রাত বাড়ে, চারপাশ শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু আপনার মাথার ভেতর চিন্তার ঝড় যেন থামতেই চায় না।
পরিবারের কেউ ফোন ধরতে একটু দেরি করলে বুকটা ধড়ফড় করে ওঠে? সামান্য একটা মাথাব্যথা হলে মনে হয় বড় কোনো রোগ হলো না তো? কোনো কারণ ছাড়াই একটা সার্বক্ষণিক অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা, কিংবা রাতে এপাশ-ওপাশ করে ভোরের আলো দেখে ফেলা—এই চেনা কষ্টগুলোর মধ্য দিয়ে কি আপনি যাচ্ছেন?
শুনুন, আমি আপনাকে একটা কথা বুক দিয়ে আশ্বস্ত করতে চাই—আপনি দুর্বল নন। আপনি ইচ্ছা করে এই দুশ্চিন্তাগুলো করছেন না। এটা আপনার কোনো ব্যক্তিত্বের খামতি বা মনের ভুল নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Generalized Anxiety Disorder (GAD)। সহজ কথায়, আমাদের মনের ভেতরের যে সুরক্ষামূলক অ্যালার্ম সিস্টেম থাকে, তা কোনো এক অজানা কারণে অনবরত বেজেই চলেছে। আপনি ক্লান্ত, আপনি একটু শান্তি চান, আর সেটা চাওয়াটা একদম স্বাভাবিক।
একটু থামুন। গভীর একটা শ্বাস নিন। আসুন, আমরা একসাথে এই মেঘটা কাটার চেষ্টা করি। যখনই মন খুব বেশি অস্থির হয়ে উঠবে, নিজেকে একটু সময় দিয়ে এই ৩টি কাজ করুন:
আপনার মন যখনই আপনাকে সবচেয়ে ভয়াবহ আর খারাপ কোনো ভবিষ্যতের গল্প শোনানো শুরু করবে, নিজেকে একটু জড়িয়ে ধরে খুব শান্ত গলায় ৩টি প্রশ্ন করুন:
আমি যা ভেবে মরছি, তার পেছনে কি সত্যিই কোনো বাস্তব প্রমাণ আছে?
সবকিছু কি আসলেই এত খারাপ হবে, নাকি ভালো কিছুও হতে পারে?
যদি সত্যি কোনো কঠিন পরিস্থিতি আসেই, সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে তা মোকাবেলা করার শক্তি কি আমার অতীতে ছিল না?
যখন চারপাশের সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাচ্ছে মনে হবে, তখন চোখ দুটো বন্ধ করুন।
৪ সেকেন্ড ধরে নাক দিয়ে বুক ভরে একটা ঠান্ডা শ্বাস নিন...
৭ সেকেন্ড শ্বাসটাকে মনের ভেতরে ধরে রাখুন, শান্ত হোন...
৮ সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে ফুঁ দেওয়ার মতো করে আস্তে আস্তে সব ক্লান্তি আর ভয় বাতাসে উড়িয়ে দিন। এটি মাত্র ৪-৫ বার করুন। দেখবেন শরীর ও মন কতটা হালকা লাগে।
প্রতিদিন নিজের জন্য মাত্র ২০টি মিনিট রাখুন। একটু হাঁটুন, খোলা আকাশের দিকে তাকান। শরীর সচল হলে মস্তিষ্ক নিজে থেকেই এমন কিছু ভালো হরমোন তৈরি করে, যা আপনার মনকে শান্ত করার ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
১. দুশ্চিন্তা / Anxiety
২. ডিপ্রেশন
৩. ক্রনিক ডিজিজ ( ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বিকল, হৃদরোগ সহ যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ)
৪. ডায়েট/ খাদ্যাভ্যাস
৫. লাইফস্টাইল মডিফিকেশন