সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম

পর্ব - ১ 

   পর্ব-১  > পর্ব-২ > পর্ব-৩ > পর্ব-৪ > পর্ব-৫ > পর্ব-৬  > পর্ব-৭ > পর্ব-৮ > পর্ব-৯ 

৬ষ্ঠ/ষষ্ঠ ইত্যাদি

তারিখবাচক শব্দ সংখ্যা ও কথার সহযোগে পূর্ণ রূপে লেখা হবে; তারিখ নির্দেশক সংখ্যার সাথে 'ই' ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়৷ যেমন— ৭মে ২০১৬, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ ইত্যাদি। 


পূরণবাচক শব্দ কথায় বা সংখ্যা সহযোগে লেখা যেতে পারে। যেমন— দশম, ১০ম। 


সংস্কৃত ভাষার সকল পূরণবাচক বাংলায় ব্যবহার বাস্তবসম্মত নয়। ভাষা ব্যবহারে জনগ্রহণযোগ্যতা কিংবা জনব্যবহারের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বাংলায় 'বিংশতিতম' –এর স্থানে '২০তম',  'একত্রিংশত্তম' –এর স্থানে '৩১তম' ইত্যাদির ব্যবহার স্বচ্ছন্দ ও গৃহীত। দাপ্তরিক ক্ষেত্রে এই রূপগুলোর ব্যবহার চলতে পারে।


স, শ, ষ

বাংলা বানানে ষ–এর স্থান ষত্ব বিধান দ্বারা সুনির্দিষ্ট (ষত্ব বিধান দ্রষ্টব্য)। এই নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে। বিদেশি বা বিদেশি উৎসজাত শব্দে ষ–এর ব্যবহার নেই। এক্ষেত্রে স ও শ –এর ব্যবহার সংশ্লিষ্ট বিদেশি শব্দের উচ্চারণ অনুযায়ী হবে।


উচ্চারণ ইংরেজি S –এর মতো হলে স ব্যবহৃত হবে। যেমন— স্টোর (store), সিট (seat)। 


উচ্চারণ ইংরেজি Sh –এর মতো হলে শ ব্যবহৃত হবে। যেমন— শার্ট (shirt), শিট (sheet), স্টেশন (station)। 


–সংক্রান্ত

'সংক্রান্ত' সবসময় যুক্তভাবে ব্যবহৃত হবে। যেমন— এতৎসংক্রান্ত, বিবাহসংক্রান্ত।


সংখ্যাবাচক শব্দ

সংখ্যাবাচক শব্দগুলো বৈশিষ্ট্যের বিচারে বিশেষণ স্থানীয়। তাই এগুলোর ব্যবহার বিশেষণ শব্দের ব্যবহার অনুরূপ হবে।


সংশ্লিষ্ট, –সংশ্লিষ্ট

'সংশ্লিষ্ট' যুক্ত (সমাসবদ্ধ) এবং মুক্ত উভয় রূপেই ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন :


সঙ্গে/সাথে

'সাথে' কথা এবং কাব্যিক বা সাহিত্যিক রূপ। প্রমিত রূপ 'সঙ্গে'। আনুষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক ব্যবহারে 'সঙ্গে' লেখাই সমীচীন। 


সব/ –সব

'সব' যে কোনও বিশেষণবাচক শব্দের মতোই সাধারণত সংশ্লিষ্ট শব্দের আগে স্বতন্ত্রভাবে কিংবা যুক্তভাবে বসে ( 'বিশেষণ লেখার নিয়ম' ভুক্তিটি দেখিন)। যেমন : সব লোক, সবসময় ইত্যাদি। শব্দের পরেও এটি বসতে পারে। যেমন : 'ভাইসব', পাখিসব করে রব' ইত্যাদি। 


সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার বানান : বলে, করে ইত্যাদি


সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার উচ্চারণ অভিন্ন হয় না, যদিও বানান অভিন্ন হতে পারে। যেমন : 


অসমাপিকা ক্রিয়ার লুপ্ত ধ্বনি বা ধ্বনিগুলোকে বোঝাতে লোপচিহ্ন ( ' ) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার লিখিত রূপ অভিন্ন হবে।


সমাসবদ্ধ শব্দ

সমাসবদ্ধ শব্দ একটি শব্দ হিসেবে লিখতে হয়। যেমন : সমুদ্রসৈকত, সান্ত্বনাসূচক, স্বাক্ষরযুক্ত শিশুরোগ ইত্যাদি। তবে ক্ষেত্রবিশেষে অনেক সমাসসাধিত শব্দকে, বিশেষত জোড় শব্দগুলোকে, হাইফেন ( – ) দিয়ে যুক্ত করে লেখা হয়। যেমন : ভালো–মন্দ, মা–বাবা, আলো–অন্ধকার, দক্ষিণ–পূর্ব ইত্যাদি। 


সম্পন্ন, –সম্পন্ন

সচ্ছল বা সম্পদশালী অর্থে "সম্পন্ন' একটি স্বতন্ত্র শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন : কাশেম মিয়া চিরকালই সম্পন্ন গৃহস্থ। 'বৈশিষ্ট্যযুক্ত' অর্থে 'সম্পন্ন' অন্য শব্দের পরে যুক্তভাবে বসবে। যেমন : ব্যক্তিত্বসম্পন্ন।

   পর্ব-১  > পর্ব-২ > পর্ব-৩ > পর্ব-৪ > পর্ব-৫ > পর্ব-৬  > পর্ব-৭ > পর্ব-৮ > পর্ব-৯