কোঠাবাড়ি-মৌসুমী ভৌমিক
কোঠাবাড়ি-মৌসুমী ভৌমিক
নির্বাসিত নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের হাত ধরে মেটিয়াবুরুজের কোঠাবাড়িগুলোর জলসাঘর হতে বাইজিদের গজলের সুর আছড়ে পড়ে থমথমে, নিথর রাতের চারদিকে। আতর-জুঁইয়ের গন্ধমাখা জলসাঘর আসলে এক দোজখ। যেখানে মনের বদলে শরীর বিনি ময় হয়, হৃদয় ভাঙে, হৃদয় পোড়ে। কোঠাবাড়ি আর তার বাসিন্দাদের জীবনে পড়ে থাকে শুধুই একাকীত্ব, অসীম শূন্যতার দোজখনামা। গৃহস্থের ঘর হয়, সংসার হয়, তুলসীতলা হয়। তবায়েফের হয় কোঠাবাড়ি। ভেঙে যাওয়া ভালোবাসা আর নূপুরের শব্দ কোঠাবাড়ির পাঁজরের খাঁজে খাঁজে জমে থাকে গল্প হয়ে। রাতের প্রতীক্ষায় দিন পার করে কোঠার বাসিন্দারা। কোঠাবাড়িতে কত এমন রাত যে তার গর্ভের অন্ধকারে ইমারত বানিয়েছে প্রেম, বিচ্ছেদ, লোভ আর হিংসার, তার কোনো হিসেব নেই। আবার এই কোঠাবাড়ি সাক্ষী থেকে যায় দেশভাগের, সন্ত্রাসেরও।