জার্মানিতে বিভিন্ন ভিসায় এপ্লিকেশনের জন্য অনেকেই আমার কাছে তাদের সিভি পাঠায়, মোটিভেশান লেটার পাঠায়।
সত্যি বলতে, আপনাদের পাঠানো সিভিগুলো দেখে আমি রীতিমতো হতাশ! 💔
যারা জার্মানির মতো একটা প্রফেশনাল দেশে Ausbildung বা জবের জন্য ট্রাই করছেন, তাদের সিভির অবস্থা যদি এমন হয় তবে কোনো কোম্পানিতে সিলেক্ট হওয়া তো দূরের কথা, শর্ট লিস্টেড হওয়ারও চান্স নেই 🥺
সিভি দেখে যা বুঝলাম, আপনারা এখনো জানেন না জার্মানি আসলে কী চায়। আমি সিভিতে যেসব বড় ভুল পেয়েছি:
❌ অতিরিক্ত রঙচঙ (Colorful Design): সিভি কোনো বিয়ের কার্ড বা গ্রাফিক্স ডিজাইনের পোর্টফোলিও নয়! জার্মানরা অতিরিক্ত কালারফুল ডিজাইন একদম পছন্দ করে না।
❌ আনপ্রফেশনাল ছবি: সেলফি বা রাস্তার পাশে তোলা ছবি সিভিতে দেওয়া বন্ধ করুন! জার্মানিতে সিভির ছবির জন্য আলাদা স্ট্যান্ডার্ড আছে।
❌ ফরম্যাটিং-এর অভাব: আপনারা যে যার মতো তথ্য সাজিয়েছেন। জার্মানরা পছন্দ করে 'Tabellarischer Lebenslauf' বা টেবুলার ফরম্যাট।
❌ গ্রামার ও তথ্যের ভুল: সিভিতে বানান ভুল থাকা মানেই হলো আপনি নিজের কাজের প্রতি যত্নশীল নন।
🇩🇪জার্মানিতে আপনার যোগ্যতার আগে আপনার সিভি কথা বলে। সিভি স্ট্যান্ডার্ড না হলে আপনার বি-টু (B2) সার্টিফিকেট থাকলেও কোনো লাভ নেই।
এজন্য যে কোন জায়গায় এপ্লিকেশন করার আগে আমার ডকুমেন্টস রেডি করুন।
সবকিছু ঠিক থাকলে সাফল্য খুব দূরে নয়।।
পরিশ্রম ,,ধৈয্য , চেষ্টা এবং সঠিক পরিকল্পনাই আপনাকে সাফল্যের দিকে ধাবিত করে।
Learn German With Yeasir
আপনার সামনে জার্মানিতে সম্পূর্ণ ফ্রি তে হাতে কলমে লেখাপড়া করার সুবর্ণ সুযোগ।
আপনি জার্মানি তে আউসবিল্ডুং শুরু করতে পারেন। যারা জানেন না আউসবিল্ডুং কি তাদের জন্য নিচে আউসবিল্ডুং এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:-
আউসবিল্ডুং (Ausbildung) হলো জার্মানির একটি ডুয়াল (কাজ + পড়াশোনা) ভিত্তিক লেখাপড়া।
৩ বছর মেয়াদি এই কোর্স ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড মেনেই তৈরি করা হয়েছে। এখানে লেখাপড়া পুরোপুরি হাতে কলমে। সপ্তাহের কিছুদিন কোম্পানিতে কাজ, কিছুদিন স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়।
সাধারণত ২–৩.৫ বছর। কোর্সের ধরন অনুযায়ী কমবেশি হবে। এখানে প্রতি মাসে স্টাইপেন্ড পাবেন প্রায় ৮০০–১২০০€ বা বেশি, যা বাংলাদেশের টাকায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এটা পড়াশোনার পাশাপাশি কোম্পানি থেকে অটো পাবেন। এই টাকা বাহিরে আপনি চাইলে ৫০০ ইউরো বা ৭০ হাজার টাকার আশেপাশে পার্ট টাইম জব করে ইনকাম করতে পারবেন। মন চাইলে পার্ট টাইম জব না করেও দিব্যি চলতে পারবেন।
আপনার যোগ্যতা প্রয়োজন হবে HSC বা সমমান + জার্মান ভাষা (B1/B2)+ অভিজ্ঞতা (যেই সাবজেক্টে আপনি আগ্রহী, অভিজ্ঞতা জরুরি না কিন্তু এডভান্টেজ পাবেন)
জনপ্রিয় কিছু আউসবিল্ডুং সাবজেক্ট : নার্সিং, আইটি, হোটেল, অফিস ম্যানেজমেন্ট, মেকানিক,সিভিল ইন্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল, এভিয়েশন সহ প্রায় ৩০০+ আউসবিল্ডুং সাবজেক্ট প্রচলিত আছে।
এখানে ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার কিভাবে এডভান্টেজ পেতে পারে। চলুন দেখি, আউসবিল্ডুং শুরু করতে হলে প্রয়োজন এইচএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট। এখানে ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার গন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছুটা পড়াশোনা আগেই করায় তারা কিছুটা এগিয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের যতগুলো ডিপ্লোমা সাবজেক্ট আছে তার সবগুলোর ই উচ্চ ডিমান্ড আছে। শুধু ঐ সাবজেক্ট না সেখানে সাব-ক্যাটাগরির সিমিলার সাবজেক্ট আছে। যেখানে আউসবিল্ডুং শেষে আপনি ফুল টাইম জব করার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবেন।
প্রিয় ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার গন আপনি কোন এজেন্সি ধরতে হবে না। আপনাকে কেউ সাহায্য করতে হবেও না। বিষয় টা যথেষ্ট সহজ। সুতরাং কোথায়ও প্রতারিত না হয়ে জার্মান ভাষা শিখেন। এখানে ৯০% যোগ্যতাই হচ্ছে ভাষা।
জার্মান ভাষায় ৬ টি লেভেল হয়। A1,A2,B1,B2,C1,C2
A1,A2= বিগেইনার লেভেল
B1,B2= ইন্টারমিডিয়েট লেভেল
C1,C2= এডভান্স লেভেল
সাধারণত B1 হলেই আউসবিল্ডুং পাওয়া যায়, কিন্তু B2 সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা মানে মোটামুটি নিশ্চিত আউসবিল্ডুং পাচ্ছেন।
জার্মান ভাষা আপনি শিখতে পারবেন জার্মান সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গোয়েথে ইন্সটিটিউট বাংলাদেশে। যা ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত। ভাষা শেখানো থেকে শুরু করে তারা জার্মান সরকার অনুমোদিত সার্টিফিকেট প্রদান করে এক্সাম নেওয়ার মাধ্যমে। এটা ছাড়াও প্রাইভেট ভাবে ও ভাষা শিখতে পারেন। কিন্তু যেখান থেকেই ভাষা শিখুন না কেন আপনাকে এক্সাম দিতে হবে ঢাকার ধানমন্ডির ঐ জার্মান অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গোয়েথে ইন্সটিটিউট এ!!
ভাষা শেখাটাই আপনার প্রধান অস্ত্র। এটা দিয়েই আপনাকে যুদ্ধ করতে হবে। ভাষা শেখা শুরু হলে বিভিন্ন জার্মান কোম্পানি তে আউসবিল্ডুং পাওয়া আবেদন করতে হবে। সেখানে বছরে ২ ইনটেকে লোক নেয়।মার্চ ও আগষ্ট। সেখানে আবেদন সাপেক্ষে কোন কোম্পানি আপনার বিষয়ে আগ্রহী হলে তারা আপনার ইন্টারভিউ নিবে।ইন্টারভিউ তে তারা আপনাকে সিলেক্ট করলে কন্ট্রাক্ট পেপার পাঠিয়ে দিবে। সেই পেপারস নিয়ে আপনাকে জার্মান এমবাসি থেকে আউসবিল্ডুং ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।লাস্ট প্যারা টা একটু শর্টকাট করলেও এই বিষয়ে বিস্তারিত অনেক পোস্ট পাবেন আমার পেইজে।
© Learn German With Yeasir
বাংলাদেশের ছেলেদের জন্য এমন আউসবিল্ডুং বাছাবাছি করার খুব একটা প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের ছেলেরা যেকোনো প্রফেশনেই ফিট। জাস্ট সুযোগ পেলেই হলো। উল্লেখ এটা ছেলেদের জন্য বলা হলেও এই ১০ টি পেশার প্রতিটি মেয়েদের সমান সুযোগ আছে। ছেলে মেয়ে পার্থক্যকরন আমাদের দেশেই সম্ভব। এখানে না।
আজকে আমি আলোচনা করবো কোন আউসবিল্ডুং এ পজিশন বা সংখ্যা বেশি, প্রতিযোগিতা কম বা মাঝারি, ভাষা লেভেল B1 হলেই চলবে এমন কিছু আউসবিল্ডুং খুঁজে বের করবো।
প্রথম কথা হলো ৩০০+ আউসবিল্ডুং থেকে ৮-১০ টা আউসবিল্ডুং আলাদা করা কঠিন কাজ। এগুলোর বাহিরে অনেক আউসবিল্ডুং আছে যেগুলো খুবই ভালো। একটু ঘাটাঘাটি করে নিবেন।
১. নার্সিং (Pflegefachmann/-frau)-
জার্মানি তে সকল আউসবিল্ডুং এর মধ্যে সবচেয়ে সন্মানিত পেশা এটা। বেতনও আকর্ষণীয়। ক্যারিয়ার খুবই ভালো।
নার্সিং এ প্রতিযোগিতা যথেষ্ট কম,আউসবিল্ডুং সংখ্যা অনেক বেশি। এই আউসবিল্ডুং এ মাসিক ভাতা-১১০০ থেকে ১৩০০ ইউরো। কাজ- রোগীর যত্ন নেওয়া,ওষুধ দেওয়া, হাসপাতাল,কেয়ার হোমে বিভিন্ন টাইপের কাজ করা।আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি হবে ২৮০০ থেকে ৩৫০০ ইউরো।
২. ওয়্যারহাউজ লজিস্টিক (Fachlagerist / Fachkraft für Lagerlogistik)-
আমার মতে ছেলেদের অন্যতম ভালো পছন্দ হওয়া উচিত এই পেশাটি। এই আউসবিল্ডুং এ প্রতিযোগিতা অনেক কম। এই আউসবিল্ডুং এ পজিশন সংখ্যা অনেক। মাসিক স্টাইপেন্ড: ৯০০ থেকে ১১০০ ইউরো।কাজ: পণ্য সংরক্ষণ করা, প্যাকিং, শিপমেন্ট,রিপোর্ট তৈরি করা, ইত্যাদি।আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি: ২২০০ থেকে ২৮০০ ইউরো।
৩. ট্রাক ড্রাইভার (Berufskraftfahrer)-
ইউরোপের ট্রাক ড্রাইভাররা কিন্তু অনেক হেভি ট্রাক চালাতে হয়। এখানে ক্রস বর্ডার বানিজ্য হয় বলে দেখা গেলো আপনি পর্তুগাল থেকে ট্রাক চালিয়ে পোল্যান্ড পর্যন্ত চলে যেতে হবে। অর্থাৎ ইউরোপের উত্তর থেকে দক্ষিন।
এই আউসবিল্ডুং এ প্রতিযোগিতা যথেষ্ট কম।আউসবিল্ডুং পজিশন তুলনামূলক বেশি।মাসিক স্টাইপেন্ড: ৮৫০ থেকে ১১০০ ইউরো।এই আউসবিল্ডুং এর কাজ: ট্রাক চালানো, ডেলিভারি করা।আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি-২৫০০ থেকে ৩২০০ ইউরো।
৪. কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার (Hochbaufacharbeiter)-
এই আউসবিল্ডুং এ কাজ একটু পরিশ্রমের কিন্তু ভালো টাকা পয়সা আছে।
এই আউসবিল্ডুং প্রতিযোগিতা অনেক কম।
এই আউসবিল্ডুং এ পজিশন অনেক।মাসিক স্টাইপেন্ড- ৯০০ থেকে ১২০০ ইউরো।এই আউসবিল্ডুং এর কাজ- বিল্ডিং নির্মাণের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজ করতে হবে, সাইটে কাজ করতে হবে। তবে আপনার নির্দিষ্ট রোল বা ভূমিকা থাকবে।এই আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি: ২৫০০ থেকে ৩২০০ ইউরো।
৫. ইলেক্ট্রেশিয়ান (Elektroniker)-
এই আউসবিল্ডুং এ প্রতিযোগিতা মাঝারি লেভেলের।
এই আউসবিল্ডুং পজিশন ভালো পরিমাণে আছে।
মাসিক স্টাইপেন্ড-১০০০ থেকে ১২০০ ইউরো।
এই আউসবিল্ডুং এর কাজ-ইলেকট্রিক লাইন, মেশিন, রিপেয়ার।আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি: ২৮০০ থেকে ৩৫০০ ইউরো।
৬. মেকট্রোনিক্স (Mechatroniker)-
চীপ নিয়ে যারা কাজ করবেন, ছোট ছোট চীপ বানাতে এই ইন্জিনিয়ার বা টেকনিশিয়ানদের ভূমিকা অনন্য।
এউ আউসবিল্ডুং এ প্রতিযোগিতা মাঝারি লেভেলের হয়।
পজিশন সংখ্যা বেশ ভালো থাকে। মাসিক স্টাইপেন্ড: ১০০০ থেকে ১৩০০ ইউরো।কাজ-মেশিন + ইলেকট্রনিক্স মেইনটেনেন্স করা।আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি- ৩০০০-৩৮০০ ইউরো।
৭. হোটেল ম্যানেজমেন্ট (Hotelfachmann)-
ইউরোপ কিন্তু পর্যটন বান্ধব মহাদেশ। এখানে প্রচুর পর্যটক আসে। তাই এই সেক্টরের সম্ভাবনা ও বেশী।
এই আউসবিল্ডুং প্রতিযোগিতা কম থেকে মাঝারি লেভেলের। এই আউসবিল্ডুং এ পজিশন সংখ্যা অনেক।
মাসিক স্টাইপেন্ড: ৮০০ থেকে ১১০০ ইউরো।
কাজ-হোটেল ম্যানেজমেন্ট, গেস্ট সার্ভিস ইত্যাদি।
আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি: ২২০০ থেকে ২৮০০ ইউরো।
৮. শেফ (Koch)-
যাদের রান্না পছন্দ, তাদের জন্য একটি ভার্সেটাইল পেশা হচ্ছে এটি। চিন্তা করুন পৃথিবীর বিখ্যাত সব খাবার তৈরি করতেছে আর খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই আউসবিল্ডুং এ প্রতিযোগিতা এখনো যথেষ্ট কম।
পজিশন সংখ্যা অনেক থাকে।মাসিক স্টাইপেন্ড: ৮০০ থেকে ১১০০ ইউরো।কাজ: রান্না, কিচেন ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি: ২২০০ থেকে ৩২০০ ইউরো।
৯. ক্লিনিং স্পেশালিষ্ট (Gebäudereiniger)-
কাজটিকে ছোট ভাবিয়েন না। এখানে সবকিছুই রোবট আর মেশিনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অনেক হাইজিন মেনটেইন করে। প্রতিযোগিতা কম থাকায় খুব সহজেই কনট্রক্ট পাবেন।
এই আউসবিল্ডুং এ প্রতিযোগিতা খুব কম।
পজিশন সংখ্যা অনেক থাকে। মাসিক স্টাইপেন্ড-৭০০ থেকে ১০০০ ইউরো পর্যন্ত। কাজ-বিল্ডিং/অফিস পরিষ্কার করা। এই আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি: ২০০০ থেকে ২৮০০ ইউরো।
১০. আইটি স্পেশালিষ্ট (Fachinformatiker)-
রাখতে চাইনি,তারপরও সবার লাস্টে রাখলাম। এটা অনেক সম্ভাবনা আছে তাই।
এই আউসবিল্ডুং এ প্রতিযোগিতা মাঝারি লেভেলের।
এই আউসবিল্ডুং এ পজিশন সংখ্যা বেশ ভালো।
মাসিক স্টাইপেন্ড: ১০০০ থেকে ১২০০ ইউরো।
কাজ: সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক, IT সাপোর্ট,সিস্টেম ইনট্রিগ্রেশন,এআই।আউসবিল্ডুং শেষে সেলারি: ৩২০০ থেকে ৪৫০০ ইউরো পর্যন্ত।
প্রো টিপস-
সবচেয়ে সহজে সুযোগ পেতে- নার্সিং, ক্লিনিং,ওয়্যারহাউজ টার্গেট করেন। ভালো ইনকামের জন্য ইলেকট্রেশিয়ান, মেকট্রেনিক্স আউসবিল্ডুং বাছাই করেন। হাই সেলারির জন্য আইটি স্পেশালিষ্ট, মেকট্রেনিক্স আউসবিল্ডুং বাছাই করুন।ভাষা কম লাগবে এমন হলে কনস্ট্রাকশন, লজিস্টিক, ক্লিনিং আউসবিল্ডুং টার্গেট করেন।