বিশ্ব থমকে আছে। সবার নজর এখন বিশ্ব স্বাস্থ সেক্টরের উপর, কবে নাগাদ এ ভাইরাসের ভ্যাকসিন আসবে এ প্রশ্ন এখন সবার মনে। আজ আমরা কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নিয়ে কিছু জানার চেষ্টা করবো। দেখতে চেষ্টা করবো কোন কম্পানি কতদূর এগিয়েছেন।
প্রথমের কিছু মৌলিক বিষয় জেনে নেই। কোন একটি ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার খুব সহজ কাজ নয়, এর পিছনে কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। গবেষণা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পিছনেই ব্যয় করতে হয় অনেক সময়। কোন কোন ভ্যাকসিনের পিছনে ২০-৩০ বছর গবেষনা করেও ব্যর্থ হতে হয় বিজ্ঞানীদের। তাই অনেকেই আগ্রহ দেখাতে চায় না এ কাজে। যদিও এর মাধ্যমে আয় নেহায়েত কম নয়। যাই হোক, যেকোন ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য কিছু ধাপ অনুসরন করতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো---
· Exploratory stage
· Pre-clinical stage
· Clinical development
· Regulatory review and approval
· Manufacturing
· Quality control
প্রথমে ইদুর , বিড়াল বা এ জাতিয় প্রাণীর উপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হয়। ক্লিনিক্যাল ডেভেলোপমেন্ট এ আবার তিনটি ঢ়যধংব সম্পন্ন করা হয়, প্রথমে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মাঝে প্রয়োগ করা হয়, দ্বিতীয় ঢ়যধংব এ বয়স ও স্বাস্থের দিকে লক্ষ্য রেখে যাদের জন্য তৈরি করা তাদের স্বল্পমাত্রায় প্রয়োগ করা হয় , তৃতীয় ঢ়যধংব এ মুলত ব্যাপক ভিত্তিতে হাজার হাজার মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়। তারপর ফলাফলের উপর ব্যাপক গবেষনার মাধ্যমে এর পাশর্^প্রতিক্রিয়াগুলো বিবেচনা করে সর্বশেষ ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে বাজারে ছাড়া হয়।
এবার আসি পদ্ধতি নিয়ে, ভাইরাসের ভ্যাকসিন মুলত কিছু পদ্ধতিতে আবিস্কার করার চেষ্টা করা হয়, এর মধ্যে-
লাইভ ভ্যাকসিন
লাইভ ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে মূলত রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসকেই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেগুলো শরীরের ক্ষতি করতে পারে না, অর্থাৎ সেগুলোর রোগসৃষ্টির ক্ষমতা শূন্য থাকে৷ ফলে ওই ভাইরাসের কারণে শরীর আক্রান্ত হয় না, কিন্তু মানবদেহের কোষের ভেতর সেগুলো বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। ভাইরাসের বংশবিস্তার শুরু হলে মানবদেহের প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়ে উঠে এবং অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে ভাইরাস ধ্বংস করে। এভাবেই মানুষের শরীরে বিশেষ ওই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে ওই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে শরীরে থাকা অ্যান্টিবডি সহজেই সেগুলোকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম হয়। এভাবে মানবদেহে ভাইরাসের বিরদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে৷
এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া আফ্রিকার দেশেগুলোতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা-র বিরদ্ধে প্রথম অনুমোদন পাওয়া টিকাও এক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে।
ইনঅ্যাক্টিভ ভ্যাকসিন
ভাইরাসের দেহে কোন নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই; এটি কেবল প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড দিয়ে গঠিত। ভাইরাস কেবল উপযুক্ত পোষকদেহের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এদের অভ্যন্তরীণ তথ্য বহনকারী সূত্রক দুই প্রকারের হতে পারে- ডিএনএ এবং আরএনএ।
ইনঅ্যাক্টিভ ভ্যাকসিনে সুনির্দিষ্ট ভাইরাল প্রোটিন বা নিষ্ক্রিয় ভাইরাস থাকে। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এগুলোকেই হত্যা করবে। যেহেতু শরীরে নিষ্ক্রিয় বা মৃত ভাইরাস প্রবেশ করানো হয় তাই সেগুলো বংশবিস্তার করতে পারে না। কিন্তু রোগের বিস্তার ঘটাতে না পারলেও দেহে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সেগুলোকে চিহ্নিত করে এবং সেগুলোর বিরদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও, হুপিংকাশি, হেপাটাইটিস বি ও ধনুষ্টংকারের টিকায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
জিন-বেজড ভ্যাকসিন
এটা অনেকটা ইনঅ্যাক্টিভ ভ্যাকসিন এর মত৷ তবে বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, ঔষুধ কোম্পানিগুলো ইনঅ্যাক্টিভ ভ্যাকসিনের চেয়ে জিন-বেজড ভ্যাকসিন দ্রুত উৎপদান করতে পারে৷ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে৷
কারণ কোভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকা আবিষ্কার হলে দ্রুততম সময়ে সারা বিশ্বে সেই টিকা ছড়িয়ে দিতে কোটি কোটি ডোজ উৎপাদন করতে হবে৷ জিন-বেজড ভ্যাকসিন করোনা ভাইাসের ডিএনএ বা আরএনএ থেকে একদম সঠিক জিনগত তথ্য নিয়ে তৈরি করা যাবে৷
এবার চলুন করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা কম্পানিগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ ২৪ জুনের খসড়া তালিকা অনুযায়ী এখন বিশ্বে টিকা বানাতে ১৪৩টি উদ্যোগ চালু আছে। ২ জুন এমন উদ্যোগের সংখ্যা ছিল ১৩৩। অর্থাৎ, তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ১০টি টিকার উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে। এখন ১৪৩টি উদ্যোগের মধ্যে ১৬টির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষা চলছে। বাকি ১২৫টি টিকা প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে আছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘অগ্রগতি কতটা, কোন ধাপে রয়েছে, সেই বিচারে আমি মনে করি তারা (অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা) এগিয়ে রয়েছেন।’
নিউইয়র্ক টাইমসের করোনা ট্র্যাকার অনুযায়ী, বিশ্বে এ মুহূর্তে ১৪০টি ভ্যাকসিনের মধ্যে ১২৫টির বেশি প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে রয়েছে। ১১টি প্রথম ধাপে, ৮টি দ্বিতীয় ধাপে, ৩টি তৃতীয় ধাপে এবং একটি পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। মার্কিন সংস্থা ‘মডার্না আইএনসি’র তৈরি এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকিসনও এ দৌড়ে রয়েছে। এই টিকারও তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হচ্ছে আগামী মাসে। সৌম্য স্বামীনাথন যেমন অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকাকেই এগিয়ে রাখছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি, মডার্নার ভ্যাকসিনও তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হচ্ছে জুলাইয়ের মাঝামাঝি। ফলে তারাও খুব একটা পিছিয়ে নেই। কিন্তু অগ্রগতি ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রক্রিয়ার দিক থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ রয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার।’
ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি
গত এপ্রিল মাসেই বিখ্যাত ফার্মা সংস্থা সানোফি এবং জিএসকে যৌথভাবে একটি করোনা প্রতিষেধক তৈরি করেছে। যা তারা নিজেরাই ‘অভূতপূর্ব’ বলে দাবি করেছে। সানোফি সংস্থা এস-প্রোটিন কোভিড-১৯ অ্যান্টিজেন দেবে, এক্সা তাদের দাবি অনুযায়ী, ঝঅজঝ-ঈড়ঠ-২ পাওয়া প্রোটিনের ঠিক অনুরূপ জেনেটিক কোডের প্রোটিন হল এস-প্রোটিন । আর এঝক এর এই ভ্যাকসিন তৈরিতে অবদান হিসেবে থাকবে ‘অ্যাডজুভান্ট’ (ধফলাঁধহঃ) প্রযুক্তি। শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর তার কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং ওই ব্যক্তির অনাক্রমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি। চিকিৎসক আমির খান জানাচ্ছেন, ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সানোফি ও জিএসকের তৈরি ভ্যাকসিন বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ফাইজার (চভরুবৎ) নামে আর একটি ফার্মা সংস্থা জার্মানির বায়োএনটেক ( ইরড়ঘঞবপয) এর সঙ্গে জোট করে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন তৈরিতে নেমেছে। ইতিমধ্যেই জার্মানিতে তাদের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আমেরিকাতেও তাদের তৈরি প্রতিষেধক পরীক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ফাইজার ও বায়োএনটেক।
মডার্না
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি মডার্নার সংক্রামক রোগ সম্পর্কিত এক দল গবেষক ও মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএইচ) তৈরি করা এমআরএনএ-১২৭৩ নামের করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটির প্রথম ডোজ গত ১৬ মার্চ এক স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সার্স ও মার্সের ওপর পরিচালিত গবেষণার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি করা এই ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এটি কতটা সক্রিয় করতে পারে, সে বিষয়টিই এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে এটি ৪৫ জন স্বাস্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে পরীক্ষা করা হবে।
মডার্না জানিয়েছে, তারা এখনও শুরুর পর্বে রয়েছে। যদিও মডার্নার এই পদক্ষেপকে এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এনআইএইচের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের পরিচালক ও করোনাভাইরাস সম্পর্কিত হোয়াইট হাউসের টাস্ক ফোর্স সদস্য ডাঃ অ্যান্থনি ফউসি।
ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনোভিও গত ১২ মার্চ ঘোষণা করে, কোভিড ১৯ এর জন্য তাদের তৈরি করা ডিএনএ ভ্যাকসিনের গবেষণার গতি বাড়াতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন নতুন করে তাদের ৫০ লাখ ডলারের তহবিল দিয়েছে। তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটির নাম আইএনও-৪৮০০। গবেষণাটি বর্তমানে প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে রয়েছে।
এশিয়া পেসিফিকে করোনার প্রতিষেধক
এপ্রিলেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি একটি ভ্যাকসিন পশুর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
এনএইচএসে কর্মরত চিকিৎসক আমির খান তাঁর লেখায় জানিয়েছেন, চিনও ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে অনেকটা এগিয়েছে।
ঈধহঝরহড় ইরড়ষড়মরপং নামে এক চিনা সংস্থা পশুদের শরীরে ভ্যাকসিন ট্রায়ালে সাফল্য পাওয়ায় হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য তৈরি হচ্ছে। এছাড়া চিনে আরও অনেকগুলি সংস্থা ও ফার্মা কোম্পানি আলাদাভাবে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্যানসিনো বায়োলজিকস
চিনের তিয়ানজিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যানসিনো বায়োলজিকস ও দেশটির অ্যাকাডেমি অব মিলিটারি মেডিকেল সায়েন্সেসের গবেষকদের তৈরি একটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে চিন কর্তৃপক্ষ। সেখানকার গবেষকেরা বলছেন, অ্যাড ৫-এনকোভ নামের এই ভ্যাকসিন এরই মধ্যে প্রাণী শরীরে পরীক্ষা করা হয়েছে, যেখানে এটি নিরাপদ ও এর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করার ক্ষমতার প্রমাণ মিলেছে। মানুষের শরীরে এর পরীক্ষা করার প্রাথমিক পস্তুতিও সম্পন্ন। উহানের টংজি হাসপাতালে ১০৮ জন স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
ক্যানসিনোর চেয়ারম্যান তথা সিইও জুয়েফেং উ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উচ্চমানের একটি ভ্যাকসিন তৈরির বিষয়ে আশাবাদী।
মিগাল
মিগাল গ্যালিলি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মুরগির সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাসের জন্য ভ্যাকসিন তৈরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে।
এতে সফল হলে তিন চার মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পাওয়া যাবে।
মিগালের সিইও ডেভিড জিগডন জানান, ভ্যাকসিন তৈরিতে বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে দ্রæতগতিতে কাজ চলছে। পুরো প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থাও সহযোগিতা করছে।
কানাডা
প্রতিষেধক তৈরির দৌড়ে রয়েছে কানাডিয়ান গবেষকদের একটি দল। যে দলে একজন বাঙালিও আছেন। সেই গবেষকদের দাবি, কিছুটা হলেও তাঁরা এই ভাইরাসকে জব্দ করতে পেরেছেন। জানা গিয়েছে, কানাডার ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই বিষয়ে আশার আলো দেখিয়েছেন গোটা বিশ্বকে।
এই গবেষক দলে থাকা বাঙালি অরিঞ্জয় ব্যানার্জি টরেন্টোর ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামিত রোগ বিভাগের গবেষক। এই বিভাগ সংক্রামিত রোগ, করোনাভাইরাসের মতো মহামারি আর বাদুড় থেকে সংক্রামিত রোগ নিয়ে গবেষণা করে। জানা গিয়েছে, এই গবেষকের দল কোভিড ১৯ এর চরিত্র বিশ্লেষণ করতে সমর্থ হয়েছে। তাঁরা দু’জন রোগীর লালারস ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে কিছুটা হলেও করোনাকে জব্দ করার হদিশ খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ
দেশে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অগ্রগতির দাবি গেøাবাল বায়োটেক নামক কম্পানির। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি করেছে যে, করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজ অগ্রগতি হয়েছে। পশুর শরীরে প্রাথমিকভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে সফলতা পাওয়া গেছে।
গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কার্যালয়ে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে পশুর শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগে সাফল্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পশুর শরীরে আরেকটি রেগুলেটরি ট্রায়াল চালানো হবে। তার জন্য ৬-৮ সপ্তাহ সময় লাগবে।
এরপর তারা আশা করছে যে, মানবদেহে প্রয়োগের জন্য কাজ শুরু করবে।
সিনোফার্ম
চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোফার্ম বড় আকারের তৃতীয় ধাপের ভ্যাকসিন পরীক্ষা শুরু করছে। এ মাসের শুরুতে সিনোফার্ম প্রাণিদেহে তাদের ভ্যাকসিন পরীক্ষা থেকে ইতিবাচক ফলের খবর প্রকাশ করে। চীনা গবেষকেরা সেল সাময়িকীতে গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশ করেন। তাঁরা দাবি করেন, নিষ্ক্রিয় ভাইরাস থেকে তৈরি ভ্যাকসিন প্রার্থী বিবিআইবিপি-করভি সার্স-কোভ-২-এর বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার নিরপেক্ষ অ্যান্টিবডিকে প্ররোচিত করতে পারে। তাঁরা বেইজিংয়ে বছরে ২০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা করছেন।
অক্সফোর্ড
অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে। এতে আরও ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে যুক্ত করার কাজ চলছে। ব্রাজিলে স্বেচ্ছাসেবকেরা যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ প্রতিরোধী পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। এতে দেশটির পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিচ্ছেন। অক্সফোর্ড জেনার ইনস্টিটিউটের তৈরি ভ্যাকসিনটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যেও পরীক্ষা চলছে। সেখানে চার হাজার স্বেচ্ছাসেবী ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনটি নিয়েছেন এবং আরও ১০ হাজার জনকে পরীক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দুটি ধাপে সফল হওয়ার পর এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে মানবদেহে। যদিও তার ফলাফল নিয়ে কোনো দাবি এখনো সংস্থার পক্ষ থেকে করা হয়নি; তবে ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্তত ১০টি সংস্থার সঙ্গে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার চুক্তি সই হয়েছে। শেষ তথা দশম চুক্তি হয়েছে ব্রাজিলের সঙ্গে।
ফাইজার
আমেরিকার ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেক এই দুই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিএনটি-১৬২ ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। জার্মান সংস্থা বায়োএনটেক নিউইয়র্কের ফাইজার ও চীনা ওষুধ প্রস্তুতকারী ফসুন ফার্মা একসঙ্গে এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করছে। মে মাসে ফাইজার তাদের ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষার কথা ঘোষণা করে। ফাইজার আশা করছে, ট্রায়ালে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শরতে জরুরি ব্যবহারের জন্য কয়েক মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।
চীন
চীনের দুই সরকারি সংস্থা উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের তৈরি ‘ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন’ এবং বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের ‘বিবিআইবিপি কর্ভ’ ভ্যাকসিন দুটিরও প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে একসঙ্গে।
ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি হবে। ব্রাজিলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনস্বাস্থ্য আধিকারিক এলসিও ফ্রাঙ্কো সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করেছেন, শুরুতে মোট তিন কোটি টিকা উৎপাদন করা হবে। তার অর্ধেক ডিসেম্বরে এবং বাকি দেড় কোটি পরের বছরের জানুয়ারির মধ্যেই তৈরি করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় আক্রান্ত প্রবীণ এবং সামনের সারির যোদ্ধা অর্থাৎ চিকিৎসক-নার্সদের প্রথম ব্যাচে উৎপাদিত টিকা দেওয়া হবে। তবে জুনের শুরুতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সিইও বলেছিলেন, এই টিকা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে এক বছরের জন্য।
source:
1. https://www.cdc.gov/vaccines/basics/test-approve.html
2. https://www.webmd.com/lung/news/20200610/covid-19-latest-updates
3. https://www.bbc.com/bengali/news-51506643
5. https://thebengalstory.com/growth-on-covid-research/