বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন - আ


আকাশ-পাতাল (ব্যবধানে বিশালতা) – কার সাথে কার তুলনা করছো ভাই। উভয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত।


আক্কেল গুড়ুম (বুদ্ধি লোপ) – কালকের ছেলে মতি, সে তোমার টাকা কেড়ে নিল, শুনে তো আমার আক্কেল গুড়ুম।


আঙুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ ধনী হওয়া) – আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেও ধরাকে সরা জ্ঞান করতে নেই।


আদায় কাঁচকলায় (ঘোর শত্রুতা) – খালিদ ও রফিকের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত নেই; উভয়ের সম্পর্কটা একেবারে আদায় কাঁচকলায়।


আঁধার ঘরের মানিক (প্রিয়বস্তু) – পুত্রটি ছিল বিধবা মাতার আঁধার ঘরের মানিক, সেও মাকে ফাঁকি দিল।


আদার বেপারী (সামান্য বিষয়ে ব্যস্ত ব্যক্তি) – তুমি আদার বেপারী হয়ে জাহাজের খবর নিতে চাও? লাভ কিছুই হবে না।


আধা খেঁচড়া (বিশৃঙ্খলা) – যা করবে বাপু ভালো করে করো, আধা খেঁচড়া করো না।


আহ্‌লাদে আটখানা (অত্যন্ত খুশি) – প্রাইজবন্ডে হাজার টাকা পেয়ে আহ্‌লাদে আটখানা হয়েছ দেখছি।


আসর গরম করা (সভাজনদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি) – আসর গরম করা বক্তৃতা দিয়ে সভাপতি সাহেব সকলকে মাতিয়ে তুললেন।


আসলে মুষল নেই, ঢেঁকিঘরে চাঁদোয়া (ঠিকমতো ব্যবস্থা গ্রহণে অভাব) – নিজের সংসারে নজর নেই, উনি গেছেন বন্ধুর সংসার আগলাতে আসলে মুষল নেই, ঢেঁকিঘরে চাঁদোয়া।


আকাশে তোলা (অতিরিক্ত প্রশংসা করা) – এসব বলে ছেলেটাকে আকাশে তুলো না, তাহলে লেখাপড়া ভেস্তে যাবে।


আসরে নামা (কাজে অবতীর্ণ হওয়া) – সে এতক্ষণ একটি কথাও বলেনি, এখন আসরে নেমে গেল।


আদা-জল খেয়ে নামা (কোমর বেঁধে নামা) – সাব্বির গতবার পরীক্ষায় ভালো করেনি তাই এবার আদা-জল খেয়ে নেমেছে।


আঁতে ঘা (মনে ব্যথা দেয়া) – নুরু তোমার আঁতে ঘা দিয়ে কথা বলেছে, তুমি কাপুরুষ বলে এখনো চুপ করে রয়েছ।


আগুন লাগা সংসার (নষ্ট হচ্ছে এমন সংসার) – তোমার এই আগুণ লাগা সংসারে উন্নতি হবে কি করে বল তো?


আপন পায়ে কুড়োল মারা (নিজের অনিষ্ট করা) – কুসংসর্গে মিলে তুমি আপন পায়ে কুড়োল মারছো।


আকাশ থেকে পড়া (না জানার ভান করে বিস্ময় প্রকাশ করা) – ওহে গফুর ছেলে সুমনের কথা শুনে তুমি আকাশ থেকে পড়লে যে।


আড়িপাতা (লুকিয়ে শোনা) – বউ আড়ি পেতে শ্বশুর-শাশুড়ির সব কথা স্বামীর কানে লাগায়।


আঠারো মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রতা) – তুমি একটি কুঁড়ের বাদশা, তোমার আঠারো মাসে বছর, তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।


আমড়াগাছি করা (তোষামোদে আত্মবিস্মৃতি করো) – চতুর ব্যক্তিরা নির্বোধ ধনী লোককে আমড়াগাছি করে নিজেদের কাজ হাসিল করে।


আইবুড়ো নাম খণ্ডানো (বিয়ে করা/যথেষ্ট দেরি হওয়ার আগেই বিয়ে করা) – যাক এতদিনে তুমি তাহলে তোমার আইবুড়ো নাম খণ্ডালে।


আওয়াজ তোলা (দাবিমূলক বা আন্দোলনমূলক ধ্বনি দেয়া, ধ্বনি বা স্লোগান দেয়া) – আমার কথা শেষ হলে সবাই আওয়াজ তুলবে।


আওয়াজ দেয়া (বিদ্রুপ করা, ব্যঙ্গ করা) – এই সেকেলে পোশাক পরে বেরুলে লোকে আওয়াজ দেবে।


আঁকুপাঁকু (অতিরিক্ত ব্যগ্রতা বা ব্যস্ততার ভাব) – এই তো এলে, আবার এরই মধ্যে যাবার জন্য এমন আঁকুপাঁকু করছ কেন?


আঁচল ধরা, আঁচল ধরে বেড়ানো (স্ত্রীলোকের, বিশেষত স্ত্রীর অথবা মায়ের বশীভূত থাকা) – সাবালক হয়েছ, এখনও কেন আঁচল ধরে বেড়াও?


আঁচা-আঁচি (পরস্পরের মনের ভাব) – তার মনের কথার আঁচা-আঁচি পাওয়া সহজ নয়।


আঁজলপাঁচল করা (গা ঝাড়া দেয়া/ঝুঁকুনি দেয়া) – একটু সুড়সুড়ি লাগলেই গা আঁজলপাঁজল করে।


আঁটকুড়ো (নিঃসন্তান) – আঁটকুড়ো বুড়ো ছেলেপুলেদের একদম সহ্য করতে পারে না।


আঁতকে ওঠা (ভয়ে শিউরে ওঠা/ভয়ে চমকে ওঠা) – কথাটা শুনেই সে আঁতকে উঠল।


আঁতুআঁতু করা, আঁতুপুঁতু করা (আদরের পাত্রকে নিয়ে যত্নের বাড়াবাড়ি করা বা অতিরিক্ত সাবধানতা দেখানো) – ছেলেকে নিয়ে অমন আঁতুপুঁতু করলে ছেলের শরীর সারবে না।


আকার-ইঙ্গিত (ভাবভঙ্গি) – আকার-ইঙ্গিত দেখেই তার অনিচ্ছার কথা বুঝে গেছি।


আকাল পড়া (নিদারুণ অভাব ঘটা/অত্যন্ত অভাব দেখা দেয়া) – দেশে দারুণ আকাল পড়েছে।


আকুতি-ব্যাকুতি (আকারে-ইঙ্গিতে বা ভাবভঙ্গির দ্বারা মনোভাব প্রকাশ) – তার সহানুভূতি আদায়ের জন্য আকুতি-ব্যাকুতি অনেক করছি, কিন্তু কাজ হয়নি।


আক্কেল গুড়ুম (স্তম্ভিত ভাব/হতবুদ্ধি অবস্থা) – কথাটা শুনে আমার তো আক্কেল গুড়ুম।


আখের গোছানো (ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করা, ভবিষ্যতে ভালোভাবে থাকার ব্যবস্থা করা) – ছেলের জন্য তোমার চিন্তা করতে হবে না, সে নিজের আখের গোছাতে জানে।


আখের বুঝে চলা (ভবিষ্যৎ ভেবে কাজ করা) – নিজের আখের বুঝে চলার চেষ্টা করো।


আগড়-বাগড় (আজেবাজে জিনিস) – আগড়-বাগড়ে তার ঝোলা ভর্তি।


আগল ভাঙা (বাধাবিঘ্ন আগ্রাহ্য করা, বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়া) – এইসব আগল ভাঙা লোকই এ দেশের স্বাধীনতা এনেছে।


আগলদার (জমির ফসল আগলানোর বা পাহারা দেয়ার জন্য নিযুক্ত লোক) – আগলদারকে ফাঁকি দিয়ে ফসল চুরি করেছ।


আগলে সামলে রাখা (পাহারা দিয়ে রাখা/চোখে চোখে রাখা) – আমি ওকে খুব করেই চারদিক থেকে আগলে সামলে রেখেছি।


আগাপাছতলা, আগাপাস্তলা (আগাগোড়া,আদ্যন্ত) – আগাপাছতলা খুঁজেও বইটা পাওয়া গেল না।


আঙুল কামড়ানো (আফসোস করা) – নিজেই সুযোগ হাতছাড়া করেছ। এখন আঙুল কামড়ে কি লাভ?


আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া (হঠাৎ বড়লোক হয়ে যাওয়া, খুব অল্প সময়ে প্রচুর টাকাকড়ি হওয়া) – আমাদের রতন আর সে রতন নেই, কনট্রাক্টরি করে তার এখন আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।


আচাভুয়ার বোম্বাচাক (যা সম্ভব নয় এমন জিনিস/অসম্ভব ব্যাপার) – তার মতো কৃপণ টাকা দান করল? এতো আচাভুয়ার বোম্বাচার।


আচার-বিচার (সদ্বিবেচনা/নিয়ম-শৃঙ্খলা) – তিনি গরিব হলেও আচার-বিচারহীন নন।


আছড়া-আছড়ি (ক্রমাগত আছাড়) – এত আছড়া-আছড়ি করলে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।


আছোলা বাঁশ (যে বাঁশের গাঁট ছাড়ানো হয়নি) ভালো মনে করে আশ্রয় দিলাম সে এখন আছোলা বাঁশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আজবখানা, আজবঘর (জাদুঘর, মিউজিয়াম) – তোমার এই ঘরটাকে তো দেখছি একেবারে আজবখানা বানিয়ে ফেলেছ।


আজোড়-জোড়ন (অসম্ভবকে সম্ভব করা, অঘটন ঘটানো/যা ঘটার কথা নয় তাই ঘটা) – তিনি কি আজোড়-জোড়নের ক্ষমতা রাখেন?


যে আজ্ঞা, যে আজ্ঞে (তাই হবে/যেমন বলবেন তেমনই হবে) – চাকরটি ‘যে আজ্ঞে’ বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।


আটকপালে, আটকপালিয়া (হতভাগ্য, অভাগা) – আমার মতো আটকপালের ভাগ্যে কি ঐ চাকরি জুটবে?


আটঘাট বাঁধা (চারদিক সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করা) – সব সময় আটঘাট বেঁধে কাজ করবে।


আটপ্রহর (সারা দিনরাত) – ছেলেটা আটপ্রহর খেলে বেড়াচ্ছে।


আটপিঠে, আটপিটে (আটটি দিক বা তলযুক্ত/চৌকস/সবদিকে পটু) – এমন আটপিঠে লোকই এই কাজের জন্য দরকার।


আটপৌরে (সারাদিন পরা বা ব্যবহার করা হয় এমন, নিত্যপরিধেয়) – ‘অক্লেশে আটপৌরে ধুতির মতো ব্যবহার কর্ত্তে লজ্জিত বা সঙ্কুচিত হলো না’।


আটালির মতো লাগা (কিছুতেই না ছাড়া) – আচ্ছা লোক তো তুমি, কাল থেকে আমার পেছনে আটালির মতো লেগে আছ।


আটাশে ছেলে (দুর্বল ও অক্ষম ছেলে) – সে তো আর আটাশে ছেলে নয় যে তোমাকে ভয় পাবে।


আটুপাটু (অতি উৎসাহ/উদ্যম) – মাছ ধরতে যাবার জন্য দেখছি তোমার খুব আটুপাটু।


আঠারো আনা (বড় বেশি বাড়াবাড়ি) – কাজের কাজ কিছু না করলেও সর্দারি করে ঘোলো আনার ওপর আঠারো আনা।


আঠার মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রিতা)


আদিখ্যেতা (ন্যাকামি) – এই বয়সে ছেলেকে নিয়ে আদিখ্যেতা আর ভালো দেখায় না।


আনাড়ি (অপটু, অনভিজ্ঞ) – আনাড়ি হাতের কাজ দেখেই বোঝা যায়।


আপখোরাকি (যে কাজে খোরাকি বা খাইখরচ বাবদ কিছু পাওয়া যায় না, কেবল বেতনই পাওয়া যায় এমন) – এ কাজে আপখোরাকি তিনশো টাকা মাইনে।


আপদ-বালাই (আপদ-বিপদ, নানা বিপদ ও ঝঞ্ঝাট) – মাদুলিতে কি আর আপদ-বালাই দূর হবে?


আপামর সাধারণ (সর্বসাধারণ, সাধারণ লোকজন) – কোনো বিশেষ লোকের কথা বলছি না, আপামর সাধারণের কথা বলছি।


আপ্তখুদি, আপ্তগরজি (নিজের গরজ বা প্রয়োজন বুঝে চলে বা কাজ করে এমন) – আচ্ছা আপ্তগরজি লোক তো তুমি।


আবজি-গাবজি (আবর্জনা, নোংরা, ময়লা জিনিস) – আবজি-গাবজিতে উঠোনটা ভরে গেছে।


আবদেরে গোপাল (অত্যন্ত বায়না করে এমন ছেলে) – ছেলেবেলা থেকে সব চাহিদা মিটিয়ে তুমিই ওকে আবদেরে গোপাল বানিয়েছ।


আমতা আমতা করা (স্পষ্ট করে হ্যাঁ বা না কোনোটাই না বলে অস্পষ্ট কথা বলা) – আমি চেপে ধরতেই সে আমতা আমতা করতে লাগল।


আমড়াগাছি (তোষামোদ, চাটুকারিতা) – আমড়াগাছি করে কাজ হাসিল করা আমার ধাতে নেই।


আমল দেওয়া (গুরুত্ব দেওয়া/গ্রাহ্য করা) – ও আমার কথায় আমলই দিল না।


আয়াস-ঘর (বিশ্রাম ঘর) – অনেক হেঁটেছি ভাই, এবার একটু আয়াস ছাড়ব।


আলগা কথা (গভীরভাবে বলা হয়নি এমন কথা) – ও কথা বাদ দাও, এমন আলগা কথা সবাই বলে।


আলতু-ফালতু (আজেবাজে, অসার) – আলতু-ফালতু কথা শুনলে মেজাজ খারাপ তো হবেই।


আলতো আলতো (আগলা) – আলতো করে ধরো/আলতো করে বাঁধো।


আলাই-বালাই (বিপদ-আপদ, ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট) – আলাই-বালাইয়ের কি আর শেষ আছে?


আলাভোলা (নিতান্ত ভালোমানুষ গোছের, সাদাসিধে) – একেবারেই আলোভোলা ধরনের মানুষ তিনি।


আলুদোষ, আলুর দোষ (মেয়েদের প্রতি অত্যধিক দুর্বলতা; চরিত্রের দোষ) – আলুদোষের জন্য লোকটা যে কোনো দিন মারধর খাবে।


আলেয়ার পেছনে ছোটা (অসম্ভবের পেছনে ছোটা/বিভ্রান্তিকর জিনিস পাবার জন্য পরিশ্রম করা) – সারাজীবন কেবল আলেয়ার পেছনে ছুটে বেড়ালাম, পেলাম না কিছুই।


আলো-আঁধারি (আলো ও অন্ধকারের মিশ্রণ/পুরোপুরি আলোকিত নয়, আবার পুরোপুরি অন্ধকার নয় এমন অবস্থা) – ঘরে তখন একটা বিচিত্র আলো-আঁধারি।


আশকারা দেয়া (প্রশ্রয় দেয়া) – চাকরবাকরকে অত আশকারা দাও কেন?


আসমান জমিন ফারাক (বিরাট তফাত, বিপুল ব্যবধান) – দুই ভাইয়ের আর্থিক অবস্থা আসমান জমিন ফারাক।


আষ্টেপৃষ্ঠে (সারা গায়, সর্বাঙ্গে) – ডাকাতরা লোকটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে।


আসন টলা (অনুগত ব্যক্তির জন্য বিচলিত হওয়া, নীরবতা দূর হওয়া) – এতদিন গুরুর আসন টলেছে।


আসর গরম করা, আসর মাত করা (আসরে বা আড্ডায় উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করা) – কথা বলে গল্প বলে সে আসর গরম করতে ওস্তাদ।


আসরে নামা (সভার কাজে যোগ দেয়া) – এইবার আসল লোক আসরে নেমেছে।


আস্ত কেউটে (অত্যন্ত বিপজ্জনক লোক) – ও তো একটা আস্ত কেউটে, ওকে বিশ্বাস করো না।


আহ্লাদে আটখানা (আনন্দে আত্মহারা) – পরীক্ষায় পাসের খবরে মা তো একেবারে আহ্লাদে আটখানা।