Welcome to my website (Email: jamanercse.eng@gmail.com)
বর্তমান সময়ে ছাত্র/ছাত্রীদের অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকা কেন জরুরী?
করোনা পরিস্থিতির খারাপ দিক যেমন আছে তেমনি ভাবে ভালো দিক ও আমরা খুঁজে বের করতে পারি। তবে প্রতিদিনের মৃত্যুর মিছিলে ভালো দিকের কথা চিন্তা করাটাই দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপর ও সময় থেমে থাকবেনা, চলতে থাকবে তার আপন গতিতে। সুতরাং আমাদেরকেও থেমে থাকলে চলবেনা, একটু একটু করে খাপ খাইয়ে নিতে হবে পরিবেশের সাথে। খাপ খাইয়ে নেওয়ার কথা কেন বললাম? নিশ্চয় আমার হেড লাইন পড়ে কিছুটা হলেও বুঝা যাচ্ছে। জি হাঁ তাই, কারন আজকে অনেক দিন হতে চললো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সে কারনেই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন এ ক্লাস করার একটা সুযোগ তৈরি হয়। যদিও এই বিষয়টার সাথে আমরা অনেকেই এখনো খাপ খাইয়ে নিতে পারছিনা। আর যারা ইতোমধ্যে পেরে গিয়েছেন তাদেরক অভিনন্দন। এবার আসি মূল আলোচনায়, অনলাইনে ক্লাস করলে ছাত্র/ছাত্রীরা যে সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারবেঃ
১-ডিজিটাল প্লাটফর্ম সম্পর্কে ধারনা নেওয়াঃ ওয়ার্ক ফ্রম হোম এই কথাটা এখনকার সময়ে বেশ পরিচিত। আর তাই এই বিষয়টির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে অবশ্যই ডিজিটাল প্লাটফর্ম সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে। অনলাইনে ক্লাস করার মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীরা একটু একটু করে হলেও সেই সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবে, যা কিনা তাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
২-উপার্জন করার কৌশল সম্পর্কে ধারনা লাভঃ যদিও ছাত্র/ছাত্রীরা এখনো পড়া-লিখা নিয়েই ব্যস্ত আছে, তারপর ও তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে হবে এখন থেকেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাত্র জীবন শেষ হওয়ার আগেই চাকুরীর বাজারে প্রবেশ করার চেষ্টা করতে হবে বা ধারনা নিতে হবে। কেননা সেটাই একজন ছাত্র/ছাত্রীকে সাবলম্বী হতে সহায়তা বা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পোঁছাতে সহায়তা করবে। এবং তারা যা শিখল সেই বিষয়টি ইমপ্লিমেন্ট করার ও একটা সুযোগ আসবে।
৩-দক্ষতা অর্জনে সহায়তাঃ অনলাইনে এখন অনেক ভালো ভালো লেকচার বা টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়, যা কিনা ছাত্র/ছাত্রীদের দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে। আর অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার ফলে তাদের মধ্যে জানার একটা আগ্রহ তৈরি হবে। এছাড়াও ছাত্র/ছাত্রীরা নিজেরা চাইলেও অন্যদের অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনে সহযোগীতাও করতে পারবে। লিখার শেষ অংশে আমি বিভিন্ন ধরনের অনলাইন বা ডিজিটাল প্লাটফর্ম সম্পর্কে কিছু উদাহরন দিয়ে দিব।
৪-বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপনঃ করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় মানুষই ঘরের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন। আর তাই যোগাযোগ করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে অনলাইন। অনলাইন ব্যবহার করে অতি সহজেই বহির্বিশ্বের বিভিন্ন প্রফেসনালস বা শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন সেমিনার বা ওয়ার্কশপ এ অংশগ্রহণ করার মাধ্যমেও দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। যা কিনা শিক্ষা ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকলে এসব বিষয় সম্পর্কে ও ধারনা পাওয়া যাবে।
৫-পরিবারকে সময় দিতে পারাঃ অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ তৈরি হওয়ার কারনে, এখন ছাত্র/ছাত্রীরা ঘরে বসেই ক্লাস করতে পারছে। যার কারনে বেশিরভাগ ছাত্র/ছাত্রীরই পরিবারের সাথেই থাকা হচ্ছে। এতে করে পরিবার এই মহামারিতে সন্তান্দের সুরক্ষার বিষয়টা যেমন নিশ্চিত করতে পারছে একই সাথে পড়াশুনার বিষয়েও কিছুটা হলেও সস্তিতে থাকতে পারছেন। সুতরাং নিজেদের ভালোর জন্য হলেও ছাত্র/ছাত্রীদের অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকা জরুরী।
পরিশেষে কিছু ডিজিটাল বা অনলাইন প্লাটফর্মের নাম ক্রমান্বয়ে দেওয়া হলোঃ Zoom, Skype, Google classroom, Google meet, YouTube etc. এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়, যা কিনা ছাত্র/ছাত্রীদের পড়াশুনায় অনেক সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে।
*উপরের লিখাটার সাথে সাথে আমি এও বুঝতে পারছি যে, সকল ছাত্র/ছাত্রীর পক্ষে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভবও না, তাদের বিষয়ে আমি সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।
Md. Jamaner Rahaman (Jamanercse.eng@gmail.com)
Lecturer, Dept. of CSE