ঠিক সময়মতো জুগিয়ে রাখতাম
খেলে পড়া–লেখা ছড়া
যদি এত কিছুতে মন না দিয়ে
একটা বান্ধবী বানিয়ে রাখতাম
কি ! ভালো হতো না ?
সৃষ্টির ওপর–কটুক দৃষ্টি
যদি এরওর পেছনে সময় না দিয়ে
একটা সান্ধবী জুগিয়ে রাখতাম
কাজটা ! বিফল যেতো না
বিনা ঘুরেফিরে–শুধু ঘরেবসে
যদি এভাবে না ভাবতাম রে
একটা সঙ্গিনী জুটত নিশ্চয়
হিসাবটা ! নষ্ট করতো না
ভাবে ভেবে–স্বপ্নে রেগেমেগে
যদি এসব একটু ফেলে রেখে
একটা আদরিণী পটাতাম গো
একাকিটা ! খুলতো মিলতো না
এড়িয়ে হাতধরে–জড়িয়ে বুকেধরে
যদি সবার সামনে এমন দেখতাম না যে
একটা মায়াবিনীকে আগলে রেখেছি
সত্যিটা ! কেউ জানতোই না
এদিক ওদিক তাকিয়ে–অপরেরটা লোভদিয়ে
যদি নিজের এমন তৈরী করে সবে দেখাতাম রে
তাহলে আমার দুঃখিনী হৃদয়ে আঘাত হানতোনা
ব্যাপারটা ! বেশি ছড়াতো না
আমাদের জুটিকে না তাকিয়ে পারতই না।
থেকে যাবো আমিই
সেটা মানি নাই
থাকবে যে তুমি
যেন জানি আমি
নাহলে
একা আকেলাই
দাঁড়িয়ে চলে যাবে...
কেউ কি জানবে
কেউ কি চিনবে
কেউ কিছু বলবে ?
আমি যে আসছি
এলে দেখতে পাবে
যদি যাই চলে
নাদেখলে কিকরে বুঝবে...
আমি ছিলাম কিনা ?
দেখবে তখন
কেবল থেকে যাবো
দাঁড়িয়ে আমি একাই
জানিয়ে রইয়ো তুমি
চিনে যাবো আমি
তোমার হাত নাড়াতে
খোলা চোখের ইশারাতে
ঠোঁটের হাসি মেটাতে
মনে হচ্ছে ভাবছি
কিন্তু এতকিছু হবেক নাই
শেষে যখন যাবো
তখন খালিচোখে দেখব
দাঁড়িয়ে আছি একা একলাই
কারণ থেকে যাবো একা আমিই
তারোকি ভাল্লাগে ?
তোমাকে দেখলে পরে
তারপর ঘর এলে
শরীরে কেমন যেনো
উষ্ণতা বয়ে
পাগলা হয়ে যাই
জানিনা বুঝিনা কেনো
খালি খোকলা পেয়ে
একলা হয়ে রই
আমার কিন্তু
দিন চলে এরকম
খামখেয়ালীপনা..
পাওয়ার কি মজা ?
যতটা না দেয় যন্ত্রণা
হেসেখেলে জীবন চলেগেলে
মনে রাখে কয়জনা ?
তারোকি প্রেমে ধরে
বুকেতে হাতরেখে
জামাতে ঘ্রাণ নিয়ে
বিশ্বাসে তোমাকে
বলো দেখি
করতে কি এরকম
প্রতিটা মেয়ের
ভাল্লাগে ?
যেতে দাওনা কোথাও
বাধা দিয়ে ঘেরাও
না মিশলে পরে
জানব কেমনে
দুনিয়ার দামদর।
বেরাই তো ঐটুকু
বার থেকে ঘর।
ওরানাকি বলে,
প্রচার করে,
সন্দেহ করিনা
যাই চলে সারাদিন ছেড়া
দেখি সেই তোমরাই বলো
কতটা ঘুরে বেড়াই মোরা।
বন্দী ঘরে আমি নিজ একারে
কূটনীতিক
দোষটা শুধু মেয়েদেরই নয়
ভাগিদার কিছু মায়েরাও থাকে
সাধে গৃহস্থ হয়ে যায়না অজাতশত্রু
কাজেই বন্দুকের নল নিজদের দিকে।
যদিওবা সারাদিন একাকীত্বর খবরাখবর নেয়
তবুও পরিস্থিতি একাকে লড়তে দেওয়া উচিত
অনুশীলন কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুমান শেখায়
বাস্তবিকতায় ফারাক, চোখকে বিশ্বাস করিয়ে ছাড়ুক
জুটির গল্পসঙ্গী কিছু ঘরের উজাড় ভঙ্গি
কূটনীতিক প্রচারে ঢাল ঘোরায় নিজেদের সঙ্গী
টালমোটোল সংসার তো বিচ্ছেদে পরিণতি
ভাঙ্গে কষ্ট ভাবে দুষ্ট প্রত্যেকের প্রতি
খুঁটি গেড়ে বসে গিয়ে, খুঁটটা দেয়না ধরে
বেয়ানকে গায় জড়িয়ে পরনিন্দা সারে
জামাই কে কামাই এর রূপ মনে করে
ছেলে হিসেবে আদর করে তোলেকি ঘরে ?
দিনরাত ফোনকল যেন তৎখনাৎ দমকল
মুহূর্তে হাজিরা কেমন অল্পতে চিরচিড়া
গল্পের ফল অদ্ভুত জল্পনায় জল
খরচে মেয়েঘরে উহু ঘায়েতে মলম ধরে
ভালবাসা মরেইছে
মানুষটা আর যায়নি
কেবল সে আর তার ভালবাসা চলে গেছে
আয়দিন যায়দিন মনে পড়ে তাকে
ভাবি আমাকে নাহয় ছেড়েছে সে
কিন্তু তাকে কে ? একা রেখে বিদায় জানিয়েছে ?
জানোনা তুমি হয়তো
একদিন দেখতে পাবে
চলে যাওয়ায় পর লিখে লিখে
অভিলাষ খাতায় কত কেঁদে ভরাবে ?
একজনের দুঃখে আধুনিক দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে
কে তার আগের প্রিয়সী নিয়ে এত লিখতে পারবে ?
চলে গেলেও কি মিটে যায়
ঢেকে যায় দিনেরদিন কাজকর্ম
একদিন যেকিনা জড়িয়ে শুতো খাটজুড়ে
একাকী আছে পড়ে চারপাশে লোকঘিরে
কে তাকে প্রশ্ন করে উপুড় খেয়ে কোনদিকে ?
বালিশ ঠেলে জড়িয়ে ধরে মাঝামাঝির ভঙ্গিতে
চোখ আজ ঢাকা, মুখের শব্দখানা চুপ
চনমনে হঠাৎ কেনো শান্ত, বলতে পারো ?
হাতপা থেকে শরীর একদম সোজা
নিশ্বাস একেবারে শেষ, বুকের ওঠানামা স্তব্ধ
গোটা পাড়াদের যেভাবে খিলখিলিয়ে রাখত, তারা মুখবন্ধ
যারা আলাদা করেছিল তারা বলছে এখন, একসঙ্গে থাকলে ভালোহতো
এদেরকে কিছু না বললে, জড়িয়ে রাখলে, জীবনটা ঠিক যেতো
মিলেমিশে এরা কমচলতি হলেও, নিজেদের মানিয়ে সংসার গড়ে তুলে গুছত
আজ একজন চলে গেলো, কালথেকে অপরজন দুঃখে না দিন কাটাত ?
বেঁচে দাঁড়িয়ে আছি আমি, সামনে শুয়ে মৃত ভালোবাসা
তুমি যদি চলন্তিকা অবন্তিকা হতে আজ হতাম আমি অভিলাষা
দিন চলে যায় মিটে যায় রাতের খেপ, তুমি কিন্তু যাও আসোনা আর ফিরে
এরকম কেনো ? বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল মানুষ মরে ? ভালোবাসো গুলো ক্রমশ শেষ হয়ে যায়না ?...
মনে লাগার চাহিদা
ভালো মেয়ে কমে যাচ্ছে।
তা নয়
মনেরমত না লাগার চাহিদা
দেখা দিচ্ছে... ঠিক !
কোন যুগে রূপশ্রী চলে যাওয়ার
সংকট হয়?
বাছা হয়ে হয়তো আধারী আবছা
করে রয়
তা বলে শেষ হওয়ার আগের
উপক্ষন নয়
সবাই বলে শেষ শেষ
হয়ে গেছে নিঃশেষ
তাহলে যে এত
হাত বাড়িয়ে পেয়ে যায়
তারা কোথায় লুকিয়ে থায় ?
আসলে তোমরাই খুঁজনি
মায়াবী জগৎটাকে ঠিকমতো বোঝোনি
ভগবান সবকিছু রাখে হাতের মধ্যে
কিন্তু কু শব্দটাও করবেনি
আবার তোমরা খালি রূপ দেখো
না মুখের গড়ন
না কথার চালচলন
তাই শেষে ঠকে নিঃস্ব হয়ে রও
যখন সংসার ভেঙে দুটুকরো হয়
মন এমন একটা জিনিস না
অল্পতে সন্তুষ্ট হয়ে যায়
আর গল্পতে হার মেনে যায়
তাই একে অপেক্ষা করানো উচিত
সঠিক রাস্তা দেখানো, বাতলানো অনুচিত
নিজে থেকেই জেনে যাক
বৃষ্টিতে হুড়োহুড়ি
ছোটাছুটি গোটাগুটি
বিড়ালেতে লুটোপুটি
এসেছে ঘন বরসে
দিয়েছে মুখ, ফুক দুটো চরসে
কেনো যে এসেছ মোর বাসরে
রেখেছো হাত, যেনো খালি আসরে
লোটালুটি পটাপটি
মানুষেতে খোটাখুঁটি
কেমনে এত নিরসে ?
ঝাড়িয়েছো কত শ্রম নির্যাসে
বসো না দুই ক্ষণ আরামে
কামাই কি ভালো লাগে হারামে
বেলাবুলি ঠেলাঠুলি
রোদ দেখে মেলামিলি
তাড়াহুড়োতে তোলাতুলি
গরমের উষ্ণতায় রেহাই পেয়ে
মিশিয়ে দিয়েছি বৃষ্টি তোমার গায়ে
কেমন লাগে চড়কা ? খোলামেলা হাওয়াতে
পিচ্ছল থেকে হড়কা ? পথচলা রাস্তাঘাটে
আটাআটি শাটাশাটি
মাঠেতে সব মাতামাতি
চলু খেলা রাতারাতি
এটা যদিওবা একটু বাড়াবাড়ি
দরকার নেই বেশি মারামারি
অল্পতে চলুক এলোপাথাড়ি
তারপর হবে হারজিত কাড়াকাড়ি
জোটাজুটি মোটামুটি
হাতিয়ে নেবো চটপটি
হারানোর কারো জো নেই
অন্ধকারে খোঁজার চোখের শক্তি নেই
সবাই বেরোয় আমাকে দেখেই
জানবে আম কিবা জাম পড়েছে বাড়িঘরদোরেই
এভাবেই তো বৃষ্টি এনে তোমাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি করাই
আদেখলা
ভালো ছেলেরা
মেয়েদের পেছনে ছোটেনা বলে
কতোই সুন্দরী হাতছাড়া হয় ।
তাদের হাতের মধ্যে থেকে...
অবশেষে নেয় বলে
বাদবাকি বাছবাচতি হয়ে
কাটাছাটা পড়ে রয়।
শেষে মেয়েরা ভোগে
আপসোস করে
সুযোগ হাতছাড়া যেয়ে
অন্যদিকে ভালোরা কিন্তু সুখে কাটায়
রূপশ্রীদের আকর্ষনের উপেক্ষা সেরে
সবাইকে নাদেখে যে বিয়ে সারো
জানো কত ভালো আড়াল হয়
লোফারদের অঙ্গভঙ্গির আঙ্গিকে
অদেখলা আজকাল ঘরে পড়ে রয়
জিমকরা বডিওয়ালা বেরায় বলে
পরকেপর স্থুল, রোগা পরিশ্রম করে
মেয়েদের কাছে চমকাতে গিয়ে
সংসারটাকে ভিখারী করে ছাড়ে
যে ছেলে নিজেকে তৈরীতে মত্ত
তাকে বাকিজনের কথা ভাবতে হয়না।
যারে তাকাতে সামনে থেকে ঘাড়ঘুরে পেছনে যায়
তাদেরও পরের দরের কাছে হাত মাগতে হয়।
লোকের মেয়েকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়
তাহলে বলো মোদের কি দোষ খোঁট রয় ?
কেউ না কেউ ছিল
বলতে পারিনি
জানো আজও পারিনি
ভুলতে তোমাকে।
যদিওবা
তুমি কেবল এক নয়
ছিলে একাধিক ।
শুরুর দিকে
কম ছিলে সংখ্যাতে
পরেতে বেড়ে গেলে
দেখি হাতেগোনাতে
সবে যখন
স্কুলের পথে
আটকে গেল চোখে
এক দেখাতে
তবে থেকে তুমি আমার হলে
জন্ম জন্মান্তরের ভিত্তিতে
আমারই মনে মনে.. গোপনে
বয়সটা যখন সংখ্যায় এগোলো
মনটা বাচ্চা থেকে যৌবনে পরিণত হলো
তাকিয়ে দেখি তোমার আমার মাঝে
কেউ বাঁধ দিলো
ওলাউঠা মনও ফাঁকি মেরে পালিয়ে গেলো
খুঁজতে অন্যকে
যদিওবা ফিরে পেল
না দেখি অন্য আরেকজনকে খুঁজে নিল
জোড় বাঁধতে, মেটাতে পুরোনো কাটা ঘায়ে
তারপরেতে স্কুল বদলি হলো
দেখি ভালোবাসাটা বদলে গেলো
কেমনে ভুলিয়ে দিলো তোমার কথা
যেই গেলো নজর বান্ধবী জুটিতে
অমনি মনটাও গেলো ফস্কিয়ে
তাদের মাঝে জায়গা পেয়ে বসে পড়লো।
কিন্তু আবার যখন
পড়াশুনা, বিরতির পর শেষ হলো
দেখি মন বেটাও নতুন করে পেয়ে গেলো
তবে এবার একটু বাড় বাড়িয়ে
দেখিনা দরটা দিয়েছে বেশ হাঁকিয়ে
খানিকটা খুঁজেছে মন্দবেশ
বাকিটা হিসাবের বাইরে চরিত্রের আবেশ
চোখেদেখা ছড়িয়ে একেবারে অনলাইনে
জানিনা বসত করে কোনখানে
কিন্তু মাইরি আজপর্যন্ত সবার চাইতে ভালো ছিল
দেখে দেখে দুইখানা হীরা খুঁজে পাইল
যেমন রূপ তেমন মুখের গড়ন
শান্ত ভাবের রুপছলকি আস্ফালন।
এর পরেও একজন এসেছিল
কিছুদিন আসেপাশে কাছে বসেছিল
সুযোগ হাতের মধ্যে ছিল
শেষে দেখি ধোঁকা দিয়ে চলেগেলো
আমি নাকি তার যোগ্য নয় বলেছিল
যতই তোমরা আসক আমার যৌবনে
আমি কিন্তু ঠিক চক্ষে চক্ষে
খুঁজে নিয়েছি এর মাঝখানে
না তোমাদের মত তার রূপের যৌবন ছিল
না তোমাদের মত তার সুন্দর কাটের মুখের গড়ন ছিল
শুধু মিলিয়ে ছিল আমার চাহিদা
যদিওবা এতকিছুর মাঝে সত্যিই একটা প্রেম যুগাচ্ছিল
এখন মনেহয়
কেউ একটা দূরে সংসার বাঁধতে চাইছিল
আমার স্বপ্নের মধ্যে আসছিল
আমার সঙ্গে খুশি ভালো ছিল
সে এমনি এমনি যৌনসঙ্গী মৌনভঙ্গি হিসেবে রাজি ছিল
কিন্তু তাকে আমি ঠুকরে দিয়েছিলাম
কারণ আমার কাছেনা একটুও সময় ছিল
ক্ষোভটা যদিবা রয়ে গেলো
যে বলতে পারিনি
শুধু
ফার্স্ট হওয়ার জন্য
লেখকের জন্য
ভালোর জন্য
আর আমার যদি সবাইকে দেখে হয়ে যায়
বলোতো আসলে আমার কে ছিল
কেউ না কেউতো ছিল
কেনো আমিওতো একটা মানুষ
আমারও সম্পর্ক গড়তে ভালো লাগেনা ?
কেনো আমারও তো মন আছে
মায়াজালে বিঁধতে আমার সাধ্যে কুলোবেনা ?
আরে
রোজ রোজ দেখি আশপাশ একেওকে
দূর থেকে কাছের সবার জীবনে এমন ছাপ আছে
আমারও কি মারতে ভালো লাগেনা ?
বন্ধু....হায়রে মন
লুকোও নাহয় দেখাও
থাকতে পারে তোমার কাছে
এতে দেখানোর কি দরকার আছে ?
বলো বাপু, আমি তো কিছু জানিনা
আর আমিতো কিছু বুঝিনা এসব
লোকে বলে
এটা নাকি দেখালেই বেশি লোক আসে
একে দেখতেই চোখের সামনে বানভাসে
না দেখালে লোকে বুঝবে না
না জানালে লোক ঘুরে তাকাবেনা
জনপ্রিয়টা ছড়ায় আয়ত্বের বাইরে
সবাই তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে
দাঁড়িয়ে থাকতে পারে বহুত সময়
নাহয় সঙ্গে সঙ্গে না পেলেও
কিছুক্ষন হলেও তো অপেক্ষা সারে
এইরকম করে নাকি
পছন্দ, মূল্য, বক্তব্য, অনুগামী বাড়ে ?
ছোটো বড় সবার পছন্দ ভিত্তি করে
রোগা পটকা মোটা এরই ভেতরে
খরচে অনেক, যখন জ্বালা যন্ত্রনা মেটেনা
অন্যের আশ্রয়ে নিজেরটা যেহুতু কুলোয়না
কী এমন জিনিস এটা ?
বুঝে দেখো অপরের গুরুত্বটা
প্রত্যেকটি সৃষ্টির কারণ থাকে
লোক নিজের করেই আঁকেবাঁকে
লোভ যাদের ঠোঁট কামড়ায়
স্বাদের তরে মুখ কাতরায়
লালা একেবারে জিভের গোড়ায়
মানুষ তাদের ঠিকই লেকা বাতলায়
অদরকারি
এতোটাই অজুহাত
বানিয়েছো তুমি আমায়
যে দরকারে সরকারি
খুশিতে অদরকারি ?
দেখবে কতটা কষ্ট লাগে
সব কাজে বাড়াবাড়ি,
দিনরাত সব আমি করি
মজুত যায় অন্যের কাছে
কেমনে নিয়ে করো কাড়াকাড়ি
সারাদিন খেটে মরি
বাড়াভাত করি চুরি
রোজগার হাতে তুলে
তোমার পেছনে ঘুরি
শেষেই
নিজের পেট কেটেই ধরি
দেখো কি আছে তরি তরকারি
লুকিয়ে যদি আমি খাই
তুমি কেনো শুয়ে আড়াআড়ি
হারিয়ে যাই কোথায়
দাঁড়িয়ে সেই হেথায়
শুধু কেউ দেখেনি
বাকি সেউ বুঝেনি
এমন কি সংঘাত
বলে যে বজ্জাত
মুখ সামনে কথা বলো
আবার কি দরকার হলো ?
জানো ! কাঁদি আমরাও !
ভ্যালভ্যালে যে,
তাকিয়ে থাকো
দেখিনা একবারটি
ভেবে দেখো..
কেমন হতে পারে
বিচ্ছেদের
মোদেরও যন্ত্রনা ?
তোমরা নাহয়
নেশায় ভোলো
তাহলে মোদেরকি
বেঁচেই বলো
শুধুই কি মন্ত্রণা ?
নিভৃত নিবাসে
কাটাই যে মোরা
জানান দিয়না
কাউকে কোনোকিছুতেই।
তোমরা সেখানে
একটুকুতে মেলে ধরো
ছেলে হয়ে
বাকিদের কাছে
সহানুভূতি কুড়োতে
মোদের মেয়েদের নামে
কতোই না মিথ্যে বলো ?
ভেবে দেখো....
দেখি লিখেতো অনেকে
ছেলে হোক মেয়েরা
কিন্তু মোদের হয়ে কারা
এবং গোটাকয়েক কটা ?
তাহলে সম্পর্কে কি জড়াও
তোমরা একাএকা ?
হয়না কোনো জুটির
সঙ্গ থাকা ?
এবারে মেয়েদের জন্য দেখি
লিখে ফেলো
কিইবা জানো মোদের নামে
ভেবে বলো
জেনে রাখো এটা
এখন ভালো হবে
পরে কাজে লাগবে।
পাগল হয়ে কাঁদি কেবল মোরা
চলেনা তোমাদের ছাড়া
যেরকম আমাদের সাহারা।
হে আনমনা চিরদিনা
চলেনা মনের দোটানা
নিজেকে নিজেই ঘিরে।
যারা চিৎকার করেনা
বলে তোমাদেরকে চলবেনা
ঘুরে তাকিয়ে দেখো তারা
কান দিয়েছে দোরে।
তোমরা যেমন প্রতিশোধে
ভালোকিছু করে এগিয়েও যাও
পারিনা আমরা কিছুতেই।
সইতে সইতে যখন
সহ্য হারিয়ে ফেলি
মরণ বেছে নিয় তক্ষুনিই ।
কিন্তু যাদের হয়ে করি মোরা
দেখিনা তারা ফুর্তি করে
অন্য কারুর হাত ধরা ।
তোমরা বাপু ভালো
এগিয়ে চলো জীবনেই
অন্য কাউকে পটিয়ে ফেলে
ভুলভালিয়ে সবকিছু ছেড়া ।
রেস্তোরাঁ
চলো রাই ! ঘুরতে যাই
দুজনায় আজ খেয়েই আসি
তোমার মনপসন্দ রেস্তোরাঁতে
বিলটা কিন্তু আজ ভাগভাগি হবে
অর্ধেক তোমার, বাকিটা আমার খাতে
নামটা যাই ধরলাম
লাফিয়ে উঠলে ছটপটানিতে
চিৎকার করলে আনন্দেতে
জড়িয়ে বুকে মনেপ্রানেতে
কিন্তু যেইনা এলাম এখানে
দেখি তুমি ঘুরছ চারদিকে
খুঁজছ তুমি কাকেই এত ?
নজর তোমার আমায় বাদে কোনদিকে ?
নিয়ে এসেছে তোমায় এখানে, অন্যকে ?
অর্ডারটা দিয়ে দাও দেখি
তোমার পছন্দটাও আজ আমিও চাখি
কেমন তোমার বাছবিচার, মজুত তৃপ্তির ভাণ্ডার
নজরে আমার এখন কোথায় স্থান তোমার ?
দেখলাম এখনও টিকে বজায় আছো তুমি
আমিও কিনা পারি, বেকার বেকার ছড়িয়েছে বদনামি
কিন্তু কিছুক্ষনেই ভুল প্রমাণ হলাম
স্বচক্ষে তোমার কর্মকান্ড দেখেই নিলাম
কতটা বাড় বেড়েছ খুল্লাম খুল্লা ছাড়ে
গণ্ডি পেরিয়ে হারিয়ে গেছো, আমার নজর এড়িয়ে
একটা জুটিই আসতেই তোমার ধ্যান তাদের দিকে
দেখাও আমায়, দেখো কত ভালবাসছে একে অন্যকে
আমি যে আমোদের মুহূর্ত কাটাতে আসছি, ভুলে গেলে ?
কেনো অমন ? অন্যের সংসারে আড়ি পাততেই লেগে গেলে
দোষারোপ করছ ভাগাভাগির, বিলটা আমাকেই নাকি দেওয়া দরকার
ভালবাসা কি একটু হলেও জানো ? বোঝো ? কেমন চলে সরকার ?
যারা একজন নিজেকে মহান ভাবে, অপরকে যত্ন করে আর দেখায় না ?
আসলে সে পরিপূরক কাঠপুতলি, তাকে শুধুই নাচায় কোনো দামদর দেয়না।
চাহনি এখন আমায় ছেড়ে তাদের দিকে
ঠিক এক বছর আগে এখানে, যেমন দেখে আমায় একাকে
সেটাও তোমার মনে নেই হয়তো
যেহুতু প্রতি বছর সঙ্গী পালটাও তোমার মনেরমতো
ছুটছ তুমি তার নম্বর চাইতে
ধুঁকছ একবার বসতে তার পাশে সঙ্গেতে
নুইছ তোমার শরীর দেখাতে
ঝুঁকছ আর লাফাচ্ছ তার নজরে আসতে
দেখে বুজলে, সেও তার সঙ্গীর বিশ্বস্ত ছিল
তোমার দিকে কেনো তাকায়নি একবারও ?
তখন তুমি ঘুরলে আমার দিকে
তুমিই জানোইনি বা জানার চেষ্টায় করনি
যে ভেতরে ভেতরে আমার হয়ে গেছিল বহুত ক্ষত
কিন্তু আমি তোমাকে বললাম না খুলে
ছদ্মবেশীর মত অভিনয় করতে লাগলাম তাই
কিন্তু সেদিন তুমি মনে দ্বিধা এনেছিলে
সম্পর্কের মায়াজালে বাধা দিয়েছিলে
হারিয়ে দিয়েছিলাম বিশ্বাস, কেউ এমনও হতেপারে
কলিযুগ বলে হয়তো অনেক কিছুই হয় ভাবনার বাইরে
মনে মনে বললাম,
আজ তুমি পছন্দ করো একে
কাল মনে লাগবে ভালো অন্যকে
ছাড়বে তুমি কত ? বাছবে তুমি কটা ?
জীবনে একটা সময় মেনে নিতেই হবে
নিজের করে মানাতে হয় তো কাউকে না কাউকে
বহুরূপী
হে দূর কিনারার শহরবাসি, আমায় ফিরে দেখাও হাসি।।
হে জন কয়েকের নামীদামী, তোমারও খবর রাখি আমি।।
হে হিংসকুটি কয়েকজনা, ঘুরে একবারটি তাকাও না।।
হে মানুষধরা পিশাচ–দানব, আলতো ভাবে শেখাও মতলব।।
হে আগলটানা সংসারী, হাতে–পায়ে জড়ানো মায়ার বেড়ি।।
হে খোলা দুনিয়ার অভাগী, আশেপাশে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বভাবী।।
হে যোগ্যতাহীন বন্ধুবান্ধব, রাখো তোমার পরামর্শের আদব।।
হে কাঙালখানার ভাগমাত্র, সরল ভাবে পাও খুঁজে নিজ গোত্র ।।
হে স্বল্পমেয়াদী ভাগীদার, আর কিছুতেই নেই তোমার ক্ষমতাভার।।
হে হাবাগোবা লাটসাহেব, কর্ম বিহিত এই দুনিয়ায় নেই আবেগ।।
হে কন্যাদানী পিতামাতা, এখন কার তুমি বটের ছাতা।।
হে চুপচাপ মায়েরা, আর কতদিন দেবে প্রতি জীবনের সাহারা।।
হে অবাস্তবের মানসচিত্র। পাও কি খুঁজে কোনো জিনিস, পবিত্র ??
হে ঘোমটাযুক্ত আমলাতন্ত্র, বিড়বিড় করো কিসের মন্ত্র ??
হে অনাভ্যাসি উদ্ভাবন, কিসের তরে নতজানুর আগমন ??
হে যথেচ্ছাচারের অরাজক, কেমনতর বাজাও বিশাল এ রনবাদক ??
হে বকবকানির অভিলাষ, পালটাও তোমার জ্ঞান ছাড়ানোর অভ্যাস।।
হে নিরামিষের আলুচচ্চরি, মায়ের সম্মান সবজায়গায় পাও মাইরি ??
হে সাদাভাতের ফেনা, জীবন শেষ করো কিন্তু রাখো না কারুর দেনা।।
হে রোজচলতি পথিক, আটকা করো পায়ের চলন আর বন্ধ করো পদাতিক।।
আমাকে কেউ দেখেনা
বলে নাকি
তুমি এমনিতেই এত সুন্দর
বেশি কিছু সেজোনা
ভাবছো সবাইকে সবাই তাকাচ্ছে
আমাকে কেউ দেখেনা ?
যারা বলে না,
শরীরের কিবা দরকার ?
আরে, এখন তো সবার কাছে
পয়সা আছে বুদ্ধি আছে ।
দেখো তখন বেছে নেয় কাকে ?
ভাবে তারা,
যখন রুপ হারিয়ে যায়
পয়সা নিয়েতো বাঁচা যাবে ।
যখন সবাই,
মানুষ বাদে ভালোমন চাইবে
সেইদিন মানবিকতা খুইয়ে রবে
যাকে আবার ভালও লাগে
তাকে জাতের যাঁতাকলে জড়িয়ে ধরে
গণ্ডিতে আটকালে, বাতিল করতে হয়
একবারটি ভেবে বলো দেখি
কত কষ্টও না সইতে হয় ?
এইরকম করে
কতজনকেই না হারাতে হয় ?
ভাবি আমি হেঁটেই ফেলি
কেউকি ঘুরে তাকায় না
খালি শুধু এগিয়ে চলি
কেউই আর আটকাল না
এতোই কি খারাপ আমি
নিজেই বুঝতে পারছি না
খুঁজছি শুধু কারণটা কি ?
বাড়ির পাড়ার বন্ধুবান্ধবকে
জিজ্ঞাসা করতেও ছাড়ছি না
যদি কেউ তাকিয়ে ফেলে
এগিয়ে আসতে দেখছি না
পাশের জনও যাচ্ছে সরে
ত্রুটিটা আমার মনে বজায় না ?
সবাই খালি জুটিয়ে ফেলছে
আমার ভাগ্যে পটছে না
কেনো অমন হয় জানলে বলছে
ভ্যালভ্যালে কে কেউই চায় না
আমিও এবার সাজবো দেখি
লোশন মলম ক্রিমও মাখি
পার্সোনালিটি জাগিয়ে তুলি
নতুন করে মানুষ সাজি
কেউই আমার সমন্ধে, ওয়াকিবহাল নয়
দানব বাদে কাকে, মানব কয় ?
নতুন সৃষ্টি করছি, দিনদিন লাগাতার
বলুক দুনিয়ায় এরকম কজন হয় ?
ঠিক নেই !!
মৃত্যু যখন কাঁদে কোলে, প্রাণের অতীতকে চোখে ভাসিয়ে তোলে ।।
মৃত্যু যখন পিছু ডাকে, সবাই আপন পাওনা লুকিয়ে রাখে।।
মৃত্যু যখন ফিরিয়ে দেয়, চিরকাল মায়ের ব্যাথাগুলো চিনিয়ে নেয়।।
মৃত্যু যখন এগিয়ে চলে, দিনগুলো সব মুখ ফিরিয়ে কথা বলে।।
যখনই মৃত্যুর চিন্তা হয়, আরেকটা জীবনের অভিলাষ কয়।।
যখনই মৃত্যুর আয়ু পায়, একটাই নতুন জীবিকাসংস্থান চায়।।
যখনই মৃত্যু সুযোগ আদায়, চুপ করে কিছুর একটা ইশারা দেখায়।।
যখনই মৃত্যু একপেশে, জীবনযাত্রাপথ দেখে খিলখিলিয়ে হাসে।।
যেসব মৃত্য মরণশীল, তাদেরই দর কমানো মুশকিল।।
যেসব মৃত্যু প্রতিজ্ঞারত, সেসব জীবন খোয়ায় তত।।
যেসব মৃত্যু সামনে নেমে আসে, গরীব সেথা উল্লাসে ভাসে।।
যেসব মৃত্যু হটাৎ হয়, আর্জি, আবেদন, ইচ্ছা সব নয়ছয়।।
মৃত্যু যেথা এগিয়ে রয়, আড়ালে লুকিয়ে অস্তিত্বর কথা কয়।।
মৃত্যু যেথা পিছু সয়, আগামীকালের জন্য লাগে ভয়।।
মৃত্যু যেদিন পাশে হাঁটে, ভাগ্যের দাগগুলো কাটে ললাটে।।
মৃত্যু যবে মাথার ওপরে, হিসাবের খাতাগুলোর টনক নড়ে।।
মৃত্যু যেদিন শোয় পাশে, সঙ্গী সেদিন জড়িয়ে ভালোবাসে।।
মৃত্যুর যেদিন সময় হবে, সেদিনের ভারাক্রান্ত অশ্রু হয়তো মনে থাকবে।।
মৃত্যু যেদিন রইবে বলে, সেদিনের কষ্ট একদম জ্বলজ্বলে।।
মৃত্যুজীবন যেদিন ভরে ওঠে, বাঁচার স্বেচ্ছাখানি যায় আটকে।।
মৃত্যু দেখে না বড়লোকি কি ছোটোলোকি, প্রবেশ করে বেরিয়ে যাওয়ার মেকি।।
মৃত্যু পায় সম্মান বড্ড একাকীর, খুঁজে বেড়ায় প্রতিজনের ঘাড়ে বসার চাকুরীর।।
মৃত্যু পায় না নিজ মর্জির চাবিকাঠি, কোনো হিসাবনিকেশ নেই কত আছে দুরূহ সহপাঠী।।
মৃত্যু পায় না ঘুরেফেরার অনুমতি, প্রতি আত্মা,জীবদ্দশার থাকলেও এর নেই কোনো গতি।।
এর চেয়ে বেশি কিছু নেই
এর চাইতে, আরো চাইলে, পাবেনাকো কোনোদিনও
অতটা বেশি, কিছু চাওয়ার, দরকার নেই এখনও
যতটা দেওয়ার, আছে আবার, যেনো ততটাই
পাওয়ার চাইতে, অযথা খোয়ানোর, গোটানো আছেই
তবুও চাইবো, আর একবার, একেবারে গিলে খেতে
পেটে ব্যাথা সয়ে, কালকে যন্ত্রনায়, একটু বেশি চিল্লাতে
চাইতেও একটা, ধৈর্যের মাধুর্য, ফোটে কথার মাঝে
বিনা জিজ্ঞাসে পাইলে, অযথা কেমন একটা, বেহায়া জাগে
বেশি করে, খেতে খেতে, অল্প পাওয়ার, ইচ্ছা কমে
মোটা হয়ে, গেলে কিনা, পুনরায় ফিরে, রোগা নামে ?
রাগ হয়, এতোই ভুলের, বিনা কষ্টের, মাশুল গুনতে
বুকে লাগে, বলি তাই, খেতে যাওয়ার আগে, চিন্তাটা যেন উঠে পাতে
বিনা কাজে, খালে মজা, খেতে ভারী, সাজা মাগে
কেন লাজে, চায় পরে, বিনা পেয়ে, কম লাগে
শেষে তথা, পড়ে রয়ে, মাততে দেখি, কিছুর মধ্যে
কেনোই এমন, ঘটে রোজের, বসে গিয়ে, সংসারের সান্নিধ্যে
আকাশের কি ??
আমার আকাশ ফাঁকা জায়গা, বিশাল ময়দানের খালি আবাদ।।
তোমার আকাশ তো জড়সড়, নীল সাদারই মাঝে ঘেরা সংবাদ।।
আমার আকাশ ভরপুর চতুর্দিক, বিশাল আয়োজনের খোলা দরবার,,
তোমার আকাশ মানে অন্তহীন, সারাজীবনের হাজারো তারার মিলিত সংসার।।
আমার আকাশ বিদেশ ভ্রমণ, ভগবানের কাছে যাওয়ার সহজ,সোজা, সরল রাস্তা,,
তোমার আকাশ পারিপাকযুক্ত, সব আবদারের ঠিকানায় একেবারে সস্তা।।
আমার আকাশ মেয়েদের মত মনভোলানো, একত্র চিন্তাধারার কালরাত্রি,,
তোমার আকাশ কিন্তু একলা মানুষ, কেবল চলতি দুনিয়ার সঙ্গযাত্রী।।
আমার আকাশ পুরো ভর্তি, প্রচুর কুল বংশের অহঙ্কারীর কবরখানা,,
তোমার আকাশ আনন্দ আহ্লাদ, মত্ত আর অমনুস্বত্বের কারখানা।।
আমার আকাশ জবরদস্ত শক্তিধারী, আশীর্বাদ পাওয়ার জোড়া হাতখানি,,
তোমার আকাশ মন্দ সব কেলেঙ্কারি, কাদা ছোড়াছুড়ির সাধারণ যাত্রাখানি।।
আসলে তোমার আকাশ খুবই ছোটো, ভুল ধ্যান ধারণার কেন্দ্রস্থল,,
আমার আকাশ যৎসামান্য, ভাবীই আমার কথা মেনে চলার পাগল।।
তোমার আকাশ বহু দূরে, হাতে ছোঁয়ার নাগালেরও বহু ক্রোশ বাইরে,,
আমার আকাশ খুবই কাছে, রোজ রাতে গভীর স্বপ্নে তার ইশারা খুঁজে পাইরে।।
তোমার আকাশ ভাবনাহীন, সব ক্ষয় ক্ষতির মূল গলদের কালি দাগা,,
আমার আকাশ আমার অধীন, অতৃপ্তির ভান্ডারে এতটুকুই সোনায় মোড়া সোহাগা।।
তোমার আকাশ টাইমপাস, তার ভালো খারাপের অল্প চিন্তা ভাবনার সময় নেই,,
আমার আকাশ নিয়ে সারাটাদিন করি লেখালিখি, চটজলদি তাই জীবনটাও আর সময়টাও কাটে সেই।।
মনের মতন
সংরক্ষনে থাকবে যে শব্দগুলো, যোগাযোগ হলেই ফুটবে মনের মতন,,
প্রেমের দোরগোড়ায় যত ইচ্ছা–প্রতিজ্ঞা, বিবাহের পরেই শুরু হয় আসল যতন।।
গোলাপের আদানপ্রদান বিশেষ দিনে, প্রথম সাক্ষাৎটাই বোঝায় ভালোবাসার পরিচয়,,
বিবাহবার্ষিকীতেই কেবল আদর–আবদার, বাকি দিন ছড়িয়ে শুধু অবিশ্বাস আর সংশয়।।
ছাত্র এখন পাত্র! আরে পাত্রী তো নাবালিক ; অনুষ্ঠান পুরো দুর্ভিক্ষ যেমন পালিয়ে যাওয়া অত্যাধুনিক।।
মন্ত্র পড়া প্রাচীন, খালি সিঁদুরের একটু জো আছে ; নাহয় লোকে সন্দেহ করবে, নানান প্রশ্ন করবে পাছে।।
বাবামায়েরও আফসোস নেই, একদিন যাবে চলেই ; ঝক্কির ভান্ডারের চেয়ে তাকে পেলো, যাকে সে চেয়েছিলোই ।।
ট্রেন্ডিং এ চলছে এটা, কারুর তেমন লজ্জা নেই ; আর তুলনা করে বলে সবাই, দুনিয়া তো একই আছে যেই কে সেই।।
অনলাইন পরিচয়, অফলাইনে মাত ফোনকলের কথাবার্তায় ; সম্মুখে দেখা বিয়ের আসরে আর ছবি দেখা ফেসবুকের পাতায়।।
বোঝাপড়ার জমানা শেষ, না দেখে ভাবনা বিশেষ ; কিছুদিনের সংসারের পর গজায় সম্পর্কের বিচ্ছেদ ও অবশেষ।।
সন্তানহীন জীবনযাপন, খালি দুনিয়ায় মনভরে উপভোগ ; ভগবান ও সময়ের সাথেই অপেক্ষা করে, খুঁজে দেখে ভালো সুযোগ।।
এভাবেই ভবিস্বত অন্ধকার, জনবিস্ফোরণের জায়গায় চারিদিক জনহীন ; মানুষের চাহিদায় বিজ্ঞানীরা খুঁজছে আগামীর নবীন।।
কমবয়সী জৌলুস, শৈশবকালে বাচ্চাপালনের জোশ ; আয়ুর ভাড়ার কমে রোগপ্যাথীর জন্য বাড়াচ্ছে সব আফসোস।।
রোজগারের কোনো বালাই নেই, বাবার পয়সায় সংসার চালাই ; যখন অভাব দেখি, বউয়ের কথাতেই বাড়ির বাইরে পা ফেলাই।।
তারিখগুলো মুখস্ত রাখতে হয় নামতার মত, জিজ্ঞাসা করলে বলতে হয় যত আছে তত; পড়াশুনা ছাড়া যে জীবন চলে, এমন কাণ্ড মনে করায় ক্ষত।।
বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি সংস্থানহীন, দায়ভারটা নেওয়া পরম্পরাহীন ; জোগান দেওয়ার সময় পকেটটা এতক্ষণে মনে করায় দায়ভারহীন।।
ঝগড়া বিবাদ প্রায় চলাচলির চলন, কচি বয়সেও মাত বড়দের মনের মতন; আফসোস খরচটা যায় শরীরের যতন।।
সারাদিন ঠায় হয়ে বসে থাকার আলসেমি, একটুকথায় অল্পমেজাজি খ্যাপামি ; পাগলামির দুনিয়ার প্রবেশ করে জুটির বাদনামি।।
আড়াল আবডালে নিজেদের মধ্যে ফুসফুসানি, একলা ঘরে দুজনাতে সব কেড়ে নেওয়ার মতলব শয়তানি;বাবা মায়েদের হতে হয় সীমানার বাইরে হয়রানি।।
মানিয়ে চলো সংসারটাকে মেনে নাও আপনজনদের, ভালো রাখো সবাইকে আর ভালো রাখো নিজেদের; ভেবে আর রেখে দেখো সেই অবস্থানে যেখানে স্থান পায় বাবা মায়ের।।
নির্যাতিতা
বিশুদ্ধ কি তারা? মাতৃগর্ভেই যাচাই করো দোবারা।।
ঘরবন্দী কারা? বাড়িতে পাড়াতে নারীজাতি যারা।।
সমাবেদনা কি? জিজ্ঞেস করো মা বোনেরা নাকি।
শোষিত পীড়িত কে? দেশ জুড়ে মেয়েরা আছে যে।।
জনম মরণ সমানস্থান মানে কমবয়সী নির্যাতিতা।
যৌন আর জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা মানে গঠনগত নির্যাতিতা।।
কুমারীত্বতে কামড় খাওয়া মানে সে প্রথমবারের নির্যাতিতা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্ট মানে ক্যামেরাবন্দী নগ্নতা নাহয় কাতরানো নির্যাতিতা।।
হে কমবয়সা কমবয়সী,
সে বুজছেই না এটা তার প্রতি কেমন অবিচার,
সে জানছেই না সুরাহা এই যন্ত্রনার আর চিৎকার।
যৌনাঙ্গ পুরোপুরি গঠন না হয়েও কিছু পশুর শিকার,
অল্প বয়সে কি যে ক্ষতি হলো তার সীমানা পারাবার।।
হে নাবালিক–নাবালিকা,
দোষটা তোমাদের বিএফ জিএফ যুগের জন্য,
কমবয়সে সঙ্গম করে নিজেদের মনে করছে ধন্য।
বেশিরভাগের এখান থেকেই যৌন লালসা অনন্য,
লুকিয়ে অন্যের ব্যাক্তিগত সময় উঁকিঝুঁকিতে ছুটছে হয়ে হন্য।।
হে বিবাহিত বিবাহিতা,
এ সমাজে সঙ্গ ছাড়া টিপ্পনি শুরু করে সম্ভোগ হয়,
বিয়ের পর শরীর গঠন হলে লোভ আরো বেড়ে রয়।
কোনো বাধা না মেনেই সন্তান লাভের সুযোগ আদায়,
বৈবাহিক জীবন সংসার এভাবেই বিনা কারণেই রোজ রোজ ধ্বংসায়।।
হে বয়স্ক বয়স্কা,
নির্লজ্জতার শেষ সীমানা হয় মা দিদার ন্যায় মানুষের না মানা,
কেবলমাত্র অতিষ্ট হয়ে সুযোগে শরীরে একবার হাত লাগানা।
ভালোর মত ব্যবহার করে ঠিক সময় জাপটে ধরে দেহ টানা,
এমনকি ছোট বাবু ভেবে কখন যে কিছু হয়ে যায় সেটাই না জানা।।
আমি যখন নির্যাতিতা;
রক্ত বাধা মানছে না, শরীর আর চলছে না, হৃদয় পারবে আর বলছে না, জীবন আর থাকছে না।
আমি তখন নির্যাতিতা;
যখন বাঁচার কোনো আশা নাই, মৃত্যুশোকের লোক নেই, ছি ছি করার বাকি নেই, একঘরে হওয়ার অবকাশ নাই।
শেষ যখন নির্যাতিতা;
পরপর চোখ বুজল, মানবছেঁড়া একটুকরো একটা জীবন শেষ হল, একটা জনমক্ষমতা হ্রাস পেল, পৃথিবীর জনসংখ্যা কমল।
শোকসভা যখন নির্যাতিতা;
কিছুজনের আনন্দ মজা পূরণ, কিছুজন আরো পাওয়ার জন্য করছে স্মরণ, কেবল মা বাবা মানছে নাকো মরণ, পেটের বাচ্চাটা বুঝছে নাকো কারণ।
অবস্থা জানে নির্যাতিতা;
সংসারগুলো পুড়ে ছাই, পাড়ারলোক তাকিয়ে থেকে খাই খাই, দুদিন পরে সব ভুলে যাই, শয়তানদের দ্বিতীয় শিকার চাই।
এই সেই নির্যাতিতা;
কোনো মেয়ে না বললেই শেষ, বাঁচার ঠিকানা সর্গে অশেষ, অত্যাচারে জমানা নিঃশেষ, খালি ময়দানে খতম সম্মান বেশ।
বাস্তবে তারাই নির্যাতিতা;
বন্ধ যাদের পথচলা, যেমন বাইরে যাওয়া নিষেধ একলা, যেমন পোশাক পরা ঢিলেঢালা, যেমন সব সিদ্ধান্ত মুখবুজে মেনেচলা।
দেখতে তারাই নির্যাতিতা ;
সবশেষে পরিচয়হীন, মৃত্যুঞ্জয়ের দিকে স্বাধীন, জন্মদাত্রী গর্ভ আধীন, সুইসাইড নোটটার ঠিকানা স্বামীহীন।
অবশেষে...
না সারা ক্ষতে মুখচোরা,
ধর্ষিতার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাবে মনমরা।
অপরের দোষে দেহঢাকা কাপড়ে মুখঢাকা ইজ্জতহানীরা,,
বিয়ের প্রস্তাবে রুপগুন না দেখে শারীরিক সম্বন্ধের হিসাবকরা।
অধিকার বাঁচাতে লাগু হোক অতীতের পোশাক কর,
গোপনাঙ্গকে আগলে রাখতে যদি বাড়িয়ে তোলে অধিকারের স্বর।
কেমন করে বাড়ে ক্ষোভ তার বাড়ির নিজের ভাইয়ের,,
সেও যে সদস্যের ডানহাত তার পাড়ার বিদ্রুপের দলের।।
আইন প্রণয়ন করছে কে? নিজেদের পুরুষজাতির বিরুদ্ধেই যে,
রায় দেবে কে? জিজ্ঞাসা করো চায় নাকি সে।
তাদের কেস লড়ছে আবার কে? সেও চায় এসব যে,,
সামান্য সমর্থনও করছে কে? সেউ নারীজাতি যে সে।।
শাস্তি দেবো কাকে ধর্ষিতা বেঁচে তো নাই।
ফাঁসির গলায় ঝোলানোর জন্য দোষী কামাই।।
নিয়ম মানবে কে, নারাজ সবাই।।।
দরকারে লুকিয়ে মুখ বন্ধ করে, জাপটে ধরে উপদ্রব করবে।
সন্দেহ করে মেয়েটার দোষে, বিয়ের পরেও চালিয়ে যাবে।।
শান্তির জন্য অশ্লীল ভিডিও দেখে আরো এক অপরাধের শিকার হবে।।।
মিটিয়ে দেওয়া হোক ভোগীদের দেখা যাক বাকিদের, কেমন করে বাঁচতে পারে একাকী আর সন্তানছাড়া।
হেনস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে মানে বাধা দেওয়ার জনতা শেষ,
স্বামী স্ত্রী মিলন নামে হচ্ছে শুরু নির্যাতন মনোভাব গাছাড়া।।
পাকাপাকিভাবে উন্নত যুগেও দাড়িয়ে পা টেনে পিছপা হচ্ছে, কিছু করারও নেই অপেক্ষা করার সময়ছাড়া।।।
সমাজে নগ্নলজ্জা নামকরারা সায় দিলে বাধা দিতে পারবে সরকার চেষ্টা করেও আমরণ?
সামাজিক সংস্থাতেও যেসব লোকের সমাগম, তেষ্টা মিটিয়ে করবে কর্ম হরণ ?
অবশ্যই বদলি নাহয় ভাগ হোক মধ্যে সবার মধ্যে সমান দেহ, পোশাক, চলন, গঠন।।।
এদিকে,
বড়লোক দেখে না সময় নেই, সরকার তাকায় না মাথাব্যাথা নেই, কোটিপতি লাগে না ভাগ নেই, ছেলেরা জাগে না লাভ নেই।
এত চিৎকার শুনছে বা কে ? এত আবেদন রাখছে বা কে ? এত সুযোগ দিচ্ছে বা কে ? এত নিষেধ মানেই বা কে ?
পথকুকুর
থালাবাটি হাতে বাচ্চা ছেলেমেয়ে, রাস্তার দুই প্রান্তরে অনবরত ছুটছে ; কেউবা ভিক্ষা না পেয়ে কেউবা খিদের জ্বালায় কাঁদছে।।
কারোবা চিন্তায় খালিহাতে গেলে মালিকের মারধর ; কারোবা বুক ধকপক অনেককিছু পেয়েও ভাগের খাতিরে বেশিরভাগ খোয়ানোর অবসর।।
রেলক্রসিং এর ঝাঁপ, জেব্রাক্রসিং এর লালবাতির স্টপেজ ; দাঁড়ানো গাড়ির দিকে ছুটছে বিনা চপ্পলে অল্প আদায়ের তেজ।।
কাঁচের জানালায় ধপধপ, পায়ের তালে চপচপ ; জোরকরে কাটাহাতে, কাটাপায়ে ক্ষতের জ্বালায় কারে দিবা এত আরোপ।।
কানাচোখে, ছেড়াগায়ে মুখখানাগুলো চেনা দায়। বড়োলোকের না গরীবের বাচ্চা যাইহোক, তাদের কাজ টাকা আদায়।।
কেউবা জন্মভুক্ত, কেউবা পালনভুক্ত, কিন্তু সবার মুখে চিন্তা মিশ্রিত হাসি। হাজারো টাকার মানিব্যাগে একটা টাকাই, দুটা টাকাই আয়েশী।।
স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইটে ক্ষুধার্ত শুকনো মুখখানাগুলো তাকাচ্ছে। প্রভাবশালীদের লোকদেখানো পরিশ্রমে অল্প আশ মিটলেও তাদের অর্থ আর অনুগামী বাড়াচ্ছে।।
বাসস্থান লুটিয়ে ফুটপাতে, তাদের অভাবজোড়া ঘর থাকে না কখনো। ছুটে বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পথহীন জীবনে এই গণ্ডিটাই স্বাধীনরুপ তাদের এখনো।।
শিক্ষাওয়ালা তো নোংরা দেখে সরে যায়, কাছে ঘেঁষে না এতটুকু। সাহায্যের নামে গা ঠিকরে, যাচাই করে তাদের জীবনখানা বেঁচে আছে কতটুকু।।
চাকুরীওয়ালা নোটের বান্ডিলে কুচো খোঁজে, পাশের জনের থেকে বদলি করেও করে ধার। মানিব্যাগ নিজেই ফাঁকা করে বোঝাতে থাকে টানাটানিতে চলতে থাকা নিজ সংসার।।
সহযোগীওয়ালা কমজন, মিলমিশ; মুঠিভরা না থেকেও দানধ্যানশীল। সামান্য, নির্দিষ্টতেই মানবধর্ম পূরণ করে, ভগবানের কাছে পাপ থেকে মুক্তশীল।।
নিজওয়ালা আলাদা মানব, এক আনারও ভাগ করতে রাজি। কিছুজন নিজ নিয়ে মনমরা থাকলেও, সবকো নয় পাজি।।
ঝোপবস্তি তাদের ঘর, মালিক অভিভাবকের স্বর।। দাদার বয়সী ছেলে নিখোঁজ বাবা হলে পাশেরজন/ পাশের মেয়েটাই সেই মাইহীন আদর।।
কাজ তাদের হাতেপায়ে পড়া, কর্মস্থল তাদের রাস্তা।। দৈনিক নিউজের আপডেট যুগে, তারাও খুঁজে দেখেনাকো কোনটা আজ সস্তা।।
ভ্রমণ যেথায় পায়চারি, দিনরাত প্রায় সমান। চারবেলার খাওয়া তাদের একবেলা, দুদিন খেতে পাইবে এই ঘুমের স্বপ্নটাও মহান।।
জীবন তাদের নির্ধারিত, সীমানা একেবারে নির্দিষ্ট। যেখানে দয়া নেওয়ার সুযোগ নেই, যতক্ষণ না মুখের আগুন শেষ অবশিষ্ট।।
কুকুরের আশ্রয়ে তাদের আরাম–হারাম, কুকুরের ন্যায় খাবারে মিটে তাদের ভুক। পথকুকুরের মত ছুটে বেড়ায়, যেনো মানাবকুকুর রূপ।।।
শরতের মিলন
এথা বৃষ্টির গায়েব তো শীতের আদাব,
যেথা হেমন্তের আগমন সেথা শরতের জবাব।
পুজোর চর্চায় বিভোর দিনভর তো নজরহীন মহালয়ার সুর,
যেমনি নকশাভরা মেঘমণ্ডলের মাঝে আঁচহীন রোদ্দুর।।
পরিষ্কার ঝলমলে চারপাশ তো পরিবেশে আনন্দমুখর ঘনঘটা,
জামাকাপড় কেনাকাটার সঙ্গে নজরে রাখা ছাড়ের ছিটেফোঁটা।
আড়ালে দেখা প্যান্ডেলের প্রস্তুতি তো আগলে রাখা গড়ন্ত প্রতিমা,,
দুর্গামার কাছে রেহাই চাওয়ার সময়ই ঠিক হয় পরীক্ষার তারিখনামা।।
ভাবি গ্রীষ্ম শীতের কাছে তো শরতের কিবাই আছে দরকার ?
যতটা না বর্ষা ততটাই হেমন্তের মধ্যে মিল বাঁধানোর অঙ্গীকার।
দিন কেটে ছোট হওয়া তো রাত জুড়ে বড় হওয়ার অধীন,,
অদ্ভুত এরকম মনোরম পরিবেশে রাতের ঘুমেতে স্বপ্নগুলোও রঙিন।।
এদিকে পাঁচদিনের পরিকল্পনা তো অন্যদিকেতে সাজগোজের জল্পনা,
মানানসই শাড়ি পাঞ্জাবির আদলে দেহজুড়ে গহনার আলপনা।
বিদেশিদের আগমনের কারণ মানে তো এর দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন,,
এমনি নয়কো আমাদের পুজো পার্বণের বহুদূরে ছড়িয়ে পড়ার আবেদন।।
জুটিতে লাগাতার ঘোরাফেরায় তো বেখেয়ালী শিশিরভেজা শরীর,
গায়ের ওপর হালকা চাদর জড়িয়ে আগামীর অপেক্ষায় অস্থির।
কুয়াশা আচ্ছাদিত দিনরাত তো চারিদিকে শুরু প্রাতভ্রমণের জোয়ার,,
শোয়ার সময় শুরু এবার আস্তে করে তোশক টেনে নেওয়ার আবদার।।
সরকারের সাহায্যের হাত মানে তো সংঘ সহ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি,
এরই মধ্যে সেরা মন্ডপের সঙ্গে সেরা প্রতিমার লড়াইটাই উপলব্ধি।
এপাশে বেসামাল মানুষের ঢল তো সেপাশে অপ্রতিরোধ্য নিজস্বী তোলার ভিড়,,/ এপাশে অপ্রতিরোধ্য নিজস্বীর দাবি তো সেপাশে বেসামাল মানুষের ভিড়,,
সত্যিই মায়ের একবার দর্শন পেয়েই খুশিতে ভাসে মনের অন্তনীড়।।
হাসির কারণ –ভালোবাসির কারণ
তুমি কেবল একলা যখন, একলা ক্লাসঘরে
আমি তখন উতলে উঠি, তোমায় মনে ধরে–
হাসিয়ে ফেলি মুচকি করে, চুটকুলোটা বলে
দেখিয়ে ফেলি ভালোবাসাটা, কথা বলার ছলে !
আড়চোখে দেখ এমন, নজরে হারাচ্ছ
আমায় তুমি নেবে বলো, ভয় কেনো পাচ্ছ ?
বেইজ্জত করে কতটা, আনন্দসুখ খুঁজে পাও
মুখের আভাস, চোখের খিদে দেখায়, আমায় তুমি চাও!
পরিচিত হোক না কেনো, মুখ ফুটে ঝেড়ে বল
তুমি নিজের মধ্যেই বন্দী থাক, আমি সামলাই বাইরের কোলাহল।
বন্ধুদের টোটকা টিটকিরি শুনছি, নিজেরটা নিজেই জানি
এসব কেবল এখন আর এখানেই থাকবে, সেটাই আমি মানি।।
সবাইকে হাসাচ্ছি বলে কিনা, সবার সঙ্গেই থাকি,
আমার জীবনকে লোকে খুঁটিনাটি জানবে, সে এখন অনেকটা পথ বাকি।
তুমি আমার হাসির কারণ বলে ভালোবাসার কারণ হবে, ব্যাপারটা ভেবে দেখি !
তাহলে এবার তোমার নামটাও আমার মনের হিসাবখাতায় লিখে রাখি...
ছেলেরা হাসাতে পারে মেয়েরা হাসতে,
মেয়েরা দেখাতে পারে ছেলেরা ভালোবাসতে
ছেলেরা খুঁজে দেখে মেয়েরা নতুন টানে
মেয়েরা ছেড়ে দেয় ছেলেরা ফিরে আসবে জানে।
যুদ্ধযাত্রা
আমার যুদ্ধ তোমার যুদ্ধ, যুদ্ধশেষে সব একলা।
সেসব যুদ্ধে কাদের লাভ, যাতে নাইকো কোনো ফয়সালা।।
যুদ্ধ এখন লাগাতার, অর্থনৈতিক ছেড়ে রাজনৈতিক।
নিজেরই ক্ষেত্র বিস্তারের পরিসরে, বড়রা ছোটদের পিছনে গতানুগতিক।।
সাহায্যে থাকেনা কেউ, নিজের দেশ নিজের ব্যাপার,
কেবল সমর্থনটা দেখিয়ে দিয়েই, এরা করে নাকি ক্ষমতার বিচার।।
যুদ্ধ যখন শেষ পর্যায়, সেটা তখন শুধুই আর সামরিকেই নয়কো আবদ্ধ।
দেশের মানুষও এগিয়ে আসে, যখন নিজ নিজ জীবনটাও নয়ছয়, সীমাবদ্ধ।।
ভুগন্ত যেসব দেশবাসী, মানছে নাকো বর্তমানের এই লড়াই।
স্বইচ্ছায় নাইবা হতো অন্য কারুর, নতুবা মরতো নাতো যন্ত্রনায়।।
জমিন শেষ, অধিকার শেষ, বাড়ি ধ্বংসেই শেষ নাগরিকত্ব।
এত কিছু হয়েও তো পরিশেষে এক দেশ অন্য দেশকেই করছে সেই আয়ত্ত।।
সত্যিই সত্যিই চাই যুদ্ধবিরতি, এবার মউ চুক্তি হওয়া দরকার।
কেবলমাত্র তাদের আদেশেই লড়ছে যখন সৈনিক, দেশে সারা পরিবারজুড়ে হাহাকার।
শিশুগুলোর কান্না দেখে, মানুষজনের পালানো দেখে, কারো কি একটু মায়া নেই ?
যেখানেই ভিড় জমজমাটি দেখে, সেখানে আক্রমনের নির্দেশ হানছে সেই।।
রাজতন্ত্র যাচ্ছে পালিয়ে জনতন্ত্রকে ফেলে, মোরাই কেবল লড়ি আর মরি ?
অন্য কারোর দখল হলেও, নতুন দফতরের পদেও থাকে সেই তাদের দাবিদারি।।
সব যুদ্ধ শেষেই লাভ বইকি ক্ষতির হিসাব, এসব যুদ্ধের কিবা দরকার ?
সেসব যুদ্ধ আগেই ফেরত চাই, যেথায় প্রথম সমাপ্তি ঘটে দেশের সরকার !!
কোনো খাপ নেই, কোনো মিল নেই।
আমি জানি,
তোমার লম্বা কলের মশগুলে
ফায়দা নেই, সেখানে অন্য কেউ আরোহেই।
যতই আলগা করে ধরি শেকলখানি
কোথাও না কোথাও তো যাচ্ছ পালিয়েই.
তাই, দেখো তোমার সনে মোর কোনো খাপ নেই
খুঁটিয়ে দেখো কোথাও তো আর মিল বেঁচে নেই
আমি জানি,
তোমার বাড়িয়েছি বাজেটটা খপ্পরে
তুমি ব্যাপারটা ছাড়াও আরো চত্বরে, যেন
দেখাতে পারো ঈমানদারি এমনভাবে, যাতে
সেও বদলে নিতে পারে সংসারের অভাবে
তাই, দেখো তোমার সনে মোর কোনো খাপ নেই
খুঁটিয়ে দেখো কোথাও তো আর মিল বেঁচে নেই
আমি জানি,
আকাশ জমিন মিলছে সেই সমুদ্দুরে, দরদী
তোমার নাচছে বুক একাকী সমাচারে, স্বনামি
নামটা খুঁজতে যাবো কোথায় আর কিভাবে, যেমনি
তোমার পাপটা মুছতে যাবো সকল মিলে সদ্ভাবে।
তাই, দেখো তোমার সনে মোর কোনো খাপ নেই
খুঁটিয়ে দেখো কোথাও তো আর মিল বেঁচে নেই
আমি জানি,
আমাদের জোটবদ্ধ পরিবারে যোগদানের
ইচ্ছা নেই, এত সম্পর্ক মানিয়ে নিয়ে গুছোতে
শক্তি নেই, সমযোজন ঘটিয়ে একসঙ্গে রাখতে
বুদ্ধি নেই, আমার মত মানুষকে তাইতো সহ্য করার ক্ষমতাটুকুও নেই।
তাই, দেখো তোমার সনে মোর কোনো খাপ নেই
খুঁটিয়ে দেখো কোথাও তো আর মিল বেঁচে নেই
আমি জানি,
তোমার সন্ধ্যেগুলো কাটছে সন্দেহের বিরহেই,
আমি তোমাকে ছুড়বো নাকি ব্যবহারের পরেই ?
তোমার চিন্তার ভাঁজটা বেড়েই চলছে ক্রমশই,
আমি তোমার ভবিস্বতের পথের কাঁটা গেঁথে দেবো সামনেই ?
তাই, দেখো তোমার সনে মোর কোনো খাপ নেই
খুঁটিয়ে দেখো কোথাও তো আর মিল বেঁচে নেই
খতম
নির্ঘাত তুই চনমনে, এঘর থেকে ওঘর।
যাচ্ছু চলে অনাতলে, আলতো তুলে চাদর।।
রাখছু খালি হাতটুকু, মনটা অন্যত্র।
বাঁধন খুলে জানলাম, শরীরটা এখনো পবিত্র।।
হাঁক দিচ্ছি ক্রমাগত, জবাবটা এড়িয়ে।
লাগাতার রাখছি যোগাযোগ, নজরটা বাড়িয়ে।
এগিয়ে আসছি ধীরেধীরে, একপা দুপা।
কাছে এসে দেখছি, আয়ত্তের জায়গাখানি মাপা।
বন্ধুত্বের নাম দিয়ে, ভালোবাসা জমজমাটি।
পরীক্ষা করে দেখলাম, কুমারীত্ব আজও খাঁটি।
পুরনোর খোঁজ নেই, হয়তো তোর কাছে সামান্য।
আজ যা পাশে আছে, গতকালের তরেই ধন্য।।
চেহারার বদল ঘটিয়ে, কারোর তরেই তো সাজছো ?
সাধারণ থেকে মডার্ন, পছন্দ অনুযায়ী বাদলাচ্ছো।
সাহায্যের নাম করে, সঙ্গতাকে লাগাতার আগলাচ্ছো।
সময়কে আঙ্গিক করে, রাত্রিবাসনায় পরিণত করছো।।
জলভাগ থেকে পড়াভাগ, পরীক্ষার সময়ের আবভাব।
চুপচাপ থেকে ফিসফিসানি, বদলে নিয়েছো স্বভাব।।
আলাদা থেকে একাকী, সবার ধরাছোঁয়ার বাইরেই।।
মুখোমুখি থেকে মুখফেরানি, এভাবেই দিনচলে যাচ্ছেতাই।।
কেবল তুমিই শুধু বদলাচ্ছ, আমি কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে।।
মানিয়ে নেবো এখনো, তাই রয়েছি হাত বাড়িয়ে।।
চাইছি নাকো নিজের করতে, কেবলখানি বন্ধুত্ব বাড়াতে।।
তুমি থাকো অন্য কারোর হয়ে, ব্যাস্ত আমি নিজের ভুত ছাড়াতে।।
আহামরি
তুমি দেখতে নও সুন্দর, হাসিতে আহামরি
কথাতে ঘোল খাওয়াও, ব্যাথাতে টিটকিরি
আমিও রূপে গুনবতী নই, পিছলে হাহাকিরি
কাশলে ফুটে উঠি, বইকি চলাতেও জোচ্চুরি
সেও দেখতে সুন্দর নয়, তেমনটা আহামরি !!!
তুমি শুয়েও শান্ত নও, হাতপা চালাচ্ছ
কেনো হটাত বসে পড়েই, আমায় জ্বালাচ্ছ
আমিও নিস্তার পাইনা, সঙ্গতি বানাচ্ছি
একটু ভালো থেকো, কঠোর অনুরোধে জানাচ্ছি
আসলে, সেও তেমন চুপ নয়, তেমন খবরটাই পাচ্ছি।
তুমি যোগাযোগেও মহৎ নও, বারবার থামোতো
দেখেও নাদেখা করে, আমায় বোকা বানাওতো
আমিও জুটি গড়ে, নতুন পার্টনারশিপে রেখেছি নামটাতো
এখন থেকেই বলে দিচ্ছি, সুযোগ আর নেই, আর ফিরে আসবে নাতো ??
বাস্তবে, সেও টেকার মানুষ নয়, তেমনটা দেখেই বুঝছিতো।
অকালমৃত্যু
বেশিরভাগ মৃত্যু শীতঘুমেই
দেখতে গেলে আরামের মৃত্যুও এভাবেই
শেষ প্রাণবায়ুর যেরকম ঠিকানা নেই
সবদিনকে শেষদিন ভাবা উচিত, যেহেতু মৃত্যুর কোনো ঠিক নেই।
পরশুর জীবিত ব্যক্তি, আজ মারাগেলে কাল দুইদিন,
আজীবন উপভোগ, যন্ত্রণার থেকে হইলো স্বাধীন।
বাকি যেকটা কাজ, বিস্ময় হয়ে রয়ে যাক,
কেউবা করুক উদ্ধার, কেউবা তার গবেষণাকে এগিয়ে লাগাক তাক।
আনন্দের মৃত্যু শুয়ে থেকেই
আবার সবার শেষজীবন কাটে কষ্টেই
ভুক্তভোগীরা রোজদিন করে মৃত্যুপ্রার্থনা
মুক্তবসবাসীরা বলে ভগবানের এমন কেনো যাতনা?
কারো ইচ্ছা অমর হওয়ার, কারোবা বাঁচা দুইদিনের।
কেউ বয়স্কা যায় যেতে শিগগির, কেউবা কমবয়সী মায়া ছাড়তে চায়না পরিবারের ।
কিছু বানাতে চায় নামটুকু, কিছুবা বাঁচাতে চায় অস্তিত্ব।
কতরা ভাবনা লেখার মধ্যে জাহির করে, কতবা লজ্জায় বলতে চায়না মনস্তত্ত্ব।
আমি তিনরঙা, আমি স্বাধীন ভারতের চিহ্ন (Amar bharat)
এটা মোর জন্মদাতা, মোর দেশ,,
হেথায় সব খাতির আর পরিকল্পনাহীন অবশেষ।।
সবাই মোর জনতা, মোর সৈনিক,,
তাইতো ভরপুর থাকে মান্যতা আর নিঃস্বার্থ পারিবারিক।।
সবই মোর চারপাশ, মোর খেলাঘর,,
রয়েছে প্রচুর নদী–নালা সঙ্গে অগন্তি গ্রাম–শহর।।
চারিদিকে মোর সীমানা, মোর ভাগ বাঁটোয়ারা,,
দেখছি কত অবলুপ্তি আর লাগাতার দেশহারা।।
এটাই মোর সভ্যসমাজ, মোর সিদ্ধান্তনামা,,
যাতে রেখেছি বিশাল দরাজহাত আর সরল সম্পর্কের সংযোগনামা।।
গম্ভীর মোর আভিজাত্য, মোর দর্শনদারী,,
পেয়েছি দুই হাত বাড়িয়ে কতো দেখনদারী আর কিছু সংসারী।।
সবটাই মোর প্রতিকৃতি, মোর মর্মকথা,,
যতটা না স্বর্ণমধুর তার চেয়েও অধিক বেশি নষ্টরুপি গল্পকথা।।
মাথা মোর নতজানু, দিশেহারা মোর ইতিহাস,,
পঁচাত্তর বছর আজাদী পেয়েও তো দেড় শতাব্দিও ছিল অদৃষ্ট ভাগ্যের পরিহাস।।
প্রত্যহ মোর দেহ ভাসমান, ত্রিরঙ্গা মোর শরীর দ্যুতিমান,,
মিলিয়ে নিই/নেই কোথায় থাকে শেষ অন্তরীপ আর কোথায় মিলে পর্বতশৃঙ্গর অবস্থান।।
সমানুপাতিক মোর পরিমাপ, এমনকি অতি সামান্যই মোর প্রার্থনার সংলাপ,,
হয়তো তাই মানিয়ে নিই/নেই সবাইকেই যতই থাকুক সংক্ষিপ্ত আলাপ।।
সর্বাধিক মোর দেশপ্রেম, সর্বনিম্ন মোর না পাওয়ার অভিমান,,
অভিলাষ ধামাচাপা রেখেই দিই/ রেখে দেই তখনই যখন দেখি মানুষের অশেষ আবেদনের পরিমাণ।।
বিজয়চিহ্নরুপী মোর ব্যাবহার, হটাৎই মিলে মোর দর্শনদারী,,
সব কিছু নিয়ে মত্ত থাকলেও, আমার প্রতি কারুর ভাবাবেগ নেই আহামরি।।
উদযাপনের দিন মোর আগমন আর ওইদিনই শেষ মোর আতিথেয়তা,,
সেইদিনই পাই আদর আর সম্মান যেদিন বাড়িয়ে দিই/দেই দুই হাত ভরে সহযোগিতা।।
দেখনদারি মোর ঐশ্বর্যবান, আড়ালিত মোর কর্মদক্ষতা,,
এভাবেই আকৃষ্ট তিরঙ্গার রঙের পটি কিন্তু অপ্রকাশিত অহিসাবিক রক্তের ছটার সুন্দরতা।।
যতদিন এই মোর দেশের একটুকরোও স্বাধীন ততদিনই কিন্তু আমি জীবিত,,
তবুও আমি চাই শুধু এই দেশের চোখেই নই/নয় সবার চোখেই হতে প্রতিষ্ঠিত ।।
সর্বাঙ্গে নীরবতার রব(নীরবতার সব)
নীরব আকাশ নীরব বাতাস নীরব সমাচার ;
নির্মমতার এই দেশে নেইকো সবার সমান পরিহার।।
নীরব যন্ত্রণা নীরব অভ্যর্থনা নীরব অসহ্যতা ;
একাকীত্বের জমানায় কারো নেইকো অতশত লভ্যতা।।
নীরব আশা নীরব আক্ষেপ নীরব অত্যাচার ;
একত্রিত সংসারেই ক্রমাগত চলছে অদ্ভুত সংহার।।
নীরব বাসিন্দা নীরব দুবেলা নীরব পায়চারি ;
আবেগের এই সমাজে প্রত্যেকটাই কেমন আহামরি।।
নীরব পদ্ধতি নীরব আসক্তি নীরব স্বস্তি ;
সফলতার সময় ধুমধাম সমস্ত রকমারি প্রস্তুতি।।
নীরব তিক্ততা নীরব ক্ষমতা নীরব আতিথেয়তা ;
এমন ব্যাতিক্রমী রীতিনীতিতেও ভর্তি কেবল দারিদ্রতা।।
নীরব হিসাব নীরব খরচ নীরব খচখচ ;
আশা ভরসার বিশ্বাসে আটক রয়েছে কতই কবচ,,
নীরব শাসন নীরব আসন নীরব প্রশাসন ;
সবেরই পূর্ববর্তীর খতমেই হয় পরবর্তীর আগমন।।
নীরব সময় নীরব অভিনয় নীরব সংশয় ;
থাকলে বর্ণময় আর চলে গেলে বিশাল অপচয়।।
নীরব আগমন নীরব পরিবর্তন নীরব প্রত্যাবর্ধন ;
নীরবতাই দিয়ে শুরু সবকিছু আর অবশেষে নীরবেই সব অবসান।।
বর্তমানের আশা ভবিষ্যতের পাওনা
(মোদের আশা মোদের ইচ্ছা)
মোরা চাইছি নাকো সভ্যসমাজ, চাকরি যেথায় ব্যাতিক্রমী পর্যায়,,
মোরা চাইছি নাকো যুগন্নতি, পয়সা যাদের মুখ চালায়।।
মোরা চাইছি নাকো আদর–আবদার, দানশিবিরেরে মত হাত পাতায়,,
মোরা চাইছি নাকো ডিগ্রি পেয়ে, একই ধাপে একই সঙ্গে পথ চলায়।।
মোরা লড়ছি নাকো একটুকুই, মরছি অল্প করে পদক পাওয়ার আশায়,,
মোরা লড়ছি নাকো নিজের সঙ্গে, রাখছি নজর পাশের জনের সফলতার রাস্তায়।।
মোরা লড়ছি নাকো রোগের সঙ্গে, বাস্তবে নিজেদেরই মানসিক ঘেরাটোপের দোরগোড়ায়,,
মোরা লড়ছি নাকো পরিবর্তিত দুনিয়ার সঙ্গে, দেখছি শুধু সাময়িক ভালো থাকার ব্যাবস্থায়।।
মোরা বুঝছি নাকো ঠকবাজদের, যারা কমে দিয়ে বেশি ফায়দা লুটায়,,
মোরা বুঝছি নাকো চাহিদাটা, যেটা বিলিয়ে দিয়ে পরে ফিরিয়ে নেয়।।
মোরা বুঝছি নাকো সময়সূচী, যেটা সমজমাধ্যমের মধ্যেই আটকে যায় ।।
মোরা বুঝছি নাকো ব্যাবস্থাকে, যেটা আমাদের ভাবনাগুলোকে ডুবিয়ে দেয়।।
মোরা দেখছি নাকো আর আকাশটাকে, কেমন যেনো দিন দিন পর্দার আড়ালেই ঢেকে যায়,,
মোরা দেখছি নাকো নিজেদেরকে, যেথায় বর্তমানটা অতীত দেখে লজ্জা পায়।।
মোরা দেখছি নাকো ক্ষমতাটা, যেটা সর্বদা প্রতিপক্ষের থেকে একধাপ এগিয়ে দেয়,,
মোরা দেখছি নাকো বাজারটাকে, যেটা খরিদ্দারের ধরন দেখে দাম বাড়িয়ে নেয়।।
মোরা পারছি নাকো চিৎকার করে, দঙ্গলটাকে থামাতেই হচ্ছি ফের অসহায়,,
মোরা পারছি নাকো সত্যিই বলতে, আশকারা নিচ্ছি এখনো মিথ্যার বাসনায়।।
মোরা পারছি নাকো নিজের কথা বলতে, আছি কেবল আশেপাশের চাহিদায়,,
মোরা পারছি নাকো আটকাতেই, যাচ্ছে শুধু দিনগুলো করে শুধুই হায় হায় !!
ভালোবাসা কি বল ?
ভালোবাসা ভুল কি বল ?
তাকেও কথা দিয়ে আসি চল
বাইরে কি আর ফেলে ঢুকি ?
ভেতরে একবার নিয়ে যাবো বল।
ভালবাসারা কি সত্যিই পাগল
যারা বন্ধনটাকে রাখবে বলে
তাদেরকে কিকরে বলি বল?
এবারে
ভালোবাসা ভুল কি বল ?
ভালোবাসাই কি এক্কেবারে ছল ?
নিশানা দাগিয়ে মনের মাঝে
তারা লাগায় যে এতটা দোল।।
ভালবাসায় কি জানতে পারিস
লুকিয়ে যে দিচ্ছিস শিশ ?
একটা চুমুই যেনোতো মুখের খাবল
তাহলে
ভালবাসা ভুল কি বল ?
আকাশ
আকাশ তোমার মেঘের খেলা, নিজের শুধু ফাঁকা অংশ,,
আকাশ তোমার খালি এলাকা বইছো বোঝা অপভ্রংশ/নিঃসংশ।।
আকাশ তোমার জাদুর খেলা, আছে অভিজ্ঞতা বহু রঙ্গমঞ্চের,,
আকাশ তোমার চিরকালের জগৎ, তাইতো পারো ভোগ করতে সবের।।
আকাশ তোমার এপাশ ওপাশ, চারিদিক দখলের আছে দলিল,,
আকাশ তোমার গর্ভে জন্ম মৃত্যু হয়ে, কতই বা হয়ে আছে সাবলীল।।
আকাশ তোমার যেনো দূরত্বটা, কেমন যেনো বেশিই লাগে,,
আকাশ দেখলে তোমায় খালি চোখে, কেমন যেনো বিধাতা জাগে।।
আকাশ তোমার কোন নিলামে সুযোগ জোটে, একটুকুই হতে চাই ভাগীদার,,
আকাশ তোমায় দেখে যুগান্তর হয়ে যায়, চলে যায় কতই লুকোনো দেনাদার।।
এভাবেও ফিরে আসবো
দুর্দশা দেখে সবাই শুধু ছি ছি,,
কাছে এসে কেউ বলে নাকি, " আরে হলো টা কি ??"
খালি শুধু দোষ খুঁজে, কারণটা করে অন্বেষণ,,
সময়টা মেপে দেখে বলে," অন্য কাজ করা বারন।।"
তাকিয়ে দেখি অতীতের ফুলঝুরি বাষ্পহীন,,
পাশেরজনকে ডেকে বলি," যন্ত্রনাটা এমন কি রঙিন ??"
ফিরে আসার রাস্তাতে আর যেতে ইচ্ছে নেই,,
শত ভেবে চিৎকার করে বলি,"এদিকেই যাবো যেমনি হোক কামাই"
পাপগুলো ঢাকা থাক, উন্মোচনে গালাগাল শুনে লাভ নাই,,
কাগজগুলো বিছানার তলায় লুকিয়েও ভাবি," এখানে তবুও বিপদ নাই".
আকর্ষণের থেকে বহু গজ বাইরে, তাই ঘুরেফিরে বোঝারও ইচ্ছে চাই,,
যেখানে বুঝে দেখি ভালোবাসা আগমন, সেখানেই হাত জড়ো করে বলি,"আমার কাছে এসো না আমি পাগল মানুষ ভাই".
অভিশাপ
জানিনা তুমি কি বুঝবে না ?
দয়া করে আমায় আর খুঁজবে না,
আমার দুঃখে মন ভরে নিয়ে
প্রতিজ্ঞা করো কবিতায় উগরাবে না।
জানিনা পুনরায় ভালোবাসবে কিনা ?
আমার জীবনে আর ফিরে আসবে কিনা ?
তোমায় আগামীতে ভালো দেখতে চেয়ে
মায়ের আবদারে দুজনার মিলন এজন্মে হবেই না।
জানিনা কেনো সময় খরচ করো, ফেরত তো পাবে না
আমায় আরও ডাকাডাকি করলেও, সাড়া যাবে না
সামনাসামনি পাশ কাটতে দেখে
আমার মত আবার বাড়িতে গিয়ে কেঁদে ভাসিও না।
জানিনা এত সংবাদের উত্তর পাবে কিনা ?
তোমার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখতে পারবো কিনা ?
অন্য সম্পর্কের দোলাচলে আটকে
যাহোক তোমার স্বপ্নগুলোর মধ্যে ডুবতে হবে না।
জানিনা ভবিস্বতে দেখা দেবো কিনা,
হয়তো তোমার মত দ্বিতীয় খুঁজেই পাবোনা।
তবুও তাকেও নিজের করে ভেবেই
পুরনো অভিলাসের স্মৃতিতো বাকিজীবন হারাবো না।।
একী
তুমি মনের মধ্যে আসো কি ??
আমায় ভালো বাসো নাকি ??
এক কোণেতে কেমনে লুকিয়ে বেড়াও,,
এবার বলো আর ছাড়বে কি ??
তুমি কি কাছে আসবে না ??
বলো আমায় ভালো বাসবে না ??
আমার মনের মধ্যে, কত কি লুকায় আছে,,
তুমিই না এলে সে যে মনে পড়বে না ??
কাছে আসাও টা পাপ কি ??
তোমারও লুকিয়ে অতীতের ঝাপটা নাকি ??
আমি সবার সামনে বলতে রাজি,,
তুমি সেসব কথায় সায় দেবে নাকি ??
আমার দিকে ঘুরে তাকাও না ??
একবারও সবের সেরা মানোই না ??
এতটুকুরই মধ্যে বিচার না করে ,,
একবারটি ঘুরেফিরে যাচাই করে দেখোই না ??
তোমাকে কতটা চাই
আরে জানোইনা তুমি
তোমাকে আমি কতটা চাই
বোঝইতে পারিনা কিছুতেই
তোমার আমি কতটা পাই
কোথায় মিলে গো অমিলে ?
আমারও তোমারও
খুশিরও ঘর থেকে দোর
কেনো জাগি ও মাগি ?
আমারও তোমারও
দিবালোকের রাত থেকে ভোর
কিভাবে মরিওনা আমি
তুমি চলে যাওয়ার পরপরই
অভাবে হারাইওনা আমি
শুধু হই একা থেকে একাকীই...
আরে ভেবে দেখনি তুমি
আমারই কথা
জানিনা কেনো ডাকনি তুমি
বয়ে এতোসব অযথা
কোথায় রও গো একা
বানিয়ে কি দেবে
আমায়ও একটা ঘর
সুখে বাঁচোতো বেশ
নিয়ে কি নেবে
আমারই অবসর
কেজানে কেনো রাখোনি তুমি
নাম গোত্রের ভাগবিশেষ
আজও কেনো আর বয়ে বেড়াও
অস্থির শেষ অবশেষ
বিচ্ছেদের সম্পর্ক
মা বাবা দুই পাশে
মাঝে শুধু দাঁড়িয়ে বিচ্ছেদ
আমি আটকে সেইখানেই
একটা ভাগাভাগি সম্পর্কের জেদ
দুজনে যবে আলাদা হবে বলে
আমার কোনো নাজানা মত জড়িয়ে নেই
কোন স্বামী স্ত্রী বাচ্চাদের জিজ্ঞাসে ?
তাদের কথা কি দরকার লাগে মানতেই
আমাকে দাও দিয়েই বাবা নতুবা মার কাছে
দুজনের কাছে একবার আধবার যেতেই চাইনা
ফেরি হওয়া ভালো লাগে ফেরিওলার কাছে
হে ভগবান, আমি একজন কারোরই হয়ে যাইনা
আজকাল ভাবতেই পারিনা
আমি তাদের ভালোবাসার ফল স্বরূপ
দুজনায় মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলে
ভাবি রাতের যৌন সম্পর্কের বাধ্যরূপ
যাহোক আমাকে দূর করলেই
এগিয়ে যাবে নিজেদের নতুন জীবনের মধ্যে
দেখতে গেলেই আমিই তো এই সম্পর্ক
আটকে রাখার বা চলতে থাকার খোট
না ভাঙতে দেওয়ার আকাল জোট
আমি যদি নাইবা হতাম
কিংবা হওয়ার আগে যদি আলাদা হয়ে যেত
চারিদিকে এত চর্চা না টেনে বেরোত
গালিগালাজের আওয়াজটুকু না পৌঁছত
দেখতেও বিভৎস লাগে
তাদের নতুন সম্পর্কগুলো
নিজের বাবা নতুন মার নামে অন্যে মেয়ের সাথে
সেরকম মাও নতুন বাবা করে অন্যে ছেলের হাতে
আমি তো জন্মের আগে এরকম জানতামইনা
উপরলা হয়তো প্রতীক হিসেবে পাঠিয়েছেন
কেনইবা হলাম দুজনের চলা সুন্দর সম্পর্কে
এই করেই ভগবান আমার জীবনটাকে মাড়িয়েছেন
কী জানি আগের জন্মের কিসের প্রতিশোধে এমন বানিয়েছেন
হয়তো টাকা পয়সা সব সুযোগ সুবিধা পেতে পারি
বড় হওয়ার জন্য আয়েশিও করতে পারি বাড়াবাড়ি
হয়তো সাধরণেরা ঠিকভাবে বুঝবে নাথাকা মা বাবার তর্ক
কিন্তু বুঝবেনা তার চাইতেও বেশি জ্বালায় থেকেও দূরে থাকার মাবাবার সম্পর্ক।
যদিওবা নূতনজনের কাছে
কিবাই বেশি চাইতে পারি
কাজের চাপের জন্য যখন
নিজের বাবা মারই সময় নেই
তখনি তো গড়ে ওঠবে এমন বিভেদে
আলাদা হওয়ার সম্পর্ক ঘরেঘরেই
সমতা বিধান
সমান চাইকি বেশিতো কমনয়
যেনো আবার দামী পাই কমজোর নয়
মাতাল চাই কামখোর নয়ই নয়
যেনো একদম সবল পাই জোচ্চুরে নয়।
একটু এগিয়ে থাকা চাইনাকো
সমতার অভিধান খুলে মিটিয়ে দাও
এক্কেবারে সমান শরীর গড়ন করে
উঁচু শরীরের লোভ ভুখটা মিটিয়ে যাও
শক্তি হোক সমান আবার
যাতে জোরাজুরি করতে না ছাড়ে
উচ্চতা দাও বাড়িয়ে মোদের
যাতে বিদেশিদের মত চিনতে না পারে
সঠিক কাজটা দাও দেখি
যাতে সবসময় ছোট না করতে পারে
টাকাটাও একই পরিমাণ মাপো
সংসার যাতে দুজনের পয়সায় চলে
গুরুত্বটা বুঝিয়েই ছাড়ো
যাতে কিছু না করলেও হবেনা নাবলে
সবজায়গায় বেরোনোর সময় না সঙ্গে করে
আমাকে নিজের মতো করে বেরোতে বলে
অন্তর্যামীর মাথাযন্ত্রনা
চিন্তা তাকেও খাইয়ে দেয়
যে সৃষ্টি করে
দৃষ্টি তাকেও বুঝিয়ে দেয়
দাঁড়িয়ে যে দেখে,
তেষ্টা তাকেও মিটিয়ে দেয়
যে ভাবে জলনষ্ট করে
আস্থা তাকেও মেরে দেয়
যাকে ইচ্ছা বাঁচিয়ে রাখে।
শ্রবণ তাকেই বলে দেয়
যারা করার চেষ্টা করে
প্রশ্ন তাকেই শুনিয়ে দেয়
যে উত্তর দেখে বলে,
পেট তাকেই জানান দেয়
যে কথা ক্ষিদে জানে
মালিক তাকেই ভরসা দেয়
যে সত্যি কথায় চলে।
মানুষ তাকেই ভুলে যায়
যারা একই পথ হাটে
উন্নতি তাদের দেখিয়ে দেয়
যারা ঝুঁকিগ্রহণ করে,
ফোন তাদেরও হারিয়ে দেয়
যিনারা মেতে থাকেন
কাজ তাদেরও বাকি রাখে
যিনারা কাজ ভাবেন।
হিংসা অভাবেই মিটে যায়
যেভাবে রাগ করে
পরিচিতি এভাবেই ফিরে পায়
যেভাবে হরণ করে,
সখ তাদেরই রোজগার দেয়
যারা রোজের মত কাটায়
পয়সা দেখে দেখেই চিন্তা দেয়
যার সম্পত্তি নিয়ে মাতায়।
ভালবাসা তাদেরই ধোকা দেয়
যেকটা সারাদিন পড়ে থাকে
সম্পর্ক তাদেরই ভেঙে যায়
যেকরে হাজারো গড়ে রাখে,
বিবাহিত স্বভাবেই রয়
যারা চাহিদার ভুখী নয়
জীবন এভাবেই টেকে
যাদের এটা নিয়ে মাথাব্যথা নাহয়।
সুন্দরতায় মজে আমরা
সুন্দরতা ভগবানের নতুবা বাবামায়ের
তাতেই এতোবা গর্ব কিসের।
কাজটা নিজের শরীরের উপর করো
দেখাও এতে জোর কাদের
রূপ যদি খাইয়ে দেয়
একটা দুটো প্লাস্টিক সার্জারি করে লিও
রূপ যদি কামিয়ে দেয়
দু চারটা রূপসীকে বিয়ে করে নিও
সুন্দরতা যদি পরিচয় দেয়
তাহলে সুন্দরী দেখে সিঁদুর দিও
সুন্দরতা যদি ভালবাসা দেয়
তাহলে ভালবাসাকে সুন্দর বানিও
ফর্সা যদি প্রজন্ম দেয়
কালভর বিদেশী বউ ধরো
ফর্সা যদি সম্মান দেয়
না খুঁজে নিজেকে পরিস্কার করো
সৌন্দর্য যদি চর্চা দেয়
মেকআপ বক্সকে সঙ্গিনী মানো
সৌন্দর্য যদি মজা দেয়
মানুষ না নিয়ে খেলনাকে সঙ্গী জানো
শরীরী গঠন যদি নজরকাড়া চাও
কাস্টোমাইজ পুতুল ব্যবহার শিখো
শরীরী গঠন যদি নিখুঁত চাও
এবার কেনা রোবটকে জীবনসঙ্গিনী রাখো
সম্পর্ক যদি দীর্ঘতা চাও
সময়মাফিক ডিভোর্স করে ফেলো
সম্পর্ক যদি দুধেল চাও
যৌন কার্টুনকে বিয়ে করে খেলো
শরীর, রুপগুনকে বদলানো যায় না
পাল্টানো যায় মানবিক চিন্তাকে
অপারেশনে যদি কেটে জুড়ে বাড়ানো কমানো হতো
যদি সবকিছু সঠিক পাওয়া যেত
তবে সেটা ভগবানের তৈরি নানাবিধ মানুষই হবে না
আর আসবে না
যারা আসার চলে আসবে
কিন্তু মনে হচ্ছে সে আর ফিরে আসবে না
মুনি, জ্যোতিষী, পণ্ডিতেরা যা বলেছিল
আজ তা সত্য হলো
সে আর ফিরে এলো না।
আসবো আসবো করে করেও দেখলাম
আলতো দূরে হাতের নাগালের মধ্যে থেকেও
ভালবাসাটুকুও দিলো না
নিজে আসবে বলে জায়গা আটকে
সত্যিই দ্বিতীয় আর কাউকে আসতে দিলোও না ?
আজ আসছি কাল আসছি
ফেনা ভাত দিয়ে ডাল মাখছি
এমন অবিশ্বাসের জবাব দিলোও না !!
এইতো এলাম বলে বলেও
সে কোথায় আর আসলো না ?
এখন শাড়ি বাছছি, দুল পড়ছি
দেখ ব্যাগ গুছচ্ছি, জামাকাপড় ভাঁজছি
এমনি অজুহাতের কারবারে যা বোকা বানালো না
যেকিনা আসবে আসবে করে আশ্বাস দেয়
সে আর এজন্মে আসতেই পারল না !!
দাঁড়াও তো মাকে প্রনাম করছি, বাপের ঘর ছাড়ছি
এবার দোরের বাইরে বেরোচ্ছি, জিনিসপত্র গাড়িতে রাখছি
অমন বানিয়ে বানিয়ে কিযে গল্প বলো না
আমি এখানে বুসে বুসে ভাবতে থাকি
সেযে কেনো আর ঘুরে আইলো না ??
অমরার অমরত্ব
আমি চাই সবার মুখে
সবসময় নিজের নাম শুনতে
যুগে যুগে মনে থাকতে
কালে কালে অমর হতে।
আর থেকে যেতে এই দুনিয়াতে
সবসময়ের সংসারটা দেখতে
আর বাঁচতে একসাথে।
শিশুভ্রূণটা যেদিন অমরার
পরিচয় পেলো সদ্যজাতের
জন্ম নিলো এক জীবন
পূর্বজন্ম ভুলে পরজন্মের।
অতীত ভুলে বর্তমানের
এমন দিতে পারবে কেউ উদাহরণ ?
বাদে মানবজাতির এই পরিবারের।
প্রাণীর জন্মমৃত্যু আছে
অমরার অমরত্বর কাহিনী বেঁচে
শুধু জীবনটুকু দানে মিলে
প্রবেশ করে আত্মাযুক্ত শরীরে।
কাটিয়ে গড়ে গোটা কয়েক বছর
জীবনটাকে ফিরিয়ে দিয়ে
যায় খোঁজে নতুন গর্ভবতীরে।
কেনই বা হয় এই যাওয়া আসা ?
থাকতে চাই নিয়ে সবের ভালোবাসা
ডাক পড়ে উপর থেকে হটাত করে
কে জানে কোথায় রয় ঘরে বাইরের।
চট করে একটা শূন্যস্থান সৃষ্টি করে
ভুলে যাওয়া আর চেনা পরিচিত
কিছু লোককে কাঁদিয়ে বিদায় নেয়
সবার পরিচিত একটা গঠনগত সম্পর্কের।
আবার দেখা হবে
বড়জোর বছর আঠেকের চেনাজানা,
বিগত দুই বছরের পরিচয়।
মাঝেমধ্যে যাওয়া বেশিরভাগ ঘরেই কাটত
মহামারীর পরবর্তী সময়।
শেষ বাইস মাসের উপস্থিতির হিসাবও
সরকারি খাতাকলমে নয়ছয়।
রংবদলের মরশুমে, যোগাযোগ বদলায় অনেকে
অজুহাত দেয় তারাই, সময়কে দিয়েছে যারা মিছিমিছি কাটাতে।
পড়াশোনার নাম করে, ব্যাগনিয়ে ঘুরে চত্বরে
কম পড়ে পাশ করার নেশার তাগিদে, পেছনে ঘুরে সেরার সাহায্যের চক্করে।
শিক্ষকদের সমর্থন হাতজোড়া, হোয়াটসঅ্যাপের উপলব্ধি চব্বিশ ঘণ্টা করে সাত দিনে
যদিওবা দরকার নাই, যেযার মত প্রস্তুতি নিচ্ছে, কাউকে না জানিয়ে লুকিয়ে গোপনে
কত নতুন সম্পর্ক–খালাসী মনের পেছনে মুখচোরা
কথাবার্তার শুরু এই সময়ে, আলতো আলাপে মনোহরা।
ভাগাভাগি করে পাশকরা–অবস্থানের দৌরাত্ম্যর অবসান
হাতাহাতি শেষ কোন যুগে, এবারে সামাজিক মাধ্যমের অবদান।
দরকারি যোগদান দিয়ে–পর্ষদের নিয়মে পাশে পাশ থাকা দরকার
খাতার প্রশ্নের মান সেট করে, সঠিক শায়েস্তা থাকল দিতে সরকার।
একের লেখা দেখে টুকাটুকি–ভাগাভাগির সুযোগ অনলাইন মায়াজালে
ভুলভাল সবকিছু হুবহু উঠে যায়, কেউ কোনকিছু না বাতলে
সবাই এক জায়গায় একই পড়লে, সাফল্যের কখনও ফারাক থাকে?
শিখরে পৌঁছায় তারাই, যারা কাঠিন্যের মধ্যে আকেবাকে।
কেউ নারাজ কেউ টানে জড়াচ্ছে, চলছে সবদিকে নজরদারি !
সবার পথচলা হতে পারে অন্যভাবে, ঘুরেফিরিয়ে সেটাই এখন দরকারি।
আজবাদে আগামী নিয়ে আলোচনা হবে, যোগ্য জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটা পদক্ষেপ ?
কাউকে এতদিনে কোনকিছু না বলার পুষতে হতেও পারে সারাজীবন আক্ষেপ ;
আলাদা হলে কেবল পড়ে থাকে বন্ধুত্ব আর শ্রদ্ধা, শত্রুপক্ষ ঘুচিয়ে যায় ?
দেখা হলে না জেনে না বুঝে একটা মুচকি হাসিই এর জানান দিয়ে চলে যায়
দেখা হবে কোনোদিন হয়তো পুনর্মিলন সভায়
দেখব বাহারি পোশাক আশাক বদল এনেছে ভারী জোছনায়
চিনতে পারার ভঙ্গিমায় অগত্যা নজর লুকিয়ে আড়চোখে
মনকে দিচ্ছ জোর ভাবতে স্মৃতির জোয়ারের কোনদিকে ?
এগিয়ে এসে হাত মিলিয়ে বুকে জড়িয়ে গল্পকরা শুরু অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনায়
দুয়ের কালের শতীন ঘুচে গেছে এক বাতাসি নদীর মোহনায়
পরিবার সংসারের খোঁজখবর শেষে কিছুক্ষণ বাকি থাকলে
নিজের জীবনের কথা ওঠে ভালো খারাপের বেলায় মন উথলে
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় কেবলি ফোন নাম্বারটা উঠে ডায়াল খাতায়
কিন্তু বাড়ি ফিরে দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রামে দুমিনিট কথা বলার সময় হয়নাই ব্যস্ত এই দুনিয়ায় !!!!
আমি শুধু চেয়েছি, তুই থেকে তুমি
আমি কেবলই শুধু সাইকেল চালাচ্ছি, পেছনে কিন্তু বসে তুই !
কাঁধে নাহয় কোমরে হাত দিয়েই থাকিস সাধারণত, তাতে আমাকে কিছু মানছিস নাতো শুধুশুধুই ?
দুজন বন্ধু মিলে একসঙ্গে যাই বলে, মনেমনে জোরাজুরিতে গুনগুনাচ্ছিস তুই ?
ব্যাগটা তোর কোলে রাখি বলে ভাবিস নাতো, সব জিনিসপত্র নিজের ভেবে নিজের মতো ছুঁই ?
এরকম করে চলে পড়াশুনার দিনগুলো, ধীরগতিতে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলছি মোটামুটিই !
ফোনটা প্রায়শই তোর কাছে থাকে, না বলে পকেট থেকেই বের করে নিস।
তোর ঘরে গাদা পড়ে থাকলেও আমার ব্যাগের চিপস থেকে বিস্কুট দেখতে পাই হাতেই নিয়েছিস।
টর্চের আলোটা রাস্তায় ঠিক জায়গায় দেখা, লোকের চোখে মেরে গাল শুনে কি মজা পেয়ে থাকিস বলদেখি ?
সামনের চেনটা খোলে দেখ একটা দামী জিনিস আছে বের করে দে তোকে না দিয়ে সাথে রাখি ;
বুকপকেট থেকে কাগজ কলমটা বের করে রাখ একটা কথা আমি বলছি তুই সেটা লিখে রাখ যাতে পরে সেটা হয় মোর লেখালেখির মনসাথী ।
আচ্ছা বল দেখি, তুই আমাকে বন্ধু হিসেবে বা নিজের মনে করে তো ভালবাসিস না ?
লোকে সন্ধ্যার অন্ধকারেও দেখে নানাকিছু ভাবতে থাকে, আশা করি তাতে আমার মত তোরো কিছু যায় আসে না ?
নিজের বাকি বন্ধু বান্ধবীরাও গোপনরহস্য উদ্ভব হবে বলে কল্পনা করলেও তুই ভালো করেই জানিস আমাদের মধ্যে এসব কিছুই নেই।
অজান্তে নাইবা হলে আমি অদরকারে তোর গায়ে হাত দেই না, যদিওবা তোর স্পর্শ লেগে আমার জামাতেই,
সবসময় না জানিয়ে প্যান্টের সামনের বা পেছনের দুই পকেটের জিনিস বের করে দেখি লেগে আছিস দেখাদেখিতেই।
কাছাকাছি বা যৌনের সম্পর্কে আমি বন্ধুদের মধ্যে বিশ্বাসী নই,
দেখছি তুই কিন্তু মজে আছিস আমার লেখালেখির মধ্যে আর তিনশো কবিতাতেই
দুইজনকার পরিবার সব কিছু জানে তো বাকিদের জন্য ভাবা বা চিন্তা করা কিবা দরকার।
তুই আবার ভোটমুখী সময়ের মতো বদলাস নাতো সরকার ?
লাগাতার কথাবার্তা বলি বলে আবার ভাবিস না মেয়েদের মধ্যে তুই একাই আছিস লাগাতার।
এমনকি তুই আমার ভালবাসার নামটাও ভালো করে জানিস !
একবার নয় বারবার দেখে আর কথা বলে তার কাছাকাছি বন্ধু হিসেবে বেশ পরিচিত আছিস :
কিন্তু তুই চিনলেও জানিস না বুঝতে পারিস না তার সঙ্গে গোপনে লুকিয়ে, আমার মনের যাওয়া আসা লেগে আছে।
শরীরের দরজা বা কাগজের লাভলেটার খুঁজলেও খুঁজে পাবিনা কেনো সেতো এসবের মধ্যে নেই, তবুও আমার মনে জাল বেঁধেছে
তুই এতদিন থেকেও পারলু না যা সে আমার কাছে না থেকেও সবকিছু দেখে মেনে বুঝে, জড়িয়ে জেনে মিশে রয়েগেছে
আমার জামাকাপড় থেকে বাজার করার দোকানটাও, নয়কো তোর সব চেনা ?
সাইকেল খারাপ হয়ে গেলেও সারানার কিছুই তো দোকান, সেটাও তোর হাতেগোনা।
খেলার মাঠ, আড্ডার জায়গা দেখে দেখে সঙ্গে গিয়ে চেনা পরিচিতি বাড়িয়ে নিয়েছিস বেশ,
সকালের পেপার, খাওয়ার জলের ভাণ্ডার কোথা থেকে আসে তারও জমিয়ে রেখেছিস রেশ,
আমার ব্যক্তিগত জীবনের আর কিছু জানতে আছে তোর, বাকি অবশেষ।
আমি তো চেয়েছি শুধু তুই থেকে তুমি হওয়ার জন্য, কিন্তু সে আশা মিটছে দেখছি না !
তোর কথাবার্তা, ব্যবহার বাকিদের প্রতি দেখে সবাইকে নিজের মতো করে মানছিস না।
অল্পে রেগে যাওয়ার, গো পেতে না খেয়ে দরজা লাগিয়ে শুয়ে থাকার কষ্টের হিসাব বুজছি না ?
মাটিতে লেগে থাকা আর বড়দের সম্মান করা, সাধারণ জীবনযাপন করে কম খরচ করার লক্ষ্য তোর মধ্যে দেখছি আজীবনও পূরণ হচ্ছে না !
তোর সম্বন্ধে এরকম হলে তোকে আমি নিজেরমত করে মানতে পারছি না।
এত কিছু হওয়ার আর ঘটার পর তবুও তোকে কিন্তু আর বন্ধু হিসেবে ছাড়ছিও না।
তোমায় বলব আবার কি !
শুধু বলতে পারি ভালোবাসি
এর চাইতে বেশি নয়
কারণ তুমই যে বয়সে বড় আমার
যদিওবা এটা কি খারাপ হয় ?
তোমার রূপে আর কথায় ফিদা হয়েছিলাম
বয়সকে মাথায় রাখিনি একদমই
জানতে পেরেও দুঃখ হয়নি
জানি শুধুই লড়তে হবে তো এই দুঃস্থ সমাজের বিরুদ্ধেই।
আমার নয় তোমারো পেছনে লাইন ছিল অনেক
সবাইকার সামনে আঁকড়ে নিলেম তোমার বক্ষদেশ
দিদির মত মানবো নাকো এক্কেবারেই
মায়ের ভালোলাগায় জানাবো মোর পছন্দের আবেশ
তোমার শরীরী গঠনখানীও বেশ কিন্তু মজাদার
এর ভেতর নেইতো কোনো গোপন রোগের বাহার ?
রোগা বেঁটে মোটাসাটোয় তুমি সঠানুসঠিক জুটি
লুকিয়ে মেপে দেখেছি তোমার সব কিন্তু খাঁটি।
জমিয়ে গেছে তোমার লালি বয়েজকাটের কোকড়ানো ছোটো চুল
এরই সঙ্গে ঠিক মানিয়েছে সঠিক বাছা এমিটেশনের দুল।
স্মার্ট চলনে দোলনে মানানসই তুমি আমার পছন্দের সই
তোমার পড়াশোনায় এগিয়ে থাকা আর চাকুরীতে বেশি নোটের তাড়না সমস্যাই
তোমার বাবামায়ের মেনে নেওয়ার ধরনটা ঠিকঠাক
চেনাপরিচিত হয়ে একটা সম্পর্কে বেঁধে করেছিলাম অবাক
ভাইবোনেরা আমায় দেখে চাহনি হটাতে পারেনি একবারও
তোমাদের একসঙ্গে সহমত জানালো প্রিয় পালতু পাপ্পু কুকুরটাও।