‘হাট-হাটুরে’ একটি ঘরোয়া ভাবে পরিচালিত অনলাইন ভিত্তিক দোকান। হাট-হাটুরের সদস্যরা বিভিন্ন কাজে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। তারা তাদের কাজের ফাঁকে সেখানকার বিভিন্ন স্থানে প্রসিদ্ধ পণ্য খুঁজে বের করেন এবং সেখানকার সুপরিচিত কৃষক ও প্রস্তুতকারকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাথে আড্ডা দেন, গল্প করেন, তাদের জীবন ও জীবিকার গল্প সংগ্রহ করেন। ফিরে আসার সময় তাদের উৎপাদিত পণ্য থেকে দু চারটা করে সাথে সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন।
এই পণ্যগুলো আমরা আমাদের সংগ্রহে রাখি, আপনাদের মাঝে ছড়িয়ে দেই প্রদর্শন করি এবং বিদেশের বন্ধুদের সহযোগিতায় সেখানকার স্থানীয় কিছু বাজারে সরবরাহ করি।
তাছাড়া আমাদের পছন্দের সকল সংগ্রহ আমরা এই অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করি এবং আপনাদের কাছে বিক্রয় করি।
অন্যদিকে, আপনাদের চাহিদার পণ্য আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করি। পণ্যটির গুন ও মান পর্যবেক্ষণ করে, সংগ্রহ করে আপনার কাছে পৌঁছে দেই।
আমাদের এই উদ্যোগটি তিনটি বিশেষ গোত্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে।
আমরা হাট-হাটুরে দল
আমরা আমাদের প্রযুক্তি দক্ষতা, বিপণন দক্ষতা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনকারী জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ, প্রচার ও বিপণন করছি। এভাবে আমরা আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছি এবং অর্থনৈতিক চাহিদা পুরন করছি।
উৎপাদক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী
প্রান্তিক, মফঃস্বল ও দেশের অনুন্নত যোগাযোগের স্থানগুলো থেকে একদল মেধাবী, দক্ষ, পরিশ্রমী উৎপাদকদের খুঁজে বের করে তাদের সাথে যোগাযোগ করছি। প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে তাদের হাতে বানানো পণ্যগুলোকে সংগ্রহ করছি, সেগুলো বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ তথা বিদেশেও প্রচার করছি এবং চাহিদা অনুসারে ভোক্তার কাছে পণ্যটি পৌঁছে দিয়ে উৎপাদকের অর্থনৈতিক অভাব পুরনে সহযোগিতা করছি। অন্যদিকে, উৎপাদকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও জীবন জীবিকার জীবনের গল্প আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করছি। আমরা চেষ্টা করছি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্যটি আপনার ঘরে পৌঁছে দিয়ে কৃষক/ প্রান্তিক অঞ্চলের উৎপাদকের মুখে হাসি ফোটাতে।
ভোক্তা জনগোষ্ঠী
ব্যস্ত জীবন সকলের। এমন অবস্থায় ভোক্তাদের আগ্রহ ও ইচ্ছা থাকলেও তারা একটি শখের জিনিস, মান সম্মত জিনিস, সস্তা দামে কিনতে পারছেন না। দেশীয়, প্রাকৃতিক, হস্ত/কুটির/লোকশিল্প পণ্য উৎপাদনকারী জনগোষ্ঠীর কাছে থেকে সরাসরি একটি পণ্য ভোক্তার নিজের হাতে সংগ্রহ করতে পারার সুখ-শান্তি কেবল একজন ভোক্তাই বুঝবেন। আমরা ‘হাট-হাটুরে’ দল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন কাজে চলাফেরার ফাঁকে দরিদ্র, প্রান্তিক, দক্ষ, মেধাবী, কর্মঠ, সৎ, উদ্যমী কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাপের কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে তাদের তালিকা তৈরি করি এবং তার সাথে সাথে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ছবি এবং উৎপাদকের জীবন ও জীবিকার গল্প আপনাদের সামনে তুলে ধরি আমাদের ভার্চুয়াল ও অনলাইন মাধ্যম গুলোতে। আপনারা সেগুলো দেখে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন, তারপর আমরা সেই অনুযায়ী আপনাদের কাছে পণ্যটি পৌঁছে দেই। এখানে উৎপাদকের খরচের সাথে আমাদের পারিশ্রমিক ও পরিবহন খরচের একটা অংশ যোগ করে আমরা পণ্যটির মূল্য নির্ধারণ করি। আমাদের সংগ্রহ করা পণ্যগুলোর বেশিরভাগ পণ্যই হাতে তৈরি করা। কোন মেশিনের সংস্পর্শ না থাকায় পণ্যগুলোর মান খুব সূক্ষ্মভাবে যাচাই বাছাই ও মান নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ খুব অল্প থাকে উৎপাদক ও আমাদের হাতে। তবে আপনাকে বাছাইকৃত উৎকৃষ্ট মানের পণ্যটি সরবরাহ করার আপ্রাণ চেষ্টা আমরা করে থাকি সর্বদা।
প্রচার: প্রত্যন্ত অন্চলের প্রচারবিমুখ অথবা প্রচারে অক্ষম কারিগর, কৃষক, উৎপাদক শ্রেনির পন্য ‘হাট-হাটুরে’ প্রচার করে থাকে।
প্রসার: ‘হাট-হাটুরে’ তাদের কমিউনিকেশন প্লাটফর্ম (ফেসবুক পেজ, ফেসবুক গ্রুপ, ওয়েবসাইট, ইমেইল) দ্বারা প্রসার ও মার্কেটিং এর দায়িত্ব পালন করে সরাসরি প্রত্যন্ত অন্চলের প্রচারবিমুখ অথবা প্রচারে অক্ষম কারিগর, কৃষক, উৎপাদক শ্রেনির পন্য ও এই ব্যক্তিদের পরিচয় করিয়ে দেয়।
বানিজ্য বা বিক্রয়: উৎপাদক শ্রেনির উৎপাদিত পন্যের নির্ধারণ করা দাম এবং তার সাথে পরিবহন খরচ, ব্যবস্থাপনার ছোট একটি খরচ যোগ করে পন্যটি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেয় ‘হাট-হাটুরে’।
‘হাট-হাটুরে’র কাজের ধাপগুলো অনেকটা এমন-
উদাহরণ স্বরূপ যেমন ধরুন, একজন ক্রেতা বা ভোক্তা হাট-হাটুরের ফেসবুক পেজের ইনবক্সে অর্ডার করলেন ‘নাটোরের কাঁচা গোল্লা, ৫ কেজি’।
ভোক্তা বা ক্রেতা হাট-হাটুরের কাছে তাদের প্রয়োজনিয় পন্যটির অর্ডার ইনবক্স করেন।
হাট-হাটুরে ফিরতি ম্যাসেজে দাম ও পন্য ডেলিভারির আপেক্ষিক সময় গ্রাহককে জানিয়ে দেয়।
গ্রাহক অর্ডারটি কনফার্ম করেন কোন প্রকার অগ্রিম অর্থ প্রদান না করেই।
হাট-হাটুরে তৎক্ষনাত তাদের নাটোরের প্রতিনিধির কাছে অর্ডারটি পৌঁছে দেয়।
প্রতিনিধি নাটোরের নির্ধারিত এবং প্রসিদ্ধ কাঁচা গোল্লা উৎপাদকের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে ক্রয় করেন এবং দ্রুততম সময়ের, দ্রুত ডেলিভারি মাধ্যমের সাহায্যে পন্যটি হাট-হাটুরের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন।
হাট-হাটুরে পন্যটির গুনগত মান যাচাই করে, ডেলিভারির আনুসাঙ্গিক ব্যবস্থাপনা অর্থাৎ প্যাকিং, বিল তৈরী, ইত্যাদি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে নিজেস্ব ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকের ঠিকানায় প্রেরন করেন।
গ্রাহক পন্যটি হাতে পেয়ে তার প্রেরন করা অর্ডারের ধরনের সাথে পন্যটি মিলিয়ে নেন ও নির্ধারিত অর্থ ডেলিভারি সার্ভিসকে অর্থ প্রাপ্তি রসিদের বিনিময়ে মূল্য পরিশোধ করেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: “পন্যের মূল দাম+পরিবহন খরচ+ব্যবস্থাপনা খরচ= সর্বমোট খরচ” এই ফরমেটে দাম নির্ধারিত হয় যেটি অর্ডারের পূর্বেই গ্রাহককে কোটেশন আকারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। হাট-হাটুরের ধারনা এই পদ্ধতিতে মধ্যসত্তা ভোগী, মুনাফা ভোগী সিন্ডিকেট ব্যবসা নির্মূল করা সম্ভব।
সময় নিয়ে লেখাটি পড়বার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই আপনাদের। আপনার মূল্যবান মতামত ও প্রয়োজনের তালিকার অপেক্ষায় রইলাম।
- কৃতজ্ঞতায় ‘হাট-হাটুরে’ পরিবার।