১। ব্যবস্থাপনা একটি অনন্য মানবিক বৈশিষ্ট্য—ব্যাখ্যা কর।

ব্যবস্থাপনা মূলত মানুষের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে সংগঠনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার প্রক্রিয়া। পশু বা যন্ত্র নিজেরা কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে না, কিন্তু মানুষ পারে। তাই ব্যবস্থাপনা একটি অনন্য মানবিক বৈশিষ্ট্য।


২। ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা ব্যাখ্যা কর।

ব্যবস্থাপনা সর্বত্র প্রযোজ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, পরিবার, সরকারি-বেসরকারি অফিস—সব জায়গায় লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। তাই ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা রয়েছে।


৩। ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝো?

ব্যবস্থাপনা হলো একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংগঠনের লক্ষ্য অর্জন করা হয়।


৪। ব্যবস্থাপনার প্রধান কাজগুলো কী কী?

পরিকল্পনা করা

সংগঠন করা

নেতৃত্ব প্রদান

সমন্বয় সাধন

নিয়ন্ত্রণ


৫। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য লিখ।


কাজকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

শ্রমিক ও কাজের মধ্যে সঠিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়।

সময় ও গতির অধ্যয়ন করা হয়।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়।

ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকের মধ্যে সহযোগিতা তৈরি করা হয়।


৬। ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারায় F.W. Taylor এর অবদান উল্লেখ কর।

F.W. Taylor বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক। তিনি সময় অধ্যয়ন, গতির অধ্যয়ন, মানকরণ, সঠিক শ্রমিক নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ, কাজের পারিশ্রমিকের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।


৭। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা ও অসুবিধা লেখ।

সুবিধা: উৎপাদন বৃদ্ধি, খরচ হ্রাস, মানসম্পন্ন উৎপাদন, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি।

অসুবিধা: কর্মীদের উপর মানসিক চাপ, সৃজনশীলতার সীমাবদ্ধতা, শ্রমিকদের অবমূল্যায়ন, ব্যয়বহুল গবেষণা।


৪র্থ অধ্যায় (প্রশ্নোত্তর)

১। ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা ও উপাদান বিশ্লেষণ

সংজ্ঞা:
ব্যবস্থাপনা হলো পরিকল্পনা, সংগঠন, নেতৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের প্রক্রিয়া। এটি শুধু কাজ সম্পন্ন করা নয়, বরং তা করার সঠিক ও সুচারু পদ্ধতি।

উপাদানসমূহ:

উদাহরণ: একটি গার্মেন্টস কোম্পানি তার উৎপাদন লক্ষ্য পূরণের জন্য কর্মীদের শিফট নির্ধারণ, যন্ত্রপাতি ঠিকভাবে ব্যবহার, এবং উৎপাদন মান নিয়ন্ত্রণ করে।


২। ব্যবস্থাপনা দলগত সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য

দলগত সংজ্ঞা:
দলগত দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা হলো একটি দলের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া। এটি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা নয়, বরং দলগত সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল।

বৈশিষ্ট্য:

উদাহরণ: একটি প্রকল্প দলের সদস্যরা একত্রে একটি নতুন সফটওয়্যার তৈরি করে, যেখানে প্রতিটি সদস্যের আলাদা দায়িত্ব থাকে।


৩। শিল্প বিপ্লবের কারণসমূহ

উদাহরণ: ইংল্যান্ডে তুলা শিল্পে নতুন মেশিন ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।


৪। শিল্প বিপ্লবের ফলাফল


৫। ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের সংজ্ঞা ও প্রয়োজনীয়তা

সংজ্ঞা:
ব্যবস্থাপনা তত্ত্ব হলো নিয়ম-কানুন এবং প্রক্রিয়ার এমন একগুচ্ছ যা ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে।

প্রয়োজনীয়তা:


৬। ক্লাসিক্যাল বা প্রথাগত তত্ত্ব

সংজ্ঞা:
প্রথাগত তত্ত্ব হলো এমন একটি ধারণা যেখানে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামো, নিয়ম ও কর্তৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত করা হয়।

উদ্দেশ্য:

সীমাবদ্ধতা:

উদাহরণ: বড় ফ্যাক্টরিতে কঠোর নিয়ম মেনে কর্মচারীদের কাজ করানো।


৭। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা

বৈশিষ্ট্য:

উপকারিতা:

উদাহরণ: ফ্রেডরিক টেলর উদ্ভাবিত বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে একজন শ্রমিক দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হতো, যা কোম্পানির উৎপাদন ২০–৩০% বৃদ্ধি করেছিল।