মফিজের ক্ষেত, একটি ঘরোয়াভাবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ক্ষুদ্র মাপের কৃষি ও খামারজাত পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। মফিজের ক্ষেতের মূল্য উদ্দেশ্য হল পারিবারিক খাদ্যের অভাব ও প্রয়োজন মিটানোর পর অতিরিক্ত অংশ বিক্রয় করে নিজেদের আর্থিক উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মূলত, পরিবারের ১০-১২ জন প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য ও স্কুল পড়ুয়া কিছু শিশু কিশোর একত্রে মিলে এই উঠান ফসল ও উঠান খামার উদ্যোগটি পরিচালনা করে। গ্রামের বাড়ির আনাচে-কানাচে, উঠান, আঙ্গিনা, ছোট পুকুর, উঠানের কোনে হাঁসমুরগির খামার, গৃহপালিত পশুর গয়াল ঘর, ইত্যাদি স্থানে শাক, সবজী, মশলা, মাছ, মাংস, ইত্যাদির চাহিদা পূরণ করে সকল সময়ে এই ছোট পরিবারগুলোর। এসব পুষ্টিকর খাবার গ্রামের মানুষের কিনে খেতে হয়না, তাছাড়া এসব খাবার কিনে খাবার মত যথেষ্ট উপার্জনও গ্রামের পরিবারগুলো করে না। এমন ঘরোয়া উদ্যোগগুলোর উৎপাদনের পেছনে কোন অতিরিক্ত খরচ নেই। যেমন বীজ, সার, কীটনাশক, ইত্যাদি এমন কোন খরচ নেই বলা যায়। ধান ও গমের উচ্ছিষ্ট, সরিষার খৈল, ভাতের মার, ভুষি, খাবার ও শাক-সবজীর উচ্ছিষ্ট, সবুজ ঘাস, লতা-পাতা, ইত্যাদির সহায়তায় ঘরোয়া উদ্যোগগুলোর মূল উৎপাদন উপকরণ হিসেবে কাজে লাগে। গরু, ছাগল, মাছ, হাঁস, মুরগি, শাক-সবজী, এগুলো বেড়ে উঠে এসব খাবারের সহায়তায়।
মফিজের ক্ষেতে এখন পর্যন্ত ১৩ টি পরিবার একত্রিত হয়ে তাদের উঠান কৃষি ও খামারে উৎপাদিত খাদ্য তাদের নিজেদের খাবারের অভাব মিটিয়ে ঢাকায় অবস্থিত তাদের পরিবারের একজন সদস্যের মাধ্যমে শহরের প্রাকৃতিক খাবারের প্রতি আগ্রহী পরিবারগুলোর কাছে অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে অর্ডারকৃত পণ্য সরবরাহ করে থাকে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার।
শহুরে ব্যস্ত জীবনে প্রত্যেকটি মানুষের নিজের ও তার পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর, নির্ভেজাল, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য জোগাড় করা কষ্ট সাধ্য। সকলের এমনটা আগ্রহ থাকলেও এই খাবারগুলোর সংগ্রহ করার উৎস অনিশ্চিত। যেসব উৎস থেকে এই ধরনের খাবারগুলো সংগ্রহ করবেন সেসব উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য তা নিয়েও থেকে যায় হাজারটা প্রশ্ন। দিন শেষে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও স্বাদে অতৃপ্তি থেকেই যায়। মফিজের ক্ষেত তাদের দৈনিক কার্যক্রম প্রচার করে তাদের ফেসবুক পেজ, ফেসবুক গ্রুপ ও গুগোল বিজনেস একাউন্টে, যার মাধ্যমে একটি ফসল রোপণ-বপন থেকে শুরু করে ক্ষেত থেকে অর্ডার অনুযায়ী সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকিং, পরিবহন, ডেলিভারি ইত্যাদি সকল ধাপ গ্রাহকের কাছে থাকে স্বচ্ছ ও ভরসাযোগ্য। কোন পণ্যের ফলন কেমন হল, কোন পণ্যটি আজকে মাচায় পরিপক্ক হয়েছে বা দু একদিনের মধ্যে অর্ডার করে কিনতে পারবেন গ্রাহকেরা, এমন সকল তথ্য দৈনিক মফিজের ক্ষেত প্রচার করছে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এটি মূলত গ্রাহকের মনে সন্দেহ ও অনাস্থা জনিত সমস্যার সমাধান করে অনেকাংশে।
কোন প্রকার ফরমালিন ছাড়া, কীটনাশক ছাড়া, সার/রাসায়নিক উপাদান ছাড়া একমাত্র প্রাকৃতিক উপায়ে কোন ফসল বা গৃহপালিত পশু উৎপাদন বা লালন পালন করা হলে সেই সবজী বা আমিষ একজন গ্রাহক হাতে পাবার পরে এবং খাবার পরে সেটির স্বাদ, গন্ধ ও বাহ্যিক রূপ দেখে নিশ্চিতভাবে ধারণা করতে সক্ষম হবেন যে এই খাবারটি আসলেই প্রাকৃতিক নাকি এখানে কোন প্রকার রাসায়নিক উপাদানের সংমিশ্রণ আছে! মফিজের ক্ষেত এই বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করে যে, আমাদের নিজেদের ঘরে উৎপাদিত খাবারের বাইরে আমরা কোনকিছু নিয়েই বাণিজ্যিক প্রচার বা বিক্রয়ে আগ্রহী নই।