পলিপাস কি? পলিপাস হলে কি হয়? এটা কি অনেক জটিল সমস্যা? আমার কি পলিপাস হয়েছে?.................
এমন অনেক প্রশ্নই জাগতে পারে অনেকের মনে। আমরা অল্প কথায় উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশা-আল্লাহ।
পলিপাস কি?- পলিপাস হলো কোন কারনে আমাদের নাকের ভিতর একটি নির্দিষ্ট স্থানে অস্বাভাবিক ভাবে মাংসের আকৃতি বেরে যাওয়া। শুরুর দিকে নাকের ভিতরে দেখলে দেখা যায়, একপাশে বা নাকের দুই পাশেই হাল্কা লাল বর্ণের গোল মটরশুঁটির আকৃতির ছোট মাংস পিন্ড। এই মাংস পিন্ডকেই পলিপাস বলে। পলিপাসের আকার বড় হয়ে গেলে আকারে বিকৃত হতে পারে।
পলিপাস হলে কি হয়?-পলিপাস হলে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নিচে কয়েকটি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হলো
অধিকাংশ সময় মাথা ব্যাথ্যা
নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
নাকবন্ধের কারনে শ্বাসকষ্ট হওয়া
ঠান্ডা লেগে থাকা
একসাথে অনেক গুলো হাঁচি আসা
নাক দিয়ে পানি পরা
নাক দিয়ে রক্তক্ষরন
নাকে ব্যাথ্যা
নাক ও তালু চুলকানো
জ্বর জ্বর অনুভূতি
নাক দিয়ে মাংস বেরিয়ে আসা
নাকের হাড় বেকে যাওয়া
খাবারে অরুচি ইত্যাদি....
উক্ত সমস্যা গুলো পলিপাসের লক্ষন বলেও চিহ্নত করা হয়। তবে প্রকারভেদে ভিন্ন ভিন্ন রোগির ভিন্ন ভিন্ন লক্ষন বা উপসর্গ দেখা যায়। পলিপাসের সমস্যা বড় হয়ে গেলে জটিল সমস্যা গুলো হয়ে থাকে। যেমনঃ- নাক দিয়ে রক্তক্ষরন, নাকবন্ধের কারনে শ্বাসকষ্ট হওয়া, নাক দিয়ে মাংস বেরিয়ে আসা, নাকের হাড় বেকে যাওয়া ইত্যাদি।
পলিপাস হওয়ার কারন কি?-পলিপাস হওয়ার কারণ জানার আগে আমাদের জানতে হবে পলিপাস কত প্রকার। পলিপাস প্রকার ভেদে দুই প্রকার।
ইথময়ডাল পলিপাস
এন্ট্রোকোয়ানাল
ইথাময়ডাল- ইথময়ডাল পলিপাস এর মূল কারন হলো এলার্জি। এলার্জি বৃদ্ধির কারনে প্রথমে ফুলে ওঠে তারপর মিউকাস নামক শ্লেমার ট্যিস্যু বেরে যায় বা ফুলে যায়। আমাদের দেশে এই প্রকার পলিপাসে আক্রাতের সংখা বেশি। এই পলিপাসের কারনে নাক দিয়ে মাংস বেরিয়ে আসে।
এন্ট্রোকোয়ানালঃ- এই পলিপাস এক নাকে হতে দেখা যায়। ইনফেকশনের কারনে এটি হয়ে থাকে। যাদের সর্দি লেগেই থাকে তাদের নখ দ্বার খোচানোর কারনে বা ঘা হয়ে এই পলিপাস হয়ে থাকে।......
সাধারন ভাবে বলতে গেলে এলার্জির জন্য ধীর্ঘদিন সাইনাসের প্রদাহের কারনে ইনফেকশনের কারনে পলিপাস হয়ে থাকে। আবার বংশ গত কারনেও এটি হতে পারে।
পলিপাসের চিকিৎসাঃ- এলোপ্যাথি চিকিৎসায় এর এক মাত্র উপায় অপারেশন, কিন্তু কিছু দিন পর তা আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে দেখা যায়। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এর সহজ সমাধান রয়েছে। যথা সময় ঔষধ সেবন ও ঔষধ লাগানোর মাধ্যমে সম্পূর্ন উপসম করা সম্ভব। সেক্ষেতে কিছু নিয়ম পালন করা আবশ্যক। যেমন এলার্জির খাবার না খাওয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি
জন্ডিস কিঃ- যকৃতের পিত্ত নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটলে রক্তের সাথে পিত্ত মিশ্রিত হয়ে শরীরের মধ্যে সঞ্চালিত হওয়ার মাধ্যমে শরীরের চর্ম( চামড়া), চোখের শ্বেত ( সাদা) বর্ণের স্থান, মূত্র পীত বর্ণের হলে তাকে জন্ডিস বলে।
মূলত জন্ডিস কোন রোগ না। যকৃতের নানা প্রকার রোগের উপসর্গ। লিভারস্থিত পিত্তস্থলী হতে পিত্ত কোন কারণে যথারীতি বের হয়ে অন্ত্রে প্রবেশ করতে না পেরে যখন রক্তে বিলিরুবিন মিশে যায়, তখন হাত, পা, মুখ, চোখ এক কথায় বলতে গেলে শরীরের যেসব রক্ত পৌছায় ঐসব অঙ্গ হলুদ হয়ে যায়। আর এটাই জন্ডিস।
জন্ডিস হওয়ার কারন কি?- জন্ডিস হওয়ার পিছে একাধিক কারন হতে পারে। নিছে কিছু কারন উল্লেখ করা হলোঃ-
রক্তের লোহিত কনিকাগুলো ধ্বংস হওয়া
হেপাটাইটিস হলে জন্ডিস হতে পারে
লিভার থেকে অন্ত্রের মধ্যে প্রবাহিত হওয়া যে পথ্য (Bile duct) আছে, তার কোন অংশে বা স্থানে বাধা পেলে
ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, সর্পদংশণ ইত্যাদি কারনে হোমালাইটিক জন্ডিস হতে পাত
গলোষ্টোন বা পিত্তকোষে পাথর জমলে তার ফলে পিত্ত নিঃসরনে বাধা পেয়ে জন্ডিস হতে পারে
রক্তদোষ জনিত কারনে অর্থাৎ বংশগত সমস্যা থেকে অ হতে পারে
বিষাক্ত ও সংক্রামক জীবানু থেকেও হতে পারে
কিছু জটিল উপসর্গঃ- 1.লিভারে ফোড়া হতে পারে, 2.জন্ডিস থেকে লিভার সিরোসিস হতে পারে, 3.দীর্ঘদিন জন্ডিসে ভুগলে Liver Cancer হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ঃ- জন্ডিস রোগ নির্ণয় করার জন্য নিচে কিছু উপসর্গ দেয়া হলোঃ-
মুখে তিক্ত আস্বাদ অনুভাব
পেটের দান দিকে বা বাম দিকে ব্যাথা
চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়া
বমি, পিত্ত বমি এবং জ্বর জ্বর ভাব
গায়ের হলদে ঘাম, কাপর চোপরে লাগলে হলুদ ঘাম দেখা যায়
ক্ষুদা হীনতা, খাদ্যে অরুচি
কাদার মত, কালো বা সাদা রঙের মল
প্রসাব হলুদ সরসের তেলের মত
রক্তহীনতা ভাব
জন্ডিস হলে করনীয়ঃ- জন্ডিস হলে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট যাওয়া উচিত। এখানে কিছু আনুষাংগিক ব্যাবস্থার কথা নিচে উল্লেখ করা হলোঃ-
পেটে ভয়ংকর ব্যাথ্যা হলে গরম সেক উপকারী
পেঁপের রস, কালোমেঘের পাতার রস খেলে উপকার
কমলা লেবু, বাতাবী লেবুর রস আনারসের রস উপাকারী
পুরাতন যব, গম, চল মুসুর ডালের জুস উপকারি
পাকা কুমড়া, কাঁচা কলা, হিঞ্চে, তরকারী, সীং মাছ, ঘোল, মাখন খাওয়া ভালো
যথেষ্ট পরিমান গ্লূকোজের পানি পান করা উপকার
উগ্রমশলা, গুরা মরিচ যুক্ত খাদ্য ঘি, তেল, মাস, মাংস খাওয়া নিষেধ
জ্বর অবস্থায় সাবু, বার্লি, এরারুট দেয়া যায় ( হজম হলে দুধের সহিত দেয়া যাবে, মিছরি না দেয়া ভালো
কোন ভাজা, তেলে ভাজা, ঝাল, টক, বাসি, একদম নিষেধ
থানকুনী পাতার রস উপকারী
পূর্ণ বিশ্রামে থাকা এবং সাধারণ স্বাস্থ রক্ষা নিয়ম পালন
নিউমোনিয়া কিঃ- নিউমোনিয়া শাব্দিক অর্থ ফুসফুস প্রদাহ। কেবল মাত্র ফুসফুস বায়ু কোষের মধ্যে প্রদাহ হলে নিউমোনিয়া বা ফুসফুস প্রদাহ। প্রদাহ সহ প্রচুর জ্বর থাকে। একটি ফুসফুসে প্রদাহ হলে তাকে Single Pneumonia এবং দুটি ফুসফুসে প্রদাহ্নহলে তাকে Double Pneumonia বলে। নিউমোনিয়া যদি Pleuro বা ফুসফুস আবরন সহ প্রদহ হয় তবে তাকে Pleuro Pneumonia বলে।
নিউমোনিয়া হওয়ার কারন কি?- নিচে নিউমোনিয়া হওয়ার কিছু কারন উল্লেখ করা হলোঃ-
নিউমোকক্কা নামক জীবাণু ফুসফুসে এবং বায়ুকোষে আক্রমন করলে (অন্যান্য জীবাণুও করতে পারে, কিন্তু কম)
অধিক মাত্রায় বৃষ্টিতে ভেজা, ভেজা কাপড় পড়ে থাকা, ভেজা মাটিতে শুয়ে থাকা, হঠাৎ বেশি ঠান্ডা লাগা, আদ্র ও স্যাত সেঁতে মাটিতে বাস করা।
বুকে কোন প্রকার আঘাত লাগা
ঘর্মাক্ত অবস্থায় ঠান্ডা লাগানো
হাম, বসন্ত, টাইফইয়েড জ্বর, ম্যালেরিয়া জ্বর ইত্যাদির উপসর্গ হিসেবেও দেখা দিতে পারে।
নিউমোনিয়ার লক্ষণ বা রোগ নির্ণয়ঃ- নিচে কিছু লক্ষণ উল্লেখ করা হলো...
ফুসফুস ভারী অ ঈষাৎ কঠিন আকার হয়
ফুসফুসে গোর লাল বা বাদামী বর্ণের দাগ পড়ে
বায়ুকোষ অ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ুনালী সমূহ শ্লেষ্মা, রক্ত ও পুঁজ পূর্ণ হয়ে থাকে
বুকের প্রসরণ ও সংকোচন শক্তি হ্রাস পায়
শ্বাসপ্রশ্বাসে শব্দ হয় এবং বুকের মধ্যে ঘড় ঘড় করে
শীত শীত করে কপম দিয়ে জ্বর আসে এবং তাপমাত্রা 102-105 Degree পর্যন্ত হতে পারে
কিছু জটিল উপসর্গঃ- নিচে কিছু জটিল উপসর্গের কথা উল্লখ করা হলোঃ-
লোবার নিউমোনিয়াতে বুক ব্যাথ্যা সৃষ্টি হয়, প্রচন্ড জ্বর প্রলাপ মোহ, আচ্ছন্ন, অজ্ঞনতার ভাব
লোবার নিউমোনিয়া থেকে যক্ষ্মা pleurisi হতে পারে
শ্বাসকষ্ট এবং শেষ পর্যন্ত সায়ন্সিস হতে পারে
ফুসফুস শক্ত হয়ে যাবার জন্য বাতাস প্রবেশ করতে পারে না এতে হৃদপিন্ডে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে, ইহাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
ফুসফুসের মত, স্ফোটক, পচন ক্রিয়া শুরু হতে পারে
জন্ডিস, উদর স্ফীতি, ম্যানিংজাইটিস হতে পারে
নিউমোনিয়া হলে করনীয়ঃ-এইরকম অবস্থা হলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। নিচে কিছু আনুষাঙ্গিক পথ্য ব্যবস্থা দেয়া হলোঃ-
রোগির বুক এবং পিঠ গরম কাপড় দিয়া ঢেকে রাখা
পূর্ণ বিশ্রাম এবং আলোবাতাস আসে এমন ঘরে থাকা
স্থিরভাবে থাকা, বেশি নড়াচড়া না করা (নিষেধ)
পুরাতন ঘি দ্বারা বুকে অ পিথে উষ্ণ সেক
জ্বর থাকলে সাবু, বাঋ এরারুট দুধ অ মিশ্রী দিয়ে সেব্য
লঘু অ পুষিকর খাদ্য দেবার ব্যবস্থা
দুধ এবং মাংসের সুপ দেয়া যেতে পারে যদি হজম হয়
ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ কিঃ- সঞ্চালিত রক্ত সাধারণত হৃদপিন্ড, শিরা, ধমনী প্রভূতির আবেষ্টনীর উপর যে চাপ সৃষ্টি করে তাকে রক্তাচাপ বলে। রক্তের অতিরিক্ত চাপকে হাই প্রেসার বলে।
রক্তচাপ দুপ্রকার, ১) সিষ্টোলিক, ২) ডায়াষ্টোলিক।
যখন হৃদপিন্ডের পাম্পের ফলে রক্ত সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে তখন তার চাপ বেশি হয়, তাকে সিষ্টোলিক প্রেসার বলে।
যখন রক্ত হৃদপিন্ডে ফিরে আসে এবং হৃদপিন্ড প্রসারিত হয় তখন চাপ কম হয়। ইহাকে ডায়াষ্টোলিক প্রেসার বলে।