প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আকারে)
১। ব্যবস্থাপনা কাকে বলে?
ব্যবস্থাপনা হলো একটি বিজ্ঞান ও শিল্প যেখানে সংগঠনের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের জন্য মানবসম্পদ, অর্থ, উপকরণ ও প্রযুক্তিকে দক্ষভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ব্যবস্থাপনা ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায় না।
২। আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?
আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন হেনরি ফেওল (Henry Fayol)। তিনি প্রথমবারের মতো ব্যবস্থাপনাকে একটি আলাদা শাস্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং ১৪টি নীতি প্রবর্তন করেন। তাঁর কাজ আধুনিক ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে।
৩। হেনরি ফেওলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কী?
হেনরি ফেওলের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো “General and Industrial Management”। এই গ্রন্থে তিনি ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতি, কার্যাবলি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। আজকের আধুনিক ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় এই বইটির গুরুত্ব অপরিসীম।
৪। ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা কী?
ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা হলো সময়ের সাথে সাথে গড়ে ওঠা বিভিন্ন মতবাদ, তত্ত্ব, নীতি ও ধারণার সমষ্টি। এটি প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিকশিত হয়েছে। ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা আমাদেরকে বোঝায় কিভাবে সংগঠন পরিচালনা করলে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়।
৫। ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য কেন?
ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য কারণ এটি ছাড়া কোনো সংগঠনের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। ব্যবস্থাপনা সম্পদের অপচয় রোধ করে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখে। এছাড়া এটি লক্ষ্য অর্জনে দিকনির্দেশনা দেয় এবং অনিশ্চয়তা কমায়।
৬। প্রাচীন ব্যবস্থাপনার জনক কে?
প্রাচীন ব্যবস্থাপনার জনক হিসেবে সাধারণত ফ্রেডরিক টেইলর (F.W. Taylor) এবং হেনরি ফেওল (Henry Fayol) কে উল্লেখ করা হয়। টেইলর বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক, আর ফেওল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জনক।
৭। হেনরি ফেওলের কার্যাবলি কী?
হেনরি ফেওল ব্যবস্থাপনার পাঁচটি প্রধান কার্যাবলি চিহ্নিত করেছিলেন:
১) পরিকল্পনা,
২) সংগঠন,
৩) নির্দেশনা,
৪) সমন্বয়,
৫) নিয়ন্ত্রণ।
এই কার্যাবলির মাধ্যমেই সংগঠনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
৮। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith)। তিনি আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধারণা দেন।
৯। The Wealth of Nations গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
এই গ্রন্থটির রচয়িতা অ্যাডাম স্মিথ। এটি ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। বইটিতে শ্রম বিভাজন, উৎপাদনশীলতা, মুক্ত প্রতিযোগিতা ও বাজার অর্থনীতির মৌলিক ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
১০। বিভাজনের সূত্র কী?
বিভাজনের সূত্র বা Division of Labour হলো কাজকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করবে। এর ফলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, সময় বাঁচে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
১১। কোনায়ার মতে ব্যবস্থাপনা কোন শাস্ত্রের উপশাস্ত্র?
কোনায়ার মতে, ব্যবস্থাপনা অর্থনীতির উপশাস্ত্র। কারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।
১২। 'Z' তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
‘Z’ তত্ত্বের প্রবর্তক হলেন ড. উইলিয়াম ওউচি (William Ouchi)। তিনি জাপানি ব্যবস্থাপনা ধারা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই তত্ত্ব দেন। এতে বিশ্বাস, বিশ্বস্ততা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
১৩। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন ফ্রেডরিক উইন্সলো টেইলর (F.W. Taylor)। তিনি কাজের মান উন্নয়ন, সময় ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল দেন।
১৪। ব্যবস্থাপনা চর্চার প্রথম সূচনা কে করেছিলেন?
ব্যবস্থাপনা চর্চার প্রথম সূচনা করেছিলেন টেইলর, ফেওল, গিলব্রেথ প্রমুখ বিজ্ঞানীরা। তারা শিল্প বিপ্লবের সময় শ্রমিক ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গবেষণা করেছিলেন।
১৫। কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব কী?
কর্তৃত্ব হলো কর্মীদেরকে আদেশ দেওয়ার এবং কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা। অন্যদিকে দায়িত্ব হলো প্রদত্ত কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা। কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।
১৬। আদেশের ঐক্য ও নির্দেশনার ঐক্য কী?
আদেশের ঐক্য মানে একজন কর্মী শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে আদেশ পাবে। নির্দেশনার ঐক্য মানে একই ধরনের কাজ এককভাবে পরিচালিত হবে। এতে বিভ্রান্তি ও দ্বন্দ্ব কমে।
১৭। পরিকল্পনা কী?
পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য কার্যক্রমের পূর্বনির্ধারিত রূপরেখা। এটি সংগঠনের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
১৮। ব্যবস্থাপনা দিকনির্দেশন কী?
ব্যবস্থাপনা দিকনির্দেশন হলো কর্মীদের কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, পরামর্শ ও নেতৃত্ব প্রদান। এর মাধ্যমে কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয় এবং সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।