কবীশ্বরী নক্ষত্রপ্রভা -অভীক মোহন দত্ত



উনিশ শতকের কলকাতার কবিয়ালদের জগতে একবার একজন নারী এসেছিলেন। তাঁর নাম যজ্ঞেশ্বরী। কিন্তু ইতিহাসের পাতা তাঁর জন্য দু'- তিন পঙ্ক্তির বেশি বরাদ্দ করেনি।


উপন্যাস 'কবীশ্বরী' বিস্মৃত সেই যজ্ঞেশ্বরীর কাহিনি। এই উপাখ্যান অষ্টপুর গ্রামের অখ্যাত বিন্দুবাসিনীর যজ্ঞেশ্বরী হয়ে ওঠার গল্প, সমাজের প্রতিবন্ধকতা জয় করে নিজের অধিকার অর্জনের গল্প।


প্রভার হৃদয়ে-মস্তিষ্কে ঘর করে সুদূরের নক্ষত্রমালার অবোধ্য হাতছানি, প্রভা স্বপ্ন দেখে বিশ্বপ্রকৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা সেই সুশৃঙ্খল বিন্যাসটির সন্ধান পাওয়ার। কিন্তু প্রভাকে ঘিরে থাকে সমাজের চোখরাঙানি, ঈর্ষা- বিদ্বেষের বেড়াজাল। নক্ষত্রালোকে উদ্ভাসিত গবেষণার পথে বন্ধনহীন যাত্রার ইচ্ছাকে পিছুডাকে সখ্য-প্রেমের মায়াবন্ধন।


'নক্ষত্রপ্রভা' উপন্যাস আসলে নশ্বর মানুষের অবিনশ্বর এক সন্ধানের কিস্সা।


'কবীশ্বরী' ও 'নক্ষত্রপ্রভা' দু'টি আলাদা উপন্যাস। দু'জন আলাদা নারীর কাহিনি। তাঁদের একজন কবিয়াল, অপরজন বিজ্ঞানী। কবিগানের আসর একজনের দুনিয়া, আর প্রকৃতির রহস্যসন্ধান অন্যজনের চিন্তনবিশ্ব। দু'জনের মধ্যে পাঁচিল তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি শতক। তবুও অবোধ্য কোনও ম্যাজিকে দুই নারীর কাহিনি হয়তো এসে মিশে যায় এক বিন্দুতে। সমাজ সংসারের সঙ্গে নিয়ত সংঘর্ষে, প্রতিরোধের অদম্য অভিলাষে, নিয়তির অমোঘ পাশাখেলায় সে কাহিনি দু'টি, সে মানুষ দু'টি, সেই নারী দু'জন স্থান-কাল-পাত্রের বিভিন্নতা অতিক্রম করে একে অন্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে জেগে থাকে শেষে। এই প্রতিচ্ছবিটি মানুষের ব্যক্তিপরিচয়, লিঙ্গপরিচয়, কালপরিচয় ছাপিয়ে ক্রমে হয়ে ওঠে মহাকালের খাতায় মানবজীবনের চিরকালীন খতিয়ান। এই গ্রন্থে বিবৃত হয়েছে সেই খতিয়ানলেখটিই।