করোনা ভাইরাস নিয়েই জীবন ও জীবিকা:
কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস - সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্ব সহ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে যার দরুন লক্ষ্য লক্ষ্য প্রাণহানি ঘটেছে, বাংলাদেশেও এখন পর্যন্ত অনেক প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রতিদিনই ঘটছে।
ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবের ফলে শুধু প্রাণহানিই নয় ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প কলকারখানা, কৃষিকাজসহ অর্থনীতি, শিক্ষা সংস্কৃতি প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কাজেই সরকারকে ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে লকডাউন চালিয়ে যেতে।
ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমাতে সারাবিশ্বে যেখানে সামাজিক দূরত্ব এবং মাক্স পড়াটাকে সবচাইতে উপযুক্ত মনে করছে সেখানে বাংলাদেশ ও তার বিকল্প কোন পন্থা খুঁজে না পেয়ে একই উপায় হাঁটছে।
কিন্তু অন্যান্য উন্নত ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশের মতো আমাদের দেশেও যদি একই উপায়ে এই সংক্রমণ প্রতিহত করতে যাওয়া হয়, তাহলে আমাদের দেশের যে বিশাল দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া, মধ্যবিত্ত এবং দিন এনে দিন খাওয়া যে জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তারা হয়তো সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে কিন্তু অতীতের মতো মাসের-পর-মাস হয়তো তারা ধৈর্য ধরে নাও থাকতে পারে, যার ফলে তারা ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য চেষ্টা করবে, কারণ ভাইরাসের থেকে জীবন বাঁচাতে যেয়ে তারা হয়তো ক্ষুধার কাছে জীবন বিলিয়ে দেবে না। এবং সেটিই হচ্ছে, আর এটি মোকাবেলায করাই হচ্ছে সরকারের এবং জনগণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এখন আমরা এই সংকট মোকাবেলায় কিভাবে একসাথে কাজ করব যা আমাদের জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সঠিকভাবে সবকিছু সামলাতে সাহায্য করবে।
চিকিৎসা খাত ঢেলে সাজানোর সময় হয়েছে
অতীতে চিকিৎসাখাতে কি হয়েছিল বা কি হয়নি তা নিয়ে চিন্তা না করে বর্তমানে চিকিৎসা খাতে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা তে করোনা হাসপাতাল খোলা যেতে পারে।
সর্বোপরি পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকার ব্যবস্থা করা।
পর্যাপ্ত ঔষধপত্র ও অক্সিজেন এর মজুদ নিশ্চিত করা।
খাতওয়ারী রোস্টার ব্যবস্থা চালু রেখে অর্থনৈতিক সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা।
প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাতে বাধ্য করা।
দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা অব্যাহত রাখা।
করোনাভাইরাস নিরুপায়ে গবেষণাতে মনযোগ এবং বরাদ্দ বাড়ানো।
সাধারণ জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গঠন করা এবং সর্বোপরি সরকারকে সহায়তা করা।
সর্বশেষে সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে আপনি আমি এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারি এবং দেশ ও জনগনের জন্য কিছু অবদান রাখতে পারি।
Article Written By:
Md Hafizur Rahaman Sajib
ITP, CA (Partly), MBS (Accounting)
করোনাকালীন শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও উত্তরণ:
আমাদের দেশ চিরাচরিত যে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিল এবং বিগত সালগুলোতে যে অগ্রগতির ধারায় এগুচ্ছিল, কোভিড-১৯-এর কারণে ব্যাপকভাবে তার নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ দিনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ব্যবস্থার ধরন ও স্বরূপ বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং ক্রমশ তার আধুনিকায়ন ঘটেছে।
কিন্তু কোভিড-১৯-এর কারণে যে পরিবর্তন ঘটেছে তাতে নতুন প্রজন্মের আগামীর স্বপ্নসৌধ নির্মাণের মূলকেন্দ্র শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। কোভিড-১৯-এর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশের স্কুল কলেজ সহ সমস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ মানসিক, শারীরিকসহ নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগই অলস সময়, মোবাইল গেমস এবং ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে আছে। এতে করে তাদের চিন্তাশক্তিলোপ পাচ্ছে এবং পড়ালেখা করার মানসিকতা দিন দিন হারাচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস পরিচালনা করা হলেও সেখানে যুক্ত আছে গুটিকতক শিক্ষার্থী এবং বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নেই, অভ্যস্ততা নেই এবং অনেকের ইচ্ছাও নেই।
বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা এমন এক বিপর্যয়ের শিকার যার প্রভাব ভবিষ্যত প্রজন্ম কে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের অন্তর্গত যে সম্ভাবনা রয়েছে তা ধ্বংস করে দিতে পারে।
তাই আমাদের বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে এবং তাদের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে এখনই নতুন কোনো পদ্ধতি বের করে আনা উচিত যাতে করে তাদের এই দীর্ঘকালীন সংকট মোকাবেলা করা যায় এবং তাদেরকে মানসিক বিকারগ্রস্থ থেকে মুক্তি দেয়া যায়।
এক্ষেত্রে সংকট নিরসনে পরিবারের ভূমিকা ও কম নয় এবং সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
করোনার সময়েও যেভাবে পড়ালেখা চলতে পারে
সংক্ষেপ করে বলতে চাই:
কঠোর লকডাউন শেষ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি সরাসরি ডে ভিত্তিক এবং শিফট ভিত্তি ক্লাস পরিচালনা করা যেতে পারে, সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধিসহ প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার শ্রেণীকক্ষে সেগুলি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রাখতে হব:
কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীদের সব সময় কোনো না কোনো কাজ বা খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখতে হয়। একটি প্রবাদ আছে ‘অলস মস্তিস্ক শয়তানের বাসা।’ তাই তাদরে ব্যস্ত রাখতেই হবে।
স্বাভাবিক সময়ে তারা বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিত, বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতো, ক্লাস করতো, খেলাধুলা করতো, অনেকে প্রাইভেট পড়তো, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যেত। বর্তমানে এসব কাজ যখন বন্ধ তখন তাদের মাথায় ভর করবে দুনিয়ার যত আজে বাজে চিন্তা। শিশুরা তো শুধু শুধু বসে থাকতে পারে না, তাদের কিছু না কিছু করা চাই। এটি স্বাভাবিক।
সেগুলো থেকে তাদের ফিরিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই ল্যাব ভিত্তিক এবং কারিগরি কিছু শিক্ষাক্রম চালু করা যেতে পারে।
এবং পরিবার থেকে তাদেরকে নীতি নৈতিকতা এবং ধর্মীয় শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করতে হবে পাশাপাশি তাদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে এবং ভালো লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ভালো স্বপ্নের বীজ রোপন করে দিতে হবে।
পরিশেষে, করোনাকালে অবর্ণনীয় নির্মম অর্থনীতির ধর্স শিক্ষাব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা এইসব মহামারীর অপরিহার্য পরিণত হওয়া সত্ত্বেও আমাদের জীবন হয়ে উঠুক সুশৃংখল ও পরিকল্পিত। এবং আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সঠিক দিক নির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যদি অগ্রসর হতে পারি সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা।
Written By:
Md Hafizur Rahaman Sajib
ITP, CA (Partly), MBS (Accounting)