হাউজবোটের বৈশিষ্ট্যঃ
৬ টি কেবিন, যে কেবিনে শুয়ে বসে পাবেন মনের প্রশান্তি আর চোখের আরাম।
জলরঙে একটা ছোট্ট মিউজিক কর্ণার আছে, গিটারের টুং টাং আর কাহনের ধুমধাম শব্দে হারিয়ে যাবে শহুরে কিছু বিষাদ। এছাড়াও আরো আছে লোকাল বাদ্যযন্ত্র।
লাউঞ্জে জল আর রঙ নামে দুটো বাজিগর পাখি আছে, আপনি চাইলে ওদের সাথে গল্প করেও কিছু সময় কাটাতে পারবেন, আর কিছুক্ষণ পর পর ওদের মিষ্টি কিচিরমিচির শব্দ কানে ভেসে আসবে।
নৌকার লাউঞ্জ আর ছাদে আপনার পছন্দের অনেক গাছ পাবেন, সন্ধ্যার পর চেয়ারে হেলান দিয়ে যদি নাকে আসে হাস্নাহেনা, বেলী, গন্ধরাজের সুঘ্রাণ।
নৌকা দুললে বাতাসে ভেসে আসবে একটা মিষ্টি আওয়াজ,কারণ একটা বড় বেল লাগানো আছে লাউঞ্জে।
ভালো না লাগলে উনো, দাবা, লুডু না টুয়েন্টি নাইনে ডুবে থাকুন।
পুরো নৌকা একদল পেইন্টারের রংতুলিতে আঁকা বিশাল ক্যানভাস। কোথাও ফোক আর্ট, কোথাও মিথলজি কোথাও বা চোখজুড়ানো আলপনা।
লাউঞ্চে বসার জন্য পুরোটা জায়গা, কিছু চমৎকার টুল আর একটা লো বেইজ বেড, মাথার উপর ঝুলে থাকবে রং-বেরঙের সুনিপুণ হাতের কারুকাজ।
ওপেন লাউঞ্জে কয়েকরকম আলোর ব্যবস্থা। একদম ভালো না লাগলে সব বন্ধ করে একটা ল্যাম্প জ্বালিয়ে রাখুন।
নৌকার সামনে একটা বড় বাগানবিলাস ফুল গাছ।
ছাদে সবুজ কার্পেট বিছানো এবং বসার ব্যবস্থা।
খাবার জন্য মাটির প্লেট, গ্লাস, মগ।
রুমে তিন ধরণের লাইট, চাইলে ধবধবে আলো অথবা মৃদু আলো, সেটাও ভালো না লাগলে সব বন্ধ করে রঙ্গিন ঝিকিমিকি আলো।
জানালায় দুই ধরণের পর্দা দেয়া। একটা একদম ট্রান্সপারেন্ট পর্দা, রোদ লাগবেনা কিন্তু পর্দা ভেদ করে ঠিক দেখতে পারবেন সুবিশাল জলরাশি আপনার জানালার ঠিক পাশেই। আবার চাইলেই আরেকটা পর্দা টেনে প্রাইভেসি নিশ্চিত করতে পারবেন।
ছাদে ডায়নিং স্পেস। ফ্লোরে কষ্ট করে খেতে হবেনা।
প্রতিটা কেবিনে গ্রামীণ মায়েদের হাতে বোনা নকশিকাঁথা জুঁড়ে আছে একটা গল্প, সেই গল্প টেনে গায়ে জড়িয়ে বৃষ্টিমুখর রাতে আরামের একটা ঘুম।
প্রতিটা কেবিনই ডোর লক, ভেতর এবং বাইরে থেকে লক করা যায়, বিশাল বড় বেড। একদম আরামেও তিনজন থাকতে পারবেন, আর বন্ধুবান্ধব হলে তো চারজনও।
পুরো বোটে সোজা হয়ে হাঁটার মতো উচ্চতা।
প্রতিটা রুমে আয়না আছে আর হাতে আর্ট করা পেইন্টিং, সাথে একটা রঙ্গীন মাথাল। চাইলে সে মাথাল পরে রিক্সায় বসে ছবিও তুলতে পারবেন।
রুমে তিনটা চার্জিং পয়েন্ট। ল্যাপটপ বা ক্যামেরার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য আলাদা পয়েন্ট।
প্রতিটি রুমে এবং ওয়াশরুমে ফ্যানের ব্যাবস্থা।
ট্যুরে এসে এখানের স্থানীয় বাবুর্চির হাতে রান্না হাঁসভুনা, হাওরের তাজা মাছ, আখনি বিরিয়ানি দিয়ে হবে উদরপূর্তি।
দিনে রাতে নির্দিষ্ট সময়ে জেনেরেটর সার্ভিস
সার্বক্ষনিক চা-কফি আর সুস্বাদু নাস্তা।
নিরাপদ সাঁতার কাটতে সবার জন্য লাইফ জ্যাকেট এবং লাইফ বয়া।
ছাঁদে উঠার জন্য ২টা সিঁড়ি।
সাবান, শ্যাম্পু, হাইজেনিক উপকরণ।
রুম ঠান্ডা রাখার জন্য ছাদ তৈরি করা হয়েছে ৬টি লেয়ারের মাধ্যমে। ।
ফিল্টার পানির ব্যবস্থা।
হাই কমোড, লো কমোড সহ বোটে মোট তিনটি ওয়াশরুম।
ছবি তোলার জন্য হাওরের সবচেয়ে বেস্ট হাউজবোট, যেদিকেই তাকাবেন শুধু রঙ আর রঙ।
ট্রিপ ডিউরেশনঃ ২দিন-১রাত
রুটঃ সুনামগঞ্জ টু সুনাগঞ্জ
দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
টাঙ্গুয়ার হাওর
ওয়াচ টাওয়ার সাথে হিজল/ করচের বন।
নীলাদ্রি লেক / শহীদ সিরাজ লেক
লাকমাছড়া (অটো/বাইক বা হেটে যেতে হবে, পার পারসন ৫০ টাকা খরচ হবে)
বারিক্কা টিলা
শিমুল বাগান
যাদুকাটা নদী
এছাড়া যাওয়া ও আসার পথে বৌলাই নদী, রক্তি নদী সহ মাটিয়ান হাওড় উপভোগ।
ভ্রমণ পরিকল্পনাঃ
০দিনঃ
এদিন রাতে ঢাকার সায়েদাবাদ বা মহাখালী থেকে আমরা রউনা দিবো সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে।
খাবারঃ ০+০+০
১মদিনঃ
আমরা সকাল ৬-৭টার মধ্যে পৌঁছে যাবো সুনামগঞ্জ। সকাল ৮-৯টার মধ্যে হাউজবোটে চেক ইন। প্রশাসনিক সকল কাজ সম্পন্ন করে সুনামগঞ্জ/তাহিরপুর থেকে বোট নোঙ্গর তুলবে। সকালের নাশতা করতে করতে আমরা পৌঁছে যাবো ওয়াচ টাওয়ার। সেখানে প্রাণভরে নদী ও হাওরে দাপাদাপি, গোসল ও নিজ খরচে ছোট নৌকায় হিজল-জারুল বন ঘুরে ফিরে আসবো হাউজবোটে। ফ্রেশ হয়ে আমরা রউনা দিব টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে অপরূপ হাওরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে সেরে নেবো দুপুরের লাঞ্চ। বিকাল নাগাদ আমরা পৌঁছে যাবো টেকেরঘাট। টেকেরঘাটে আমরা দেখে নিবো শহীদ সিরাজ বা নীলাদ্রি লেক। যেখানে শুটিং হয়েছিলো রায়হান রাফি পরিচালিত “সুড়ঙ্গ” সিনেমা। তারপর চলে যাবো লাকমাছড়া। চাইলে হেটেই যাওয়া যায় অথবা চাইলে নিজ খরচে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়েও যাওয়া যায়। সন্ধ্যা নাগাদ আমরা লাকমাছড়া থেকে ফিরে আসবো হাউজবোটে। এসেই ফ্রেশ হয়ে আমরা সেরে নিবো সান্ধ্যকালীন নাশতা। তারপর সন্ধার পর চাইলে চলে যেতে পারেন টেকেরঘাট বাজারে অথবা চাইলে সদলবলে হাউজবোটের ছাদে বসাতে পারেন আড্ডা, ইনডোর গেমস বা গানের আসর। রাত ৯-১০টার মধ্যে আমরা সেরে নেবো রাতের খাবার। তারপর যে যার মত রাতের হাওর বিলাশ করতে করতে ঘুমিয়ে যাবো।
খাবারঃ ওয়েলকাম ড্রিংক্স+সকালের নাশতা+দুপুরের খাবার+বৈকালীন/সান্ধ্যকালীন নাশতা+রাতের খাবার
২য় দিনঃ
এদিন খুব ভোরে আমরা রউনা দিবো শিমুল বাগানের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে হাওর অঞ্চলের গ্রামীন জনপদ দেখতে দেখতে সেরে নিবো সকালের নাশতা। শিমুল বাগান পৌঁছে আমরা ঘুরে দেখবো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত শিমুল বাগান। শিমুল বাগান থেকে হাউজবোটে ফিরে এসে আমরা হালকা স্ন্যাক্স খেতে খেতে জাদুকাটা নদী হয়ে পৌছে যাবো বারেক টিলায়। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা এই বারেক টিলা। এখান থেকে ভারতের মেঘালয়ে রাজ্যের বেশ কয়েকটি ঝর্ণা দেখা যায়। বারেক টিলার ছোট ছোট টিলা ও সীমান্তের সাথে জাদুকাটা নদী দেখে আমরা ফিরে আসবো হাউজবোটে। এরপর আমরা চলে যাবো জাদুকাটা নদীর অপর প্রান্তে। সেখানে হাউজবোট নোঙ্গর করে আমরা ঝাপিয়ে পড়বো জাদুকাটা নদীর হিমশীতল পানিতে। সারা দিনের ক্লান্তি, অবসাদ ধুয়ে মুছে নতুন এক উদ্দীপনা নিয়ে ফিরে আসবো হাউজবোটে। ফ্রেশ হয়ে আমরা নোঙ্গর তুলে রউনা দিবো তাহিরপুর/সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে। পথে আমরা পাড়ি দিবো বৌলাই নদী, রক্তি নদী, মাটিয়ান হাওর, শনির হাওরসহ একাধিক নদী ও হাওর। এর মাঝেই আমরা সেরে নিবো দুপুরের খাবার। তাহিরপুর/সুনামগঞ্জ পৌছুতে আমাদের বিকাল/সন্ধ্যা হয়ে যাবে। বৈকালিন নাশতা করে আমরা ভ্রমণের একরাশ নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে চেক আউট করবো হাউজবোট থেকে। তারপর আমরা ফিরতি যাত্রা করবো ঢাকার উদ্দেশ্যে।
খাবারঃ সকালের নাশতা+স্ন্যাক্স+দুপুরের খাবার+বৈকালীন/সান্ধ্যকালীন নাশতা
প্যাকেজে যা যা থাকছেঃ
২দিন-১রাতের জন্য হাউজবোটের ডোর লক কেবিন
সর্বমোট ৯-১০ বার খাবার
শিমুল বাগান এন্ট্রি ফি
পর্যাপ্ত চা/কফি
মিনারেল ও ফিল্টার পানি
অভিজ্ঞ গাইড
প্যাকেজে যা থাকছে নাঃ
কোন রাইড ফি, ফটোগ্রাফি ফি
লোকাল ট্রান্সপোর্ট খরচ
ব্যক্তিগত কোন খরচ
বীমা ও মেডিকেল ফি
প্যাকেজে উল্লেখ নেই এমন কোন খরচ
প্যাকেজ প্রাইসঃ
নন এটাচ বাথ ১ কেবিনে ২ জনঃ ৮৫০০/- জনপ্রতি।
নন এটাচ বাথ ১ কেবিনে ৩ জনঃ ৭৫০০/- জনপ্রতি।
বি.দ্রঃ ঢাকা টু ঢাকা প্যাকেজ নিতে চাইলে প্যাকেজ প্রাইসের সাথে ১৬০০/- জনপ্রতি যুক্ত হবে।
বুকিং পলিসিঃ
বুকিং এর জন্য অবশ্যই সম্পূর্ন প্যাকেজ প্রাইসের ৫০% অগ্রিম পেমেন্ট করতে হবে।
বুকিং মানি সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য।
শিশু পলিসিঃ ০-৩ বছরের বাচ্চাদের জন্য কোন ফি লাগবে না। ৪-৬ বছর বাচ্চাদের জন্য প্যাকেজ প্রাইসের ৫০% অফ থাকবে, তবে মা-বাবা'র সাথে রুম/কেবিন/বেড শেয়ার করবে। ৬ বা তার অধিক বয়সী বাচ্চাদের জন্য সম্পূর্ণ প্যাকেজ প্রাইস (জনপ্রতি হিসেবে) প্রযোজ্য হবে, এক্ষেত্রে সে এডাল্ট গেস্টদের সকল সুবিধাই পাবে।
বুকিং মানি পাঠাতেঃ
বিকাশ মার্চেন্ট নাম্বারঃ ০১৯৯৯-৫৯৮৭২৩ (১.৫% গেটওয়ে/ক্যাশ আউট যুক্ত করে "পেমেন্ট" করতে হবে। সেন্ড মানি করলে হবে না)
নগদ পার্সোনাল নাম্বারঃ ০১৯৯৯-৫৯৮৭২৩ (১.৫% গেটওয়ে/ক্যাশ আউট যুক্ত করে "সেন্ড মানি" করতে হবে। পেমেন্ট করলে হবে না)
ব্যাংক ট্রান্সেকশানঃ
মোঃ মোতাসিম মাহবুব
ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
মগবাজার ব্রাঞ্চ
একাউন্ট নাম্বারঃ 2861580002382
বুকিং মানি পাঠিয়ে ট্রান্সেকশান আইডি/স্ক্রিনশট "WhatsApp" এ পাঠিয়ে বুকিং কনফার্ম করতে হবে। বুকিং কনফার্ম হলে মানি রিসিট প্রদান করা হবে।
ক্যান্সেলেশান পলিসিঃ
হাউজবোটের প্যাকেজ বুকিং কনফার্ম করার পর কোনভাবেই ক্যান্সেল করা যাবে না। বুকিং মানি সম্পূর্ন অফেরতযোগ্য।
বুকিং করার পর ভ্রমণ তারিখ পরিবর্তন করতে চাইলে পরবর্তী তারিখে কেবিন/আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে "রিশিডিউল" করা যাবে।
নির্দেশনাঃ
ভ্রমণের সময় অবশ্যই সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন/ড্রাইভিং লাইসেন্স/পাসপোর্ট ও তার ২/৩ সেট ফটোকপি সাথে রাখতে হবে। হাউজবোটে চেক ইনের সময় হোস্ট/ম্যানেজার/গাইড/সারেং এর কাছে ফটোকপি জমা দিতে হবে।
হাউজবোটে কোন ধরনের রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা, বা প্রচারণা করা যাবে না। এই ধরনের কোন অনাকাংক্ষিত সমস্যায় হাউজবোট কর্তৃপক্ষ, স্টাফ, ম্যানেজার, গাইড, হোস্ট বা ট্রাভেল টেলস বিডি কোনভাবেই দায়ী থাকবে না।
হাউজবোটে সব ধরনের মাদক সেবন, পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরনের কোন অনাকাংক্ষিত সমস্যায় হাউজবোট কর্তৃপক্ষ, স্টাফ, ম্যানেজার, গাইড, হোস্ট বা ট্রাভেল টেলস বিডি কোনভাবেই দায়ী থাকবে না।
স্থানীয়দের সাথে কোন খারাপ আচরন করা যাবে না। ধৈর্য সহিষ্ণু থাকতে হবে। যে কোন সমস্যা হোস্ট/ম্যানেজার/সারেংকে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের মাধ্যমে টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা নেয়া হবে।
সর্বদা হোস্ট/ম্যানেজার/সারেং এর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ট্যুর চলাকালীন তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এক্ষেত্রে কারো কোন আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
বি.দ্রঃ একটি সুন্দর, প্রানবন্ত ও স্মরণীয় হাওর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পেতে সর্বাবস্থায় হোস্ট/ম্যানেজার/সারেংকে সহযোগিতা করুন।