১৮৯৭ সালে রুডলফ ডিজেল যে ইঞ্জিন বানিয়েছিলেন, তার মৌলিক কাঠামোতে খুব পরিবর্তন আসেনি এখনো। উচ্চতাপমাত্রায় চাপে থাকা বায়ু আর ফুয়েল কাজে লাগিয়ে শক্তি উৎপাদন করে এই ডিজেল ইঞ্জিন।
ডিজেল ও পেট্রলের মধ্যে পার্থক্য কী?
ডিজেল আর পেট্রল ইঞ্জিন প্রায় একই কাঠামোতে বানানো হয়। দুটো ইঞ্জিনই রাসায়নিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তর করে। ধারাবাহিকভাবে ঘটানো কিছু নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে এটা ঘটে। তবে দুটি ইঞ্জিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য চোখে পড়ে এগুলোতে ঘটানো বিস্ফোরণের পদ্ধতিতে। পেট্রল ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল প্রথমে বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। এরপর উচ্চচাপে স্ফুলিঙ্গের সাহায্যে জ্বলে ওঠে। কিন্তু ডিজেল ইঞ্জিনে কোনো স্ফুলিঙ্গ ব্যবহার করা হয় না। জ্বালানির সঙ্গে মেশার আগেই এখানে বাসাতে উচ্চচাপে তাপমাত্রা বাড়ানো হয়। যেহেতু বাতাসের তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাই জ্বালানি তেলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরণে অংশ নেয়।
১৯৫০-৬০–এর দশকের কথা। ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাণ্ডবলীলা মাত্র নিভতে শুরু করেছে। প্রলয়ংকরী যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য থেকে যেন ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্জন্ম হলো সৃজনশীলতার। বিজ্ঞানের চাকা ছুটছে তুমুল গতিতে। পাল্লা দিয়ে কাজ করছে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন, চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুতনিক-১ প্রেরণের মাধ্যমে মহাকাশ যুগের সূচনা করে। সোভিয়েতের এই সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাহাকার পড়ে যায়। ফলাফল হিসেবে আমেরিকা মহাকাশ গবেষণায় লগ্নি করা শুরু করে এবং সৃষ্টি হয় নাসার। ইউএস নেভির সহায়তায় নাসায় তখন মহাকাশ নিয়ে গবেষণা তুঙ্গে। মানুষ পাঠানোর আগে মহাকাশের পরিবেশ মহাকাশচারীদের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা বুঝতে বিজ্ঞানীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে সে সময় নাসা ও ইউএস নেভি বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তৎকালীন গ্যালোডেট কলেজের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে তারা আমন্ত্রণ জানায় এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই পরীক্ষাগুলো যাঁরা পরিচালনা করছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন অ্যাশটোন গ্যাব্রিয়েল। ভদ্রলোক পেশায় একজন চিকিৎসক, হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি মহাকাশচারীদের ওপর এই মহাশূন্যে অভিযান যেসব সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে চিন্তা করছিলেন।
মহাকাশচারীরা যখন রকেটে ভ্রমণ করবেন, তখন তাঁদের গতিবেগ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হবে। তাই তীব্র গতির কারণে মাথা ঘোরা, বমি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেবে; যাকে ইংরেজিতে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। মোশন সিকনেসের হাত থেকে তাঁদের বাঁচানোর উপায় সম্পর্কে জানতে নাসা বিশেষভাবে আগ্রহী ছিল। এ ছাড়া পৃথিবীর বাইরে আমাদের জন্য অস্বস্তিকর ও অস্বাভাবিক মহাকর্ষীয় বল কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও গবেষণা চলছিল। তখনকার দিনে জীববিজ্ঞান যত দূর এগিয়েছিল, তা থেকে ধারণা করা হতো যে মোশন সিকনেসের জন্য আমাদের পাকস্থলী দায়ী। পরীক্ষাগুলোয় স্বেচ্ছাসেবকেরা যখন মোশন সিকনেস অনুভব করছেন, তখন তাঁদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে, তা ধারণ করে রাখার মতো উপযুক্ত ক্যামেরা বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র তখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কী ধরনের আচরণ করছে, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতো সম্ভাব্য সব উপায়ে, যেমন তাঁদের রক্তচাপ ও হৃৎকম্পন কত ছিল, হজমে সমস্যা হচ্ছে কি না, রক্ত ও মূত্র পরীক্ষায় অসামঞ্জস্য আছে কি না, চোখ নাড়াতে সমস্যা হচ্ছে কি না ইত্যাদি।
দেখা গেল, এসব পরীক্ষায় বধির ব্যক্তিরা, অর্থাৎ যাঁদের শ্রবণেন্দ্রিয় নেই, তাঁরা মোশন সিকনেসে আক্রান্ত হচ্ছেন না। কিন্তু যাঁদের এই সমস্যা নেই, অর্থাৎ সুস্থ, স্বাভাবিক শ্রুতিক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা মোশন সিকনেসে আক্রান্ত হচ্ছেন। অদ্ভুতুড়ে এই প্রাথমিক ফলাফল থেকে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নিলেন, তাঁরা স্বাভাবিক ও বধির ব্যক্তিদের দুটি দলে বিভক্ত করে তাঁদের ওপর একই ধরনের পরীক্ষা চালিয়ে সেগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করবেন। সেই উদ্দেশ্যে গ্যালোডেট কলেজের ২৫-৪৮ বছর বয়সী ১১ জন বধির স্বেচ্ছাসেবককে এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
প্রায় এক দশক ধরে এই ১১ জনকে নিয়ে প্রতিকূল অবস্থায় অনেকগুলো চরম পরীক্ষা করা হয়। সেগুলোতে তাঁরা শারীরিক ও মানসিক সহ্যসীমার চূড়ান্তে পৌঁছে যান। এই পরীক্ষাগুলো করার উদ্দেশ্য ছিল মূলত মহাকাশের বৈরী পরিবেশে মানবদেহে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং মানবদেহ কীভাবে সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তার প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করা। যেমন একটি পরীক্ষায় টানা ১২ দিন তাঁদের একটি ২০ ফুট ব্যাসের গোলকাকৃতির কক্ষে রাখা হয়। কক্ষটি প্রতি মিনিটে ১০ বার ৩৬০ ডিগ্রি কোণ পরিমাণ ঘুরতে পারে। চরকির মতো সেই কক্ষে ঘুরতে ঘুরতে সুস্থ মানুষেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, বমি করে ভাসিয়ে ফেলছেন। কিন্তু বধির ব্যক্তিদের মধ্যে এ ধরনের বিরূপ প্রভাব দেখা গেল না।
আরেকটি পরীক্ষার জন্য তাঁদের নেওয়া হয় ভমিট কমেট নামের একধরনের উড়োজাহাজে। এই উড়োজাহাজের গতি এমন, যাত্রীরা মাঝেমধ্যে কিছু সময়ের জন্য জিরো গ্র্যাভিটি বা ওজনহীনতা অনুভব করতে পারেন। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হলে বমি হতো বলে এই বিশেষ নামকরণ। ওজনহীনতার জন্য বধির ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো শারীরিক সমস্যাই দেখা গেল না।
এ ছাড়া ওই ১১ জনকে নিয়ে আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়। যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ১০২ তলা উঁচু এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে নিচে তাঁদের লিফটে ওঠানো-নামানো করা হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা ঘটে ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় নর্থ আটলান্টিক সাগরে। উত্তাল সমুদ্রে দুলতে থাকা জাহাজের যাত্রীরা সাধারণত মোশন সিকনেসসহ আরও কিছু সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাই এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কী ধরনের আচরণ করে, তা নিয়ে গবেষণা করাই ছিল এই যাত্রার আসল উদ্দেশ্য। অশান্ত সমুদ্রে বাংকার রুমে তাঁরা হাসিঠাট্টায় মশগুল। তাসের আসরে ইশারা-ইঙ্গিতে বা লিপ রিডিং করে গল্পের খই ফুটছে। সাগরের অবাধ্য ঢেউ, প্রলয়ংকরী ঝড়—কিছুই যেন তাঁদের শারীরিকভাবে কাবু করতে পারছে না। এমন সময় বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ জরুরি খবর এল, এই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, দ্রুত তাঁদের তীরে ফিরে আসতে হবে। কারণ, সুস্থ, স্বাভাবিক যেসব বিজ্ঞানী ও গবেষক বধিরদের শরীরের বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করছিলেন, তাঁরাই এই উত্তাল সমুদ্রে মোশন সিকনেসে আক্রান্ত!
বধিরদের জাদুকরি ক্ষমতার উৎস কী, তা বের করতে নাসা উঠেপড়ে লেগে যায়। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, রহস্যের সমাধান লুকিয়ে আছে তাঁদের অন্তঃকর্ণে। ১১ জনের সবাই ছোটবেলায় স্পাইনাল মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে তাঁদের অন্তঃকর্ণের ভেস্টিবুলার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেস্টিবুলার সিস্টেম মস্তিষ্ককে দেহের গতি সম্পর্কে তথ্য পাঠায় এবং দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আমরা যখন কোনো দিকে গতিশীল হই, তখন এই ভেস্টিবুলার সিস্টেম মস্তিষ্ককে সিগন্যাল দেয়, দেহ কোন দিকে গতিশীল। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, আমরা গাড়িতে চড়ে কোথাও যাচ্ছি। তখন যদি একটা বই পড়ার চেষ্টা করি, তাহলে চোখ মস্তিষ্ককে সিগন্যাল দেবে, দেহ স্থির হয়ে আছে, কিন্তু গতি জড়তার কারণে আমাদের অন্তঃকর্ণের সেই ভেস্টিবুলার সিস্টেম সিগন্যাল দেবে, আমাদের দেহ এখনো গতিশীল অবস্থায় আছে। দুই পরস্পরবিরোধী বার্তা পেয়ে আমাদের মস্তিষ্ক দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে। তারই ফল হলো এই মোশন সিকনেস। ভিজ্যুয়াল আর ভেস্টিবুলার সিস্টেমের এই ভিন্ন সিগন্যাল আমাদের মস্তিষ্ককে দ্বিধায় ফেলে দেয় বলে এই তত্ত্বকে বলা হয় সেন্সরি কনফ্লিক্ট থিওরি।
যেহেতু গ্যালোডেট কলেজের ওই ১১ ব্যক্তির কান আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, তাই তাঁরা কখনো মোশন সিকনেসে আক্রান্ত হতেন না। এই পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকেরা ওষুধ তৈরি করার চেষ্টা করেন, যাতে সুস্থ মানুষকে এই মোশন সিকনেসের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। এই বধির একাদশ আসলে গোটা মানবজাতির জন্যই ছিল একাদশে বৃহস্পতিস্বরূপ। এই গবেষণার ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ধারণা করা হয়, এই গবেষণার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে যাওয়ার দৌড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়।
নাসার একসময়ের প্রধান ইতিহাসবিদ উইলিয়াম পি ব্যারি বলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেক দিন যাবৎ মহাকাশে মানুষ পাঠানো বন্ধ রেখেছিল। আমরা এর কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জানা গেল, তাঁদের দ্বিতীয় নভোচারী মহাকাশযাত্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’
বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো বিজ্ঞানে পৃথিবীর যে কেউ অবদান রাখতে পারে; মানুষের জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশ্বাস, চরিত্র, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, শারীরিক অক্ষমতা ইত্যাদি কিছুই এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। গ্যালোডেট কলেজের সেই ১১ জন বধির ব্যক্তি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতাসম্পন্ন মানুষেরা অক্ষম নন; বরং বিশেষভাবে সক্ষম এক অমূল্য মানবসম্পদ। তাঁরা নিজেরা হয়তো মহাকাশে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁদের মতো অসংখ্য মানুষের অবদানের কারণেই আমরা একদিন উড়ে গিয়েছি অনন্ত নক্ষত্রবীথির পানে।
লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: অক্সফোর্ড রেফারেন্স ডটকম
*লেখাটি ২০২০ সালে বিজ্ঞানচিন্তার ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত
ঢাকা_দক্ষিণ_এশিয়ার রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। প্রশাসনিকভাবে এটি ঢাকা জেলার প্রধান শহর। ভৌগোলিকভাবে এটি বাংলাদেশের মধ্যভাগে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি সমতল এলাকাতে অবস্থিত। ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ায় মুম্বাইয়ের পরে দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির শহর। ঢাকার জিডিপি ১৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২০ সালের হিসেবে। এছাড়া ঢাকার পিপিপি ২৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২০ সালের হিসেবে। ভৌগোলিকভাবে ঢাকা একটি অতিমহানগরী বা মেগাসিটি; ঢাকা মহানগরী এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ ভাগ। জনসংখ্যার বিচারে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম শহর। জনঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর; ৩০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২৩ হাজার লোক বাস করে।
ঢাকা শহর "মসজিদের_শহর " নামে সুপরিচিত। এখানে এক হাজারেরও বেশি মসজিদ আছে। এই শহরে রোজ প্রায় ৫ লক্ষ রিকশা চলাচল করে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বাণিজ্যকেন্দ্র।
ঢাকা শহরের জলবায়ু ক্রান্তীয় আর্দ্র ও শুষ্ক প্রকৃতির। গড় তাপমাত্রা এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন প্রায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ঢাকা শহরে বর্ষাকাল, সেসময় প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়।
সপ্তদশ শতাব্দীতে পুরান ঢাকা মুঘল সাম্রাজ্যের সুবহে বাংলা (বাংলা প্রদেশ) এর প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে এই শহর জাহাঙ্গীর নগর নামে পরিচিত ছিলো। বিশ্বব্যাপী মসলিন বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র ছিলো ঢাকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীগণ এখানে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসতেন। ঢাকাতে বিশ্বের সেরা মসলিন কাপড় উৎপাদিত হতো। যদিও আধুনিক ঢাকা শহরের বিকাশ ঘটে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসন আমলে, এই সময় নবাবগণ ঢাকা শাসন করতেন। এই সময় কলকাতার পরেই ঢাকা বাংলা প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হয়ে ওঠে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে ঢাকা নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পরে ঢাকা পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৯৫০-১৯৬০ সালের মধ্যে এই শহর বিভিন্ন সামাজিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে ঢাকা “স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজধানী” ঘোষিত হয়। ইতঃপূর্বে সামরিক আইন বলবৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, সামরিক দমন, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তাণ্ডবলীলার মতো একাধিক অস্থির ঘটনার সাক্ষী হয় এই শহর।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। আধুনিক ঢাকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র। এটা প্রশংসিত জাতীয় দর্শনীয় স্থানগুলো যেমন জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ,মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, হাতিরঝিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, আর্মেনীয় গির্জা ইত্যাদির মূলস্থান।
এই শহরের নগরাঞ্চলীয় অবকাঠামোটি বিশ্বে সর্বোন্নত হলেও দূষণ, যানজট এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যথেষ্ট পরিষেবার অভাব ইত্যাদি শহুরে সমস্যাগুলি এখানে প্রকট। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে ঢাকার পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণপূর্ত ব্যবস্থায় যে আধুনিকীকরণ হয়েছে, তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বর্তমানে এই শহর প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ টানতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। সারা দেশ থেকে প্রচুর মানুষ ঢাকায় আসেন জীবন ও জীবিকার সন্ধানে। এ কারণে ঢাকা হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান নগরী, এই লক্ষ বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া, জাপান, চীন, ভারত সহ বিভিন্ন দেশ অর্থ সহযোগিতা ও বিনিয়োগ করছে।
Nicolaus Copernicus, the father of modern astronomy, was a Polish astronomer. He was the first modern European scientist to propose the Heliocentric Theory of the Universe, which states that the Earth and other planets revolve around the Sun. Prior to the publication of his monumental astronomical work, The Six Books on the Revolutions of the Celestial Spheres, in 1543, European astronomers held that the Earth was at the center of the universe, a position shared by most ancient philosophers and biblical writers. Copernicus argued that the Earth rotated around its axis on a daily basis and that gradual shifts in this axis represented seasonal changes, in addition to correctly postulating the order of known planets from the Sun and a relatively accurate estimate of their orbital periods.
For more than 1,000 years, Ptolemy’s system was accepted European cosmology, but by the time Copernicus came, astronomical evidence had thrown some of his theories into confusion. Astronomers couldn’t agree on the order of the planets from Earth, and Copernicus dealt with this problem at the beginning of the 16th century.
Between 1508 and 1514, Nicolaus Copernicus wrote Commentariolus, or “Little Commentary,” a short astronomical treatise that laid the groundwork for his heliocentric system (centered on the sun). During his lifetime, the work was never published. He correctly postulated the relative distances of the known planets, including the Earth, from the sun during the discussion, as well as an estimate of their orbital periods.
Nicolaus Copernicus, the father of modern astronomy, was a Polish astronomer. He was the first modern European scientist to propose the Heliocentric Theory of the Universe, which states that the Earth and other planets revolve around the Sun. Prior to the publication of his monumental astronomical work, The Six Books on the Revolutions of the Celestial Spheres, in 1543, European astronomers held that the Earth was at the center of the universe, a position shared by most ancient philosophers and biblical writers. Copernicus argued that the Earth rotated around its axis on a daily basis and that gradual shifts in this axis represented seasonal changes, in addition to correctly postulating the order of known planets from the Sun and a relatively accurate estimate of their orbital periods.
For more than 1,000 years, Ptolemy’s system was accepted European cosmology, but by the time Copernicus came, astronomical evidence had thrown some of his theories into confusion. Astronomers couldn’t agree on the order of the planets from Earth, and Copernicus dealt with this problem at the beginning of the 16th century.
Between 1508 and 1514, Nicolaus Copernicus wrote Commentariolus, or “Little Commentary,” a short astronomical treatise that laid the groundwork for his heliocentric system (centered on the sun). During his lifetime, the work was never published. He correctly postulated the relative distances of the known planets, including the Earth, from the sun during the discussion, as well as an estimate of their orbital periods.
Copernicus’ heliocentric theory was far from revolutionary, as it created as many problems as it solved. Heavy objects, for example, have always been assumed to fall to Earth because the Earth is the center of the universe. Why would they do this in a solar-powered system? He maintained the ancient belief that circles ruled the heavens, but his evidence demonstrated that even in a sun-centered universe, planets and stars did not revolve in circular orbits around the sun. Copernicus postponed the publication of his great astronomical work, “De revolutionibus orbium coelestium libri vi”, or “six books on the revolutions of the celestial spheres,” for almost his entire life due to these and other challenges. Completed around 1530, it was not published until 1543 – the year of his death.