এই গঠনতন্ত্র অঙ্গীকার ব্লাড ডোনারস্ ক্লাবের গঠনতন্ত্র নামে অভিহিত হবে। সংগঠনের সকল সদস্য, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা এই গঠনতন্ত্রের নিয়মাবলী মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। সংগঠনটি পরিচালনার জন্য এই গঠনতন্ত্রের নিয়মই সর্বশেষ কথা।
এই গঠনতন্ত্রে ‘‘অঙ্গীকার ব্লাড ডোনারস্ ক্লাব’’-কে কখনো কখনো সংগঠন নামে অভিহিত করা হবে।
অনুচ্ছেদ ১
ধারা (ক)
সংগঠনের ধরণ: এই সংগঠন অলাভজনক, অরাজনৈতিক এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক।
সংগঠনের নাম: এই সংগঠন ‘‘অঙ্গীকার ব্লাড ডোনারস্ ক্লাব’’ নামে অভিহিত হবে যার সংক্ষিপ্ত রুপ বাংলায় ওবিডিসি এবং ইংরেজিতে OBDC।
সংগঠনের স্লোগান: এই সংগঠনের স্লোগান হবে ‘‘রক্তেই মুক্তি’’।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকাল: সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকাল ২০১৮ সালের ১৩ ই সেপ্টেম্বর।
সংগঠনের প্রতীক: এই সংগঠনের প্রতীক লাল রঙের রক্তের ফোটা চিহ্নের মাথায় পায়রার পাখা এবং নিচের কাঠামোয় অঙ্গীকার ব্লাড ডোনারস্ ক্লাব লেখা।
সংগঠনের কার্যালয়: এই সংগঠনের প্রধান কার্যালয় বগার বাড়ি রাস্তার মাথা, গনপাড়া, ৩০ নং ওয়ার্ড, কাশিপুর, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন।
ধারা (খ)
সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : দুঃস্থ মানবতার সেবায় স্বেচ্ছায় রক্তদানই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। রক্তের অভাবজনিত মৃত্যুহার কমানো এবং রক্তদান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি সংগঠনের উদ্দেশ্য। এছাড়া অসহায় মানুষের সেবা ও সাহায্য করা সংগঠনের উদ্দেশ্য।
সংগঠনের কার্যাবলী: ১। বিনামূল্যে ও স্বেচ্ছায় রক্তদান।
২। বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়।
৩। গরীব-দুঃখীদের সাহায্য সহযোগিতা করা।
৪। মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করা ও রক্তদান সম্পর্কিত বিষয়ে সচেতন করা।
অনুচ্ছেদ ২
ধারা (ক)
সদস্য ও সদস্য পদ: যেকোনো সুস্থ্য-সবল ব্যক্তি ১০০ (একশত) টাকার ফরম পূরণপূর্বক এই গ্রুপের সদস্য হতে পারবেন। এই সদস্যপদ আজীবনের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে এক্ষেত্রে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন আবশ্যক।
সদস্যপদ প্রাপ্তির শর্তসমূহ: ১। বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২। ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী হতে হবে।
৩। স্বেচ্ছায় রক্তদানে আগ্রহী হতে হবে।
সদস্যপদ প্রাপ্তির অযোগ্যতা: ১। এইচআইভি পজিটিভ, হেপাটাইটিস বি, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার, দূরারোগ্য চর্মরোগ বা রক্তজনিত রোগাক্রান্ত ব্যক্তি এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না।
২। ১৮ বছরের কম ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী কেউ সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না।
সদস্যপদ বাতিলের কারনসহমূহ: ১। মাদকাসক্ত হওয়া।
২। অর্থের বিনিময়ে রক্তদান।
৩। সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়া।
৪। এইচআইভি পজিটিভ, হেপাটাইটিস বি, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার, দূরারোগ্য চর্মরোগ বা রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত হলে।
৫। রক্তের দালাল চক্রে জড়িত প্রমান হলে।
ধারা (খ)
সংগঠন পরিচালনা ও কমিটি: একজন বেতনভুক্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুইটি আলাদা নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে অঙ্গীকার ব্লাড ডোনারস্ ক্লাব। কমিটি দুইটির নাম হবে; ১। কার্যনির্বাহী পরিষদ ও ২। উপদেষ্টা পরিষদ।
নির্বাহী কর্মকর্তা: কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতির নিয়োগ দেওয়া নির্বাহী কর্মকর্তা সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিষ্ঠানের যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহনে নির্বাহী কর্মকর্তার মতামত আবশ্যক। তিনি সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে গণ্য হবেন।
নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়োগের ৰেত্রে কার্যনির্বাহী ও উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি কমিটি দুইটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতি গ্রহণে বাধ্য। নির্বাহী কর্মকর্তার সাধারণ মেয়াদ ১ (এক) বছর। তবে অনিয়ম বা সংগঠনের আইন কানুন ভঙ্গের অভিযোগ প্রমানিত হলে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি তাকে যেকোনো সময় বহিষ্কার করতে পারেন। নির্বাহী কর্মকর্তাই কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।
কার্যনির্বাহী পরিষদ: সংগঠনের সাধারন সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত একজন সভাপতির নেতৃত্বে গঠিত হবে কার্যনির্বাহী পরিষদ। এই পরিষদের সকল সদস্যকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। প্রতি একবছর অন্তর সংগঠনের সদস্যদের ভোট ও সার্বিক কার্যক্রম বিবেচনায় কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে। এক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি সংগঠনে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবেন। সভাপতি ব্যতিত এই পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা একই পদে টানা দুই মেয়াদে বহাল থাকতে পারবেন না। কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরাই মূলত সংগঠনের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের কোনো সদস্য তার দায়িত্ব অবহেলা করলে পরিষদের সভাপতি তাকে যেকোনো সময় বহিষ্কার করতে পারবেন। যদি এই পরিষদের সভাপতির বির্বদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ প্রমানিত হয় অথবা তিনি যদি সংগঠনের নীতিবিরোধী কোনো কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন তাহলে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা যেতে পারে। এই বহিষ্কারাদেশ নির্বাহী কর্মকর্তা পালনে বাধ্য থাকবেন।
একজন সভাপতি, দুইজন সহসভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন সহ সাধারণ সম্পাদক, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুইজন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন অর্থবিষয়ক সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক, একজন স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক ও ১১ জন সদস্যের সমন্বয়ে কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে।
উপদেষ্টা পরিষদ: সংগঠনের সাধারন সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে একজন সভাপতির নেতৃত্বে গঠিত হবে উপদেষ্টা পরিষদ। এই পরিষদের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১ (এক) বছর। পরিষদের নির্দিষ্ট কোনো সদস্য সংখ্যা নেই। তবে নূন্যতম ১১ জন এই কমিটিতে থাকতেই হবে। সংগঠনের নীতিবর্হিভূত কার্যক্রম করলেই কেবল উপদেষ্টা পদ বাতিল হবে।
আপদকালীন অবস্থা: নির্বাহী কর্মকর্তা, কার্যনির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য অথবা উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতির ইস্তফা অথবা বহিষ্কার অথবা মৃত্যুজনিত কারনে সৃষ্ট শূণ্যপদ পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে পূরণ করতে হবে। কোনো কারনে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হতে দেরি হলে অথবা কার্যনির্বাহী ও উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনে বিলম্ব হলে পূর্বের কমিটিই বহাল থাকবে। তবে শর্ত থাকে যে, পূর্বের কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ একমাস বর্ধণ করা যাবে।
ধারা (গ)
স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য: নিয়মিত ও সক্রিয় সদস্যরাই স্বেচ্ছাসেবক হতে পারবেন। তবে অন্য কোনো সংগঠনে যুক্ত আছেন এমন কেউ স্বেচ্ছাসেবক হতে পারবেন না। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমেই সংগঠনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুচ্ছেদ ৩
ধারা (ক)
সংগঠনের আয়: সাধারণ সদস্য, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মাসিক চাঁদা এবং বহিরাগত অনুদানই সংগঠনের আয়ের প্রধান উৎস। এছাড়া সংগঠন কর্তৃক প্রচারিত মাসিক প্রচারপত্রের বিজ্ঞাপন থেকে অর্জিত অর্থ সংগঠনের আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংগঠনের ব্যয়: রক্তের গ্র্বপ নির্ণয়, রক্তদাতার পরিবহন, রক্তদানে উদ্ধুদ্ধ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন আয়োজনই সংগঠনের প্রধান ব্যয় খাত। এছাড়াও সংগঠনের প্রচার-প্রচারণা, অফিস পরিচালনা, নির্বাহী কর্মকর্তার বেতন ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম সংগঠনের ব্যয় খাত হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই গঠনতন্ত্রের কোনো অংশবিশেষ অথবা অনুচ্ছেদ অথবা পুরো গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্ধণ অথবা পরিবর্তন করতে চাইলে, সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় দুইটি পরিষদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি আবশ্যক।