Singer: Jay Narohari Das
🦚🧿 जय श्री कृष्ण 🦚🧿
সংসার-দাবানল-লীঢ় লোক-
ত্রাণায় কারুণ্যঘনাঘনত্বম্।
প্রাপ্তস্য কল্যাণ-গুণার্ণবস্য
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্।।১।।
মহাপ্রভোঃ কীর্তন-নৃত্য-গীত
বাদিত্রমাদ্যন্মনসো রসেন।
রোমাঞ্চ-কম্পাশ্রু-তরঙ্গভাজো
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্।।২।।
শ্রীবিগ্রহারাধন-নিত্য-নানা-
শৃঙ্গার-তন্মন্দির মার্জনাদৌ।
যুক্তস্য ভক্তাংশ্চ নিযুঞ্জতোহপি
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্।।৩।।
চতুর্বিধ-শ্রীভগবৎপ্রসাদ-
স্বাদ্বন্নতৃপ্তান্ হরিভক্তিসঙঘান্।
কৃত্বৈব তৃপ্তিং ভজতঃসদৈব
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্।।৪।।
শ্রীরাধিকামাধবয়োপার-
মাধুর্যলীলা গুণ-রূপ-নাম্নাম্।
প্রতিক্ষণাস্বাদন-লোলুপস্য
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্।।৫।।
নিকুঞ্জযুনো রতিকেলিসিদ্ধ্যৈ
যা যালিভির্যুক্তিরপেক্ষণীয়া।
তত্রাতিদাক্ষাদতিবল্লভস্য
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্।।৬।।
সাক্ষাদ্বরিত্বেন সমস্তশাস্ত্রৈ-
রুক্তস্তথা ভাব্যত এব সদ্ভিঃ।
কিন্তু প্রভোর্যঃ প্রিয় এব তস্য
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম।।৭।।
যস্য প্রসাদাদভগবৎ-প্রসাদো
যস্যাপ্রসাদান্ন গতিঃ কুতোহপি।
ধ্যায়ংস্তুবংস্তস্য যশস্ত্রী-সন্ধ্যং
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম।।৮।।
Singer: Biswajit Das Brahamachari
জয় জয় গোরাচাঁদের আরতিকো শোভা।
জাহ্নবী-তটবনে জগমনোলোভা।।১।।
দক্ষিণে নিতাইচাঁদ, বামে গদাধর।
নিকটে অদ্বৈত, শ্রীনিবাস ছত্রধর।।২।।
বসিয়াছে গোরাচাঁদ রত্নসিংহাসনে।
আরতি করেন ব্রহ্মা-আদি দেবগণে।।৩।।
নরহরি-আদি করি’চামর ঢুলায়।
সঞ্জয়-মুকুন্দ-বাসুঘোষ-আদি গায়।।৪।।
শঙ্খ বাজে, ঘণ্টা বাজে, বাজে করতাল।
মধুর মৃদঙ্গ বাজে পরম রসাল।।৫।।
বহুকোটি চন্দ্র জিনি’বদন উজ্জ্বল।
গলদেশে বনমালা করে ঝলমল।।৬।।
শিব-শুক-নারদ প্রেমে গদগদ।
ভকতিবিনোদ দেখে গোরার সম্পদ।।৭।।
নমো নমঃ তুলসী! কৃষ্ণপ্রেয়সী!
রাধাকৃষ্ণ-সেবা পাব এই অভিলাষী।।
যে তোমার শরণ লয়, তার বাঞ্ছা পূর্ণ হয়,
কৃপা করি কর তারে বৃন্দাবন বাসী।
মোর এই অভিলাষ, বিলাষ-কুঞ্জে দিও বাস,
নয়নে হেরিব সদা যুগলরূপরাশি।।
এই নিবেদন ধর, সখীর অনুগত কর,
সেবা-অধিকার দিয়ে কর নিজ দাসী।
দীন কৃষ্ণদাসে কয়, এই যেন মোর হয়,
শ্রীরাধাগোবিন্দ-প্রেমে সদা যেন ভাসি।।
এইবার করুণা কর বৈষ্ণব-গোসাঞি।।
পতিতপাবন তোমা বিনে কেহ নাই।
যাঁহার নিকটে গেলে পাপ দুরে যায়।।
এমন দয়াল প্রভু কেবা কোথা পায়?
গঙ্গার পরশ হইলে পশ্চাতে পাবন।
দর্শনে পবিত্র কর--এই তোমার গুণ।।
হরিস্থানে অপরাধে তারে হরিনাম।
তোমা-স্থানে অপরাধে নাহিক এড়ান।।
তোমার হৃদয়ে সদা গোবিন্দ-বিশ্রাম।
গোবিন্দ কহেন-মম বৈষ্ণব-পরাণ।।
প্রতি জন্মে করি আশা চরণের ধূলি।
নরোত্তমে কর দয়া আপনার বলি।।
শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়।
হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়।।
বয়নে বসন দিয়া বলে লুকাইনু।
শচী বলে বিশ্বম্ভর আমি না দেখিনু।।
মায়ের অঞ্চল ধরি চঞ্চল চরণে।
নাচিয়া নাচিয়া যায় ‘খঞ্জন গমনে।।
বাসুদেব ঘোশ কয় অপরূপ শোভা।।
শিশুরূপ দেখি হয় জগমন লোভা।।
জীব জাগ, জীব জাগ, গোরাচাঁদ বলে।
কত নিদ্রা যাও মায়া-পিশাচীর কোলে।।১।।
ভজিব বলিয়া এসে সংসার-ভিতরে।
ভুলিয়াি রহিলে তুমি অবিদ্যার ভরে।।২।।
তোমারে লইতে আমি হৈনু অবতার।
আমি বিনা বন্ধু আর কে আছে তোমার।।৩।।
এনেছি ঔষধি মায়া নাশিবার লাগি’।
হরিনাম মহামন্ত্র লও তুমি মাগি’।
ভকতিবিনোদ প্রভু-চরণে পড়িয়া।
সেই হরিনাম-মন্ত্র লইল মাগিয়া।।৫।।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু দয়া কর মোরে।
তোমা বিনা কে দয়ালু জগৎ-সংসারে।।
পতিতপাবন হেতু তব অবতার।
মো সম পতিত প্রভু না পাইবে আর।।
হা হা প্রভু নিত্যানন্দ! প্রেমানন্দ সুখী।
কৃপাবলোকন কর আমি বড় দুঃখী।।
দয়া কর সীতাপতি অদ্বৈত গোসাঞি।
তব কৃপাবলে পাই চৈতন্য-নিতাই।।
গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি (তিনবার)
বেণুং ক্বণন্তমরবিন্দদলায়তাক্ষং
বর্হাবতংসমসিতাম্বুদসুন্দরাঙ্গম্।
কন্দর্পকোটিকমনীয়বিশেষশোভং
গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি।।
অঙ্গানি যস্য সকলেন্দিয়বৃত্তিমন্তি
পশ্যন্তি পান্তি কলয়ন্তি চিরং জগন্তি।
আনন্দচিন্ময়সদুজ্জ্বলবিগ্রহস্য
গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি।।
জয় জয় জগন্নাথ শচীর নন্দন।
ত্রিভুবন করে যার চরণ বন্দন।।
নীলাচলে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধর।
নদীয়া নগরে দন্ড-কমন্ডলু কর।।
কেহ বলে-‘পুরবেতে রাবণ বধিলা।’
গোলোকের বৈভব-লীলা প্রকাশ করিলা।।
শ্রীরাধার ভাবে এবে গোরা অবতারঃ।
‘হরে কৃষ্ণ’-নাম গৌর করিলা প্রচার।।
বাঁসুদেব ঘোষ বলে করি যোড় হাত।
যেই গৌর সেই কৃষ্ণ সেই জগন্নাথ।।
মানস, দেহ, গেহ, যো কিছু মোর।
অর্পিল তুয়া পদে, নন্দকিশোর।।১।।
সম্পদে-বিপদে, জীবনে-মরণে।
দায় মম গেলা, তুয়া ও-পদ বরণে।।২।।
মারবি রাখবি-যো ইচ্ছা তোহারা।
নিত্যদাস-প্রতি তুয়া অধিকারা।।৩।।
জন্মাওবি মোএ ইচ্ছা যদি তোর।
ভক্তগৃহে জনি জন্ম হউ মোর।।৪।।
কীট জন্ম হউ যথা তুয়া দাস।
বহির্মুখ ব্রহ্মজন্মে নাহি আশ।।৫।।
ভুক্তি-মুক্তিস্পৃহা বিহীন যে ভক্ত।
লভইতে তাঁক সঙ্গ অনুরক্ত।।৬।।
জনক, জননী, দয়িত, তনয়।
প্রভু, গুরু, পতি--তুহুঁ সর্বময়।।৭।।
ভকতিবিনোদ কহে, শুন কান!
রাধানাথ! তুহুঁ হামার পরাণ।।৮।।
জয় রাধে, জয় কৃষ্ণ, জয় বৃন্দাবন।
শ্রীগোবিন্দ গোপীনাথ মদনমোহন।।
শ্যামকুন্ড রাধাকুন্ড গিরি-গোবর্ধন।
কালিন্দী যমুনা জয় জয় মহাবন।।
কেশীঘাট বংশীবট দ্বাদশ কানন।
যাঁহা সব লীলা কৈল শ্রীনন্দনন্দন।।
শ্রীনন্দযশোদা জয়, জয় গোপগণ।
শ্রীদামাদি জয়, জয় ধেনুবৎসগণ।।
জয় পৌর্ণমাসী, জয় আভীর নাগরী।।
জয় জয় গোপীশ্বর বৃন্দাবন-মাঝ।
জয় জয় কৃষ্ণসখা বটু দ্বিজরাজ।।
জয় রামঘাট, জয় রোহিণীন্দন।
জয় জয় বৃন্দাবনবাসী যত জন।।
জয় দ্বিজপত্নী, জয় নাগকন্যাগণ।
ভক্তিতে যাঁহারা পাইল গোবিন্দচরণ।।
শ্রীরাসমন্ডল জয়, জয় রাধাশ্যাম।
জয় জয় রাসলীলা সর্ব মনোরম।।
জয় জয়োজ্জ্বল রস সর্বরস-সর।
পরকীয়া ভাবে যাহা ব্রজেতে প্রচার।।
শ্রীজাহ্নবাদাপদ্ম করিয়া স্মরণ।
দীন কৃষ্ণদাস কহে নাম-সংকীর্তন।।
রাধাকৃষ্ণ প্রাণ মোর যুগলকিশোর।
জীবনে মরণে গতি আর নাহি মোর।।
কালিন্দীর কূলে কেলি-কদম্বের বন।
রতন বেদির উপর বসাব দু’জন।
শ্যামগৌরী-অঙ্গে দিব(চুয়া) চন্দনের গন্ধ।
চামর ঢুলাব কবে, হেরিব মুখচন্দ্র।।
গাঁথিয়া মালতীর মালা দিব দোঁহার গলে।
অধরে তুলিয়া দিব কর্পূর-তাম্বুলে।।
ললিতা-বিশাখা-আদি যত সখীবৃন্দ।
আজ্ঞায় করিব সেবা চরণারবিন্দ।।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুর দাসের অনুদাস।
সেবা অভিলাষ করে নরোত্তম দাস।।
{ভোগারতি কীর্তন}
ভজ গোবিন্দ মাধব ও গিরিধারী
ও গিরিধারী গোবর্দ্ধন বিহারী।
শ্রীনন্দের নন্দন কৃষ্ণ ভানু কিশোরী ঐ
শ্রীঅদ্বৈতে বানায় ভোগ, শ্রীবাসে সাজায় ।
ব্রহ্মাআদি দেব গণে আরতি লাগায় ।। ঐ
ভোজনের যত দ্রব্য রেখে সারি সারি,
ভোগের উপর দিল তুলসী মঞ্জুরী
বামেতে অদ্বৈত প্রভু, দক্ষিণে নিতাই ।
মধ্যে বৈসে ভোজন করেন চৈতন্য গোসাঁই।। ঐ
দধী, দুগ্ধ, ঘৃত ননী নানা উপাচার।
সুচন্দ্র বদনে প্রভু দেন বারে বার।
(আনন্দের সীমা নাই-রে, বল হরিবল হরিবল। আনন্দের সীমা নাই রে,
শ্রীবাস আঙ্গিনার মাঝে।
আনন্দের সীমা নাই রে,
মহাপ্রভুর ভোজনকালে ।।
বাবাজীর ভোজন কালে
আনন্দের আর সীমা নাই রে।
আনন্দের সীমা নাই-রে।
সু-চন্দ্র বদনে প্রভু দেন বারে বারে)
ভোজন করিয়া প্রভু করেন আচমণ ।
সুবর্ণ খড়িকা করে দত্ত শোধন ।। ঐ
আচমণ করিয়া প্রভু বৈসেন সিংহাসনে।
কর্পূর তাম্বুল জোগায় প্রিয় ভক্তগণে । ঐ
তাম্বুল সেবিয়া প্রভু করিলেন শয়ন ।
সবে মিলে করেন সেবা যুগল চরণ ।। ঐ
ফুলের চৌয়ারী ঘর, ফুলের কেয়ারী।
ফুলের রত্ন সিংহাসনে চাঁদোয়া মশারী।।
ফুলের পাপড়ি প্রভুর উড়ে পড়ে গায়।
তার মধ্যে মহাপ্রভু সুখে নিদ্ৰা যায়। ঐ
বিন্দু বিন্দু ঘর্ম পড়ে মহাপ্রভুর গায়।
নরহরি গদাধরে চামর ঢুলায়।।
জয় রূপ সনাতন, ভী রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভাঁট দাস রঘুনাথ।। ঐ
ইন্দ্রদুর্য হনুমান রাজা বিভিষণ,
প্রসাদের বাসনায় তারা করছে নাঁচন।।
দ্বীজ কবি বলেন আমার আকুল পরাণ,
যদি ভাগ্যে থাকে কিছু অবশেষ পাই।। ঐ
শয়ন করিয়া প্রভু বৃন্দাবনে বাস
ভোজন বিহার করেন নরোত্তম দাস।।
ভজ গোবিন্দ মাধবও গিরিধারী।
ও গিরিধারী গোবর্ধন বিহারী,
ও গিরিধারী মোহন বংশীধারী।
ও গিরিধারী গোকুল বিহারী,
ও গিরিধারী নদীয়া বিহারী ।।
ভজ গোবিন্দ মাধব,
গোবিন্দ মাধব, গোবিন্দ মাধব।
ভজ গোবিন্দ মাধব হে গিরিধারী (বাবাজীর)