Recipes
Recipes
নারকেলের নাড়ু
নারকেলের নাড়ু খেতে কার না ভালো লাগে। বাঙালির বিভিন্ন উৎসব পূজা পার্বণে নানা ধরনের মিষ্টান্ন থাকবেই। আর এর মধ্যে নারকেলের নাড়ু অন্যতম। কারণ নারকেল কুড়ে চিসি বা গুড় দিয়ে খুব কম খরচেই এটি তৈরি করা যায়। আর এটা এতোই সুস্বাদু যে শুধু খেতেই ইচ্ছে করবে। তবে সাবধান, বেশি নারকেলের নাড়ু খেলে বুক জ্বলা বা এসিডিটি হতে পারে। এবার ঝটপট নাড়ু তৈরি শুরু করা যাক।
উপকরণ
২ টি নারকেল মিহি করে কুড়ানো
ঘন দুধ ১ কাপ
১ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো
চিনি আধা কেজি
পেস্তা বাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ (আপনার ইচ্ছা)
কয়েক টুকরো দারুচিনি
প্রণালী
( ১) প্রথমে নারকেল ভালোভাবে মিহি করে কুড়ে নিতে হবে।
( ২) এবার একটি পাত্রে অল্প ঘি দিয়ে গরম করে নিয়ে কুড়ানো নারকেল, চিনি ও দুধ ভালো করে মিশিয়ে চুলায় দিন। কড়াই নন-স্টিকি হলে ভালো হয় তাহলে তলায় লেগে যাবে না।
( ৩) এখন দারুচিনি ও এলাচ গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে। নারিকেলের সাথে পেস্তা বাদাম মিহি কুঁচি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
( ৪) এরপর মাঝারি আঁচে ভাজতে থাকুন। সারাক্ষণ নাড়ুন যাতে তলায় লেগে না যায়। ভাজতে ভাজতে নরম ও আঁঠালো হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে।
( ৫) নারিকেলের মিশ্রষ থেকে দারুচিনির টুকরাগুলো বেছে ফেলে দিন। সহনীয় গরম থাকতে থাকতে হাতের তালুতে অল্প ঘি মেখে নারিকেল নিয়ে ছোট ছোট গোল বল বানিয়ে ফেলুন। নারিকেলের নাড়ু বানানো হয়ে গেলে সেট হওয়ার জন্য ফ্রিজ এ রেখে দিন।
ব্যাস, নারকেলের নাড়ু প্রস্তুত।
বাকরখানি
পুরান ঢাকার বিখ্যাত একটি খাবার বাকরখানি। ব্যবসায়িকভাবে এটি বিশেষ চুল্লীর মধ্যে বানানো হলেও যে কেউ এটি বাসায় গ্যাসের চুলাতেই বানাতে পারবে।
উপকরণ
১.৫ কাপ ময়দা
৩ টেবিল চামচ সয়াবিন তেল
১/২ কাপ ডালডা/বাটার অথবা ঘি
পরিমাণ মতো লবণ
পরিমাণ মতো পানি
প্রক্রিয়া
প্রথমে খামির তৈরি করতে একটি গামলায় ময়দা সয়াবিন তেল ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে মাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে তেল ময়দার সব জায়গায় যায়। কোথায় কম বেশি না হয়। এরপর কুসুম গরম পানি অল্প অল্প করে দিয়ে একটা নরম খামির তৈরি করতে হবে। খামির তৈরি হয়ে গেলে একটা পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে তা ৩০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে।
এবার একটি বাটিতে সয়াবিন তেল ও ডালডা বা ঘি অথবা বাটার যে কোনো একটা দিয়ে মিক্সড করে নিন। ৩০ মিনিট হয়ে গেলে খামিরটা বেলে নিতে হবে। এর জন্য প্রথমেই পিড়ি তে তেল মেখে নিন। এবারে খামিরটাকে পাতলা রুটির মতো বেলে নিন। এমন ভাবে বেলতে হবে যাতে অপর প্রান্তে ধরলে হাত দেখা যায়।
এবারে ডালডা ও তেলের মিশ্রণটি থেকে তেল নিয়ে রুটির উপরে লাগিয়ে নিন রুটির সব জায়গায়। এরপর ময়দা ছড়িয়ে দিন ভালভাবে। আবারও ডালডা তেলের মিশ্রণ দিন ও ময়দা ছড়িয়ে দিন। এভাবে দুইবার করে রুটিটা ভাঁজ দিয়ে দিয়ে খামের আকার দিয়ে রোল করে ফেলুন। এই রোল থেকে ৪/৫ টা লেচি কেটে বেলে নিন। এবং বেলে নেয়া বাকরখানি তে ছূড়ী দিয়ে কাটা কাটা দাগ করে নিন। তারপর চুলায় একটি পাতিলে স্ট্যান্ড বসিয়ে নিচে বালু বা লবণ দিয়ে স্ট্যান্ডের উপর প্যান বসিয়ে তাতে বাকরখানি গুলো বিছিয়ে দিয়ে ঢাকা দিয়ে দি ডিম আঁচে রান্না করুন ৩০মিনিট।
বাস হয়ে গেল মজাদার জনপ্রিয় ঢাকাইয়া বাকরখানি।
সামোসা
বিকেলের নাস্তায় যদি গরম গরম সমোসা হয় তাহলে তো কথাই নেই... একটু সময় করে নিজেই ঘরে তৈরি করা যায় সামোসা। বাসার তৈরি সামোসার স্বাদ দোকানের চাইতে অনেক বেশি মজাদার। চলুন তাহলে জেনে নিন খুব সহজে ঝটপট সিঙ্গাড়া সামোসা তৈরির পদ্ধতি।
উপকরণ
হাড়ছাড়া মুরগির মাংস ছোট করে কাটা ১ কাপ পরিমাণ
হলুদের গুঁড়া ১/৪ চা-চামচ
মরিচের গুঁড়া ১/২ চা-চামচ
তেজপাতা ১ টা
গরম মসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ
পেঁয়াজ কুচি করে কাটা ১ টা
তেল ২ টেবিল চামচ
রসুনবাটা ১ চা-চামচ
আদা বাটা ১/২ চা চামচ
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
কাঁচামরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ
ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ
ময়দা ১ টেবিল চামচ
ময়দা ১.৫ কাপ
লবণ ১/২ চা চামচ
পানি পরিমাণমতো
প্রণালী
প্রথমে একটা প্যান চুলায় বসিয়ে দিয়ে তাতে সামান্য পরিমাণ তেল দিয়ে দিন।
তেলটা হালকা গরম হলে তাতে পেঁয়াজ কুচি ও একটা তেজপাতা দিয়ে হালকা একটু ভেজে নিন।
তারপর এর মধ্য মুরগির মাংস গুলো দিয়ে দিন।
মুরগির মাংস গুলো দেওয়ার পর এরমধ্যে হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, আদা-রসুন বাটা ও সামান্য পরিমাণ লবণ দিয়ে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে মাংসটা ভাজা ভাজা করে নিন।
তারপর এরমধ্যে সামান্য একটু পানি দিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মিনিট মাংসটা সিদ্ধ করে নিন।
৫ থেকে ৬ মিনিট পর ঢাকনা খুলে গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে নেড়েচেড়ে আবারো মাংসটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন পানি শুকানো পর্যন্ত।
মাংসর পানি শুকিয়ে গেলে এর মধ্যে এক কাপ পরিমাণ পেঁয়াজ কুচি, ১ টেবিল চামচ কাঁচামরিচ কুচি, ১/২ টেবিল চামচ ময়দা, স্বাদ অনুযায়ী ধনেপাতা কুচি দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে নিয়ে চুলাটা বন্ধ করে দিন পিয়াজটা ভালোভাবে সিদ্ধ করবেন না।
তারপর প্যান থেকে পুরটা একটা বাটিতে ঢেলে নিন।
এরপর আপনি সমোসার সিট তৈরি করে নিন।
সমোসার সিট তৈরি করার জন্য প্রথমে একটা মিক্সিং বলের মধ্যে দেড় কাপ ময়দা, হাফ চা চামচ লবণ দিয়ে ময়দার সাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
ময়দা ও লবণ ভালোভাবে মেশানোর পর এতে অল্প অল্প পানি যোগ করুন এবং সমাচার জন্য ড্র তৈরি করে নিন।
ময়দা লবণ পানির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে ৭ থেকে ৮ মিনিট ড্রটা ভালোভাবে হাত দিয়ে মথে নিন তারপর ৩০ মিনিটের জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রেখে দিন।
৩০ মিনিট পর ড্রটা থেকে ছোট ছোট বল করে নিন।
এরপর লাগবে শুকনা ময়দা ও তেল।
এরপর সবগুলো ময়দার বল দিয়ে ছোট ছোট করে রুটি বানিয়ে নিন।
এরপর রুটির উপরে তেল মাখিয়ে নিন তেল মাখিয়ে নেয়ার পর তার উপরে শুকনা ময়দা মাখিয়ে নিন শুকনা ময়দা মাখানোর পর তার উপরে আরেকটা রুটি দিয়ে দিন এরকমভাবে সবগুলো রুটি একসাথে করেনিন।
সবগুলো রুটি একসাথে করার পর একটা বড় সাইজের রুটি করে নিন তারপর তাওয়ায় হালকা করে ভেজে নিন।
তাওয়ায় ভাজার পর একটা একটা করে রুটি বের করে নিন তারপর সমোসার সেভ করে কেটে নিন।
ময়দা ও পানি দিয়ে গুলে আঠার মত বানিয়ে নিন।
এরপর চিকেনএর পুর দিয়ে সমোসার তৈরি করে নিন ময়দা পানি দিয়ে বানানো আঠা দিয়ে সমাচার কোনা ও চারপাশ লাগিয়ে নিন।
একটা প্যান চুলায় বসিয়ে দিয়ে তাতে তেল দিয়ে তেলটা গরম করে সমোসাগুলো দিয়ে দিন।
এরপর সবগুলো সমোসা বাদামি করে ভেজে নিন।