ্চয় করতে পারে ক’জনা?
অনেকই পারে না।
একজন যদি পারে কোটি জন তারে বিদ্বেষিয়া মরে।
ইহলৌকিক সঞ্চয়ের নেশায় ছুটে চলে নিরন্তর
চোখে দেখা যায়,
এরই মধ্যে কেউ কেউ আবার পরলৌকীক সঞ্চয়ের
নেশায় মত্ত দিবা নিশি,
সে সঞ্চয় দেখার চক্ষু আছে কি এ ধরায়।
২১শে নভেম্বর ২০১৩ইং
ফাগুনের আগুন ঝরা তপ্ত প্রহরে হৃদয়ে যদি আগুন লাগে
পারে কি ফায়ার সার্ভিস সে আগুন নেভাতে?
হৃদয় নামের অধরা পুষ্প পায়ের তলায় পিষ্ট হয়
দেখা না দেখায় কেউ মারিয়ে চলে যায়,
যে গেলো তার কি বা আসে যায়?
আগুন ধরা হৃদয় পুড়তে থাকে
পুড়তে থাকে দাউ দাউ করে
তারপর নিথর দেহটা সিটি কর্পোরেশনের গাড়ীতে নিয়ে চলে যায়
সাইরেন বাজিয়ে।
খোঁজ রাখে না তার কি হলো লাশটার,
হৃদয়ের ভস্ম গুলো বাতাসে উড়তে উড়তে ঝড়তে থাকে
প্রণয়ণ করা যায় না কি কোন আইন
যে আইনের বলে হৃদয়ে আগুন লাগা বন্ধ হবে,
দেয়া কি যায় না কোন জন সচেতনতা মূলক শ্লোগান
যে শ্লোগানের মূখরীত উচ্চারনে সাবধান হওয়া যায়
বন্ধ হোক হৃদয় দহন, সুস্থ থাক জীবন।
১৩ই ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৪ইং
১লা ফাল্গুন ১৪২০বঙ্গাব্দ
স্বপ্ন ডানায় ভর করে পার্থিব জীবন,
করতে চেয়েছি যাপন।
মুক্ত বিহঙ্গ নিশ্চিন্ত মনে যেমন
ছুটে চলে দুর থেকে দুরে
গন্তব্য অন্তহীন।
অন্তহীন গন্তব্য রয় না দীর্ঘদিন,
স্বপ্নের ডানা ভেঙ্গে হয় চৌচির।
উড্ডিয়ন বিমান যেমন বিধ্বস্থ হয়ে হয় ভূলুন্ঠিত
জীবন থেকে স্বপ্নের মায়াজাল ছিড়ে ফেলে
লক্ষ্যকে করতে হবে স্থীর,
তবেই না আসবে জীবনের সার্থকতা।
সার্থকতার টানে যাপিত জীবনের গ্লানি
বুকে পাথর চাপা দিয়ে
নিঃসঙ্গতা এখন একমাত্র সম্বল।
মানি না পিছুটান
তাকালেই জীবন খান খান।
লক্ষ্য পানে তাকালেই তুষার পাত রাশি রাশি
কিন্তু তুষারে শুভ্রতা নেই।
আছে অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া।
১৪ই ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৪ইং
২রা ফাল্গুন ১৪২০বঙ্গাব্দ
অর্থহীন জীবনে ভালবাসা অর্থহীন
যদি ভালবাসা পেতে চাও
অর্থকে আপন করে নাও।
জীবনের জন্য অর্থ
ভালবাসার জন্য অর্থ
ভাল বাসার জন্য অর্থ
সুখের জন্য অর্থ
সম্মানের জন্য অর্থ।
অর্থের রঙ হোক না কালো কিংবা সাদা
তাতে কিছুই যায় আসে না।
অর্থবহ সুন্দর সুখী জীবনের জন্য
শুধুই অর্থ।
১৫ই ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৪ইং
০৩রা ফাল্গুন ১৪২০বঙ্গাব্দ