১) ফ্লু/কম্বাইন্ড ভ্যাক্সিন নিয়ে যত প্রশ্ন?
--------- ডাঃ জুনেদ আহমদ
ডিভিএম, এমএস (প্যাথলজি)
ভেটেরিনারিয়ান, সিলেট পেট কেয়ার, সিলেট
২) র্যাবিস (জলাতঙ্ক) রোগের ভ্যাক্সিন দেয়া কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
--------- ডাঃ জুনেদ আহমদ
ডিভিএম, এমএস (প্যাথলজি)
ভেটেরিনারিয়ান, সিলেট পেট কেয়ার, সিলেট
পোষা প্রাণি পালনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির মধ্যে ভ্যাক্সিন অন্যতম। তাই সচেতন মানুষরা ভেটেরিনারী ডাক্তারের কাছে নিয়ে হেলথ চেকআপ করে ভ্যাক্সিন করিয়ে থাকেন। আবার অনেকে ভ্যাক্সিন নিয়ে নিজে পুশ করেন অথবা অনভিজ্ঞ কাউকে দ্বারা পুশ করান।
তাই ভ্যাক্সিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সতর্কতা রয়েছে। সঠিকভাবে, সঠিকমাত্রায়, সঠিকস্থানে ভ্যাক্সিন দেওয়া জরুরি। ভূলভাবে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ ভালোর চেয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভ্যাক্সিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যেমন:
১) বয়সঃ
বিড়াল/কুকুরের ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেক ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী কোম্পানি নির্দেশনামা দিয়ে দেয়। সেটা লক্ষ্য রেখে ভ্যাক্সিন দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা। সব ভ্যাক্সিন একই বয়সে দেওয়া হয় না, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ভ্যাক্সিন দেওয়ার সময় জেনে নিবেন।
২) শারীরিক কন্ডিশনঃ
অসুস্থ অবস্থায় কোনভাবেই ভ্যাক্সিন দেওয়া যাবে না। এতে অনেক সময় রোগের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অধিক দেখা দিতে পারে।
৩) কুলিং টেম্পারেচারঃ
ভ্যাক্সিন পরিবহণ করতে হবে বরফ দিয়ে। শার্ট-প্যান্টের পকেটে করে নিয়ে পুশ করলে ভ্যাক্সিনের কার্যকারীতা থাকবে না। ফ্লাক্সে করে বরফ দিয়ে পরিবহণ করা লাগবে।
৪) সঠিক মাত্রায় পুশ করাঃ
ভ্যাক্সিন নির্দিষ্ট ডোজে প্রস্তুত করা হয়। ডোজের চেয়ে কম বেশি হলে ভ্যাক্সিন দ্বারা নিরাপত্তা আশা করা যাবে না। আর ১ ডোজের ভ্যাক্সিন ভাগ করে ২ টা প্রাণিকে দেওয়ার চিন্তা কখনোই করবেন না। ভ্যাক্সিন বিস্কুট কিংম্বা চানাচুরের মত ভাগ করে খাওয়ার জিনিষ না।
৫) সঠিক স্থানে পুশ করাঃ
শরীরের স্থান নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। ভ্যাক্সিন উৎপাদনকারী কোম্পানি দ্বারা নির্দেশনা দেওয়া থাকে চামড়ার নিচে নাকি মাংসপেশিতে। এটা লক্ষ্য রাখা জরুরি। অনভিজ্ঞ মানুষ পুশ করতে গিয়ে অনেক সময় চামড়া ভেদ করে বাহিরে ফেলে দেন ভ্যাক্সিন। আবার অনেকে নিজে নিজে দিতে গিয়ে নার্ভে আঘাত করে ফেলেন। শরীরের সব স্থানের চামড়া একই রকম না, মাংসপেশী ও একই রকম না।
৬) গর্ভাবস্থায়ঃ
গর্ভাবস্থায় ভ্যাক্সিন দেওয়া থেকে বিরত থাকা শ্রেয়।
৭) মেডিসিন ব্যবহারের সময়ঃ
কিছু কিছু মেডিসিন ব্যবহার করার সময় ভ্যাক্সিন দেওয়া থেকে বিরত থাকা উত্তম। তাই অবশ্যই ভ্যাক্সিন দেওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন ও কোন চলমান চিকিৎসা আছে কিনা সেটা বলবেন।
৮) ভ্যাক্সিন দেওয়ার বয়স হয়ে গেলে যেমন বিলম্ব করা ঠিক না, তেমনি তাড়াহুড়ো করে ভ্যাক্সিন দিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনবেন না।
--------- ডাঃ জুনেদ আহমদ
ডিভিএম, এমএস (প্যাথলজি)
ভেটেরিনারিয়ান, সিলেট পেট কেয়ার, সিলেট
৪) বিড়াল/কুকুর কম খাচ্ছে অথবা খায় না। কি করব?
এই প্রশ্নটি আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি আসে।
উত্তরঃ
প্রথমেই বলে রাখি যে কম খাওয়া অথবা খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া কোন রোগ নয়। বরং এটা তাদের রোগের বা কোন সমস্যার একটা লক্ষণ। মানুষ যেভাবে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে, পশুপাখিরা সেভাবে বলতে পারে না।
খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের এমন কিছুর বহিঃপ্রকাশ। পোষা প্রাণি বিভিন্ন কারণে খাবার খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে। তার মধ্যে কিছু কারণ এখানে উল্লেখ করা হলঃ
১) রোগঃ বিড়াল কুকুরের ভাইরাসজনীত সমস্যা প্রায়ই হয়ে থাকে। এছাড়াও অন্যান্য অসুস্থতার প্রথম লক্ষন প্রকাশ পায় ক্ষুধামন্দা দিয়ে।
২) দাঁত পড়ে যাওয়া ও দাঁত উঠা।
৩) ভ্রমনের পর খাওয়া কমতে পারে।
৪) অখাদ্য কোন বস্তু যেমনঃ বল, কাগজ, রমনীদের চিরুনী থেকে রেখে দেওয়া কেশ, বালু, চুলের ফিতা, হেডফোন ইত্যাদি গিলে ফেলা।
৫) লম্বা লোমের বিড়াল/কুকুরের ক্ষেত্রে লোম বেশী পরিমান পেটে আটকে থাকা।
৬) অধিক মাত্রায় চকলেট, চিপস, কেক, ক্রিমযুক্ত ও চকলেটযুক্ত বিস্কুট খাওয়া।
৭) হঠাত খাদ্যাভাস পরিবর্তন করা ও খাবারের ব্রান্ড পরিবর্তন করা।
৮) দীর্ঘদিন কৃমিনাশক না দেওয়া।
৯) পচা/ বাসি খাবার হঠাত করে খাওয়া (কিছু লিজেন্ড বিড়াল/কুকুর আছে যারা এসব পাত্তাই দেয় না। তবে এসব থেকে সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা বেশি)।
১০) ভ্যাক্সিন দেওয়ার পর ১-২ দিন একটু কম খেতে চাইবে।
১১) হিটে আসার সময় একটু কম খেতে চায় কিছু প্রাণি। (হিট মানে প্রজনন এর উপযুক্ত হওয়ার প্রকাশ)।
১২) ব্যাথা/আঘাত পাওয়া।
১৩) মন খারাপ থাকলে। যেমনঃ হঠাত সঙ্গী/সঙ্গীনিকে আলাদা করে দেওয়া অথবা নতুন কাউকে আমদানি করলে অনেক সময় মন খারাপ হয়।
১৪) পোষা প্রাণির ক্ষেত্রে হঠাত মালিকানা পরিবর্তন।
১৪) কিছু কিছু মেডিসিনের প্রভাবে খাওয়ার রুচি কমে যেতে পারে সাময়িকভাবে।
১৫) ইনফেকশন জনিত সমস্যার কারণে খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে।
১৬) পুষ্টিজনিত অভাব।
করণীয় কিঃ
১) খাবার পরিবর্তন করতে পারেন। অধিক সুঘ্রাণযুক্ত খাবার দিতে পারে (যেমনঃ টুনা, স্যালমন ফিশ ইত্যাদি)।
২) খাবার পাত্র থেকে আগের খাবার সরিয়ে নিবেন ও পরিস্কার করে নতুন খাবার দিবেন।
৩) কিছু প্রাণি খুব সামাজিক। তাদের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার সময় মাথায় হাত বুলানো লাগতে পারে। অসামাজিকদের একটু আড়ালে খাবার দিবেন।
৪) মুখে তুলে চেষ্টা করবেন। দূর্বল থাকলে তরল খাবার ড্রপার। সিরিঞ্জ দিতে অল্প অল্প করে দিতে হবে।
৫) কিছু ক্ষেত্রে গ্লুকোজ খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়। অনেক বিড়াল/কুকুরকে চিকেন স্টক খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়।
৬) কৃমিনাশক না খাইয়ে থাকলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে খাওয়াতে হবে।
৭) পুষ্টিকর ট্রিট দিতে পারেন।
আরো কিছু পরামর্শঃ খাওয়া কমিয়ে দেওয়া কোন নির্দিষ্ট রোগ নয়। তাই যদি বিড়াল/কুকুর কম খাচ্ছে এই সমস্যার কথা বলে কেউ সরাসরি মেডিসিন চাইলে হুট করে কিছু দেওয়া যায় না। এজন্য আমরা বলে থাকি নিকটস্থ ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আগে রোগনির্ণয় জরুরী।
যদি ইনফেকশনজনিত সমস্যার কারণে কম খায়, হাজারটা রুচিবর্ধক ঔষধ দিয়েও কোন লাভ হবে না। আবার ভাইরাসজনিত সমস্যার জন্য খাবার কম খাচ্ছে, আপনি ফার্মেসি থেকে কৃমির ঔষধ কিনে খাওয়ালেও কাজ হবে না।
সারকথাঃ বিড়ালের ও কুকুরে মন বুঝার চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যগত বিষয়ে অবহেলা করবেন না।
--------- ডাঃ জুনেদ আহমদ
ডিভিএম, এমএস (প্যাথলজি)
ভেটেরিনারিয়ান, সিলেট পেট কেয়ার, সিলেট