#উচ্চশিক্ষা স্কলারশিপ নিয়ে কিছু কথা:

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা স্কলারশিপ এর সম্ভাবনা নিয়ে কিছু লিখবো কিন্তু সময় সুযোগের কারণে আর হয়ে উঠেনি রিসেন্ট সময়ে বিশেষ করে জুনিয়র ছোট ভাই বোনদের স্কলারশিপ এর বিষয়ে আগ্রহ দেখে আজকে আমার এই ছোট্ট জ্ঞান থেকে কিছু লিখা চেষ্টা করব বেশ কিছু দেশের স্কলারশিপ এর আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে একটা ব্যাসিক ধারণা দিতে


#স্বপ্নটাকে বড় করতে হবে:

আমার মতো দেশের বাইরে বা ভাল মানের স্কলারশিপে আবেদন এর ক্ষেত্রে বড় বাধা কিন্তু তথ্যের অপ্রতুলতা না বরং আমাদের নিজেদের মধ্যে চেষ্টা করার মনোভাব এর অভাব স্কলারশিপের জন্য তুমি সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড় সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তোমার যোগ্যতা আর তোমার স্বপ্নটাকে বড় হতে হবে আর সেক্ষেত্রে পরিশ্রম করে যেতে হবে সফলতা আসবেই ইনশাআল্লাহ


#কি কি স্কলারশিপ রয়েছে দেশের বাইরে?

বর্তমান সময়ে স্কলারশিপের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সবথেকে পছন্দের স্কলারশিপ এর মধ্যে অন্যতমগুলো হলো...

-South Korea: GKS Scholarship.

-Germany: DAAD Scholarship.

-Japan: Mext Scholarship.

-China: CSC Scholarship.

-Europe: Erusmus Mundus Scholarship.

-Sweden : Swedish Institute Scholarship.

এই সকল স্কলারশিপের অফারে যোগ্যতার ভিত্তিতে তুমি সব কিছুই পাবা যেমন: টিউশন ফি ফ্রী, থাকা+খাওয়া ফ্রি, হেলথ ইন্সুরেন্স ফ্রি, দেশে যাওয়া+আসার এয়ার টিকিট সাথে আরো অনেক অনেক কিছু


#স্কলারশিপের জন্য আবেদনের ডকুমেন্ট:

এবার আসো স্কলারশিপ আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে? ডকুমেন্টগুলো মূলত স্কলারশিপের জন্য প্রায় একই লাগে কিন্তু বিভিন্ন দেশ   বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে একটু চেঞ্জ হয় একটা ভালো মানের স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপুর্ন...

1) IELTS Score.

2) CGPA.

3) Publication.

এছাড়া অন্য ডকুমেন্ট এর মধ্যে Letter of Recommendation, SOP or Study Plan, Research Proposal, Motivation letters, Cover Letter, Research based CV, Job Experience, Extra Curricular Activities সমান গুরুত্বপুর্ন সকল ডকুমেন্ট এর মধ্যে যে কোনো টাই ঘাটতি থাকলে তোমাকে অন্য টির দ্বারা তা কভার করতে হবে যেমন কারো CGPA কম থাকলে তাকে IELTS Score ভালো করা লাগবে


#ডকুমেন্টগুলোর নূন্যতম যোগ্যতা:

IELTS Score তুমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবা তার উপর নির্ভর করে তবে মাস্টার্স এর জন্য 6.5+ Score রাখতে পারলে ভাল (তবে 6 Score দিয়েও অ্যাপ্লিকেশন করা যায়) IELTS এর প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সবথেকে মোক্ষম সময় হলো 3rd or 4th year এবং শেষ  সেমিস্টার অথবা অনার্স শেষেই IELTS এক্সাম দিয়ে ফেলা CGPA এর কোন নির্দিষ্ট লিমিট নেই তোমার যত বেশি সিজিপিএ হবে তত বেশি সুবিধা পাবে স্কলারশিপ আবেদন করার সময় সিজিপিএ 3.50+  রাখতে পারলে বেশ ভালো হয় আর পাবলিকেশন খুব জটিল একটা বিষয় এটা থাকলে খুব বড় সুবিধা পাওয়া যায় চেষ্টা করবা 7th সেমিস্টারে Project Work করার সময় গূরুত্ব দিয়ে করতে এবং তা সাবমিশন শেষে সুপারভাইজার বা শিক্ষক দের সাহায্যে নিয়ে ভালো একটা জার্নালে পাবলিশ করতে এছাড়া অন্য কোন সময়ে কোন সার্ভে বা রিসার্চ করে থাকলে সেটাও পাবলিশ করতে পারো ভাল কোন একটা জার্নালে, তবে অবশ্যই শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে আর অন্য সব ডকুমেন্ট এর ক্ষেত্রে আবেদন এর কিছু সময় হাতে রেখে সেগুলোতে মনোযোগ দিলেই ভালো একটা প্রোফাইল তৈরি করা যায় স্কলারশিপ এর জন্য


#স্কলারশিপে আবেদনের সময় প্রক্রিয়া:

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের সময় এর নিয়ম বেশিরভাগ স্কলারশিপের ক্ষেত্রেই বছরে দুইটা সময় আবেদন গ্রহণ করা হয় তা হলো সামার ফল সেশন (মার্চ এবং সেপ্টেম্বর) আবেদন প্রক্রিয়া ডেডলাইনের প্রায় তিন-চার মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় তাই নির্দিষ্ট সময় হাতে রেখেই মাঠে নামা ভালো স্কলারশিপের আবেদন মূলত দুইভাবে করা যায়, একটা হল যে দেশে আবেদন করবা সে দেশের গভমেন্ট স্কলারশিপ (মিনিস্ট্রি) বরাবর আর আরেকটি হল সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় এর মাধ্যমে মাস্টার্স পিএইচডি তে আবেদনের জন্য সুপারভাইজার বা প্রফেসর ম্যানেজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে ডেডলাইনের আগেই নির্দিষ্ট সাবজেক্টের প্রফেসরকে তাদের প্রোফাইল দেখে খুঁজে বের করে তাদেরকে -মেইল করতে হয় (তোমার সিভি) এক্ষেত্রে প্রফেসর তোমার প্রোফাইল দেখে তোমাকে Acceptance Letter দিবে যা স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কলারশিপ আবেদন এর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সেই বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েবসাইট অথবা স্কলারশিপ এর অফিশিয়াল লিংক এও  দেওয়া থাকে তাদের চাহিদামত আবেদনের সকল ডকুমেন্ট তাদেরকে কুরিয়ার করে পাঠাতে হয় অথবা -মেইলে সেন্ড করতে হয়


#সতর্কবার্তা:

আমরা বেশিরভাগ সময় যে ভুলটা করি সেটা হলো স্কলারশিপ বা দেশের বাইরে আবেদনের জন্য নিজে না বুঝেই কোন এজেন্সির কাছে চলে যায় এটা একেবারেই উচিৎ না একেতো এজেন্সিগুলো সঠিক তথ্য দেয় না তার ওপর ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই তারা বড় এমাউন্ট এর চার্জ পে করতে বলে তাই এদের  থেকে সব সময় 100 হাত দূরে থাকাটাই ভালো তা নাহলে ধোঁকা খাওয়ার বড় একটা চান্স থাকে


#স্কলারশিপের জন্য তথ্য সংগ্রহ:

ভালো একটা স্কলারশিপ পাওয়া বা দেশের বাইরে আবেদন করার ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্কলারশিপ এর সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা এক্ষেত্রে তোমরা আমাদের সম্মানিত শিক্ষকগন এখন  দেশের বাইরে যে সকল বড় ভাইয়া আপুরা লেখাপড়া করে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করবা, কেননা তাদের দেওয়া ইনফরমেশন গুলো তোমার স্কলারশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে


#তোমাদের জন্যই এই লেখা:

তোমরা যারা ফিউচারে দেশের বাইরে ভাল একটা স্কলারশিপের জন্য যেতে আগ্রহী তাদের জন্যই আজকে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস এর পরেও যদি কোন বিষয়ে কোন কিছু জানার বা কোশ্চেন থাকলে কোন সংকোচবোধ না করেই আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারো আমি সাধ্যমত চেষ্টা করবো তোমাদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার তোমাদের সবার আশাবাঞ্জক সাড়া পেলে সামনে আরো বিভিন্ন দেশ নিয়ে একেকটা আলাদা স্কলারশিপ নিয়ে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ সকলে আমার জন্য দোয়া করবা, আর তোমাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি


Md. Al-Amin

5th Batch, Dept. of Pharmacy

Varendra University.