Book Reviews
Book Reviews
2018
2019
2019
SOPAN (Stall Number - 341) Kolkata Book Fair 2018
www.facebook.com/photo/?fbid=1230275900438742&set=a.395721917227482
সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করি, যা আপাতদৃষ্টিতে এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কহীন, কিন্তু কিছু না কিছু যোগ না থাকলে লিখছি কেন? বেশ কয়েক দশক আগে, Wait until dark’ নামে একটি চলচ্চিত্র এসেছিল। মূখ্য ভূমিকায় যতদূর মনে পড়ে অড্রে হেপবার্ন ও অ্যালান আরকিন ছিলেন। আরও কারা কারা সব যেন ছিলেন। নেট খুললেই পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে পরিচালকের নামও।
এ ছবির বিশেষত্ব হল, নির্দিষ্ট একটি দৃশ্যে, হলশুদ্ধু দর্শক, বিশেষ করে মহিলারা, আতঙ্কে চিৎকার করে উঠতেন। মজা হচ্ছে, হয় কেউ কেউ আগেই ছবিটি দেখেছেন বেশ কয়েকবার, অথবা অন্য যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের মুখে সিকোয়েন্সটা শুনেছেন আগেই। তাও তাঁরা ওই দৃশ্যে চেঁচিয়ে উঠতেন। আমি সে সময়ে কোনও সাময়িকিতে পড়েছিলাম, ওই ছবির পরিচালক অ্যালফ্রেড হিচককের বিশেষ বিশেষ ছবি নাকি বারংবার দেখতেন, রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত বা সাসপেন্স কী করে তৈরি করতে হয়, তাই শিখতে।
এখানে আমার নব্য লেখকদের প্রতি উপদেশ, কিছু কিছু লেখকদের থেকে শিখুন, সাসপেন্স কী করে গড়ে তুলতে হয়। রাতারাতি ভূতপ্রেতদের রক্ত টক্ত মাখিয়ে মাঠে ব্যাটিং করতে পাঠাবেন না, শূন্য রানে আউট হবে।
রম্যাণী কি তাহলে ভূতের গল্প লিখেছেন? নাঃ পাতি সামাজিক গল্প। কিন্তু তিনি জানেন পাঠককে কী করে বেঁধে রাখতে হয় গল্পের শেষ পরি্চ্ছেদ পর্যন্ত। আমি প্রথম গল্পের কথাই ধরি। উনি ভূমিকায় লিখেছেন, এক বৃদ্ধকে বসে থাকতে দেখতেন তাঁদের শিলিগুড়ির ফ্ল্যাটের উল্টোদিকের বারান্দায়। তাঁকে দেখতে দেখতেই কাহিনী তৈরি করার প্রেরণা পান তিনি। প্রথম গল্পে তারই ছায়া।
ভাল কথা
লেখক জানেন দর্শককে বেঁধে রাখার কৌশল, যা স্বতঃস্ফূর্ত বলে আমার মনে হয়। কিন্তু নতুন লেখকরা শিখতে পারেন এঁর কলাকৌশল থেকে। একটা বারান্দা, সেই বারান্দা পাঠককে ধরে রাখছে, আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে পরের অনুচ্ছেদে যেতে, এমনি করে কখন গল্প শেষ হয়ে যায়। কোনও টুইস্ট বা মোচড় নেই, নাটকীয়তা নেই, ছোটগল্পের উপাদান হিসেবে আতসকাচ হাতে সমালোচকরা যা খুঁজে বেড়ান। মূখ্য যে ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এ গল্প লেখা হয়েছে, তা নিয়ে কত সহস্র বা কয় লক্ষ গল্প লেখা হয়েছে আমার জানা নেই। কিন্তু সে সব গল্পে এই ‘বারান্দা’ ছিলনা। তাই এ গল্প আপনি পড়বেন, পড়তে বাধ্য হবেন।
রম্যাণী অ্যারিস্টোটল পড়েছেন কিনা আমার জানা নেই। তিনি ‘ফিজিক্স’ এর অধ্যাপিকা, কিন্তু এত অবলীলায় মেটাফিজিক্সে চলে যান ‘পদার্থ’ অতিক্রম করে, যা নতুনদের কাছে শিক্ষনীয় হতে পারে।
দ্বিতীয় গল্পটি পড়ুন, বারান্দার জায়গায় একটি ক্যামেরা। এবার সে চেপে ধরল আপনাকে, আপনার রুদ্ধশ্বাস। এ গল্পে আবার সেই আতস কাচওয়ালারা যা চান, সেই ‘টুইস্ট’ ও পাবেন, একেবারে ফ্রী, গল্পটার সঙ্গে। কেন যেন অবচেতনে মনে হল, আমিও আছি কি, এই গল্পের কোনও এক চরিত্র হয়ে?
একটা কথা গোপনে বলি, এ বইয়ে ছাপা বেশ কিছু গল্প আমার আগেই পড়ে ফেলার সৌভাগ্য হয়েছিল। তখন থেকেই দিন গুনতাম, কবে এ বই হাতে পাব।
বিট বাই বিট প্রতিটি গল্প অ্যানালাইজ করা না আমার ভাল লাগবে, না তা উচিত হবে। তবে আজকের দিনে যে কজন সফল গল্পকারের সন্ধান আমি পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে রম্যাণী একজন। কিছুদিন আগে কে যেন এই ফেসবুকেই লিখছিলেন, যে সব বই বইমেলায় অনুরোধে উপরোধে কিনতে বাধ্য হন, কবার তা তাক থেকে নামিয়ে দুবার পড়েছেন? রম্যাণী আমাকে বলেন নি বই কিনতে। আমিই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। হ্যাঁ, এ বই অবশ্যই আপনি পড়বেন আবারও, যদি আপনার তাকে তার স্থান হয়।
তৃতীয় গল্পটির নাম ‘কুয়াশা’। এ গল্প আমার আগে পড়া। তবুও গোগ্রাসে গিললাম। ও হেনরি বেঁচে থাকলে তারিফ করতেন, এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি।
যে গল্পের নামে এ বইয়ের নামকরণ – ‘স্বপ্নের পাখিরা’ আমার সবচেয়ে প্রিয় গল্প এই লেখকের। বুকের মধ্যে কী যেন একটা হয়ে যায় এটা পড়ার পর।
আচ্ছা এত কথা বলছি কেন, চব্বিশটা গল্প আছে। সব তো আমি বলে দেবনা। যাঁর ইচ্ছে, বইটি কিনেই পড়বেন। এ বই ‘উপরোধে’ কেনার বই নয়, ‘আগ্রহে’, তা জোর দিয়ে বলে দিলাম।
খারাপ কথা
ডিটেলে একটু যত্নবান হতে অনুরোধ করব লেখককে। সব গল্প পর্য্যালোচনা করব না, শুধু কয়েকটি গল্প ধরি, প্রথম গল্পেই ‘পাঞ্জাবি ও পাজামা পরা ভদ্রলোক সেখানে বসে পেপার পড়ছেন’ ...আবার এক ছত্র পরেই, ‘লোকটি বেশ নিবিষ্ট ভঙ্গীতে একটি পাতাই পড়ে চলেছে’ – চোখে লাগছে এই ব্যবধান।
‘অবুঝ সবুজ মন’ – ‘প্রিয়া আসবে আজ দার্জিলিং মেইলে’। পূর্ব বঙ্গজরা ‘মেইল’ বলেন। আমি বাঙাল না এদেশি, তা বিচার্য নয়, বইয়ের ভাষা হওয়া উচিত, ‘দার্জিং মেল এ’।
‘অন্তর্দাহ’ – ‘ওঁদের ছেড়ে দাও’ এমন প্রমিত বাংলা মুখের কথায় কেউ বলেনা, বিশেষত নিম্নবিত্ত বা ওই শ্রেণীর মানুষরা। ‘ওনাদের’ টোনাদের কিছু একটা বলে। তাছাড়া এ গল্পটা একটু অতিনাটকীয়তায় দুষ্ট বলে আমার মনে হয়েছে। অবশ্য আমার মনে হওয়াটাই শেষ কথা নয়। তবে গল্পের শেষভাগে যে চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা আমার নিজের চোখে দেখা। একেবারে নিজের চোখে।
সব গল্পের ত্রুটি ধরে বেড়ানো আমার কাজ নয়। খালি কিছু উল্লেখ করলাম। ছোট ছোট ডিটেল গল্পের একটি মূল্যবান উপাদান। সেগুলো নিশ্চিত করলে সোনায় সোহাগা পড়বে বলেই আমার বিশ্বাস
বইটি গৃহস্থের তাকে স্থান পাওয়ার যোগ্য বলেই আমার প্রত্যয়।
Review of Nana Swader Sholo on Goodreads by famous writer Riju Ganguly
সুধী পাঠকের অন্তরমহলে
সুলেখক ও নিবিষ্ট পাঠক অভিষেক আমার উপন্যাস 'মেঘ রঙের মেয়ে' সংগ্রহ করেন উত্তরবঙ্গ বইমেলা থেকে। আজ এল উপন্যাসটি নিয়ে তাঁর সুচিন্তিত মতামত। লেখাটি এখানে দিলাম।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
🍁 বই - মেঘ রঙের মেয়ে
🍁 লেখিকা - রম্যাণী গোস্বামী
🍁 প্রকাশনী - একপর্নিকা প্রকাশনী
🍁 দাম - ২৮০ টাকা
সদ্য পড়ে শেষ করলাম সুলেখিকা রম্যাণী গোস্বামীর লেখা এক মন কেমন করা উপন্যাস ‘মেঘ রঙের মেয়ে’। আমি সীমাহীন মুগ্ধ হয়েছি বইটা পড়ে। এত সুন্দর লেখা খুব কম পড়েছি। গোটা উপন্যাস জুড়ে ছড়িয়ে আছে এক স্নিগ্ধতার মায়াজাল।
আইভি ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। পাইন বনে ঘেরা পাহাড়ি এলাকায় তার স্কুল। আর সেই স্কুলেই ফিজিক্সের শিক্ষক তথাগত। সে ভীষণ পছন্দ করে তথাগতকে। পড়া বুঝতে মাঝে মাঝেই সে হাজির হয় তথাগতর বাড়ি। তথাগতরও কি একই অনুভব আইভির জন্য ? নাকি বয়সন্ধির হুজুগ ভেবে কাটিয়ে দেবে সে ?
আরেকদিকে আছে আদিত্য আর বিভার সম্পর্ক। কলেজে পড়াকালীন কথা কাটাকাটির মধ্যে দিয়ে পরিচয়। শেষমেশ তা দাঁড়ায় গিয়ে এক সম্পর্কে। তাদের এই সম্পর্ক টিকবে তো ?
আরেকদিকে আছে মধুমিতা আর অর্ণব। মধুমিতার স্বামী মারা যাওয়ার পর সে আঁকড়ে ধরে অর্ণবকে। কিন্তু তা পছন্দ হয়নি মধুমিতার মেয়ের। কী হবে এবারে ?
আর আছে আইভির বন্ধুরা। নিষ্পাপ নির্ভেজাল সম্পর্ক তাদের মধ্যে। কিন্তু তার বন্ধু এনা, গোপনে লুকিয়ে রেখেছে কিছু। কিন্তু তার বহিঃপ্রকাশ ভয়ঙ্কর হল। কী ছিল সেটা ?
এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে এই মায়াময় উপন্যাসের পাতায় পাতায়। ভীষণ সুন্দর লেখনী। পাহাড়ি এলাকার নৈসর্গিক প্রকৃতি উদ্বেল করে তুলছিল আমায়। খাদের ধারে দাঁড়িয়ে যে দৃশ্য আইভি উপভোগ করছিল, এক মুহূর্তের জন্য মনে হল যেন আমিই দাঁড়িয়ে আছি। আর এই উপন্যাসের শেষে রয়েছে একটা অপ্রত্যাশিত চমক। অবাক হয়েছিলাম পড়ার পর। তথাগত আর আইভি দুটি চরিত্রকেই লেখিকা সুন্দর করে তৈরী করেছেন। কিছু কিছু দৃশ্য মনের ভেতরটা হু হু করে তুলছিল, আর কোনো কোনোটায় ভীষণ মন খারাপ। তবু এই উপন্যাসে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা। শীতের দুপুরে একমনে এই বইয়ের পাতায় ডুব দিয়ে মন্দ লাগেনি। এই বইয়ের পাতা জোড়া শীত, যথেষ্টই উত্তাপ সঞ্চার করেছে। তাছাড়া হোস্টেল জীবন এবং পদার্থবিদ্যার অনেক কথাই লেখিকা গল্পের ছলে তুলে ধরেছেন। তবে আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসে যদি তথাগতর বাবার কিছু কথা লেখা থাকত, তাহলে ভালো হত। ওঁর সম্পর্কে, বিশেষ করে মানসিকতা নিয়ে কিছু কথা লেখা হলে ভালো হত। এটা বাদ দিয়ে আর কোনো প্রশ্ন নেই। এছাড়াও একপর্নিকা প্রকাশনীর পাতার কোয়ালিটি ও বাঁধাই ভীষণ ভালো। প্রচ্ছদটিও দৃষ্টিনন্দন। সব মিলিয়ে বেশ সুখপাঠ্য, ঝরঝরে বই। আপনারাও পড়ে দেখতে পারেন। নিরাশ হবেন না। উত্তরবঙ্গ বইমেলা থেকে লেখিকার স্বাক্ষর সহ বইটা এনে দিয়েছে আমায় ইবুকলিস্ট পাবলিশার। অনেক ধন্যবাদ জানাই দাদাকে। লেখিকার থেকে আরও এমন সুন্দর উপন্যাসের আশায় রইলাম। ভালো থাকবেন।
--------------------------
আপনিও ভালো থাকুন Avishek Avi Dutta
এমন একটি রিভিউয়ের জন্যই তো অপেক্ষা থাকে একজন লেখকের। অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
Interview at Uttarbanga Sambad
2020