Donate Blood Save Life
সার্বিক স্কুল স্যানিটেশন-ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় স্বাস্থ্য উন্নয়ন-প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এটা পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সামগ্রিক স্কুল স্যানিটেশন-ব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়টিকে সামনে আনতে হবে। ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অপুষ্টির অন্যতম কারণ ডায়রিয়া এবং অন্ত্রে প্রদাহজনিত রোগ এড়াতে সাহায্য করে স্যানিটেশন ও উন্নত হাইজিন ব্যবস্থা। তথ্য সংগ্রহঃ প্রথম আলো।
বাংলাদেশে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। ২০১৩ সালে পরিচালিত ইউনিসেফের একটি জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে একই টয়লেট একাধিক ব্যক্তি ও পরিবারের ব্যবহারের হার অনেক বেশি এবং শহরের বস্তিগুলোতেই তা সবচেয়ে বেশি।
তথ্য সূত্রঃ ইউনিসেফ
জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ স্কুলে উন্নত এবং ১২ শতাংশ স্কুলে অনুন্নত ল্যাট্রিন আছে। ৪ শতাংশ স্কুলে কোনো ল্যাট্রিন নেই। গড়ে ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি ল্যাট্রিন আছে। এটি প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। স্কুলগুলোর ৫৫ শতাংশ ল্যাট্রিনে তালা দেওয়া থাকে। খোলা থাকা ল্যাট্রিনগুলোর মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ ব্যবহারের উপযোগী। ৮০ শতাংশ স্কুলে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ল্যাট্রিনের কাছাকাছি হাত ধোয়ার পানির ব্যবস্থা আছে মাত্র ৪৫ শতাংশ স্কুলে। পানি, সাবানসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে এক-তৃতীয়াংশ স্কুলে। ১৬৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি মাসে স্কুলগুলো গড়ে খরচ করে ৬১ টাকা। ‘মাসিক’ বা ‘পিরিয়ড’ কিশোরীদের দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কেবল ৬ শতাংশ ছাত্রী মাসিক সম্পর্কে স্কুল থেকে জানতে পারে। কেবল ১১ শতাংশ স্কুলে ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেট আছে। কিন্তু মাসিক ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা আছে মাত্র ৩ শতাংশ স্কুলে। তাই ৮৬ শতাংশ ছাত্রী মাসিকের সময় স্কুলে আসতে চায় না। ৪০ শতাংশ ছাত্রী মাসিকের সময় গড়ে তিন দিন পর্যন্ত স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।
মাসিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কারিকুলামে আছে। কিন্তু শিক্ষকেরা এটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণের সময় এ বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। হাত ধোয়ার উপকরণ ও টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সরকারের দিক থেকে অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এ বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।
Source: Prothom Alo