মেধাশহিদ
শহিদ হলো মেধা
আর শহিদ হলো দীপ্তি,
রক্তস্রোতে ভাসাল জীবন
সত্যেই মোদের তৃপ্তি।
বুকে বিঁধেছি হাজারো বুলেট
শরীরে টিয়ার শেল,
দেহখানে শত ক্ষত-জখম
তবু নিস্তব্ধ দেহ রইল অমল।
মেধার দ্বীপ ছড়িয়ে দিলে
সূর্যকে দিলে প্রেরণা,
আকাশকে তুমি কাঁদালে আজো
তবু পাষাণ হৃদয় কাঁপলনা।
বাতাসে লাশের গন্ধ
কানে বাজছে বিষাদময় সুর,
আবারো রঞ্জিত হলো রাজপথ
কিন্তু সে পথ অসীম, পাড়ি দিতে হবে বহুদূর।
ওহে কাপুরষ, নরঘাতক পিশাচ
সেই আর্তনাদ কি এতটায় শ্রুতিমধুর?
সেই তাজা রক্তে কি পিপাসা মিটলনা?
নাকি খালি করবি আরো মায়ের বুক?
কিন্তু মোরা তৈরি রয়েছি
দিবো আরো রক্ত-প্রাণ,
ইতিহাস শিখিয়েছে মোদের
ঝরাও রোহিত, এই প্রকৃত দান।
আবু সাঈদের কাছে শিখেছি মোরা
উন্মুক্ত করো বক্ষ-বিধির,
ফারহান-ফাইয়াজের মতো হবো ফুল
মুগ্ধের মতো হও রণবীর।
আহাদ, রিয়া, হোসাইন, সামির,
ইফাত, মোবারক আর তাহমিদ,
ঝড়ে গেছে শত কচিপ্রাণ
প্রতিশোধই নেবো এবার এর প্রতিদান।
ধ্বংসের পথে পা বাড়িয়ে
সত্যকে করছো নিঃশেষ,
নীরবতার দেয়াল ভেদ করে
নতুন প্রভাত নিয়ে আসবেই বাংলাদেশ।
মেধার উজ্জ্বল দ্বীপ জ্বলে
বাঙালির অঙ্গনে,
নিশ্চিন্ত মনে অগ্রসর হয়
তারা সাহসের রণাঙ্গনে।
আসবে নতুন প্রভাত
হাসবে সোনালি নয়ন,
সত্যের তরে সংগ্রাম চলবেই
সাহস, অধ্যবসায় আর অনবদ্য এই হবে মোর পণ।
মেধাশহিদ, সব চলছে আলোর মশাল নিয়ে হস্তে,
বাংলার পতাকা বক্ষে,নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে।
মেধাশহিদ, তুমি চিরকাল অমলিন,
বিকাশের অগ্নিসাক্ষী, তুমি মরণকে করিলে বরণ।
মেধাশহিদ, তোমার স্মৃতিতে অনন্ত শ্রদ্ধা-প্রণাম,
স্বপ্নের সারতি, তুমিই বাংলা, তুমিই বাংলাদেশ।