বন্ধু বান্ধবীর গল্প
সোনিয়া : ওই দাঁড়া, শোন রাহুল !
রাহুল : হম, বলুন ম্যাডাম কি দরকার ! ত্রয়জুটি মিলে এখানে মন্দিরের চাথালে কি করছেন মতর্মারা ।
সোনিয়া : এ কি ভাষা !
রাহুল : আরে ভালবেসে বললাম। কি বলবি বল ।
অদিতি : তোকে যে আজকাল দেখাই যাচ্ছে না, পাত্তাও পাওয়া যায়না কোনরকম। আমাদেরকে নাহয় কথায় ভালবাসিস কাকে বাস্তবে আর মনে প্রাণে ?
সুমিতা: আমাদেরকে যখন উল্লেখ করছিস বলি তাহলে ঢং বেড়ে গেছে এখন অনেক তোর। আগে অনেক সাধারণ ছিলিস জানিনা এখন কার পাল্লায় পড়ে চারচিল্লা নষ্ট বাচ্চা হয়ে গেছিস।
সোনিয়া : আরে এতো খুল্লাম খুল্লা হওয়া ভালো নয়। গড়িচেপে সিটি মেরে উড়াও ভালো নয় কই কবে ধপ করে পড়ে যাবি ঠিক নেই।
রাহুল : আরে দাড়া তনে। মুখগুলোকে বিশ্রাম দে দেখি, মুখরী কোথাকার। কি বল্লিস আমার ঢং বেড়ে গেছে। আরে আমি যত সম্ভব ভিগমাগা ওলাউঠা হিসেবে থাকি। পোশাক আশাক মেকাপ এ কোনোদিনই সময় দিইনা । আমি যবে ফিটফাট হবো মনে হয় দুনিয়াটাই বদলে যাবে আর তারা বলেনাকি... সত্যিই তোরা পাগলিই রয়ে যাবি।
সুমিতা : আরে আমি তোকে মজার ছলে কটাক্ষ করছিলাম। সত্যিই তুইও পারিস বাপু। আজকাল কার দিনে কে এরকম ভেল্লা হয়ে ঘুরে বেড়ায় ? কোনো smartness নেই। দেখলে ভ্যাবাচেকা লাগে। কোঁকড়ানো খুসকা পড়া চুল, জামাকাপড়ের ভঙ্গি নেই ভাজ খেয়ে গেছে ছিঁড়ে, তার সঙ্গে খাটারা স্কুটি, আজকাল কার দিনে মানায়। এতটা পাগল হিসেবে থাকিস কেনো সেই কমবয়সী থেকে ?
রাহুল: আরে আমি জানতাম বা শুনেছিলাম যে তোরা নাকি এমনি ছেলেদের পছন্দ করিস ? আরে আমাদের বেকারদের এরকমই হয়। মূলত সে যদি বাড়ীর ছেলে হয় আর বাবা মা যদি অযথা পয়সা না খরচ করতে দেয় আর ছেলেটার মায়াবোধ থাকে।
তিনজন একসঙ্গে : নানা কে এমন বলেছে তোকে ?
সোনিয়া: আরে আমারাও অনেক ছেলে দেখেছি কিন্তু তোর মত এন্টিক পিস দেখিনি। আমার boyfriend তো এরকম নেই সেও গরীব ঘরের।
রাহুল : ব্যাপারটা গরীবের নয়, আমি আর গরীব কোথায় ? ব্যাপারটা জীবনযাপনের কায়দা কৌশলের। সারাদিন লেখালেখি পড়াশুনা করতে করতে শরীরের পেছনে যত্ন নেওয়ায় হয়নি, তাইবলে এতজন দুনিয়ায় উভয় করে তাবলে তাদেরকে তো এরকম behaviour নয় আসলে তাদেরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই ভুল টা আমার। আসলে সত্যিই বলতে আমারই এরকম থাকতে ভালো লাগে।
অদিতি : এমনকি মেয়েদের সঙ্গে কথাবার্তা মিশতেও ভালো পারিসনা কেমন যেনো লজ্জা পাস।
রাহুল : তাহলে আমি এতক্ষন ভূতের সঙ্গে কথা বলছিলাম বল ? আসলে মেয়েরা একটু রসের কথা পছন্দ করে, তারা একটু হাস্যকৌতুক কথা পছন্দ করে, কেউ তাদের দেখাশোনা করবে, পেছন ঘুরবে এমন মানুষ পছন্দ করে। আমি যে পারিনা তা নয় আসলে আমি introvert। নাহয় ভালবাসার, মেয়েদের মনের কথা, মেয়েদের নিয়ে, মেয়েদের হয়ে, মেয়েদের পক্ষে বিপক্ষে এত লেখা লিখতে পারি ? তোরাই বিবেচনা করে বল? আর আমিও বুঝতে পারছি আমার এই জ্ঞানের কথা কেউ পছন্দ করবে না সে আমার মা বোন বৌদি করেনা আর তোরা তো কোন দূর হস্ত ।
সোনিয়া: তাহলে বাকী ছেলেদের মত ব্যবহার কর না?তাহলে আমরা মেয়েরাও তোকে পছন্দ করি তোর পেছনে ঘুরি!
রাহুল : নারে এই জন্মে সম্ভব নয় দেখি পরজন্মে হয় কিনা !!!
অদিতি : দেখ নিজেকে পাল্টাতে পারিস কিনা, কিন্তু একটা উপদেশ দেবো নিজের মতোই থাক, এরকম অদ্ভুত রহস্যময় মানুষ দুনিয়া পছন্দ করবে আর পাঁচ জনের মতো হলে কে ঘুরে তাকাবে বল তো ? Pk কে লোকে গাল দিলেও পছন্দ করত অনেকে বেশ। তোকে আলাদা হওয়ার জন্য একমাত্র হতে হবে। আর তোর কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে তুই আলাদা হতে চাস!
রাহুল : সত্যিই এমন বান্ধবী মেলাও ভাগ্যের ব্যাপার কোথায় মিলে এরকম ? ধন্যবাদ আমাকে এতটা বোঝার জন্য আর দুঃখিত সময় নস্ট করে। আপনাদের একান্ত সময় খেয়ে কাটিয়ে। চলি এখন যেহুতু আমার লেখার কথা উঠে আসছে তো দুটো লাইন আপনাদের জন্য,
“ তিনবোন তিনজনা বিকেলবেলা তিনটের সময় বসেরয়,
এক ভাই এসে তাদের সঙ্গে জুড়তেই আজগুবি কথাময়,
দুইদফা সেরে ঘরবার উজাড় করেও তাদের গল্প কেনো শেষ না হয় ??
আরে পোলা বুঝিস না একেই তো বান্ধবীদের জটলা কয় !!
অদিতি, সোনিয়া, সুমিতা : নানা সময় নষ্ট আবার কোথায়, কিন্তু শেষে বোন এটা কিন্তু অন্যায়। থ্যাংকস, see you bye
দুইটি বিবাহিত মানুষের বিয়ের আগে ভালবাসা, প্রেমের বিষয়ে আলোচনা
মউ : জানোকি তুমি, নীলাকাশ ও মিশেছে কোথাও না কোথাও সমুদ্দুরে । তারও ঠিকঠিকানা – না তোমার কাছে আছে, না আমার আয়ত্তে। পাখিরাও তো ডাকছে..
রাজ : তুমিও তো জানো, এইরকম চুপিসারে লুকিয়ে আমরা দেখা করতাম আর এখন একসঙ্গে বিবাহিত জুটি । সহসঙ্গিনী আজ জীবনসঙ্গিনী, সঙ্গযাত্রী এখন জন্মদাত্রী ।
মউ : যে নদীর কুলতট ছিল পরিচিত, যে নলের কলকূপ ছিল কিনারা, কেমন মিলে অনুভূতির সময়ের পরিবর্তন, বদলায় কেমনে চেহারার আলিঙ্গন
রাজ : ভাল লাগেনা বিবাহিতের বাসর, পড়ে মনে ফেলে আসা বন্ধুদের আসর। তবুও কও আমার আছো তুমি, কষ্ট এলেও তো দোহাই দিয়ে পালাও, “ মউ– সুমি ” “ মরশুমি ”
মৌ: জাহা মন্দির মসজিদ কিনারা সেথায় মোদের সাহারা । ছাড়িনি কোনো জায়গা আজপর্যন্ত ইঞ্চি মেপে মেপে। ওই দেখো একটা দোলনা যেটাতে দুইজনে মিলে ভাগ করে জোরাজুরিভাবে বসা আর বাকিদের হাসা রোজদিনের কারবার। শুধু সাধারণ বসা নয় অপরজনের কাছে একপ্রকার ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারপিট করা। অদ্ভুত পাগল দুইজন !!
রাজ : আমিনা বরঞ্চ তুমি ! আর বলোনা তোমার তোলা দেড় লাখ টাকার ফোনে তোলা হাতেগোনা অন্ততপক্ষে তিন লাখ সেলফি যে ফোনটা আবার হারিয়ে গেছে, তাহলে কি মুছে গেছে স্মৃতি ? পারিনা এই ছবি তোলার ভুতকে দূর করতে।
মৌ : বুঝবেনা তুমি ! কোনো একলা রাতে, বর্ষার দিনের এক কোনায় ছাতে, শীতের দিনে একপাশ মুড়ে খাটে, বেকার ফোন ঘাটতে ঘাটতে এই ছবিগুলো চোখে পড়লে ধাঁধিয়ে দিয়ে যায় সময়ের ক্ষেপগুলো। কিছু না থাকলে স্মৃতি হয়ে মনে থাকবে কোথায় ? কবেকার জন্মদিনের সেলিব্রেশন, তোমার প্রমোশন এর দিনক্ষণ, ভাইয়ে ভাইয়ে হুলিতে আলিঙ্গন।
রাজ : ঠিক যেমন বন্ধুদের রেকর্ডকরা পুরোনো ফোনকল, অতীতের লাগাতার আসা মেসেজের ঢল, কলিগ মিলে হইহই করা অফিসহল, বা রিসেস টাইম কাটানো জন্য শপিং মল মনে করায় চুগলিগুলো, আইসক্রিমগুলো। কাঠিটা মনে হয় এখনও পড়ে আছে ডাস্টবিনে। এইতো এই কদিন আগের সেইদিন মনে করাচ্ছে, কিন্তু বহুদিন হয়ে গেছে। চলে গেছে। মনে করাচ্ছে আর কুরে কুরে খাচ্ছে রাতদিন।
মৌ: তাহলে এবার মানলেতো তুমি !! তোমার চোখের আসা ছলছল জল তার প্রমান দেয়।
রাজ: ঠিক ! আরে আমি জানি যতই দোষারোপ তোমাকে দেই আমার বুকেতেও তো একটা হৃদয় আর তার ভেতর মন আছে, তাকে কীকরে চুপ করাই বলোতো। মাঝে মাঝে তো সেও চেঁচাতে চায় উজাড় হয়ে। যতই মেয়েলী বলে অবহেলা করি ইমোশন তো নির্লজ্জ তাই বেরিয়েই যায়, যতই তাকে আটকানোর চেষ্টা করি, এর ধর্ম লিঙ্গধরে নয় মানুষ হিসেবে হয়।
মৌ : এই না আমার শোনাটার বাস্তবধর্মী কথা আর মন থেকে আসা লুকানো ব্যথা। কাঁথা মুড়লে, চোখ টিপে ঘুমোলে কি দুনিয়া থেমে যায় না স্বাস তাহলে জীবনে খুল্লাম খুল্লা থাকা দরকার চিরকাল লুকিয়ে চুপিয়ে শান্তিতে থেকেছে কয়জনা ?
প্রেমিক প্রেমিকার গল্প
রাই : কিরে এত বছর ধরে বারবার এত মেসেজ, এত প্রশ্ন, এত রিপ্লাই, ভয়েস মেসেজ, ওহাটসঅ্যাপ কল করার পর আজ আবার ফোন করলি কেনো ?
অভি : একটা জিনিস বাকি রইলো সেটায় তোকে পাইনি বলে কিছু করিনি কিন্তু খুঁজেছি বহুত সেটা সোশ্যাল মিডিয়া। কেনো খুবই কি দোষ করলাম নাকি ?
রাই : নানা এমনি বলছি আরকি। কি দরকার জলদি পটাপট বল দেখি?
অভি : কেন ম্যাডাম কি এখন ব্যস্ত প্রচুর ? জীবনে কি কাজের চাপে প্রিয় না হলেও বন্ধু বান্ধবদের জন্য একটুকুও সময় নেই ? সবাই কিন্তু একসাথে একসঙ্গে ছিলাম আর একে অপরকে সাহায্য করতাম মনে আছে তো ?
রাই : যাই বল এখন প্রাচুর চাপে আছে সময় কুলোয় না। আবার মেয়েদেরও প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য বিশাল জ্বালা বয় রে তোরা ছেলেরা বুঝবিনা খালি উল্টো পাল্টা বকবি।
অভি : নানা আমাদের তো চাপ নেই বাপ আছে সংসার আছে তো মাথার উপরে তাই হয়তো পাগল হয়ে উল্টোপাল্টা বকছি তো তাই। তাছাড়া তোর মানে মেয়েদের কথা বলছিস তবুও তো তোদের কিছু না থাকলেও তোর দায়িত্ব কেউ না কেউ নিবে কিন্তু আমাদের বেলায় শূন্য থালায় পাতা দেবে কে ?
রাই : তুই এসব কথা আমাকে বলছিস কেনো ? এসব বলার জন্য ফোন করেছিস ? এরকম বললে কিন্তু আমি ফোন রেখে দেবো অযথা সময় নেই আমার কাছে।
অভি : কাটিসনা সরি আমার অগাধ সময় পড়ে আছে যে তাই বলছি এসব। আমি তো আপনার কথা ভুলে গেছিলাম।
রাই : তুই চুপ কর তো শুধু আলফাল ফাউ বকছিস।
অভি: নানা শুধু ভাঁড় বলছি না এগুলো তো সব সত্যি।
রাই : দেখ তুই বলবি নাকি আজীবনের মত বকবক করবি আমি কিন্তু ফোনটা কেটে....
অভি : নানা ধর। বলছি
রাই : বলুন মশাই
অভি: আমি কিন্তু কিছু ক্ষতিপূরণ চাইতে ফোনটা করেছি। তোর পেছনে ঘোরা, ফোন করা, সাহায্য করা, আড্ডা মারা, শতাধিক লেখা, কাটানো সময় এর চাহিদা এখন আমার কাছে অনেক। ফেরত দিয়ে দে দেখি পায়সাগুলো, কাগজগুলো, হাতখরচগুলো, পাকামো কথাগুলো, পাঠানো কবিতাগুচ্ছ। পারবিওনা দিতে আর সবার মত তোর দুই দিনের জীবন থেকে মুছতে।
রাই : এসব কি যে বলছিস না আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তবুও যাই বল আমি কিন্তু তোর বেশি কিছু করিনি যা করেছিস তুই করেছিস তোর ব্যাপার।
অভি : আরে তুই কিনা সব বুঝিস শুধু মুখ ফুটে বলছিস না ভঙ্গিমা করছিস। প্রিয় চলন্তিকা অবন্তিকা, এমনকি এটাও আমার দেওয়া পছন্দের ডাকনাম। একটা ছেলের ভালবাসা জীবনে বুঝতে পারবিনা আবার সে যদি লেখক হয় কতই গভীরতা দিয়ে ভালবাসে। সব লেখায়, চিন্তায়, অনুভবে তোকে মাথায় রেখে বা তোর উপরে লুকিয়ে লিখি। আমার লেখা পড়ার সুন্দর চাকরির জীবনের হাতছানি এড়িয়ে তোকে সময় দিয়েছিলাম আর তুই মূল্যই দিসনা।
রাই : আমার পেছনে তোকে কে পড়েতে বলেছিল আমি তো বলিনি। তোর জীবন ক্ষতি করতে আমি তো বলিনি।
অভি : কিন্তু তোর প্রথম কথা আর মিষ্টি হাসিমুখে ভালোবাসা আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল তাই ছাড়তে পারিনি আর তুইও প্রথমে কিন্তু সাক্ষী ছিলিস এখন যতই এড়িয়ে যা। মনে রাখবি তোর চেয়ে আমার জীবনে সুযোগ একটু বেশি ছিল। আমি সেরা ছিলাম আর এখন আমাকে পেরিয়ে তুই সেরা।
রাই : এসব বাদ দে এখন আমার আর সময় নেই আর ফোন মেসেজ কিচ্ছু করতে হবেনা।
অভি : করতে পারব কোথায় ব্ল্যাকলিস্টে তো পড়েই যাবো এখুনি। এরপর হাজারো কল ব্যস্ত লাখো মেসেজ বিন পৌঁছে আটকে। তোর আমার মধ্যে ক্ষণিক দুরত্ব হবে মাইল ছড়িয়ে। আর হবেনা কথা হয়ওনি তো বহুযুগ দেখা । রাখলাম রে বেশি বকাব না বলবো শুধু একবার আমার বা আমাদের ছেলের জায়গায় আয় বা বসে দেখ আমরা শুধু কাজ আর ইনকামে ব্যস্ত হইনাই, ভালবাসি আমরাও।
বিবাহিত জুটির আদুরে নোখঝোকের গল্প
রণ : শুনছো তুমি !
মহিমা : হ্যাঁ, তুমিই তো খালি বলে যাও, শুধুই শুনিতো আমি । তুমি যদি বলো আজীবন তাহলে আমি আর বলবো কই ? কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো, অনেক কাজ আছে আমার।
রণ : ধুত তেরি যাও তো কিচ্ছু বলবনা তোমায়। কাজের চাপ সেরে কই মিনিট খানিক বিশ্রাম পেলাম, সামান্য মুড বানালাম, ভেস্তে দিলে তুমি সব। কাজের নামকে দোহাই দাও, কি মহান সত্যবাদী তুমি !
মহিমা : তবুওতো তোমার কাজ তোমার জীবনকে সময় দিচ্ছে কিন্তু আমার আর সময় কই । আজ রাতে শুইলে কাল দিনের জন্য চিন্তায় খাড়া হয়ে যাই।
রণ : তা বলে বৈবাহিক জীবনকে সময় দেবেনা। কাজ তো সকলের জীবনে থাকে । কিন্তু দুই শরীরে আলিঙ্গনে কি যে তৃপ্তি সে কাজ শেষে বোঝা যায়।
মহিমা : তোমার দায়ভার কম তো তুমি এসব উপন্যাসিক কথা বলতে সময় পাও তো বেশ। যদি বিয়ে এতই গুরুত্বপূর্ণ তাহলে কাজ পয়সা তার পিছু টানে কেনো ? নতুন বিয়ের জন্য দুই ক্ষণিক বিশ্রাম নিলেনা কই ?
রণ : জন্ম মৃত্যুর মত মানুষ বিয়েকে একটা জীবনের অঙ্গ ভাবতে শুরু করেছে আলাদা কাজ কোনো প্রকারেই নয়ই। তাই এর পেছনে বা এর মূলে যে মানুষটা থাকে তাকেও সময় দেওয়া হয়না, তাকে যে দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ মানে, আলাদা করে আলাদা বাড়ির মেয়ে হিসেবে নয়।
মহিমা : যদি এতই নিজের ভাবে তাহলে অত্যাচার ঝগড়া বিচ্ছেদ কেনো এখন এত ?
রণ : দোষটা আকর্ষণের ! নিজেরটাকে বুকে জড়িয়ে মানিয়ে শিখিয়ে খাইয়ে না নিয়ে শুধু পরেরটার দিকে তাকিয়ে। আদেউ সে ভালো না খারাপ না চলবে কে জানে? বাইরের নজর থেকে দেখে ভেতরে উঁকি না মেরেই ছেড়ে দেয় নোকঝোক না করেই । কিন্তু যাকে ছেড়েছে তাকে হালকাতেই বিচার করে। সামান্য আবদারের নমুনা দুই পক্ষই তুলনা করে। সত্যিই যে কি পাই হাজারটা সম্পর্কে জড়িয়ে ?
মহিমা : বলছো কি আমাকে ?
রণ : এ ভুল বাপের জন্মেও করব না এমন।
মহিমা : তাহলে তোমার মতে দিন চলতি রাত গুনতি সম্পর্ক কি ?
রণ : বেশি কিছুই নয় প্রথমে তো হতেই হবে মানুষ দুটো সাধারণ। বেশিরভাগ অসাধারণ বা কম সাধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। তারপর হতে হবে বিশ্বাসিতা। কপালে বন্দুক ঠেকলেও দুজনার হাত শক্ত মরবো তো দুজনেই নয়তো কেউই নয়, রণক্ষেত্র ছেড়ে পালাবেনা কেউই। এর মাঝে খোলাখুলি। সে যদি খুলে তোমাকেও খুলতে হবে, গোপনের কোনো লাভ নেই, ভালোমন্দের স্বাদ নেই। অতীতের কিছু গল্প কিংবা বর্তমানের পথচলতি ধাক্কা সমন্ধে বলে দেওয়াই ভালো। এর পরেই সহযোগিতা। আজ তোমার থাকতে পারে কাল তার নাও থাকতে পারে, তা বলে ছেড়ে চলে যাওয়া কোনো পথ নয়। অবশেষে মানবতা। পাশুরাই তো মারপিট হিংসা করে বেশি তাহলে আমরা মানুষেরা জ্ঞান থাকা স্বত্বেও কেনো নকল করব ?
মহিমা : কি সুন্দর বললে তুমি ভাগ্যিস আমার বাবা মার সঙ্গে এমন কথা বলতে !
রণ : কেনো আমি যা বলেছি তোমার সঙ্গে করিনা, সিনেমা একসঙ্গে দেখিনা ! আজব সব পাবলিক।
মহিমা : ভালো করে শোনো আমি কথা বলছি আমার আত্মীয় স্বজন এর কথা..
রণ : বাদ দাও এসব কথা এখন। আমাকে অনেক ঘুম পেয়েছে আলো নিভিয়ে টিভি বন্ধ করে শুয়ে পড়ো দেখি। দেরি হয়ে যাচ্ছে।
মহিমা : ঢঙ ! মরে যাই ! শশুর বাড়ির কথা বললে নয় কাজ নয় ঘুম। ধুর ছাই আমার ভালো লাগেনা।
ভালবাসার মানুষদের গল্প ( মেসেজে দুজনের মধ্যে কথপোকথনের গল্প একজন ভক্ত একজন নায়িকা )
রিমি : হাই ! আপনি কে মশাই বলুন তো ?
লাগাতার এত দিন ধরে মেসেজ করেছেন আজ বিরক্তই হয়ে আপনার প্রোফাইল খুললাম আর আপনার সমন্ধে জানতে পারলাম।
অভি : নমস্কার! আমার নাম অভি। একজন খুবই সাধারণ উঠতি আর ক্রমশ পথচলতি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। এই সবে শুরু করেছি কিন্তু আপনার মত নায়িকার রূপ গুণে যেন একটা প্রেমে পড়ে গেছি মনোভাব দেখা দিচ্ছে।
রিমি : আপনি কিই যে বলেন না। তাহলে এত এত মেসেজ করেছেন এত কিছু পাঠিয়েছেন আর আমাকে নিয়ে এত লিখেছেন ট্যাগ করেছেন ভিডিও বানিয়েছেন আমার কণ্ঠ ব্যবহার করেছেন...এর কারণটা আমার এখনো মাথায় ঢুকেনি । আপনি আসলে চাইছেন কি ?
অভি : আপনার ভালবাসা...নানা মানে আমিও যে কি ভুল বলছি আসলে আপনার রিপ্লাই দেখে ঘাবড়ে গিয়েছি যে আপনিও আমাকে ঘুরে মেসেজ করতে পারেন। আমি আপনার খুব খুব বিগ ফ্যান আর একটু পছন্দের। এতটাই যে বয়স মেপে দেখে নিয়েছি প্রায়ই সমানের কাছাকাছি। উচ্চতাটাও খুব ফারাক নয়। এত মিল কোথায় পাওয়া যায় ? তুমি আমার সাখিনী নয় ?পছন্দের তালিকার মিলটাও বেশ লম্বা দেখতে পাচ্ছি ।তাই আপনাকি তুমি বলারও সাহস যুগিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে দেখা হতেও পারে আমার বিশ্বাস আর আশা জুগাচ্ছি আর দিনে দিনে আশ্বাসে মরছি।
রিমি : কিন্তু আমি 'তুমি' বলতে পারব না। তাছাড়া আপনিকি আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য এমন কর্মকান্ড করেছেন ?
অভি : শুধু কথা নয় দেখা এবং তারপর একসঙ্গে রয়ে যাওয়ার কতই যে স্বপ্ন দেখেছি আর কি বলব...তারপর..
রিমি : নানা আর মনস্কামনা ব্যাপ্ত করতে হবেনা আপনিই নিজের কাছে রাখুন আর নিজের দুনিয়ায় থাকুন। আপনি একটু বেশীই চাইছেন না ?
অভি : আর জানি আমাদের মত গরীব, না জানা নাম, কম ফলোয়ার মানুষদের কেউই পছন্দ করেনা । আমাদের গাঁইয়ার পোলার কপালে কি আর শহরী মাইয়া জুটে ?
রিমি : এসব ভ্যাচকানি কথা রাখুন বাপু। আমার সঙ্গে কথা বলবে বলছিলেন হয়ে গেছে এবার তাহলে আমার কাজ আর আপনার সখ উভয়ই খতম এবার টাইপিং করে মেসেজ বন্ধ করে ফোনটা রাখি ?
অভি : নানা। আপনিও পারেন আমার প্রথম কথা ভুলে গেছেন মনে হয় আমি লেখালিখি করি আরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটার আমি । আমার কন্টেন্ট সমন্ধে কিছু বলুন।
রিমি: মানে আপনি নিজের সমন্ধে তারিফযোগ্য কিছু শুনতে চাইছেন ?
অভি ; বেশ হেঁয়ালি তো করতে পারেন দেখছি। প্লীজ বলুন না কিরকম একবার আমার কলিজাটাও শান্তি পাবে আর আপনার ভিডিওটাও স্বার্থক হবে লেখাগুলো সমন্ধে তো আপনি বলতে পারবেন না।
রিমি: আমার প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন... বেশ! দেখুন ভায়া আমি কিন্তু আপনি না বললেও অপনার বলার আগে দেখেছি ইমপ্রুভ করতে হবে খারাপ নয় অতটাও। এখনকার সমন্ধে লেখেন আর আমার ছবি ভিডিও ব্যবহার করেন কিন্তু বেশ খাসা কাজে লাগিয়েছেন আমি কিন্তু এমন কাজ কল্পনাও করতে পারিনা যে এমনও সম্ভব হয় ?
অভি : হয় হয় একেই বলে বুদ্ধি আর আপনি কিন্তু আমাকে ছোট করলেন ভাই বলে আমি আপনাকে পছন্দ করি আর আপনি আমার বিশ্বাসে জল ঢাললেন।
অভি : দেখুন এরকম কথা আমাকে রোজ হাজার হাজার লোক ডিএম করে আমি খুলেও দেখিনা ভগবানকে বলবেন যে আপনি ভাগ্যবান। এসব কথা আমার শোনা এগুলো বলে ব্ল্যাকমেইল করবেন না প্রিয় ”ভায়া”
অভি : এবার আমাকে পর করে দিলেন। যদিওবা আপনার কথার দর আছে সত্যিই তো টিক মার্ক করা অ্যাকাউন্ট রিপ্লাই পাওয়াটা মন্দ বা সহজ কথা নয় আর আপনাকেও ধন্যবাদ এত সুন্দর কাজ দেওয়ার জন্য আর আমাদের ছবি ভিডিও দেওয়ার জন্য আর আপনি যতই ভায়া বানান আমি কিন্তু আপনাকে মনে প্রাণে আজীবন ভালবাসতে থাকবো সে আপনি একসেপ্ট করেন কি না করেন।
রিমি : কথাগুলো মজার ছলে নিবেন সিরিয়াসলি নিয়ে কিছু মনে করবেন না ।
অভি : নানা একদমই না ধন্যবাদ আপনাকে এতটা সময় দেওয়ার জন্য। পর্দার মানুষের সঙ্গে কথা বলাটাও একটা পুণ্যের ফল।
রিমি: হ্যাঁ আমার শট এর ডাক এসে গেছে একটু বিরতি পেয়েছিলাম তাই কথা বললাম চললাম এখন।
অভি: ওকে। পরেকি কথা হবে আর ?....জানি এর আর রিপ্লাই আসবে না..তবুও একটা লেখা লিখে ছাড়ি যদি পড়ে আমার লেখা বা কাজের একটা নামুনাই দিয়ে দিই...
রঙ্গবতি রুপধারিণীর সঙ্গকারী মন
যখন তুমি মানবে নাকো কারণ
আমিও শুনবো না ততক্ষণ
বাসবো ভালো এমনিই
ওতো কারো শুনছিনাকো বারন