বিটরুট পাউডার পানিতে মিশিয়ে জুস তৈরি করতে পারেন। এটি স্মুদি, সস বা বেকড পণ্যগুলিতেও যোগ করা যেতে পারে । বীট পাউডার একটি প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য-বর্ধক সম্পূরক হিসাবে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ পুষ্টির কারণে বীটের রস এবং গুঁড়ার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং অনেকে এর স্বাদও উপভোগ করেন। আমরা সুপারিশ করি যে আপনি প্রতি 8 আউন্স গ্লাস জলে প্রায় 1.5 চা চামচ (3 গ্রাম) ব্যবহার করুন। এটি 1টি বড় বীট থেকে রসের সমান। আশা করি যে সাহায্য করবে!
বিটরুট পাউডারে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে যা হার্ট, অন্ত্র এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উপকার করতে পারে। সম্ভাব্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে প্রদাহ কমানো, রক্তচাপ কমানো, অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং আরও অনেক কিছু। লোকেরা সস, স্মুদি এবং ময়দার সাথে বিটরুট পাউডার যোগ করতে পারে। এটি একটি হালকা, সামান্য মিষ্টি স্বাদ আছে।
বিটরুট পাউডার ভাল কাজ করে যদি কর্মক্ষমতার প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টা আগে নেওয়া হয়," সেডলেসেক বলেছেন। “আপনার সিস্টেমে আসতে কিছু সময় লাগবে।
বিট পাউডার কি কিডনির জন্য নিরাপদ?
বেশিরভাগ মানুষের জন্য, বীট এবং বীটের রস একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং জীবনধারার জন্য একটি দুর্দান্ত সংযোজন হতে পারে। কিন্তু, যদি আপনার কিডনিতে পাথর বা কিডনি রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে আপনি নিয়মিত বীট এবং বিটের রস খাওয়ার পরিমাণ সীমিত করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।কিডনিতে পাথর: বিটরুট পাউডারে অক্সালেট বেশি থাকে, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা লোকেদের কিডনিতে পাথর গঠনে অবদান রাখতে পারে। যদিও বিটরুট পাউডার সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, আপনার যদি থাকে তবে সম্পূরক গ্রহণ এড়িয়ে চলুন: কিডনিতে পাথর
চমৎকার রঙিন সবজি বিটরুট। ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিংক, আয়োডিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের দারুণ উৎস বিটরুট। এছাড়া ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, রিবোফ্লাবিন (ভিটামিন বি২) ও পটাশিয়াম মেলে উপকারী এই সবজি থেকে। নিয়মিত বিটরুট খেলে দারুণ কিছু উপকার পাওয়া যাবে।
বিটরুট খেলে পাবেন এই ১০ উপকার।
১. দশটি সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজির মধ্যে একটি বিটরুট। ফলে শরীরকে অক্সিডেশন নামক একটি প্রক্রিয়ার ক্ষতিকারক প্রভাবগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে সবজিটি।
২. শক্তিশালী উদ্ভিদ রঙ্গক বেটাসায়ানিন রয়েছে বিটরুটে। এই উপাদানের কারণেই এমন প্রাণবন্ত লাল রঙের হয় এই সবজি। এটি মূত্রাশয় ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের বিকাশকে দমন করতে সাহায্য করে। বিটরুটে ফেরিক অ্যাসিডসহ আরও কয়েক ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধী যৌগ রয়েছে।
৩. কিছু গবেষণা বলছে, বিটরুটে থাকা বেটালাইনস নামক উপাদান প্রদাহের লক্ষণ কমাতে সহায়তা করে। হাঁটুর মতো স্ফীত জয়েন্টগুলোর অস্বস্তিও দূর করে উপাদানটি।
৪. বিটরুট প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রেট নামক যৌগ সমৃদ্ধ। এই যৌগ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এর কারণ হলো নাইট্রেট রক্তনালীগুলোকে শিথিল করে রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ কমায়। রক্তচাপ কমে গেলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
৫. শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে বিটরুট। ব্যায়ামের পরে যখন পেশী ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন বিটরুটের নাইট্রেটগুলো পেশী কোষকে আরও অক্সিজেন আনতে সাহায্য করে। ফলে দ্রুত শক্তি ফিরে পাই আমরা।
৬. বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ফাইবারের পাশাপাশি বেটাওয়েন অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
৭. বিটরুট গ্লুটামিনের অন্যতম সমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ উৎস। এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা আমাদের অন্ত্রের আস্তরণের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপরিহার্য। গ্লুটামিন আঘাত এবং চাপ থেকে অন্ত্রের আস্তরণ রক্ষায় ভূমিকা পালন করে।
৮. গবেষণা বলছে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে এবং ডায়েটে বিটরুট অন্তর্ভুক্ত করলে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবে রক্ত প্রবাহ উন্নত হয়। ফলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
৯. মেনোপজের পর রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নাইট্রেট সমৃদ্ধ শাকসবজি এ সময় খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ভীষণ জরুরি। মেনোপজ পরবর্তী সুস্থতার জন্য বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে বিটরুট খাওয়া চাই নিয়মিত।
১০. আঙুল এবং পায়ের রক্ত সঠিকভাবে প্রবাহিত না হলে ব্যথা এবং অসাড়তার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। বিটরুটের রস এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।