১/ আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আমরা মু'মিন মহিলারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ফজরের সালাত পড়তাম। অতঃপর তারা তাদের ঘরে ফিরে যেতেন এবং আবছা অন্ধকার থাকার দরুন তাদেরকে কেউ চিনতে পারতো না। [৬৬৭]
[৬৬৭] বুখারী ৩৭২, ৫৭৮, ৮৬৭, ৮৭২; মুসলিম ৬৪১-৩, তিরমিযী ১৫৩, নাসায়ী ৫৪৫-৪৬, ১৩৬২; আবূ দাঊদ ৪২৩, আহমাদ ২৩৫৩১, ২৩৫৭৬, ২৪৯২৬, ২৫৫৭৯, ২৫৬৯০; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪, দারিমী ১২১৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৫৭, সহীহ আবূ দাউদ ৪৪৯।
২/আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): "এবং ফজরের সালাত আদায় করবে। কেননা ফজরের সালাত বিশেষভাবে উপস্থিতির সময়" (১৭ : ৭৮)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ দিন ও রাতের ফেরেশতারা উপস্থিতির হন। [৬৬৮]
[৬৬৮] তিরমিযী ৩১৩৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬৩৫।
৩/ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আমি আবদুল্লাহ ইবনুয-যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে আবছা অন্ধকারে ফজরের সালাত পড়লাম। তিনি সালাম ফিরানোর পর আমি ইবনু উমার (রাঃ)-এর সামনে উপস্থিত হয়ে বললাম, এটা কোন্ ধরনের সালাত? তিনি বলেন, এটা সেই সালাত যা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাক্র ও উমার (রাঃ)-এর সাথে পড়তাম। উমার (রাঃ)-কে আহত করার পর থেকে উসমান (রাঃ) অন্ধকার দূরীভূত হলে সালাত পড়ার ব্যবস্থা করেন। [৬৬৯]
[৬৬৯] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ১/২৭৯।
৪/রাফি' বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা পূর্বাকাশ পরিস্কার হলে ফজরের সালাত পড়বে। কেননা তাতে রয়েছে অধিক পুরস্কার অথবা বলেছেন তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক বেশি নেকী। [৬৭০]
[৬৭০] তিরমিযী ১৫৪, নাসায়ী ৫৪৮-৪৯, আবূ দাঊদ ৪২৪, আহমাদ ১৫৩৯২, ১৬৮০৬, ১৬৮২৮; দারিমী ১২১৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৫৮।
৫/জাবির বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পশ্চিমাকাশে) সূর্য ঢলে পড়ার পর যোহরের সালাত আদায় করতেন। [৬৭১]
[৬৭১] মুসলিম ৬১৮, আবূ দাঊদ ৪০৩, ৮০৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪২৬।
৬/আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের সালাত আদায় করতেন। [৬৭২]
[৬৭২] বুখারী ৫৪১, ৫৪৭, ৫৯৯, ৭১১; মুসলিম ৬৪৭, নাসায়ী ৪৯৫, ৫২৫, ৫৩০; আবূ দাঊদ ৩৯৮, আহমাদ ১৯২৬৮, ১৯২৯৪, ১৯৩১০; দারিমী ১৩০০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪২৬।
৭/খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রচণ্ড গরমের অভিযোগ করলাম। কিন্তু তিনি আমদের অভিযোগ গ্রহণ করেননি। [৬৭৩]
[৬৭৩] মুসলিম ৬১৯, নাসায়ী ৪৯৭, ৫২৩; আহমাদ ২০৫৪৭, ২০৫৫৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
৮/আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন প্রচণ্ড গরম অনুভূত হবে, তখন তোমরা যোহরের সালাত ঠাণ্ডা করে পড়বে। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের তাপ (উত্তাপ) বিশেষ। [৬৭৫]
[৬৭৫] বুখারী ৫৩৪, ৫৩৭; মুসলিম ৬১১-৪, ৬১১-৩; তিরমিযী ১৫৭, ২৫৯২; নাসায়ী ৫০০, আবূ দাঊদ ৪০২, আহমাদ ৭০৯০, ৭২০৫, ৭০২৪, ৭৫৫৮, ৭৬৬৫, ৭৭৭০, ২৭৪৪৩, ৮৩৭৮, ৮৬৮৩, ৮৮৬১, ৮৮৮১, ৮৯৩৯, ২৭৪৯৪, ৯৬৩৯, ১০১২৮, ১০১৬০, ১০২১৪, ১১১০৪; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৮, ২৯; দারিমী ১২০৭, ২৮৪৫; ইবনু মাজাহ ৬৭৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৩০।
৯/আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা যোহরের সালাত ঠাণ্ডা করে পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। [৬৭৭]
[৬৭৭] বুখারী ৫৩৮, আহমাদ ১১০৯৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
১০/আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সূর্য উপরে পূর্ণ উজ্জ্বল থাকা অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের সালাত আদায় করতো। সালাত শেষে কোন ব্যাক্তি মদীনাহ্র উপকণ্ঠে পৌঁছে যেত এবং তখনও সূর্য উপরে থাকতো। [৬৮০]
[৬৮০] বুখারী ৫৪৮, ৫৫০-৫১, ৭৩২৯; মুসলিম ৬২১, নাসায়ী ৫০৬-৮, আবূ দাঊদ ৪০৪, মুওয়াত্ত্বা মালিক ১০-১১, দারিমী ১২০৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৩২।
১১/আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমার ঘরে সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত থাকা অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের সালাত পড়েন, তারপরও ছায়া বিস্তৃত হতো না। [৬৮১]
[৬৮১] বুখারী ৫২২, ৫৪৪-৪৬, ৩১০৩; মুসলিম ৬১১-২, ৬১৯; তিরমিযী ১৫৯, নাসায়ী ৫০৫, আবূ দাঊদ ৪০৭, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৩৫।
১২/আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খন্দক যুদ্ধের দিন বলেন, আল্লাহ তাদের ঘরসমূহ ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। যেমন তারা আমাদের মধ্যবর্তী সালাত (আছর) থেকে বিরত রেখেছে। [৬৮২]
[৬৮২] বুখারী ২৯৩১, ৪১১১, ৪৫৩৩, ৬৩৯৬; মুসলিম ৬২১-৪, তিরমিযী ২৯৮৪, নাসায়ী ৪৭৩, আবূ দাঊদ ৪০৯, আহমাদ ৫৯২, ৬১৮, ৯১৩, ৯৯৩, ১০৩৯, ১১৩৫, ১১৫৪, ১২২৫, ১২৫০, ১২৯০, ১৩০১, ১৩০৮, ১৩১৬, ১৩২৯; দারিমী ১২৩২। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৩৬।
১৩/ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যার আসরের সালাত ছুটে গেল তার পরিবার-পরিজন ও ধন সম্পদ যেন ধ্বংস হয়ে গেল। [৬৮৩]
[৬৮৩] বুখারী ৫৫২, মুসলিম ৬২১-২, তিরমিযী ১৭৫, নাসায়ী ৪৭৮, ৫১২; আবূ দাঊদ ৪১৪, আহমাদ ৪৫৩১, ৪৬০৭, ৪৭৯০, ৫০৬৫, ৫১৩৯, ৫২৯১, ৫৪৩২, ৫৪৪৪, ৫৭৪৬, ৬১৪২, ৬২৮৪, ৬৩২২; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২১, দারিমী ১২৩০-৩১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৪১।
১৪/আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, মুশরিকরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আসরের সালাত থেকে বিরত রাখলো, এমনকি সূর্য ডুবে গেল। তখন তিনি বলেন, যারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত থেকে বিরত রাখলো, আল্লাহ তাদের ঘর-বাড়িগুলো ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। [৬৮৪]
[৬৮৪] মুসলিম ৬২৮, তিরমিযী ১৮১, ২৯৮৫; আহমাদ ৩৭০৮, ৩৮১৯, ৪৩৫৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬৩৪।
১৫/রাফি’ বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যামানায় মাগরিবের সালাত পড়তাম, অতঃপর আমাদের কেউ ফিরে গিয়ে তার নিক্ষিপ্ত তীরের পতিত স্থান দেখতে পেত। [৬৮৫]
[৬৮৫] বুখারী ৫৫৯, মুসলিম ৬৩৭, আহমাদ ১৬৮২৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৪২।
১৬/সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সূর্যাস্তের পরপর মাগরিবের সালাত পড়েন। [৬৮৬]
[৬৮৬] বুখারী ৫৬১, মুসলিম ৬৩৭, তিরমিযী ১৬৪, আবূ দাঊদ ৪১৭, আহমাদ ১৬০৯৭, ১৬১১৫; দারিমী ১২০৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৪৩।
১৭/তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার উম্মাত যাবত বিলম্ব না করে এবং তারকারাজি চমকানোর পূর্বে মাগরিবের সালাত পড়বে, তাবত তারা ফিতরাতের উপর স্থির থাকবে।
ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ইবনু মাজাহ (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, লোকেরা বাগদাদে এ হাদীস সম্পর্কে মতানৈক্যে লিপ্ত হয়। তখন আমি ও আবূ বাকর আল-আয়অন (রহঃ) আল-আওওয়াম ইবনু আব্বাস ইবনুল আওওয়াম (রহঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের সামনে তার পিতার লেখা মূল পাণ্ডুলিপি পেশ করলেন,যাতে উক্ত হাদীস বিদ্যমান ছিল।
[৬৮৭] [৬৮৭] দারিমী ১২১০ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৩, মিশকাত ৬০৯, সহীহ আবূ দাউদ ৪৪৪।
১৮/আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদেরকে বিলম্বে ঈশার সালাত পড়ার নির্দেশ দিতাম। [৬৮৮]
[৬৮৮] নাসায়ী ৫৩৪, আবূ দাঊদ ৪৬, আহমাদ ৭২৯৪, ৯৩০৮, ১০২৪০; দারিমী ১৪৮৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৩৬।
১৯/আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে অবশ্যই ইশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম। [৬৮৯]
[৬৮৯] তিরমিযী ১৬৭, আহমাদ ৭৩৬৪, ৯৩০৮ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬১১।
২০/আবূ সাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত পড়েন, অতঃপর অর্ধ-রাত অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাইরে আসেননি। অতঃপর তিনি বের হন এবং লোকদের নিয়ে সালাত পড়েন, অতঃপর বলেন, লোকেরা সালাত পড়ে ঘুমিয়ে গেছে। আর তোমরা সলাতের জন্যে যখন থেকে অপেক্ষা করছো, তখন থেকে সালাতরত আছো। যদি দুর্বল ও রোগাক্রান্ত লোকেরা না থকতো, তাহলে আমি এ সালাত (এশা) অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম।[৬৯১]
[৬৯১] নাসায়ী ৫৩৮, আবূ দাঊদ ৪২২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৪৮।
২১/বুরায়দাহ আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা মেঘাচ্ছন্ন দিনে তাড়াতাড়ি (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করবে। কারণ যার আসরের সালাত ছুটে যায় তার আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়। [৬৯২]
[৬৯২] বুখারী ৫৫৩, ৫৯৪; নাসায়ী ৪৭৪, আহমাদ ২২৪৪৮, ২২৪৫০, ২২৫১৭, ২২৫৩৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: "যার আসরের সালাত ছুটে যায় তার আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়।" কথাটি ছাড়া যঈফ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৫৫।
২২/আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো, এক ব্যাক্তি সলাতের কথা ভুলে গেছে অথবা সালাত না পড়েই ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, যখনই তার স্মরণে আসবে, তখনই সে ঐ সালাত আদায় করবে। [৬৯৩]
[৬৯৩] বুখারী ৫৯৭, মুসলিম ৬৮১-৩, তিরমিযী ১৭৮, নাসাঈ ৬১৩-১৪, আবূ দাঊদ ৪৪২, আহমাদ ১১৫৬১, ১২৮৫০, ১৩১৩৮, ১৩৪১০, ১৩৪৩৬, ১৩৫৯৫; দারিমী ১২২৯ ইবনু মাজাহ ৬৯৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৬৩
২৩/আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যাক্তি সলাতের কথা ভুলে গেলো, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে পড়ে নেয়। [৬৯৪]
[৬৯৪] সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ ৪৬৮, বুখারী মুসলিম। তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ৫৯৭, মুসলিম ৬৮১-৩, তিরমিযী ১৭৮, নাসায়ী ৬১৩-১৪, আবূ দাঊদ ৪৪২, আহমাদ ১১৫৬১, ১২৮৫০, ১৩১৩৮, ১৩৪১০, ১৩৪৩৬, ১৩৫৯৫; দারিমী ১২২৯; ইবনু মাজাহ ৬৯৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্ (আল্লাহ্ চায়ত) তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে সহিহ বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।
২৪/আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনকালে সারারাত ধরে পথ চলতে থাকেন। অবশেষে তিনি ঘুমে কাতর হয়ে বিশ্রামের জন্য এক স্থানে অবতরণ করেন এবং বিলাল (রাঃ) কে বলেন, তুমি আমাদের জন্য রাতের হেফাজত করবে। অতএব বিলাল (রাঃ) তার সাধ্যমত সালাত আদায় করতে থাকেন এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগন ঘুমিয়ে পড়েন।
ফজরের সময় নিকটবর্তী হলে বিলাল (রাঃ) তাঁর সওয়ারীর শিবিকার সাথে হেলান দিয়ে পূর্ব আকাশের দিকে মুখ করে বসলেন। শিবিকার সাথে হেলান দেয়া অবস্থায় তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। বিলাল (রাঃ) ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীদের কেউই ঘুম থেকে জাগতে পারেননি, যাবত না তাদের উপর সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়লো। তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে জেগে উঠেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বলেন, হে বিলাল! বিলাল (রাঃ) বলেন, হে আল্লহর রসুল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। যেই সত্তা আপনার জান নিয়েছেন, তিনি আমার জানও নিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমরা সামনে অগ্রসর হও। অতএব তারা তাদের সওয়ারী নিয়ে আগ্রসর হন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদূ করেন এবং বিলাল (রাঃ) কে ইকামত দেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি তাদের নিয়ে ফজরের সালাত পড়েন। সালাত সমাপনান্তে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যাক্তি সলাতের কথা ভুলে যায়, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে পড়ে নেয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, “আমার স্মরণে তুমি সালাত আদায় করো” (সূরাহ তহাঃ ১৪)। রাবী বলেন, ইবনু শিহাব (রাঃ) তিলাওয়াত করতেনঃ (‘রা’ অক্ষরের উপর মাদ্দ সহকারে)। [৬৯৫]
[৬৯৫] মুসলিম ৬৮০/১-২, তিরমিযী ৩১৬৩, নাসায়ী ৬১৮-২০, ৬২৩; আবূ দাঊদ ৪৩৫, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৯২, সহীহ আবূ দাউদ ৪৬১।
২৫/আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সহাবীগন তাদের ঘুমে বাড়াবাড়ির কথা আলোচনা করলেন। কেউ বলেন, লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে, এমনকি সূর্য উঠে যায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঘুমে কোন বাড়াবাড়ি নেই, বাড়াবাড়ি হয় জাগ্রত অবস্থায়। সুতরাং তোমাদের কেউ সলাতের কথা ভুলে গেলে বা তা না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে সে যেন তা স্মরণে আসার সাথে সাথে পড়ে নেয় অথবা পরদিন স্ব স্ব ওয়াক্তে পড়ে নেয়। [৬৯৬]
[৬৯৬]বুখারী ৫৯৫, ৭৪৭১; মুসলিম ৬৮১, তিরমিযী ১৭৭, নাসায়ী ৬১৫-১৭, ৪৪৬; আবূ দাঊদ ৪৩৭, ৪৪১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৯৪, সহীহ আবূ দাউদ ৪৬৪।
২৬/আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের সালাতের এক রাকাআত পেলো সে আসরের সালাত পেয়ে গেলো। আর যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের এক রাকাআত পেল সে ফজরের সালাত পেয়ে গেলো। [৬৯৭]
[৬৯৭] বুখারী ৫৫৬, ৫৭৯-৮০; মুসলিম ৬০১-২, ৬০৮; তিরমিযী ১৮৬, ৫২৪; নাসায়ী ৫১৪-১৭, ৫৫৩-৫৬; আবূ দাঊদ ৪১২, ৮৯৩, ১১২১; আহমাদ ৭১৭৫, ৭২৪২, ৭৪০৮, ৭৪৮৫, ৭৫৪০, ৭৬০৯, ৭৭০৭, ৭৭৩৯, ৭৭৯৫, ৮৩৭৯, ৮৬৬৩, ৮৯৩২, ৯৬০২, ৯৬৩৮, ৯৭৭৯, ৯৯৬৬, ৯৯৮৬, ১০৩৭২; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৫, ১৫; দারিমী ১২০, ১২২; ইবনু মাজাহ ১১২২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৫৩, সহীহ আবূ দাউদ ৪৩৯।
২৭/আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সালাত বিলম্বে পড়তে পছন্দ করতেন। তিনি ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং ঐ সালাতের পর কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। [৬৯৯]
[৬৯৯] বুখারী ৫৪১, ৫৪৭, ৫৬৮, ৫৯৯, ৭৭১; মুসলিম ৬৭৪, তিরমিযী ১৬৮, নাসায়ী ৪৯৫, ৫২৫, ৫৩০; আবূ ৩৯৮, ৪৮৪৯; আহমাদ ১৯২৬৮, ১৯২৮২, ১৯২৯৪, ১৯৩০১, ১৯৩১০; দারিমী ১৩, ১৪২৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
২৮/আবদুল্লাহ বিন মাসুঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সালাতের পর আমাদের নৈশ আলাপ নিষেধ করতেন অর্থাৎ কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। [৭০১]
[৭০১] আহমাদ ৩৬৭৮, ৩৮৮৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৪৩৫।
২৯/ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের সালাতের নামকরণের ব্যাপারে বেদুঈনরা যেন তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার না করে। কেননা এটা হলো ইশা। এ সময় তারা উটের দুধ দোহন করে। [৭০২]
[৭০২] মুসলিম ৬৪১-২, নাসায়ী ৫৪১, ৫৪২; আবূ দাঊদ ৪৯৮৪, আহমাদ ৪৫৫৮, ৪৬৭৪, ৫০৮১, ৬২৭৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
৩০/আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বেদুঈনরা যেন তোমাদের সালাতের নামকরণের ব্যাপারে তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। বিন হারমালার রিওয়ায়াতে আরো আছেঃ এটা হলো ইশা। লোকেরা অন্ধকারে উটের দুধ দোহন করায় একে আতামা বলে। হাসান সহীহ। [৭০৩]
[৭০৩] হাসান সহীহ।